सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
সঙ্গীত পারিজাত ৬৫
পূর্ণানাং ষাড়বানাঞ্চ সপ্তশতানিবিংশতিঃ।
ঔড়বানাঞ্চ বিংশত্যা শতং ভেদান্ বুধা জগুঃ ॥ ২০৭
চতুৰ্ব্বিংশতিভেদাঃ স্যশ্চতুর্ণাং তত্র নিশ্চিতাঃ।
ষড্ভেদাঃ স্যান্ত্রয়াণাঞ্চ দ্বয়োর্বাবের নিশ্চিতৌ ॥ ২০৮
একস্ত্বেকো ভবেদ্ভেদঃ প্রস্তারা ঈদৃশা মতাঃ ॥ ২০৯।১
“ষাড়ব’ বা “খাড়ব” মূর্চ্ছনার কূটতানের সংখ্যা হচ্ছে, ৬ X ১২০ = ৭২০
প্রকার। "ঔড়ব” মূর্চ্ছনার কূটতানের সংখ্যা হচ্ছে, ৫ x ২৪ = ১২০
প্রকার। চারস্বর-যুক্ত “স্বরাস্তর” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, ৪ x ৬ = ২৪
প্রকার। তিনস্বর-যুক্ত “সামিক” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, ৩ x ২ = ৬ প্রকার।
দুইস্বর-যুক্ত “গাথিক” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, ২ x ১ = ২ প্রকার। এবং,
একস্বর-যুক্ত “আর্চ্চিক” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, মাত্র এক প্রকার। এইভাবেই
শুদ্ধ মূর্চ্ছনার প্রস্তার ভেদ হয়ে থাকে।–২০৭-২০৯।১
নষ্টোদ্দিষ্টপ্রবোধার্থং খণ্ডমেরুরথোচ্যতে। ২০৯।২
অতঃপর শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য, নষ্ট ও উদ্দিষ্ট কূটতান নির্ণয়ের চিত্র,
খণ্ডমেরুর পরিচয় দেওয়া যাচ্চে। ২০৯।১
টিপ্পনী: নষ্টতান কথাটার অর্থ হচ্ছে, যে ক্ষেত্রে, কূটতানের সংখ্যাটা মনে
থাকে অথচ স্বরূপটা মনে পড়ে না। এবং, উদ্দিষ্টতান কথাটার মর্মার্থ
হচ্ছে, নষ্টতানের বিপরীত। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে, কূটতানের স্বরূপটা মনে
থাকে কিন্তু সংখ্যাটা মনে পড়ে না। এই রকম সমস্যা তিনস্বর-যুক্ত, চার
স্বর-যুক্ত, ঔড়ব, ষাড়ব, সম্পূর্ণ, সব রকম কূটতান নির্ণয়ের ক্ষেত্রেই দেখা
দিতে পারে। সুতরাং, সমস্যা সমাধানেরও একটা বিজ্ঞানসম্মত প্রণালী
থাকা উচিত। ফলে, সৃষ্টি হলো খণ্ডমেরুর মতো একটি বৈজ্ঞানিক ছকের।
এই ছক বা চিত্রটি সম্বন্ধে সচেতন থাকলে, নষ্ট বা উদ্দিষ্ট কূটতান নির্ণয়
করতে অসুবিধা হয় না। বলাবাহুল্য, আজকের দিনে, কেউ এত কষ্ট
স্বীকার ক’রে সঙ্গীত চর্চ্চা করেন বলে বিশ্বাস হয় না! সুতরাং, খণ্ডমেরুর
সার্থকতাও বর্ত্তমানে অস্বীকৃত বলা চলে। কিন্তু তবুও গুণীজ্ঞানী মাত্রেই
স্বীকার করবেন, বহুশত বৎসর পূর্ব্বে আবিষ্কৃত, ভারতবর্ষের এই খণ্ডমেরুর
৫
সঙ্গীত পারিজাত
অস্তিত্ব, আমাদের সাঙ্গীতিক ঐতিহ্য ও অলৌকিক সাধনার অন্যতম প্রধান
স্তম্ভ ও বৈশিষ্ট্য। মূল-এর প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পারিজাতকার
অহোবল, অতি সংক্ষেপেই এই খণ্ডমেরু রচনার প্রণালী নির্দ্দেশ করেছেন।
মনে হয়, এই সংক্ষিপ্ত ভাষণের একমাত্র তাৎপর্য্য, গ্রন্থকারের সমসাময়িক
কালের সঙ্গীত-সাধকদের নিকট, বর্ত্তমানীদের মতো, খণ্ডমেরুর তত্ত্ব ও তথ্য
একেবারে অজানা বা অপরিচিত ছিল না। সুতরাং, খণ্ডমেরুর আলোচনা
প্রসঙ্গে আমরাও আজকের দিনের কথা স্মরণ করে, কথঞ্চিৎ বিশদ ব্যাখ্যার
সুযোগ গ্রহণ করছি এবং পাঠকের বোঝবার সুবিধার জন্য, চক্ টি আগে
থাকতেই এঁকে দিচ্ছি :
সা রে গা মা পা ধা নি
১ ০ ০ ০ ০ ০ ০
১ ২ ৬ ২ ১২০ ৭২০
৪ ১২ ৪৮ ২৪০ ১৪৪০
১৮ ২ ৭৬০ ২১৬০
৯৬ ৪৮০ ২৮৮০
৬০০ ৩৬০০
৪৩২০
সপ্তাদ্যেকান্যকোষ্ঠঃ স্যাদ বামে হীনান্ততো ভবেৎ।
আদ্যপংক্ত্যাদ্যকোষ্ঠেষু লিখেদেকং পরেষুখম্ ॥ ২১০
আদ্যকোষ্ঠে দ্বিতীয়স্য পঙ্ক্তানের্কং লিখেদপি।
পঙ্ক্তিষূদ্ধ্বাংস্ত তির্য্যক্ষু কোষ্ঠস্থাঙ্কগুণং ন্যসেৎ ॥ ২১১
খণ্ডমেরুর প্রথম পংক্তি সাতটি ঘরযুক্ত হবে। দ্বিতীয় পংক্তির ঘর হবে
ছয়টি এবং তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম পংক্তির ঘরের সংখ্যা হবে
যথাক্রমে, পাঁচ, চার, তিন, দুই ও এক। অতঃপর, এই খণ্ডমেরুর প্রথম
পংক্তির প্রথম ঘরে ১ সংখ্যা বসাতে হবে, বাকি ছয়টি ঘর শূন্য থাকবে।
দ্বিতীয় পংক্তিরও প্রথম ঘরে ১ সংখ্যা বসাতে হবে, এবং, এই দ্বিতীয়
পংক্তিরই প্রথম ঘরের ঠিক ওপরের পংক্তি থেকে অর্থাৎ প্রথম পংক্তি থেকে,
সঙ্গীত পারিজাত ৬৭
সোজা এবং বেঁকাভাবে যে কয়টি ঘর পাওয়া যাবে, তার গুণফল
বসাতে হবে দ্বিতীয় পংক্তির দ্বিতীয় ঘরে। সংখ্যাটা হবে ২।
অতঃপর দ্বিতীয় পংক্তির তৃতীয় ঘরের সংখ্যাটা, ঘর হিসাবে যা হবে
(অর্থাৎ ৩) তাকে পূর্ব্ব ঘরের ২ সংখ্যার দ্বারা গুণ করে, গুণফল ৩ x ২=৬
