सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
ग्राम, मूर्च्छना, वर्ण एवं अलंकार प्रकरण (अध्याय ३-४)
পুরুষেই। ডাগুরবাণীর উদ্ভাবক ছিলেন প্রখ্যাত হরিদাস ডাগুর। নৌহার
বাণীর উৎপত্তি হয়েছিল, সিংহের গুরু-গম্ভীর পদচারণার অনুকরণে। ইত্যাদি।
বলাবাহুল্য, এই চার রকম বাণীর অস্তিত্বও বর্তমানে বিলুপ্ত। অবশ্য,
প্রাচীনপন্থী ধ্রুপদীয়াদেব কেউ কেউ তাঁদের ঘরোয়ানার কৌলীন্য প্রমাণ করবার
অভিমান নিয়ে বলে থাকেন,—আমাদের গান অমুক বাণীর। কিন্তু বৈশিষ্ট্যের
প্রশ্ন উঠলেই তাঁরা ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠ। ছাড়া আব কিছুই প্রকাশ করতে পারেন
না। যাই হোক, এই বাণী চতুষ্টয়ের ক্রিয়াসিদ্ধ অংশসমূহ, বর্তমানে, কারুর
পক্ষে পরিবেশন ক'রে শোনানো সম্ভবপর না হলেও, এগুলি যে প্রাচীন শুদ্ধা,
ভিন্না প্রভৃতি গীতি-পদ্ধতির অনুকরণেই প্রবর্তিত হয়েছিল এবং উভযের মধ্যে
সামঞ্জস্যও যে কিছু কিছু ছিল, সে সম্বন্ধে সন্দেহ নেই। যেমন—
ডাগুরবাণীব সঙ্গে শুদ্ধা গীতি-পদ্ধতিব সামঞ্জস্য ছিল।
গণ্ডবাব (গোয়ালীযর ?) বাণীব মধ্যে অভাব ছিল শুধু স্বর-উল্লঙ্ঘন বা বক্র
প্রয়োগেব, নচেৎ, এর আব সব কিছুই প্রাচীন ভিন্না গীতি-পদ্ধতির
অনুরূপ ছিল।
খাণ্ডারবাণীর সঙ্গে গৌড়ী পদ্ধতিব সামঞ্জস্য ছিল।
নৌহাববাণীব সঙ্গে সামঞ্জস্য ছিল বেসবা পদ্ধতির।
পাঠক লক্ষ্য করবেন, প্রাচীন গীতি-পদ্ধতি বা মধ্যযুগীয় বাণীর মূল তত্ত্বটি
হচ্ছে—সব রাগকে সব পদ্ধতির সাহায্যে পরিবেশন করবার উপায় ছিল না।
দরবারি তোডির মত গুরু গম্ভীর রাগকে নিরঙ্কুশ নৌহারবাণী বা বেসরা
পদ্ধতি অথবা খাণ্ডারবাণী বা গৌড়ী পদ্ধতিব সাহায্যে পরিবেশন করা
অসম্ভব ছিল। অপরপক্ষে, যে রাগের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে বক্র-স্বর প্রয়োগের
ওপর, সে সব বাগকে কিছুতেই খাঙারবাণী বা শুদ্ধা পদ্ধতির সাহায্যে ফুটিয়ে
তোলা সম্ভবপর ছিলনা। সুতরাং, বর্তমানে যে পদ্ধতির ধ্রুপদ গান বা
বীণ্কারী বাজ্ শুন্তে পাওয়া যায়, তাকে, কোনরকমে, প্রাচীন সাধারণী
গীতি-পদ্ধতির মতো একটা মিশ্র পদ্ধতির অন্তর্গত বিষয়বস্তু ছাড়া আব
কিছুই বলা চলে না।
পারিজাত পাঠক এখানে স্মরণ রাখবেন, আলোচ্য গীতি-পদ্ধতিগুলির
সঙ্গে, এখানে, রত্নাকবের সামঞ্জস্যেব কথাই বলা হলো--পারিজাতের নয়।
রত্নাকরের সঙ্গে পারিজাতের গীতি-পদ্ধতিগুলিব যে যৎসামান্য অসমঞ্জস্য
পরিলক্ষিত হয়, সে কথাও আমরা টিপ্পনীর প্রারম্ভেই উল্লেখ করছি। ৩৩৮
১২৬ সঙ্গীত পারিজাত
রঞ্জকঃ স্বরসন্দর্ভো রাগ ইত্যভিধীয়তে।
সর্ব্বেষামপি রাগাণাং সময়োঽত্র নিরূপ্যতে ॥ ৩৩৯
যা লোক-রঞ্জক, অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের ভাল লাগে, এমনভাবে স্বর-রচনা
করাকেই রাগ বলে। এইবার, আলোচ্য গ্রন্থে আলোচিত রাগগুলি গাইবার
সময় নির্দেশ করা যাচ্ছে। ৩৩৯
ধনাশ্রীর্মালবশ্রীশ্চ রক্তহংসো বসন্তকঃ।
দেশাখ্যো দেশকারী চ ভূপালী প্রসভস্তথা ॥ ৩৪০
মধ্যমাদিঃ কোল্হাসো বঙ্গালী ভৈরবস্তথা।
নারায়ণী বিভাসশ্চ প্রাতর্গেয়া ইমে বুধৈঃ ॥ ৩৪১
ধনাশ্রী, মালবশ্রী, রক্তহংস বসন্ত, দেশাখ্য, দেশকারী, ভূপালী, প্রসভ,
মধ্যমাদি, কোলহাস, বঙ্গালী, ভৈরব, নারায়ণী ও বিভাস,—এই রাগগুলিকে
প্রাতঃকালে পরিবেশন করতে হয়। ৩৪০-৩৪১
গূর্জ্জরী রেবগুপ্তিশ্চ কৌমারী কজ্জলী তথা।
শঙ্করাভরণস্তোড়ী সোরঠী রামকৃৎতথা ॥ ৩৪২
নাদরামক্রিয়ারাগো বেলাবলী কুড়ায়িকা।
গুণকরী জয়শ্রীশ্চ তথৈব শিববল্লভা ॥ ৩৪৩
এতে রাগা প্রগীয়ন্তে প্রথম প্রহরোত্তরম্ ॥ ৩৪৪
গূর্জরী, রেবগুপ্তি, কৌমারি, কজ্জলী, শঙ্করাভরণ, তোডি, সোরঠী, রামক্রী,
নাদরামক্রী, বেলাবলী, কুড়ায়িকা (কুডাই) গুণকরী, জয়শ্রী ও শিব-বল্লভা
—এই রাগগুলিকে, বেলা প্রথম প্রহর উত্তীর্ণ হয়ে যাবার পর পরিবেশন
করতে হয়। ৩৪২-৩৪৪
হংসাখ্যো দীপকো রাগঃ কাম্বোধী কঙ্কণস্তথা।
সারঙ্গো দেবগান্ধারো রাগো দেবগিরিঃ পরা ॥ ৩৪৫
check the weights:
1: কল্ (guru)
2: যা (guru)
3: ণা (guru)
4: থ (laghu) or থা?
If 4 is guru (থা), then 5 must be laghu (ব), 6 guru (রা), 7 guru (লী)!
Pathyā rule: in odd pada, syllables 5, 6, 7 are often ~ - - (laghu, guru, guru) or ~ - ~ !
Here: 5 is ব (laghu), 6 is রা (guru), 7 is লী (guru)!
That is the CLASSIC Pathyā ending: laghu-guru-guru (ব-রা-লী)!
And syllable 8 is চ!
Now, what are syllables 1 to 4?
1: কল্
2: যা
3: ণা
4: থ or থা?
If 4 is থ, then:
কল্ (1), যা (2), ণা (3), থ (4), ব (5), রা (6), লী (7), চ (8)!
Wait, but if 4 has an া, then:
কল্ (1), যা (2), ণা (3), থা (4), ব? Wait, if 4 is থা, where is ব?
