सामग्री पर जाएँ
सर्वकोश
संग्रह पर लौटें

सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology

पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा

DevanagariHindipublished358 पृष्ठ

অতঃপর লক্ষ্য করবার বিষয়, 'অষ্টক-এর জ্ঞাতব্য বিষয়গুলি জেনে নিতে
হয় সম্প্রদায়-পরম্পরার' নিকট থেকে, পারিজাতকার এখানে গুরু-পরম্পরার
উল্লেখ করেন নি, সম্প্রদায়ের উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, বাঙলাদেশের
ক্ল্যাসিক্যাল কীর্তন ৷৷ মথুরা-বৃন্দাবন-অঞ্চলের বিঞ্চপদ এবং কৌলীন্যের সঙ্গে
যেমন সম্প্রদায় বিশেষের একটা ঐতিহ্যমণ্ডিত সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়, আলোচ্য-
ক্ষেত্রে অনুরূপ একটি 'সম্প্রদায়'-এর কথা বলেছেন পারিজাতকার। যেমন—
একজন ঘরোয়াণাদার মুসলমান ওস্তাদের নিকট যে কোন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ
না করেও গান শিখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পরিচিতিটা হবে গুরু-পরম্পরা।
কিন্তু, বাঙলাদেশে এমন ( বৈষ্ণব ) সম্প্রদায়ের কীর্তনীয়া আজও রয়েছেন যারা
বৈষ্ণব-ধর্মাবলম্বী (মতাবলম্বী?) শিষ্য ব্যতীত স্ব সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যমণ্ডিত
'কীর্তন-বিদ্যা' দান করবার কল্পনাও করতে পারেন না।—এ-ক্ষেত্রে পরিচিতিটা
হবে সম্প্রদায়-পরম্পরা। অবশ্য, সীমিত বিদ্যা নিয়েই আমরা এই আলোচনায়
অগ্রসর হয়েছি, তবুও মনে হয়, আটটি পদযুক্ত অষ্টক প্রবন্ধর সঙ্গে মথুরা
বৃন্দাবন অঞ্চলে প্রচলিত বিঞ্চপদের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ৫৯২-৫৯৬
উত্তরাদিক ভাষাভির্যত্তু ধ্রুবপদং স্মৃতম্।
বর্ণৈর্বেতেষু স্বল্পত্বং স্বরৈরত্র সমীরণ॥ ৫৯৭
উত্তরখণ্ডে অবস্থিত প্রদেশগুলির ভাষায় রচিত প্রবন্ধ-গীতিকে ধ্রুবপদ
বলে। এই ধ্রুবপদ প্রবন্ধে বর্ণের ব্যবস্থা অল্প এবং স্বরের প্রয়োগ হয়
বেশী। ৫৯৭
টিপ্পনী: শ্লোকটিতে ভাষার ভুল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মনে হয় এই
দুটি পংক্তির সঙ্গে আরও কয়েকটি পংক্তি ছিল। কিন্তু সেগুলি না পাওয়ার
জন্য ব্যাখ্যাকার্য সুসঙ্গত হচ্ছে না।
উত্তরখণ্ড অর্থে উত্তর ভারত তথা হিন্দুস্থানকে বোঝাচ্ছে। অর্থাৎ,
হিন্দুস্থানের বিভিন্ন প্রদেশের অধিকাংশ অধিবাসী যে সব ভাষা বুঝতে পারে
কিংবা যে সব ভাষায় কথাবার্তা বলতে পারে, সেই সব ভাষায় রচিত প্রবন্ধকে
ধ্রুবপদ বলে। এই ধ্রুবপদ প্রবন্ধকে অনেকে হিন্দুস্থানী ধ্রুপদ গীতি-রীতির
আদি রূপ হিসাবে কল্পনা করতে পারেন; কিন্তু, আলোচ্যক্ষেত্রে লক্ষণীয়
অহোবলের আসল বক্তব্যটি। অর্থাৎ, ধ্রুবপদ প্রবন্ধে বর্ণের ব্যবস্থা তথা
প্রয়োগ হয় অল্প এবং স্বরের প্রয়োগ হয় বেশী। কিন্তু, আমাদের পরিচিত

