सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
সঙ্গীত পারিজাত ৩৭
তালিম গুনেই, বুধন্ স্থানীয় অধিবাসীদের নিকট ওস্তাদ নাম কিনেছে এবং সে
আর চাকরের কাজ করে না,—নিকটবর্তী সুখজোড়া গ্রামের এক কালী-
কীর্তনের দলে চাকরী গ্রহণ করেছে। শেষে ১৯৩৮ সালের কালী পূজার
রাত্রে পাথরোলের রাজবাড়ীতে লেখকের সঙ্গে আবার সাক্ষাৎ হয় বুধনের।
সে সেখানে সদলবলে কালী-কীর্তন গাইতেই গিয়েছিল এবং লেখক সবিস্ময়ে
লক্ষ্য করেন, আয়াসলব্ধ টপ্পার দানাগুলোকে সে যেমন চমৎকারভাবে আয়ত্ত
করেছে তেমনি হারিয়ে ফেলেছে তার সরল কণ্ঠের স্বাভাবিক মিষ্টত্বটুকু।
যাই হোক, বহুকাল পরে বুধনের দেখা পেয়ে লেখক তার নিকট একখানা
ঝুমুর শুনতে চান। বুধনও তৎক্ষণাৎ তাকে একখানা আধুনিক কবি-রচিত
ঝুমুর শুনিয়ে দেয়। লেখক অগত্যা তাকে সেই সব পুরোনো গানের কথা
স্মরণ করিয়ে দিলেন। বুধনও সলজ্জভাবে তাঁর অনুরোধ রক্ষা করবার চেষ্টা
করল। কিন্তু, অনেক চেষ্টা করে যদিও বা সে সেই সব পুরোণ গানের দু’
এক কলি স্মরণ করতে পারল, গাইতে পারল না একবর্ণও। অর্থাৎ মাত্র
বছর সাতেক উচ্চাঙ্গ রাগ সঙ্গীত চর্চ্চা করবার ফলে, সে নিঃশেষে বিস্মৃত
হয়েছিল শতাব্দী কালের ঐতিহ্য—তার বংশগত গীতি-পদ্ধতির স্বর-বিন্যাস ও
বৈশিষ্ট্যকে। বুধন আজও গানের মাষ্টারী করছে বার্ণপুর অঞ্চলে—তবে
পৈতৃক নামটি বদলে ফেলেছে। ১০৮-১০৯
শুদ্ধাস্তু যানি নামানি তান্যেব বিকৃতেম্বপি। ১১০
বিকৃত স্বরগুলির মূর্চ্ছনার নামও শুদ্ধ স্বরের মূর্চ্ছনার অনুরূপ। ১১০
পূর্ব্ব-কোমল-তীব্রাণাং ঋষভাণাং ক্রমেণ তু।
যোগে শুদ্ধস্বরৈর্ভেদা একবিংশতিরীরিতাঃ॥ ১১১
পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র, এই তিন রকম বিকৃত রে স্বর যখন ক্রমে ক্রমে
বাকি ছয়টি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মূর্চ্ছনা তৈরী করে, তখন তাদের
বিকৃত মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা হয় ৭×৩=২১। ১১১
রিং তীব্রতরমাদায় মূর্চ্ছনা কাপি নোদিতা।
শুদ্ধ গান্ধার রাহিত্যাচ্ছুদ্ধ ষটকৰিয়োগতঃ॥ ১১২
তীব্রতর রে স্বর নিয়ে মূর্চ্ছনা সৃষ্টির কথা শোনা যায় না; কারণ,
তীব্রতর রে ও শুদ্ধ গা অভিন্ন স্বর। সুতরাং, শুদ্ধ ছয়টি স্বরের মধ্য থেকে
26: ষট্কবিয়োগতঃ - yes, ষট্ক! In Bengali script, ট্ক is ট with ক underneath.
-
Check Line 24:
অষ্টাবিংশতিভেদাঃ স্যূঃ কোমলাদিক নি-স্বরৈঃ। ১১৭।২
Wait,১১৮।২or১১৭।২?
Let's look at the numbers:
Line 19 ends with:। ১১৭।১(117/1).
Line 23 ends with:১১৬-১১৭।১(116-117/1).
Line 24 ends with:। ১১৭।২(117/2).
Line 26 ends with:॥ ১১৮(118).
Yes! Exactly:১১৭।১,১১৭।২. -
Line by line layout verification:
Top:
Header:- Left:
৩৮ - Center:
সঙ্গীত পারিজাত
Lines:
শুদ্ধ গা বাদ পড়লে, স্বর সপ্তকের অস্তিত্ব থাকেনা এবং মূর্চ্ছনাও হতে
পারে না।—১১২
কোমলাদিকগান্ধারৈশ্চতুর্ভিৰ্ব্বিকৃতৈঃ স্বরৈঃ। - Left:
সঙ্গীত পারিজাত ৩৯
কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম নি স্বর বাকি ছয়টি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে
সংযুক্ত হ’য়ে মূর্চ্ছনা তৈরি করলে, তাদের সংখ্যা হয় ৭ x ৪ = ২৮। পূর্ব্ব-নি
' স্বর-যুক্ত মূর্চ্ছনার কথা কোথাও বলা হয় নি; কারণ, পূর্ব্ব নি ও শুদ্ধ ধা একই
স্বর। সুতরাং, শুদ্ধ ধা বাদ পড়ার জন্য স্বর সপ্তকও বর্ত্তমান থাকতে
পারে না।—১১৭।২-১১৮
শুদ্ধৈর্ব্বিব্কৃতভেদাভ্যাং গ-রিভ্যাং যোজিতৈঃ স্বরৈঃ।
দ্বাদশভিঃ শতং ভেদা ভবন্তীতি বুধা জগুঃ॥ ১১৯
জ্ঞানী-গুণীরা বলেন, গা ও রে স্বরের যাবতীয় বিকৃত রূপের সঙ্গে
বাকি পাঁচটি শুদ্ধ স্বর যোগ ক’রে মূর্চ্ছনা তৈরি করলে, তাদের ভেদাভেদের
সংখ্যা হয় ১১২।—১১৯
যদা স্যাতাং রি-ধৌ তীব্রৌ পূর্ব্বকোমলসংজ্ঞিতৌ।
গন্যোস্তৎপূর্ব্ববৃত্তিত্বাৎ তৌ তদাদায় নো ভিদা॥ ১২০
যেহেতু কোমল গা ও কোমল নি, তীব্র রে ও তীব্র ধা স্বরেরই নামান্তর
মাত্র, সুতরাং তীব্র রে ও তীব্র ধা স্বরেরও কোন রকম মূর্চ্ছনা-ভেদ হ'তে
পারেনা। ১২০
রিভিস্ত্রিভিস্তথা মৈশ্চ বিকৃতৈম্মিলিতৈঃ স্বরৈঃ।
শুদ্ধৈর্ভেদাস্ত্রিষষ্টিঃ স্যুঃ পঞ্চভিশ্চাপি সোহব্রবীৎ॥ ১২১
তিন রকমের বিকৃত রে, (অর্থাৎ কোমল, পূর্ব্ব ও তীব্র রে স্বর) ও তিন
রকমের বিকৃত মা (অর্থাৎ তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম মা স্বর) বাকি পাঁচটি
শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে স্বর সপ্তক তৈরি করলে,—জ্ঞানী গুণীদের মতানুযায়ী,—
সেই সপ্তকের মূর্চ্ছনা ভেদের সংখ্যা হয়, ৭ x ৩ x ৩ = ৬৩। ১২১
ত্রিভীর্রবিভির্ব্বিকারৈস্তাদৃশৈর্ধস্বরৈরপি।
শেষশুদ্ধস্বরৈর্ভেদা জায়ন্তেহত্র ত্রিষষ্টিধা॥ ১২২
তিন রকমের বিকৃত রে (অর্থাৎ পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র রে) ও তিন
রকমের বিকৃত ধা (অর্থাৎ পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র ধা) স্বর বাকি পাঁচটি শুদ্ধ