Look at the print:
Did the typesetter misprint it as কল্যাণাথাবালী or কল্যাণাথান্বালী
১২৮ সঙ্গীত পারিজাত
সৈন্ধবো মেঘরাগশ্চ মল্লারী পঞ্চমস্তথা।
নীলাম্বরী মুখারা চ ভৈরবী ললিতস্তথা॥ ৩৫২
মেঘনাদস্তথা দেশী রাগো মঙ্গল-কোশকঃ।
গৌণ্ডরাগশ্চ মল্লারো রাগ আনন্দ-ভৈরবী॥ ৩৫৩
শঙ্করানন্দ মানব্বৌ রাজধানী চ শর্ব্বরী।
সাবেরী রাগ ইত্যেতাঃ সর্ব্বদা চ সুখপ্রদাঃ॥ ৩৫৪
সৈন্ধব, মেঘ, মল্লারী, পঞ্চম, নীলাম্বরী, মুখারী, ভৈরব, ললিত, মেঘনাদ,
দেশী, মঙ্গলকোশ, গৌণ্ড, মল্লার, আনন্দ-ভৈরবী, শঙ্করানন্দ, মানবী, রাজধানী,
শর্ব্বরী ও সাবেরী—এই রাগগুলিকে দিন বা রাত্রির যে কোন সময় পরিবেশন
করলেও, শুনতে মধুর লাগে। ৩৫২-৩৫৪
অসাধারণধর্ম্মা যে লক্ষণত্বেন কীর্ত্তিতাঃ।
তৈরেব রাগ ভেদাঃ স্যুর্তাংস্ত বক্ষ্যেহত্র কালতঃ॥ ৩৫৫
অতঃপর, প্রত্যেক রাগের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলির কথা (অর্থাৎ যা অপর
রাগে নেই, কেবলমাত্র আলোচ্য রাগেই আছে) বলা যাচ্ছে। এই বৈশিষ্ট্য
বা লক্ষণগুলির সাহায্যেই রাগগুলির বিভিন্নতা প্রতীয়মান হবে। বলাবাহুল্য,
লক্ষণগুলিকে (অহোবলের) সমসাময়িক কালের বিধি-নির্দেশ অনুযায়ীই,—
তাদের পরিবেশন-কালের নির্দেশ সমেৎ বর্ণনা করা যাচ্ছে। ৩৫৫
ন্যাসাংশৌ যত্র নোচ্যেতে তত্র ষড়্জং বিদুর্ধ্বুধাঃ।
আদাবুদ্গৃহ্যতে যেন স তানোদ্গ্রাহকারকঃ॥ ৩৫৬
কোন রাগের মধ্যে ন্যাস ও অংশস্বরের উল্লেখ না থাকলে, বুঝে নিতে
হবে, ওই সব রাগের মধ্যে ষড়্জ স্বরটিই একাধারে ন্যাস ও অংশস্বর
হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অপরপক্ষে, কোন রাগ পরিবেশনার সময় যে
স্বরটি আদিতে উচ্চারিত হবে, অর্থাৎ, সর্বপ্রথম উচ্চারিত হবে, সেই
স্বরটিকেই সেই রাগের উদ্গ্রাহ বা গ্রহস্বর হিসাবে চিনে নিতে হবে। ৩৫৬
টিপ্পনী : ইদানীংকালের রাগ-সঙ্গীতে, গ্রহস্বরের প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃত হয়
না। বর্তমানের সঙ্গীত-শিল্পীগণ, রাগ পরিবেশন করবার সময় সাধারণতঃ
সঙ্গীত পারিজাত ১২৯
ষড়্জ স্বরটিকে ভিত্তি করেই আলাপ আরম্ভ ক’রে থাকেন এবং গুরুত্ব প্রদান
ক’রে থাকেন কেবলমাত্র রাগের বাদী-সম্বাদী, পকড়, চলন্ ও বিবাদীস্বর
প্রয়োগের বৈশিষ্ট্যের ওপরই। অর্থাৎ, প্রাচীন গ্রহ, অংশ, ন্যাস স্বরগুলি
বর্তমানে বাদী, সম্বাদী, অনুবাদীর মধ্যে আত্মগোপন ক’রে সাঙ্গীতিক রূপান্তর
গ্রহণ করেছে। কিন্তু, আগেকার দিনে এ রীতি শাস্ত্রসম্মত ছিল না। তখনকার
দিনে, বিভিন্ন রাগের আলাপ আরম্ভ হতো বিভিন্ন স্বরকে গ্রহ বা গৃহ হিসাবে
কেন্দ্র ক’রেই। ৩৫৬
শুদ্ধ মেলোদ্ভবঃ পূর্ণো ধৈবতাদিকমূর্চ্ছনঃ।
আরোহে গ-নি-বর্জ্জঃ স্যাদ্রাগঃ সৈন্ধবনামকঃ।
আম্রেড়িতস্বরৈর্যুক্তঃ স্ফুরিতেন চ শোভিতঃ ॥ ৩৫৭
ধ সরি মম পপ ধধ। সনি ধধ পম পমা গগ গরিসা। ধ সরি মম গরি গরি
পম গরি। নিনি ধম পম গরি। পপ মগ রিগ গগ রিস॥—ইতি সৈন্ধবঃ।
সর্ব্বকালীয়ঃ। ১।
সৈন্ধব হচ্ছে শুদ্ধ মেল থেকে উদ্ভূত একটি পরিপূর্ণ রাগ। এর মূর্চ্ছনা হচ্ছে
ধৈবতাদি। আরোহণে গা ও নি বর্জিত এবং এর স্বরগুলিকে দু-তিনবার
ক’রে উচ্চারণ করতে হয়। এই রাগে স্ফুরিত গমক প্রয়োগ করলে শুনতে
অত্যন্ত মধুর লাগে। এটি একটি সর্ব্বকাল-গেয় রাগ। ৩৫৭
টিপ্পনী : সৈন্ধব-এর বর্ণনা প্রসঙ্গে পারিজাতকার গ্রহ বা ন্যাস্ স্বরের কোন
উল্লেখ করেন নি। সুতরাং, ৩৫৬ সূত্রের নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের বুঝে নিতে
হবে, এর গ্রহ ও ন্যাসস্বর ছিল ষড়্জ। অতঃপর, অহোবল বলছেন সৈন্ধবের
মূর্চ্ছনা ধৈবতাদি। অর্থাৎ, যে মূর্চ্ছনার আদি স্বর হ চে ধা। অতএব, আমাদের
পক্ষে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, অহোবল এখানে উত্তরায়তা মূর্চ্ছনার কথাই
বলছেন। কারণ, উত্তরায়তা মূর্চ্ছনাতে আমরা ধা স্বরটিকেই আদিতে দেখতে
পাই। কিন্তু, ব্যাপারটা একেবারেই তা নয়। আলোচ্য রাগাধ্যায়ের মধ্যেই
দেখা যাবে, পারিজাতকার রাগের পরিচয় প্রসঙ্গে ষড়্জাদি, ধৈবতাদি প্রভৃতি
মূর্চ্ছনার কথা যেমন বলেছেন, তেমনি আবার উত্তরায়তা, অভিরুদ্গতা
(যেমন, ৪০৮ সূত্রের বেলাবলী রাগটি) প্রভৃতি মূর্চ্ছনার কথাও বলেছেন।
সুতরাং সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক যে, মূর্চ্ছনা প্রসঙ্গে স্বরের নাম উল্লেখ করতে
করতে অহোবল হঠাৎ আবার মূর্চ্ছনার নাম উল্লেখ করতে আরম্ভ করলেন
৯
১৫০ সঙ্গীত পারিজাত
কেন! তাহলে কি, ষড়্জাদি, ধৈবত্যাদি মূর্চ্ছনা ও উত্তরমন্দ্রা, উত্তরারয়তা
প্রভৃতি মূর্চ্ছনা অভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে না? বাস্তবিক ব্যাপারটা তাই।
কারণ, উত্তরারয়তা মূর্চ্ছনার ধা স্বরটিকে সা হিসাবে গ্রহণ ক'রে স্বরান্তর ঘটালে,
—মেলটা আর পারিজাতের শুদ্ধ মেল (বর্তমানের কাফি ঠাট্) থাকে 'না,—