সঙ্গীত পারিজাত ৩২৯
ধুরপদ গীতি-পদ্ধতির মধ্যে সত্যিই কি বর্ণের তুলনায় স্বরের প্রয়োগ বেশী হয়?
অপরপক্ষে বিবেচ্য, বর্ণ ও স্বর অর্থে পারিজাতকার সঠিকভাবে কী বোঝাতে
চেয়েছেন? গীত-বর্ণ, পাট-বর্ণ, ভাষার বর্ণ কিংবা অন্য কোন বর্ণ বা অক্ষর
এবং স্বর অর্থে সরগম্-এর মতো কিছু বোঝাচ্ছেন কিংবা কাব্য-গীতির
স্বরাশ্রয়ী সুর-বিহারের কথা বোঝাচ্ছেন? বলাবাহুল্য, আজকের দিনের আমরা
যা দু' চারটি পুরোণ ধুরপদের বন্দিশ শুনতে পাই, সে বন্দিশের মধ্যে সরগম-এর
অস্তিত্ব তো নেই-ই পরন্তু, স্বরের তুলনায় ভাষা-বর্ণের ব্যবহারই অধিক বলে
মনে হয়। অধিকন্তু, ধুরপদ্ গীতি-রীতির উদ্ভবকালীন উপাখ্যানগুলিও
আলোচ্য প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য। যেমন—
(ক) রাজা মান তোমর-এর (১৪৮৬-১৫১৬ খৃঃ) পূর্ববর্তীকালে দিল্লী,
আগ্রা অঞ্চলের মেয়েরা এক রকম ঢং-এর গান গাইতো যার নাম ছিল ধুরপদ্।
প্রচলিত প্রবাদকে মর্যাদা দিলে আমাদের স্বীকার করতেই হবে, উক্ত মেয়েরা
ছিল সঙ্গীত-অজ্ঞ এবং গানগুলো ছিল ছড়া-গানের মতো কোন কিছু।
অর্থাৎ, ওই সব গানে স্বর-প্রয়োগজনিত পাণ্ডিত্য অবশ্যই প্রকাশ পেতো না।
(খ) আবুল ফজল বলেছেন, দেশের বীর পুরুষদের প্রশংসা কীর্তন করে
গোয়ালীয়র ও আগ্রা অঞ্চলে এক রকমের (চারণ গীত?) গান গাওয়া
হতো যার নাম দুরপদ্। বলা বাহুল্য, এ সব গানের মধ্যে স্বর প্রয়োগজনিত
পাণ্ডিত্য প্রকাশের অবকাশ নিশ্চয়ই থাকতো না।
(গ) রাজা মান তোমর্ যে ধুরপদ্ গীতি-রীতি উদ্ভাবন করেছিলেন তাঁর
সভা-গায়কদের (নায়ক বক্সু, মঝু, ভানু প্রভৃতি) সহায়তায়, সে ধুরপদ্
রীতির ভাষাটা গোয়ালীয়রের চলতি, উপকরণ সংগৃহীত হয়েছিল সুপ্রাচীন
সালগ-সুড়ের অন্তর্গত ধ্রুব-পদ থেকে। মতান্তরে, বিষ্ণুপদ থেকে। কিন্তু,
ধ্রুবই হোক আর বিষ্ণুই হোক, গানের পদটাই ছিল প্রধান, স্বর নয়।
তবে, তর্কের খাতিরে এখানে একটি ব্যতিক্রমের উল্লেখও করা যেতে
পারে। বীজাপুরের দ্বিতীয় আদিল শাহ্ (১৫৭৯-১৬২৬ খৃঃ) বিরচিত
‘নওরস-ই-আদিল’ গ্রন্থে যে সব গানের উল্লেখ দেখা যায়, সেই সব গানের
বন্দিশের মধ্যে হয়তো বা ভাষা-বর্ণের তুলনায় স্বরের প্রাধান্য ছিল সুর-বিহারের
কারণে—কারণ ‘তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরী-ই’ গ্রন্থের বক্তব্য অনুযায়ী ‘নওরস-ই-
আদিল’-এর গানগুলি নিরঙ্কুশ ধুরপদ্ রীতির ছিল না—ছিল ধুরপদ ও খেয়াল
রীতির মাঝামাঝি এক রকমের ধ্রুপ-খেয়াল জাতীয় গান। অর্থাৎ, কথঞ্চিৎ
২২

৩০ সঙ্গীত পারিজাত
পরিমাণে খেয়ালের অস্তিত্ব থাকার কারণে আলোচ্য গানগুলির বন্দিশ হয়তো বা
চঞ্চল ছিল তথা স্বর-প্রয়োগের আধিক্যজনিত সুর-বিহারে আকর্ষণীয় হয়ে
উঠত। বলা বাহুল্য, 'নওরস-ই আদিল' গ্রন্থে স্বরলিপির অস্তিত্ব নেই—অর্থাৎ
গ্রন্থের গানগুলি কী ধরণের ছিল সে সম্বন্ধে কিছুই জানবার উপায় নেই আমাদের
তবুও ব্যতিক্রমের নজীর হিসাবে এই গীতি-রীতিটার উল্লেখ করা যেতে পারে,
যদিও—গানগুলি এমনই কাব্য ধর্মী যে এর বন্দিশের মধ্যে স্বরাধিক্য-নিবন্ধন
সম্ভাব্য চাঞ্চল্যকে মেনে নিতে মন চায় না।
অতঃপর বিবেচ্য, পারিজাতের পূর্ববর্তী রত্নাকবে যে ধ্রুবপদের পরিচয়
উল্লিখিত হয়েছে, তার সঙ্গে আলোচ্য স্বর-প্রধান ধ্রুবপদের কোন সামঞ্জস্য
আছে কিনা। রত্নাকরের ধ্রুবপদ 'জয়ন্ত' 'শেখর' প্রভৃতি ষোলটি প্রকার
ভেদের দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে—অক্ষর-সংযুক্তির সংখ্যানুপাতে। অর্থাৎ,
রত্নাকরের ধ্রুবপদের প্রথম প্রকার জয়ন্ত' ছিল একাদশ অক্ষরযুক্ত প্রবন্ধ এবং
সর্বশেষ প্রকার 'ললিত' ছিল চাব্বিশ অক্ষরযুক্ত প্রবন্ধ। প্রবন্ধগুলির অক্ষরের
মতো ভাব তাল ও রসও ছিল বিভিন্ন। কিন্তু, এত অক্ষর অর্থে শাঈ দেব
ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন সেটাই বিবেচ্য। অধিকন্তু বিবেচ্য রত্নাকরের
অন্যতম টীকাকার কল্লিনাথের মন্তব্য। তিনি বলে গেছেন, তার সময়ে
(১৪৫৬-১৪৭৭ খৃঃ) উক্ত ধ্রুবপদগুল প্রচলিত ছিল না। অতএব পারিজাতের
ধ্রুবপদ সম্বন্ধেও আমরা কোনরূপ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছিনা। ৫৯৭
ইতি গীত প্রকরণ
বাঙ্ মাতু রুচ্যতে গেয়ং ধাতু রিত্যভিধীয়তে।
বাচং গেয়ঞ্চ কুরুতে যঃ স বাগ্গেয়কারকঃ॥ ৫৯৮
গানের বাণী বা বাক্ বা শব্দকে 'মাতু' বলে এবং সেই গানের স্বর-
বিন্যাসজাত বিভিন্ন গেয় অংশকে বলে ধাতু। যিনি 'বাক্' এবং 'গেয়' রচনা
করেন তাঁকেই বলা হয 'বাগ্গেয়কাবক'। ৫৯৮
কবিতায়াং প্রসিদ্ধো যো দেশী-রাগজ্ঞোপি ভবেৎ।
রাগ-দ্বেষ পরিত্যাগী নির্দোষঃ সার্দ্রচিত্তবান্।
ত্রিস্থান-গমকেষু ক্তো যোহয়মুত্তম ঈরিতঃ॥ ৫৯৯
যিনি খ্যাতিমান কবি, রাগজ্ঞ, ক্রোধ-দ্বেষ-বর্জিত, নির্দোষ, রসাদ্র-চিত্ত