স্বরের সঙ্গে মিলে স্বর-সপ্তক তৈরি করলে, তাদেরও মূর্চ্ছনা ভেদের সংখ্যা হয়,
৭ x ৩ x ৩ = ৬৩। ১২২
৪০ সঙ্গীত পারিজাত
পূর্ব্বকোমলতীব্রৈশ্চ কোমলাদিকসংজ্ঞিতৈঃ।
- রিভিস্ত্রিভিঃ [রিভির্নিভিঃ ?] স্বরৈঃ শুদ্ধৈরশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ ॥১২৩,
তিন রকমের বিকৃত রে (অর্থাৎ পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র রে) ও চার রকমের
বিকৃত নি (অর্থাৎ কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম নি স্বর) বাকি পাঁচটি
শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে স্বর-সপ্তক সৃষ্টি করলে, তাদের মূর্ছনা ভেদের সংখ্যা হয়,
৭ x ৩ = ২১ x ৪ = ৮৪। ১২৩
কোমলাদিত্বভাবৈর্গমধ্যমৈর্ব্বিকৃতৈস্ত্রিভিঃ।
পঞ্চোত্তরশতং ভেদান্ স্বরৈঃ শুদ্ধৈর্বুধা জগুঃ ॥ ১২৪
গুণী-জ্ঞানীরা বলেন, কোমলাদি পাঁচ রকমের বিকৃত গা (অর্থাৎ, কোমল,
তীব্র, তীব্রতর, তীব্রতম ও অতি-তীব্রতম গা) ও তিন রকমের বিকৃত মা
(অর্থাৎ তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম মা স্বর) বাকি পাঁচটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত
হ'য়ে সপ্তকে পরিণত হলে, তাদের মূর্ছনার সংখ্যা হয়,
৭ x ৫ = ৩৫ x ৩ = ১০৫। ১২৪
কোমলাদিকগান্ধারৈশ্চ তুর্ভির্বিকৃতৈস্ত্রিভিঃ।
বিকৃতৈর্ধৈবতৈর্ভেদা অশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ ॥ ১২৫
কোমলাদি চার রকমের বিকৃত গা (অর্থাৎ, কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম
গা) ও তিন রকমের ধা (অর্থাৎ, পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র ধা স্বর) অবশিষ্ট
পাঁচটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সপ্তকে পরিণত হ'লে, তাদের মূর্ছনার
সংখ্যা হয়, ৭ x ৪ = ২৮ x ৩ = ৮৪। ১২৫
চতুর্ভির্বিকৃতৈর্গৈশ্চ নিষাদৈস্তাদৃশৈরপি।
ভেদাঃ শুদ্ধৈঃ সমাযোগে স্যুঃ শতং দ্বাদশোত্তরম্ ॥ ১২৬
চার রকমের বিকৃত গা (অর্থাৎ, কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম গা) ও
চার রকমের বিকৃত নি (অর্থাৎ, কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম নি) বাকি - আমাদের সংগ্রহে যে তিনখানি পারিজাত রয়েছে, তার মধ্যে
"রিভিস্ত্রিভিঃ” কথাটি বর্ত্তমান। অপরপক্ষে, বর্ত্তমান সূত্রটির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে '
“রিভিস্ত্রিভিঃ-”র প্রয়োগ অত্যন্ত দুর্ব্বোধ্য! সুতরাং আমাদের অনুমান, মূলে,
কথাটি “রিভিস্ত্রিভিঃ-”র পরিবর্ত্তে “রিভির্নিভিঃ” ছিল।
সঙ্গীত পারিজাত ৪১
পাঁচটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলিত হয়ে সপ্তক তৈরী করলে, তাদের মূর্ছনার
সংখ্যা হয়, ৭ × ৪ = ২৮ × ৪ = ১১২। ১২৬
ত্রিভির্মৈর্বিকৃতৈর্ধেশ্চ পূর্ব্বাদিক্কৃতৈস্ত্রিভিঃ।
পঞ্চশুদ্ধ স্বরৈর্ভেদান্ ত্রিষষ্টিমিতি মেনিরে॥ ১২৭
তিন প্রকার বিকৃত মা (অর্থাৎ তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম মা) ও তিন প্রকার
বিকৃত ধা (অর্থাৎ, পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র ধা) অবশিষ্ট পাঁচটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে
যুক্ত হয়ে সপ্তক সৃষ্টি করলে, তাদের মূর্চ্ছনা-ভেদের সংখ্যা হয়,
৭ × ৩ = ২১ × ৩ = ৬৩। ১২৭
ত্রিধামৈশ্চ নিষাদৈশ্চ চতুর্ভিৰ্ব্বিকৃতৈঃ স্বরৈঃ।
পঞ্চশুদ্ধ স্বরৈর্ভেদা অশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ॥ ১২৮
তিন রকমের বিকৃত মা (অর্থাৎ, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম মা) ও চার
রকমের বিকৃত নি (অর্থাৎ, কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম নি) বাকি
পাঁচটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা সৃষ্টি করলে, তাদের সংখ্যা হয়
৭ × ৩ = ২১ × ৪ = ৮৪। ১২৮
ধৈবতৈর্ব্বিব্কৃতৈঃ সর্ব্বৈঃ সর্ব্বৈশ্চ বিকৃতৈর্নিভিঃ।
শেষৈঃ শুদ্ধৈঃ কৃতা ভেদাঃ স্যুঃ শতং দ্বাদশোত্তরম্॥ ১২৯
সব রকমের বিকৃত ধা (অর্থাৎ, পূর্ব্ব, কোমল, তীব্র ও তীব্রতর ধা) ও সব
রকমের বিকৃত নি (অর্থাৎ, কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম নি) বাকি
চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলিত হ’য়ে মূর্চ্ছনা তৈরি করলে, তাদের ভেদাভেদের
সংখ্যা হয়, ৭ × ৪ = ২৮ × ৪ = ১১২। ১২৯
রিভিঃ সর্ব্বৈস্তথা গৈশ্চ বিকৃতৈর্ম্মধামৈঃ স্বরৈঃ।
শেষশুদ্ধৈশ্চ ভেদাঃ স্যুঃ ষট্ত্রিংশচ্ছতত্রয়ম্॥ ১৩০
সব রকম বিকৃত রে (অর্থাৎ, পূর্ব্ব, কোমল, তীব্র ও তীব্রতর রে) পাঁচ রকম
বিকৃত গা (অর্থাৎ, কোমল, তীব্র, তীব্রতর, তীব্রতম ও অতি তীব্রতম গা)
ও তিন রকমের বিকৃত মা (অর্থাৎ, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম মা) বাকি
চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলিত হয়ে মূর্চ্ছনা তৈরি করলে, তাদের ভেদাভেদের
সংখ্যা হয়, ৭ × ৪ = ২৮ × ৪ = ১১২ × ৩ = ৩৩৬। ১৩০
