सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
১৫৮ সঙ্গীত পারিজাত
উত্তরমন্দা গ্রাম মূর্ছনা হচ্ছে—
ধ ণ স র জ্ঞ ম প।
– স ঋ জ্ঞ ম দ্ধ দ ণ – পা-হীন অথচ জ্ঞ-যুক্ত ভৈরবী ঠাট। অর্থাৎ, প্রাচীন
কাম্বোধী রাগের আর এক রকম রূপও প্রচলিত ছিল এবং সেটি ছিল জ্ঞঋদসণ।
সর্ণদদ্ধজ্ঞঋস। বর্তমানে কাম্বোধী নামক কোন রাগ প্রচলিত নেই। কামোদ
নামে যেটি প্রচলিত আছে তার সঙ্গে কাম্বোধার কোন সম্পর্ক নেই। ৪১০
ধৈবতোদ্গ্রহসংযুক্তা গোপীকাম্বোধিকা পুনঃ
যত্রারোহে নি-বর্জ্জন্তং ম-পাংশাভ্যাং সুশোভিতা ॥ ৪১১
ধম সবি গম। পদ পম পম ম। মবি গরি গর্রি স। সরি গম পা সা পা
ম পা। ( মপয়োঃ কম্পনম ) নির্ ধপা মপ সরি সবি সর্রি গবি গবি গম গবি
গম পানি দপ মপ ম। বিগ। বিস গবি সবি ম মবি গমপ পনি ধপ মপমা গবি
গরিসা। ধম বিগ মগ বিগ বিগ বিস। পম গবি গবিস সবি সনির্ ধসম্ম।
ইতি গোপী কাম্বোধী। দ্বিতীয় প্রহরোত্তরং। ৭৩
গোপী কাম্বোধী রাগের উৎপত্তি ধৈবত থেকে। ম ও প অংশস্বর।
আরোহে নি বর্জ্জিত।
টিপ্পনী : গোপীকাম্বোধীর স্বররূপ বর্তমানের
অর্থাৎ কাফি ঠাটের ধৈবত সম- রূপ। তবে এদের রূপ। সুতরাং
আরোহণ হতে ২টি বর্ণমপনপ। বর্তমানে ঐ রাগটি অপ্রচলিত হয়ে
গেছে। ৭১.
আরোহে ম-নি-বর্জ্যঃ স্যাদ্দীপকো মালবোত্থিতঃ।
গান্ধারোদ্গ্রহসংযুক্তঃ সংন্যাসাংশবিভূষিতঃ ॥ ৪১২
গপ দস গরি সস সর্নি ধপধ। পমগ। বিসস বিস রিস রিগ পদ্মনি ধধ।
প মাগ গারিস। স রি সস ধস সরি গম পগারিস মবিগগ পদস সর্নিদ দাপমা
( নি বিকর্ষণম্ ) গাগা দ্বিস রিবি সস নির্ধপ পস সস সরি স গগ পগ পদস্
সরিগ পমমা বীগা। গাব্রি সবিস সর্নিধ পদ্মনি ধপ পম গগ পম গরি রিস সা।
ইতি দীপকঃ। দ্বিতীয় প্রহরোত্তরম্। ৭৫
দীপক রাগটির উৎপত্তি হয়েছে মালব মেল থেকে। এর গ্রহস্বর গা। অংশ
ও ন্যাসস্বর হচ্ছে সা। আরোহণে মা ও নি বর্জিত হয়। ৪১২
সঙ্গীত পারিজাত ১৫৯
টিপ্পনী : পারিজাতকার বলেছেন, দীপক রাগটির উৎপত্তি হয়েছে মালব
মেল থেকে। পারিজাতের মালব (৪৫ সংখ্যক রাগ) ছিল ভৈঁরো ঠাটের
রাগ। সুতরাং বুঝতে হবে দীপক রাগেরও রে-ধ। কোমল ছিল এবং গা-
নি ছিল তীব্র। অর্থাৎ দীপকের রূপ ছিল সঋগমপদর্স' । স'নধপমগঋস ।
ঔড়ব-সম্পূর্ণ জাতির ভৈঁরো ঠাটের রাগ। গা ছিল এর গ্রহস্বর। সুতরাং
আরোহণ হতো গপদর্স'ঋর্স' । স'নধপমগঋস । বর্তমানে, দীপক রাগটি
প্রচলিত নয়। তবে, ওস্তাদ ব্যক্তিদের খাতা পত্রের মধ্যে এর অস্তিত্ব
পরিলক্ষিত হয়। বিভিন্ন ঘরোয়ানায় দীপকের রূপও ভিন্ন ভিন্ন। এর মধ্যে,
সম্ভবতঃ, দুটি রূপ উল্লেখযোগ্য। প্রথমটি খাম্বাজ ঠাটের দুই নি-যুক্ত ষাড়ব-
সম্পূর্ণ রাগ। বাদী সম্বাদী গ নি। আরোহণে বর্জ্য স্বর রে। আরোহণ
অবরোহণ হচ্ছে যথাক্রমে সগমপনধস । স৭নধপমগরস। স্বর্গীয় ভাতখণ্ডেজীর
মতানুযায়ী এ রাগটি রাত্রিকালে গেয় রাগ এবং বিলাবল ঠাটের রাগ। দীপকের
অপর রূপটি হচ্ছে সান্ধ্যকালে গেয় পূর্বী ঠাটের ঔড়ব-ষাড়ব রাগ। বাদী সম্বাদী
স পা। বর্জ্জিত স্বর, আরোহণে রে ও অবরোহণে নি। আরোহণ অবরোহণ
স গ ম প ধ র্স' । র্স' নি ধ প ম গ ঋ স ।
গান শ্লোকাংশ : মালব মেল সম্ভূতা ...