বর্তমানের তোড়ি-ভৈরবীর মতো একটা ঠাট্ হয়ে যায়। অর্থাৎ, উত্তরমন্দ্রা,
উত্তরারয়তা প্রভৃতি মূর্চ্ছনাগুলি যে রাগ-মূর্চ্ছনা নয়—গ্রাম-মূর্চ্ছনা, এই
প্রয়োজনীয় তথ্যটি পারিজাতকার বলে দেন নি। বস্তুতঃ, গ্রাম-মূর্চ্ছনাগুলির
সাহায্যে রাগের কোন কোন স্বর তীব্র বা কোমল, তা বুঝতে পারা যায়
(১০৬-১০৭ সূত্রের টিপ্পনী দ্রষ্টব্য)। কিন্তু, ষড়্জাদি, ঋষভাদি প্রভৃতি নামযুক্ত
মূর্চ্ছনাগুলি হচ্ছে রাগ-মূর্চ্ছনা। এই সব মূর্চ্ছনার সাহায্যে বুঝতে পারা যায়,
মূর্চ্ছনান্তর্গত রাগটির আরোহণ হবে কোন স্বরটিকে আদি করে। যেমন,
আলোচ্য সৈন্ধব রাগটির মূর্চ্ছনা ধৈবত্যাদি। অতএব, বুঝে নিতে হবে, রাগটির
আরোহণ-অবরোহণ ছিল—ধসরমপধ, র্সনধপমজ্ঞরস্। অর্থাৎ, এটি ছিল একটি
ঔড়ব-সম্পূর্ণ (আধুনিক কাফি ঠাটের) রাগ, যেহেতু এর আরোহণে গা ও নি
বর্জ্জিত ছিল। বর্তমানে, সৈন্ধব রাগটি অপ্রচলিত রাগের পর্যায়ভুক্ত। মেল-এর
দিক্ দিয়ে, আমাদের কাফি ঠাটের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকলেও কাফি রাগের সঙ্গে
এর কোন সামঞ্জস্য নেই। বরং, 'প্রাচীন সৈন্ধব এর সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত
সিন্ধুরা রাগটির কিছু সামঞ্জস্য দেখা যায়, যদিও সিন্ধুরাতে, অনেকে শুদ্ধ নি-ও
অল্প পরিমাণে ব্যবহার করে থাকেন।
তুলনাত্মক রাগের আলোচনা প্রসঙ্গে, এখানে, আরও একটা কথা বলে
রাখা প্রয়োজন মনে করি। হিন্দুস্থানী-সঙ্গীত জগতে ঘরোয়ানা ভেদের অন্ত
নেই। অনেক ঘরোয়ানাদার ওস্তাদ এমন অনেক রাগ পরিবেশন ক'রে থাকেন,
যার সঙ্গে উক্ত নামযুক্ত প্রচলিত রাগের চেহারা মেলে না। যেমন, বর্তমানে
প্রচলিত বাগীশ্বরাতে পা দুর্বল। অথচ, সেনী ঘরোয়ানার কোন বিশিষ্ট
ওস্তাদের নিকট থেকে এমন বাগীশ্বরী পাওয়া গেছে, যার বাদীস্বর হচ্ছে পা।
অনুরূপ, প্রচলিত রাগের যেমন রূপ-ভেদ আছে, তেমনি আছে অসংখ্য
অপ্রচলিত রাগের উদাহরণ। বিশদ আলোচনার সুযোগ গ্রহণ করলে, হয়তো
দেখা যাবে, পারিজাত-বর্ণিত রাগগুলির মধ্যে কোন কোনটি অভিন্ন নামে
কিংবা ভিন্ন নামে অবিকল এই সব ঘরোয়ানা রাগ বা অপ্রচলিত রাগগুলির
সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করছে; কিন্তু তুলনাত্মক আলোচনার এ রকম সুযোগ
আমরা গ্রহণ করবো না, গ্রন্থের কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে। রাগাধ্যায় আলোচনা
প্রসঙ্গে, আপাততঃ, আমরা কেবল প্রচলিত রাগের সঙ্গেই পারিজাত-বর্ণিত
রাগের তুলনা করবার চেষ্টা করবো, যেমন, সৈন্ধব বর্তমানে প্রচলিত সিন্ধুরাগে
রূপান্তরিত হয়েছে। ৩৫৭
আরোহে রি ধ-হীনা স্যাৎ পূর্ণা শুদ্ধস্বরৈর্যুতা।
গান্ধারস্বরপূর্ব্বা স্যাৎ ধনাশ্রীর্মধ্যমান্তকা ॥ ৩৫৮
গম পনি স। রিস নিধ পম। গম পম গরিস। গম পনি পনি সরি সনি সনি
ধ্য পম। গম পম পমা গম গরি স। গম গম পনি পনি সগ সম। পম পম
গরিস। নিধ পম। গম পম পগ রিস পনি সরি সনি সস। ইতি সম্পূর্ণ-ধনাশ্রীঃ।
প্রাতঃকালীয়া। ২।
সম্পূর্ণ-ধনাশ্রী হচ্ছে একটি ঔড়ব-সম্পূর্ণ রাগ। এর আরোহণে রে ও ধা স্বর
বর্জিত। এর মূর্চ্ছনা গান্ধারাদি এবং এর গ্রহ ও ন্যাসস্বর হচ্ছে, যথাক্রমে,
গা ও মা। এটি একটি প্রাতর্গেয় রাগ। ৩৫৮
টিপ্পনী : বর্তমানে, ধনাশ্রী রাগটি প্রচলিত না হলেও, অপরিচিত নয়।
আজকের দিনেও অনেক রকম ধনাশ্রীর পরিচয় পাওয়া যায়। তার মধ্যে,
একটি অবিকল পারিজাতের ধনাশ্রীর মতো কাফি ঠাটের ঔড়ব-সম্পূর্ণ রাগ।
এই ধনাশ্রীটির বাদী-সমবাদী পা-সা। তবে, এ রাগটি দিবা দ্বিতীয় প্রহরে
গেয় রাগ। অপরপক্ষে এও উল্লেখযোগ্য যে, পারিজাতের এই ধনাশ্রীটির সঙ্গে
বর্তমানে প্রচলিত ভীমপলাসী বা ভীমপলশ্রী রাগটির সম্পর্কও অতি ঘনিষ্ঠ।
পারিজাতের রাগগুলির স্বর-পরিচিতিও লক্ষণীয়। পাঠক লক্ষ্য করবেন, সনি
বা গম অনেক জায়গায় সানি বা গামা রূপে চিহ্নিত হয়েছে। অনুরূপ, সস-ও
আছে। এই চিহ্নগুলির তাৎপর্য এই যে, সস যদি দু'মাত্রা যুক্ত হয়, তাহলে,
[L23
১৩২ সঙ্গীত পারিজাত
ষাড়ব-ধনাশ্রীঃ। ৩।
ঔড়ুব-ধনাশ্রীঃ। ৪।
টিপ্পনী : এই রাগদুটি বর্তমানে একেবারেই অপ্রচলিত মনে হয়। তবে,
বর্তমানে প্রচলিত ধানীর সঙ্গে এই দু'টি রাগের সামঞ্জস্য লক্ষ্যণীয়। ৩৫৯
ষড়্জাদিমূর্চ্ছনোপেতঃ ষড়্জত্রয় সমন্বিতঃ।
গ-নি-হীমোহপি মল্লারো বর্ষাসু সুখদায়কঃ॥ ৩৬০
যতো বর্ষাসু গেয়োহয়ং মেঘ ইত্যপি কীর্তিতঃ।
অকালরাগগানেন জাতদোষং হরত্যয়ম্॥ ৩৬১
সসা সারি মপ ধস সধ পম রিস | সস রিম রিম পধ ধসা সাধ পধ—
রিস সাসা ধস সপ ধধ মম রিসা | সস রিম রিম পম রিস রিস—
রিস রিধ সসা॥ ইতি মেঘোমাল্লারোহপি। সর্বদা। ৫।
মল্লার রাগের মূর্চ্ছনা ষড়জাদি। এর গ্রহ, অংশ এবং ন্যাসস্বর হচ্ছে
ষড়জ। গ। ও নি একেবারেই বর্জিত। বর্ষাকালে পরিবেশন করলে রাগটি খুব
সুন্দর শুনতে লাগে এবং বর্ষাকালে-গেয় রাগ বলেই, মল্লার রাগটি মেঘ নামেও