বসাতে হবে তৃতীয় ঘরে। অনুরূপ, চতুর্থ ঘরের ৪ সংখ্যাকে পূর্ব্ব ঘরের
৬ সংখ্যা দ্বারা গুণ করে, গুণফল ৪ x ৬=২৪ বসাতে হবে চতুর্থ ঘরে।
পঞ্চম ঘরের ৫ সংখ্যাকেও, অবিকল ওই আইন অনুযায়ী, পূর্ব্ব ঘরের ২৪ দিয়ে
গুণ করে গুণফল ৫ x ২৪ = ১২০ বসাতে হবে পঞ্চম ঘরে। এবং, ষষ্ঠ ঘরের
৬ সংখ্যাকেও পূর্ব্ব-ঘরের ১২০ দিয়ে গুণ করে, গুণফল ৬ x ১২০ = ৭২০
বসাতে হবে ষষ্ঠ ঘরে।
অতঃপর তৃতীয় পংক্তির পরিচয়। এই পংক্তির সংখ্যাগুলি সবই দ্বিতীয়
পংক্তির সংখ্যাগুলির দ্বিগুণ হবে। দেখা যাচ্ছে, এই পংক্তির প্রথম ঘরের
সংখ্যা ৪। ঠিক ওপরের ২ সংখ্যাকে দুই দিয়ে গুণ করলে ৪-কে পাওয়া
যায়। এইভাবে বাকি চারটি ঘরের সংখ্যাও হবে যথাক্রমে ৬ x ২=১২,
২৪ x ২= ৪৮, ১২০ x ২=২৪০, ও ৭২০ x ২= ১৪৪০।
অতঃপর চতুর্থ পংক্তির পরিচয়। এই পংক্তির ঘরগুলি হচ্ছে দ্বিতীয়
পংক্তির নীচের দিক্কার তৃতীয় ঘর। অতএব, এর সংখ্যাও বসবে দ্বিতীয়
পংক্তির ত্রিগুণ হিসাবে। যথা: ৬ x ৩=১৮, ২৪ x ৩=৭২, ১২০ x ৩=
৩৬০ ও ৭২০ x ৩ = ২১৬০। এবং, ঠিক এই আইন অনুযায়ী বাকি তিনটি
পংক্তির সংখ্যাও বেরিয়ে আসবে। যথা:
দ্বিতীয় পংক্তির চারগুণ হিসাবে, দ্বিতীয় পংক্তির ২৪ x দ্বিতীয় পংক্তি থেকে
পঞ্চম পংক্তির অবরোহণ ঘর সংখ্যা ৪ = ৯৬। ১২ x ৪ = ৪৮০। ৭২০ x
৪=২৮৮০।
অনুরূপ, ষষ্ঠ পংক্তির ৫ x দ্বিতীয় পংক্তির ১২০ = ৬০০ ও ৫ x ৭২০=
৩৬০০। এবং, সপ্তম পংক্তির সংখ্যাটাও, এই আইন অনুযায়ী হবে
৬ x ৭২০ = ৪৩২০।
এইবার দেখতে হবে, এই খণ্ডমেরুর সাহায্যে, কী ভাবে নষ্ট বা উদ্দিষ্ট
কূটতান নির্ণয় করা সম্ভবপর।—২১০-২১১।
৬৮ সঙ্গীত পারিজাত
শূন্যেষু লোষ্টকান্ দত্ত্বা মূলক্রমং ততো লিখেৎ।
উদ্দিষ্টং তদধঃ কৃত্বা ততো লোষ্টস্য চালনম্ ॥ ২১২
উদ্দিষ্টান্তাস্বরো মূলক্রমস্থান্ত্যাৎ কিয়ত্তমঃ।
তাবৎসংখ্যাবিশিষ্টে চ কোষ্ঠে লোষ্টমাক্ষিপেৎ ॥ ২১৩
প্রথম পংক্তির ছয়টি শূন্যযুক্ত ঘরে, ছয়ট ঘঁটি বসিয়ে নিয়ে, প্রথমত
লিখতে হবে আলোচ্য কূটতানটির মূলক্রম। তারপর, মূলক্রমটির ঠিক
তলায় লিখতে হবে, উদ্দিষ্ট কূটতানের স্বরূপটি। (অর্থাৎ, যে কূটতানের
চেহারা মনে আছে, কিন্তু, সংখ্যাটা মনে পড়ছে না) তারপর, ঘুঁটি চালিয়ে
বার করতে হবে সেই কূটতানের ভুলে যাওয়া সংখ্যাটা। যেমন--
একটি চতুঃস্বারিক কূটতানের মূলক্রম যদি “সা-রে গা-মা” হয়, তাহলে
“মা-গা-সা-রে”র রূপটি কত সংখ্যক কূটতান হবে? আইনটা হচ্ছে এই যে,
প্রথমেই লক্ষ্য করতে হবে, মূলক্রম ও উদ্দিষ্ট কূটতান, উভয়েরই অন্তস্বর
অর্থাৎ শেষ স্বর কে কে। দেখা গেল, মূলক্রম “সা-রে গা মা’র শেষ স্বর
হ’চ্ছে মা এবং উদ্দিষ্ট কটতান “মা-গা-সা-রে”র শেষ স্বর হ’চ্ছে রে। অর্থাৎ
মা-রে। কিন্তু, এই “মা-রে’ স্বর দুটির মধ্যে আর ক টি স্বর থাকতে পারে?
থাকতে পারে মাত্র একটি স্বর গা। তাহলে হ’লো মা-গা-রে। কিন্তু,
শেষ স্বর সমেৎ রে থেকে মা র যোগাযোগ ক’টি স্বরের? মা গা-রে বা রে-গা-
মা। অর্থাৎ, মাত্র তিনটি স্বরের। সুতরাং, ঘুঁটি চালিয়ে আনতে হবে
চতুঃস্বারিক তানের তৃতীয় ঘরে। অর্থাৎ, খণ্ডমেরুর তৃতীয় পংক্তির ১
সংখ্যাযুক্ত ঘরে পাওয়া গেল ১২। কিন্তু, এই কি শেষ? “সা রে-গা মা-র
আর কি কোন রকম-ফের হয় না? অবশ্যই হয়। ২১২-২১৩
লোষ্টচালনমন্ত্যাৎ স্যাদ্ধং ত্যক্ত্বা ক্রমো ভবেৎ।
অন্ত্যোরুভয়োরেকো লোষ্টস্য চলনং ন হি ॥ ২১৪
মূলেকাক্কং গৃহীতৈব লোষ্টাক্রান্তাঙ্কমেলনে।
উদ্দিষ্টস্য মিতির্জ্ঞেয়া তস্যামুদ্দিষ্টতা স্মৃতা ॥ ২১৫
অতঃপর, লব্ধ স্বরটিকে (পূর্ব্বোক্ত রে) ত্যাগ করে, অবশিষ্ট স্বরগুলিকে
নিয়ে ক্রম রচনা করতে হবে। এবং ঘুরতে ঘুরতে, যে ঘরে এসে ঘুঁটি
সঙ্গীত পারিজাত ৬৯
একেবারে অচল হবে, পরিক্রমায়মান সেই সেই ঘরের সংখ্যাগুলি যোগ করে
নির্ণয় করতে হবে উদ্দিষ্ট কূটতানের সমষ্টি সংখ্যা! যেমন :
পূর্ব্বোক্ত চতুঃস্বারিক উদ্দিষ্টতান “মা-গা-সা-রে”-র শেষস্বর হিসাবে
ইতিমধ্যে আমরা রে স্বরটিকে পেয়েছিলাম। অতঃপর, এই রে স্বরটি
পরিত্যাগ করলে, বাকি থাকে “মা-গা-সা”-র ক্রম। স্মরণ রাখতে হবে
এই “মা-গা-সা” ক্রমের অন্ত্যস্বর বা শেষ স্বর হ’চ্ছে সা। অপরপক্ষে
মূলক্রম “সা-রে-গা-মা”-র রে বর্জ্জন করলেও “মা-গা-সা”-র অন্ত্যস্বর হয় মা।
অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে, “মা-গা-সা”-র-“মা”-র সঙ্গে “সা”-র যোগসূত্র হ’চ্ছে তিন
স্বরের। অতএব, এবার ঘুঁটি বসবে ত্রিস্বারিক তানের ৪ অঙ্কযুক্ত ঘরে।