গ্রহাংশন্যাসরূপা চ ... ৭১২
পটমঞ্জরী রাগটিরও উৎপত্তি হয়েছে মালব মেল থেকে। এর গ্রহ, অংশ
ও ন্যাসস্বর হচ্ছে প। মূর্ছনা ষড়জাদি। অবরোহে গ বর্জিত। ৭১৩
টিপ্পনী : পারিজাতের পটমঞ্জরীও ছিল ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত সম্পূর্ণ-
ষাড়ব জাতীয় রাগ। রূপ ছিল, সঋগমপদনস । স'নধপমঋস। মূর্ছনা ছিল
ষড়জাদি। সুতরাং আরোহণ হতো স স্বরকে কেন্দ্র করেই। বর্তমানেও
পটমঞ্জরী বা পতমঞ্জরী নামক একটি রাগ প্রচলিত আছে। কিন্তু, বিভিন্ন
ঘরোয়ানায় তার রূপ ভিন্ন ভিন্ন পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে দুটি রূপ
উল্লেখযোগ্য। প্রথমটি বিলাবল ঠাটের ষাড়ব সম্পূর্ণ জাতির মধ্যরাত্রে
গেয় রাগ। বাদী-সম্বাদী সা-পা। আরোহণ অবরোহণ হচ্ছে, যথাক্রমে,
১৬০ সঙ্গীত পারিজাত
সরগম্ পদপ মপনর্স' । র্সর্নধ নপ মগরস। পঠমঞ্জরীর অপর রূপটি হচ্ছে,
কাফি ঠাটের, দিবা দ্বিতীয় প্রহরে গেয়, বক্রগতির সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ।
ব্যবহার দুই গা ও দুই নি। বাদী সম্বাদী সা-পা। আরোহণ-অবরোহণ
হচ্ছে যথাক্রমে, সরগমপদনর্স' । র্সর্নধপমজ্ঞরস। পরিশেষে উল্লেখযোগ্য
যে, পারিজাতের সবগুলি সংস্করণের মধ্যে পঠমঞ্জরীর উল্লেখ নেই। যে
সংস্করণগুলির মধ্যে উল্লেখ নেই, সেগুলির মধ্যে ৫৪ সংখ্যক দীপক রাগটির
পর, তারকা চিহ্নের দ্বারা বোঝানো হয়েছে ৫৫ সংখ্যক একটি রাগের অস্তিত্ব
ছিল এবং তারপর ৫৬ সংখ্যক রাগ হিসাবে রূপায়িত করা হয়েছে ললিতা
নামক রাগটিকে। বস্তুতঃ, পঠমঞ্জরী যে পারিজাতে ছিলই এমন কথা জোর
করে বলার বিপদ আছে। এই রাগটি প্রক্ষিপ্তও হতে পারে। এমন কি
কোন অর্বাচীনের অনধিকার চর্চার ফলও হতে পারে। প্রমাণ “নি-সাদিম”
কথাটি। পা যে রাগের গ্রহস্বর, সে রাগের মূর্চ্ছনা নিশ্চয়ই ষাড়জী হতে
পারে না। তাহলে “সাদিম” কথাটির কী অর্থ হতে পারে? অধিকন্তু,
“সাদিম”-র সঙ্গে “নি” যুক্ত হয়ে ব্যাপারটাকে আরও দুর্বোধ্য করে তুলছে।
অপরপক্ষে, “নি-সাদিম” কথাটির কোন কিছুকেই বর্জন করা চলে না, কারণ,
তাহলে আবার কবিতার ছন্দপতন ঘটে যাবে। তাহলে, এই কথাটির
প্রয়োগজনিত তাৎপর্য কী হতে পারে? এ সম্বন্ধে আমরা জ্ঞানী-গুণীদের
দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পরিশেষে বক্তব্য এই যে, পঠমঞ্জরী পটমঞ্জরী হয়েছে
নিতান্তই উচ্চারণ ভেদে। ৪১৩
যা গৌরীরাগসম্ভূতা ললিত। পঞ্চমোঝ্ঝিতা।
সাংশোদগ্রাহা তথা মন্তা গীতাস্তে সা সুশোভনা ॥ ৪১৪
সরি গম ধনিস সনি ধম গরি সরি সনি সনি সনি ধনি নিসগ গম গরিস নিস
ধনি সনি সনি নিধ মধনি সরি গম গরিস নিধ নিধম মগ রিস রিস নিস মধম ।
সমা গরি সনি সসা। ইতি ললিতা। সর্বদা। ৫৬
ললিতা রাগটির উৎপত্তি হয়েছে গৌরী রাগ (মেল) থেকে। এর পা
স্বরটি একেবারে বর্জিত। গ্রহ ও অংশস্বর হচ্ছে সা। মা ন্যাস স্বর।
অন্যান্য গীত পরিবেশিত হবার পর ললিতা পরিবেশিত হলে, শ্রুতি মধুর
হয়। ৪১৪
টিপ্পনীঃ পারিজাতের গৌরী (৯ সংখ্যক রাগ) ছিল আধুনিক ভৈরো
ঠাটের রাগ। সুতরাং ললিতাও ছিল ভৈঁরো ঠাটের ষাড়ব-ষাড়ব রাগ।
এর রূপ ছিল সঋগমদনর্স। র্সনদমগঋস। বর্তমানে ললিত নামে একটি
রাগ প্রচলিত আছে। রাগটিকে দু’রকম রূপে পাওয়া যায়। একটি পূর্বী
ঠাটের এবং অপরটি মারবা ঠাটের রাগ। সুতরাং ললিতার সঙ্গে ললিতের
সম্পর্ক নেই বলা চলে। কিন্তু, পূর্বী ঠাটের ললিতের সঙ্গে পারিজাতের
ললিতার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হতে পারে যদি, পূর্বী ঠাটের কড়ি মধ্যমটিকে
লুপ্ত করে দেওয়া হয়। কর্ণাটিক পদ্ধতির সঙ্গীতেও গৌল্ নামক জনক মেল-
এর অন্তর্গত ললিতা নামক একটি রাগ আছে এবং সে ললিতার সঙ্গে পারি-
জাতের ললিতার সম্পর্ক কিঞ্চিৎ ঘনিষ্ঠ বলা চলে, যদিও পারিজাত হচ্ছে
উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত গ্রন্থ। ৪১৪
গৌরীমেলসমুদ্ভূতা বহুলা মধ্যমোজ্ঝিতা।
স-বিয়োগি নি-না যুক্তা গান্ধারোদগ্রাহপাংশকা ॥ ৪১৫
গপ দস ধনি ধপ গপ। গরি গারিস। রিরিস ধদস রিরি গম গরিস গপ
ধনিদ পগম গারিস। রিরি স ধধ সস। ইতি বহুলা। প্রথম প্রহরোত্তরম্। ৫৭
বহুলা রাগের উৎপত্তি হয়েছে গৌরী মেল থেকে। এর মধ্যম স্বরটি
একেবারে বর্জিত। গ্রহস্বর গা। অংশস্বর পা। এর নি স্বরটি বর্জিত
সা-যুক্ত। ৪১৫
টিপ্পনীঃ পারিজাতের বহুলা গৌরী মেল্-এর রাগ। অর্থাৎ, আধুনিক
ভৈঁরো ঠাটের রাগ ছিল। সুতরাং বলাই বাহুল্য, এর রে ধা কোমল ছিল
এবং গা ও নি ছিল তীব্র। বহুলার ষড়জ স্বরটির প্রয়োগবিধি সম্বন্ধে একটি
বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করেছেন অহোবল। বর্জিত স'-যুক্ত নি স্বর। অর্থাৎ, রাগ-