সঙ্গীত পারিজাত ৩৩৯
এবং মন্দ্র ( উদারা ) মধ্য ( মুদারা ) ও তার ( তারা ) তিন স্থানেই গমক
প্রয়োগে সমর্থ, তাঁকেই উত্তম ‘বাগগেয়কার’ বলে। ৫৯৯
বিদধানোঽধিকং ধাতুমল্পমাতুঃ স মধ্যমঃ।
প্রকুর্বন্ রম্যকাং মাতুং স্বল্পধাতুশ্চ সোঽধমঃ॥ ৬০০
যিনি অনেক রাগ সৃষ্টি করতে পারেন কিন্তু গানের মাতু বা শব্দ রচনায়
তেমন সক্ষম নন, তাঁকে বলে ‘মধ্যম বাগগেয়কার’। আর যিনি গানের
শব্দ রচনায় পারঙ্গম অথচ তেমন স্বরজ্ঞান-সম্পন্ন নন, তাঁকে বলা হয়
‘অধম বাগগেয়কার’। ৬০০
ইতি বাগগেয়কার লক্ষণ
মার্গং দেশীঞ্চ যো বেত্তি স গান্ধর্বোহভিধীয়তে।
যো বেত্তি কেবলং মার্গং স্বরাদিঃ স নিগদ্যতে।
যো বেত্তি কেবলং দেশীং পদাদিঃ স উদীরিতঃ॥ ৬০১
গান্ধর্ব উত্তমোজ্ঞেয়ঃ সঃ স্বরাদিস্তু মধ্যমঃ।
পদাদিরধমঃ প্রোক্তো ভরতাদি মুনীশ্বরৈঃ॥ ৬০২
যে ব্যক্তি মার্গ ও দেশী—এই দ্বিবিধ পদ্ধতির সঙ্গীতেই অভিজ্ঞ তাঁকে
বলা হয় ‘গান্ধর্ব’। যিনি কেবলমাত্র মার্গ পদ্ধতির সঙ্গীতে অভিজ্ঞ তাঁর নাম
‘স্বরাদি’। আর যিনি কেবলমাত্র দেশী পদ্ধতির সঙ্গীতে পারঙ্গম তিনি
অভিহিত হন ‘পদাদি’ নামে। ভরত প্রমুখ ঋষিগণের মতে, ‘গান্ধর্ব’ উত্তম,
‘স্বরাদি’ মধ্যম ও ‘পদাদি’ অধম শ্রেণীর গায়ক। ৬০১-৬০২
টিপ্পনী: আলোচ্য সূত্রে পারিজাতকার সনাতন আতিশয্যবাদেরই
পুনরুক্তি করেছেন। উত্তম, মধ্যম ও অধম শ্রেণীর সঙ্গীতজ্ঞদের সম্পর্কে
ভরতাদি ঋষিগণ যে মন্তব্য করে গিয়েছেন, ভরতাদির যুগে হয়তো তার মূল্য
ছিল;—হয়তো তখনকার সঙ্গীত শিল্পীগণ গান্ধর্ব তথা মার্গ সঙ্গীতের ক্রিয়াসিদ্ধ
অংশ সম্পর্কে কিছুটা অভিজ্ঞ ছিলেন; কিন্তু, নাট্যশাস্ত্র পরবর্তী যুগে আলোচ্য
‘উত্তম’ ও ‘মধ্যম’ শ্রেণীর সঙ্গীত শিল্পীরা লোপ পেয়ে গিয়েছিলেন নিঃসন্দেহে।
পরন্তু, যাঁরা তদানীন্তন ভারতীয় সঙ্গীত-বিজ্ঞানের ধারক ও বাহকরূপে বরেণ্য
হয়েছিলেন তাঁরা সকলেই ছিলেন কেবলমাত্র ‘দেশী’ পদ্ধতির সঙ্গীতে পারদর্শী

৩৩২ সঙ্গীত পারিজাত
”—অর্থাৎ, শাস্ত্র-নির্দিষ্ট 'অধম' শ্রেণীর সঙ্গীতবিদ্। অপরপক্ষে গান্ধর্ব তথা
•মার্গ সঙ্গীতের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কিত ঔপপত্তিক অংশ সমূহ ভরত-পরবর্তী
যুগ থেকেই গতানুগতিক পদ্ধতিতে পুঁথিগত হয়ে আসছে—অর্থাৎ শাস্ত্রকারদের
অধিকাংশই পূর্ব সূরীদেরই চর্বিত-চর্বন করেছেন, নিজেরা কোন বিলুপ্ত তথ্যের
মর্মোদ্ধার করে 'অপৌরুষেয়'-কে বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিরূপে প্রতিষ্ঠা দিয়ে যেতে
পারেন নি। আলোচ্য প্রসঙ্গে 'পদাদি'-র সংজ্ঞাটি সম্পর্কেও একটা কথা বলে রাখা
প্রয়োজন মনে করি। পারিজাতকার যদিও বলেছেন 'ভরত প্রমুখ ঋষিগণের
মতে 'গান্ধর্ব' উত্তম, 'স্বরাদি' মধ্যম ও 'পদাদি' অধম শ্রেণীর গায়ক, কিন্তু,
পারিজাতের পূর্ববর্তী কোন সঙ্গীতশাস্ত্রে আমরা 'পদাদি' নামক কোন সংজ্ঞার
উল্লেখ পেয়েছি বলে মনে করতে পারছি না। 'পদাদি' সংজ্ঞার উদ্ভাবক
সম্ভবতঃ অহোবল-ই, কিন্তু, বিগত যুগের ভব্যতানুযায়ী তিনি নিজে কোন
সাঙ্গীতিক সংজ্ঞার উদ্ভাবকরূপে প্রমাণ রেখে যান নি, পূর্বসূরীদের
প্রতি শ্রদ্ধাবশতঃ নিজের আবিষ্কারটিকে তিনি 'অ-চিহ্নিত-ই' রেখে
গিয়েছেন। ৬০১-৬০২
তৎ বেত্তি যতি গীতং যো গায়কঃ স প্রকীর্তিতঃ।
শ্রুতি জাতি স্বরাভিজ্ঞো রসজ্ঞো জাতি গানবিৎ॥ ৬০৩
ভাষাঙ্গাদি পরিজ্ঞানী লয়জ্ঞ স্তালবিত্তমঃ।
প্রবন্ধগাননিষ্ণাতো বিবিধাপাল কোবিদঃ॥ ৬০৪
ত্রিস্থানগমকৈর্যুক্তো মধুর ধ্বনিভাগ্ ভবেৎ।
কম্পাদি দোষ-হীনশ্চ সাবধানো জিতশ্রমঃ॥ ৬০৫
শুদ্ধচ্ছায়ালগাভিজ্ঞঃ সর্বদাভ্যাসকো ভবেৎ।
এতদ্‌গুণবিশেষাচ্চ উত্তমং গায়নং জগুঃ॥ ৬০৬
যিনি যতি ও গীত সম্পর্কে অভিজ্ঞ তাকে 'গায়ক' বলা হয়। আর যিনি
শ্রুতি, শ্রুতির জাতি, স্বর, রস, জাতি-গান, ভাষাঙ্গ-গান, উপাঙ্গ-গান সম্বন্ধে
অভিজ্ঞ, তালজ্ঞ ও লয়জ্ঞদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, প্রবন্ধ গান পরিবেশনে দক্ষ;
বিভিন্ন প্রকার আলাপে বিচক্ষণ, মন্দ্র, মধ্য ও তার এই তিন স্থানেই গমক
প্রয়োগে সমর্থ, সুমধুর কণ্ঠস্বরের অধিকারী; 'কম্প' প্রভৃতি গায়ক-দোষ-শূন্য;
গীতির নিপুণ প্রয়োগ সম্পর্কে সতর্ক ও অক্লান্ত পরিশ্রমী, শুদ্ধ ও ছায়ালগ