ফলে, পাওয়া গেল ১২ + ৪ = ১৬ সংখ্যা।
অতঃপর দেখতে হবে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করে, আরও কোন সংখ্যা
বার করা যায় কিনা। অবশ্যই যায়। চার স্বর ও তিন স্বরের হিসাবের
মতো দ্বিস্বারিক কূটতানেরও একটা হিসাব আছে। যেমন, ত্রিস্বারিক মূল
ক্রম যদি “সা-গা-মা” হয় এবং উদ্দিষ্ট তান যদি হয় “মা-গা-সা”, তাহলে
মূল ও উদ্দিষ্ট উভয়েরই অন্ত্যস্বর হয় “সা-মা”। সুতরাং, বাকি থাকে একটি
মাত্র স্বর “গা”। এখন দেখতে হবে এই “গা” স্বরটির সঙ্গে মূলক্রমের
অন্ত্যস্বর “মা”-র যোগসূত্র কত। মা-গা অর্থাৎ দুই স্বরের। অতএব ঘুঁটি
বসাতে হবে দ্বিস্বারিক তানের ১ অঙ্কযুক্ত ঘরে। অতঃপর :
সা-রে-গা-মা মূলক্রমের অন্তর্গত “মা-গা-সা-রে”-র উদ্দিষ্ট নির্ণয় করতে
করতে, যথাক্রমে, “রে-গা-মা”-১২ + ৪ + ১ = ১৭কে পাওয়া গেল। বাকি
থাকল, মূল ও উদ্দিষ্ট উভয়েরই একটি মাত্র স্বর সা। পূর্ব্বেই (২০৪ সূত্রে)
বলা হয়েছে, একটি মাত্র স্বর নিয়ে ক্রম রচনা করা যায় না; সংখ্যাটি
একই থাকে। সুতরাং মূল ও উদ্দিষ্ট উভয়েরই স্বর সংখ্যা যখন কমতে
কমতে “সা”-তে এসে ঠেকে, তখন ঘুঁটি আর চলে না। অতএব,
“মা-গা-সা-রে” এই তানটি হবে, “সা-রে-গা-মা”-রূপ চতুঃস্বারিক কূটতানের
১২+৪+১+মূল ক্রমের সা=১৮ সংখ্যক তান।—২১৪-২১৫
অতঃপর পারিজাতকার নষ্টতান নির্ণয়ের প্রণালী নির্দেশ করছেন :
রূপাভাবেন নষ্টং স্যাৎ সংখ্যামাত্রপুরঃসরম্।
যৈরঙ্কৈর্নষ্টসংখ্যা স্যাম্মূলেকাক সমন্বিতাঃ ॥ ২১৬
৭০ সঙ্গীত পারিজাত
তেষ্বেবাত্র ক্ষিপেল্লোষ্টং লোষ্টস্থানমিতিস্বরঃ।
অবরোহক্রমেণৈব মূলং ত্যক্ত্বা ক্রমো ভবেৎ ॥ ২১৭
অথবা লোষ্টসংখ্যান্ত্যেলোষ্টস্থানং স্বরস্য চ ॥ ২১৮
ইতি মূর্চ্ছনা-প্রস্তার নষ্টে'দ্দিষ্ট-প্রকরণম্।
নষ্ট কূটতান সমূহের স্বরূপ নির্ণয় করতে হলে, প্রথমতঃ মূলক্রমের
সংখ্যার সঙ্গে যথাযথ সংখ্যা যোগ করে, যথাক্রমে, নিৰ্দ্দিষ্ট সংখ্যাটিকে বার
করে নিতে হয়। অর্থাৎ, “সা-রে-গা-মা”, এই চতুঃস্বারিক কূটতানের ১৮
সংখ্যক তানটি কী? অর্থাৎ, তানটি “রে-গা-মা-সা” হবে, না, ‘মা-গা-সা-
রে” হবে, অথবা “মা-সা-গা-রে” হবে, কিংবা “মা-রে-সা-গা” হবে? এই
ধরণের সমস্যার সমাধান হ’তে পারে কী উপায়ে? স্বরূপ মনে না থাকলেও
এ ক্ষেত্রে, সংখ্যাটা যখন স্মরণ আছে, তখন সর্ব্বাগ্রে ঘুঁটি সাজিয়ে নেওয়াই
বাঞ্ছনীয়। দেখতে হবে, “মা-গা-রে-সা”-র সা, অর্থাৎ সা-য়ের ১ সংখ্যাটি
ছাড়া বাকী ১৭ সংখ্যাটা খণ্ডমেরুর আর কোন কোন সংখ্যা-যুক্ত ঘরের
যোগফলের দ্বারা সম্ভবপর হ’তে পারে। সম্ভব হ’তে পারে, ১২+৪+১
( = ১৭ ) সংখ্যক ঘরের যোগফলে। মনে রাখতে হবে, ব্যাপারটা নিতান্তই
চতুঃস্বারিক, ত্রিস্বারিক, ঔড়ব বা ষাড়ব নয়। অর্থাৎ ১২+৫ বা ১২+
৩+২ বা এই ধরণের কোন যোগফলের দ্বারা সংখ্যা নির্ণয়ের চেষ্টা
অর্থহীন, এ ক্ষেত্রে ১২+৪+১ ছাড়া গত্যন্তর নেই।
অতঃপর দেখতে হবে, ১২ সংখ্যাটা চতুঃস্বারিক তানের কোন ঘরে
আছে। দেখা গেল, তৃতীয় ঘরে আছে। অতএব পাওয়া গেল রে।
কারণ, “সা-রে-গা-মা” মূলক্রমের অন্তস্বর মা থেকে তৃতীয় স্বর হচ্ছে রে।
বাকি রইল “সা-গা-মা”। অর্থাৎ মূলক্রম হ’লো ত্রিস্বারিক। সঙ্গে সঙ্গে
দেখতে হবে, পূর্ব্বোক্ত ১২ সংখ্যাযুক্ত ঘরটির পরবর্তী ঘুঁটিটি আছে কোন
ঘরে এবং সেই ঘরটি ত্রিস্বারিক কূটতানের কত নম্বর ঘর। দেখা গেল
ঘুঁটি আছে ৪ নম্বর ঘরে এবং ঘরটি হ’চ্ছে ত্রিস্বারিক কূটতানের তৃতীয়
ঘর। সুতরাং পাওয়া গেল সা। কারণ, “সা-গা-মা” রূপ ত্রিস্বারিক
মূলক্রমের শেষস্বর মা থেকে তৃতীয় স্বর হ’চ্ছে সা। অতএব এ পর্যন্ত
পাওয়া গেল “সা-রে”। বাকি রইল “গা-মা”। অর্থাৎ মূলক্রমটি হ’লো
দ্বিস্বারিক “গা-মা”। এখন আবার দেখতে হবে, পূর্ব্বোক্ত ৪ নম্বর ঘরের
পর আর কোন ঘরে ঘুঁটি আছে। দেখা গেল ঘুঁটি রয়েছে খণ্ডমেরুর
দ্বিস্বারিক তানের (অর্থাৎ দ্বিতীয় পংক্তির) ১ নম্বর ঘরে। সুতরাং
পাওয়া গেল গা। কারণ, “গা-মা” রূপ মূলক্রমের অন্তস্বর মা থেকে গা-য়ের
যোগসূত্র মাত্র একটি স্বরের। বাকি রইল মা। অতএব চতুঃস্বারিক
“সা-রে-গা-মা”-র ১৮ নম্বর কূটতানের রূপ হ'লো “মা-গা-সা-রে”।—
২১৬—২১৮
গানক্রিয়োচ্যতে বর্ণঃ স চতুর্দ্ধানিরূপিতঃ।
স্থায়্যারোহাবরোহী চ সঞ্চারীত্যাথ লক্ষণম্ ॥ ২১৯
স্থিত্বা স্থিত্বা প্রয়োগঃ স্যাদেকৈকস্মিন্ স্বরে পুনঃ।
স্থায়ী বর্ণঃ স বিজ্ঞেয়ঃ পরাবস্থথ নামকো।
এতৎ সংমিশ্রণাদ্বর্ণঃ সঞ্চারী পরিকীর্ত্তিতঃ। ২২০
