सामग्री पर जाएँ
सर्वकोश
संग्रह पर लौटें

सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology

पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा

DevanagariHindipublished358 पृष्ठ

वीणा-तार पर शुद्ध-विकृत २९ स्वरों का गणितीय स्थान-निर्णय (अध्याय २)

সঙ্গীত পারিজাত ৫৫
পা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছানার আরও এক রকম ভেদাভেদ হয়, গা৫xমা৩
xধা৪ x নি৪ = ২৪০ x ৬ = ১৪৪০ প্রকার।—১৭৫
এইভাবে, শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে বাকি চারটি স্বরের বিকৃতরূপ যথাক্রমে
যুক্ত করে, পা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা দাঁড়ায়, ১০৮০+১৪৪০+
১৫৩৬+৮৬৪+১৪৪০ = ৬৩৬০।—১৭৬
এইভাবেই, চারটি বিকৃত রে, চারটি বিকৃত গা, চারটি বিকৃত ধা ও চারটি
বিকৃত নি যদি বাকি দু’টি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূর্চ্ছনা তৈরী করে, তাহলে,
তাদের মা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার ভেদাভেদ হবে, রে৪ x গা৪ x ধা৪ x নি৪ =
২৫৬ x ৬ = ১৫৩৬ প্রকার।—১৭৭
গা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা যদি তিনটি বিকৃতি রে, তিনটি বিকৃত মা, চারটি
বিকৃত ধা ও চারটি বিকৃত নি—দু’টি অবশিষ্ট শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে
মূর্চ্ছনায় পরিণত হয়, তাহলে, তাদের সংখ্যা হয়, রে৩xমা৩xধা৪ x নি৪ =
১৪৪ x ৬ = ৮৬৪ প্রকার।—১৭৮
রে-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা যদি পাঁচটি বিকৃত গা, তিনটি বিকৃত মা, চারটি
বিকৃত ধা ও চারটি বিকৃত নি—দু’টি অবশিষ্ট শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূর্চ্ছনায়
পরিণত হয়, তাহলে, তাদের ভেদাভেদ হয়, গা৫ x মা৩ x ধা৪ x নি৪ = ২৪০ x ৬ =
১৪৪০ প্রকার।—১৭৯।
অতঃপব, সঙ্গীতবিদ মুনিঋষিরা, পাঁচটি বিকৃত স্বরযোগে, পা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনার পরিচয় দিয়েছেন। যথা : রে৪ x গা৫ x মা৩ x ধা৪ x নি৪ = ৯৬০ x ৬
= ৫৭৬০ প্রকার।---১৮০
অতএব দেখা যাচ্ছে, বিকৃত স্বরসমূহের ষাড়ব মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা,
৩৬+৭৮+৮৪+১০২+৮৪+৭৮+৮৪+৯৬+২৪ + ৫৪ + ৯০ + ৭২+৫৪+২৪০+
৭৬৮ + ৪৩২ + ৪০২+৪৮০+৩৬০+২৮৮+১৬২+২৭০+১২০+৩০০+১৩৪৪+
৯৬০+১১৫২+১০৮০+১৪৪০+১০৮০+১৪৪০+১৫৩৬+৮৬৪+১৪৪০ + ৫৭৬০ +

৫৬ সঙ্গীত পারিজাত
যৎস্বরেন বিহীনায়াং মূর্চ্ছনায়াং পৃথক পৃথক।
তৎ স্বরেণৈব হীনাঃ স্যুঃ প্রস্তারাঃ ষাড়বাঃ ক্রমাৎ ॥ ১৮২
সপ্তশত্যা সবিংশত্যা গুণিতানাং মিতির্ভবেৎ।
শূন্যত্রয়ং রসো নেত্রং সপ্ত বহ্নিবিতি ক্রমাৎ ॥ ১৮৩
যখন যে যে মূর্চ্ছনা যে যে স্বর বর্জন করে ষাড়ব মূর্চ্ছনার রূপ পরিগ্রহ করবে,
সেই সব মূর্চ্ছনার প্রস্তার তৈরী করবার সময়ও ঠিক সেই সেই স্বর বর্জন
করে চলতে হবে। এবং, ওইরূপ এক একটি ষাড়ব প্রস্তারকে ৭২০ দিয়ে গুণ
করলে, ফল হবে, ৭২০ X ৫১৭৫ = ৩,৭২৬,০০০ প্রকার। —১৮২-৮৩
টিপ্পনী : প্রস্তার কথাটার অর্থ, প্রকার বা রকম-ফের। অর্থাৎ, মূর্চ্ছনার
অন্তর্গত স্বরগুলিকে কত রকম ভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রূপ দেওয়া যায় তাই
দেখানো। অহোবল, এই প্রস্তারসমূহের সংখ্যা নির্দেশ করেছেন ৩,৭২৬,০০০।
অর্থাৎ, ১৮১ সূত্রে ষাড়ব মূর্চ্ছনার যে সমষ্টি দেখানো হয়েছে সেই
৩১,০৫০ সংখ্যাটিকে ছয় দ্বারা ভাগ করলে, এক একটি স্বরের মূর্চ্ছনার
সংখ্যা হবে, ৩১,০৫০ ÷ ৬ = ৫১৭৫। তারপর, এই ৫১৭৫ সংখ্যাটিকে কূট-
তানের ৭২০ সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে, ফল হবে, ৩,৭২৬,০০০। বলা-
বাহুল্য, গ্রন্থকার ৭২০ সংখ্যাটির দ্বারা কূটতানের উল্লেখ করেছেন, কিন্তু,
কথাটার মর্মার্থ সূত্রটির মধ্যে স্থান পায় নি। তান দু’ রকমের হয়। শুদ্ধ ও
কূট। সঙ্গীত রত্নাকর বলেন : তানাঃ স্যু মূর্চ্ছনাঃ শুদ্ধাঃ ষাড়বৌড়ুদ্বিতী-
কৃতাঃ।……অসম্পূর্ণাশ্চ সম্পূর্ণা ব্যুৎক্রমোচ্চারিতস্বরাঃ। অর্থাৎ, শুদ্ধ মূর্চ্ছনা
যদি ষাড়ব ও ঔড়বে পরিণত হয়, তাহলে, তাকে শুদ্ধতান বলা যেতে
পারবে। এবং, যদি মনে হয়, কোন অসম্পূর্ণ বা সম্পূর্ণ মূর্চ্ছনার অন্তর্গত
স্বরগুলি অযথা সাজানো হয়েছে, তাহলে, বুঝতে হবে, সেইগুলি কূটতান।
যেমন, সা-রে-গা, এই তিনটি স্বরের অসম্পূর্ণ মূর্চ্ছনা ছ’ রকম কূটতানে পরিণত
হ’তে পারে। যথা—সারেগা, রেগাসা, গাসারে, রেসাগা, সাগারে ও গারেসা।
ঔড়বা অথ কথ্যন্তে শুদ্ধেষু বিকৃতেষ্বপি ॥ ১৮৪
দ্বয়োদ্বয়োঃ পরিত্যাগাৎ ক্রমাদ্ভেদা মনীষিণঃ।
ঔড়বানাং বিশুদ্ধানামবদন্ পঞ্চসপ্ততিম্ ॥ ১৮৫
অতঃপর, শুদ্ধ ও বিকৃত স্বরযুক্ত ঔড়ব মূর্চ্ছনার কথা বলা যাচ্ছে। জ্ঞানী-গুণীরা