টির মধ্যে সা স্বর বর্জিত না হলেও, বস্তুতঃ, “স-বিয়োগি নি-না যুক্তা” কথাটি
বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে, যেহেতু, স্বর-পরিচিতির মধ্যে সা বিহীন নি
স্বরের কোন রকম প্রয়োগই পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সুতরাং বুঝতে হবে,
এ ক্ষেত্রে পারিজাতকার সা স্বরটির দৌর্বল্যই এইভাবে প্রকাশ করতে চেয়ে-
ছেন। অর্থাৎ, যেখানে তিনি নি স্বরের প্রয়োগ সমর্থন করেছেন, সেখানে
সা স্বরটিকে অতি অবশ্য উহ্য রাখবার ইঙ্গিত প্রকাশ করেছেন। যেমন ধনিরে,
স ১১
১৬২ সঙ্গীত পারিজাতে
গরেণি, রেনিধ। কিন্তু, কোন অবস্থাতেই ধনিসা, বা রেনিসা হবে না। বহুলা
রাগটি বর্তমানে অপ্রচলিত। অন্যান্য প্রাচীন গ্রন্থে বহুলা বহুলীরূপে পরিচিত
হয়েছে। দক্ষিণেরা বহুলা বা বহুলীকে ভৌলী বলেন। পারিজাতের বহুলার
আরোহণ-অবরোহণ ছিল, গপদর্স | সর্দনদপগঋস। গা ছিল এর গ্রহস্বর।
সেই জন্যই গা-কে ভিত্তি করেই এর আরোহণ হতো। ৪১৫
গুর্জ্জরী মালবোৎপন্নাবরোহে ম-নি-বর্জ্জিতা।
গ-শ্লিষ্টমধ্যমোপেতা ধৈবতশ্লিষ্টস-স্বরা।
গান্ধার মূর্চ্ছনোপেতা দাক্ষিণাত্যা প্রকীর্তিতা॥ ৪১৬
গপ ধসরি গরি সধনি ধপ ধপ ধপ পদমগ রিসস | রিরি সধ ধস পপ, গপধ
ধাপ গারি সরি রিস ধধম ধনিধ পধ ধপ গপ পাগ মাগ রিস রিরিস ধধ সসা।
দাক্ষিণাত্যা গুর্জরী। প্রথম প্রহরোত্তরম্। ৪১৬
দক্ষিণা গুর্জরী রাগের উৎপত্তি হয়েছে মালব মেল থেকে। এর অবরোহণে
মা ও নি স্বর বর্জ্জিত। এর মা স্বরটি গা-এর সঙ্গে ও সা স্বরটি ধা-এর সঙ্গে
সংযুক্ত। এর মূর্চ্ছনা গান্ধারাদি। ৪১৬
টিপ্পনী : দক্ষিণা বা দক্ষিণী গুর্জরী আধুনিক ভৈরোঁ ঠাটের অন্তর্গত
রাগ ছিল, কারণ, মালব মেলের স্বর হচ্ছে র ধ। এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ-ঔড়ব
জাতীয় রাগ। এর মূর্চ্ছনা ছিল গান্ধারাদি। অর্থাৎ এর রূপ ছিল গমপধনস |
সর্দপগঋস। কিন্তু, স্বর পরিচায়কের মধ্যে বিপরীত ব্যাপার পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অর্থাৎ, মা-নি স্বর দুটি অবরোহণে বর্জিত নয় আরোহণে বর্জিত হয়েছে। আমাদের
সন্দেহ হয়, মূলে কথাটি ছিল “মালবোৎপন্নারোহে ম-নি বর্জ্জিতা।” এবং এর
আরোহণ-অবরোহণ ছিল গপধসর্ঋ | সর্দনদপমগঋস। অর্থাৎ ঔড়ুব-সম্পূর্ণ
জাতীয় রাগ ছিল এটি। সেকালে, অনেক রকমের গুর্জরী প্রচলিত ছিল।
সঙ্গীত রত্নাকরেও পাঁচ রকম গুর্জরীর পরিচয় পাওয়া যায়। যথা, শুদ্ধ গুর্জরী,
মহারাষ্ট্র গুর্জরী, সৌরাষ্ট্রী গুর্জরী, দক্ষিণী গুর্জরী ও দ্রাবিড় গুর্জরী। কিন্তু, বর্তমানে
প্রচলিত গুর্জরীর সঙ্গে এদের কোনই সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্তমানে
প্রচলিত গুর্জরীটি একটি তোড়ী ঠাটের রাগ। এর বাদী সম্বাদী ধা ও রে।
বর্জিত স্বর পা। দিবা দ্বিতীয় প্রহরে গেয় রাগ। আরোহণ-অবরোহণ হচ্ছে
যথাক্রমে, সঋজ্ঞদ্ধনদর্স | সর্ নদজ্ঞদ্ধঋজ্ঞঋস। ৪১৬
সঙ্গীত পারিজাত ১৪৩
উত্তরা গুর্র্জরী জ্ঞেয়া শুদ্ধ গা পূর্ব্ববৎ সদা ॥ ৪১৭
ইতোত্তরা গুর্র্জরী। প্রথম প্রহরোত্তরম্। ৫০
উত্তরা (উত্তর ভারতীয়) গুর্র্জরীও (দক্ষিণ ভারতীয়) গুর্র্জরীর অনুরূপ।
পার্থক্য কেবল গা স্বরে। উত্তরা গুর্র্জরীর গা শুদ্ধ। ৪১৭
টিপ্পনী : উত্তরা গুর্র্জরীর সঙ্গে দক্ষিণা গুর্র্জরীর পার্থক্য কেবলমাত্র গা স্বরের
পরিবর্তনে। দক্ষিণা গুর্র্জরীতে তীব্র গা ব্যবহৃত হয় এবং উত্তরা গুর্র্জরীতে
শুদ্ধ গা লাগে। পারিজাতের শুদ্ধ গা হচ্ছে বর্তমানের কোমল গা। ৪১৭
গৌরীমেলসমুদ্ভূতা ধৈবতোদ্গ্রাহশোভিতা।
ধন্যাসাংশাপি কৌমারী প্রায়শঃ কম্পিতস্বরা ॥ ৪১৮
ধনি সরি গম গরি সনিধ । ধনি সরিস । গম পদনি ধপ ধনি ধপ গম পম
পগম গরিসম্ নিঃসধনি দনি সসঃ। ইতি কৌমারী। প্রথম প্রহরোত্তরম্। ৬০
কৌমারী রাগটির উৎপত্তি হয়েছে গৌরী মেল থেকে। ধা হচ্ছে এর উদ্গ্রাহ,
ন্যাস ও অংশস্বর। এর স্বরগুলি প্রায়শঃ কম্পিত বা গমকযুক্ত হয়। ৪১৮
টিপ্পনী : গৌরী মেল হচ্ছে আধুনিক ভৈরব ঠাটের অনুরূপ। সুতরাং
পারিজাতের কৌমারী ভৈরব ঠাটের রাগ ছিল। আরোহণ-অবরোহণ ছিল
ধ্নসর্গম ধনর্স র্সনদপগম্ গরিসনধনী। বর্তমানে কৌমারী রাগটি খুব প্রচলিত
নয়। বর্তমানের কৌমারী পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত একটি ঔড়ব-ষাঢ়ব জাতীয় রাগ।
বর্জিত স্বর ধা। বাদী-সমবাদী গা-পা। আরোহণ-অবরোহণ, সরগমপনর্স ।
র্সনপমগমরস। এতে কৌমারীর সঙ্গে প্রখ্যাত শ্রীরাগের সামঞ্জস্যটা লক্ষণীয়।
শ্রীরাগের ঋ বাদী ও ধা বর্জিত নয়। কৌমারীর গা বাদী ও ধা বর্জিত। ৪১৮
গৌরীমেলসমুদ্ভূতা ষড়জোদ্গ্রাহেণ মণ্ডিতা ॥