ইতি বর্ণ লক্ষণম্।
গান-ক্রিয়াকে বর্ণ বলে। এই বর্ণ চারি রকমের হয়। যথা—১। স্থায়ী
২। আরোহী ৩। অবরোহী ও ৪। সঞ্চারী। (গানের মধ্যে, তথা
রাগের মধ্যে রসসৃষ্টির প্রয়োজনে) থেকে থেকে একটি স্বরের ব্যবহারকে
স্থায়ীবর্ণ বলে। আরোহ ও অবরোহী বর্ণের লক্ষণ, নামেই প্রকাশ পাচ্ছে।
এবং, এই আরোহী-অবরোহী যখন মিলে মিশে একাকার হ'য়ে যায়, তখন
সেই মিশ্রিত বর্ণের নাম হয় সঞ্চারী বর্ণ।—২১৯ ২২০
ক্রমেণ স্বরসন্দর্ভমলঙ্কারং প্রচক্ষতে।
তস্য ভেদাংশ্চ ভূয়াংসস্তত্র স্থায়ীগতান ব্রুবে ॥ ২২১
ক্রম (২০৬ সূত্রের ব্যাখ্যা ও টিপ্পনী দ্রষ্টব্য) অনুযায়ী স্বর-বিন্যাসকে অলঙ্কার
বলে। অলঙ্কার অনেক রকমের হয়। তার মধ্যে, স্থায়ীবর্ণগত অলঙ্কার
সম্বন্ধে বলছি। ২১
যেষামাদ্যন্তয়োরেকস্বরস্তে স্থায়িবর্ণগাঃ।
প্রসন্নাদিঃ প্রসন্নান্তঃ প্রসন্নাদ্যন্তসংজ্ঞকঃ ॥ ২২২
৭২ সঙ্গীত পারিজাত
ততঃ প্রসন্নমধ্যঃ স্যাৎ পঞ্চমঃ ক্রমরেচিতঃ।
প্রস্তারোহথ প্রসাদঃ স্যাৎ সপ্তৈতে স্থায়িবর্ণগাঃ॥ ২২৩
যে সব অলঙ্কারের প্রথমে ও শেষে একই স্বর ব্যবহৃত হয়, সেইসব
অলঙ্কারকেই স্থায়ীবর্ণগত বলে। এই রকম অলঙ্কারের সংখ্যা সাতটি। যথা—
১। প্রসন্নাদি, ২। প্রসন্নান্ত, ৩। প্রসন্নাদ্যন্ত, ৪। প্রসন্ন-মধ্য, ৫। ক্রম-রেচিত,
৬। প্রস্তার ও ৭। প্রসাদ।—২২২-২২৩
প্রসন্নো মন্দ্রপর্যায়ঃ প্রসন্নাদিস্তদাদ্যকঃ।
প্রসন্নান্তস্তদন্তঃ স্যান্মন্দ্রাদ্যন্তস্তৃতীয়কঃ।
চতুর্থো মন্দ্রমধ্যঃ স্যাৎ ক্রমাচ্চ ক্রমরেচিত ॥ ২২৪
যে স্বরটি, যথাক্রমে ঘরে ফিরে অলঙ্কারের মধ্যে সঙ্গতি রক্ষা করে, তাকে
প্রসন্ন বলে। যথা —
১। যে অলঙ্কারের প্রথম স্বর মন্দ্র, তাকে প্রসন্নাদি বলে।
২। যার শেষ স্বর মন্দ্র, তার নাম প্রসন্নান্ত অলঙ্কার।
৩। যার প্রথম ও শেষ উভয় স্বরই মন্দ্র, তাকে প্রসন্নাদ্যন্ত অলঙ্কার
বলে।
৪। মন্দ্রস্বর যে অলঙ্কারের মধ্যভাগে বর্তমান থাকে, তার নাম
প্রসন্নমধ্য অলঙ্কার।
৫। নির্দ্দিষ্ট ক্রম অনুযায়ী স্বর সন্নিবেশিত হলে (২৩ সূত্র দ্রষ্টব্য)
তার নাম হয় ক্রম-রেচিত অলঙ্কার।
টিপ্পনী : মন্দ্র মানে কী? অহোবল বলেন নি। আমরা জানি,
আজকের দিনের উদারা, মুদারা, তারা, সে আমলে মন্দ্র, মধ্য, তার নামে
অভিহিত হ'তো। সুতরাং, এক্ষেত্রে মন্দ্র অর্থে উদারার কোন স্বরকেই
বোঝাচ্ছেন অহোবল। কিন্তু কোন স্বর? এ সম্বন্ধে অহোবল কোন
ইঙ্গিত দিয়ে যান নি। অপবপক্ষে আমরা সঙ্গীত রত্নাকরে মন্দ্র শব্দের ব্যাখ্যা
দেখতে পাচ্ছি :—মন্দ্রঃ প্রকরণেহত্র স্যাৎ মূর্চ্ছনা প্রথমঃ স্বরঃ। স এব
দ্বিগুণ স্তারঃ। অর্থাৎ মন্দ্র স্বরের দ্বিগুণ হ'চ্ছে তারার স্বর। তাহলে,
পারিজাতকার মন্দ্র বলতে কি মুদারার সা স্বরটিকে বুঝিয়েছেন? সাধারণ
̇(প + া with dot above). Next:ধা̇(ধ + া with dot above). Next:নি̇(ন + ি with dot above). Next:সা।(স + া + ।). Next:রে গা মা পা ধা নি, সা।Next:র্পা র্মা র্পা র্ধা র্নি। ২২৫(orর্সা র্মা...`).
Let's check line 30:
১। প্রসন্নাদি = ভদ্র, -> wait, after = what is it?
Look at ১। প্রসন্নাদি = ভদ্র,
Wait, look at ভদ্র,:
Is it ভদ্র?
In line 30:
১। প্রসন্নাদি = ভ_ ,
Wait, look at ভ in line 30:
It looks like ভদ্র, or is it ভদ্র with broken type?
Look at ১। প্রসন্নাদি = ভ_ ,
It looks like ভদ্র where দ্র is broken or it's ভদ্র?
Wait, in verse 226: "ভদ্রো নন্দো জিতঃ সোমো"
So 1 is ভদ্র!
In the print: ১। প্রসন্নাদি = ভ_ , - the letter after ভ is broken, looks like ভ্_ ,
৭৪ সঙ্গীত পারিজাত
যমারভ্যাগ্রিমং গত্বা পুনঃ পূর্ব্বস্বরং বদেৎ।
ভদ্রসংজ্ঞমলঙ্কারমাঞ্জনেয়োঽবদৎ সুধীঃ ॥ ২২৭
একৈ কস্য স্বরস্যাত্র হীনাদেব ক্রমোভবেৎ। ২২৮/১
প্রথম স্বর থেকে আরম্ভ করে, দ্বিতীয় স্বর পর্যন্ত গিয়েই, আবার প্রথম স্বরে
ফিরে আসতে হবে। সঙ্গীতজ্ঞানী আঞ্জনেয়র (বা হনুমন্ত বা হনুমানের)
মতানুযায়ী এই পদ্ধতির অলঙ্কারকে ভদ্র বলে। এই অলঙ্কারের ক্রম রচিত হয়,
এক একটি স্বর ছেড়ে ছেড়ে। যেমন:—
সরসা, রগরা, গমগা, মপমা, পদপা, ধনধা, নর্সনা, সর্নর্সা।
ইতি ভদ্র বা প্রসন্নাদি অলঙ্কার।—২২৭-২২৮।১
নন্দঃ স্যাদ্রূপকেনাত্র স্বরদ্বন্দ্বেন পূর্ব্ববৎ ॥ ২২৮/২
নন্দ-র পদ্ধতি পূর্ব্বোক্ত ভদ্রর মতোই, কেবল স্বরগুলি সব দ্বিগুণিত।
যেমন :—
সস রর সস, রর গগ রর, ইত্যাদি। ইতি নন্দ বা প্রসন্নান্ত অলঙ্কার।