অভিহিত হয়ে থাকে। এই রাগটির আরও এক বিশেষত্ব এই যে, অকালে বা
অসময়ে কোন রাগ পরিবেশন করার ফলে যে অসান্দীতিক অবস্থার উদ্ভব
হয়,—মেঘ তথা মল্লার পরিবেশন করার ফলে তার নিরসন ঘটে। অর্থাৎ
রাগটি সর্বকালীন-গেয় রাগ। ৩৬০-৬১
টিপ্পনী : মেঘ, মেঘ-মল্লার ও মল্লার নামক তিনটি রাগ বর্তমানে প্রচলিত
আছে। কিন্তু এদের রূপের সঙ্গে পারিজাতের মেঘ-মল্লারের সামঞ্জস্য নেই।
অনেকের মতে, মেঘ ও মেঘ-মল্লার অভিন্ন রাগ। পণ্ডিত ভাতখণ্ডেও অনুরূপ
অভিমত পোষণ করতেন। পারিজাতের মতানুযায়ী মেঘ বা মল্লার শুদ্ধ অর্থাৎ
ইদানীংকালের কাফি ঠাটের অন্তর্গত ঔড়ুব জাতীয় রাগ। ভাতখণ্ডেজীর
মতানুযায়ীও মেঘ-মল্লার কাফি ঠাটের অন্তর্গত ঔড়ব জাতীয় রাগ। এর বাদী-
সমবাদী স্বর সা ও পা। বর্জিত স্বর ধা ও গা এবং দু'টি নিষাদই ব্যবহৃত হয়ে
থাকে। যথা :—স, মর, মপ, ণপ, র্নর্স, র্সণপ, মর, সন্র্স। ৩৬০-৬১
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য যে, সেনী ঘরোয়ানায় শুদ্ধ-মল্লার নামক একটি রাগ
প্রচলিত আছে এবং তার সঙ্গে পারিজাতের মেঘ বা মল্লারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
পরিলক্ষিত হয়।
প্রচলিত দুর্গা নামক ( বেলাবল ঠাটের ) রাগটির সঙ্গেও পারিজাতের মেঘ
বা মল্লারের কিঞ্চিৎ সামঞ্জস্য দেখা যায়। ৩৬০-৬১
নীলাম্বরী তু সম্পূর্ণা ষড়জপূর্ব্বকমূর্চ্ছনা।
শুদ্ধমেলসমুদ্ভূতা বহুকম্প মনোহরা ॥ ৩৬২
অংশন্যাসৌ প-মৌ যত্র গ-রী স-নী তথৈব চ
ষড়জাৎ পঞ্চম উদ্গানং পঞ্চমাৎ স-স্বরে পুনঃ॥ ৩৬৩
সরি, গম, পধ, নিসা, সনি, ধপ, মপ মাস রিগ মপ
মাগ, রিগ মপ মরি গস পপ প্প পস পপম প্প
পম। প্প্ পম প্প্প মনি ধপ মগ রিগ মপস
সরি গম সপ ধনি ধপ মগরি গম পম গরিসগা পগা
গরি গমা গা গরি সরিসা সম্ম্ নিসম্ম্ সনি ধনি
সরি সনি সসা। ইতি নীলাম্বরী। সর্ব্বদা। ৬
নীলাম্বরী হচ্ছে শুদ্ধ মেল্ থেকে উদ্ভূত একটি সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ। এর মূর্চ্ছনা
ষড়জাদি। বিবিধ প্রকারের কম্পন ও গমকের সাহায্যে পরিবেশন করলে
রাগটি শুনতে মধুর লাগে। এর পা-গা-সা স্বর তিনটি হচ্ছে অংশস্বর এবং
ন্যাসস্বর হচ্ছে, যথাক্রমে, পা-র স্থলে মা, গা-র স্থলে রে ও সা-র স্থলে নি।
এই রাগটির সঙ্গতি হয় যথাক্রমে, সা-পা ও পা-সা। ৩৬২-৬৩
টিপ্পনী : পারিজাতের নীলাম্বরী শুদ্ধ মেল্-এর রাগ, অর্থাৎ বর্তমানের কাফি
ঠাটের রাগ। ইদানীংকালেও নীলাম্বরী নামক একটি রাগ প্রচলিত আছে।
কিন্তু, ভাতখণ্ডের মতানুযায়ী সেটি একটি কাফি ঠাটের রাগ হলেও, তাতে দুই
গা ও দুই নি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমানের নীলাম্বরীর বাদী-সমবাদী স্বর
হচ্ছে রে ও পা। আরোহণে গা-নি বর্জিত, সুতরাং ঔড়ুব-সম্পূর্ণ জাতীয়
রাগ এবং রাত্রি দ্বিতীয় প্রহরে গেয়। আরোহণ-অবরোহণ হচ্ছে।—
সরমপধর্স র্সণধপমজ্ঞরস্। পকড়, মগমপমজ্ঞরস, র্সনর্দরর্সণধপ। ৩৬২-৬৩
রি-হীনা মালবশ্রীঃ স্যাৎ শুদ্ধ মেল স্বরোদ্ভবা।
মধ্যমাদিস্বরোদগ্রাহা ধাংশযুক্তাস্যপা স্মৃতা ॥ ৩৬৪
▸ মপ ধনি সগ সনি সনি ধধপ ধধধ পম পপ মমগ সা ধধধ প মম পাপা।
নিধ নিস মম গস গস নিস নিনি ধপ ধধ পম পাপা মাগস নিধনি স স। ইতি
মালব-শ্রীঃ প্রাতঃকালীয়। । ৭ ।
১৫৪ সঙ্গীত পারিজাত
মালবশ্রী রাগটি শুদ্ধ মেল্-এর শুদ্ধ স্বরযুক্ত রাগ। এর রে স্বর বর্জিত। মা
হচ্ছে এর আদি বা উদ্গ্রাহ স্বর; ধা অংশস্বর এবং পা ন্যাসস্বর। ৩৬৪
টিপ্পনী: পারিজাতের মালবশ্রী ছিল শুদ্ধ মেল্-এর অর্থাৎ কাফি ঠাটের
ষাড়ব-ষাড়ব জাতীয় রাগ; কিন্তু বর্তমানে মালবশ্রী নামক যে অর্দ্ধ-প্রচলিত
রাগটি রয়েছে, সেটি পূর্বী ঠাটের, সায়ং-গেয়, ষাড়ব-সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ।
•বর্তমানের মালবশ্রীকে অনেকে মালবীও বলে থাকেন। এর আরোহণ
অবরোহণ হচ্ছে সঋগমপক্ষদর্স র্সনদপক্ষমপঋগমঋস। মালবশ্রী প্রসঙ্গে মৎ প্রণীত
'ভারতীয় সঙ্গীত পরিচিতি' গ্রন্থে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। ৩৬৪
গ-হীনো রক্তহংসঃ স্যাদারোহে নি-স্বরোজ্ঝিতঃ।
অবরোহে ধ-বর্জ্যঃ স্যাৎ ষড়জপূর্ব্বক মূর্চ্ছনঃ॥ ৩৬৫
সরি মপ ধস সনি পম রিস। সারি মপধ সারি মপধ পধা পপ পমা রিম রিস
*ধসসা। ইতি রক্তহংসঃ। প্রাতঃকালীয়ঃ। ৮
রক্তহংস একটি গা বর্জিত রাগ। কিন্তু, ষাড়ব-ষাড়ব জাতীয় রাগ নয়।
এর আরোহণে নি ও অবরোহণে ধা বর্জিত হয়। সুতরাং এর আসল রূপ
ঔড়ব-ঔড়ব। এর মূর্ছনা ষড়জাদি। ৩৬৫
টিপ্পনীঃ প্রাচীন রক্তহংস কাফি ঠাটের রাগ ছিল। কিন্তু, বর্তমানে এই
নামে কোন রাগ প্রচলিত নেই। ৩৬৫
রি-স্বরাদিপ্সুরারম্ভা রি-কোমল ধ-কোমলা।
গ-তীব্রা সা নি-তীব্রা চ গৌরীয়ংশস্বরা মতা॥
আরোহে গ-ধ-হীনা সা নি-কম্পন মনোহরা॥ ৩৬৬
আরোহে যদি গান্ধারো মধ্যমাবধি মূর্চ্ছনা॥ ৩৬৭