ম-নি-ত্যক্তা সদা রেবা গ-পাদি যমলস্বরা ॥ ৪১৯
সরি গপ ধস সরি গরি সস সধ পগ পগা বিস সরি গপ ধস ধস রিগ পগ
বিস রিরি সস ধস্সা। ইতি রেবা। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৬১
রেবা রাগটিরও উৎপত্তি হয়েছে গৌরী মেল থেকে। এর গ্রহস্বর সা। মা
ও নি স্বর একেবারে বর্জিত। এর গ-প প্রভৃতি স্বরগুলি যমল অর্থাৎ যুগলভাবে
গ্রথিত হয়ে প্রযুক্ত হয়। ৪১৯
১৬৪ সঙ্গীত পারিজাত
টিপ্পনী : পারিজাতের রেবা ছিল গৌরী মেল=আধুনিক ভৈরো ঠাটের
রাগ। জাতি ছিল ঔড়ব-ঔড়ব যেহেতু ম-নি বর্জিত। সা ছিল এর গ্রহস্বর
এবং গপ পগ ধস' স'ধ এইরূপ যুগলভাবে গ্রথিত হয়ে এর স্বরগুলি প্রযুক্ত
হতো। রেবা, রেবাগুপ্তি, রেবাধণ্ডি প্রভৃতি রাগ সেকালে অতি প্রচলিত ছিল।
রত্নাকরেও রেবগুপ্তি আলোচিত হয়েছে। কিন্তু, বর্তমানে রাগটি একেবারেই
অপ্রচলিত হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে, অপ্রচলিত রাগ হিসাবে যে রেবার পরিচয়
আমরা পাই, সেটিও ভৈঁরো ঠাটের ঔড়ুব-ঔড়ুব রাগ। বর্জিত স্বর মা ও নি।
বাদী-সমবাদী গা ও পা। আরোহণ-অবরোহণ হচ্ছে সঋগপধস' | স'ধপগঋস।
—কিন্তু, স্বর্গত ভাতখণ্ডেজী এই রেবা রাগটিকে পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত সায়ংকালে
গেয় রাগ বলেছেন। ৪১৯
গৌলস্তু গ-ধ-বর্জ্যঃ স্যাদ্ গৌরীমেলসমুদ্ভবঃ ॥ ৪২০
সরি মপনি সরি সস সনি পপ পম রিরি মরি পস | পম পম পম রিরিরি সরি
সরি সনি সস। ইতি গৌলঃ। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৬২
গৌল রাগটিও গৌরী মেল থেকে উদ্ভূত। এর গা ও ধা স্বর দুটি
বর্জিত। ৪২০
টিপ্পনী : গৌল ভৈঁরো ঠাটের ঔড়ব-ঔড়ুব জাতীয় গা-ধা বর্জিত রাগ ছিল।
আরোহণ-অবরোহণ ছিল, সঋমপনস' | স'নপমঋস। বর্তমানে রাগটি একেবারে
অপ্রচলিত হয়ে গেছে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে উল্লেখযোগ্য যে, দক্ষিণ ভারতে
মালব-গৌল, মায়া-মালব-গৌল প্রভৃতি নামযুক্ত যে সব রাগ আজও প্রচলিত
রয়েছে, সেগুলিও সব ভৈঁরো ঠাটের রাগ। ৪২০
অথ কেদারগৌলঃ স্যাৎ তীব্রগান্ধার সংযুতঃ।
রজনীমূর্চ্ছনায়ুক্তঃ রি-প যোগেন মণ্ডিতঃ। ৪২১
তথৈব ম-প-যোগেন পঞ্চমাংশেন শোভিতঃ।
আরোহে গ-ধ-বর্জ্যঃ স্যাদ্ রি-স্বরাংশঃ ক্বচিন্মতঃ ॥ ৪২২
নি সরি মপনি ধধা পম গরি রিপ মগরি গরিম | নিস রিম পসানি ধপ মপধা
পম গরি রিরি গরি সনি সরি পম গরি গরি সনি সসা। ইতি কেদারগৌলঃ।
তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৬৩
সঙ্গীত পারিজাত ১৬৫
কেদার গৌল রাগের গা তীব্র। রাগটি রজনী মূর্ছনার ভিত্তিতে সংগ্রথিত
এবং এর রে-পা ও মা-পা স্বর-সঙ্গতি বিশেষ মাধুর্যপূর্ণ। এর পা স্বরটিই গৃহীত
হয় অংশরূপে। মতান্তরে, রে স্বরটিও এর অংশ স্বরূপে বিবেচিত হয়। কেদার
গৌলের আরোহণে গা-ধা স্বর বর্জিত। ৪২১—৪২২
টিপ্পনী : কেদার-গৌলের আলোচনা প্রসঙ্গে প্রথমেই আমাদের লক্ষ্য
করতে হবে, এর মূর্ছনাটি। রজনী মূর্ছনা হচ্ছে বর্তমানের বিলাবল ঠাটের
অনুরূপ ( ২৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য )। কিন্তু, এ রাগটির গা স্বরটি আবার তীব্র। সুতরাং
জ্ঞা-র স্থান গা গ্রহণ করলে, রজনী মূর্ছনার মা-র স্থান গ্রহণ করবে ক্ষ্মা।
অতএব, কড়ি মধ্যমের জন্য কেদার-গৌলের মেল হয়ে যাবে, বর্তমানের কল্যাণ
ঠাটের অনুরূপ। ফলে, এর রূপ দাঁড়াবে, ঔড়ব-সম্পূর্ণ জাতির, সরক্ষ্মপনর্স।
র্স ন্ধপক্ষমগরস। বলাইবাহুল্য, কেদার-গৌল নামটি বর্তমানে অপ্রচলিত। কিন্তু,
রূপটি বেঁচে আছে কল্যাণ গোষ্ঠির রাগের মধ্যে। ৪২১-৪২২
অথ কর্ণাটগৌল: স্যাদ্ রি-তীব্রতরসংযুতঃ।
তীব্রগান্ধারসংযুক্তো গ-ম-ন্যাসাংশ শোভিতঃ ॥ ৪২৩
ষড়্জাদিমূর্চ্ছনোপেতঃ পাপন্যাসাবরোহকঃ।
আরোহে ধৈবতেনাপি ক্বচিদ্ধ্বর্জ্জঃ সতাং মতঃ॥ ৪২৪
সরি গম পধনি স র্রা সনী সসা। নিধ পম নিনি স র্রী সনি নি সসা।
ইতি কর্ণাটগৌলঃ। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৬৪
কর্ণাটগৌল রাগের রে তীব্রতর। গা তীব্র। মা অংশস্বর। গা ন্যাসস্বর।
অবরোহণে পা অপন্যাসস্বর। মূর্ছনা ষড়্জাদি। কেউ কেউ আরোহণে ধা
স্বরটি বর্জন করে থাকেন। ৪২৩ ৪২৪
টিপ্পনী : কর্ণাটগৌলের তীব্রতর রে হচ্ছে পারিজাতের শুদ্ধ গা। অর্থাৎ,
বর্তমানের কোমল গা। তীব্র গান্ধারও ব্যবহৃত হচ্ছে এ রাগে। তার মানে,
জ্ঞা ও গা দুইই ব্যবহৃত হচ্ছে। মূর্ছনা ষড়জাদি। অর্থাৎ সা থেকে আরম্ভ
হয়ে যথাক্রমে সজ্ঞগমপনস হচ্ছে। এবং অবরোহণের গতি হচ্ছে র্স ন্ধপমগজ্ঞস।
মতান্তরে এর গতি, সজ্ঞগমপধনর্স। র্স ন্ধপমগজ্ঞস হয়। মূর্ছনার কারণে এর
রে স্বরটিকে তীব্রতর করবার ফলে, আসল রে স্বরটি বর্জিত হয়েছে।
১৬৬ সঙ্গীত পারিজাত