সঙ্গীত পারিজাত ৩৩৩
গীতিতে অভিজ্ঞ এবং সর্ব্বদাই অভ্যাস-পরায়ণ—এই সকল বিশেষ গুণ-সম্পন্ন
গায়ককে ‘উত্তম গায়ক’ বলা হয়। ৬০৩-৬০৬
টিপ্পনী : পারিজাতকার ‘যতি গীতং’ অর্থে কী বোঝাতে চেয়েছেন,
আমরা অনেক চেষ্টা করেও তা বুঝতে পারলাম না। মনে হয় আলোচ্য
সূত্রটির মধ্যে কোথাও একটা মারাত্মক ভুল আছে। এ সম্বন্ধে আমরা বিদগ্ধ
পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ৬০৩-৬০৬
গুণৈঃ কতিপয়ৈহীনো নির্দোষো মধ্যমঃ স্মৃতঃ।
উক্তৈগুণৈর্বিহীনোপি সদোষো গায়নাধমঃ॥ ৬০৭
পূর্বোক্ত গায়ন-গুণসমূহের মধ্যে থেকে—মাত্র কয়েকটি গুণের অভাব যদি
কোন গায়কের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়, তাহলে সে গায়ক ‘মধ্যম গায়ক’-রূপে
অভিহিত হন। কিন্তু কোন গায়কের মধ্যে যদি সব কটি গুণেরই অভাব
পরিলক্ষিত হয়, তাহলে তিনি অভিহিত হবেন ‘অধম গায়ক’-রূপে। ৬০৭
খালুলঃ কফধাতুঃ স্যাৎ নারাটঃ পিত্তধাতুকঃ।
বোম্বকো বাতধাতুঃ স্যাণ্ মিশ্রকো মিশ্রণাদ্ ভবেৎ॥ ৬০৮
কথ্যতে লক্ষণং তেষাং খালুলো মধুরধ্বনিঃ।
আদিল্ল এব ঋষ স্যাৎ প্রৌঢ়শ্চেন্মন্দ্র মধ্যয়োঃ॥ ৬০৯
স্থানত্রয়েহপি নারাটঃ প্রগল্ভঃ সূক্ষ্মনাদকঃ।
বোম্বক রুক্ষ-শব্দঃ স্যাৎ কঠিনোচ্চতর ধ্বনিঃ॥ ৬১০
এতে ত্রাস্রগুণাঃ সর্বে তিষ্ঠন্তি মিশ্রকে পুনঃ।
শ্রেষ্ঠশ্চ ত্রিষু মিশ্রঃ স্যাদ্ গুণবাহুল্য যুক্ততঃ॥ ৬১১
যে গায়কের ধাতু কফ-প্রধান তাকে বলে খালুল। যার ধাতু পিত্ত-প্রধান
তাকে বলে নারাট। যার ধাতু বায়ু-প্রধান তাকে বলে বোম্বক। আর যার
ধাতুতে বায়ু-পিত্ত-কফ এই তিনটিই বিদ্যমান থাকে তাকে বলে মিশ্রক।
অতঃপর এই সব গায়কের লক্ষণাদি বলা যাচ্ছে : কফ প্রাধান্য হেতু খালুল
গায়কের কণ্ঠস্বর মধুর হয়। অবশ্য, আদিল্ল নামক এক শ্রেণীর খালুল গায়ক
আছে যাদের কণ্ঠস্বর মন্দ্র ও মধ্যস্থানে উত্তমরূপে নির্গত হয়। নারাট
গায়কদের ধাতু পিত্ত-প্রধান হওয়ার জন্য তাদের কণ্ঠস্বর মন্দ্র, মধ্য ও তার—