রিম পনী সানিধপ সগ রিগ রিসা। নিস রিমা গরি গরি সানি নিস নিস।
নিধ পম পস ধপ মপ মগ রিগ রিসা নীসা নীসা। মপ ধপ মগ রিস নীসা। রিম
পম গরি মগরি নীসা। রিমা গরি গরি সানী সানি ধপম গরি সনী সা। রি
রিগা মগরি সাম স সমা। ইতি গৌরী। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৯।
গৌরীর মূর্ছনা ঋষভাদি। ঋষভই এর গ্রহস্বর। এর ঋষভ ও ধৈবত
কোমল এবং গান্ধার ও নিষাদ তীব্র। নি এর অংশস্বর। রাগটির আরোহণে
গা ও ধা বর্জিত এবং নি স্বরটিকে কম্পিতভাবে প্রয়োগ করলে শুনতে মধুর
সঙ্গীত পারিজাত ১৩৫
লাগে। অধিকন্তু, যদি গৌরীর আরোহণে গা স্বরটিকে প্রয়োগ করতে হয়,
তাহলে, মধ্যম পর্যন্ত মূর্চ্ছনার আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে। ৩৬৬-৩৬৭
টিপ্পনী : দেখা যাচ্ছে, পারিজাতের গৌরী, বর্ত্তমানের ভৈরো ঠাটের অন্তর্গত
ছিল, যেহেতু, রাগটির স্বর ছিল ঋ গ দ ন। ইদানীংকালেও, গৌরী খুব
অপ্রচলিত নয়। তবে, দু'রকম ঠাটের গৌরী পাওয়া যায়। একটি পারিজাতের
অনুরূপ ভৈরো ঠাটের ও অপরটি পূর্বী ঠাটের। পারিজাতের গৌরী ছিল
আরোহণে গা-ধা বর্জ্জিত ঔড়ুব সম্পূর্ণ রাগ। একালের ভৈরো ঠাটের গৌরীও
হচ্ছে আরোহণে গা বা বর্জ্জিত ঔড়ুব-সম্পূর্ণ রাগ। এর আরোহণ অবরোহণ
হচ্ছে—সঋমপনর্স। র্সনদপমগমঋস। বাদী-সমবাদী হচ্ছে ঋ-পা। অধিকন্তু,
ভৈরো ঠাটের রাগ হলেও এ গৌরীটি সায়ংকালীন রাগ। ৩৬৬-৩৬৭
গৌরীমেলসমুদ্ভূতা মল্লারী নি স্বরোজ্ঝিতা।
স্যাদারোহণে গ-হীনা স্যাৎ ষড়্জাদি স্বরসম্ভবা ॥ ৩৬৮
সরি মপ ধমরি। সরি সপ পম পধ গরি সরি রিম সরি সরি মপ মগরি স রিম
সধ প,স্ধপা সধা। রি পধম পধ ধসস রি রি রি রি মগ রিস ধস সধ পম পা মগ
রিস সধ সস্। ইতি মল্লারী। সপদা। ১০।
মল্লারী রাগটির উৎপত্তি হয়েছে গৌরী মেল থেকে। নি স্বরটি বর্জ্জিত
হওয়ার কারণে, এটি একটি ষাড়ব জাতীয় রাগ। অধিকন্তু, এর আরোহণেও
গা বর্জ্জিত হয়। সুতরাং এটি একটি ঔড়ুব-ষাড়ব জাতীয় রাগ। এর মূর্চ্ছনা
ষড়্জাদি এবং এর গ্রহস্বর হচ্ছে সা। ৩৬৮
টিপ্পনী : দেখা যাচ্ছে, পারিজাতে মল্লার ও মল্লারী নামক দু'টি রাগের উল্লেখ
রয়েছে। মল্লারের পরিচয় মেঘ-মল্লার প্রসঙ্গে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সামান্য
একটি দীর্ঘ ঈকার যুক্ত হওয়ার ফলে, আলোচ্য মল্লারী রাগটি সম্পূর্ণ অন্য রূপ
পরিগ্রহ করেছে। মল্লার কাফি ঠাটের রাগ, কিন্তু মল্লারী হচ্ছে গৌরী
মেল-এর রাগ অর্থাৎ ভৈরো ঠাটের রাগ। বলাবাহুল্য, বর্ত্তমানে নির্ব্বংশ
মল্লার ও মল্লারযুক্ত অনেক রকমের রাগ প্রচলিত আছে, কিন্তু, আলোচ্য
মল্লারীর মতো ভৈরো ঠাটের অন্তর্গত কোন রকম মল্লার প্রচলিত আছে বলে
আমাদের জানা নেই। ৩৬৮
পঞ্চমো রি-প-হীনঃ স্যাৎ তীব্র গঃ সাদিমঃ স্মৃতঃ।
মধ্যমন্যাসসংযুক্তো মধ্যমাংশেন শোভিতঃ ॥ ৩৬৯
১৩৬ সঙ্গীত পারিজাত
সগ মধ নিস সনি ধস গম গসম গমা। ধনি সস গস গম গম সনি ধনি সনি
ধনিম। সনি সনি ধম গস গম গম গস। নিধ নিস ধা মমা গস নিধ নিসা সা।
ইতি পঞ্চমঃ। সৰ্ব্বদা। ১১
পঞ্চম রাগে রে ও পা স্বর বর্জ্জিত। গা স্বরটি তীব্র। সা হচ্ছে এর গ্রহ-
স্বর এবং মা হচ্ছে এর ন্যাস ও অংশস্বর। ৩৬৯
টিপ্পনী : পারিজাতের পঞ্চম বাগের স্বব ছিল সগমধণর্স। র্সণধমগস।
বর্তমানেও অনেক রকমের পঞ্চম প্রচলিত আছে। এদের মধ্যে সব চাইতে বেশী
প্রচলিত যেটি, সেটি মারূবা ঠাটের ষাড়ব জাতীয় রাগ। রাগটি পা বর্জিত।
ব্যবহার দুই মধ্যম। বাদী-সমবাদী মা ও সা। গভীর রাত্রে গেয়। রূপ
হচ্ছে, সম ঽগ ঽধনধ র্স। র্সনধ ঽমগ ঽগঽস। বলাবাহুল্য, এই পঞ্চমের
সঙ্গে পারিজাতেন পঞ্চমেব কোন সাদৃশ্য নেই। পারিজাতের পঞ্চম ছিল রে-পা
বর্জিত খাম্বাজ ঠাটের রাগ। বর্তমানেও, এক রকমের রে-পা বর্জিত অপ্রচলিত
পঞ্চম রাগের সন্ধান পাওয়া যায়—যার নিষাদ হচ্ছে শুদ্ধ। অর্থাৎ বিলাবল
ঠাটের পঞ্চম। সুতরাং, পারিজাতের পঞ্চম বর্তমানে নিঃশেষ বিলুপ্ত।
পঞ্চম সম্বন্ধে মৎ প্রণীত 'ভাবতীয় সঙ্গীত পবিচিতি' গ্রন্থে বিশদ আলোচনা করা
হয়েছে। ৩৬৯
ষড়জাদিমূর্চ্ছনে মাংস্তে গ-না তীব্রৌ বসন্তকে ॥ ৩৭০
সরি গম পধ নিস সানি ধপ মপ মগম। গম পধ নিধ ধপ মপ মমা গসা।
সরি গম পধ সবি গম পম গরি সস নিধ পধ পম পম মগ মগ মপ মধ ধপ গরি
সনি ধনি সসা। ইতি বসন্তঃ। প্রাতঃকালীয়। ১২।
বসন্ত রাগের মূর্চ্ছনা ষড়জাদি। এর ন্যাসস্বর মা এবং গা ও নি
স্বর তীব্র। ৩৭০
টিপ্পনী : পারিজাতের বসন্ত ছিল প্রাতর্গেয় বিলাবল ঠাটের রাগ। এর
সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত বসন্তর কোনই সামঞ্জস্য নেই। বর্তমানে, সর্বাধিক
প্রচলিত বসন্তের দু’রকম রূপ পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে সগমগম্দনর্স।
র্সনদপম্গপদপন্মমগম্গম্গঽস। অর্থাৎ পূৰ্বী ঠাট্। অপরটি হচ্ছে পা বর্জিত
মারূবা ঠাটের বসন্ত। যথা :—সমগম্ঽধনর্স। র্সনধঽধনধমগম্ঽস। অবশ্য, বসন্ত-যুক্ত