২২৮।২
জিতঃস্যাল্লঘুকালেন সগরিসেত্যায়ং ক্রমঃ ॥ ২২৯/১
সগরস প্রভৃতি ক্রমগুলি লঘুকালে উচ্চারিত হ'লে তাকে জিত বলে।
যেমন :—
সগরস, রমগর, গপমগ, মধপম, পনধপ, ধর্সনধ। ইতি জিত বা প্রসন্নান্যস্ত
অলঙ্কার।—২২৯।১
গুরুকালেন সোমঃ স্যাৎ স্বরদ্বন্দ্বেন পূর্ব্ববৎ ॥ ২২৯/২
উপরোক্ত সগরস প্রভৃতি ক্রমগুলি দ্বিগুণিত ও দীর্ঘকালে উচ্চারিত হ'লে, তাকে
সোম বলে। যেমন:—
সসা গগা ররা সসা, ররা মমা গগা ররা ইত্যাদি। ইতি সোম বা প্রসন্ন-মধ্য
অলঙ্কার।—২২৯।২
সঙ্গীত পারিজাত ৭৫
সগৌ রিগৌ সমুচ্চার্য্য মগৌ রিসৌ তথৈব চ।
গ্রীবং লঘুদ্ধয়েনাত্র হনূমান্বদৎ সুধীঃ ॥ ২৩০
যে অলঙ্কারে সগরগ মগরস, এই নিয়ম অনুযায়ী এক একটি স্বর রেচিত
বা পরিত্যক্ত হয় এবং যা দুটি লঘু মাত্রার ছন্দে গীত হ'তে পাবে, সঙ্গীত-
জ্ঞানী হনুমান ( বা হনুমন্ত বা আঞ্জনেয় ) তাকেই গ্রীব অলঙ্কার বলেছেন।
যেমন :
সগা রগা মগা রসা । রমা গমা পমা গরা
গপা মপা ধপা মগা । মধা পধা নধা পমা
পনা ধনা সনা ধপা ।
ইতি গ্রীব বা ক্রম-রেচিত অলঙ্কার।—২৩০
সগৌ ।রমৌ সমুচ্চাৰ্য্য মগৌ রিসৌ তথৈব চ।
দ্রুতাভ্যাং লঘুকালেন ভালং বদতি মারুতিঃ ॥ ২৩১
সগরম-মগরস, এই ক্রমের প্রথম ও শেষ সা স্বরদুটি যদি লঘুক্বালে, দ্রুত
উচ্চারিত হয় এবং ক্রমের অন্যান্য স্বরগুলির ব্যবহার পূর্ব্বোক্ত ক্রম-রেচিত
অলঙ্কারের অনুরূপ থাকে, তাহলে মারুতিব ( বা হনুমান বা আঞ্জনেয়র )
মতানুযায়ী তাকেই ভাল অলঙ্কার বলে। যেমন :—
সগরম মগরসা, রমগপ-পমগরা, গপমধ-ধপমগা, মধপন-নধপমা, পনধস-
সনধপা। ইতি ভাল বা প্রস্তার অলঙ্কার। ২৩১
সৌরৌ গৌমো গরীগশ্চ রিসাবিতি স্বরৈশ্চতৈঃ।
হনুমানড্ড তালেন প্রকাশাখ্যন্তমব্রবীৎ ॥ ২৩২
হনুমানের মতানুযায়ী প্রকাশ ( বা প্রসাদ ) নামক অলঙ্কারের প্রথম ক্রম
হ’চ্ছে, সস রর গগ-মগ রগ রস। এর পরের ক্রমগুলি যথানিয়মে রচনা
ক’রে অড্ড তালে গাইতে হবে। যেমন :—
সসা ররা ’গা মগরা গরসা । ররা গগা মমা পমগা মগরা
মমা পপা ধধা নধপা ধপমা । পপা ধধা ননা র্সনধা নধপা ॥
ইতি প্রকাশ বা প্রসাদ অলঙ্কার। ২৩২
৭৬ সঙ্গীত পারিজাত
টিপ্পনী : অড্ডতাল বর্তমানে অপ্রচলিত। বর্তমানে প্রচলিত সুরফাঁক
তালের মতো এটিও একটি সমপদীচ্ছন্দের দশমাত্রার তাল ছিল বলে মনে হয়।
প্রসঙ্গক্রমে, এখানে, সেকালের তাল ও তার মাত্রা-বিভাগ প্রণালী সম্বন্ধে
কথঞ্চিৎ ইঙ্গিত দিয়ে রাখা প্রয়োজন মনে করি।
৮ ক্ষণ = ১ লব | ৮ লব = ১ কাষ্ঠা
৮ কাষ্ঠা = ১ নিমেষ | ৮ নিমেষ = ১ কলা
২ কলা = ১ ত্রুটি | ২ ত্রুটি = ১ বিন্দু বা অনুদ্রুত
২ অনুদ্রুত = ১ দ্রুত | ২ দ্রুত = ১ লঘু
২ লঘু = ১গুরু | ১ ১/২ গুরু = ১ প্লুত
২ গুরু = ১ কাকপদ | ২ কাকপদ = ১ হংসপদ ॥ ইত্যাদি
অবশ্য, এই মাত্রা বিভাগ বা কাল নির্ণয় সম্বন্ধে মতান্তর আছে। যেমন,
ত্রুটি কথাটার পরিবর্তে কেউ কেউ মুহূর্ত কথাটি ব্যবহার করেছেন।
কেউ বলেছেন এক অনুদ্রুত = দুই বিরাম। অর্থাৎ বিরাম কথাটী এক্ষেত্রে
ত্রুটির স্থান গ্রহণ করেছে এবং তারই সময়-কাল নির্দেশ করছে। অপর-
পক্ষে কর্ণাটি সঙ্গীত গ্রন্থাদিতে দেখা যায়, বিরাম = ১/২ মাত্রা, যদি সে
অপর কারুর সঙ্গে যুক্ত থাকে, নচেৎ নয়। যেমন, বিরাম-দ্রুত = ১ ১/২
দ্রুত বা বিরাম-প্লুত = ১ ১/২ প্লুত। যা-ই হোক, আপাততঃ পারিজাত বোঝবার
পক্ষে, এক গুরু = বর্তমানে প্রচলিত বিলম্বিত লয়ের এক মাত্রা অনুমান
ক’রে নেওয়াই সঙ্গত।
এই সব কাল-নির্দেশক সংজ্ঞার চিহ্নও আছে অনেক রকম। প্রয়োজন-
বোধে আপাততঃ তিনটি চিহ্নের উল্লেখ করছি, ৹ এক দ্রুত। । এক
লঘু এবং S = এক গুরু। ২৩২
যত্র চ নোচ্যতে কালঃ স্বরৈরেব তু বোধ্যতে।
স্যাত্তাং বিস্তীর্ণ নিষ্কমৌ বিন্দুরভ্যুচ্চয়ঃ পরঃ ॥ ২৩৩
হসিতং প্রেক্ষিতাক্ষিপ্তৌ সন্ধি প্রচ্ছাদনস্তথা।
উদ্গীতোদ্বাহিতে তদ্বৎ ত্রিবর্ণো বেণুরিত্যসৌ ॥ ২৩৪
অলঙ্কারের মধ্যে, যেখানে কালের পরিমাণ (অর্থাৎ, কোন স্বরটি কত
সঙ্গীত পারিজাত ৭৭
মাত্রার) সম্বন্ধে কোনরূপ ইঙ্গিত না পাওয়া যাবে, সেখানে বুঝতে হবে,
মাত্রার পরিমাণটা স্বর বিন্যাসের দ্বারাই বোঝান হয়েছে। (যেমন, সা=
একমাত্রা। সবা=একমাত্রা। সরা গা=দু'মাত্রা। সরা গমগা রা=তিন
মাত্রা, ইত্যাদি)। অতঃপর বিস্তীর্ণ, নিষ্কর্ম, বিন্দু, অভ্যূচ্চয়, হসিত,
প্রেঙ্ক্ষিত, আক্ষিপ্ত, সন্ধি-প্রচ্ছাদন, উদ্গীত, উদ্বাহিত, ত্রিবর্ণ ও বেণি
নামক দ্বাদশটি অলঙ্কারের লক্ষণ ক্রমে ক্রমে বলা যাচ্ছে। ২৩৩-২৩৪,
