सामग्री पर जाएँ
सर्वकोश
संग्रह पर लौटें

सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology

पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा

DevanagariHindipublished358 पृष्ठ

!
Wait, look at the second character of line 4:
IS IT র্স or র্ণ?
Wait, look at the first character:
Wait, does the first character have a reph?
It has a reph! Look at the curl at the top: it's র্!
Wait, is it র্স?
Wait! Look at line 24:
Line 24: র' র্সণধপমজ্ঞরস
Wait! In line 24, it is র' র্সণধ!
R' S' N D!
Now look at line 4:
Could line 4 be র' র্স ধ or র' র্ণ ধ or র' র্স ণ ধ?
Wait, how many characters are before মপধ?
Let's look:

  1. First character
  2. Second character
  3. Third character: ধ
    There are only THREE characters before মপধ!
    Wait, what are those three characters?
    Character 1: র'? Wait, look at the dot in the triangle: it's র. And it has a reph? র্র? No, it's র' with an apostrophe.
    Character 2: It has a reph on top, and the bottom is... wait!
    Could character 1 and 2 be র' and `র্ণ

जाति-निर्णय एवं राग-प्रकरण: १२२ रागों के स्वरूप, स्वर व समय (अध्याय ५)

সঙ্গীত পারিজাত
নেই; কিন্তু, বর্তমানের ভীমপলাসী নামক রাগটির সঙ্গে ঘনিষ্ট সাদৃশ্য পরিদৃষ্ট
হয়। ৪৭৫-৭৬
নাটমেলসমুদ্ভূতো রাগঃ কুমুদসংজ্ঞকঃ।
আরোহণে ম-বর্জ্জোক্তো গান্ধারোদগ্রাহশোভিতঃ ॥ ৪৭৭
গপ ধনিস সনি ধপ মগ রিস রিগ পম গরি সনী সগপ ধনিস নিধপ ধনিস
নিধপ মগ রিস। গপ পগ পম গরি গপ মগরি সনীস রিস নিস রিগ পম গরি
সনিসা। ইতি কুমুদ। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ১১২
টিপ্পনী: পারিজাতের ৭৩ সংখ্যক রাগ নাট ছিল দুই গা ও নি যুক্ত
কাফি ঠাটের রাগ। সুতরাং, কুমুদ রাগেরও স্বর ব্যবহার ছিল অনুরূপ।
পার্থক্যের মধ্যে, কুমুদের আরোহণে মা স্বরটি বর্জিত হতো। অর্থাৎ এটি ছিল
একটি চতুঃস্বারিক-ঔড়ব জাতীয় রাগ। এর আরোহণ-অবরোহণ ছিল গপণনর্স।
র্নণপমগজ্ঞস। রাগটি বর্তমানে নিঃশেষে বিলুপ্ত। ৪৭৭
নাটমেলসমুদ্ভূতো রাগশ্চক্রধরঃ স্মৃতঃ।
পঞ্চমেনবিহীনঃ স্যাৎ ষড়জোদগ্রাহেণ শোভিতঃ॥ ৪৭৮
সরি গম ধনি স সনি ধম গম গরি সরি গম গরি স স রিগ গম ধম গরি সরি
গমগ রিস রিনি ধনি সনি ধনি সধ নিস রিগম গরিস। ইতি চক্রধর। তৃতীয়
প্রহরোত্তরম্। ১১৩
চক্রধর রাগটিও নাট মেল থেকে উদ্ভূত। এর গ্রহস্বর সা এবং বর্জিত স্বর
হচ্ছে পা। ৪৭৮
টিপ্পনা: পূর্বোক্ত নাট মেলের অন্তর্গত কুমুদ রাগের মধ্যে থেকে পা
স্বরটিকে একেবারে বর্জিত করে দিলে চক্রধরকে পাওয়া যায়। অর্থাৎ চক্রধর
ছিল কাফি ঠাটের অন্তর্গত একটি চতুঃস্বারিক জাতীয় রাগ। কিংবা, একালের
আইন অনুযায়ী ষাড়ব-ষাড়ব জাতীয় রাগ। আরোহণ-অবরোহণ ছিল, সজ্ঞগম-
ণনর্স। র্নণগমজ্ঞস।—স্বর পরিচিতির রে-ধা স্বর দুটি, নাট মেলের ব্যবস্থানুযায়ী
জ্ঞ ও ণ স্বরে রূপান্তরিত হয়েছে বুঝতে হবে। বর্তমানেও, চক্রধর নামক একটি
অপ্রচলিত রাগ আছে। এ চক্রধর বিলাবল ঠাটের ষাড়ব-ষাড়ব রাগ।
বাদী-সমবাদী মা ও সা। বর্জিত স্বর পা। আরোহণ-অবরোহণ, যথাক্রমে,
সরগমধনর্স। র্নধমগরস। দেখা যাচ্ছে, জাতি এবং বিবাদী স্বরের মিল
থাকলেও, ঠাটের গরমিলের জন্য পারিজাতের চক্রধরের সঙ্গে এ চক্রধরের

কোনই সামঞ্জস্য নেই। তবে এমনও হতে পারে যে, পরবর্ত্তী কালের কোন
গুণী, পারিজাতের নাট মেলকে বর্ত্তমানে প্রচলিত নট-এর স্বর ব্যবস্থার সঙ্গে
গোলমাল করে ফেলে, চক্রধর রাগটিকেও নট-এর মতো বিলাবল ঠাটের
রাগরূপে সুচিহ্নিত করেছিলেন। বলাবাহুল্য, পারিজাতের নট ও নাট অভিন্ন
নয়। যদিও বা নট বেলাবল ঠাটের রাগ হয়ে যেতে পারে; কিন্তু নাট ছিল
নিরঙ্কুশ কাফি ঠাটের অন্তর্গত। ৪৭৮
ভৈরবীমেলসমুদ্ভূতো গান্ধারেণ বিবর্জ্জিতঃ।
আরোহে তু নি-বর্জ্জঃ স্যাম্মাদিঃ সিংহরবঃ স্মৃতঃ ॥ ৪৭৯
মপ ধসরি সরি সধ সনি ধপ ধপ মম রিস ধসসা | রিম পম রিসধ সধ সরিস
পধ সরিস নিধ পধ পম সরি সধ সসা | রিম পম রি সধ স ধস রিস পধ সরিস
নিধ পধ পম সরি সধ সসা | রিম পমরি সধ সরিস পধ সরিস নিধ পধ পম মরি
সধ সসা। রিম পমরি সধ সরি মপ ধস রিস নিধ পধ পম পম রিস পম রিম
ধসসা। ইতি সিংহরব। তৃতীয় প্রহরোক্তম্। ১১৪
সিংহরব নামক রাগটির উৎপত্তি হয়েছে ভৈরবী মেল থেকে। এই রাগে
পা স্বরটি একেবারে বর্জিত এবং আরোহণেও নি স্বরটি বর্জিত হয়ে থাকে।
এর গ্রহস্বর সা। ৪৭৯
টিপ্পনী : সিংহরব ছিল পারিজাতের ভৈরবী মেলের রাগ। পারিজাতের
ভৈরবী ছিল জ্ঞদন। অর্থাৎ, এ কালের আসোয়ারী ঠাট। সুতরাং সিংহরবও
ছিল, বর্তমানের আসোয়ারী ঠাটের অন্তর্গত একটি ঔড়ব-ষাড়ব জাতীয় রাগ।
চেহারা ছিল মপধর্সর্রম্। র্রর্সণদপমরস। রাগটি বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে
গেছে। ৪৭৯
শ্রীরাগমেল সম্ভূতা গ-স্বরেণ বিবর্জ্জিতা।
মঞ্জুঘোষা ধ-পূর্ব্বা স্যাদারোহে ত্যক্ত নি-স্বরা ॥ ৪৮০
ধস রিম পধ সনি ধপ ধম রিস | ধম রিম পধ পম ধপ মরি মপ সরি সরি
সধ সনি ধপ ধপ মপ মরি মপ পম রিসধা সসা। ইতি মঞ্জুঘোষা। তৃতীয়
প্রহরোত্তরম্। ১১৫
মঞ্জুঘোষা রাগটির উৎপত্তি হয়েছে শ্রীরাগ মেল থেকে। এরও গা স্বরটি
একেবারে বর্জিত এবং আরোহণে নি স্বরটিও বর্জিত হয়। মঞ্জুঘোষার গ্রহ
স্বর হচ্ছে ধা। ৪৮০