সঙ্গীত পারিজাত ৪৭
বলেন, ক্রমিক নিয়মে দু'টি করে স্বর বর্জন করে, বিশুদ্ধ স্বরের ঔড়ব মূর্চ্ছনা
তৈরী করতে হয়। শুদ্ধ স্বরযুক্ত এইরূপ ঔড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা ৭৫।—১৮৪-৮৫
টিপ্পনী: পূর্ব্বেই বলেছি, সপ্তকের মধ্যে সা স্বর,টি অবিলোপী। সুতরাং,
বাকি ছয়টি স্বরের যে কোন পাঁচটিকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করে ঔড়ব
স্কেল তৈরী করা যেতে পারে, এবং ঔড়ব মূর্চ্ছনা তৈরীর ব্যাপারে
রেগা, মাপা ও ধানি, এই দু'টি স্বরকে ক্রমান্বয়ে তিনবার করে
বর্জ্জন করা যেতে পারে। ফলে, এই রকম মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা দাঁড়াবে,
৫ x ৩ = ১৫x৩ = ৭৫ প্রকার। ১৮৪-৮৫
বিকৃত স্বরযুক্ত ঔড়ব মূর্চ্ছনাও এই নিয়মানুসারে তৈরী করতে হবে। যেমন :
রি-ভেদাংস্তন্ সংগৃহ্য দ্বাভ্যাং দ্বাভ্যাং বিবর্জনাৎ।
ভেদানপি বিজানীয়াৎ পঞ্চাশদুত্তরং শতম্॥ ১৮৬
তিনটি বিকৃত রে স্বরকে, বাকি তিনটি স্বরের (যেহেতু, ঔড়ব মূর্চ্ছনাটি প-নি
বর্জ্জিত) বিকৃত রূপ-সংখ্যার সমষ্টি-দশক দিয়ে গুণ করলে ফল হ'বে—রে৩ x
(গ৪+ম৩+ধ৩=) ১০ = ৩০। তারপর, এই ত্রিশকে ঔড়ব = পাঁচ দ্বারা গুণ
করলে, বিকৃত ঋষভের মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা দাঁড়াবে, ৩০ x ৫ = ১৫০
প্রকার।—১৮৬
টিপ্পনী: কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে গ্রন্থোক্ত মূর্চ্ছনাগুলিকে যথাযথভাবে স্বরলিপি
করে সাজিয়ে দেওয়া সম্ভবপর হচ্ছে না। পারিজাত-পাঠক যদি ২৩ পৃষ্ঠায়
প্রকাশিত স্বর-শ্রুতি-মণ্ডল'র প্রতি লক্ষ্য রেখে মূর্চ্ছনা মেলাবার চেষ্টা করেন,
তাহলে, ব্যাপারটা সুবোধ্য হবে। আপাততঃ, উদাহরণ হিসাবে, আমরা
কেবলমাত্র বিকৃত ঋষভের ঔড়ব মূর্চ্ছনাটি সাজিয়ে দিচ্ছি:
১। সা, পূর্ব্ব-রে, কোমল-গা, মা, ধা, (সা)
২। সা, পূর্ব্ব-রে, তীব্র-গা, মা, ধা, (সা)
৩। সা, পূর্ব্ব-রে, তীব্রতর-গা, মা, ধা, (সা)
৪। সা, পূর্ব্ব-রে, তীব্রতম-গা, মা, ধা, (সা)
৫। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, তীব্র-মা, ধা, (সা)
• ৬। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, তীব্রতর-মা, ধা, (সা)

৫৮ সঙ্গীত পারিজাত
৭। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, তীব্রতম-মা, ধা, (র্সা)
৮। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, মা, পূর্ব্ব-ধা, (র্সা)
৯। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, মা, কোমল-ধা, (র্সা)
১০। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, মা, ধা, (র্সা)
১১। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, মা, তীব্র-ধা, (র্সা)
১২। সা, কোমল-রে, কোমল-গা, মা, ধা, (র্সা)
১৩। সা, কোমল-রে, তীব্র-গা, মা, ধা, (র্সা)
১৪। সা, কোমল-রে, তীব্রতর-গা, মা, ধা, (র্সা)
১৫। সা, কোমল-রে, তীব্রতম-গা, মা, ধা, (র্সা)
১৬। সা, কোমল-রে, গা, তীব্র-মা, ধা, (র্সা)
১৭। সা, কোমল-রে, গা, তীব্রতর-মা, ধা, (র্সা)
১৮। সা, কোমল-রে, গা, তীব্রতম-মা, ধা, (র্সা)
১৯। সা, কোমল-রে, গা, মা, পূর্ব্ব-ধা, (র্সা)
২০। সা, কোমল-রে, গা, মা, কোমল-ধা, (র্সা)
২১। সা, কোমল-রে, গা, মা, তীব্র-ধা, (র্সা)
২২। সা, তীব্র-রে, তীব্র-গা, মা, ধা, (র্সা)
২৩। সা, তীব্র-রে, তীব্রতর-গা, মা, ধা, (র্সা)
২৪। সা, তীব্র-রে, তীব্রতম-গা, মা, ধা, (র্সা)
২৫। সা, তীব্র-রে, গা, তীব্র-মা, ধা, (র্সা)
২৬। সা, তীব্র-রে, গা, তীব্রতর-মা, ধা, (র্সা)
২৭। সা, তীব্র-রে, গা, তীব্রতম-মা, ধা, (র্সা)
২৮। সা, তীব্র-রে, গা, মা, পূর্ব্ব-ধা, (র্সা)
২৯। সা, তীব্র-রে, গা, মা, কোমল-ধা, (র্সা)
৩০। সা, তীব্র-রে, গা, মা, তীব্র-ধা, (র্সা)
এইভাবে, রে৩ x ( গ৪+ম৩+ধ৩= )১০ = ৩০ রকম বিকৃত রে স্বরের
মূর্চ্ছনা হ'তে পারে। অতঃপর, এই ত্রিশ রকম মূর্চ্ছনা আবার ১৫০
প্রকারে পরিণত হ'তে পারে, যদি, প্রতিটি মূর্চ্ছনাকে ধ্ সরগম (ধা)
সরগমধ (র্সা) রগমধর্স (র্ র) গমধর্সর (র্ গ) মধর্সরর্গ (র্ ম)—এই পাঁচটি
কূটতানের দ্বারা যুক্ত করা যায়। অর্থাৎ, ৩০ x ৫ = ১৫০ হয়। বলাবাহুল্য,
প্রকারের এই রূপ হলে ক্রমশঃ পরবর্তী সঙ্গীত শাস্ত্রে কথিত ঔড়ব ষাড়বাদি প্রকারে প্রবেশিকা

সঙ্গীত পারিজাত ৫৯
অতঃপর উপরোক্ত বিকৃত ঋষভের ঔড়ব মূর্ছনার ভেদ-প্রণালীটির প্রতি লক্ষ্য
রেখে অগ্রসর হলে, দেখা যাবে :—
গ-ভেদা দ্বিশতী জ্ঞেয়া ম-ভেদা রি-সমা মতাঃ
ধ-ভেদাস্তৎসমা জ্ঞেয়া নি-ভেদা গ-সমা মতাঃ ॥ ১৮৭
বিকৃত গা-য়ের ঔড়ব মূর্ছনার সংখ্যা ২০০ প্রকার। বিকৃত মা-য়ের ঔড়ব
মূর্ছনার সংখ্যা বিকৃত রে-র অনুরূপ। অর্থাৎ, ১৫০। বিকৃত ধা-য়ের ঔড়ব
মূর্ছনার সংখ্যাও অনুরূপ। অর্থাৎ, ১৫০। বিকৃত নি-য়ের মূর্ছনার সংখ্যা
গা-য়ের সমতুল্য। অর্থাৎ, ২০০ প্রকার।—১৮৭
অর্থাৎ,
মা৩+ধা৩+নি৪ = ১০ × গা-য়ের ৪বিকৃতি = ৪০ × ঔড়বের ৫ = ২০০। নি-য়ের
হিসাবও অনুরূপ, যেহেতু, তার বিকৃতিও চার রকম। এটি রে-পা বর্জ্জিত
ঔড়ব মূর্ছনা।
রে৩+ধা৩+নি৪ = ১০ × মা-য়ের ৩ বিকৃতি = ৩০ × ঔড়বের ৫ = ১৫০। ধা-য়ের
হিসাবও অবিকল মা-য়ের মতো। এটি গা-পা-বর্জ্জিত ঔড়ব মূর্ছনা।
রীণাং গানাং প্রভেদাঃ স্যুরশীত্যা চ চতুঃশতী।
রীণাং মানাঞ্চ ভেদাঃ স্যুঃ সপ্তত্যা চ শতদ্বয়ম্ ॥ ১৮৮
চারটি ক'রে বিকৃত রে ও গা স্বর মিলে মূর্ছনায় পরিণত হলে, তাদের সংখ্যা
হয় ৪৮০ প্রকার। অনুরূপ, তিনটি করে রে ও মা মিলে মূর্ছনা তৈরী করলে,
তাদের সংখ্যা হয় ২৭০ প্রকার।—১৮৮
টিপ্পনী : এখানে পাশাপাশি দুটি বিকৃত স্বর নিয়ে ঔড়ব মূর্ছনা রচনা
করবার কথা বলা হচ্ছে। ভেদাভেদ দেখানো হচ্ছে, যথাক্রমে, চারটি করে
বিকৃত রে-গা ও তিনটি ক'রে বিকৃত রে-মা স্বর নিয়ে মূর্ছনা তৈরী করবার
প্রণালী ও তাদের সংখ্যার। সংখ্যাটা হচ্ছে, যথাক্রমে, ৪৮০ ও ২৭০।
কী ক'রে হয়? হয়,—