মূর্চ্ছনাদেঃ স্ববাণ্যন ক্রমেণা'রোহণং ভবেৎ।
স্থিত্বা স্থিত্বা স্বরেদাদ্যৈঃ স বিস্তীর্ণোহভিধীয়তে ॥ ২৩৫
হ্রস্বৈঃ স্বরৈঃ স নিষ্কর্মো দ্বিরুক্তৈর্নিরন্তরৈঃ ॥ ২৩৬
নিশ্চতুর্বা স্বরোচ্চাবো গানবর্ণমিমং বিদুঃ।
নিষ্কর্মস্যৈব দ্বৌ ভেদৌ কেচিদেতৌ বভাষিরে ॥ ২৩৭
আদ্যং দীর্ঘদ্বয়ং প্রাহ দ্বিতীয়ং হ্রস্বমেব চ।
বিন্দুৰ্বিন্দু রথৈণাগি হনূমান সান্ধবিন্দুনা ॥ ২৩৮
একান্তরস্বারোহমাহুরভ্যূচ্চয়ং বুধাঃ ॥ ২৩৯
যত্রৈকোত্তর বৃদ্ধ্যাভিরাবৃত্তাশ্চোদ্দারিতাঃ।
আরুক্ষন্তি স্বরাঃ প্রাহ হসিতং তৎ শিবপ্রিয়ঃ ॥ ২৪০
স্বরদ্বয়ং সমুচ্চার্য্য পূর্ব্বং পূর্ব্বদ্ব য়ং পরম্।
যদান্দোলিতমারোহে প্রেঙ্ক্ষিতস্য ক্রমং জগুঃ ॥ ২৪১
একান্তর স্বরদ্বয়ং ত্যক্ত্বাপূর্ব্ববৃতং পবম্।
ক্রমাদারোহণং যত্র তদাক্ষিপ্তং প্রচক্ষতে ॥ ২৪২
হ্রস্বমাদ্যদ্বয়ং কৃত্বা দীর্ঘং কৃত্বা তৃতীয়কম্।
হনূমানাহ সর্ব্বজ্ঞ সন্ধি প্রচ্ছাদনং পবম্ ॥ ২৪৩
আদ্যং ত্রিশ্বরমুচ্চার্য্য স্বরং দ্বিতীয়মেকদা।
তথা দীর্ঘং তৃতীয়ঞ্চ তদোদগীতঃ প্রকীর্তিতঃ ॥ ২৪৪
৭৮ সঙ্গীত পারিজাত
আদ্যং স্বরংচতুর্ব্বারং দ্বিবারঞ্চ দ্বিতীয়কম্।
সকৃদুক্তং তৃতীয়স্ত তথা সকৃচ্চতুর্থম্।
উদ্বাহিতস্ত্বলঙ্কারো হনুমতা প্রকীর্ত্তিতঃ ॥ ২৪৫
তৃতীয়স্য ত্রিরাবৃত্তৌ ত্রিবর্ণং বর্ণয়ন্ত্যমুম্।
ত্রয়াণাস্তু ত্রিরাবৃত্তৌ পৃথগ্বেণিরুদীরিতঃ ॥ ২৪৬
ইত্যা রোহলঙ্কারাঃ।
মূর্চ্ছনার প্রথম স্বর থেকে বাকি স্বরগুলি, পরের পর, থেকে থেকে, আরোহণ
করলে, বিস্তীর্ণ নামক অলঙ্কার হয়। যেমন :
সা রে গা মা পা ধা না র্সা। ইতি বিস্তীর্ণ। ২৩৫
পূর্ব্বোক্ত বিস্তীর্ণ অলঙ্কারের স্বরগুলি, যথাক্রমে, দ্বিগুণিতভাবে আরোহণ
করলে, নিষ্কর্য অলঙ্কার হয়। যেমন :
সসা ররা গগা মমা পপা ধধা ননা সর্সা। ইতি নিষ্কর্য। ২৩৬
পূর্ব্বোক্ত বিস্তীর্ণ অলঙ্কারের স্বরগুলি, যথাক্রমে, তিনগুণ বা চারগুণ ক’রে
আরোহণ করলে, গাত্রবর্ণ অলঙ্কার হয়। অবশ্য কেউ কেউ বলেন, এই
তিনগুণ চারগুণের প্রকারটি পূর্ব্বোক্ত নিষ্কর্য অলঙ্কারেরই আর একটি ভেদ
মাত্র। যাই হোক, এর রূপ হ’চ্ছে :—
সসসা, রররা গগগা মমমা পপপা ধধধা নননা সর্সর্সা।
—ইতি ত্রিগুণ গাত্রবর্ণ।
সসসসা ররররা গগগগা মমমমা পপপপা ধধধধা ননননা সর্সর্সর্সা।
ইতি চতুর্গুণ গাত্রবর্ণ। ২৩৭
অলঙ্কারের প্রথম স্বরটি তিনবার বিলম্বিত মাত্রায় উচ্চারণ ক’রেই দ্বিতীয়
স্বরটি ছোট করে উচ্চারণ করতে হবে। এইভাবে স্বর-সপ্তক আরোহণ
করাকে হনুমান বিন্দু অলঙ্কার বলেছেন। ইনি আরও বলেছেন, তিনটি
বিন্দুর সঙ্গে একটি অর্দ্ধ বিন্দু যুক্ত ক’রেও এই বিন্দু অলঙ্কার রচনা করা
যেতে পারে। যেমন :—
স-স-সরা, র-র-রগা, গ-গ-গমা, ম-ম-মপা, প-প-পধা, ধ-ধ-ধনা, ন-ন-নর্সা।
ইতি বিন্দু। ২৩৮
সঙ্গীত পারিজাত ৭৯
একান্তরিত স্বরের সঙ্গে পূর্ব্ব স্বরের আরোহণকে সঙ্গীতজ্ঞ পণ্ডিতগণ অভ্যূচ্চয়
অলঙ্কার বলেন। যেমন:—
সগা, রমা, গপা, মধা, পনা, ধর্সা। ইতি অভ্যূচ্চয় অলঙ্কার। ২৩৯
যে অলঙ্কারের আরোহণে, এক একটি ক'বে স্বর বেড়ে যায়, তাকে শিবপ্রিয়
(সঙ্গীত রত্নাকর প্রণেতা শার্ঙ্গদেব) হসিত অলঙ্কার বলেন। যেমন:—
সা, সরা, সরগা, সরগমা, সরগমপা, সরগমপধা সরগমপধনর্সা। ইতি
হসিত অলঙ্কার। কিংবা—
সা, ররর্সা, গগগা, মমমমা, পপপপপা, ধধধধধধা, নননননননা, সর্সর্সর্সর্সর্সর্সর্সা।
ইতি হসিত অলঙ্কাব। ২৪০
সরা, রগা, গমা, মপা, পধা, ধনা, নর্সা—এই ভাবে, আন্দোলিত
হ'তে হ'তে স্বর সমষ্টির আরোহণ হ'লে, তাকে প্রেক্ষিত অলঙ্কার বলে।
ইতি প্রেক্ষিত অলঙ্কার। ২৪১
প্রথম ও একান্তরিত দুটি স্বর (অর্থাৎ সা ও গা) যখন দু'বার করে উচ্চারিত
হ'তে হ'তে আরোহণ করে, তখন তাকে আক্ষিপ্ত অলঙ্কার বলে। যেমন:
সসগগা, ররমমা, গগপপা, মমধধা, পপননা, ধধর্সর্সা।
ইতি আক্ষিপ্ত অলঙ্কার। ২৪২
প্রথম দুটি স্বর দ্রুত উচ্চারণ করে, তৃতীয় স্বরের উচ্চারণটি বিলম্বিত করলে
যে অলঙ্কারের উদ্ভব হয়, তাকে সন্ধি-প্রচ্ছাদন অলঙ্কার বলে। যেমন:
সর-গা, রগ-মা, গম-পা, মপ-ধা, পধ-না, ধন-র্সা। ইতি সন্ধি-প্রচ্ছাদন
অলঙ্কার। ২৪৩
প্রথম স্বরটি দু'বার, দ্বিতীয় স্বরটি একবার এবং তৃতীয় স্বরটি বিলম্বিত
লয়ে একবার উচ্চারণ করলে, তাকে উদ্গীত অলঙ্কার বলে। যেমন:
সসর-গা, ররগ-মা, গগম-পা, মমপ-ধা, পপধ-না, ধধন-র্সা। ইতি উদ্গীত
অলঙ্কার। ২৪৪
প্রথম স্বর চারবার, দ্বিতীয় স্বর দু'বার এবং তৃতীয় ও চতুর্থ স্বর একবার