টিপ্পনী : পারিজাতের শ্রীরাগ ছিল, একালের খাম্বাজ ঠাটের অনুরূপ
রাগ। অর্থাৎ রাগটির নি ছাড়া আর সব স্বরই ছিল, বর্তমানের আইন অনুযায়ী
শুদ্ধ স্বর। সুতরাং মঞ্জুঘোষাও ছিল, বর্তমানের খাম্বাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি
ঔড়ব-ষাডব জাতীয় রাগ। আরোহণ-অবরোহণ ছিল, ধ সরমপধর্স। র্সণধপমরস।
রাগটি বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে, কর্ণাটিক্ নারায়ণী রাগটির সঙ্গে এর
সাদৃশ্য আছে। ৪৮০

মুখারী মেলসম্ভূতা ম-হীনা শিববল্লভা।
গ্যারোহদ্গ্রাহ গান্ধারা পাংশন্যাস সুশোভিতা।
অবরোহণ বেলায়াং নিষাদেন সুশোভিতা ॥ ৪৮১

গপ ধস সনি ধপ নিধ পপ ধধ পগ গরি সরি রিসরি। পপ গ পপ গরি রিগরি
সরি রি সধ সসা। পাপ ধানি ধপ নিধ পপ ধধ প গগ রিসরি রিস ধস। ইতি
শিববল্লভা। দ্বিতীয় প্রহরোত্তরম্। ১১৬

শিববল

২০০ সঙ্গীত পারিজাত
বর্তমানে, শিবযুক্ত অনেক রকম রাগ শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু শিববল্লভা
নিঃশেষে বিলুপ্ত। ৪৮১
শুদ্ধ মেল সমুদ্ভূতঃ ষড়জাদিঃ স মনোহরঃ।
আরোহে গ-রি-মৈস্ত্যক্ত আন্দোলিত-প-সান্বিতঃ ॥ ৪৮২
ধৈবতং প্রাপ্যতস্মাচ্চ সন্নিবৃত্তোহত্র কম্পিতঃ।
পঞ্চমাৎ ষড়জমাসাদ্য নিবৃত্তো মধ্যমং প্রতি।
তত্রাপ্যান্দোলিতো গে চ রী চ স্বস্থানশোভিতঃ ॥ ৪৮৩
স স পা প ধনি ধ পমা প ধনি সানি ধপ মাপ ধনি ধপ মা গরীস সপ সপা
পধ পপ পা পম পানি ধধ পাসা পাসা পামা গারীস। ইতি মনোহরঃ। দ্বিতীয়
প্রহরোত্তরম্। ১১৭
মনোহর রাগটির উৎপত্তি হয়েছে শুদ্ধ মেল থেকে। সা এর গ্রহস্বর।
মনোহরের আরোহণে গা রে ও মা স্বর তিনটি বর্জিত হয় এবং সা ও পা
স্বরদুটিকে প্রয়োগ করতে হয় আন্দোলিত ভাবে। মনোহরে ধা পর্যন্ত
আরোহণ করে, কম্পিতভাবে পা-তে নেমে আসতে হয়। তারপর, তারার
র্সা-র দিকে আরোহণ করাই নিয়ম। রাগটির অবরোহণ গতিতেও র্সা থেকে
পা পর্যন্ত নেমে এসে থামবার উপায় থাকে না, সঙ্গে সঙ্গেই মা স্বর পর্যন্ত
অবরোহণ করতে হয় এবং এই মা স্বরে বিশ্রামের অবকাশ থাকে।
মনোহরের গা স্বরটিও আন্দোলিত এবং রে স্বরে স্বস্থান নামক গমক প্রয়োগ
করতে হয়। ৪৮২-৪৮৩
টিপ্পনী : কর্ণাটক্ গ্রন্থাদিতে মনোহর নামক রাগের ব্যাপক আলোচনা
পরিলক্ষিত হয়। বলাবাহুল্য, অহোবল তাঁর গ্রন্থে মনোহরের উত্তর ভারতীয়
রূপ সম্বন্ধেই আলোচনা করেছেন। রাগটি ছিল শুদ্ধ মেলের অন্তর্গত।
অর্থাৎ বর্তমানের কাফি ঠাটের অন্তর্গত রাগ ছিল মনোহর। রাগটির রূপও
ছিল বেশ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। আরোহণে বর্জিত স্বর ছিল গা, রে ও মা। অর্থাৎ
রাগটির আরোহণ ছিল চতুঃস্বারিক এবং অবরোহণ ছিল সম্পূর্ণ। গ্রন্থকার
বলেছেন, মনোহরের গ্রহস্বর ছিল সা এবং সা থেকে মা স্বরে এসে থামতে
হতো। কিন্তু, এ সা-মা আরোহণ গতির সা-মা নয়; কারণ, রাগের
আরোহনে মা স্বরটি বর্জিত হয়। অপরপক্ষে, স্বর-পরিচিতির মধ্যেও কোথাও
সা-মা স্বরের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয় না। এ সা-মা অবরোহণ গতির র্সা-মা।

সঙ্গীত পারিজাত ২০১
অর্থাৎ তারার সা থেকে পা পর্যন্ত এসেও থামবার উপায় থাকে না, মা-তে এসে
বিশ্রাম নিতে হয়। সুতরাং, দেখা যাচ্ছে মনোহরের আরোহণ অবরোহণ ছিল
সপধপমপধর্নর্স | র্সনধপমজ্ঞর্রস।
মনোহর রাগের আলোচনা ভাতখণ্ডেজীর গ্রন্থাদিতেও আছে। কিন্তু সে
মনোহরের সঙ্গে পারিজাতের মনোহরের কোনই সম্পর্ক নেই। ভাতখণ্ডেজীর
উল্লিখিত মনোহর পূর্বীঠাটের ষাড়ব-ষাড়ব জাতীয় রাগ। বর্জিত স্বর, আরোহণে
পা ও অবরোহণে ধা। বাদী-সমবাদী গা-দা। আরোহণ-অবরোহণ হচ্ছে,
যথাক্রমে, সঋগহ্মদর্স | র্সর্নিদপগহ্মগঋস।
আমাদের সংগ্রহেও দু’রকমের মনোহর আছে। কিন্তু, তার সঙ্গেও
পারিজাতের মনোহরের কোন মিল নেই। আমাদের সংগৃহীত মনোহর কল্যাণ
ও বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত। গতি গমক প্রধান ও বক্র। মং প্রণীত ভারতীয়
সঙ্গীত পরিচিতি গ্রন্থে, তানতবল বিরচিত একটি বিলাবল ঠাটের মনোহর
কিন্তু ‘মনোহার