কোমল রে × পূর্ব্ব গা + কোমল গা + তীব্র গা + তীব্রতর গা = ৪
তীব্র-রে × তীব্র গা + তীব্রতর গা + তীব্রতম গা + অতি-তীব্রতম গা = ৪
সুতরাং, সংখ্যাটা হলো রে৩ × গা৪ = ১২। অতঃপর, এই ১২ সংখ্যাটির সঙ্গে
গুণ করতে হ’বে, ঔডব মূর্চ্ছনার বাকি দু’টি বিকৃত স্বর-সমষ্টির। মূর্চ্ছনাটি
মা-পা বর্জ্জিত। অতএব, বাকি থাকে চার রকমের আটটি ধা-নি স্বর।
ফলে, সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১২ × ( ৪ + ৪ = ) ৮ = ৯৬ × ঔডবের ৫ প্রকার = ৪৮০।
অনুরূপ, তিন রকমের রে-মা বিকৃতির ঔডব মূর্চ্ছনার সংখ্যা হবে, রে৩ ×
মা৩ = ৯ × ( ধাত্+নিত্ )৬ = ৫৪ × ৫ = ২৭০। প্রসঙ্গক্রমে এখানে উল্লেখ-
যোগ্য যে, ধা নি স্বরের বিকৃতি চারটি ক’রে হলেও, এ ক্ষেত্রে, তীব্রতর
ধা-নি-র বিকৃতি পরিত্যাগ করতে হয়েছে ( রে৩ ⟋ মা৩ ) মূর্চ্ছনার মধ্যে
খাপ খায়না বলে। বলাবাহুল্য, এটি গা-পা বর্জ্জিত ঔডব মূর্চ্ছনা। এবং,
ঠিক এই ভাবেই —
রীণাং ধানাং তথা ভেদা স্তাবন্তোহত্রাপি সম্মতাঃ।
রীণাং নীনাং প্রভেদাঃ স্যুঃ ষষ্ট্যা যুক্তং শতত্রয়ম্ ॥ ১৮৯
গ-মানাঞ্চ ভিদা জ্ঞেয়া সপঞ্চাশচ্চতুঃশতী।
তথা ভেদা গ-ধানাঞ্চ ষষ্ট্যা যুক্তং শতত্রয়ম্ ॥ ১৯০
গ-নীনাঞ্চ ভিদা জ্ঞেয়া অশীত্যা চ চতুঃশতী।
ম-ধানাঞ্চ প্রভেদাঃ স্যুঃ সপ্তত্যা চ শতদ্বয়ম্ ॥ ১৯১
ম নীনাঞ্চ ভিদা জ্ঞেয়া ষষ্ট্যা যুক্তং শতত্রয়ম্।
ধ নীনাঞ্চ প্রভেদাঃ স্যুরশীত্যা চ চতুঃশতী ॥ ১৯২
রি-গ-মানাং ভিদাস্তত্র শূন্যদ্বন্দ্বঞ্চ রন্ধ্রকম্।
রি-গ-ধানাং প্রভেদাঃ স্যুঃ শূন্যং নেত্রং মুনিস্তথা ॥ ১৯৩
রি-গ-নীনাং ভিদা জ্ঞেয়া খরসাবথ রন্ধ্রকম্।
রি-ম-ধানাং তথা ভেদা পঞ্চোত্তর-চতুঃশতী ॥ ১৯৪

সঙ্গীত পারিজাত ৬৯
রি ম-নীনাং প্রভেদাঃ স্যুঃ খঞ্চ বেদাঃ শরস্তথা।
রি-ধ-নীনাং ভিদা জ্ঞেয়া শূন্যং নেত্রং তথা মুনিঃ॥ ১৯৫
গ-ম-ধানাং তথা ভেদাঃ শরো মুনিস্তথা রসঃ।
গ-ম-নীনাং প্রভেদাঃ স্যুঃ শূন্যদ্বন্দঞ্চ রন্ধ্রকম্॥ ১৯৬
গ ধ-নীনাং ভিদা জ্ঞেয়া খরসাঙ্কৈর্বিচক্ষণৈঃ।
ম-ধ-নীনাং তথা ভেদাঃ শূন্যং নেত্রং তথা মুনিঃ॥ ১৯৭
রি-গানাঞ্চ মধানাঞ্চ ভেদা নবশতানি চ।
রি-গ-মানাং ভিদা নীনাং খদ্বয়ং লোচনং শশী॥ ১৯৮
রি-গ-ধানাঞ্চ নীনাং স্যুঃ খং বসুর্লোচনং শশী।
রি-ম-ধানাং ভিদা নীনাং শূন্যং নেত্রং তথা মুনিঃ॥ ১৯৯
গ-মানাঞ্চ ধ-নীনাং স্যুঃ খদ্বয়ং লোচনং শশী॥ ২০০
ঔড়বানাঞ্চ সর্ব্বেষাং মূর্চ্ছনানাং মিতির্ভবেৎ
সপ্তদশ সহস্রাণি পঞ্চ পঞ্চশতানি চ॥ ২০১
বিকৃত রে ও ধা স্বরের ঔড়ব মূর্চ্ছনা, রে৩ x ধা৩ = ৯ x ( মা৩+গ৩= ) ৬ =
৫৪ x ৫ = ২৭০ প্রকার। বিকৃত রে ও নি স্বরের ঔড়ব মূর্চ্ছনা, রে৩ x নি৪ =
১২ x ( ধা৩+ম৩= ) ৬ = ৭২ x ৫ = ৩৬০ প্রকার। ১৮৯
বিকৃত গা ও মা-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা, গা৬ x মা৩ = ১৮ x ( পা১+নি৫= ) ৫ =
৯০ x ৫ = ৪৫০ প্রকার। বিকৃত গা ও ধা-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা গ৪ x ধ৩=১২ x
( রে৩+মা৩= ) ৬ = ৭২ x ৫ = ৩৬০ প্রকার। ১৯০
বিকৃত গা ও নি-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা, গা৪ x নি৪=১৬ x ( মা৩+ধা৩= ) ৬=
৯৬ x ৫ = ৪৮০ প্রকার। বিকৃত মা ও ধা-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা, মা৩ x ধা৩ x ( রে৩

  • নি৩= ) ৬ = ৫৪ x ৫ = ২৭০ প্রকার। ১৯১
    বিকৃত মা ও নি-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা, মা৩ x নি৪ = ১২ x ( রে৩+ধা৩= ) ৬
    = ৭২ x ৫ = ৩৬০ প্রকার। বিকৃত ধ্য ও নি-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা, ধা৩ x নি৪ =
    ১২ x ( রে৪+গা৪= ) ৮ = ৯৬ x ৫ = ৪৮০ প্রকার। ১৯২