৪২ সঙ্গীত পারিজাত
টিপ্পনী : এখানে বিকৃত গা-এর সংখ্যাটা পাঁচ হ'য়ে যাচ্ছে। এর কারণ,
এখানে, গা-এর পরবর্ত্তী স্বর হিসাবে শুদ্ধ মা-কে পাওয়া যাচ্ছেনা,—যাচ্ছে
বিকৃত মা-এর উল্লেখ। সুতরাং, এখানে শুদ্ধ মা স্বর গা-এর শ্রুতি গ্রহণ করে
অতি তীব্রতম গা-এ পরিণত হচ্ছে। ১৩০
রিভিঃ সর্ব্বৈস্তথা গৈশ্চ পঞ্চভির্ধ্বৈতৈস্ত্রিভিঃ।
শেষৈঃ শুদ্ধৈশ্চ ভেদাঃ স্যুঃ সবিংশতিচতুঃশতম্ ॥ ১৩১
সব রকম বিকৃত রে (অর্থাৎ, পূর্ব্ব, কোমল, তীব্র ও তীব্রতর রে) পাঁচ রকম
বিকৃত গা (অর্থাৎ, পূর্ব্ব, কোমল, তীব্রতর, তীব্রতম ও অতি তীব্রতম গা)
ও তিন রকমের বিকৃত ধা বাকি চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূর্চ্ছনা
সৃষ্টি করলে, তাদের সংখ্যা হয়, ৭ × ৪ = ২৮ × ৫ = ১৪০ × ৩ = ৪২০। ১৩১
টিপ্পনী : এখানে, মূল সূত্রে “পঞ্চভি” কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু,
আমাদের মনে হয়, এই “পঞ্চভি” কথাটি প্রক্ষিপ্ত। কারণ, মা স্বর এখানে
শুদ্ধ স্বররূপে উল্লিখিত হওয়ার ফলে, কোন অজুহাতেই গা-এর শ্রুতি গ্রহণ
করতে পাবে না। সুতরাং শ্রুতি-স্বরের হিসাব অনুযায়ী, কথাটা এখানে
“চতুর্ভি” হওয়াই উচিৎ। (কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম = চারটি গা)
অবশ্য, আমরা এখানে, মূলের ব্যাখ্যা সঠিক রাখবার জন্য পঞ্চভি = পাঁচ
রকমের গা-এর উল্লেখ করতে বাধ্য হয়েছি। তাছাড়া—পারিজাতকার ১২৯
থেকে ১৩১ সংখ্যক সূত্রের মধ্যে যদিও "সর্ব্ব প্রকার” কথাটি ব্যবহার করেছেন,
কিন্তু এ ক্ষেত্রে, বিভিন্ন নামের অভিন্ন স্বরের কথাটি আমাদের ভুলে গেলে
চলবে না এবং এই কারণেই আমরা সব রকম বিকৃত রে-গা-নি স্বরের উল্লেখ
করতে গিয়ে, পূর্ব্ব ও অতি-তীব্রতম গা এবং পূর্ব্ব নি স্বরের উল্লেখ করিনি।
কারণ, পূর্ব্ব গা, অতি-তীব্রতম গা ও পূর্ব্ব নি স্বর হচ্ছে, যথাক্রমে শুদ্ধ রে,
শুদ্ধ মা ও শুদ্ধ ধা স্বর। কিন্তু, এই পদ্ধতিটি কার্য্যকরী হ'বে কেবলমাত্র দুটি
বিকৃত স্বরের সঙ্গে সংযুক্ত বাকি পাঁচটি শুদ্ধ স্বরের মূর্চ্ছনা সৃষ্টির ক্ষেত্রে।
অপর পক্ষে, বিকৃত স্বরের সংখ্যা যখন সপ্তকের মধ্যে দু'য়ের বেশী হ'বে, তখন,
মূর্চ্ছনার মধ্যে শুদ্ধ রে-র পরিবর্ত্তে পূর্ব্ব গা, শুদ্ধ মা-র পরিবর্তে অতি-তীব্রতম
গা ও শুদ্ধ ধা-র পরিবর্ত্তে পূর্ব্ব নি স্বরের ব্যবহার হ'তে পারবে।—এই
নামান্তরের ব্যাপারটা পূর্ব্ব প্রকাশিত স্বর-শ্রুতি-চক্রের প্রতি লক্ষ্য করলে
সমধিক সহজবোধ্য হ'বে। ১৩১
সঙ্গীত পারিজাত ৪৩
ঋষভৈর্বিকৃতৈঃ সর্ব্বৈর্গান্ধারৈর্বেদসম্মিতৈঃ ;
নিস্বরৈর্বেদসংখ্যাতৈঃ শেষৈঃ শুদ্ধৈঃ স্বরেরপি।
ভেদা ভবন্তি সাষ্টৌ চ চত্বারিংশচ্চতুঃশতী ॥ ১৩২
সব রকম বিকৃত রে, চার রকম বিকৃত গা ও চার রকমের বিকৃত নি স্বর
বাকি চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা সৃষ্টি করলে, তাদের সংখ্যা হয়,
৭ × ৪ = ২৮ × ৪ = ১১২ × ৪ = ৪৪৮। ১৩২
ত্রিভীরিভিস্ত্রিভির্মৈশ্চ ত্রিভির্ধৈর্বিকৃতৈঃ স্বরৈঃ।
বেদশুদ্ধৈশ্চ ভেদাঃ স্যুনর্বাশীত্যাযুতং শতম্ ॥ ১৩৩
তিন রকম বিকৃত রে, তিন রকম বিকৃত মা ও তিন রকমের বিকৃত ধা বাকি
চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা তৈরি করলে, তাদের সংখ্যা হয়,
৭ × ৩ = ২১ × ৩ = ৬৩ × ৩ = ১৮৯। ১৩৩
রিভিস্ত্রিভিস্তথা মৈশ্চ নিভিরাপদ্বিসম্মিতৈঃ।
অন্যৈঃ শুদ্ধৈশ্চ ভেদাঃ স্যুর্ব্ব্যং পঞ্চ পুনর্দ্বয়ম্ ॥ ১৩৪
তিন প্রকার বিকৃত রে, তিন প্রকার বিকৃত মা ও চার রকমের বিকৃত নি
বাকি চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা তৈরি করলে, তাদের সংখ্যা
হয়, ৭ × ৩ = ২১ × ৩ = ৬৩ × ৪ = ২৫২। ১৩৪
ত্রিভীরিভির্ব্বেদধৈশ্চ নিষাদৈর্ব্বাণসম্মিতৈঃ।
বেদশুদ্ধৈশ্চ ভেদাঃ স্যুবিংশত্যা চ চতুঃশতী ॥ ১৩৫
তিন রকম বিকৃত রে, চার রকম বিকৃত ধা ও পাঁচ রকমের বিকৃত নি বাকি
চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা তৈরি করলে, তাদের সংখ্যা হয়,
৭ × ৩ = ২১ × ৪ = ৮৪ × ৫ = ৪২০। ১৩৫
টিপ্পনী : এখানে, মূল সূত্রে “নিষাদৈর্ব্বাণ” কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে। এই
বাণ '(পঞ্চবাণ = ৫) অর্থে পাঁচ রকম নি-এর ব্যাখ্যা আমরা সঠিকভাবেই
করেছি। কিন্তু, সন্দেহ হয়, এই “নিষাদৈর্ব্বাণ” কথাটিও প্রক্ষিপ্ত, কারণ,
এ ক্ষেত্রে, যেহেতু সা অচল স্বর, অতএব ধা-এর সংখ্যাটা চার হ’লে, বিকৃত
নি-এর সংখ্যাটাও চার হ’তে বাধ্য। অর্থাৎ, শ্রুতি-স্বরের সঠিক হিসাব
৪৪ সঙ্গীত পারিজাত
অনুযায়ী, এখানে চার রকম নি-এর উল্লেখ থাকাই উচিত ছিল; কিন্তু
উল্লিখিত হয়েছে পাঁচ রকমের বিকৃত নি। তাই, আমাদের মনে হয়, মূল
সূত্রটি এখানে, “ত্রিভীর্বিভির্ব্বেদৈশ্চ”-এর বেদ ( চারি বেদ = ৪ ) কথাটার
সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে “নিষাদেরব্ধি”-রূপে উল্লিখিত হলেই যেন সুসঙ্গত
হ’তো। ১৩৫
বাণগৈর্বিকৃতৈঃ সর্বৈর্ব্যৈশ্চ ধৈরগ্নিসম্মিতৈঃ।
অব্ধিশুদ্ধৈশ্চ ভেদাঃ স্যুস্ত্রিংশতী দশ পঞ্চ চ ॥ ১৩৬