ক'রে উচ্চারণ করলে, হনুমানের মতানুযায়ী উদ্বাহিত অলঙ্কারের সৃষ্টি হয়।
যেমন:
সসসসররগমা, রররর াগমপা, গগগগমমপধা, মমমমপপধনা, পপপপধধনর্সা।
ইতি উদ্বাহিত অলঙ্কার। ২৪৫
৮০ সঙ্গীত পারিজাত
প্রথম ও দ্বিতীয় স্বরের আবৃত্তি একবার ক’রে এবং তৃতীয় স্বরের আবৃত্তি
তিনবার ক’রে হলে, তাকে ত্রিবর্ণ অলঙ্কার বলে। যেমন :
সরগগগ, রগমমম, গমপপপা, মপধধধা, পধনননা, ধনসর্সর্সা।
ইতি ত্রিবর্ণ অলঙ্কার।—২৪৬।১
পরের পর তিনটি স্বরেরই আবৃত্তি যদি তিনবার ক’রে হয়, তাহলে তাকে
পৃথগ্বেণি অলঙ্কার বলে। যেমন :
সসসবররগগগ, রররগগগমমম, গগগমমমপপপা, মমমপপপধধধা, পপপ-
ধধধনননা, ধধধনননর্সর্সর্সা।
ইতি পৃথগ্বেণি অলঙ্কার।—২৪৬।২
অবরোহক্রমাদ্দেতে দ্বাদশাপ্যবরোহিণঃ।
গৌরবাদবরোহস্য লেখনং ন কৃতং ময়া ॥ ২৪৭
হত্যবরোহ্যালঙ্কারাঃ।
উপরোক্ত দ্বাদশটি অলঙ্কার আবার অবরোহণক্রমে সম্পাদিত হলে, তাকে
পূর্ব্বোল্ল
সঞ্চারী অলঙ্কার ২৬ রকমের হয়। যথাঃ ১। মন্দ্রাদি, ২। মন্দ্রমধ্য,
৩। মন্দ্রান্ত, ৪। প্রস্তার, ৫। প্রসাদ, ৬। ব্যাবৃত্ত, ৭। চলিত,
৮। পরিবর্ত্ত, ৯। আক্ষেপ, ১০। বিন্দু, ১১। উদ্বাহিত, ১২। উর্মি,
১৩। সম, ১৪। প্রেঙ্খ, ১৫। নিষ্কূজিত, ১৬। শ্যেন, ১৭। ক্রম,
১৮। উদ্ঘাটিত, ১৯। রঞ্জিত, ২০। সন্নিবৃত্ত, ২১। প্রবৃত্ত,
২২। বেণু, ২৩। ললিত-স্বর, ২৪। হুঙ্কার, ২৫। হ্লাদমান,
২৬। অবলোকিত।—যেহেতু এই অলঙ্কারগুলির স্বরসমূহ মন্দ্র
(উদারা), মধ্য (মুদারা) ও তার্ (তারা), এই তিন সপ্তকের মধ্যেই
সঞ্চরণশীল, সেইজন্য এগুলিকে সঞ্চরণশীল বা সঞ্চারী অলঙ্কার বলে।
এবং বলাই বাহুল্য, এই অলঙ্কারগুলিরও মন্দ্র (উদারা) স্বরের
মাথায় বিন্দু ও তার্ (তারা) স্বরের মাথায় রেফ্, ব্যবহৃত
হয়েছে। ২৪৮–২৫২।
টিপ্পনী : আমরা কিন্তু উদারার মাথায় বিন্দু ব্যবহার না করে স্বরের
তলায় বিন্দু বা হসন্ত ব্যবহার করবে। ২২৫ সূত্রের টিপ্পনী দ্রষ্টব্য। ২৫২
সরীগমৌগমৌ যত্র রিসোসরীগরীসরী;
গমৌ গুরুদ্বয়েনৈব স মন্দ্রাদিস্তদা ভবেৎ।
স্থানত্রয়বিশিষ্টোহয়মারম্ভে মন্দ্রপূর্ব্বকঃ ॥ ২৫৩
যে অলঙ্কারের প্রথম ক্রমের রূপ হচ্ছে, সরগম—মগরস—সরগর—
সরগমা, যার শেষ দুটি স্বর গুরুবর্ণযুক্ত, যার চারটি ক্রমেই, যথাক্রমে,
সরগমা-র পরিবর্ত্তে রগমপা, গমপধা প্রভৃতির ব্যবহার হয়; যার আরম্ভ
হয় মন্দ্র স্বর (অর্থাৎ উদারার সা) থেকে; এবং যার স্বর-সমষ্টি মন্দ্র, মধ্য,
তার্- এই তিন সপ্তকের মধ্যেই সঞ্চরণশীল, তাকে মন্দ্রাদি অলঙ্কার
বলে। যেমন :
সরগম-মগরস-সরগর-সরগমা। রগমপ-পমগর-রগমগ-রগমপা।
গমপধ-ধপমগ-গমপম-গমপধা। মপধন-নধপম-মপধপ-মপধনা। পধনর্স-
র্সনধপ-পধনধ-পধনর্সা। ধনর্সর্র-র্রর্সনধ-ধনর্সন-ধনর্সর্রা। ইত্যাদি। ইতি
মন্দ্রাদি অলঙ্কার। ২৫.
এবং জ্ঞেয়োহবরোহস্ত গীতশাস্ত্রবিচক্ষণৈঃ ॥ ২৫৪
৮২ সঙ্গীত পারিজাত
সংগীত-বিশারদ গুণীজ্ঞানীরা জানবেন, আরোহণের পদ্ধতির মতো বিপরীত
গতিতে মন্দ্রাদি অলঙ্কারের অবরোহণও সম্পাদিত হয়। যেমন :
র্সরসনধ-ধনসর্সব-র্সরনর্স-র্সরনধা। ইত্যাদি। ২৫৪
সগৌরিগৌগমগৌ যত্র রিগৌরিগৌরিসৌসরী।
গমৌ জ-গণযুক্তোহসৌ মন্দ্রমধ্যো সুশোভিতঃ ॥ ২৫৫
সগরগ-মগরগ-রগরস-সরগমা—এই স্বরগুলির জ-গণযুক্ত সুষ্ঠু সন্নিবেশকে
মন্দ্র-মধ্য অলঙ্কাব বলে। এই অলঙ্কারেও, যথাক্রমে, সগরগ-ব ক্রমের পর
পরবর্তী রমগম, গপমপ প্রভৃতির ক্রম আসে। যেমন :
সগরগ-মগরগ-রগরস-সবগমা। বমগম-পমগম-গমগর-রগমপা। গপমপ-
ধপমপ-মপমগ-গমপধা। মধপধ-নধপধ-পধপম-মপধনা। পনধন-র্সনধন-ধনধপ-
পধনর্সা। ইতি মন্দ্র-মধ্য অলঙ্কাব। ২৫৫
টিপ্পনী : জ-গণ কথাটা একটা সাঙ্গীতিক সংজ্ঞ-জ্ঞাপক শব্দ।
যে ক্ষেত্রে তিনটি স্বরের মধ্যে মধ্যবর্তী স্বরটি হয় গুরুবর্ণ এবং তার দু পাশের
দুটি স্বরের বর্ণ হয লঘু, সেই ক্ষেত্রেই জ-গণ সংজ্ঞাটি ব্যবহৃত হয়। যেমন,
মন্দ্র-মধ্য অলঙ্কারটিকে জ-গণযুক্ত ক’বে যথাযথভাবে সাজালে দাঁড়ায়—
সগরা, গমগা, রগরা, গরসা, সবগা ( মা )। রমগা মপম, গমপা, মগরা,
রগমা ( পা ) ইত্যাদি। ২৫৯
মন্দ্রান্তশ্চ স বিজ্ঞেয়ো ন-গণেন সুশোভিতঃ।
সদ্ধ্বযং রিদ্বয়ং গৌচ যস্মিন্ মগৌ রিগৌ রিসৌ।
মন্দ্রস্থানঞ্চ যস্যাস্তে মন্দ্রান্তং তং প্রচক্ষতে ॥ ২৫৬
যে অলঙ্কার ন-গণের ছন্দে সুশোভিত, যার ( প্রথম ক্রমেব ) শেষ স্বর
মন্দ্র , যার প্রথম ক্রমস্থ সসা ররা গগা, মগা রগা রসা, স্বরগুলি দ্বিতীয়
তৃতীয় প্রভৃতি ক্রমে, ( পূর্ববর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে ) পরিবর্তিত হয়ে,