অতঃপর তিনটি ক'রে বিকৃত স্বরের কথা বলা হচ্ছে :—
বিকৃত রে, গা ও মা স্বরের ঔডব মূর্চ্ছনা, রে৩ × গ৪ × মা৩ = ৩৬ × ( নি৫ )
= ১৮০ × ৫ = ৯০০ প্রকার। বিকৃত রে, গা, ধা-র মূর্চ্ছনা, রে৩ × গা৪ × ধা৩
= ৩৬ × ( মা৪ ) = ১৪৪ × ৫ = ৭২০ প্রকার। ১৯৩
বিকৃত রে, গা, নি-র মূর্চ্ছনা, রে৩ × গা৪ × নি৪ = ৪৮ × ( ধা৪ ) = ১৯২ ×
৫ = ৯৬০ প্রকার। বিকৃত রে, মা, ধা-ব ঔডব মূর্চ্ছনা, রে৩ × মা৩ × ধা৩ =
২৭ × ( নি৩ ) = ৮১ × ৫ = ৪০৫ প্রকার। ১৯৪
বিকৃত বে, মা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা, রে৩ × মা৩ × নি৪ = ৩৬ × ( ধা৩ ) = ১০৮
× ৫ = ৫৪০ প্রকার। বিকৃত রে, ধা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা, রে৩ × ধা৪ × নি৪
= ৩৬ × ( গা৪ ) = ১৪৪ × ৫ = ৭২০ প্রকার। ১৯৫
বিকৃত গা, মা, ধা-র ঔডব মূচ্ছ না হচ্ছে, গা৫ × মা৩ × ধা৩ = ৪৫ × ( রে৩ )
= ১৩৫ × ৫ = ৬৭৫ প্রকাব। বিকৃত গা, মা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা, গা৫ × মা৩
× নি৪ = ৬০ × ( ধা৩ ) = ১৮০ × ৫ = ৯০০ প্রকাব। ১৯৬
বিকৃত গা, ধা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা হচ্ছে গা৪ × ধা৩ × নি৪ = ৪৮ × ( রে৪ ) =
১৯২ × ৫ = ৯৬০ প্রকার। বিকৃত মা, ধা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা, মা৩ × ধা৩ ×
নি৪ = ৩৬ × (গ৪) = ১৪৪ × ৫ = ৭২০ প্রকার। ১৯৭
অতঃপব, চারটি কবে বিকৃত স্ববের ঔডব মূর্চ্ছনার পবিচয় দেওযা যাচ্চে :—
বিকৃত রে, গা, মা, ধা-র ঔডব মূর্চ্ছনা, রে৩ × গা৫ × মা৩ × ধা৪ = ১৮০ × ৫ =
৯০০ প্রকাব। বিকৃত বে, গা, মা, নি-ব ঔডব মূর্চ্ছনা, বে৪ × গা৫ × মা৩ × নি৪
= ২৪০ × ৫ = ১২০০ প্রকার।—১৯৮
বিকৃত রে, গা, ধা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা হচ্ছে, রে৪ × গা৪ × ধা৪ × নি৪ = ২৫৬
× ৫ = ১২৮০ প্রকার। বিকৃত বে, মা, ধা, নি-ব ঔডব মূর্চ্ছনা হচ্ছে, রে৪ × মা৩
× ধা৩ × নি৪ = ১৪৪ × ৫ = ৭২০ প্রকার। ১৯৯
বিকৃত গা, মা, ধা, নি-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা হচ্ছে, গা৫ × মা৩ × ধা৪ × নি৪ = ২৪০ ×
৫ = ১২০০ প্রকার। ২০০
সুতরাং, ঔড়ব মূর্চ্ছনার সমষ্টি হচ্ছে, ৭৫ + ১৫০ + ২০০ + ১৫০ + ১৫০ + ২০০ +
৪৮০ + ২৭০ + ২৭০ + ৩৬০ + ৪৫০ + ৩৬০ + ৪৮০ + ২৭০ + ৩৬০ + ৪৮০ + ৯০০

সঙ্গীত পারিজাত ৬৩
+৭২০+৯৬০ + ৪০৫+৫৪০+৭২০+৬৭৫+৯০০+৯৬০+৭২০ +৯০০ +১২০০+
১.৮০+৭২০+১২০০=১৭,৫০৫ প্রকার। ২০১
দ্বাভ্যাং দ্বাভ্যাং বিহীনায়াং মূর্চ্ছনায়াং পৃথক্ পৃথক্ ।
তাভ্যামেব বিহীনাঃ স্যুঃ প্রস্তরো ঔড়বা ক্রমাৎ ॥ ২০২
সবিংশত্যা শতেনাত্র গুণিতানাং মিতির্ভবেৎ ।
শূন্যং নেত্রং শশী শূন্যং নেত্রোদধীতি সংখ্যয়া ॥ ২০৩
দুই স্বর বর্জিত ঔডব মূর্চ্ছনার অন্তর্গত, প্রত্যেকটি স্বরের ঔডব প্রস্তারেব
সংখ্যা হচ্ছে, ১৭,৫০৫ ÷ ৫ = ৩৫০১। এই সংখ্যাকে ঔডব কূটতানের সংখ্যা
(১২০) দিয়ে গুণ করলে যে ফল হয়, তাই হচ্ছে ঔডব কূটতানেব সমষ্টি সংখ্যা।
অর্থাৎ ৩৫০১ x ১২০ = ৪২০, ১২০।
টিপ্পনীঃ—এখানে দু’টি নূতন কথা পাওয়া যাচ্ছে : প্রস্তার ও কূটতান।
প্রস্তার কথাটার অর্থ, মূর্চ্ছনা ও তানের

৬৪ সঙ্গীত পারিজাত
চতুর্থস্য ষড়াবৃত্তিঃ পঞ্চমস্তুচতুর্গুণঃ।
তস্মাৎ পঞ্চগুণঃ ষষ্ঠঃ সপ্তমঃ ষড়গুণস্ততঃ॥ ২০৫
প্রথম ও দ্বিতীয় অর্থাৎ সা ও সা-রে-যুক্ত কূটতানের ভেদ হয় একবার করে
মাত্র। তিন স্বরের অর্থাৎ সা-রে-গা-যুক্ত কূটতানের ভেদ হয় ছয় বার। চার
স্বরের, অর্থাৎ, সা-রে-গা-মা-যুক্ত কূটতানের ভেদ হয় তিন স্বরের মতো, অর্থাৎ,
ছয় বার। পাঁচ স্বরের, অর্থাৎ, সা-রে-গা-মা-পা-যুক্ত ঔডব কূটতানের ভেদ হয়
চব্বিশ বার। ছয় স্বরের, অর্থাৎ, সা-রে-গা-মা-পা-ধা-যুক্ত ষাড়ব কূটতানের
ভেদ হয় চব্বিশের পাঁচগুণ, অর্থাৎ, ১২০ বার। আর, সাত স্বরের সম্পূর্ণ
কূটতানের ভেদ হয় একশ' কুড়ির ছয় গুণ, অর্থাৎ, ৭২০ বার। ২০৪-২০৫
চলিতানাং স্বরাণাস্তু যথোচিতক্রমো ভবেৎ। ২০৬।১
প্রস্তাব ও তানের মতো, প্রচলিত স্বরসমূহের আবার যথাযথ ক্রমও
হয়। ২০৬-১
টিপ্পনী : ক্রম কথাটার অর্থ, স্বর-সমষ্টির পারম্পর্য্যপূর্ণ আরোহণ কিংবা
অবরোহণ। আরোহণ-অবরোহণ নয়। তাহলে মূর্চ্ছনা হয়ে যাবে।
ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে, সম্পূর্ণ বা অসম্পূর্ণ যত রকমের মূর্চ্ছনা আছে,
সব মূর্চ্ছনাই নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রম-এ বিভক্ত। যেমন, ষড়জ গ্রামের প্রথম
মূর্চ্ছনা হচ্ছে সারেগামাপাধানি নিধাপামাগারেসা। এই আরোহণ-অব-
রোহণটা ক্রমিকও বটে আবার সরলও বটে। কিন্তু, এই মূর্চ্ছনার স্বর-
গুলি আবার অন্যভাবেও পরিবেশিত হতে পারে। যেমন, প্ ধ্ নিসা-
রেগামা-মাগারেসানিধ্ প্। বা গামাপাধানিসারে-রেসানিধাপামাগা।
এইভাবে ঔডব, ষাড়ব ও সম্পূর্ণ মূর্চ্ছনার শুদ্ধ ও বিকৃত স্বরভেদে,
অসংখ্য ক্রমের সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু, ক্রমের সংখ্যাটা অসংখ্য হলেও,
অনির্দিষ্ট নয়। ২০৬-১
ইতি পঞ্চ সহস্রাণি চত্বারিংশদ্ যুতানি চ॥ ২০৬।২
“সম্পূর্ণ মূর্চ্ছনার” শুদ্ধ স্বরযুক্ত কূটতানের সংখ্যা হচ্ছে, ৭ × ৭২০=
৫০৪০।—২০৬-২