২০২ সঙ্গীত পারিজাত
যে রাগটি প্রচলিত রয়েছে সেটিও আসোয়ারী ঠাটের অন্তর্গত ষাড়ব-সম্পূর্ণ
জাতীয় রাগ, তবে তার মধ্যে শুদ্ধ ধৈবতেরও অস্তিত্ব আছে। বর্তমানের
আনন্দ-ভৈরবীর রূপ হচ্ছে সবজ্ঞমপধর্স। র্সনদপমজ্ঞরস। পরিবেশন-কাল
রাত্রি তৃতীয় প্রহর। বাদী-সমবাদী পা-সা। বর্জিতস্বর হচ্ছে আরোহণে নি।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য যে, বর্তমানের আনন্দ-ভৈরবীটি প্রচলিত রাগ হলেও
প্রচলনটা সীমাবদ্ধ। অপরপক্ষে, অধিকাংশ শিল্পীই প্রচলিত ভৈরবীর মধ্যে,
মেজাজ অনুযায়ী রে গা জ্ঞা ধা নি মিশ্রিত করে যে রাগের সৃষ্টি করেন—
রসসৃষ্টির ক্ষেত্রে সে রাগ অপূর্ব হলেও আনন্দ-ভৈরবী নামে উল্লিখিত হবার
উপযুক্ত নয় নিশ্চয়ই। আনন্দ-ভৈরবী ও ভৈরবী ধুন সম পর্যায়ের শিল্পকারিতা
নয়—যদিও অধিকাংশ শিল্পীই আত্মাভিমানের বশীভূত হয়ে বা অজ্ঞনতা নিবন্ধন
রাগ ও ধুন-এর সংজ্ঞাগত পার্থক্যগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেন,—এই আনন্দ-
ভৈরবী নামক একটি রাগের নামটি মাত্র শুনেছেন বলেই। ৪৮৪
শঙ্করাভরণো রাগঃ শঙ্করানন্দকো ভবেৎ।
রি-গ-পাস্ত্ৰ চাশাঃ স্যূ রি ন্যাসেন সুশোভিতঃ।
স্বস্বসম্বাদিনাং যোগাত্তত্র স্যাদ্বহুকম্পনম্॥ ৪৮৫
সরি গম পপ প পম প্প প্প সন গরি গগা। গারি সরি গরিস্।
রী সরি সরী গরি সরি সমম নিধনি সরী সনি সা সরি গম পা স পারি
ধাম নী পস। সনিদ পম পম গগা গারি সরিস। ইতি শঙ্করানন্দ।
সর্বদা। ১১৯
শঙ্করানন্দ রাগটির উৎপত্তি হয়েছে শঙ্করাভরণ রাগ থেকে। এর অংশ স্বর
হচ্ছে রে, গা ও পা। ন্যাসস্বর হচ্ছে রে। শঙ্করানন্দব অংশস্বরগুলি যখন তাদের
সমবাদী স্বরের সঙ্গে সমবাদীত্ব করে, তখন অনেক রকমের কম্পনযুক্ত হয়ে
ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ৪৮৫
টিপ্পনী : পারিজাতের শঙ্করানন্দ ছিল শঙ্করাভরণের (৪৭ সংখ্যক রাগ)
মতোই তীব্র গা নি যুক্ত রাগ। অর্থাৎ বর্তমানের বিলাবল ঠাটের রাগ।
পার্থক্য ছিল অংশস্বর ও ন্যাসস্বরে। শঙ্করাভরণের অংশস্বর ছিল একটিমাত্র
—মা। কিন্তু, শঙ্করানন্দের অংশস্বর তিনটি—রে, গা ও পা। শঙ্করাভরণের
ন্যাসস্বর ছিল গা। কিন্তু, শঙ্করানন্দের ন্যাসস্বর রে। অপরপক্ষে, শঙ্করাভরণে
ঢালু নামক গমকের প্রয়োগ হতো; শঙ্করানন্দের মধ্যেও অনেক রকমের

, সৈন্ধব ছিল
Wait, let's re-examine: "ধ্ নৃ" or "ধ্ ন্"?
Look at line 14:
'ধ' with hasanta: "ধ্"
Then next character: is it 'ন্' (na with hasanta)?
Look at it: it has 'ন' and below it, there is a curved tail going down to the left, like '্' (hasanta).
Wait, look at hasanta under 'ধ': it curves down to the left.
The mark under 'ন' also curves down to the left: so it's "ন্"!
Wait, why does it look slightly like 'নৃ'? In Bengali fonts, hasanta under 'ন' can touch or look like 'ন্'. It is definitely 'ন্' (Ni with hasanta = mandra Ni, just like 'ধ্' = mandra Dha).
Wait, is there a comma after "হবে"?
"হবে, ধ্ ন্ সরমপধপনর্স | র্সনধপমজ্ঞরস।"
Wait, look at "অর্থাৎ সৈন্ধব ছিল":
Is there a comma after অর্থাৎ? No: "অর্থাৎ সৈন্ধব ছিল".

ওড়ব-সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ, মানবী হচ্ছে সৈন্ধবেরই ষাড়ব-সম্পূর্ণ রূপ। এ ছাড়া,
Wait, is that a comma after "জাতীয় রাগ"?
Yes, "রাগ , মানবী" or "রাগ, মানবী".
And after

?
Wait, look at the character after গ:
Could it be "ন্ম্ধ"?
Let's look at "ক্ষ্ধ":
It has ক + ষ + ধ?
Wait, let's look at 'ম' in "সমবাদী" vs the left of that character:
In "সমবাদী", ম is rounded at the bottom left.
In this character, the top left has a loop like 'ক', then a diagonal down to the left, then loops up and right... that is 100% 'ক্ষ'!
And attached to it is 'ধ'!
Wait, why would the typesetter use 'ক্ষ্ধ'?
Could it be a broken type for 'ম্ধ'? Or did the typesetter actually set 'ক্ষ্ধ'?
Yes, typesetters in those presses had boxes of ligatures, and sometimes a bizarre ligature like 'ক্ষ্ধ' or 'ক্ম্ধ' was in the wrong compartment, or used intentionally to represent Tivra Ma + Dha!
Wait! TIVRA MA + DHA!
In Bhatkhande notation, Tivra Ma is 'M' with a vertical stroke: 'Ḿ' or 'Mঁ'.
If the typesetter didn't have a Tivra Ma sort, what did they use?
Wait, could 'ক্ষ' be used for Tivra Ma?!
Wait! In Bengali:
Tivra = তীক্ষ্ণ (teekshna)!
Could 'ক্ষ' stand for 'তীক্ষ্ণ' (Tivra)?!
"তীক্ষ্ণ