পাঁচ রকম বিকৃত গা, তিন রকম বিকৃত মা ও তিন রকম বিকৃত ধা বাকি
চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা তৈরি করলে, তাদের ভেদাভেদের সংখ্যা
হয়, ৭×৫ = ৩৫×৩ = ১০৫×৩ = ৩১৫। ১৩৬
বিকৃতৈঃ পঞ্চভির্গৈ র্যৈস্ত্রিভিরব্ধিনিভৈস্তথা।
অন্যৈঃ শুদ্ধৈশ্চ ভেদাঃ স্যুঃ সবিংশতিচতুঃশতী ॥ ১৩৭
পাঁচ রকম বিকৃত গা, তিন রকম বিকৃত মা ও চার রকম বিকৃত নি, বাকি
চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা সৃষ্টি করলে, তাদের ভেদাভেদের সংখ্যা
হয়, ৭×৫ = ৩৫×৩ = ১০৫×৪ = ৪২০। ১৩৭
অব্ধিগৈরব্ধিধৈরব্ধি-নিভিঃ শুদ্ধৈঃ স্বরৈরপি।
ভেদা ভবন্তি সাষ্টৌ তু চত্বারিংশচ্চতুঃশতী ॥ ১৩৮
চার রকম বিকৃত গা, চার রকম বিকৃত ধা ও চার রকম বিকৃত নি, বাকি
চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা সৃষ্টি করলে, তাদের ভেদাভেদের সংখ্যা
হয়, ৭×৪ = ২৮×৪ = ১১২×৪ = ৪৪৮। ১৩৮
ত্রিভির্ম্যৈর্বেদ ধৈশ্চাপি নিষাদেরব্ধি সম্মিতৈঃ।
অব্ধিশুদ্ধৈশ্চ ভেদাঃ স্যুঃ ষট্ত্রিংশচ্ছতত্রয়ম ॥ ১৩৯
তিন প্রকার বিকৃত মা, চার প্রকার বিকৃত ধা ও চার প্রকার বিকৃত নি
বাকি চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা তৈরী করলে, তাদের ভেদাভেদের
সংখ্যা হয়, ৭×৩ = ২১×৪ =৮৪×৪ = ৩৩৬। ১৩৯
সঙ্গীত পারিজাত ৪৫
রীণাং গানাং তথা মানাং বহ্নিধানাঞ্চ মেলনে।
সহস্রং দ্বিশতীষষ্টির্ভেদা উক্তা মনীষিভিঃ ॥ ১৪০
গুণী জ্ঞানীরা বলেন, চার রকম বিকৃত রে, পাঁচ রকম বিকৃত গা, তিন
রকম বিকৃত মা ও তিন রকম বিকৃত ধা বাকি তিনটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে
মূর্চ্ছনা সৃষ্টি করলে, তাদের ভেদাভেদের সংখ্যা হয়, ৭ × ৪ = ২৮ × ৫ = ১৪০ × ৩
= ৪২০ × ৩ = ১২৬০। ১৪০
রীণাং গানাং তথা মানামঙ্কিনীনাঞ্চ মেলনে।
শূন্যং বসুরসশ্চন্দ্র ইতি ভেদাঃ প্রকীর্তিতাঃ ॥ ১৪১
চার রকম বিকৃত রে, পাঁচ রকম বিকৃত গা, তিন রকম বিকৃত মা ও চার রকম
বিকৃত নি, বাকি তিনটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলিত হয়ে মূর্চ্ছনা সৃষ্টি করলে,
তাদের ভেদাভেদের সংখ্যা হয়,
৭ × ৪ = ২৮ × ৫ = ১৪০ × ৩ = ৪২০ × ৪ = ১৬৮০। ১৪১
রীণাং গানামব্ধিধানাং তথা নীনাঞ্চ মেলনে।
নেত্রং রন্ধ্রং মুনিশ্চন্দ্রো ভেদাশ্চাত্রেতি মেনিরে ॥ ১৪২
রে-গা-ধা-নি, এই চারটি স্বরের চার রকমের বিকৃত রূপ যদি বাকি তিনটি
শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মূর্চ্ছনা সৃষ্টি ক’রে, তাহলে, তাদের ভেদাভেদের
সংখ্যা হয় ৭ × ৪ = ২৮ × ৪ = ১১২ × ৪ = ৪৪৮ × ৪ = ১৭৯২। ১৪২
রিভিস্ত্রিভিস্তথা মৈশ্চ বেদধৈর্নিস্বরৈরপি।
অষ্টোত্তরসহস্রঞ্চ ভেদা উক্তা মনীষিভিঃ ॥ ১৪৩
গুণী জ্ঞানীরা বলেন, তিন রকম বিকৃত রে, তিন রকম বিকৃত মা, চার রকম
বিকৃত ধা ও চার রকম বিকৃত নি, বাকি তিনটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা
তৈরী করলে, তাদের ভেদাভেদের সংখ্যা হয়, ৭ × ৩ = ২১ × ৩ = ৬৩ × ৪ = ২৫২
× ৪ = ১০০৮।—১৪৩
গানাং মানাং তথা ধানাং নিষাদানাঞ্চ মেলনে।
শূন্যং বসুরসশ্চন্দ্র ইতি ভেদাঃ প্রকীর্তিতাঃ ॥ ১৪৪
৪৬ সঙ্গীত পারিজাত
পাঁচ রকম বিকৃত গা, তিন রকম বিকৃত মা, চার রকম বিকৃত ধা ও চার
রকম বিকৃত নি, বাকি তিনটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা তৈরী করলে,
তাদের ভেদাভেদের সংখ্যা হয়,
৭×৫ = ৩৫×৩ = ১০৫ × ৪ = ৪২০ × ৪ = ১৬৮০। ১৪৪
রীণাং গানাং তথা মানাং ধানাং নীনাঞ্চ মেলনে।
ষট্সহস্রঞ্চ বিংশত্যা শতং সপ্ত চ সংযুতাঃ ॥ ১৪৫
চারটি বিকৃতি রে, পাঁচটি বিকৃত গা, তিনটি বিকৃত মা, চারটি বিকৃত ধা ও
চারটি বিকৃত নি, বাকি দুটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলিত হয়ে মূর্চ্ছনা তৈরী করল,
তাদের ভেদাভেদের সংখ্যা হয়, ৭ × ৪ = ২৮ × ৫ = ১৪০ × ৩ = ৪২০ × ৪ = ১৬৮০
× ৪ = ৬৭২০। ১৪৫
ইতি ভেদান্ মুনীন্দ্রাস্তু প্রাহুঃ শাস্ত্রেণ বোধিতান্।
মূর্চ্ছনানাং প্রভেদানাং সম্পূর্ণানি চ সর্ব্বশঃ। ১৪৬
বস্বব্ধী রসাষ্টৌ চ চন্দ্রশ্চেতি মিতির্ভবেৎ।
ভবন্তি মূর্চ্ছনা এতা গ্রামেঽস্মিন ষড়জসংজ্ঞকে ॥ ১৪৭
এই ভাবে বিচার করে, মুনি ঋষিরা বলেছেন : শাস্ত্রানুমোদিত মূর্চ্ছনা-সমষ্টির
ভেদাভেদের সংখ্যা, সর্ব্ব-সাকুল্যে, ১৮,৬৪৮ ( আঠার হাজার ছ' শ' আটচল্লিশ )
প্রকার। বলাবাহুল্য, এই মূর্চ্ছনাগুলি ষড়জ গ্রামের।—১৪৬-৪৭
গ্রাময়োর্গ-ময়োরেবংসম্পূর্ণা মূর্চ্ছনা মতাঃ।
মধ্যমে মধ্যমস্যাপি গান্ধারে গ-স্বরস্য চ ॥ ১৪৮
বিকৃতত্বং ন বক্তব্যং তয়োর্ষস্মাৎ প্রধানতা।
গ-ম গ্রামে গ-মৌ ত্যক্ত্বা মূর্চ্ছনা নাভিসম্মতা ॥ ১৪৯
গান্ধার ও মধ্যম গ্রামের মূর্চ্ছনা-সমষ্টিও ষড়জ গ্রামের মতো। তবে যেহেতু,
এই দুটি গ্রামের গা ও মা স্বর দুটি প্রধান, সেই কারণে, এই দুটি স্বরের বিকৃতি
হয় না, এবং, এই দুটি স্বরকে বর্জ্জন করেও মধ্যম-গান্ধার গ্রামের মূর্চ্ছনা-সৃষ্টি
শাস্ত্র-সম্মত হতে পারে না। ১৪৮-৪৯
সঙ্গীত পারিজাত ৪৭