৩৩৪ সঙ্গীত পারিজাত
এই তিন স্থানেই প্রগলভ ও সুস্থস্বরূপে বিরাজ করতে পারে। বোধক গায়কদের
ধাতু বায়ু-প্রধান হওয়ার কারণে তাদের কণ্ঠস্বর হয় তেমনি উঁচু তেমনি রূক্ষ
তেমনি কড়া। অপরপক্ষে, 'মিশ্রক' গায়কদের মধ্যে উপরোক্ত ত্রিবিধ ধাতুভাত
গুণাবলীই বিদ্যমান থাকে। অতএব, কণ্ঠস্বরের গুণবাহুল্যের কারণে 'মিশ্রক'
গায়করাই সর্বশ্রেষ্ঠ। ৬০৭--৬১১
টিপ্পনী: খালুল, নারট, মিশ্রক, প্রভৃতি গায়কদের সম্পর্কে বিস্তৃতভাবে
জানতে হলে রত্নাকরের শরণাপন্ন হওয়া কতব্য। ৬০৮ ৬১১
সংদষ্টকাদিক দোযাঃ স্যু স্ত্রিংশচ্চ গায়নেসতি।
সংদষ্টোদঘৃষ্ট সীৎকারী ভীত শঙ্কিত কম্পিতাঃ॥ ৬১২
করালী বিকলঃ কাকী বিতালঃ করভোদ্ভটৌ।
ঘোষড় স্তম্ভকী বক্রী ফুল্লগল্ল প্রসারিণৌ॥ ৬১৩
নিমীলকো হতস্বরো বিরসোহব্যক্ত মিশ্রকৌ।
অনবধানকঃ প্রোক্তঃ স্থান ভ্রষ্টান্যুনাসিকো।
বিমনাশ্চালকো দোল এক দৃষ্ট্যূর্ধগায়িনো॥ ৬১৪
অধম শ্রেণীর গায়কদের মধ্যে 'সংদষ্ট' প্রভৃতি ত্রিশ রকমের দোষ থাকতে
পারে।
যথা—
১। সংদষ্ট ২। সীৎকারী ৩। ভীত ৪। শঙ্কিত ৫। কম্পিত
৬। করালী ৭। বিকল ৮। কাকী ৯। বিতাল ১০। করভ ১১।
উদ্ভট ১২। ঘোষড় ৩। স্তম্ভকী ১৪। বক্রী ১৫। ফুল্লগল্ল ১৬।
প্রসারী ১৭। নিমীলক ১৮। হতস্বর ১৯। বিরস ২০। অব্যক্ত ২১।
মিশ্রক ২২। অনবধানক ২৩। স্থান-ভ্রষ্ট ২৪। আনুনাসিক ২৫। বিমনা
২৬। চালক ২৭। দোল ২৮। একদৃষ্টি ২৯। ঊর্ধ্বগায়ী ৩০।? ৬১১-৬১৪
টিপ্পনী: গ্রন্থকার ত্রিশ রকম দোষের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু
নাম করেছেন মাত্র ঊনত্রিশটির। অধম গায়কদের 'দোষ'-এর সংখ্যা সম্বন্ধে
বিভিন্ন গ্রন্থকার ভিন্ন ভিন্ন অভিমত পোষণ করেন। সেই কারণে পারিজাতের
ত্রিশ সংখ্যক 'দোষ'-টির সঠিক পরিচয় দেওয়া তথা অনুমানকে প্রশ্রয় দেওয়া
আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করছি না। ৬১২-৬১৪

্রিয়াস্তু যঃ॥ ৬২৬
Wait, is it "শক্তোতি" or "শক্রোতি"?
It is শক্রোতি (śakroti, common error for śaknoti).
Look at the letter: শ with ক and র-phala: শক্রোতি!
And "মন্দোগান-ক্রিয়াস্তু": মন্দোগান-ক্রিয়াস্তু যঃ॥ ৬২৬.

Let's check line 25:
স্থান ভ্রষ্টঃ স কথিতো গানজ্ঞৈ গায়নেহধমঃ।
স্থান ভ্রষ্টঃ স কথিতো গানজ্ঞৈ গায়নেহধমঃ।
Wait, "গায়নেহধমঃ" or "গায়নোহধমঃ"?
It has e-kar: গায়নেহধমঃ!

Let's check line 26:
গ্যেন্নং নাসিকয়া গায়ন্ কথ্যতে সানুনাসিকঃ॥ ৬২৭
Wait, first word:
গ্যেন্নং?
Look at the characters:
গ + ে + য় + ে + ন + ্ন?
Wait! In Sanskrit: "गेयं तु नासिकया गायन्" / "गानं तु नासिकया गायन्".
Look at the print:
First letter: গে
Second: য়ং? No,

৩৩৬ সঙ্গীত পারিজাত

মস্তকং দোলয়ন্ গায়দ্ যঃ স দোল উদাহৃতঃ।
দৃষ্টিকমেকত্র সংস্থাপ্য গীতং গায়তি যঃ সদা ॥ ৬২৯
একদৃষ্টিঃ সতু প্রোক্তো গায়কঃ সর্বতোহধমঃ।
মুখমুদ্দ্বৃত্য যো গায়ে দূর্ধ্বগায়ী স ঈরিতঃ॥ ৬৩০
(১) যে গায়ক সঙ্গীতের বাক্যাংশগুলিকে দংশন করে বা দাঁতে চেপে
উচ্চারণ করে তাকে ‘সন্দষ্ট’ গায়ক বলে। ‘সন্দষ্ট’ গায়কের অক্ষর-দংশন করে
গান গাওয়ার ফলে রাগ-ভ্রষ্ট ও রস-হানি ঘটে। (২) ক্রমাগত সীৎকারের সঙ্গে
যে গান করে—অর্থাৎ জিভ দিয়ে ঝোল্-টানার মতো শব্দ করে যে গান করে
তাকে ‘সীৎকারী’ গায়ক বলে। (৩) যে গায়ক ভয় পেয়ে গিয়ে গান করে
তাকে ‘ভীত’ গায়ক বলে। (৪) যে গায়ক অপর কোন বিচক্ষণ গায়কের
অনুরোধে গান গাইতে আরম্ভ করে, উত্তেজনা বশতঃ সঙ্গীত-পরিবেশনটাকে
ত্বরান্বিত করে ফেলে, তাকে বলে ‘শঙ্কিত’ গায়ক। (৫) গান গাইবার সময় যে
গায়কের কণ্ঠস্বর এবং শরীর দুই-ই কাঁপতে থাকে—ঘাবড়ে যাওয়ার ফলে নয়,
স্বভাবতই কাঁপতে থাকে তাকে ‘কম্পিত’ গায়ক বলে। (৬) যে গায়ক সমগ্র
মুখমণ্ডল উঁচু করে (উটের মতো) গান করে তাকে বলে ‘করালী’ গায়ক।
(৭) যার কণ্ঠস্বরে সঠিক শ্রুতি উদ্‌গীত হয় না, অর্থাৎ, যার কণ্ঠস্বর স্বভাবতই
কিছুটা কম বা বেশী শ্রুতিযুক্ত তাকে বলে ‘বিকল’ গায়ক। (৮) যে গায়কের
কণ্ঠস্বর কাকের মতো কর্কশ, তাকে ‘কাকী’ গায়ক বলে। (৯) যে গায়কের
লয়-জ্ঞান নেই তাকে বলে ‘বিতাল’ গায়ক। (১০) যে গায়ক কাঁধের ওপর
মাথা হেলিয়ে গান গায় (বা করতলের ওপর চিবুক রক্ষা করে
মাথা হেলিয়ে গান গায়) তাকে ‘করভ’ গায়ক বলে। (১১) যাদের
কণ্ঠস্বর ছাগলের মতো সেই শ্রেণীর অধম গায়ককে ‘উদ্‌ভট’ বলে। (১২)
গান গাইবার সময় যাদের কপাল, মুখ, গ্রীবাদেশ প্রভৃতির শিরাগুলি ফুলে
ওঠে সেই অধমাধমদের বলে ‘ঘোষক’ গায়ক। (১৩) গান গাইবার সময়
যে সব গায়কের মুখমণ্ডল লাউয়ের খোলার মতো (তান্পুরার তূম্বার মতো)
আকার ধারণ করে তাদেরকে বলে ‘তূম্বকী’ গায়ক। (১৪) গান গাইবার
সময় সে গায়ক মুখ-বিকৃতি করে তাকে ‘বক্রী’ গায়ক বলে। (১৫) যে সব
গায়ক গাল-গলা ফুলিয়ে গান করে তাদেরকে বলে ‘ফুল্ল-গল’ গায়ক। (১৬)
যে গায়ক গান গাইবার সময় মুখ প্রসারিত করে, অর্থাৎ বড্ড বেশী হাঁ