সঙ্গীত পারিজাত ২০৫
অংশস্বরও পা এবং সাবেরীর সমবাদী স্বর সা ও শবরীর গ্রহস্বরও সা।
সাবেরীর পরিবেশনা কাল হচ্ছে প্রাতঃকাল; কিন্তু শর্বরী ছিল সর্বকালীন গেয়
রাগ। বস্তুতঃ জাতির অসামঞ্জস্যের জন্য শর্বরীর সঙ্গে সাবেরীর কোন
সামঞ্জস্যই পরিলক্ষিত হয় না—যদিও অনেকে অনুমান করেন, সাবেরীর জননী
হচ্ছে শর্বরী। ৪৮৮
*১ রিপ' ভ্যামুজ্জিতো রাগঃ ম সাংশো শুদ্ধ কৈশিকঃ।
নি-গ-ধৈ কোমলৈর্যুক্তঃ মূর্চ্ছনা মৎসীকৃতা॥ ১—৭
মগ ম' নিস্ সম মগ মগ সনি ধণি সম মগ মধ মগ মগ স। ধণি
সম গম ধম নিধ মগ মধ নিস ধনি ধম মগ স। গম ধম ধনি
সগ সনি ধস নিধ মগ মধ মধ নিস; ধনি সধ নিস মগ মগ সস নিধ
মগ সনি ধনি সগ মস নিধ বধ মগ সা। ইতি শুদ্ধ কৈশিক। তৃতীয়
প্রহরোধ্বম্। :—৭
কলিন্দজীর অনুবাদঃ শুদ্ধ কৈশিক রাগ মৎসীকৃতা মূর্চ্ছনা সে
উৎপন্ন হোতা হৈ—মধ্যম স্বর ইসকা অংশ (বাদী, সম্বাদী ভাব ষড়জ) হৈ।
ঔর মধ্যম হি গ্রহ হৈ। ইসমে ঋষভ পঞ্চম দোনো স্বর বর্জিত হৈ। অতঃ
জাতি ঔড়ব-ঔড়ব হোতী হৈ। তথা নিষাদ গান্ধার ঔর ধৈবত যহ তিনো স্বর
কোমল প্রযুক্ত হোতে হৈ।
অর্থাৎ - শুদ্ধ কৈশিক রাগটি মৎসীকৃতা মূর্চ্ছনার অন্তর্গত। এবং রে ও পা
স্বর দুটি বর্জিত—মা ও সা উভয় স্বরই অংশস্বররূপে ব্যবহৃত হয়। এবং, নি-গ-ধ
স্বর তিনটি কোমল। ১-৭
টিপ্পনীঃ কলাকোবিদ কলিন্দজী কৃত পারিজাত ভাষ্যের প্রথম
অতিরিক্ত রাগটি হচ্ছে শুদ্ধ কৈশিক। দেখা যাচ্ছে, রাগটির কোমল স্বর ছিল
গা ধা নি। অর্থাৎ একালের আসোবারী ঠাট। কিন্তু পারিজাতকার কোন
বুদ্ধিতে গা নি স্বর দুটিকে কোমলরূপে উদ্ধৃত করতে পারেন। যার বিকৃত
বা তীব্র গা নি ছিল বর্তমানের শুদ্ধ গা নি এবং শুদ্ধ গা নি ছিল বর্তমানের
কোমল গা নি, তিনি হঠাৎ কোমল গা নি কথাটা ব্যবহার করতে পারলেন
কোন যুক্তিতে? পারিজাতের রে-ধা কোমল হতে পারে। এমন কি মৃদু
পা স্বরের উল্লেখ পর্যন্ত আছে গ্রন্থের মধ্যে। কিন্তু গা নি কোমল হতে
পারে কী করে?

২০৬ সঙ্গীত পারিজাত
অতঃপর দেখা যাচ্ছে, শুদ্ধ কৈশিকের মূর্ছনা মৎস্রীকৃতা। অর্থাৎ,
বর্তমানের খাম্বাজ ঠাটের মতো একটি সপ্তকের পরিচয় বহন করছে এই
মৎস্রীকৃতা (গ্রাম) মূর্ছনা। খাম্বাজ ঠাটের গা শুদ্ধ। সুতরাং এই শুদ্ধ
গা-র স্থানে কোমল গা প্রয়োগ করার প্রস্তাবটা অসঙ্গত না-ও হতে পারে।
খাম্বাজের ধা-ও শুদ্ধ। অতএব ধা-কেও কোমল করার প্রস্তাব গ্রাহ্য হতে
পারে। কিন্তু কোমল নি? খাম্বাজ ঠাটের নি তো এমনিতেই কোমল;
আবার তাকে কোমল করা যেতে পারে কী করে? পারিজাতের শুদ্ধ নি-কে,
অর্থাৎ বর্তমানের কোমল নি-কে মূর্ছনার কারণে তীব্রতর ধা-রূপে প্রয়োগ করা
যেতে পারে। অনুরূপ, তীব্র নি-কে, অর্থাৎ একালের শুদ্ধ নি-কে তীব্রতম
ধা-রূপেও অভিহিত করা যেতে পারে। কিন্তু, শুদ্ধ কৈশিক রাগের ক্ষেত্রে
তীব্রতর তীব্রতম কথাগুলি ব্যবহার না করে, গ্রন্থকার হঠাৎ একালের মতো
গা-ধা-নি কোমল কথাটি ব্যবহার করে ফেললেন কেন? সর্বোপরি, সূত্রের
মধ্যে মৎস্রীকৃতা মূর্ছনাটিকে ঢুকিয়ে দিতে গেলেন কেন সেটাও বিবেচ্য!
পারিজাতে শুদ্ধ ষড়জা নামক যে (গ্রাম) মূর্ছনাটির উল্লেখ আছে, সেটি
তো অবিকল একালের গা ধা-নি কোমলযুক্ত আসোয়ারী ঠাটেরই
পরিচয় বহন করছে। তবে কেন মৎস্রীকৃতা উল্লিখিত হলো শুদ্ধ ষড়জার
পরিবর্তে?
দেখা যাচ্ছে, শুদ্ধ কৈশিকের স্বর পরিচিতিটা গড়ে উঠেছে মা স্বরকে গ্রহ
করে। অর্থাৎ, রাগটির মূর্ছনা মধ্যমাদি। অপরপক্ষে, মৎসীকৃতা গ্রাম
মূর্ছনাটিরও আদি স্বর মা। অতএব, মধ্যমাদি রাগ মূর্ছনা ও মৎস্রীকৃতা
গ্রাম মূর্ছনাকে, কলাকোবিদ কলিন্দজী, অভিন্ন মনে করে, একাকার করে
ফেলেছেন।
পরিশেষে বক্তব্য এই যে, শুদ্ধ কৈশিক রাগটি অর্বাচীন রাগ নয়, অতি
প্রাচীন রাগ। সঙ্গীত রত্নাকরের পূর্ববর্তী কালেও এর অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু,
বর্তমানে বিলুপ্ত। ইদানীং কালে, কৌশী কান্ড়া বা কৌশিকী-কানাডা ও কৌশী-
ভৈরব নামক দুটি সম্পূর্ণ জাতির সরল গতির অপ্রচলিত রাগ আছে। এর
মধ্যে কৌশী-ভৈরব নামক রাগটি ভৈরো ঠাটের। কিন্তু, কৌশী কান্ড়াকে
দু'রকম রূপে পাওয়া যায়। একটি অবিকল আলোচ্য সূত্রটির মতো আসোয়ারী
ঠাটের এবং অপরটির ঠাট কাফি। বলাবাহুল্য, উভয় রাগেরই বাদী-সমবাদী
স্বর মা ও সা। ১—?