সঙ্গীত পারিজাত ৬৫
পূর্ণানাং ষাড়বানাঞ্চ সপ্তশতানিবিংশতিঃ।
ঔড়বানাঞ্চ বিংশত্যা শতং ভেদান্ বুধা জগুঃ ॥ ২০৭
চতুৰ্ব্বিংশতিভেদাঃ স্যশ্চতুর্ণাং তত্র নিশ্চিতাঃ।
ষড্ভেদাঃ স্যান্ত্রয়াণাঞ্চ দ্বয়োর্বাবের নিশ্চিতৌ ॥ ২০৮
একস্ত্বেকো ভবেদ্ভেদঃ প্রস্তারা ঈদৃশা মতাঃ ॥ ২০৯।১
“ষাড়ব’ বা “খাড়ব” মূর্চ্ছনার কূটতানের সংখ্যা হচ্ছে, ৬ X ১২০ = ৭২০
প্রকার। "ঔড়ব” মূর্চ্ছনার কূটতানের সংখ্যা হচ্ছে, ৫ x ২৪ = ১২০
প্রকার। চারস্বর-যুক্ত “স্বরাস্তর” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, ৪ x ৬ = ২৪
প্রকার। তিনস্বর-যুক্ত “সামিক” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, ৩ x ২ = ৬ প্রকার।
দুইস্বর-যুক্ত “গাথিক” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, ২ x ১ = ২ প্রকার। এবং,
একস্বর-যুক্ত “আর্চ্চিক” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, মাত্র এক প্রকার। এইভাবেই
শুদ্ধ মূর্চ্ছনার প্রস্তার ভেদ হয়ে থাকে।–২০৭-২০৯।১
নষ্টোদ্দিষ্টপ্রবোধার্থং খণ্ডমেরুরথোচ্যতে। ২০৯।২
অতঃপর শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য, নষ্ট ও উদ্দিষ্ট কূটতান নির্ণয়ের চিত্র,
খণ্ডমেরুর পরিচয় দেওয়া যাচ্চে। ২০৯।১
টিপ্পনী: নষ্টতান কথাটার অর্থ হচ্ছে, যে ক্ষেত্রে, কূটতানের সংখ্যাটা মনে
থাকে অথচ স্বরূপটা মনে পড়ে না। এবং, উদ্দিষ্টতান কথাটার মর্মার্থ
হচ্ছে, নষ্টতানের বিপরীত। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে, কূটতানের স্বরূপটা মনে
থাকে কিন্তু সংখ্যাটা মনে পড়ে না। এই রকম সমস্যা তিনস্বর-যুক্ত, চার
স্বর-যুক্ত, ঔড়ব, ষাড়ব, সম্পূর্ণ, সব রকম কূটতান নির্ণয়ের ক্ষেত্রেই দেখা
দিতে পারে। সুতরাং, সমস্যা সমাধানেরও একটা বিজ্ঞানসম্মত প্রণালী
থাকা উচিত। ফলে, সৃষ্টি হলো খণ্ডমেরুর মতো একটি বৈজ্ঞানিক ছকের।
এই ছক বা চিত্রটি সম্বন্ধে সচেতন থাকলে, নষ্ট বা উদ্দিষ্ট কূটতান নির্ণয়
করতে অসুবিধা হয় না। বলাবাহুল্য, আজকের দিনে, কেউ এত কষ্ট
স্বীকার ক’রে সঙ্গীত চর্চ্চা করেন বলে বিশ্বাস হয় না! সুতরাং, খণ্ডমেরুর
সার্থকতাও বর্ত্তমানে অস্বীকৃত বলা চলে। কিন্তু তবুও গুণীজ্ঞানী মাত্রেই
স্বীকার করবেন, বহুশত বৎসর পূর্ব্বে আবিষ্কৃত, ভারতবর্ষের এই খণ্ডমেরুর
৫

সঙ্গীত পারিজাত
অস্তিত্ব, আমাদের সাঙ্গীতিক ঐতিহ্য ও অলৌকিক সাধনার অন্যতম প্রধান
স্তম্ভ ও বৈশিষ্ট্য। মূল-এর প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পারিজাতকার
অহোবল, অতি সংক্ষেপেই এই খণ্ডমেরু রচনার প্রণালী নির্দ্দেশ করেছেন।
মনে হয়, এই সংক্ষিপ্ত ভাষণের একমাত্র তাৎপর্য্য, গ্রন্থকারের সমসাময়িক
কালের সঙ্গীত-সাধকদের নিকট, বর্ত্তমানীদের মতো, খণ্ডমেরুর তত্ত্ব ও তথ্য
একেবারে অজানা বা অপরিচিত ছিল না। সুতরাং, খণ্ডমেরুর আলোচনা
প্রসঙ্গে আমরাও আজকের দিনের কথা স্মরণ করে, কথঞ্চিৎ বিশদ ব্যাখ্যার
সুযোগ গ্রহণ করছি এবং পাঠকের বোঝবার সুবিধার জন্য, চক্ টি আগে
থাকতেই এঁকে দিচ্ছি :
সা রে গা মা পা ধা নি
১ ০ ০ ০ ০ ০ ০
১ ২ ৬ ২ ১২০ ৭২০
৪ ১২ ৪৮ ২৪০ ১৪৪০
১৮ ২ ৭৬০ ২১৬০
৯৬ ৪৮০ ২৮৮০
৬০০ ৩৬০০
৪৩২০
সপ্তাদ্যেকান্যকোষ্ঠঃ স্যাদ বামে হীনান্ততো ভবেৎ।
আদ্যপংক্ত্যাদ্যকোষ্ঠেষু লিখেদেকং পরেষুখম্ ॥ ২১০
আদ্যকোষ্ঠে দ্বিতীয়স্য পঙ্ক্তানের্কং লিখেদপি।
পঙ্‌ক্তিষূদ্ধ্বাংস্ত তির্য্যক্ষু কোষ্ঠস্থাঙ্কগুণং ন্যসেৎ ॥ ২১১
খণ্ডমেরুর প্রথম পংক্তি সাতটি ঘরযুক্ত হবে। দ্বিতীয় পংক্তির ঘর হবে
ছয়টি এবং তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম পংক্তির ঘরের সংখ্যা হবে
যথাক্রমে, পাঁচ, চার, তিন, দুই ও এক। অতঃপর, এই খণ্ডমেরুর প্রথম
পংক্তির প্রথম ঘরে ১ সংখ্যা বসাতে হবে, বাকি ছয়টি ঘর শূন্য থাকবে।
দ্বিতীয় পংক্তিরও প্রথম ঘরে ১ সংখ্যা বসাতে হবে, এবং, এই দ্বিতীয়
পংক্তিরই প্রথম ঘরের ঠিক ওপরের পংক্তি থেকে অর্থাৎ প্রথম পংক্তি থেকে,