বর্তমানের আইন অনুসারে কর্ণাটগৌল একটি রে বর্জিত, কাফি ঠাটের ঔড়ব-
ঔড়ব বা ষাড়ব-ষাড়ব রাগ। বর্তমানে একেবারে অপ্রচলিত। ৪২৩-৪২৪
সারঙ্গগৌল আখ্যাতঃ সারঙ্গস্বরসম্ভবঃ।
স-ন্যাসো মধ্যমাংশশ্চ গ-ধ-হীনোহথ সাদিমঃ ॥ ৪২৫
সরি মপনী সারি সনী সনি পম পম রিমা রিসা।] নিস নিস নিস নিপ মরি
পমপ পনী সরি মপ মরি মরি সনী সস। ইতি সারঙ্গগৌলঃ। তৃতীয়
প্রহরোত্তরম্। ৬৫
সারঙ্গগৌল রাগটির উৎপত্তি হয়েছে সারঙ্গ (মেল) থেকে। এর মূর্চ্ছনা
ষড়জাদি এবং সা-ই এর ন্যাস স্বর। অংশস্বর মা। বর্জিত স্বর গা ও
ধা। ৪২৫
টিপ্পনী: পারিজাতের ৪৪ সংখ্যক রাগের নাম সারঙ্গ। সারঙ্গ একটি
গা-ধা বর্জিত ও দুই মা দুই নি যুক্ত রাগ। কিন্তু সারঙ্গগৌল রাগটি গা-ধা
বর্জিত হলেও এর মধ্যে দুই মা বা দুই নি-য়ের অস্তিত্ব নেই। সারঙ্গ রাগের
গা স্বরটি অতি তীব্রতম ছিল। অর্থাৎ শুদ্ধ মা ছিল এবং ধা স্বরটি ছিল
তীব্রতর। অর্থাৎ পারিজাতের শুদ্ধ নি বা বর্তমানের কোমল নি স্বর ছিল
তীব্রতর ধা। দেখা যাচ্ছে সারঙ্গগৌল রাগে এই দুটি স্বরই বর্জিত।
অতএব, সারঙ্গগৌলের স্বর ছিল সরলরূপ। বলাবাহুল্য, সারঙ্গগৌলের গা-ধা
সাধারণভাবেই বর্জিত হয়েছে, মূর্চ্ছনার অজুহাতে স্বরান্তরিত হয়নি।
অপরপক্ষে এর মেল সারঙ্গ। অর্থাৎ সারঙ্গের দুটি বিশিষ্ট স্বর ক্মা ও তীব্র নি
(বর্তমানের শুদ্ধ নি) এতে লাগছে। ফলে, সারঙ্গগৌলের ঠাট হয়ে যাচ্ছে,
বর্তমানের আইন অনুযায়ী, কল্যাণ। গা-ধা বর্জিত রাগ কল্যাণ গোষ্ঠীর মধ্যে
আছে। কিন্তু, সারঙ্গগৌল নামটি বর্তমানে অপ্রচলিত। ৪২৫
রীতিগৌলস্ত সম্পূর্ণো ধৈবতাদিকমূর্চ্ছনঃ।
অবরোহে প-বর্জ্যঃ স্যাম্ন্যাসাংশ স-রি-ভূষিতঃ ॥ ৪২৬
ধনি সরি গম পধ নীনী ধপ মপ গগ রিস নিস। ধনি সরি গম পপ ধনি
ধপম পগ রিস নিস সা। ইতি রীতিগৌলঃ। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৬৬
রীতিগৌল একটি সম্পূর্ণ (সম্পূর্ণ-ষাড়ব) জাতীয় রাগ। এর মূর্চ্ছনা
সঙ্গীত পারিজাত ১৯৭
ধৈবত্যাদি। অবরোহণে পা বর্জিত হয়। সা এর ন্যাসস্বর এবং অংশস্বর
হচ্ছে রে। ৪২৬
টিপ্পনী: বর্তমানের আইন অনুযায়ী রীতিগোল ছিল একটি সম্পূর্ণ-
ষাড়ব জাতির কাফি ঠাটের রাগ, যেহেতু, এটি পারিজাতের শুদ্ধ গা-নি
(জ্ঞা-ণি) স্বরযুক্ত। ধৈবত্যাদি মূর্চ্ছনা হওয়ার কারণে এর আরোহণ-
অবরোহন হতো, ধ্ ণ্স র জ্ঞ ম প ধ ন্ র্স। র্স ণ্ ধ ম জ্ঞ র স। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে,
স্বর পরিচিতির মধ্যে পা স্বরটি অবরোহণে বর্জিত হয়নি; পরন্ত, মা স্বরটি
বর্জিত বা বক্রভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। বলাবাহুল্য, মূল-এ ঠিক কী ছিল
আমাদের পক্ষে অনুমান করা সম্ভবপর নয়। “অবরোহে প-বর্জ্যঃ”-র স্থলে
“ম-বর্জ্যঃ” ছিল কিংবা স্বর পরিচিতির মা ও পা স্বর দুটি পরবর্তীকালের
নকলনবীশীর হাতে পড়ে গণ্ডগোলের সৃষ্টি করেছে কি না আমাদের পক্ষে
অনুমান করা সম্ভবপর নয়। রাগটি বর্তমানে অপ্রচলিত। ৪২৬
অথ নারায়ণে গোলে তীব্রগান্ধারসংযুতে।
অবরোহে ধ-গৌ নস্তো নির্ঘোরনয়তবাদিমে॥ ৪২৭
পুনঃস্বস্থানগমক আরোহে রি-পয়োর্শ্রিতঃ।
পূর্ব্বোত্তরাহতোপেতে মধ্যমন্যাসমণ্ডিতে॥ ৪২৮
নি সরি গরি সরি মপ পধ পম রিগ রিস। নি সনি পম পগ রিগ রিস।
রিম পম পম রিরি গরিস। নিসনি সরি মরি মপ ধপ মপ মরি মরি গরি সনি
পনিস। ইতি নারায়ণ গোলঃ। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৪৭
নারায়ণগৌল রাগের গা স্বর তীব্র। মাস্বর ন্যাস। অবরোহণে গা-ধা
বর্জিত। মূর্চ্ছনা নি এবং রে উভয় স্বরকে ভিত্তি করেই হতে পারে। আরোহণে,
রে-পা স্বর-সঙ্গতিতে 'পুনঃ স্বস্থান' নামক গমক ব্যবহার করতে হয় এবং অন্যান্য
স্বর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও 'পূর্ব্বাহত' ও 'উত্তরাহত' নামক গমক দুটি ব্যবহৃত হয়ে
থাকে। ৪২৭-৪২৮
টিপ্পনী: নারায়ণগৌলের রূপ ছিল, বর্তমানের খাম্বাজ ঠাটের মতো।
অর্থাৎ বর্তমানের শুদ্ধ গা স্বরটি ব্যবহৃত হতো। আরোহণ করতো ণ্ সরগম-
পধনর্সা কিংবা রগমপধনর্সর্। অবরোহণে গা-ধা বর্জিত হয়ে র্সপমর-
গমক হতো। এই রাগটিকে ফুটিয়ে তোলবার জন্য তিন রকমের গমক ব্যবহৃত
হতো (গমক প্রকরণের পুনঃ-স্বস্থান দ্রষ্টব্য)। পূর্বাহত ও উত্তরাহত নামক
গমক দুটি অবশ্য আলাদাভাবে আলোচিত হয়নি পারিজাতে; কিন্তু, পুনঃ স্বস্থান
ও প্রত্যাহত গমকের সঙ্গে এ দুটির সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ। নারায়ণগৌল ছিল
খাম্বাজ ঠাটের সম্পূর্ণ-ঔড়ব জাতির রাগ। কিন্তু, স্বর পরিচিতির মধ্যে পপ
রগ রস প্রভৃতির প্রয়োগ লক্ষ্য করলে সন্দেহ জাগবে, নারায়ণগৌলের