সঙ্গীত পারিজাত ২০৭
*২ শুদ্ধ মেল সমুদ্ভূতঃ তৈলঙ্গো রিধবর্জিতঃ।
গাংশস্তারে বিবাদী স্যাদৃষভ স্তমনাগভবেৎ ॥ ২—?
নীসসা গমগসা সাগমপমগসা। নীসাগমপনী পমপগমপনী পমনী পমপগমগসা।
গমপনী পসানী পমগনীপসা, নীনীপমগমপ নাপমগমগপগমগসা। নিসাগমপনী-
সসা নীপনীসারীসানিপনিসা। নীপমগমপনীপমগমগসা। ইতি তৈলঙ্গ। প্রাতঃ-
কালীয়ঃ। সূর্যোদয় সে প্রথম। কোই রাত কে দুসরে কোই তিসরে প্রহর
:মেঁ গাতে হৈ। ২—?
কলিন্দজীর অনুবাদ : তৈলঙ্গ রাগ শুদ্ধ মেল বিলাবল সে উৎপন্ন হোতা
হৈ। ইসমে ঋষভ্, ধৈবত দোনো স্বর দোনো ঔর সে বর্জিত রহতে হৈ। অতঃ
ইসকী ঔড়ব ঔড়ব জাতি হোতি হৈ। গান্ধার স্বর ইস কা অংশ (বাদী) সম্বাদী
নিষাদ হোতা হৈ। তথা, ঋষভ স্বর বিবাদী হোকর তার সপ্তক মে য়হ থোড়া
সা প্রযুক্ত হোতা হৈ।
অর্থাৎ তৈলঙ্গ নামক রাগটি শুদ্ধ মেল থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এর রে-ধা
স্বরটি বর্জিত। সুতরাং এর জাতি হচ্ছে ঔড়ব-ঔড়ব--যদিও তারার সপ্তকে
বিবাদী ঋষভ স্বরটি কথঞ্চিৎ পরিমাণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। রাগটির অংশ স্বর
হচ্ছে গা।
টিপ্পনী : পণ্ডিতজীর সূত্রে “স্ত মনাগভবেৎ” উল্লিখিত হয়েছে।
ব্যাকরণের মুখ চেয়ে “স্ত”-কে আমরা “স্তু”-রূপে সংশোধন করে নিয়েছি।
যা হোক্, আলোচ্য তৈলঙ্গর অনুবাদটি প্রমাণ দিচ্ছে যে, রসকোবিদ কলিন্দজী
বর্তমানের বিলাবল ঠাটকেই অহোবলের শুদ্ধ ঠাট হিসাবে কল্পনা করে
পারিজাতের ব্যাখ্যা কার্য্য করেছেন। কিন্তু, আমাদের সমস্যা হচ্ছে,
পারিজাতকার অহোবল আদৌ তৈলঙ্গ নামক কোন রাগ নিয়ে আলোচনা
করেছিলেন কিনা। আমাদের সংগ্রহে যে ক'খানি পারিজাত রয়েছে, তার
কোনটির মধ্যেই তৈলঙ্গর নাম গন্ধ নেই। আরও যে সব প্রাচীন ও
মধ্যকালীন সঙ্গীত গ্রন্থাদির পাঠোদ্ধার করেছি আমরা, তারও কোনটির
মধ্যে তৈলঙ্গর উল্লেখ নেই। ব্যতিক্রম কেবল জনৈক শ্রীনারদ বিরচিত
চত্বারিংশচ্ছৎ রাগনিরূপণম্ নামক একটি সংস্কৃত গ্রন্থ। এই গ্রন্থটি প্রকাশ
করেছিলেন স্বর্গত ভালচন্দ্র সীতারাম সুখথন্‌কার ১৯২৪ খৃষ্টাব্দে। গ্রন্থখানি
মুদ্রিত হয় পুণার আর্য্যভূষণ প্রেস থেকে। কেবলমাত্র এই গ্রন্থটির মধ্যেই

২০৮ সঙ্গীত পারিজাত
নট নারায়ণ রাগের অন্যতম ভাষারূপে তৈলঙ্গী নামক একটি রাগিণীর উল্লেখ
দেখা যায়। বলাবাহুল্য, এই গ্রন্থের গ্রন্থকার শ্রীনারদ প্রাচীন নারদ নন।
সাকুল্যে, যে চারজন সঙ্গীতজ্ঞ নারদের অস্তিত্বের প্রমাণ আমরা আজ পর্যন্ত
সংগ্রহ করতে পেরেছি, তার মধ্যে এই শ্রীনারদ-ই যে সর্ব্বাধুনিক তার প্রমাণ উক্ত
চত্বারিংশচ্ছৎ রাগনিরূপণম্-এর মধ্যেই নিহিত আছে। অর্থাৎ এই শ্রীনারদ
ছিলেন অষ্টাদশ শতকের সঙ্গীতজ্ঞ। সুতরাং, এদিক দিয়ে দেখতে গেলে
তৈলঙ্গ বা তৈলঙ্গী একটি অর্ব্বাচীন রাগ।
অতঃপর বিবেচ্য, আলোচ্য সূত্রটি কোন্ কাব্যজ্ঞানসম্পন্ন সঙ্গীতজ্ঞের পক্ষে
রচনা করা সম্ভবপর কিনা। সূত্রে অংশ স্বরের কথা উল্লিখিত হয়েছে। কিন্তু,
গ্রহ, ন্যাস ও মূর্চ্ছনার উল্লেখ নেই। অথচ, দেখা যাচ্ছে, স্বর পরিচিতির
আদি স্বর ষড়্জ নয়, নিষাদ। অর্থাৎ তৈলঙ্গর উদগ্রাহ স্বর ছিল নি।
এ হেন “ঠিকে-ভুল” করা পারিজাতকার অহোবলের মতো সঙ্গীতজ্ঞের পক্ষে
সম্ভবপর কী?
আমাদের মনে হয়, শ্রীনারদের তৈলঙ্গী ও কলিন্দজীর তৈলঙ্গ অভিন্ন।
তবে, এই অর্ব্বাচীন রাগটিকে অধুনা প্রচলিত 'তিলং' নামক রাগটির জনকরূপে
কল্পনা করবার, আপাততঃ কোন হেতু নেই, যেহেতু, শুদ্ধ ঠাটের অন্তর্গত
তৈলঙ্গ ঠাটের রাগ—পারিজাতের মতানুযায়ী কাফি হতে বাধ্য। অপরদিকে,
তিলং হচ্ছে খাম্বাজ ঠাটের রাগ। অবশ্য, কেউ কেউ এই তিলং-কেই তিলক
নামে অভিহিত করে, বিলাবল ঠাটের মধ্যে স্থান দিয়ে থাকেন।
*৩ গান্ধারমূর্চ্ছনোৎপন্না মাংসা ভীমপলাসিকা।
আরোহে রিধহীনা স্যাচ্ছন্যাস' গনিকোমলা॥ ৩—?
সনিসা। পনিসা নিসাগ।বসা সানিধপমপনিপনিসা। নিসা পনিস' নিসাগর্বীস,
निसामমগ সামগগবীসা নিসানিধপ মপনিপ মপনিপ নিসানিসা। মমগ সগমপ
পমপগ মগমগ পপমনিসা গমগমপমগমগমগমপা গমনীসা গমপ গম সাগমগরিসা।
নিসাগমপ গমগপ পমপগ মগমপ নিধপধ পম পগম নিসাগমপ গমপনিধপ
মপগপ সাগমপ গবিস। ইতি ভীমপলাসিকা। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৩-?
কলিন্দজীর অনুবাদ : ভীমপলাসিকা (পলাসী, রাগণী) গান্ধার স্বর
আদি হরিণাশ্বা অথবা অশ্বক্রান্তা মূর্চ্ছনা সে উৎপন্ন হোতি হৈ। মধ্যম স্বর
ইসকা অংশ হোতা হৈ ওর গান্ধার গ্রহ হৈ। ইসকী আরোহী ঋষভ-ধৈবত