সঙ্গীত পারিজাত ৬৭
সোজা এবং বেঁকাভাবে যে কয়টি ঘর পাওয়া যাবে, তার গুণফল
বসাতে হবে দ্বিতীয় পংক্তির দ্বিতীয় ঘরে। সংখ্যাটা হবে ২।
অতঃপর দ্বিতীয় পংক্তির তৃতীয় ঘরের সংখ্যাটা, ঘর হিসাবে যা হবে
(অর্থাৎ ৩) তাকে পূর্ব্ব ঘরের ২ সংখ্যার দ্বারা গুণ করে, গুণফল ৩ x ২=৬
বসাতে হবে তৃতীয় ঘরে। অনুরূপ, চতুর্থ ঘরের ৪ সংখ্যাকে পূর্ব্ব ঘরের
৬ সংখ্যা দ্বারা গুণ করে, গুণফল ৪ x ৬=২৪ বসাতে হবে চতুর্থ ঘরে।
পঞ্চম ঘরের ৫ সংখ্যাকেও, অবিকল ওই আইন অনুযায়ী, পূর্ব্ব ঘরের ২৪ দিয়ে
গুণ করে গুণফল ৫ x ২৪ = ১২০ বসাতে হবে পঞ্চম ঘরে। এবং, ষষ্ঠ ঘরের
৬ সংখ্যাকেও পূর্ব্ব-ঘরের ১২০ দিয়ে গুণ করে, গুণফল ৬ x ১২০ = ৭২০
বসাতে হবে ষষ্ঠ ঘরে।
অতঃপর তৃতীয় পংক্তির পরিচয়। এই পংক্তির সংখ্যাগুলি সবই দ্বিতীয়
পংক্তির সংখ্যাগুলির দ্বিগুণ হবে। দেখা যাচ্ছে, এই পংক্তির প্রথম ঘরের
সংখ্যা ৪। ঠিক ওপরের ২ সংখ্যাকে দুই দিয়ে গুণ করলে ৪-কে পাওয়া
যায়। এইভাবে বাকি চারটি ঘরের সংখ্যাও হবে যথাক্রমে ৬ x ২=১২,
২৪ x ২= ৪৮, ১২০ x ২=২৪০, ও ৭২০ x ২= ১৪৪০।
অতঃপর চতুর্থ পংক্তির পরিচয়। এই পংক্তির ঘরগুলি হচ্ছে দ্বিতীয়
পংক্তির নীচের দিক্কার তৃতীয় ঘর। অতএব, এর সংখ্যাও বসবে দ্বিতীয়
পংক্তির ত্রিগুণ হিসাবে। যথা: ৬ x ৩=১৮, ২৪ x ৩=৭২, ১২০ x ৩=
৩৬০ ও ৭২০ x ৩ = ২১৬০। এবং, ঠিক এই আইন অনুযায়ী বাকি তিনটি
পংক্তির সংখ্যাও বেরিয়ে আসবে। যথা:
দ্বিতীয় পংক্তির চারগুণ হিসাবে, দ্বিতীয় পংক্তির ২৪ x দ্বিতীয় পংক্তি থেকে
পঞ্চম পংক্তির অবরোহণ ঘর সংখ্যা ৪ = ৯৬। ১২ x ৪ = ৪৮০। ৭২০ x
৪=২৮৮০।
অনুরূপ, ষষ্ঠ পংক্তির ৫ x দ্বিতীয় পংক্তির ১২০ = ৬০০ ও ৫ x ৭২০=
৩৬০০। এবং, সপ্তম পংক্তির সংখ্যাটাও, এই আইন অনুযায়ী হবে
৬ x ৭২০ = ৪৩২০।
এইবার দেখতে হবে, এই খণ্ডমেরুর সাহায্যে, কী ভাবে নষ্ট বা উদ্দিষ্ট
কূটতান নির্ণয় করা সম্ভবপর।—২১০-২১১।

৬৮ সঙ্গীত পারিজাত
শূন্যেষু লোষ্টকান্ দত্ত্বা মূলক্রমং ততো লিখেৎ।
উদ্দিষ্টং তদধঃ কৃত্বা ততো লোষ্টস্য চালনম্ ॥ ২১২
উদ্দিষ্টান্তাস্বরো মূলক্রমস্থান্ত্যাৎ কিয়ত্তমঃ।
তাবৎসংখ্যাবিশিষ্টে চ কোষ্ঠে লোষ্টমাক্ষিপেৎ ॥ ২১৩
প্রথম পংক্তির ছয়টি শূন্যযুক্ত ঘরে, ছয়ট ঘঁটি বসিয়ে নিয়ে, প্রথমত
লিখতে হবে আলোচ্য কূটতানটির মূলক্রম। তারপর, মূলক্রমটির ঠিক
তলায় লিখতে হবে, উদ্দিষ্ট কূটতানের স্বরূপটি। (অর্থাৎ, যে কূটতানের
চেহারা মনে আছে, কিন্তু, সংখ্যাটা মনে পড়ছে না) তারপর, ঘুঁটি চালিয়ে
বার করতে হবে সেই কূটতানের ভুলে যাওয়া সংখ্যাটা। যেমন--
একটি চতুঃস্বারিক কূটতানের মূলক্রম যদি “সা-রে গা-মা” হয়, তাহলে
“মা-গা-সা-রে”র রূপটি কত সংখ্যক কূটতান হবে? আইনটা হচ্ছে এই যে,
প্রথমেই লক্ষ্য করতে হবে, মূলক্রম ও উদ্দিষ্ট কূটতান, উভয়েরই অন্তস্বর
অর্থাৎ শেষ স্বর কে কে। দেখা গেল, মূলক্রম “সা-রে গা মা’র শেষ স্বর
হ’চ্ছে মা এবং উদ্দিষ্ট কটতান “মা-গা-সা-রে”র শেষ স্বর হ’চ্ছে রে। অর্থাৎ
মা-রে। কিন্তু, এই “মা-রে’ স্বর দুটির মধ্যে আর ক টি স্বর থাকতে পারে?
থাকতে পারে মাত্র একটি স্বর গা। তাহলে হ’লো মা-গা-রে। কিন্তু,
শেষ স্বর সমেৎ রে থেকে মা র যোগাযোগ ক’টি স্বরের? মা গা-রে বা রে-গা-
মা। অর্থাৎ, মাত্র তিনটি স্বরের। সুতরাং, ঘুঁটি চালিয়ে আনতে হবে
চতুঃস্বারিক তানের তৃতীয় ঘরে। অর্থাৎ, খণ্ডমেরুর তৃতীয় পংক্তির ১
সংখ্যাযুক্ত ঘরে পাওয়া গেল ১২। কিন্তু, এই কি শেষ? “সা রে-গা মা-র
আর কি কোন রকম-ফের হয় না? অবশ্যই হয়। ২১২-২১৩
লোষ্টচালনমন্ত্যাৎ স্যাদ্ধং ত্যক্ত্বা ক্রমো ভবেৎ।
অন্ত্যোরুভয়োরেকো লোষ্টস্য চলনং ন হি ॥ ২১৪
মূলেকাক্কং গৃহীতৈব লোষ্টাক্রান্তাঙ্কমেলনে।
উদ্দিষ্টস্য মিতির্জ্ঞেয়া তস্যামুদ্দিষ্টতা স্মৃতা ॥ ২১৫
অতঃপর, লব্ধ স্বরটিকে (পূর্ব্বোক্ত রে) ত্যাগ করে, অবশিষ্ট স্বরগুলিকে
নিয়ে ক্রম রচনা করতে হবে। এবং ঘুরতে ঘুরতে, যে ঘরে এসে ঘুঁটি

সঙ্গীত পারিজাত ৬৯
একেবারে অচল হবে, পরিক্রমায়মান সেই সেই ঘরের সংখ্যাগুলি যোগ করে
নির্ণয় করতে হবে উদ্দিষ্ট কূটতানের সমষ্টি সংখ্যা! যেমন :
পূর্ব্বোক্ত চতুঃস্বারিক উদ্দিষ্টতান “মা-গা-সা-রে”-র শেষস্বর হিসাবে
ইতিমধ্যে আমরা রে স্বরটিকে পেয়েছিলাম। অতঃপর, এই রে স্বরটি
পরিত্যাগ করলে, বাকি থাকে “মা-গা-সা”-র ক্রম। স্মরণ রাখতে হবে
এই “মা-গা-সা” ক্রমের অন্ত্যস্বর বা শেষ স্বর হ’চ্ছে সা। অপরপক্ষে
মূলক্রম “সা-রে-গা-মা”-র রে বর্জ্জন করলেও “মা-গা-সা”-র অন্ত্যস্বর হয় মা।
অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে, “মা-গা-সা”-র-“মা”-র সঙ্গে “সা”-র যোগসূত্র হ’চ্ছে তিন
স্বরের। অতএব, এবার ঘুঁটি বসবে ত্রিস্বারিক তানের ৪ অঙ্কযুক্ত ঘরে।
ফলে, পাওয়া গেল ১২ + ৪ = ১৬ সংখ্যা।
অতঃপর দেখতে হবে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করে, আরও কোন সংখ্যা
বার করা যায় কিনা। অবশ্যই যায়। চার স্বর ও তিন স্বরের হিসাবের
মতো দ্বিস্বারিক কূটতানেরও একটা হিসাব আছে। যেমন, ত্রিস্বারিক মূল
ক্রম যদি “সা-গা-মা” হয় এবং উদ্দিষ্ট তান যদি হয় “মা-গা-সা”, তাহলে
মূল ও উদ্দিষ্ট উভয়েরই অন্ত্যস্বর হয় “সা-মা”। সুতরাং, বাকি থাকে একটি
মাত্র স্বর “গা”। এখন দেখতে হবে এই “গা” স্বরটির সঙ্গে মূলক্রমের
অন্ত্যস্বর “মা”-র যোগসূত্র কত। মা-গা অর্থাৎ দুই স্বরের। অতএব ঘুঁটি
বসাতে হবে দ্বিস্বারিক তানের ১ অঙ্কযুক্ত ঘরে। অতঃপর :
সা-রে-গা-মা মূলক্রমের অন্তর্গত “মা-গা-সা-রে”-র উদ্দিষ্ট নির্ণয় করতে
করতে, যথাক্রমে, “রে-গা-মা”-১২ + ৪ + ১ = ১৭কে পাওয়া গেল। বাকি
থাকল, মূল ও উদ্দিষ্ট উভয়েরই একটি মাত্র স্বর সা। পূর্ব্বেই (২০৪ সূত্রে)
বলা হয়েছে, একটি মাত্র স্বর নিয়ে ক্রম রচনা করা যায় না; সংখ্যাটি
একই থাকে। সুতরাং মূল ও উদ্দিষ্ট উভয়েরই স্বর সংখ্যা যখন কমতে
কমতে “সা”-তে এসে ঠেকে, তখন ঘুঁটি আর চলে না। অতএব,
“মা-গা-সা-রে” এই তানটি হবে, “সা-রে-গা-মা”-রূপ চতুঃস্বারিক কূটতানের
১২+৪+১+মূল ক্রমের সা=১৮ সংখ্যক তান।—২১৪-২১৫
অতঃপর পারিজাতকার নষ্টতান নির্ণয়ের প্রণালী নির্দেশ করছেন :
রূপাভাবেন নষ্টং স্যাৎ সংখ্যামাত্রপুরঃসরম্।
যৈরঙ্কৈর্নষ্টসংখ্যা স্যাম্মূলেকাক সমন্বিতাঃ ॥ ২১৬