করে গান করে তাকে ‘প্রসারী’ গায়ক বলে। (১৭) যিনি চোখদুটি নিমীলিত
করে গান করেন তাঁকে বলে ‘নিমীলক’ গায়ক। (১৮) যে গায়ক রাগের
বর্জিত স্বরগুলিকে বর্জন না করেই গান গেয়ে ফেলে তাকে বলে ‘হতস্বর’
গায়ক। (১৯) যাদের গানে রঞ্জনী শক্তির অভাব পরিলক্ষিত হয় এবং যা
শ্রোতাদের কানে অত্যন্ত নীরস শোনায়, সেই সব অধম গায়কদের বলে ‘বিরস’
গায়ক। (২০) গান গাইবার সময় যে সব গায়কের বাণী, অর্থাৎ গানের
কথাগুলি অস্পষ্ট বা অব্যক্ত শোনায়, সেইসব গায়ককে বলে ‘অব্যক্ত’ গায়ক।
(২১) যে সব গায়ক গান গাইবার সময় রাগ ঠিক রাখতে পারেনা, অন্য সব
সমপ্রকৃতির রাগের সঙ্গে গোলমাল করে ফেলে, তাদেরকে বলে ‘মিশ্রক’
গায়ক। (বলা বাহুল্য, এই ‘মিশ্রক’ আর ৬১১ সূত্রের ‘মিশ্রক’ অভিন্ন নয়।
এখানে মনে রাখতে হবে ‘মিশ্রক’ গায়ক দু’ রকমের হয় : প্রথমতঃ যাঁদের
কণ্ঠস্বর বায়ু-পিত্ত-কফ জনিত গুণ-বাহুল্যে মিশ্রক অর্থাৎ স্বকণ্ঠের অধিকারী
সবশ্রেষ্ঠ গায়ক,

৩৩৮ সঙ্গীত পারিজাত
'পরিচিতি' পত্রস্থ করেন নি, সে কথা ৬১২-১৪ সূত্রের টিপ্পনীতে বলেছি।
উপরোক্ত ২৯ সংখ্যক অধম গায়ক 'ঊর্দ্ধগায়ী'-র সঙ্গে ৬ সংখ্যক অধম গায়ক
'করালী'-র পার্থক্যটাও অনুধাবনযোগ্য। 'করালী'-গণ সমগ্র মুখ-মণ্ডলটিকে
উঁচু করতো এবং 'ঊর্দ্ধগায়ী'-গণ কেবলমাত্র মুখটি উঁচু করে গান গাইতো।
পার্থক্যটা সম্ভবতঃ অনেকের নিকটেই সুস্পষ্ট হবেনা। ৬৩০
দ্বৌ দোষৌ পুনরুচ্যেতে ইতি পাদপ-শাবকৌ।
তাল রাগৌ ন জানাতি যো গায়েৎ পাদপো ভবেৎ॥
অজ্ঞাত্বা গীতমর্থং যো গায়েদসৌ তু শাবকঃ॥ ৬৩১
পরিশেষে, 'পাদপ' ও 'শাবক' নামক আরও দু' রকম অধম গায়কের
লক্ষণ বলা যাচ্ছে। যে গায়ক রাগ ও তাল সম্বন্ধে অনভিজ্ঞ অথচ গান গাইবার
প্রলোভন ত্যাগ করতে পারেনা তাকে বলে 'পাদপ'। আর যে গায়ক গানের
অর্থ না বুঝে গান করে তাকে বলে 'শাবক'। ৬৩১
টিপ্পনী: গ্রন্থ অনুল্লিখিত ত্রিশ সংখ্যক অধম গায়করূপে 'পাদপ' ও
'শাবক'-কে গণনা করা যেতে পারেনা যেহেতু সংখ্যাটা তাহলে একত্রিশ
হয়ে যাবে। কিন্তু, পাদপ ও শাবক-কে 'অধম গায়কদের' মূল শ্রেণী-বিভাগের
মধ্যে স্থান না দিয়ে অধিকন্তু হিসাবে পরিচিত করা হলো কেন, সেটাও
বিবেচ্য। বিবেচ্য, এই দুটি 'অধম'-কে, পারিজাতের বিষয় বস্তুরূপে, অহোবলের
পরবর্তীকালে সংযোজিত করা হয়েছিল কিনা।
ইতি গায়ক গুণদোষ।
ইতি কৃষ্ণপণ্ডিত সুতাহোবল-বিরচিতে
সঙ্গীত পারিজাতে রাগ গীত-বিচারোনাম
প্রথমঃ কাণ্ডঃ
ইতি শ্রীভারতী-পুত্র
জ্ঞানাচার্য্য-বীণকার শ্রীপ্রমথনাথ দেবশর্মনঃ
শিষ্যাধমশ্চতুর্বিংশ পরগণান্তর্গত রামবাটী-গোপালনগরনিবাসী
মিত্রকুলোদ্ভব শ্রীমণীন্দ্রনাথ মিত্র-সুত-শচীন্দ্রনাথ মিত্রবিরচিতমনবদ্য
বিদ্যাবিনোদ শ্রীমদহোবলকৃত সঙ্গীত-পারিজাত-ভাষ্যমিদম্
নেত্রবাণ ত্রয়োদশ বঙ্গাব্দে অক্ষয়-তৃতীয়া-দিবসে সমাপ্তম্।
শুভমস্তু