[Header] সঙ্গীত পারিজাত ২০৯

দোনো স্বর বর্জিত হৈ তথা অবরোহ পূর্ণ হৈ। অতঃ ঔড়ব-সম্পূর্ণ জাতি মানী
জাতী হৈ। ষড়জ স্বর পর ন্যাস হোতা হৈ। ঔর গান্ধার নিষাদ দোনো স্বর
ইসমে কোমল লাগতে হৈ। শেষ স্বর শুদ্ধ হোনে সে আধুনিক কাফী কা মেল
(ঠাট) হোতা হৈ। ৩—?
অর্থাৎ ভীমপলাসিকার উদ্ভব হয়েছে গান্ধার মূর্ছনা থেকে এবং এর অংশ
স্বর হচ্ছে মা। এর আরোহনে রে ও ধা স্বর দুটি বর্জিত হয়ে থাকে। ন্যাস স্বর
হচ্ছে সা এবং গা ও নি স্বর দুটি কোমল। ৩--৭
টিপ্পনী : আবার 'গ-নি কোমলা' কথাটি ব্যবহার করে কালিন্দজী প্রমাণ
করেছেন, এ সূত্রটিও অহোবলের পারিজাতের নয়। পণ্ডিতজী যেভাবে
ভীমপলাসিকাকে উপস্থিত করেছেন, তাতে বুঝতে কষ্ট হয় না, রাগটি নিতান্তই
একালের ভীমপলাশীর ফটোগ্রাফ। তবে, স্বর পরিচিতির মধ্যে রী ও সা অক্ষর
দুটির তাৎপর্য বিবেচ্য। আমরা জানি না, স্বরের সঙ্গে আকার ও দীর্ঘ ঈকার
যুক্ত করার সঠিক অর্থটা পণ্ডিতজী জানেন কিনা। তর্কের খাতিরে যদি
ধরে নেওয়া যায় যে, দীর্ঘ ঈকার প্রয়োগের তাৎপর্যটা পণ্ডিতজী বোঝেন,
তাহলে, অবশ্য প্রমাণিত হবে, ভীমপলাসিকার সঙ্গে ভীমপলাশীর কিঞ্চিৎ
পার্থক্য আছে। কারণ, ভীমপলাশীর রে দুর্বল। উপরন্তু গান্ধার মূর্ছনা
বলতে হরিণাশ্বা মোটেই বোঝায় না—গা স্বর থেকে আরম্ভ হওয়ার কথাই
বোঝায়। অথচ, স্বর পরিচিতির মধ্যে কোথাও গা স্বর থেকে আরম্ভ হওয়ার
উল্লেখ নেই।
এ কথা আমরা ভূমিকাতে নিবেদন করেছি যে, হাথরাস সঙ্গীত কার্যালয়
কর্তৃক প্রকাশিত ও সঙ্গীত-কলা-কোবিদ পণ্ডিত কলিন্দজীকৃত পারিজাত ভাষ্যে
তিনটি অতিরিক্ত রাগের পরিচয় থাকার কারণে আমরা অত্যন্ত অসুবিধার
সম্মুখীন হয়েছি। পণ্ডিতজীকৃত গ্রন্থটির কলেবর বেশ আকর্ষণীয়। কিন্তু, অত
বড় বইটির মধ্যে ভাষ্যকারের কোন ভূমিকা স্থান পায় নি। গ্রন্থের টীকা-টিপ্পনীর
মধ্যে পণ্ডিতজী অনেক অবান্তর ও অপ্রয়োজনীয় কথা বলেছেন। কিন্তু,
আলোচ্য অতিরিক্ত রাগ তিনটি কোথা থেকে কী ভাবে সংগৃহীত হয়ে উক্ত
পারিজাত ভাষ্যের পাঁচশ' সূত্র সংখ্যাকে পূর্ণ করেছে, সে সম্বন্ধে ইঙ্গিতমাত্রও
দেন নি। বলাবাহুল্য, কলিন্দজী যেভাবে তাঁর পারিজাত ভাষ্য রচনা করেছেন—
অর্থাৎ পারিজাতের শুদ্ধ ঠাটকে বেলাবল কল্পনা করে এবং অনেক কিছু
সাঙ্গীতিক পরিভাষার সম্যক তাৎপর্য উপলব্ধি করতে না পেরে, যেভাবে সব-

কিছুকেই তিনি একাকার করে ছেড়ে দিয়েছেন, তাতে, এহেন ভ্রম-প্রমাদে
পরিপূর্ণ অবাঞ্ছিত গ্রন্থের ওপর কোনরূপ গুরুত্ব দেওয়া অনুচিত কার্য হিসাবেই
গণ্য হবে অনেকের কাছে। এমন কি, কেউ যদি সন্দেহ করেন, উক্ত অতিরিক্ত
সূত্র তিনটির আসল রচয়িতা পণ্ডিতজী স্বয়ং কিংবা তাঁরই মতো কোন বর্তমানী
কলাকোবিদ, তাহ'লে তাঁর অনুমানটা খুব দোষণীয় হিসাবে গণ্য হবে না
সম্ভবতঃ। কিন্তু, অনুমান প্রমাণ নয়।
প্রমাণ পাওয়া যায়, বরণীয়দের স্মরণীয় কীর্তির অনুকরণ করা ভারতীয়
সঙ্গীত সমাজের ইতিহাসে নতুন নয়। একদা সিংহ ভূপাল ও কল্লিনাথের দ্বারা
ভাষ্যকৃত হয়ে শার্ঙ্গদেব বিরচিত সঙ্গীত রত্নাকর গ্রন্থখানি এমনই খ্যাতি অর্জন
করেছিল যে, পরবর্তী কালের অনেকেই স্বরচিত সঙ্গীত গ্রন্থের নামকরণ
করেছিলেন সঙ্গীত রত্নাকর। এমন সঙ্গীত রত্নাকরও আমার নিকটে আছে যার
বিষয়বস্তুর অন্যতম হচ্ছে বাগেশ্রী রাগের দ্বারা বনে বাঘকে জব্দ করা হল বা
বেহাগ রাগিণীটিকে আগেকার কালে দিনের বেলায় গাওয়া হতো, সময়টাকে
রাত্রিকালে পরিবর্তিত করার কারণ রাত্রিকালে কেউ মাছ কোটে না।
অর্থাৎ, একবার একটি মহিলা ছেলে কোলে নিয়ে মাছ কুটতে কুটতে এমনই
অভিভূত হয়ে পড়েন বেহাগ শুনে যে, মাছের বদলে ছেলেকেই কেটে
ফেলেছিলেন আঁস-বঁটিতে। ইত্যাদি ইত্যাদি। অনুরূপ অনুকরণের ভূত
নাট্যশাস্ত্রকার ভরত, শিক্ষাকার নারদ, অভিনয়-দর্পণকার নন্দিকেশ্বর রাগ
বিবোধকার সোমনাথ রাগ তরঙ্গিনীকার লোচন পণ্ডিত, সঙ্গীত দর্পণকার
দামোদর প্রভৃতি প্রাচীনদের স্কন্ধেও আরোহণ করেছে এবং সর্ব্বাপেক্ষা
বেশী বিড়ম্বিত করেছে, বোধহয়, সঙ্গীত পারিজাতকার অহোবলকে। ইন্দোরের
অসংখ্য সঙ্গীত-প্রেমিক সঙ্গীত পারিজাত রচনা করেছেন। অঘটনও ঘটেছে।
অহোবল উত্তর ভারতীয় সঙ্গীতে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের
জনৈক সঙ্গীত রসিকও, কর্ণাটক ঐতিহ্যের কথা বিস্মৃত হয়ে, স্বরচিত সঙ্গীত
গ্রন্থের নামকরণ করেছিলেন সঙ্গীত পারিজাত। কিন্তু, মুস্কিল হয়েছে এই যে,
এই সব পারিজাতের মধ্যে “সঙ্গীত রত্নাকরের” মতো বাঘ মারার কেচ্ছা পাওয়া
যায় না। পরন্তু, যা পাওয়া যায় তা সংস্কৃত ব্যাকরণসম্মত ছন্দোবদ্ধ নির্ভেজাল
সাঙ্গীতিক সূত্র। সন্দেহ হয়, আজ থেকে একশ' বছর পূর্বেও, অন্ততঃ একথানি
নকল পারিজাত বেশ প্রভাব বিস্তার করেছিল তদানীন্তন সঙ্গীতসেবীদের ওপর।
গত ১৮৪২ সালে প্রকাশিত, কৃষ্ণানন্দ ব্যাসকৃত রাগ কল্পদ্রুম নামক গ্রন্থটির