অবরোহণে রে ও গা স্বর বর্জিত হলো কী করে? বস্তুতঃ প্রয়োগটা হচ্ছে
বক্রগতির ব্যবহার। সেকালে এইভাবেই বক্রগতির প্রয়োগ বোঝানো হতো।
রাগটি বর্তমানে অপ্রচলিত। ৪২৭-২৮৮
অথ মালবগৌলহস্মিন্ গৌরীস্বরসমুদ্ভবে।
ত্যক্ত-ধে-বি-স্বরোদগ্রাহে ন হ্যারোহে তু গ-স্বরঃ।
আরোহে যদি গান্ধারঃ পাদির্মান্তো বিধীয়তে॥ ৪২৯
রিম পনি সসনি পপম গগ রিম গবিস। রিম পনি পনি সরি সবি মা
রিগ গগা বিস। সনি পগ পম গ্স রিম গরিসা। ইতি মালবগৌলঃ। তৃতীয়
প্রহরোত্তরম্। ৮৮
মালবগৌল রাগটির উৎপত্তি হয়েছে গৌরী মেল থেকে। এর ধা স্বরটি
একেবারে বর্জিত। গা স্বরটিও আরোহণে বর্জিত। তবে, মতান্তর আছে।
যে ক্ষেত্রে গা স্বরটি আরোহণেও ব্যবহৃত হয়, সে ক্ষেত্রে মালবগৌলের মূর্ছনা
হয়ে যায় পঞ্চমাদি এবং মা হয় ন্যাস স্বর। নাহলে, এর গ্রহস্বর হচ্ছে
রে। ৪২৯
টিপ্পনী: পারিজাতের পরবর্তীযুগে বিরচিত অনেক গ্রন্থে মালবগৌল
মালবগৌড়রূপে আলোচিত হয়েছে। এর চেহারা ছিল, ঋমপনর্স।
র্সনপমগঋসা। বা প্ ন্সঋগমপনর্স। র্সনপমগঋস। অর্থাৎ ঔড়ব-ষাঢ়ব বা
ষাঢ়ব-ষাঢ়ব জাতির রাগ ছিল এটি। রাগটি বর্তমানে অপ্রচলিত। কিন্তু,
দক্ষিণী সঙ্গীতের মায়ামালব-গৌল-এর সঙ্গে এর কিছুটা সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত
হয়। মায়ামালব-গৌল হচ্ছে মালব-গৌল মেল-এর, অর্থাৎ উত্তর ভারতীয়
ভৈঁরো ঠাটের তথা সেকালের গৌরী মেল-এর রাগ। ৪২৯
সঙ্গীত পারিজাত ১৬৩
গ-নী ত্যাজ্যাবধরোহে রি-ধৌ যত্র চ কোমলৌ।
ষড়্জাদি স্বর সম্ভূতির্দেশ্যামংশস্তু রি-স্মৃতঃ॥ ৪৩০
সরি মপ ধসনি নিধ মপ গগ রিস—রিরি সনী ধসা। সরি মপ নিনি
ধমপ মপ গগরি সরি মপ পম গরি রিগ রিস। ধধস। ইতি দেশী।
সর্বদা। ৬৯
দেশী রাগের রে ও ধা স্বর কোমল। আরোহণে গা ও নি বর্জিত।
রে এর অংশস্বর। মূর্ছনা ষড়্জাদি। ৪৩০
টিপ্পনী: দেশী রাগটি ছিল ভৈরবী ঠাটের ঔড়ব-সম্পূর্ণ জাতির রাগ।
চেহারা ছিল সঋমপধস। সর্দপমজ্ঞঋস। এখানে স্মরণ রাখতে হবে পারি-
জাতের শুদ্ধ গা নি-বর্তমানের কোমল গা নি এবং সেই কারণেই কোমল
রে-ধা যুক্ত হয়ে দেশী ভৈরবী ঠাটের রাগ হয়েছে। বর্তমানেও, ভৈরবী
`ঠ
স্বর দুটি ছাড়া। হিন্দোলী নামক একটি শুদ্ধ মা-যুক্ত অর্দ্ধ প্রচলিত রাগ
আছে; কিন্তু তার সঙ্গেও পারিজাতের হিন্দোলের জ্ঞা-দা-নি মেলে না।
অপরপক্ষে, কর্ণাটিক্ পদ্ধতির হিন্দোল রাগটির সঙ্গে পারিজাতের হিন্দোলের
খাঁসাঙ্গীন সামঞ্জস্য লক্ষ্য করে বিস্মিত হতে হয়; কারণ, পারিজাত ছিল
উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত গ্রন্থ। বর্তমানে, উত্তর ভারতে প্রচলিত হিন্দোল
রাগটি, কল্যাণ ঠাটের ঔড়ব-ঔড়ব জাতির রাগ। বাদী-সমবাদী ধা-গা।
ব্যবহার কড়ি মধ্যম। আরোহণ-অবরোহণ হচ্ছে সগম্ধনধ,স' | স'নধ,দ্গম্,স।
অবশ্য, এ রাগটিও দিবা দ্বিতীয় প্রহরে গেয় রাগ। ৪৩১
হিন্দোলো রি-প-যোগেন মার্গহিন্দোলকোভবেৎ। ৪৩২
ইতি মার্গহিন্দোলঃ। দ্বিতীয় প্রহরোত্তরম্। ৭১
হিন্দোল রাগের মধ্যে রে-পা স্বরদুটি যুক্ত করলে মার্গহিন্দোল রাগের
সৃষ্টি হয়। ৪৩২
টিপ্পনী : মার্গহিন্দোল ছিল আসোয়ারী ঠাটের সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ রাগ।
চেহারা ছিল, সরজ্ঞমপধনস' | স'নধপমজ্ঞরস। বর্তমানে অপ্রচলিত। ৪৩২
রি-ধৌ তু কোমলৌ জ্ঞেয়াবাভীরী মূর্চ্ছনায়ুতে।
আরোহে চ ধ-বর্জ্জিত্বাৎ রাগে চক্রাভিধানকে ॥ ৪৩৩
সরি গম্ পনি সস নির্ধ পনি ধপ ধপ মপ ধপ মগা রিস। সরি গম পনিধ
ধপ গারিস (য কম্পনং সর্বত্র ) পগা রিস নিধ পপ ধস রিগ মপা গারি সরিস।
ইতি চক্রঃ। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৭২
চক্র রাগের মূর্ছনা আভীরী রাগের মতো। এর রে-ধা স্বর কোমল।
আরোহণে ধা বর্জিত। ৪৩৩
টিপ্পনী : পারিজাতকার এখানে আভীরিকা (৩৯৯ সূত্র দ্রষ্টব্য) নামক
রাগটির স্বর-ব্যবস্থার কথা বলছেন না—মূর্চ্ছনার কথা বলছেন। অর্থাৎ,
আভীরিকার মতো চক্র রাগেরও মূর্চ্ছনা হচ্ছে ষড়্জাদি। কিন্তু স্বর-ব্যবস্থা
ভিন্ন। আভীরিকার স্বর-ব্যবস্থার মধ্যে ধা কোমল ও নি তীব্র ছিল। চক্র
রাগের মধ্যে রে ও ধা দুটি স্বরই কোমল; কিন্তু নি সম্বন্ধে কোন মন্তব্য উল্লিখিত
হয়নি। সুতরাং চক্রর নি ছিল পারিজাতের শুদ্ধ নি। অর্থাৎ বর্তমানের
কোমল নি। অধিকন্তু, চক্রর আরোহণে ধা স্বরটি বর্জিত। অতএব, চক্রর
সঙ্গীত পারিজাত ১৭১
চেহারা ছিল সজ্ঞজ্ঞমপনস | সর্নদপমজ্ঞজ্ঞস। অর্থাৎ, বর্ত্তমানের ভৈরবী ঠাটের
অন্তর্গত ষাড়ব-সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ ছিল ৮৪। রাগটি বর্ত্তমানে বিলুপ্ত। তবে,
অর্দ্ধ-প্রচলিত কোমল ভীমপলাসী ও কোমল ধানেশ্রীর সঙ্গে ঢঙের সামঞ্জস্য
পরিলক্ষিত হয়। ৫৩৩