৭০ সঙ্গীত পারিজাত

তেষ্বেবাত্র ক্ষিপেল্লোষ্টং লোষ্টস্থানমিতিস্বরঃ।
অবরোহক্রমেণৈব মূলং ত্যক্ত্বা ক্রমো ভবেৎ ॥ ২১৭
অথবা লোষ্টসংখ্যান্ত্যেলোষ্টস্থানং স্বরস্য চ ॥ ২১৮
ইতি মূর্চ্ছনা-প্রস্তার নষ্টে'দ্দিষ্ট-প্রকরণম্।
নষ্ট কূটতান সমূহের স্বরূপ নির্ণয় করতে হলে, প্রথমতঃ মূলক্রমের
সংখ্যার সঙ্গে যথাযথ সংখ্যা যোগ করে, যথাক্রমে, নিৰ্দ্দিষ্ট সংখ্যাটিকে বার
করে নিতে হয়। অর্থাৎ, “সা-রে-গা-মা”, এই চতুঃস্বারিক কূটতানের ১৮
সংখ্যক তানটি কী? অর্থাৎ, তানটি “রে-গা-মা-সা” হবে, না, ‘মা-গা-সা-
রে” হবে, অথবা “মা-সা-গা-রে” হবে, কিংবা “মা-রে-সা-গা” হবে? এই
ধরণের সমস্যার সমাধান হ’তে পারে কী উপায়ে? স্বরূপ মনে না থাকলেও
এ ক্ষেত্রে, সংখ্যাটা যখন স্মরণ আছে, তখন সর্ব্বাগ্রে ঘুঁটি সাজিয়ে নেওয়াই
বাঞ্ছনীয়। দেখতে হবে, “মা-গা-রে-সা”-র সা, অর্থাৎ সা-য়ের ১ সংখ্যাটি
ছাড়া বাকী ১৭ সংখ্যাটা খণ্ডমেরুর আর কোন কোন সংখ্যা-যুক্ত ঘরের
যোগফলের দ্বারা সম্ভবপর হ’তে পারে। সম্ভব হ’তে পারে, ১২+৪+১
( = ১৭ ) সংখ্যক ঘরের যোগফলে। মনে রাখতে হবে, ব্যাপারটা নিতান্তই
চতুঃস্বারিক, ত্রিস্বারিক, ঔড়ব বা ষাড়ব নয়। অর্থাৎ ১২+৫ বা ১২+
৩+২ বা এই ধরণের কোন যোগফলের দ্বারা সংখ্যা নির্ণয়ের চেষ্টা
অর্থহীন, এ ক্ষেত্রে ১২+৪+১ ছাড়া গত্যন্তর নেই।
অতঃপর দেখতে হবে, ১২ সংখ্যাটা চতুঃস্বারিক তানের কোন ঘরে
আছে। দেখা গেল, তৃতীয় ঘরে আছে। অতএব পাওয়া গেল রে।
কারণ, “সা-রে-গা-মা” মূলক্রমের অন্তস্বর মা থেকে তৃতীয় স্বর হচ্ছে রে।
বাকি রইল “সা-গা-মা”। অর্থাৎ মূলক্রম হ’লো ত্রিস্বারিক। সঙ্গে সঙ্গে
দেখতে হবে, পূর্ব্বোক্ত ১২ সংখ্যাযুক্ত ঘরটির পরবর্তী ঘুঁটিটি আছে কোন
ঘরে এবং সেই ঘরটি ত্রিস্বারিক কূটতানের কত নম্বর ঘর। দেখা গেল
ঘুঁটি আছে ৪ নম্বর ঘরে এবং ঘরটি হ’চ্ছে ত্রিস্বারিক কূটতানের তৃতীয়
ঘর। সুতরাং পাওয়া গেল সা। কারণ, “সা-গা-মা” রূপ ত্রিস্বারিক
মূলক্রমের শেষস্বর মা থেকে তৃতীয় স্বর হ’চ্ছে সা। অতএব এ পর্যন্ত
পাওয়া গেল “সা-রে”। বাকি রইল “গা-মা”। অর্থাৎ মূলক্রমটি হ’লো

দ্বিস্বারিক “গা-মা”। এখন আবার দেখতে হবে, পূর্ব্বোক্ত ৪ নম্বর ঘরের
পর আর কোন ঘরে ঘুঁটি আছে। দেখা গেল ঘুঁটি রয়েছে খণ্ডমেরুর
দ্বিস্বারিক তানের (অর্থাৎ দ্বিতীয় পংক্তির) ১ নম্বর ঘরে। সুতরাং
পাওয়া গেল গা। কারণ, “গা-মা” রূপ মূলক্রমের অন্তস্বর মা থেকে গা-য়ের
যোগসূত্র মাত্র একটি স্বরের। বাকি রইল মা। অতএব চতুঃস্বারিক
“সা-রে-গা-মা”-র ১৮ নম্বর কূটতানের রূপ হ'লো “মা-গা-সা-রে”।—
২১৬—২১৮

গানক্রিয়োচ্যতে বর্ণঃ স চতুর্দ্ধানিরূপিতঃ।
স্থায়্যারোহাবরোহী চ সঞ্চারীত্যাথ লক্ষণম্ ॥ ২১৯

স্থিত্বা স্থিত্বা প্রয়োগঃ স্যাদেকৈকস্মিন্ স্বরে পুনঃ।
স্থায়ী বর্ণঃ স বিজ্ঞেয়ঃ পরাবস্থথ নামকো।
এতৎ সংমিশ্রণাদ্বর্ণঃ সঞ্চারী পরিকীর্ত্তিতঃ। ২২০

ইতি বর্ণ লক্ষণম্।

গান-ক্রিয়াকে বর্ণ বলে। এই বর্ণ চারি রকমের হয়। যথা—১। স্থায়ী
২। আরোহী ৩। অবরোহী ও ৪। সঞ্চারী। (গানের মধ্যে, তথা
রাগের মধ্যে রসসৃষ্টির প্রয়োজনে) থেকে থেকে একটি স্বরের ব্যবহারকে
স্থায়ীবর্ণ বলে। আরোহ ও অবরোহী বর্ণের লক্ষণ, নামেই প্রকাশ পাচ্ছে।
এবং, এই আরোহী-অবরোহী যখন মিলে মিশে একাকার হ'য়ে যায়, তখন
সেই মিশ্রিত বর্ণের নাম হয় সঞ্চারী বর্ণ।—২১৯ ২২০