আদ্যামুর্চ্ছনা তানে সম্পূর্ণে কথিতে বুধৈঃ।
তানাঃ পঞ্চ সহস্রাণি চত্বারিংশদযুতানি চ ॥ ১৫০
তাবৎ সংখ্যাবিশিষ্টানাং তানানাং গণনা কৃতা।
খরসেষুরসা নেত্রমব্ধিবহ্নয়ঃ শশীতি চ ॥ ১৫১
প্রথমোক্ত মূর্চ্ছনা ও তানগুলিকে পণ্ডিত ব্যক্তিগণ সম্পূর্ণ মূর্চ্ছনা ও সম্পূর্ণ
তান বলেছেন। এদের সংখ্যা হ’চ্ছে ৫০৪০। এই ৫০৪০ সংখ্যার সঙ্গে এক
একটি মূর্চ্ছনার সংখ্যা গুণ করলে, ক্রমিক নিয়মে, স্বর সপ্তকের মূর্চ্ছনা থেকে
উদ্ভূত কূটতানের সংখ্যা হ’বে ১৩৯,৮৫,৯২০ প্রকার। যথা:
পূর্ব্বোল্লিখিত ষড়জ গ্রামের, স্বর-সপ্তকের, মূর্চ্ছনার সমষ্টি হ’চ্ছে ১৮,৬৪৮।
এই সংখ্যাকে সাত দিয়ে ভাগ করলে এক একটি মূর্চ্ছনার সংখ্যা দাঁড়াবে
২,৬৬৪। এই ২,৬৬৪ সংখ্যাকে আবার পূর্ব্ববর্ণিত সম্পূর্ণতান বা কূটতানের
৫০৪০ সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে, এক একটি স্বর মূর্চ্ছনার সংখ্যা দাঁড়াবে
১৩৪,২৬, ৫৪০। সুতরাং স্বর-সপ্তকের মূর্চ্ছনাদির সমষ্টি সংখ্যা হ’বে
১৩৪,২৭,৫৬০ × ৭=১৩৯,৮৫,৯২০ প্রকার। ১৫০-৫১
নি-ধ প-ম গ-রীণাস্তু লোপাদথ চ ষাড়বাঃ।
ক্রমাদেকৈকসংত্যাগাৎ ষট্ত্রিংশন্মূর্চ্ছনা মতাঃ ॥ ১৫২
নি, ধা, পা, মা, গা ও রে, এই ছয়টি স্বর একে একে বর্জ্জন করে ষাড়ব বা
খাড়ব মূর্চ্ছনা তৈরি করতে হয়। এবং এক একটি স্বর বর্জ্জনের এই ক্রমিক
নিয়ম অনুসারে, শুদ্ধ ষাড়বের মূর্চ্ছনা সংখ্যা হয় ৬×৬-৩৬ প্রকার। ১৫২
টিপ্পনী: ষাড়ব-ওঁড়ব মূর্চ্ছনার প্রসঙ্গে একথা সর্ব্বদাই স্মরণযোগ্য যে,
পারিজাতের মতে সপ্তকের সা স্বরটি অবিলোপী। অর্থাৎ রাগের প্রয়োজনে
যদি সরগমপধসর্ব্ব সধপমগবসা ব্যবহার থাকে তাহলে, একটি সা স্বরকেই
কেবলমাত্র অবিলোপী হিসেবে গ্রহণ করে, মূর্চ্ছনার স্বর সংখ্যা গুণতে হবে।
এবং তার ফল হবে সরগমপধ (র্স) কিংবা (র্স) ধপমগরস। অতঃপর
ষাড়ব মূচ্ছনার ভেদ নির্ণয়ের রহস্য :—
সপ্তকের মধ্য থেকে, একে একে, নি, ধা, পা, মা, গা ও রে এই
ছয়টি স্বর বর্জ্জন করে ছয়টি মূর্চ্ছনা সহজেই তৈরি হয়, কিন্তু সংখ্যাটা
ছত্রিশ হতে পারে কী করে? শুদ্ধ ষাড়ব মূর্চ্ছনার মধ্যে, আরোহণ
৪৮ সঙ্গীত পারিজাত
অবরোহণের বৈচিত্র্য দেখাবার নিয়ম নেই। অর্থাৎ সরগমপধ ( র্স ) ( র্স )
নধপমগস—এইরূপ করবার নিয়ম নেই, যদিও সংখ্যাটা ষাড়ব মূর্চ্ছনারই
অন্তর্গত। মূর্চ্ছনার আরোহণ-অবরোহণে স্বর-সঙ্গতি অভিন্নই রাখতে হবে।
সুতরাং ভেদাভেদটা হবে যথাক্রমে : ১। ধসরগমপ( ধ )—( ধ )পমগরসধ্
২। প্ধসরগম ( প )—( প )মগরসধ্প্ ৩। ম্প্ধসরগ( ম )—(ম) গরসধ্প্ম্
৪, গমপধর্সর( র্গ )—( র্গ )র্সরধপমগ ৫। সরগমপধ( র্স )—( র্স )ধপমগরস
৬। রগমপধর্স ( র্ র )—( র্ র ) র্সধপমগর। এইভাবে নি বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার
যেমন ছয়টি ভেদ পাওয়া গেল, অনুরূপ পদ্ধতিতে বাকি পাঁচটি স্বরেরও আরও
ত্রিশ রকম ভেদ পাওয়া যাবে। ফলে, ফল হবে ৬ x ৬=৩৬। ১৫২
এবং ষাড়বশুদ্ধাঃ স্যুর্ব্বিষ্কৃতা অপি চক্ষমহে।
ত্রয়োদশ রিভেদাঃ স্যুর্ভেদাস্তৎ সপ্তমা মতাঃ॥ ১৫৩
উপরোক্ত ছত্রিশ প্রকার মূর্চ্ছনা হচ্ছে, শুদ্ধ ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা। অতঃপর
বিকৃত ষাড়ব মূর্চ্ছনার পরিচয় দেওয়া যাচ্ছে। ষাড়ব স্কেল-এর ( Scale =
সারিক ? ) মধ্য থেকে নি স্বরটি বাদ দিলে, বাকি পাঁচটি স্বরের বিকৃত
ভেদ থাকে, যথাক্রমে, সা০+রে৩+গ৪+ম৩+পা০+ধা৩=১৩ প্রকার।
১৫৩
টিপ্পনী : পূর্ব্ব প্রকাশিত স্বর-শ্রুতি মণ্ডলটির প্রতি লক্ষ্য করলেই বিকৃত
স্বরের নাম-রহস্যটা সহজবোধ্য হ’বে। অধিকন্তু মনে রাখতে হ’বে, সা স্বরের
মতো পা স্বরেরও কোন বিকৃত ভেদ নেই, এবং সেই কারণে পা স্বরের সঙ্গে
সর্ব্বদাই শূন্য যোগ হ’বে। ১৫৩
ইতি ভেদা নি-হীনানামষ্ট সপ্ততিরীরিতাঃ।
এবং ভেদা ধ-হীনানামশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ॥ ১৫৪
পূর্ব্বেই বলেছি, নি-বর্জ্জিত ষাড়ব স্কেল-এর বাকি পাঁচটি বিকৃত স্বরের সংখ্যা
তের প্রকার। অতএব, পূর্ব্বোক্ত আইন অনুযায়ী, এই পাঁচটি বিকৃত স্বরের
মূর্চ্ছনার সংখ্যাও হ’বে যথাক্রমে ১৩ x ৬ = ৭৮। এইভাবে ধা বর্জ্জন করলে,
স্কেলের বাকি পাঁচটি স্বরের বিকৃত ভেদ হ’বে নি৪+স০+রে৩+গা ৪+মা৩+প০
=১৪ প্রকার। সুতরাং ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যাও হ’বে ১৪ x ৬ =৮৪ প্রকার।
১৫৪
সঙ্গীত পারিজাত ৪৯
তথা ভেদাঃ প-হীনানাং স্যুঃ শতং লোচনোত্তরম্।
ম-হীনানাস্তু ভেদাঃ স্যুরশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ ॥ ১৫৫
উপরোক্ত নিয়মানুসারে পা-বর্জিত ষাড়ব স্কেল-এর বাকি পাঁচটি স্বরের
বিকৃত ভেদ হয়, সা০+রে৩+গা৪+মা৩+ধা৩+নি৪ = ১৭। সুতরাং, এদের
ষাড়ব মূর্চ্ছনারও মোট সংখ্যা হ’বে ১৭ x ৬ = ১০২। অনুরূপ, মা-বর্জিত
বাকি চারটি (যেহেতু সা ও পা-র বিকৃতি নেই) স্বরের বিকৃতি হয়,
সা০+রে৩+গা৪+পা০+ধা৩+নি৪ = ১৪ প্রকার। অতএব, এদেরও ষাড়ব
মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা হ’বে, ১৪ x ৬ = ৮৪ প্রকার। ১৫৫