কিছু অপ্রচলিত রাগ আছে, এবং তার মধ্যে বিলাবল ঠাটেরও রাগ আছে।
কিন্তু, আলোচ্য ক্ষেত্রে সেগুলির তুলনামূলক আলোচনা নিরর্থক। এ সম্বন্ধে, মৎ
প্রণীত 'ভারতীয় সঙ্গীত পরিচিতি' গ্রন্থে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। ৩৭০
সঙ্গীত পারিজাত ১৩৭
রি-তীব্রতরসংযুক্তো গ-তীব্রেনাপি সংযুতঃ।
ধ-গ-বর্জ্জোঽবরোহে স্যাদ্গান্ধার স্বরমূর্চ্ছনঃ।
তীব্রো যত্র নিষাদঃ স্যাদ্দেশাখ্যঃ স বিরাজতে ॥ ৩৭১
গপ ধস সসনি পম মম রিস গগ পপ প গপ ধস মম পস মম ধিস রিস সনি
পগ পধস সমা। ধিনী পাম মম রিস সনি পগ পধ সসা। ইতি দেশাখ্যঃ।
প্রাতঃকালীয়ঃ। ১৩
যে রাগটি দেশাখ্য নামে বিরাজিত (অহোবলের আমলে) সে রাগটির
রে স্বর তীব্রতর, গা ও নি তীব্র, অবরোহণে ধা ও গা বর্জিত এবং মূর্চ্ছনা
গান্ধারাদি। ৩৭১
টিপ্পনী : দেশাখ্যর রে স্বরকে তীব্রতর বলা হ'য়েছে মূচ্ছনার কারণে।
অর্থাৎ, পারিজাতের তীব্রতর রে ও শুদ্ধ গা অভিন্ন এবং পারিজাতের শুদ্ধ
গা = আমাদের কোমল গা। অতএব দেশাখ্যর স্বর হচ্ছে গমপধনসঁ-
সঁনপমজ্ঞস। অর্থাৎ, দেশাখ্য রাগে রে বর্জিত ছিল এবং দুই গা ব্যবহৃত
হ'তো। বর্তমানেও দেশাখ্য রাগটি খুব অপ্রচলিত নয়, তবে, পারি-
জাতের সঙ্গে তার অনেক পার্থক্য। বর্তমানের দেশাখ্য কাফি ঠাটের
ষাড়ব-ষাড়ব রাগ। বর্জিত স্বর ধা। বাদী-সমবাদী প-সা। রূপ হ'চ্ছে
ণ্ স জ্ঞ র পম ণপ সঁ। সঁ ণপ মপ জ্ঞম রস। বর্তমানের দেশাখ্যকে অনেকে
দেওশাখ্যও বলে থাকেন এবং ঘরোয়ান-ভেদে এর রূপও অনেক রকমের
হয়।
এখানে আরও একটি ব্যাপার লক্ষ্য করবার আছে। পারিজাতকার
দেশাখ্যের মধ্যে আরোহণে নি বর্জনের কথা বলেন নি; অথচ, তার স্বর
পরিচিতির মধ্যে নি স্বরের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে না। মধ্যম সম্বন্ধেও
অনুরূপ মন্তব্য প্রযোজ্য। ৩৭১
দেশকার্য্যাং গ-নী তীব্রৌ ধাংশো ধাদিকমূর্চ্ছনা ॥ ৩৭২
ধনি সরি গম পধ নিধ নীধ পম পমা গরী সনী ধধ নিস সম।
গম পধনি ধধ পম পম গরী সনী ধধ রিস সমা। ইতি দেশকারী।
প্রাতঃকালীয়। ১৪ ।
১৩০ সঙ্গীত পারিজাত
দেশকারী রাগের মূর্ছনা ধৈবভাদি। ধা এর অংশ স্বর এবং গা-নি
তীব্র। ৩৭২
টিপ্পনী: পারিজাতের দেশকারী ছিল আধুনিক বেলাবল ঠাটের সম্পূর্ণ
জাতীয় রাগ। বর্তমানেও, দেশকার নামক একটি প্রচলিত রাগ আছে।
এটিও দিবা দ্বিতীয় প্রহরে গেয় রাগ এবং এর ঠাটও বেলাবল। তবে, মা-নি
বর্জিত ঔড়ব-ঔড়ব রাগ। এর বাদী-সমবাদী হচ্ছে ধা-গা এবং রূপ হচ্ছে
সরগপধর্স | সর্ধপগপধপগরস। এ ছাড়াও পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত এক রকমের
দেশকার আছে। কিন্তু, সে রাগটি খুব প্রচলিত নয়। ৩৭২
ঋষভঃ কোমলো যত্র গান্ধারঃ পূর্বসংজ্ঞকঃ।
মুখার্য্যাং ধৈবতোদ্গ্রাহো নি-ধৌ পূর্ব্বাখ্য কোমলো।
আরোহে গ-নি হীনা্যাং ন্যাসাংশৌ ষড়্জপঞ্চমৌ ॥ ৩৭৩
ধস রিম মপ নিনি ধপ মগ গগ রিস রিসস। ধস রিস মপ পধ
সস রিগ গরি রিস নিধ নিনিধ পম পমা গরি সরি . সস ধসস। ইতি
মুখারী। সর্বদা। ১৫।
মুখারী রাগে কোমল রে, পূর্ব গা, পূর্ব নি ও কোমল ধা ব্যবহৃত হয়।
এর গ্রহ স্বর ধা, ন্যাস স্বর সা ও অংশ স্বর পা। রাগটির আরোহণে গা-নি
বর্জিত। ৩৭৩
টিপ্পনী: পারিজাতের পূর্ব গা ও পূর্ব নি শুদ্ধ রে ও শুদ্ধ ধা-এর নামান্তর
মাত্র। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, মুখারীর স্বর ছিল সা ঋ র ম প দ ধ স।
বর্তমানে, উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত সমাজে, মুখারী নামক কোন রাগ প্রচলিত
আছে বলে আমাদের জানা নেই। মুখারী, কর্ণাটিক সঙ্গীতের একটি রাগ ও
ঠাটের নাম। এই ঠাটটিকেই দক্ষিণীরা শুদ্ধ ঠাট বলেন। কিন্তু আমাদের
স্বরবিজ্ঞান অনুযায়ী মুখারী ঠাটের মধ্যে সব শুদ্ধ স্বরকে পাওয়া যায় না।
আমাদের সা ঋ র ম প দ ধ র্স-কেই দক্ষিণীরা যথাক্রমে, শুদ্ধ স্বর হিসাবে,
সা র গ ম প ধ ন র্স বলেন। এদিক দিয়ে বিচার করে দেখলে, পারিজাতের
মুখারী রাগটি যে কর্ণাটিক মুখারীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা রক্ষা করছে, সে সম্বন্ধে
সন্দেহ থাকে না। ৩৭৩
সঙ্গীত পারিজাত ১৩৯
স-স্বরাংশগ্রহন্যাসা ভৈরবী স্যাৎ ধ-কোমলা।
রিণা রোহে তু পন্যাসা পঞ্চ মেনোভয়োরপি।
ষড়জেনাধাবরোহে তু সর্বদা সুখদায়িনী ॥ ৩৭৪
সরি গম পধনি। সনি ধপ মগ রিস। সরি গমা˘ পম গরি সম গরি
গরি সনিধ নিসা। সগ মগ মগ মপ মগ রিস। ধা পম গরিস গরি নিস
গগম গম পম গরিস গগম নিনি ধম গরি সস গরি সনি নিসস। ইতি
ভৈরবী। সর্বদা। ১৬।
ভৈরবীর গ্রহ অংশ ন্যাস স্বর হচ্ছে সা। এর ধা স্বরটি কোমল।
ভৈরবীতে, যদি সা-এর পরিবর্তে রে-কে আশ্রয় করে আরোহণ করা যায়,
তাহলে ন্যাস স্বর হয়ে যাবে পা। আবার যদি পাকে আশ্রয় করে আরোহণ
করা যায়, তাহলে, সা এবং পা দুটি স্বরকেই ন্যাস স্বরূপে পাওয়া যাবে।