যথাক্রমে, ররা গগা মমা বা গগা মমা পপা হয়ে যায়, তাকে মন্দ্রান্ত অলঙ্কার
বলে। যেমন :
সসা ররা গগা, মগা রগা বসা। বরা গগা মমা, পমা গমা গরা। গগা মমা
পপা, ধপ মপা মগা। মমা পপা ধধা, নধ পধ পমা। পপা ধধা ননা, র্সনা
ধনা ধপা। ইতি মন্দ্রান্ত অলঙ্কার। ২৫৬
সঙ্গীত পারিজাত ৮
টিপ্পনী : ন-গণ সংজ্ঞাটা পূর্ব্বোল্লিখিত জ-গণের মতই ব্যবহৃত হয়েছে
ন-গণের ছন্দটা হচ্ছে তিনটি লঘু মাত্রার সমষ্টি। ২৫৬
ত্যক্তান্তরং স্বরদ্বন্দ্বং ত্যক্তাদারভ্যতে পুনঃ।
যুগং তাদৃক্ সমারোহে তদা প্রস্তার উচ্যতে ॥ ২৫৭
প্রথম স্বরটি উচ্চারণ ক'রে, মধ্যের দুটি স্বর বর্জ্জন পূর্ব্বক আবার চতুর্থ
স্বরটি উচ্চারণ করলে যে স্বর-যুগল হয়, এবং অনুরূপভাবে, পূর্ব্ববারে পরিত্যক্ত
দ্বিতীয় স্বরটি উচ্চারণ ক'রে, তার পরবর্তী দুটি স্বর বর্জ্জন ক'রে আবার চতুর্থ
স্বরটি উচ্চারণ করলে যে স্বর-যুগলের উৎপত্তি হয়, তাকে প্রস্তার অলঙ্কার বলে।
যেমন : সমা, রপা, গধা, মনা, ধর্সা। ইতি প্রস্তার অলঙ্কার। ২৫৭
আদ্যং দ্বয়ং ত্রিরার্ব্বত্যা তৃতীয়ঞ্চ দ্বিতীয়কম্।
উক্ত্বা তত্র প্রসাদং তমলঙ্কারং জগুর্ব্বুধাঃ ॥ ২৫৮
প্রথম দুটি স্বর তিনবার আবৃত্তি ক'রে, তৃতীয় ও দ্বিতীয় স্বর উচ্চারণ
করতে হবে। এইভাবে, ছ'বারে “সানি” পর্যন্ত উচ্চারিত হলে প্রসাদ
নামক অলঙ্কার হয়। যেমন :
সরা সরা সরা গরা, রগা রগা রগা মগা, গমা গমা গমা পমা, মপা মপা মপা
ধপা, পধা পধা পধা নধা, ধনা ধনা ধনা সনা। ইতি প্রসাদ অলঙ্কার। ২৫৮
সগৌ রিমৌ সরী গো মৌ যস্মিন্নিতি ক্রমো ভবেৎ।
ব্যাবৃত্তং তং বিজানীয়াদ্ গীতশাস্ত্রবিশারদঃ ॥ ২৫৯
সা গা রে মা—সা রে গা মা, এই আটটি স্বর নিয়ে প্রথম ক্রম রচনা ক'রে,
পরবর্তী ক্রমগুলিতে উক্ত স্বরগুলির পরের পর স্বর দ্বারা যথোচিত ভাবে
আবৃত্তি করলে, গীতশাস্ত্রবিশারদদের মতানুযায়ী ব্যাবৃত্ত অলঙ্কার সৃষ্টি হয়
জানবেন। যেমন :
সগরম-সরগম, রমগপ-রগমপ, গপমধ-গমপধ, মধপন-মপধন, পনধর্স-
পধর্নর্সা। ইতি ব্যাবৃত্ত অলঙ্কার। ২৫৯
সগৌ রিমে মরীগঃ সঃ সরীগোম ইতি ক্রমঃ।
যদা ভবেৎ তদা জ্ঞেয়োহলঙ্কারশ্চলিতো বুধৈঃ ॥ ২৬০
সাগারেমা-মারেগাসা-সারেগামা, এই বারটি স্বর দ্বারা যার প্রথম ক্রম
৮৪ সঙ্গীত পারিজাত
তৈরী হয় এবং যার পরবর্তী ক্রমগুলিও এইভাবে পরের পর স্বর দ্বারা রচিত হয়,
গুণীজ্ঞানীরা তাকেই চলিত অলঙ্কার বলেন। যেমন: সগরম-মরগস-সরগমা,
রমগপ-পগমর-রগমপা, গপমধ-ধমপগ-গমপধা, মধপন-নপধম-মপধনা, পনধর্স-
র্ধনপ-পধনর্সা। ইতি চলিত অলঙ্কার। ২৬০
আদ্যং তৃতীয়মুচ্চার্য্য তুর্য্যং দ্বিতীয়মেব চ।
পরিবর্ত্তস্তদা জ্ঞেয়ো যতি তালেন শোভিতঃ॥ ২৬১
যে অলঙ্কারের প্রথম ক্রম, প্রথম-তৃতীয়-চতুর্থ ও দ্বিতীয় স্বর নিয়ে রচিত
এবং যার পরবর্তী পাঁচটি ক্রমও যথাযথভাবে পরের পর স্বর দ্বারা সন্নিবেশিত,
তাকেই পরিবর্ত্ত অলঙ্কার বলে। এই অলঙ্কারটি যতি তালের মাধ্যমে গীত
হলে শ্রুতি-মধুর হয়। যেমন: সগমরা, রমপগা, গপধমা, মনর্সধ, পর্ধবনা,
ধর'গর্সা। ইতি পরিবর্ত্ত অলঙ্কার। ২৬১
টিপ্পনী : পূর্ব্বোল্লিখিত অড্ড তালের মতো যতি তালটিও বর্তমানে
অপ্রচলিত। অধিকন্তু, আমবা দেখতে পাচ্ছি এই যতি তালের মাত্রা সমষ্টি
ও ছন্দ সম্বন্ধে প্রাচীন গ্রন্থকারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ১৬২৫ খৃষ্টাব্দে
বিরচিত সঙ্গীত-দর্পণ গ্রন্থে গ্রন্থকার দামোদর মিশ্র যতি তালটিকে একটি ৯
মাত্রার বিষমপদী ছন্দের তাল বলেছেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে বিবচিত
সঙ্গীত দামোদর গ্রন্থে, গ্রন্থকার শুভঙ্কর দু' রকম যতির পরিচয় দিয়েছেন।
কিন্তু তার বানান জ্যোতি। এঁর মতানুযায়ী জ্যোতি তাল একটি ৪ মাত্রার
সমপদী ছন্দের তাল এবং অর্দ্ধ-জ্যোতি হচ্ছে একটি ৭ মাত্রার বিষমপদী ছন্দের
তাল। বলা যায় না, পরবর্ত্তীকালে হয়তো এই অর্দ্ধ-জ্যোতি তালটিই সাত
মাত্রার আদ্ধা-যৎ তাল-এ রূপান্তরিত হয়েছিল।
সঙ্গীত দামোদর গ্রন্থে আরও দেখা যায়, এক রকম গীতি-পদ্ধতির পরিচয়
দেওয়া হয়েছে, যার নাম যতি ( জ্যোতি নয় )। এইগুলি বিভিন্ন তালে ও
ছন্দে গীত হতো। সাকুল্যে, এই যতি-পদ্ধতির ধারা হচ্ছে চারটি। যথা:—
১। লীলা-যতি = বিষমপদী তিন মাত্রার তাল।
২। আন্দোলিত-যতি = বিষমপদী ৫৷০ মাত্রা বা ১১ মাত্রার তাল।
৩। কৌমুদী-যতি = বিষমপদী ৫ মাত্রা বা দশ মাত্রার তাল।
৪। হংস-মালিকা-যতি = এর তাল-মাত্রা-ছন্দের পরিচয় আপাতত আমাদের