তথা গান্ধারহীনানামষ্টসপ্ততিরীরিতাঃ।
রি-হীনানামপি জ্ঞেয়া অশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ ॥ ১৫৬
এইভাবে, গা-বর্জিত বাকি চারটি স্বরের বিকৃত ভেদ হয়, সা০+রে৩
+মা৩+পা০+ধা৩+নি৪ = ১৩ প্রকার। এবং, এদের মূর্চ্ছনার সংখ্যাও হয়
১৩ x ৬ = ৭৮ প্রকার। অনুরূপ, রে-বর্জিত বাকি চারটি স্বরের বিকৃত
ভেদ হয় ১৪ প্রকার। এবং, তাদের মূর্চ্ছনারও সংখ্যা হয়, ১৪ x ৬ = ৮৪
প্রকার। ১৫৬
টিপ্পনী : এতক্ষণ পর্যন্ত, অহোবল, একটি ক’রে বিকৃত স্বর নিয়ে
ষাড়ব মূর্চ্ছনা তৈরী করবার প্রণালী ও তাদের সংখ্যা দেখিয়েছেন।
অতঃপর, ১৫৭ সূত্র থেকে দেখাচ্ছেন, দুটি ক’রে বিকৃত স্বর নিয়ে ষাড়ব
মূর্চ্ছনা তৈরী করবার প্রণালী ও তাদের মোট সংখ্যা। কিন্তু, ব্যাখ্যায়
অগ্রসর হবার পূর্ব্বে, এই সূত্রটির মূল-পাঠ সম্বন্ধে কিছু আলোচনা
করবার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। আমাদের সংগ্রহে যে ক’খানি
পারিজাত আছে, তার ১৫৭ সূত্রের প্রথম পংক্তির পাঠ দেখা যায়,—
চতুর্ভিশ্চ রিভিস্তত্র গান্ধারৈঃ “পঞ্চভিঃ” স্বরৈঃ। কিন্তু, পঞ্চভি-স্বরে কথাটার
যথার্থ ব্যাখ্যা এ ক্ষেত্রে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয়। কারণ, গান্ধারের
পঞ্চম বিকৃতি অর্থে অতি-তীব্রতম গা স্বরটিকে বোঝায়, যেহেতু, পূর্ব্ব-
গা শুদ্ধ রে স্বরেরই নামান্তর মাত্র। অপরপক্ষে, অতি-তীব্রতম গা
স্বরটিও শুদ্ধ মা স্বরেরই নামান্তর। পরন্তু, নি-বর্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার মধ্যে
৪
৫০ সঙ্গীত পারিজাত
যদি শুদ্ধ সা স্বরটি বাদ পড়ে যায়, তাহলে কিছুতেই মূর্ছনা তৈরী হ'তে
পারে না এবং তার সংখ্যাও ১৬ হ'বে না। অধিকন্তু, বিকৃত গান্ধারের
ষাড়ব মূর্ছনার যথাযথ ভেদ নির্ণয় করতে করতে অহোবল অকস্মাৎ
তীব্রতম গা স্বরটির কথা বিস্মৃত হবেন কেন, সে সমস্যাও অনুধাবনযোগ্য।
ফলে, এই সমস্যা সমাধানের আশায়, আমার পূর্ব্ববর্তী পারিজাত-ব্যাখ্যাকার-
দের অন্যতম ভালচন্দ্র সূকথনকারের ব্যাখ্যাই সঙ্গতিপূর্ণ বলে গ্রহণ করছি।
ইনি পঞ্চভিঃ স্বরৈ-র পরিবর্ত্তে গান্ধারৈশ্চ চতুঃস্বরৈঃ পাঠ কল্পনা ক'রে (গা
স্বরের চতুর্থ বিকৃতির তীব্রতম গা-কে গ্রহণ করেই) মূর্ছনা তথা সূত্রের
ব্যাখ্যা করেছেন এবং আমার আচার্য্যদেব স্বর্গীয় ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়
চৌধূরী মহাশয়ও সূকথনকারের ব্যাখ্যাকে যথার্থ ও সঙ্গতিপূর্ণ বলে গ্রহণ
করেছিলেন। বলাবাহুল্য, পঞ্চভিঃ-র স্থলে ততিভিঃ শব্দটিও অনুমান করা
যেতে পারে এবং গান্ধারৈশ্চ চতুঃস্বরৈঃ বা ততিভিঃ—যে কোন শব্দযোগে এই
সূত্রের ব্যাখ্যা করলে, তবেই অহোবল বিবৃত মূর্ছনার ১৬ সংখ্যাটি মেলে,
নচেৎ মেলে না।
চতুর্ভিশ্চ রিভিস্তত্র গান্ধারৈঃ পঞ্চভিঃ (?) স্বরৈঃ।
ষন্নবতির্নি-হীনাঃ স্যুর্ভেদা উক্তা মনীষিভিঃ ॥ ১৫৭
গুণী-জ্ঞানীরা বলেন, চারটি বিকৃত রে ও চারটি বিকৃত গা, বাকি চারটি
শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে পরের পর মিলে মূর্ছনা তৈরী করলে, তাদের নি-বর্জ্জিত
ষাড়ব মূর্ছনার সংখ্যা হয়, ৪ × ৪ = ১৬ × ৬ = ৯৬ প্রকার। ১৫৭
রিভিস্ত্রিভিস্তথা মৈশ্চ ভেদাঃ স্যুরব্ধিরাশুগাঃ।
এবং রিভিস্তথা ধৈশ্চ ভেদাস্তাবন্ত এব হি ॥ ১৫৮
• রে ও মা স্বরের প্রত্যেকের তিন রকম বিকৃতি, বাকি চারটি শুদ্ধ স্বরের
সঙ্গে মিলে মূর্ছনায় পরিণত হ'লে, তাদের মোট সংখ্যা হয়, ৩ × ৩ = ৯ × ৬ =
৫৪ প্রকার। অনুরূপ, তিন রকমের বিকৃত রে-ধা স্বরও বাকি চারটি শুদ্ধ
স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্ছনা তৈরী করলে, তাদেরও মোট সংখ্যা হয় ৩ × ৩
= ৯ × ৬ = ৫৪ প্রকার। ১৫৮
সঙ্গীত পারিজাত ৫১
পঞ্চভির্গেস্ত্রিভির্মৈশ্চ ভেদা নবতিরীরিতাঃ।
গান্ধারধৈবতানান্তু দ্বিসপ্ততিভিদা মতাঃ॥ ১৫৯
পাঁচ প্রকার বিকৃত গা ও তিন প্রকার বিকৃত মা, বাকি চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে
মিলে মূর্চ্ছনায় পরিণত হ'লে, তাদের সংখ্যা হয়, ৫ × ৩ = ১৫ × ৬ = ৯০
প্রকার। অনুরূপ, চার রকম বিকৃত গা ও তিন রকম বিকৃত ধা বাকি
চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা তৈরী করলে, তাদেরও সংখ্যা হবে,
৪ × ৩ = ১২ × ৬ = ৭২ প্রকার। ১৫৯
টিপ্পনী : পাঁচ প্রকার বিকৃত গা স্বরের শেষ বিকৃতি হচ্ছে অতি-তীব্রতম
গা এবং এই স্বরটি শুদ্ধ মা স্বরেরই নামান্তর। সুতরাং, অতি-তীব্রতম গা
স্বরের মূর্চ্ছনা তৈরী করবার সময়, তার মা স্বর শুদ্ধ হবে না—বিকৃত
হবে। অবশ্য, বাকি স্বরগুলি যথাযথভাবে শুদ্ধই থাকবে। ১৫৯
মধ্যমানাং তথা ধানাং ভেদাঃ স্যুরন্ধ্রবাণুগাঃ।
ইতি ভেদা নি-হীনানাং সবিংশতি চতুঃশতী॥ ১৬০
তিন রকমের বিকৃত মা ও ধা, বাকি চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা
তৈরী করলে, তাদের সংখ্যা হবে, ৩ × ৩ = ৯ × ৬ = ৫৪ প্রকার। অতএব,
নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, মোট, ৯৬ + ৫৪ + ৫৪ + ৯০ + ৭২