টি মাত্র রাগের পরিচয় দেওয়া হলো।"
Wait, what number is in line 12?
"(আপাতত) ১২১টি মাত্র রাগের পরিচয় দেওয়া হলো।"
Wait, ১২১টি (121) or ১২২টি (122)?
Look at line 12:
"১ ২১টি" -> wait, is it ১১১টি or ১২১টি?
Look at the digits in line 12:
The first digit is ১.
The second digit is ২ or ১?
Look: '১', then '২' or '১'?
Wait! It has a loop at top and curves down-right:
Wait, compare '১' in '৪৯১' (or '৪৮৯'):
১ in '৪৯১': vertical with loop? In Bengali:
১ is like a circle with tail.
২ is like a curve down and loop.
In line 12: it is "১ ২১টি" or "১ ১১টি" or "১২২টি"?
Let's look at:
(আপাতত) ১ ২১টি
Wait! The digits are:
First digit: ১
Second digit: ২
Third digit: ১
Wait, look at the three digits:
Digit 1: ১
Digit 2: ২
Digit 3: ১
Wait, or is it ১ ২ ২?
Wait, look at the first two:
The first is ১.
The second is ১?
Wait, look at: "১ ২১টি" - no, the second

২১২ সঙ্গীত পারিজাত
বলছেন, ঔড়ব মেলের রাগগুলির ক্ষেত্রে এ আইন অচল। অপরপক্ষে,
আমরাও দেখতে পাচ্ছি, সমগ্র পারিজাতের মধ্যে এমন রাগ একটিও নেই
যাদের পাঁচটি স্বরই অভিন্ন অথচ রূপ ও নাম পরিবর্তন করেছে বাদী-সমবাদী
বা গতিভঙ্গীর পার্থক্যের জন্যই। সেকালে রচিত আর যে সব সঙ্গীত গ্রন্থ
পাঠ করবার সুযোগ আমরা পেয়েছি, সেগুলির মধ্যেও দেখতে পাচ্ছি
এমন ঔড়ব রাগ একটিও নেই যাদের স্বর-ব্যবস্থা অভিন্ন অথচ ভিন্ন ভিন্ন রূপ
ও নাম গ্রহণ করেছে বাদী-সমবাদী বা গতিভঙ্গীর পার্থক্যের জন্য। বস্তুতঃ
প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, সেকালের ঔড়ব রাগগুলি স্থায়িত্ব বজায় রাখত,
কেবলমাত্র, বাদী-সমবাদীর অস্তিত্ব বা গতিভঙ্গীর বৈশিষ্ট্যকে ভিত্তি করেই
নয়—মুখ্যতঃ, পাঁচটি স্বরের সর্বাঙ্গীন প্রয়োগ ব্যবস্থাটাকে আশ্রয় করে। অর্থাৎ,
কম পক্ষে, পাঁচটি স্বরের সাঙ্গীতিক প্রয়োগ ব্যতীত কোন সুবহ রাগরূপ
পরিগ্রহ করতে পারে না। এবং সেই জন্যই, যে সব রাগ পাঁচটিমাত্র স্বরকে
অবলম্বন করে আত্মপ্রতিষ্ঠা করে—সর্বতোভাবে প্রতিষ্ঠা বজায় রাখে তারা
সেই বিশেষ পাঁচটি স্বরকে আশ্রয় করেই। বাদী-সমবাদীর পরিবর্তন সাধন
করে বা গতিভঙ্গীর মধ্যে বক্রতা এনে যদিও বা উক্ত ঔড়ব রাগগুলির মধ্যে
কিঞ্চিৎ পরিমাণে বৈচিত্র্য আনয়ন বা সম্ভবপর হয়,—সেই সাময়িক ক্রিয়া-কর্মের
দ্বারা রাগগুলির সত্য-স্বরূপ বিনষ্ট করা সম্ভবপর হয় না। অবশ্য চেষ্টার
অসাধ্য কিছুই নেই। কিন্তু, সেকালের কোন সচেষ্ট সঙ্গীত শিল্পী, সাঙ্গীতিক
আইন বজায় রেখে, সম্ভবতঃ ঔড়ব রাগের মধ্যে কোন অঘটন ঘটাবার চেষ্টা
করেন নি। এবং সেই জন্যই, অহোবলের মতো পণ্ডিত ব্যক্তি এ রকম মন্তব্য
করে গিয়েছেন।
কিন্তু, একাল সেকাল নয়। একালে সেকালের মতো অসংখ্য ঔড়ব
রাগ প্রচলিত নেই বটে, কিন্তু ভূপালী ও দেশকার নামক দুটি রাগের
উদাহরণ স্থাপন করে, অহোবলের সাঙ্গীতিক ধ্যান-ধারণা সম্বন্ধে বিরূপ ধারণা
পোষণ করবার অবকাশ আছে। একালের, ভূপালী ও দেশকার, উভয়
রাগেরই স্বর-ব্যবস্থা, জাতি, আরোহণ অবরোহণ ও বর্জিত স্বর অভিন্ন;
কিন্তু ঠাট, বাদী-সমবাদী, পরিবেশনা-কাল ও পকড আলাদা। ভূপালীর
ঠাট হচ্ছে কল্যাণ, বাদ-সমবাদী গা-ধা অর্থাৎ পূর্বাঙ্গ প্রধান রাগ, পরিবেশনা-
কাল রাত্রি প্রথম প্রহর এবং পকড হচ্ছে সধ্, সরগ, পগপ, গরস। অপরপক্ষে,
দেশকারের ঠাট হচ্ছে বিলাবল, বাদী-সমবাদী ধা-গা অর্থাৎ উত্তরাঙ্গ প্রধান

রাগ, পরিবেশনা-কাল প্রাতঃকাল এবং পকড় হচ্ছে, ধপ, গপ, ধর্স, ধপ,
গপ, ধ, প।
বলাবাহুল্য, আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু, রাগ-বিবর্তন নয়, পণ্ডিত-প্রবর
অহোবলের বক্তব্য। এবং এই বক্তব্যটিকে সুস্পষ্ট করবার দুর্ব্বুদ্ধিতেই,
‘বিশ্যল্যকরণী’র প্রয়োজনে ‘গন্ধমাদনের’ প্রসঙ্গ অবতারণা করতে বাধ্য হচ্ছি।
পারিজাতে, ভূপালী আছে (১৭ সংখ্যক রাগ)। কিন্তু, একালের
ভূপালীর সঙ্গে তার কোনই সামঞ্জস্য নেই। পারিজাতের ভূপালীর স্বর ছিল
ঋজ্ঞদন। অর্থাৎ ভৈরবী ঠাটের রাগ ছিল পারিজাতের ভূপালী এবং একালের
ভূপাল বা ভূপাল-তোড়ির সঙ্গে এর কিছুটা সামঞ্জস্য আছে বলা চলে।
পারিজাতে তীব্র গা-নি-যুক্ত অর্থাৎ একালের শুদ্ধ গা-নি-যুক্ত দেশকারী
নামক একটি রাগ আছে (১৪ সংখ্যক রাগ)। কিন্তু, একালের, বিলাবল
ঠাটের অন্তর্গত ঔড়ব জাতীয় দেশকারের সঙ্গে তার কোনই সামঞ্জস্য নেই,
যেহেতু, দেশকারী ছিল সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ।
স্বরমেল-কলানিধি (১৪৭২-১৫৪৯ খৃঃ অঃ) গ্রন্থে ভূপালীও নেই দেশকারও
নেই। কিন্তু, ম-নি বর্জিত আসোয়ারী ঠাটের একটি ঔড়ব জাতীয় ভূপাল
আছে।
সদ্রাগচন্দ্রোদয় (১৫৯৯ খৃঃ অঃ) গ্রন্থে ভূপালী এ কালের মতোই, ম-নি
বর্জিত শুদ্ধ স্বরযুক্ত ঔড়ব জাতীয় রাগ ছিল। কিন্তু দেশিকার নামক রাগটি
ছিল ঋম্রদ-যুক্ত পূবী ঠাটের সম্পূর্ণ জাতায় রাগ।
রাগমঞ্জরী (১৫৯৯ খৃঃ অঃ) গ্রন্থে, ভূপালী নেই। কিন্তু দেশিকার নামক
একটি দুই গা-যুক্ত রাগ আছে।
চতুর্দণ্ডী প্রকাশিকা (১৬৬০ খৃঃ অঃ?) গ্রন্থে ভূপালী বা দেশকারের
উল্লেখমাত্রও নেই।
রাগ বিবোধ (১৬১০ খৃঃ অঃ) গ্রন্থে, ভূপালী ছিল একালের মতোই ম-নি
বর্জিত, শুদ্ধ স্বরযুক্ত ঔড়ব জাতীয় রাগ। কিন্তু, দেশকার ছিল, ঋহ্মদ যুক্ত পূর্বী
ঠাটের সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ।
রাগ তরঙ্গিনী (১১৬২ খৃঃ অঃ?) গ্রন্থে ভূপালী ছিল একালের মতোই ম-নি
বর্জিত, শুদ্ধ স্বরযুক্ত ঔড়ব জাতীয় রাগ। কিন্তু, দেশকার বা দেশকারী নামক
কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই।