রিস্তু তীব্রতরো যস্মিন্ গান্ধারস্তীব্রসংজ্ঞকঃ।
ধস্তু তীব্রতরঃ প্রোক্তো নিষাদস্তীব্রনামকঃ।
অবরোহে ধ-গৌ নষ্টো নাটে রি-স্বর মূর্চ্ছনা ৷৷ ৫৩৪
রিগ মপ ধনি সস নিগ গম পম মরি সা র পধরি গম পধনি সধনি
সস নিপ সনিপ মম পম মপ মন পম মরী স | রি সনা সসা। ইতি
নাটঃ। তৃতীয় প্রহরস্তোদ্ভবম্। ৮৫
নাট রাগের রে তীব্রতর, গা ও নি তীব্র এবং ধা তীব্রতর। নাটের
অবরোহণে ধা-গা বর্জ্জিত হয়। এর মূর্চ্ছনা কলো
১১২ সঙ্গীত পারিজাত
গম পধনি সসনি ধপ মম পম মস। রিগ মরিস ধনি সধনি সসনি
পস (নিষাদ তার ষড়্জয়োঽঢালুঃ) সনি সনিস নিধ পধনি সস নিপ।
(সর্বত্র বিকর্ষণম্) ধনী ধপ মমপ মম সরিগ সারিস। ইতি নট নারায়ণঃ।
তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৭৪
নট রাগের উৎপত্তি হয়েছে বেলাবলী মেল থেকে। এর মূর্চ্ছনা গান্ধারাদি।
মধ্যম অংশ স্বর। ন্যাস স্বর ঋষভ এবং অবরোহণে গান্ধার স্বরটি বর্জিত। ৪৩৫
টিপ্পনী : পারিজাতের বেলাবলী (৪০৮ সূত্র, ৫০ সংখ্যক রাগ) ছিল
আধুনিক কাফি ঠাটের কোমল গ-নি যুক্ত রাগ। সুতরাং নটেও ছিল একটি
কাফি ঠাটের রাগ। অবরোহণে গা বর্জিত হওয়ার জন্য এর জাতি ছিল সম্পূর্ণ-
ষাড়ব। মূর্চ্ছনা ছিল গান্ধারাদি। অতএব, এর চেহারা ছিল জ্ঞমপধনর্স।
সঁনধপমরস। অবশ্য, বেলাবলীর “কচিৎ গান্ধার মূর্চ্ছনার” ওপর গুরুত্ব আরোপ
করে নট-এর জ্ঞ-নি স্বর দুটিকে গা-নি রূপেও গ্রহণ করা যেতে পারে, কিন্তু, লক্ষ্য
করবার বিষয়, পারিজাতে নারায়ণা (৩৮২ সূত্র, ২৪ সংখ্যক রাগ) বলেও একটি
রাগ রয়েছে। তার ঠাট ছিল আধুনিক বেলাবলের মতো তীব্র গা-নি যুক্ত।
কিন্তু, নারায়ণীর সঙ্গে নট-এর কোনই সামঞ্জস্য নেই। অপরপক্ষে, বর্তমানে যে
নট বা নটনারায়ণ প্রচলিত রয়েছে, তার সঙ্গেও পারিজাতের নট-এর কোন
সামঞ্জস্য নেই। বরং, নারায়ণীর সঙ্গে কিছুটা মিল আছে। বর্তমানে প্রচলিত
নটও বেলাবল ঠাটের একটি সম্পূর্ণ-ঔড়ুব জাতীয় রাগ। বাদী সম্বাদী মা-সা।
অবরোহণে বর্জিত হয় ধা-গা। চেহারা, সরগমপধনর্স। সর্নপমরস। পারি-
জাতের নট-এর স্বর পরিচিতির মধ্যে বন্ধনীযুক্ত মন্তব্য দুটিও উল্লেখযোগ্য।
“নিষাদতারষড়্জয়োঢালু”—এর দ্বারা বোঝানো হ’য়েছে যে মুদ্দারার পা থেকে
(সম্ভবতঃ সব ক'টি স্বর থেকেই) তারার সাঁ-তে পৌঁছতে হলে, নি স্বরটিকে
আশ্রয় করে চট করে গড়িয়ে যাওয়ার মতো করে পৌঁছতে হবে। অর্থাৎ পা
নর্স। ঢালু বা স্ফুঢালু নামক কোন গমকের আলোচনা পারিজাতে নেই,—
রত্নাকরে আছে। ঢালু, নামে গমক হলেও, আধুনিক অর্থে, কৃন্তনের মতো
একটা প্রক্রিয়া বোঝায়; কিন্তু, মীড় নয়। স্বর পরিচিতির মধ্যে “সর্বত্র
বিকর্ষণম্” মন্তব্যটিও লক্ষণীয়। বিকর্ষণ গমকের আলোচনা পারিজাতের গমক
প্রকরণে দ্রষ্টব্য। ৪৩৫
সঙ্গীত পারিজাত ১৭৩
শঙ্করাভরণোপেমে গান্ধার স্বর-বর্জ্জিতে।
অথ সালঙ্গ নাটেহস্মিন্ স-ন্যাসাংশ সমন্বিতে।
ষড়জোদ্গ্রাহেণ সম্পন্নে মা-ধাবাম্রেড়িতৌ স্মৃতৌ ॥ ৪৩৬
সসরি মম পধ সপ মসপ মমরি সসা ধপ মপ ধস সরি রিস। রিম মপ
ধনী ধপ মম মমরি সসা ধপ মপদ সস রিসা। ইতি সালঙ্গনাটঃ। তৃতীয়
প্রহরোত্তরম্। ৭৫
সালঙ্গনাট রাগটির উৎপত্তি হয়েছে শঙ্করাভরণ মেল থেকে। এর গ্রহ,
অংশ ও ন্যাস স্বর হচ্ছে সা। গা এ রাগের বর্জিত স্বর। মা ও ধা
আম্রেডিত। অর্থাৎ, দু'বার বা তিনবার করে আবৃত্তি করতে হয়। ৪৩৬
টিপ্পনীঃ পারিজাতের ৪৮ সংখ্যক রাগ শঙ্করাভরণ ছিল আধুনিক
বেলাবল ঠাটের রাগ। সুতরাং, সালঙ্গনাটও ছিল বেলাবল ঠাটের ষাড়ব-
ষাড়ব রাগ, যেহেতু, এর গা স্বর বর্জিত। চেহারাটা ছিল সরমপধনর্স।
র্সনধপমরস। সালঙ্গনাটের মা-ধা স্বরদুটি আম্রেড়িত ছিল। অর্থাৎ মধ
মধ বা মধ মধ মধ বা মধ ধম মধ—এই রকমভাবে দু'বার বা তিনবার
আবৃত্তি করলে তবেই সালঙ্গনাটের রূপ প্রকট হতো। বর্তমানে এ রাগটি
অপ্রচলিত। ৪৩৬
ছায়ানাটস্তু বিজ্ঞেয়ঃ শঙ্করাভরণস্বরৈঃ।
আরোহণে নি বর্জ্যঃ স্যাদবরোহে গ-বর্জ্জিতঃ।
ধৈবতোদ্ গ্রাহসংযুক্তো রি-ন্যাসোহনেকমধ্যমঃ ॥ ৪৩৭
ধস সরি গম পদ সনি ধপ মম রিধ পম পম মম মরি ধাপা মম সরি সরি
সরি সস। ইতি ছায়ানাটঃ। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৭৬
ছায়ানাট রাগের স্বরগুলিও শঙ্করাভরণের মতো। এর আরোহণে নি
ও অবরোহণে গা স্বর বর্জিত। ধা এর গ্রহস্বর এবং ন্যাসস্বর হচ্ছে রে।
মা স্বরটি এই রাগে প্রবল! ৪৩৭
টিপ্পনীঃ ছায়ানাটও ছিল আধুনিক বেলাবল ঠাটের ষাড়ব-ষাড়ব
রাগ। চেহারা ছিল ধ্ সরগমপধর্স। র্সনধপমরস। এর মধ্যমটি প্রবল
ছিল। বর্তমানে ছায়ানাট নেই; কিন্তু ছায়ানট অতি প্রচলিত রাগ।
বর্তমানে, তিন রকমের ছায়ানট প্রচলিত আছে। যথা, বেলাবল ঠাটের
১৭৪ সঙ্গীত পারিজাত