- ৫৪ = ৪২০ প্রকার। ১৬০
এবং ভেদা ধ-হীনানামশীত্যা স্যাচ্চতুঃশতী।
ভেদা জ্ঞেয়াঃ প-হীনানাং রসোবাণোন্মুনিঃ ক্রমাৎ। ১৬১
ম-হীনানামপি জ্ঞেয়াঃ ষড়শীত্যা চতুঃশতী।
তথা গান্ধারহীনানাং লোচনেন চতুঃশতী। ১৬২
এইভাবে ভেদাভেদ নির্ণয় করলে, ধা-বর্জ্জিত মূর্চ্ছনার সংখ্যা হয়, ৪৮০
প্রকার। পা-বর্জ্জিত মূর্চ্ছনার ভেদ হয়, ৭৫৬ প্রকার। মা-বর্জ্জিত
মূর্চ্ছনার ভেদ হয়, ৪৮৬ প্রকার ও গা-বর্জ্জিত মূর্চ্ছনার সংখ্যা হয়, ৪০২
প্রকার। ১৬১-৬২
৫২ সঙ্গীত পারিজাত
ঋষভেণাপি হীনানামশীত্যা স্যাচ্চতুঃশতী।
রিভির্গৈর্মৈঃ স্বভেদৈশ্চ জ্ঞেয়া ভেদা বিচক্ষণৈঃ॥ ১৬৩
উপরোক্ত আইন অনুযায়ী, বিচক্ষণ ব্যক্তিরা, রে-বর্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনারও
ভেদাভেদ নির্ণয় করেছেন ৪৮০ প্রকার। ১৬৩
টিপ্পনী : অতঃপর পারিজাতকার তিনটি ক'রে বিকৃত স্বর নিয়ে মূর্চ্ছনা
তৈরী করবার প্রণালী ও তাদের সংখ্যা নির্দেশ করেছেন।
মূর্চ্ছানাসু নি-হীনাসু ষষ্ট্যধিকং শতত্রয়ম্।
রি-গ-ধৈশ্চ ভিদা জ্ঞেয়া সাষ্টাশীতি শতদ্বয়ম্॥ ১৬৪
রি-ম-ধৈশ্চাপি ভেদাঃ স্যুরিষ্বষ্ট্যা চ যুতং শতম্।
গ-ম-ধৈশ্চ ভিদা জ্ঞেয়া সপ্তত্যা চ শতদ্বয়ম্। ১৬৫
ইতি ভেদা নি-হীনানামশীত্যা চ সতত্রকম্।
তথা ভেদা ধ-হীনানাং খলোচনাগ্নয়ঃ শশী॥ ১৬৬
এবং ভেদাঃ প-হীনানাং সহস্রত্রয়সংখ্যাক্বাঃ।
ম-হীনানামপি জ্ঞেয়া বেদৌ বহ্নিঃ শশী ক্রমাৎ॥ ১৬৭
তথা ভেদা গ-হীনানামব্ধিঃ শরোহথ রন্ধ্র কম্।
ইতি ভেদা রি-হীনানাং নেত্রাকাশাগ্নয়ঃ শশী॥ ১৬৮
রি-গ-মানাং তথা ধানাং নি-হীনাসু বিভেদতঃ।
ইতি যোগে ভিদা জ্ঞেয়া শূন্যং বসুর্নভঃ শশী॥ ১৬৯
রি-গ মানাং তথা নীনাং ধ-হীনাসু বিভেদতঃ।
ইতি যোগে ভিদা জ্ঞেয়া শূন্যং বেদৌচ চন্দ্রমা॥ ১৭০
রি-গাণাঞ্চ ম-ধানাঞ্চ মূর্চ্ছনাসু বিভেদতঃ।
যোগে ভেদাঃ প-হীনাসু স্যুরশীত্যা সহস্রকম্॥ ১৭১
রি-গাণাঞ্চ ম-নীনাঞ্চ প-হীনাসু বিভেদতঃ।
মূর্চ্ছনাসু ভিদা যোগে খঞ্চ বেদৌ শশী পুনঃ॥ ১৭২
সঙ্গীত পারিজাত ৫৩
রি-গ-ধানাং তথা নীনাং প-হীনাসু বিভেদতঃ।
যোগে তণ ভিদা জ্ঞেয়া রসোবহ্ণিঃ শবঃ শশী ॥ ১৭৩
রি-ম ধানাং তথা নীনাং প-হীনাসু বিভেদতঃ।
যোগে ভেদাস্তথা জ্ঞেয়াঃ সাগরশ্চ রসো বসুঃ ॥ ১৭৪
গ-ম-ধানাং তথা নীনাং প-হীনাসু বিভেদতঃ।
যোগে তণ ভিদা জ্ঞেয়াঃ শূন্যং বেদৌ শশী পুনঃ ॥ ১৭৫
ইতি ভেদাঃ প-হীনানাং স্বারসো পাবকো রসঃ ॥ ১৭৬
রি গ-নাঞ্চ ধ-নীনাঞ্চ ম-হীনাসু বিভেদতঃ।
ইতি যোগে ভিদা জ্ঞেয়াঃ রসো বহ্ণিঃ শরঃ শশী ॥ ১৭৭
রি-ম-ধানাং তথা নীনাং গ-হীনাসু বিভেদতঃ।
ইতি যোগে ভিদা জ্ঞেয়াঃ সাগরশ্চ রসো বসুঃ ॥ ১৭৮
গ-ম-ধানাং তথা নীনাং রি-হীনাসু বিভেদতঃ।
ইতি যোগে ভিদা জ্ঞেয়াঃ খঞ্চ বেদৌ শশী পুনঃ ॥ ১৭৯
রি-গ-ম-ধ-নিষাদানাং যোগে ভেদা উদীরিতাঃ।
খরসমুনিবাণৈশ্চ প-হীনাসু মুনীশ্বরৈঃ ॥ ১৮০
মূর্চ্ছনানাং প্রভেধানাং ষাড়বানাঞ্চ সর্ব্বশঃ।
খবাণশূন্য চন্দ্রৈশ্চ পাবকেন মিতির্ভবেৎ ॥ ১৮১
চারটি বিকৃত রে, পাঁচটি বিকৃত গা ও তিনটি বিকৃত মা যদি বাকি
তিনটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলিত হ'য়ে নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা তৈরী
করে, তাহলে তার মোট সংখ্যা হয়, রে ৪ x গ৫ x ম৩ = ৬০ x ৬ = ৩৬০ প্রকার।
অনুরূপ, চারটি বিকৃত রে, চারটি বিকৃত গা ও তিনটি বিকৃত ধা যদি
বাকি তিনটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনায় পরিণত হয়,
তাহলে, তার ভেদাভেদ হয়, রে৪ x গ৪ x ধ৩ = ৪৮ x ৬ = ২৮৮ প্রকার। ১৬৪
৫৪ সঙ্গীত পারিজাত
এই নিয়মানুসারে,—নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা হয়, যথাক্রমে :—
রে৩xম৩ x ধ৩=২৭ x ৬=১৬২ প্রকার }
}—১৬৫
গ৫ x ম৩xধ৩=৪৫ x ৬=২৭০ প্রকার }
অতএব, তিনটি বিকৃত স্বরযুক্ত, নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা
হয়, ৩৬০+২৮৮+১৬২+২৭০ = ১০৮০ প্রকার ঃ অনুরূপ, ধা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনা, তিনটি বিকৃত স্বরযোগে রচিত হলে, তাদের মোট সংখ্যা হয়,
১৩২০ প্রকার।—১৬৬
মা ও পা বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা তিনটি বিকৃত স্বরযোগে রচিত হলে,
তাদের মোট সংখ্যা হয়, যথাক্রমে, ১৫৪৪ ও ৩০০০ প্রকার।—১৬৭
অনুরূপ, গা ও রে বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা হয়, যথাক্রমে,
৯৫৪ ও ১৩০২ প্রকার।—১৬৮
চারটি বিকৃত রে, পাঁচটি বিকৃত গা, তিনটি বিকৃত মা ও তিনটি বিকৃত
ধা,—এই চারটি বিকৃত স্বর যদি বাকি দু’টি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে
মূর্চ্ছনা তৈরী করে, তাহলে, তাদের নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা
হয়, মোট, ৪ x ৫ x ৩ x ৩ = ১৮০ x ৬ = ১০৮০ প্রকার।—১৬৯
রে৪ x গ৫ x মা৩+নি৪ = ২৪০+৬–১৪৪০ প্রকার হয়, ধা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা।—১৭০
রে৪ x গা৫xমা৩ x ধা৩ = ১৮০ x ৬ = ১০৮০ প্রকার হয়, পা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনার মোট ভেদাভেদ।—১৭১