বস্তুতঃ রে-কে আশ্রয় করে আরোহণ ও সা́-কে আশ্রয় করে অবরোহণ করলে
ভৈরবী অত্যন্ত শ্রুতিমধুর হয়। ৩৭৪
টিপ্পনী: পারিজাতের ভৈরবীর স্বর ছিল শুদ্ধ। সুতরাং এর স্বরের
সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত আসোয়ারী ঠাটের জৌনপুরী রাগটির স্বরের সামঞ্জস্য
আছে বলা চলে। ৩৭৪
ম-নি-বর্জ্জা তু ভূপালী রি-ধৌ যত্র চ কোমলৌ।
গান্ধারোদগ্রাহসংযুক্তা রি-ন্যাসা গাংশশোভিতা ॥ ৩৭৫
গপ ধসা রিগ রিস সা ধপ গপ গরি গরিসধসা। গপ ধস রিগ রিগ গ
গরি রিরি রিরি গরি গরি সধ ধস সা। ইতি ভূপালী। প্রাতঃকালীয়া। ১৭।
ভূপালীর গ্রহ ও অংশ স্বর হচ্ছে পা। ন্যাস স্বর রে। রে ও ধা কোমল।
মা ও নি স্বর বর্জিত। ৩৭৫ •
টিপ্পনী: পারিজাতের ভূপালীর স্বর ছিল শুদ্ধ। বর্জিত স্বর ছিল মা ও
নি। সুতরাং এই স্বর বর্জনের সামঞ্জস্যটি ব্যতীত, বর্তমানের ভূপালীর সঙ্গে
এর আর কোনই সম্পর্ক নেই বলা চলে। অপরপক্ষে, পারিজাতের ভূপালীর
সঙ্গে একালের ভূপাল-তোড়ীর সামঞ্জস্যটাও লক্ষণীয়। ৩৭৫
ষড়্জাদিমূর্চ্ছনোপেতঃ প্রসন্নঃ পঞ্চমান্বয়ঃ স্থিরঃ ॥ ৩৮০
১৪০ সঙ্গীত পারিজাত
সরি গম ধনি সনি ধম গরিস। গগ রি সনি নিধ নিস নিধধ গরিসা
সরিগমধ নিস। মগরি সনিধ। নিস নিধ নিধম গগরিস নিস সা। ইতি প্রসভঃ।
প্রাতঃকালীয়া। ১৮।
প্রসভ রাগের মূর্ছ'না ষড়জাদি। এই রাগে পঞ্চম স্বরটি বর্জিত। ৩৭৬
টিপ্পনীঃ প্রসভ ছিল কাফি ঠাটের একটি পা বর্জিত রাগ। বর্তমানে
এই নামের কোন রাগ প্রচলিত নেই। কিন্তু, একালের শ্রীরঞ্জনী নামক একটি
অর্দ্ধ-প্রচলিত রাগের সঙ্গে প্রসভের সাদৃশ্য আছে। ৩৭৬
মার্জিতঃ কোলহাসঃ স্যাদ্গান্ধারাদিকমূর্চ্ছনঃ।
অবরোহে চ ধ-বর্জ্যঃ স্যাৎ ষাড়বঃ পরিকীর্তিতঃ॥ ৩৭৭
গপ ধনি সরি গ র সস রিগ রপ গরিস। সরি গপ ধনি রনি পপ গপ
পপ রনি সরি ধনি সনি পগ প, রিগ রিস নিসসা। ইতি কোলহাসঃ।
প্রাতঃকালীয়া। ১৯
কোলহাস রাগের মূর্ছ'না গান্ধারাদি। এ রাগে মধ্যম স্বরটি একেবারে
বর্জিত। অধিকন্তু, অবরোহণেও ধা স্বরটি বর্জিত হয়। ৩৭৭
টিপ্পনীঃ কোলহাস ছিল একটি কাফি ঠাটের ষাড়ব-ঔড়ুব রাগ।
বর্তমানে রাগটি নিঃশেষে বিলুপ্ত। ৩৭৭
ভৈরবে তু রি পৌ নস্তৌ ধাদিমে ন্যাসমধ্যমে।
তত্রোক্তৌ তু গ নী তীব্রৌ কোমলো ধৈবতঃ স্মৃতঃ॥ ৩৭৮
ধনি সগম ধনি সমগ মনি ধনি সনি রনি নিম গম। সগা মধ মগ মগ
মগ সনি ধনি স ধনি নিধ নিসসা। ইতি ভৈরবঃ। প্রাতঃকালীয়া। ২০
ভৈরব রাগের গ্রহস্বর ধা, ন্যাস স্বর মা। এর গা ও নি স্বর তীব্র এবং
ধা কোমল। ভৈরবের বর্জিত স্বর হচ্ছে রে ও পা। ৩৭৮
টিপ্পনীঃ পারিজাতের ভৈরব ছিল ঔড়ুব-ঔড়ুব জাতীয় ভৈঁরো ঠাটের
রাগ। বর্তমানে এ রূপটি প্রচলিত নেই। ৩৭৮
কোমলাখ্যৌ রি-ধৌ তীব্রৌ গ-নী বসন্ত-ভৈরবে।
ধৈবতাংশগ্রহন্যাসে মধ্যমাংশোহপি সংমতঃ॥ ৩৭৯
ধনি সরি গমপা মনি রীসা নীসরি নিস নিধা। ধনিসা। মগ রিস নি
সঙ্গীত পারিজাত ১৪১
সরি নিসা। নিধা ধনী সসম। ধনি সরি গমম। ধধ পমপ মগমম। সরি গম
গরি সনিধনী সাসা। ইতি বসন্ত-ভৈরবঃ। প্রাতঃকালীয়ঃ। ২১।
বসন্ত-ভৈরবের রে-ধা কোমল, গা-নি তীব্র এবং ধা হচ্ছে এর গ্রহ-
অংশ-ন্যাস স্বর। মতান্তরে মা হচ্ছে এর অংশ স্বর। ৩৭৯
টিপ্পনী: পারিজাতের বসন্ত-ভৈরবের সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত ভৈরব
রাগের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। ৩৭৯
মধ্যমাদৌ গ-ধৌ নষ্টৌ মূর্ছ'না মধ্যমাদিকা।
তত্র ত্বংশস্বরাঃ প্রোক্তা রি-ম-নয়ো মুনীশ্বরৈঃ ॥ ৩৮০
মপ নিস রিস রিস নিস নিপ মপ নিপ মপ মরি মরিস। নিস রিম রিস
রিরি রিরি মরিস। সরি সরি নিসা। নিস নিপ মপ মরি মরি সনি সসস।
নিনী পনি সম রিস নিস সা। ইতি মধ্যমাদিঃ। প্রাতঃকালীয়ঃ। ২২
মধ্যমাদি রাগের গা ও ধা স্বর বর্জিত। এর মূর্ছনা মধ্যমাদি। এর অংশ
স্বর হচ্ছে রে, মা ও নি।
টিপ্পনী: পারিজাতের মধ্যমাদির সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত মধ্যমাদি সারং
নামক রাগটির সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। এই সারংটিও ধ-গা বর্জিত ঔড়ব-
ঔড়ব রাগ। এর বাদী-সংবাদী হচ্ছে রে ও পা। ভাতখণ্ডেজীর মতানুযায়ী
এটি একটি কাফি ঠাটের রাগ। কিন্তু, গা বর্জিত রাগ হিসাবে, এটিকে
একটি খাম্বাজ ঠাটের রাগও বলা যেতে পারে। কারণ, এটা পারিজাতের
যুগ নয়। অর্থাৎ বর্তমানের শুদ্ধ ঠাট কাফি নয়, বেলাবল। অতএব, স্বাভাবিক
ভাবেই এই রাগের মধ্যে যে গান্ধারটি বর্জিত হয়েছে, সেটা কোমল নয়,
শুদ্ধ গা। এর রূপ হচ্ছে, সরমপনর্স। সনপমপর্স। এটিও একটি দিবা দ্বিতীয়
প্রহরে গেয় রাগ ৩৮০
বঙ্গালী রি-ধ-হীনা স্যাম্মতীব্রতর সংযুতা।
নি-তীব্রেণাপি সংযুক্তা স-স্বরোত্থিত মূর্ছ'না ॥ ৩৮১
সগম পনি সস নিপ মম গস। সগম প প নিপম পম গম পম গম
গস নিস নিস গস নিস নিপ মপ নি পম পঁম। মনিসা'। ইতি বঙ্গালা।
প্রাতঃকালীয়ঃ। ২৩
, 'ণ' is Komal Nishad (or vice versa).