নিরঙ্কুশ শুদ্ধ গা-নি যুক্ত। কল্যাণ ঠাটের দুই মধ্যম যুক্ত এবং দুই মধ্যম
ও দুই নিষাদযুক্ত। এই তিনটি রূপের কোনটিই ষাড়ব-ষাঢ়ব নয়, প্রবল
মধ্যম যুক্তও নয়। পরন্তু, পা-রে সঙ্গতি-যুক্ত। ছায়ানট রাগ সম্বন্ধে
বিশদ আলোচনা মৎ প্রণীত ভারতীয় সঙ্গীত পরিচিতি প্রথম খণ্ডে
দ্রষ্টব্য। ৪৩৭
অথ কামোদনাটোহ স্মিন তীব্র গান্ধার সংযুতো।
ধৈবতোদগ্রহঃ সম্পূর্ণোহবরোহে গ-ধ বর্জিতো।
স-ন্যাসো মধ্যমাংশঃ স্যাৎ সর্বত্র বহুকম্পনম্ ॥ ৪৩৮
ধ নি সরি গম পধনি সস্ ন পস্ নিপ মমপ মম রিস্। সসপ। মম র্রিধ
ধনি সদ্নি সবি গপ পম রিস্ বিস নিপ প ধনি সস্ নিপ সস্ নিপ নিপ
মম পমম রিস্। সস্ র্রি স নি সনাস্ র্ররি গম গমম সর্ রি সনি পম পদনি
সমম মারি সার্বনি সস্ ন পস্। ইতি কামোদনাটঃ। তৃতীয় প্রহরোদয়ম্। ১১
কামোদনাট রাগে গা স্বরটি তীব্র। এবং গ্রহস্বর ধা, ন্যাস স্বর সা ও
অংশস্বর মা। রাগটির অবরোহণে গা ও ধা স্বর বর্জিত। কামোদনাটের
সবগুলি স্বরেরই অনেক রকমের কম্পন (গমক) ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ৪৩৮
টিপ্পনীঃ কামোদনাটের গা স্বরটি ছিল তীব্র এবং নি স্বরটি ছিল
(পারিজাতের) শুদ্ধ নি। সুতরাং আধুনিক খাম্বাজ ঠাটের সম্পূর্ণ-ঔড়ুব
জাতির রাগ ছিল এটি। চেহারা ছিল ধ্ ন্ স্ গ ম প ধ ন্ সস্। স প ম ম র স।
বর্তমানে কামোদনাট নামক কোন রাগ প্রচলিত নেই। প্রসঙ্গক্রমে, এখানে
উল্লেখযোগ্য যে, নট কামোদ নামক একটি কল্যাণ ঠাটের সম্পূর্ণ জাতির
রাগের সঙ্গে আমাদের পরিচয় আছে। আজ থেকে প্রায় আটত্রিশ বছর পূর্বে,
কোন বিখ্যাত ঘরোয়ানাদারদের নিকট থেকে, নট-কামোদ রাগের 'বনে
রহো সাহেব তুম' নামক তানসেন বিরচিত ধ্রুপদটি শিখেছিলাম। এ ঘরোয়া-
ণার ছায়ানট ছিল নিরঙ্কুশ গা-নি যুক্ত বেলাবল ঠাটের এবং আলোচ্য নট-
কামোদটি ছিল কড়ি ম্ যুক্ত কল্যাণ ঠাটের ছায়ানটের অনুরূপ। ৪৩৮
আভীরীমেল সম্ভূতোহবরোহে ধ-স্বরেোজ্ঝিতঃ।
অথ ন্যাসবিশেষাচ্চ্য আভীরীনাটকঃ স্মৃতঃ।
স-স্বরাদি গ্রহন্যাসো যস্মিন্নংশৌ গ-নী স্বরৌ ॥ ৪৩৯
ম পধ মম মগ রিগ মা'র সরি সনী সসসা। পাম"
Wait, "সনিপম" - yes.
Line 20:
"মরি গাম রিস রিস নীস সসা। ইতি কল্যাণনাটঃ। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৭৯"
Line 21:
"কল্যাণনাট রাগটির উৎপত্তি হয়েছে কল্যাণ মেল থেকে। এর অবরোহণে"
Line 22:
"গা-ধা বর্জিত। মূর্চ্ছনা ষড়জাদি। ৫৪০"
Line 23:
"টিপ্পনী: পারিজাতের কল্যাণ ছিল বর্তমানের কল্যাণের মতোই।"
Line 24:
"সুতরাং, কল্যাণনাটের চেহারা ছিল সরগমপধনস | সনপমরস। অর্থাৎ"
Wait, is there a bar '/' between aroha and avaroha?
Look at line 24: "ছিল সরগমপধনস | সনপমরস। অর্থাৎ" -> wait, is that a vertical bar '|' or '/'? It is '|'.
Wait, in line 24: "সরগমপধনস" - wait, look at 'গম': between 'গ' and 'প', is that 'ম'? Yes, 'ম'.
And in avaroha: "সনপমরস" - wait, look at : 'স' 'ন' 'প' 'ম' 'র' 'স'. Look between 'প' and 'র': is there 'ম'? Yes, 'ম'.
ৌ? Let's zoom into L28: অবরোহে ধ-গৌ বর্জ্যৌ স্যাত্সংশৌ ষড়্জপঞ্চমৌ।Wait, look at the word afterবর্জ্যৌ: স্যা ত্(khanda-ta or t-virama:ৎorত্?) -> স্যাৎThenসংংশৌorসাংশৌ? In Sanskrit: "স্যাৎ সাংশৌ" (syāt sāṁśau - sa should be amsha) or "স্যাদংশৌ" or "স্যাৎ সংস্থৌ"? Wait! Look at the letters: স্যা ত্ সা ং শৌ->স্যাৎসাংশৌ? Wait, look at সাorসং: There is স, with an akar? সা? Wait, above সাthere is an anusvara:সাংশৌ`!
Wait, but what is before षड्जपञ्चमौ?
"স্যাৎ সাংশৌ ষড়্জপঞ্চমৌ" or "স্যাতাংশৌ"?
Wait, amsha swaras: "স্যাদংশৌ ষড়্জপঞ্চমৌ" (let Sa and Pa be amsha? No, amsha is two: shadja and panchama, so dual: sāṁśau? No, amshau! But if shadja is amsha: "স্যাৎ সাংশ
?) Wait, look at বো? No, it's ব্যো? Wait, look at: বোর্হনে? Let's search the text of Sangita Parijata for this verse: Verses 443 & 444: Verse 443: "गौरीमेलसमुत्पन्ना..." In Bengali script: Let's look at the letters: ব্ যো হ ন ে->ব্যোহনে? Wait, what if the typesetter made an error for হ্যারোহেorত্বারোহেorহ্বারোহে`?
Look at the shapes:
ে(e-kar)ব(orহ)া(a-kar) -> together with e-kar, makes o-kar (ো)!
Wait, is the letter insideব? No, it looks likeবorযorর.
Wait, could it beর?
If it'sরো: then before it isা?
Wait, could it beবা রৌ হ ণে?
Wait, let's look at the letters one by one:
- First shape:
ব(orত্ব?)