রে৪ x গ৫xমা৩ x নি৩= ২৪০x৬=১৪৪০ প্রকার হয়, পা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনার আর এক রকমের ভেদাভেদ।—১৭২
পা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার অন্যতম ভেদাভেদ হয়, রে৪xগ৪+ধা৪ x
নি৪ = ২৫৬x৬ = ১৫৩৬ প্রকার।—১৭৩
ধা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার আর এক রকম ভেদাভেদ হয়, রে৪xমা৩
वीणा-तार पर शुद्ध-विकृत २९ स्वरों का गणितीय स्थान-निर्णय (अध्याय २)
সঙ্গীত পারিজাত ৫৫
পা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছানার আরও এক রকম ভেদাভেদ হয়, গা৫xমা৩
xধা৪ x নি৪ = ২৪০ x ৬ = ১৪৪০ প্রকার।—১৭৫
এইভাবে, শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে বাকি চারটি স্বরের বিকৃতরূপ যথাক্রমে
যুক্ত করে, পা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা দাঁড়ায়, ১০৮০+১৪৪০+
১৫৩৬+৮৬৪+১৪৪০ = ৬৩৬০।—১৭৬
এইভাবেই, চারটি বিকৃত রে, চারটি বিকৃত গা, চারটি বিকৃত ধা ও চারটি
বিকৃত নি যদি বাকি দু’টি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূর্চ্ছনা তৈরী করে, তাহলে,
তাদের মা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার ভেদাভেদ হবে, রে৪ x গা৪ x ধা৪ x নি৪ =
২৫৬ x ৬ = ১৫৩৬ প্রকার।—১৭৭
গা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা যদি তিনটি বিকৃতি রে, তিনটি বিকৃত মা, চারটি
বিকৃত ধা ও চারটি বিকৃত নি—দু’টি অবশিষ্ট শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে
মূর্চ্ছনায় পরিণত হয়, তাহলে, তাদের সংখ্যা হয়, রে৩xমা৩xধা৪ x নি৪ =
১৪৪ x ৬ = ৮৬৪ প্রকার।—১৭৮
রে-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা যদি পাঁচটি বিকৃত গা, তিনটি বিকৃত মা, চারটি
বিকৃত ধা ও চারটি বিকৃত নি—দু’টি অবশিষ্ট শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূর্চ্ছনায়
পরিণত হয়, তাহলে, তাদের ভেদাভেদ হয়, গা৫ x মা৩ x ধা৪ x নি৪ = ২৪০ x ৬ =
১৪৪০ প্রকার।—১৭৯।
অতঃপব, সঙ্গীতবিদ মুনিঋষিরা, পাঁচটি বিকৃত স্বরযোগে, পা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনার পরিচয় দিয়েছেন। যথা : রে৪ x গা৫ x মা৩ x ধা৪ x নি৪ = ৯৬০ x ৬
= ৫৭৬০ প্রকার।---১৮০
অতএব দেখা যাচ্ছে, বিকৃত স্বরসমূহের ষাড়ব মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা,
৩৬+৭৮+৮৪+১০২+৮৪+৭৮+৮৪+৯৬+২৪ + ৫৪ + ৯০ + ৭২+৫৪+২৪০+
৭৬৮ + ৪৩২ + ৪০২+৪৮০+৩৬০+২৮৮+১৬২+২৭০+১২০+৩০০+১৩৪৪+
৯৬০+১১৫২+১০৮০+১৪৪০+১০৮০+১৪৪০+১৫৩৬+৮৬৪+১৪৪০ + ৫৭৬০ +
৫৬ সঙ্গীত পারিজাত
যৎস্বরেন বিহীনায়াং মূর্চ্ছনায়াং পৃথক পৃথক।
তৎ স্বরেণৈব হীনাঃ স্যুঃ প্রস্তারাঃ ষাড়বাঃ ক্রমাৎ ॥ ১৮২
সপ্তশত্যা সবিংশত্যা গুণিতানাং মিতির্ভবেৎ।
শূন্যত্রয়ং রসো নেত্রং সপ্ত বহ্নিবিতি ক্রমাৎ ॥ ১৮৩
যখন যে যে মূর্চ্ছনা যে যে স্বর বর্জন করে ষাড়ব মূর্চ্ছনার রূপ পরিগ্রহ করবে,
সেই সব মূর্চ্ছনার প্রস্তার তৈরী করবার সময়ও ঠিক সেই সেই স্বর বর্জন
করে চলতে হবে। এবং, ওইরূপ এক একটি ষাড়ব প্রস্তারকে ৭২০ দিয়ে গুণ
করলে, ফল হবে, ৭২০ X ৫১৭৫ = ৩,৭২৬,০০০ প্রকার। —১৮২-৮৩
টিপ্পনী : প্রস্তার কথাটার অর্থ, প্রকার বা রকম-ফের। অর্থাৎ, মূর্চ্ছনার
অন্তর্গত স্বরগুলিকে কত রকম ভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রূপ দেওয়া যায় তাই
দেখানো। অহোবল, এই প্রস্তারসমূহের সংখ্যা নির্দেশ করেছেন ৩,৭২৬,০০০।
অর্থাৎ, ১৮১ সূত্রে ষাড়ব মূর্চ্ছনার যে সমষ্টি দেখানো হয়েছে সেই
৩১,০৫০ সংখ্যাটিকে ছয় দ্বারা ভাগ করলে, এক একটি স্বরের মূর্চ্ছনার
সংখ্যা হবে, ৩১,০৫০ ÷ ৬ = ৫১৭৫। তারপর, এই ৫১৭৫ সংখ্যাটিকে কূট-
তানের ৭২০ সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে, ফল হবে, ৩,৭২৬,০০০। বলা-
বাহুল্য, গ্রন্থকার ৭২০ সংখ্যাটির দ্বারা কূটতানের উল্লেখ করেছেন, কিন্তু,
কথাটার মর্মার্থ সূত্রটির মধ্যে স্থান পায় নি। তান দু’ রকমের হয়। শুদ্ধ ও
কূট। সঙ্গীত রত্নাকর বলেন : তানাঃ স্যু মূর্চ্ছনাঃ শুদ্ধাঃ ষাড়বৌড়ুদ্বিতী-
কৃতাঃ।……অসম্পূর্ণাশ্চ সম্পূর্ণা ব্যুৎক্রমোচ্চারিতস্বরাঃ। অর্থাৎ, শুদ্ধ মূর্চ্ছনা
যদি ষাড়ব ও ঔড়বে পরিণত হয়, তাহলে, তাকে শুদ্ধতান বলা যেতে
পারবে। এবং, যদি মনে হয়, কোন অসম্পূর্ণ বা সম্পূর্ণ মূর্চ্ছনার অন্তর্গত
স্বরগুলি অযথা সাজানো হয়েছে, তাহলে, বুঝতে হবে, সেইগুলি কূটতান।
যেমন, সা-রে-গা, এই তিনটি স্বরের অসম্পূর্ণ মূর্চ্ছনা ছ’ রকম কূটতানে পরিণত
হ’তে পারে। যথা—সারেগা, রেগাসা, গাসারে, রেসাগা, সাগারে ও গারেসা।
ঔড়বা অথ কথ্যন্তে শুদ্ধেষু বিকৃতেষ্বপি ॥ ১৮৪
দ্বয়োদ্বয়োঃ পরিত্যাগাৎ ক্রমাদ্ভেদা মনীষিণঃ।
ঔড়বানাং বিশুদ্ধানামবদন্ পঞ্চসপ্ততিম্ ॥ ১৮৫
অতঃপর, শুদ্ধ ও বিকৃত স্বরযুক্ত ঔড়ব মূর্চ্ছনার কথা বলা যাচ্ছে। জ্ঞানী-গুণীরা