Wait, in line 4:
"এর মা তীব্রতর ও নি তীব্র।"
Parijat says: Ni is teevra.
In Parijat's terminology:
"তীব্র" Ni = modern Shuddha Ni, or modern Komal Ni?
In Parijat, Ni has four varieties: teevra, teevratara, teevratama, etc. Shuddha Ni of modern is teevratama, Kaishiki (komal) is teevra!
So Parijat's "নি তীব্র" = modern Komal Ni!
Wait, but in line 4 it is printed as 'ন'.
Let's transcribe exactly what is printed, character by character!
Let's do a complete, meticulous read of the entire page line by line:
Line 1:
১৪২ সঙ্গীত পারিজাত
Line 2:
বঙ্গালা রাগটি রে-ধা বর্জিত ঔড়ব হব রাগ এর মূর্ছনা ষড়্জাদি।
Wait, let's look at "ঔড়ব হব রাগ":
Is it "ঔড়ব" or "ঔড়ুব"?
Look at 'ড়': under it there is a u-kar (ঔড়ুব)!
Wait, look at line 14: "ঔড়ব-সম্পূর্ণ" or "ঔড়ুব-সম্পূর্ণ"?
In line 14: "ঔড়ুব-সম্পূর্ণ" - under ড় there is a
আছে। এই নারায়ণীর সঙ্গে পারিজাতের নারায়ণীর রূপ হুবহু মিলে
যায়। ৩৮২
মন্তস্তীব্রতরো যস্মিন্ গ-নী তীব্রৌ রি-ধৌ মতৌ।
কোমলৌ ন্যাসধোপেতে বিভাসে গাদিমূর্চ্ছনে।
আরোহে ম-নি-বর্জ্জিতং গ পাংশস্বরসংযুতে॥ ৩৮৩
গ প ধ স রি গ প ম গা রি স স নি ধ প ধ স স নি ধনি ধপ গপ মগা
রিস সরি সস সনি ধপ ধা পমা পা পা ধমা স নিধ পধা ধা প পমা গমা
রিস। সরি সস নিধ পধ ধসা রিরি সা পমা গা রিসা। ইতি বিভাস।
প্রাতঃকালীয়ঃ। ২৫।
বিভাসের মূর্চ্ছনা গান্ধারাদি। এর আরোহণে মা ও নি বর্জিত।
বিভাসের মা তীব্রতর, গা ও নি তীব্র ও রে-ধা কোমল। এর অংশ স্বর
গা ও পা এবং ন্যাস স্বর ধা। ৩৮৩
টিপ্পনী: পারিজাতের বিভাসের রূপ ছিল গপধসর্ঋ। সর্ন্ধপম্গগ্সস।
অর্থাৎ, পূর্বী ঠাটের ঔড়ব-সম্পূর্ণ রাগ। ইদানীংকালে, প্রচলিত রাগ
হিসাবে দু' রকম বিভাগের পরিচয় পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে বিলাবল
ঠাটের মা বর্জিত ঔড়ব-ষাঢ়ব রাগ ও অপরটি হচ্ছে ভৈরোঁ ঠাটের মা-নি
বর্জিত ঔড়ব-ঔড়ব রাগ। উভয় রাগেরই বাদী-সমবাদী হচ্ছে ধা ও গা
এবং উভয়ই প্রাতঃগেয় রাগ। এ ছাড়াও পূর্বী ও মারবা ঠাটের অন্ত-
র্গত দু' রকমের কড়ি মা যুক্ত অপ্রচলিত বিভাসেরও পরিচয় পাওয়া
যায়। ৩৮৩
তীব্রগান্ধারসম্পন্না মধ্যমোদগ্রাহ-ধান্তিমা।
সাংশস্বরেণ সংযুক্তা কানড়ী সা বিরাজতে॥ ৩৮৪
মপ ধনি সর্ঋ গম গরি সনি ধনি ধনি ধপ মপ ধনি সরি সনি সা নিধা।
সানি ধানি ধপ মপ ধনি সরি সনি সা মপ মপা মগ রিসা নিস নিধা মপ ধনি
সসা। ইতি কানড়ী। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ২৬
কানড়ী রাগের গ্রহস্বর মা, ন্যাস স্বর ধা এবং অংশ স্বর হ'চ্ছে সা।
এর গা স্বরটি তীব্র। ৩৮৪
১৪৪ সঙ্গীত পারিজাত
টিপ্পনী : পারিজাতের কানড়ী ছিল একটি খাম্বাজ ঠাটের সম্পূর্ণ-
সম্পূর্ণ রাগ। বর্তমানে এই নামের বা এই ধরণের কোন রাগ প্রচলিত
নেই। ৩৮৪
রিণা যুক্তঃ কোমলেন মেঘনাদস্তু ষাড়বঃ।
স-স্বর্বাদিদ্বরাবঙ্কো ম-বর্জ্জোঽপি রি গাংশকঃ ॥ ৩৮৫
স রি গ প ধ নি স স নি ধ প প গ গ গ রি স। গ গ গ গরি সনি সরি
সনি সধনি সরিরি গনিস' । প গ প গ র্রি র্রি গ প প গ গ গ রি সরি সনি
সধনি সধনি সরিসনি সধনি দপ ধপ গ গ গ গরি রি রি রি সনি সসা। ইতি
মেঘনাদঃ। প্রাতঃকালীয়ঃ। ২৭।
মেঘনাদ রাগের মূচ্ছনা ষড়জাদি। এর রে স্বরটি কোমল। এর
গ্রহস্বর হ'চ্ছে সা এবং অংশ স্বর হচ্ছে রে ও গা। এটি একটি ম বর্জিত
ষাড়ব রাগ। ৩৮৫
টিপ্পনী : মেঘনাদের রূপ ছিল সঋজ্ঞপধনর্স। বর্তমানে এ রাগটি
অপ্রচলিত। তবে, এর রূপটির সঙ্গে মেঘ-মল্লারী নামক একটি অপ্রচলিত
রাগের সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। ৩৮৫
ষড়্জ-পূর্ব্বা তু তোড়ী স্যাৎ যত্রোক্তৌ কোমলৌ রি ধৌ।
ন্যাসঃ স্যু দৈবতস্তস্যাং গান্ধারাংশেন শোভিতা।
মেনারোহে তু প-ন্যাসা পঞ্চমেনোভয়োরপি ॥ ৩৮৬
স রি গ ম প ধ নি স স নি ধ প ম প ম গ গ গরিস। রিস নিস নিধ ধনি
সরি গার সরি সনি সানিধ। গ গ গ ম গরি গরি সবি নিস নিধ সরি গম পথ
ধপ মগ সগা রিসা। নিস রিরি সনিধা ধনিস। ইতি তোড়ী। প্রথম
প্রহরোত্তরম্। ২৮
তোড়ী রাগের গ্রহস্বর সা, ন্যাস স্বর ধা অংশ স্বর গা। এর রে ও ধ
কোমল। মা-কে গ্রহণ করে আরোহণ করলে এর ন্যাস স্বর হবে পা এবং
পা-কে ভিত্তি করে আরোহণ করলে, পা এবং ধা দুটি স্বরই এর ন্যাসস্বর
হবে। ৩৮৬
টিপ্পনী : পারিজাতের তোড়ীর রূপ ছিল সঋজ্ঞমপদনর্স। অর্থাৎ