ক্রমেণ স্বরসন্দর্ভমলঙ্কারং প্রচক্ষতে।
তস্য ভেদাংশ্চ ভূয়াংসস্তত্র স্থায়ীগতান ব্রুবে ॥ ২২১

ক্রম (২০৬ সূত্রের ব্যাখ্যা ও টিপ্পনী দ্রষ্টব্য) অনুযায়ী স্বর-বিন্যাসকে অলঙ্কার
বলে। অলঙ্কার অনেক রকমের হয়। তার মধ্যে, স্থায়ীবর্ণগত অলঙ্কার
সম্বন্ধে বলছি। ২১

যেষামাদ্যন্তয়োরেকস্বরস্তে স্থায়িবর্ণগাঃ।
প্রসন্নাদিঃ প্রসন্নান্তঃ প্রসন্নাদ্যন্তসংজ্ঞকঃ ॥ ২২২

৭২ সঙ্গীত পারিজাত
ততঃ প্রসন্নমধ্যঃ স্যাৎ পঞ্চমঃ ক্রমরেচিতঃ।
প্রস্তারোহথ প্রসাদঃ স্যাৎ সপ্তৈতে স্থায়িবর্ণগাঃ॥ ২২৩
যে সব অলঙ্কারের প্রথমে ও শেষে একই স্বর ব্যবহৃত হয়, সেইসব
অলঙ্কারকেই স্থায়ীবর্ণগত বলে। এই রকম অলঙ্কারের সংখ্যা সাতটি। যথা—
১। প্রসন্নাদি, ২। প্রসন্নান্ত, ৩। প্রসন্নাদ্যন্ত, ৪। প্রসন্ন-মধ্য, ৫। ক্রম-রেচিত,
৬। প্রস্তার ও ৭। প্রসাদ।—২২২-২২৩
প্রসন্নো মন্দ্রপর্যায়ঃ প্রসন্নাদিস্তদাদ্যকঃ।
প্রসন্নান্তস্তদন্তঃ স্যান্মন্দ্রাদ্যন্তস্তৃতীয়কঃ।
চতুর্থো মন্দ্রমধ্যঃ স্যাৎ ক্রমাচ্চ ক্রমরেচিত ॥ ২২৪
যে স্বরটি, যথাক্রমে ঘরে ফিরে অলঙ্কারের মধ্যে সঙ্গতি রক্ষা করে, তাকে
প্রসন্ন বলে। যথা —
১। যে অলঙ্কারের প্রথম স্বর মন্দ্র, তাকে প্রসন্নাদি বলে।
২। যার শেষ স্বর মন্দ্র, তার নাম প্রসন্নান্ত অলঙ্কার।
৩। যার প্রথম ও শেষ উভয় স্বরই মন্দ্র, তাকে প্রসন্নাদ্যন্ত অলঙ্কার
বলে।
৪। মন্দ্রস্বর যে অলঙ্কারের মধ্যভাগে বর্তমান থাকে, তার নাম
প্রসন্নমধ্য অলঙ্কার।
৫। নির্দ্দিষ্ট ক্রম অনুযায়ী স্বর সন্নিবেশিত হলে (২৩ সূত্র দ্রষ্টব্য)
তার নাম হয় ক্রম-রেচিত অলঙ্কার।
টিপ্পনী : মন্দ্র মানে কী? অহোবল বলেন নি। আমরা জানি,
আজকের দিনের উদারা, মুদারা, তারা, সে আমলে মন্দ্র, মধ্য, তার নামে
অভিহিত হ'তো। সুতরাং, এক্ষেত্রে মন্দ্র অর্থে উদারার কোন স্বরকেই
বোঝাচ্ছেন অহোবল। কিন্তু কোন স্বর? এ সম্বন্ধে অহোবল কোন
ইঙ্গিত দিয়ে যান নি। অপবপক্ষে আমরা সঙ্গীত রত্নাকরে মন্দ্র শব্দের ব্যাখ্যা
দেখতে পাচ্ছি :—মন্দ্রঃ প্রকরণেহত্র স্যাৎ মূর্চ্ছনা প্রথমঃ স্বরঃ। স এব
দ্বিগুণ স্তারঃ। অর্থাৎ মন্দ্র স্বরের দ্বিগুণ হ'চ্ছে তারার স্বর। তাহলে,
পারিজাতকার মন্দ্র বলতে কি মুদারার সা স্বরটিকে বুঝিয়েছেন? সাধারণ

̇(প + া with dot above). Next:ধা̇(ধ + া with dot above). Next:নি̇(ন + ি with dot above). Next:সা।(স + া + ।). Next:রে গা মা পা ধা নি, সা।Next:র্পা র্মা র্পা র্ধা র্নি। ২২৫(orর্সা র্মা...`).

Let's check line 30:
১। প্রসন্নাদি = ভদ্র, -> wait, after = what is it?
Look at ১। প্রসন্নাদি = ভদ্র,
Wait, look at ভদ্র,:
Is it ভদ্র?
In line 30:
১। প্রসন্নাদি = ভ_ ,
Wait, look at ভ in line 30:
It looks like ভদ্র, or is it ভদ্র with broken type?
Look at ১। প্রসন্নাদি = ভ_ ,
It looks like ভদ্র where দ্র is broken or it's ভদ্র?
Wait, in verse 226: "ভদ্রো নন্দো জিতঃ সোমো"
So 1 is ভদ্র!
In the print: ১। প্রসন্নাদি = ভ_ , - the letter after ভ is broken, looks like ভ্_ ,

৭৪ সঙ্গীত পারিজাত
যমারভ্যাগ্রিমং গত্বা পুনঃ পূর্ব্বস্বরং বদেৎ।
ভদ্রসংজ্ঞমলঙ্কারমাঞ্জনেয়োঽবদৎ সুধীঃ ॥ ২২৭
একৈ কস্য স্বরস্যাত্র হীনাদেব ক্রমোভবেৎ। ২২৮/১
প্রথম স্বর থেকে আরম্ভ করে, দ্বিতীয় স্বর পর্যন্ত গিয়েই, আবার প্রথম স্বরে
ফিরে আসতে হবে। সঙ্গীতজ্ঞানী আঞ্জনেয়র (বা হনুমন্ত বা হনুমানের)
মতানুযায়ী এই পদ্ধতির অলঙ্কারকে ভদ্র বলে। এই অলঙ্কারের ক্রম রচিত হয়,
এক একটি স্বর ছেড়ে ছেড়ে। যেমন:—
সরসা, রগরা, গমগা, মপমা, পদপা, ধনধা, নর্সনা, সর্নর্সা।
ইতি ভদ্র বা প্রসন্নাদি অলঙ্কার।—২২৭-২২৮।১
নন্দঃ স্যাদ্রূপকেনাত্র স্বরদ্বন্দ্বেন পূর্ব্ববৎ ॥ ২২৮/২
নন্দ-র পদ্ধতি পূর্ব্বোক্ত ভদ্রর মতোই, কেবল স্বরগুলি সব দ্বিগুণিত।
যেমন :—
সস রর সস, রর গগ রর, ইত্যাদি। ইতি নন্দ বা প্রসন্নান্ত অলঙ্কার।
২২৮।২
জিতঃস্যাল্লঘুকালেন সগরিসেত্যায়ং ক্রমঃ ॥ ২২৯/১
সগরস প্রভৃতি ক্রমগুলি লঘুকালে উচ্চারিত হ'লে তাকে জিত বলে।
যেমন :—
সগরস, রমগর, গপমগ, মধপম, পনধপ, ধর্সনধ। ইতি জিত বা প্রসন্নান্যস্ত
অলঙ্কার।—২২৯।১
গুরুকালেন সোমঃ স্যাৎ স্বরদ্বন্দ্বেন পূর্ব্ববৎ ॥ ২২৯/২
উপরোক্ত সগরস প্রভৃতি ক্রমগুলি দ্বিগুণিত ও দীর্ঘকালে উচ্চারিত হ'লে, তাকে
সোম বলে। যেমন:—
সসা গগা ররা সসা, ররা মমা গগা ররা ইত্যাদি। ইতি সোম বা প্রসন্ন-মধ্য
অলঙ্কার।—২২৯।২