শুদ্ধিপত্র

পৃষ্ঠাপংক্তিঅশুদ্ধশুদ্ধ
২৫ত্ৰয়াত্বয়া
২৭সৃষ্টসৃষ্টি
৯৫বম্বায়োহপিবহ্ব্যোঽপি
১১১১মৃদুস্থিতিমৃদুস্তিতি
১৪১১শ্রুতিয়াতিশ্রুতীয়াতি
১৪১৮কোমলাদিভারিতঃকোমলাদিভিরীরিতঃ
১৬১৪screlyrarely
১৮১৪ব্রাহ্মণোব্রাহ্মণা
২৪১৭চতুঃশ্রুতিনির্ষাদঃচতুঃশ্রুতিনিষাদঃ
২৬৯স্যাৎস্যাদ
৩৮২১তীব্রতম ধাতীব্রতর ধা
৩৮২২তীব্ৰতম ধাতীব্রতর ধা
৪১১৯চাৰ্ত্তগুরুপাঁচটি শুদ্ধ
৪২৮( · · পূর্ব, কোমল··· )(···কোমল, তীব্র··· )
৪৩৮স্থানবাশীত্যমৃতংস্থাণ্বাশীত্যাযুতং
৪৩১৮সুবিংশত্যাসুবিংশত্যা
৪৪২২সষট্ত্রিংশচ্ছতত্রয়মসষট্ত্রিংশচ্ছতত্রয়ম্
৪৬১৪ষড়জসংজ্ঞকেষড়্‌জসংজ্ঞকে
৫১১৬নেত্রকাশাগ্নয়ঃনেত্রাকাশাগ্নয়ঃ
৬৩৪প্রস্তরোপ্রস্তারা
৬৪৪ছয়বারদুবার
৬৮৫তিন স্বরের মতো,বাদ যাবে
৭১৮স্থিতাস্থিত্বা
৭১১০স্যাদেতৈকস্মিনস্যাদেতৈকস্মিন্
৭১২১ভেদাস্তভেদাস্তু

৩৪০ সঙ্গীত পারিজাত
পৃষ্ঠা পংক্তি অশুদ্ধ শুদ্ধ
৭৭ ১৩ হনুমান হনুমান্
৭৭ ২২ সৰ্ব্বজ্ঞ সৰ্ব্বজ্ঞঃ
৮৪ ১৮ জ্যোতি জ্যোতি
৮৬ ১৮ সুধী সুধীঃ
৮৬ ১৯ চারটি চার্বটি
৮৯ ২৭ সংবাদিভ্যাং সম্বাদিভ্যাং
৯০ ১৩ এবং এই অবলোকিত এই ভাবেই আরোহ
...সঞ্চারী অলংকার অবরোহ সংযোগে
সঞ্চারী অলংকারগুলি
সৃষ্ট হয়েছে।
৯১ ১০ গুরুত্বাপি গুরুশ্চাপি
৯২ ৪ “বিরামাদি...” “লদ্বয়ম্ বিরামাদি...”
৯২ ১১ “দ্বৌ লৌ দ্বৌ লৌ “দ্বৌ লৌ দ্বৌ দৌ
লঘুদ্ধৌ... লঘুদ্বৌ...
৯১ ১২ দ্বৌ দ্বৌ
৯২ ২১ স্যাদলঙ্কারো স্যাদলঙ্কারো
৯২ ২২ সারে সারে সারে গামা সারে সারে গামা
৯৬ ১৬ ১ ১/২ + ১ ১/২ + ৩ = ৫ ১ ১/২ + ১ ১/২ + ২ = ৫
৯৪ ১৯ লোকেহসৌ লোকেসৌ বা
লোকেহসে
১০৪ ১৯ একস্ফালন একাষ্ফালন
১০৫ ২০ দ্রুতস্য দ্রূতস্য
১০৭ ১৬ সূচালুঃ সূচানুঃ
১১৩ ৮ ৮ ১৮
১১৫ ২৭ ২, ২২,
১১৭ ১৩ ব্যঞ্জনশক্তিমান ব্যঞ্জনশক্তিমান্
১১৮ ২৩ করেছে করছে
১২৫ ২৯ অসমঞ্জস্য অসামঞ্জস্য
১২৮ ২ মুখারা মুখারী

শুদ্ধিপত্র ৩৪১
পৃষ্ঠা পংক্তি অশুদ্ধ শুদ্ধ
১৩৪ ৯ স্বরোজ্জ্বিতঃ স্বরোজ্জিতঃ বা
স্বরোজ্ঝিতঃ
১৩৭ ৪ পস পম
১৩৭ ২৪ গ-নী গ-নী
১৩৮ ১০ পূবাখা পূর্ব্বাখ্য
১৩৮ ১২ রিসমপ রিমমপ
১৪০ ১৭ নস্তৌ নস্তো
১৪০ ১৯ সমগমনি সমগসনি
১৪০ ২৫ গ নী গ-নী
১৪০ ২৭ মনিরীসা মাগরীসা
১৪১ ৭ নস্তৌ নস্তো
১৪২ ১৪ গ নী গ-নী
১৪৩ ৩ গ-নী গ-নী
১৪৫ ১০ স-ন্যাসৌ স-ন্যাসো
১৪৬ ৮ নী নী
১৪৬ ৬ ধা ধা মা সা ধা ধা নী সা
১৪৭ ৭ প্রোক্তো প্রোক্তৌ
১৪৭ ১১ ারম নিস রিস নিস
১৫০ ১ রিণাত্যাক্তাখ্বারাহিকা রিণাত্যাক্তাবরোহিকা
১৫৭ ১৬ স্যামমূহ'ন! স্যন্মূর্ছ'না
১৫৮ ২১ সংন্যাসা শবিতূষিতঃ স-ন্যাসাংশবিভুষিতঃ
১৫৯ ১৬ পঞ্চমাংস পঞ্চমাংশ
১৬৮ ১০ মালবগোলগুশ্মিন্ মালবগৌলেহস্মিন্
১৬৮ ১১ ত্যক্ত-ধে-১০ ত্যক্ত-ধে রি-
১৭০ ৪ বর্সাঙ্গীন সর্ব্বাঙ্গীন
১৭০ ১৮ ( ঘ কম্পনং সর্বত্র ) ( গে কম্পনং সর্ব্ব )
১৭৫ ২৫ কেদারনাটোহস্মিন্ কেদারনাটেহস্মিন্
১৭৫ ২৬ তীব্রাবরোহে ধ- তীব্রাবরোহে ধ-
গোজম্বিতে গোজ্ঝিতে