২১৪ সঙ্গীত পারিজাত
হৃদয় নারায়ণদেব (১৬৬৭ খৃঃ অঃ) বিরচিত গ্রন্থ দুটিতেও ভূপালী ছিল
একালের মতো এবং দেশকারের অস্তিত্ব নেই।
সঙ্গীত সারামৃতোদ্ধার (১৭৮৩ খৃঃ অঃ) গ্রন্থে ভূপালী ছিল ম-নি বর্জিত
ঋদ্ধদ-যুক্ত ঔডুব জাতীয় রাগ এবং দেশকারের অস্তিত্ব নেই।
অতঃপব আমাদের বিবেচনা করতে হবে—
১। একালের শুদ্ধ স্বরযুক্ত ঔডুব জাতীয় দেশকারের সঙ্গে একটিও প্রাচীন
দেশকারের সামঞ্জস্য নেই কেন?
২। প্রাচীন ঋদ্ধদ-যুক্ত দেশকারের মতো একটি পূর্বী ঠাটের দেশকার
বর্তমানেও অর্ধ প্রচলিত অবস্থায় অস্তিত্ব বজায় রেখেছে, হঠাৎ বিলাবল ঠাটের
ঔডুব জাতীয় দেশকার জন্মগ্রহণ করল কেন এবং কী ভাবে?
৩। একালের ভূপালীর তুলনায় বিলাবল ঠাটের দেশকারের প্রচলন
অল্প কেন?
৪। ভূপালী রাগটিকে ত্রিবিধ-লয়ের সাহায্যে যে ভাবে পরিবেশন করা
যায়, বিলাবল ঠাটের দেশকারকে সে রকমভাবে পরিবেশন করা যায় না কেন
এবং অসুবিধার কারণগুলো কী?
৫। ভূপালীর

সঙ্গীত পারিজাত ২১৫
হয়ে গেছে, তেমনি, তীব্র গ-নি ও কোমল ঋ-ধ যুক্ত হওয়ার ফলে, আসলে
ষাড়ব জাতীয় রাগের রূপ পরিগ্রহ করেছে। অথচ, যেহেতু, মূর্ছনার
মধ্যে একই স্বরের দুটি নাম ব্যবহার করা যায় না, অতএব রাগদুটি
অনুপ্রাস যুক্ত হয়ে, একাধারে চতুঃস্বারিক রাগের পরিচয় ও ষাড়ব জাতীয়
রাগের রূপ বজায় রাখছে। এ সম্বন্ধে, ৩৪, ৯৬ ও ১০৩-২০৩ সূত্রগুলির
টিপ্পনী দ্রষ্টব্য।
তবুও প্রশ্ন উঠতে পারে, কেবলমাত্র তিনটি বা চারটি স্বরের প্রয়োগ দ্বারা
রাগ গঠন করা কি সম্ভবপর নয়?
রাগ অর্থে যদি “বাহাদুরী করা” না বোঝায়, তাহলে অবশ্যই সম্ভবপর
নয় কেন, বহুকাল পূর্বে, লৌকিক রাগ সৃষ্টি হবার অনেক কাল আগে,
ব্রাহ্মণগণ যখন যজ্ঞ সম্পন্ন করতেন বৈদিক মন্ত্রাদির সাহায্যে তখন সেই
মন্ত্রগুলি যজ্ঞ বিশেষের প্রয়োজনানুসারে কখনও এক স্বরের আর্চিক, দুই
স্বরের গাথিক, তিন স্বরের সামিক, চার স্বরের স্বরান্তর বা চতুঃস্বারিক,
এমন কি পরবর্তী কালের ঔড়ব, ষাড়ব ও সম্পূর্ণ জাতির মতো, পাঁচ, ছয়
ও সাত-স্বর প্রয়োগ-রীতি অনুযায়ীও উদ্‌গীত হতো। পরবর্তী কালে, লৌকিক
রাগ সৃষ্টি হবার পরে, আর্চিক ও গাথিক রীতি অনুসরণ করে কোন সঙ্গীত
শিল্পী রাগের মাধ্যমে গান পরিবেশন করতে সক্ষম না হলেও—তিনটি বা
চারটি স্বরকে মাত্র অবলম্বন করে “লৌকিক গান” গাইবার চেষ্টা যে করে
গেছেন, তার প্রমাণ আছে। ধ্রুপদ গীতি পদ্ধতি সৃষ্টি হবার পূর্বে, আমাদের
দেশে যখন “প্রবন্ধ গান” গাওয়া হতো, তখন, সামিক ও চতুঃস্বারিক রীতির
প্রবন্ধগীত—খুব প্রচলিত না হলেও, অপ্রচলিত ছিল না। আরও পরবর্তী যুগে
প্রবন্ধ গীতি লোপ পেয়ে গিয়ে যখন ধ্রুপদ পদ্ধতি প্রচলিত হলো তখনও
অধিকাংশ গীতিকারই প্রাচীনত্বের মহিমা কীর্তন ত্যাগ করতে পারেন নি।
বিলুপ্ত ছন্দ, প্রবন্ধ, ধ্রুবক প্রভৃতি গীতি পদ্ধতির পরিচয়গুলো যেমন ধ্রুপদ গানের
মধ্যে—কেবলমাত্র বাক্য হিসাবেই সংযুক্ত হলো, তেমনি, কোন কোন শিল্পী
তিন স্বর ও চার স্বরের ধ্রুপদ গান পরিবেশন করে, উক্ত সুপ্রাচীন ও নিঃশেষে
বিলুপ্ত গীতি পদ্ধতি দুটিকে “রাগ” হিসাবে মর্যাদা দেবার চেষ্টা করেছিলেন বা
বাঁচিয়ে রাখবার চেষ্টা করেছিলেন। মৎ প্রণীত ভারতীয় সঙ্গীত পরিচিতি
গ্রন্থেও, তানসেনের সমসাময়িক নায়ক গোপালের বা গোপাল লালের
ভণিতাযুক্ত অনুরূপ একটি ধ্রুপদ গান স্বরলিপিকৃত হয়ে উদ্ধৃত হয়েছে। কিন্তু,