৩৪২ সঙ্গীত পারিজাত
পৃষ্ঠা পংক্তি অশুদ্ধ শুদ্ধ
১৮১ ১৩ ( তান সমাপ্তে ) গে বিকর্ষণম্ ) ( তান সমাপ্তৌ গে বিকর্ষণম্ )
১৮৬ ২ সম্প্ৰয়ে সম্প্ৰোক্তো
১৮৮ ৬ ম-স্বরোজঝিতা ম-স্বরোজ্ঝিতা
১৮৮ ৭ ষড়জোদ্গ্রাহাংশ স্থিরো ষড়জোদ্গ্রাহাংশ রি-স্বরা
১৯৮ ৮ স্যামাদিঃ স্যান্নাদিঃ
১৯৯ ৮ স্যাদ্ভারোদ্গ্রাহ স্যাদ্ভাবোদ্গ্রাহ
২০১ ১০ নৈন্যাযুক্ত মা নৈন্যাযুক্তা যা
২০৩ ৬ মানবমতা মানবীমতা
২০৪ ১২ গ্রাহোথ গ্রাহাথ
২০৫ ৬ রি-পা-ভ্যামুজ্জিহতো রি-পাভ্যামুজ্ঝিতো
২০৭ ১৮ স্ত স্তু
২০৭ ২৭ চত্বারিংশচ্ছৎ চত্বারিংশচ্ছত
২০৮ ৫ চত্বাবিংশচ্ছৎ চত্বারিংশচ্ছত
২১১ ১৫ একস্মৈন্নোডবে একস্মিন্নোড়বে
২২৮ ১৯ প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়,
২২৯ ২৩ আলাপাদি নিবন্ধ আলাপাদি নিবন্ধো
২৩৮ ৮ রূপকেস্থ রূপকেষু
২৪৬ ২১ বিলম্বিণী বিলম্বিনী
২৪৮ ১১ নির্ঘটু নির্ঘণ্টু
২৫০ ২৩ ভে ভূমি মে ভূমি
২৫৪ ১৭ স্তত্যাশ্লোেক স্তত্যাশ্লোক
২৬২ ৪ কোমলং কৌমল্যং
২৬৫ ১০ ঘোষড়ে নব ঘোষড়েন চ
২৬৫ ১৬ তঙ্কেত্যবগস্তরর্ তঙ্কেত্যবগন্তব্যম্
২৬৭ ২ বন্দ্যদিমং বন্দ্যাদিমং
২৬৭ ৩ মিত্যেযং লক্ষ্ম মিত্যেষাং লক্ষ্ম
২৬৭ ৫ নান নাম

শুদ্ধিপত্র ৪৪৩
পৃষ্ঠা পংক্তি অশুদ্ধ শুদ্ধ
২৬৭ ৫ গাত্ৰনেত্ৰোগ্ৰহৈঃ গাত্ৰনেত্ৰোগ্ৰ'হৈঃ
২৬৭ ৫ গ্রহৈঃ গ্ৰ'হৈঃ
২৬৭ ৬ রাসতালো রাসস্তালো
২৬৭ ৭ তদ্বদন্তাস্তাপি তৎতদ্বদন্তাস্তাপি
২৬৮ ১০ গমকালুপ্তি গমকালপ্তি
২৮০ ১৬ ৪ + ৪ + ৪ + ৪ + ২ + ২ + ২ ৪ × ২ = ৮
২৮৩ ২৯ কলহংসস্যা কলহংসস্য
২৮৪ ১ ন কূটভেদেষ্ণু নং কূটভেদেষ্ণু
২৮৬ ৮ দোধকো দোধকং
২৮৮ ১৮ যদ্ধ্বজতং যদ্ধ্বজাতং
২৮৯ ১৫ দু রকমের হতো তিন রকমের হতো
যথা—(১) দিব্য ও যথা—(১) দিব্য,
(২) দিব্যমানুষী (২) মানুষী ও
(৩) দিব্যমানুষী
২৮৯ ১৭ দিব্য এবং দিব্য, যে মাতৃকা প্রবন্ধ
প্রাকৃত ভাষায় রচিত
হতো তাকে বলা হতো
মানুষী এবং
২৯২ ১০ প্রবন্ধ'ম প্রবন্ধটি
২৯২ ১৫ প্রবন্ধটির প্রবন্ধটি
২৯৩ ২৯ তাল লয় তাল নয়
২৯৪ ২৭ অনুরূপ, অনুরূপ
২৯৫ ২২ থাকতে থাকতো
২৯৮ ২৮ শ্রীরঙ্গ শ্রীরঙ্গঃ
৩০০ ৯ স্যাজ্জয়ঃপ্রদঃ স্যাজ্জয়প্রদঃ
৩১২ ৪ পাওয়া হতো গাওয়া হতো
৩১৪ ১২ পাওয়া হতো গাওয়া হতো
৩১৭ ২৯ ন্যাসনং ন্যসনং
৩১৭ ৩০ ন্যাসনং ন্যসনং

সঙ্গীত পারিজাত
৩৪৪
পৃষ্ঠা পংক্তি অশুদ্ধ শুদ্ধ
১১৮ ৭ একদ্বির্ভশ একদ্বিত্রাশ
৩১৮ ৭ ন্যাসং ন্যসনং
৩১৮ ১১ তা হতো
৩১৮ ১৫ হরি-বিলাসকরূপে হর-বিলাসকরূপে
৩১৮ ১৭ হরি-বিলাসকও হর-বিলাসকও
৩১৯ ১০ বিরমন্তো লঘু বিরামান্তৌ লঘু
৩২৫ ৩ ওবীস্বল্লাক্ষরৈর্বর্ণৈর্জাতা ওবীস্বল্পাক্ষরৈর্বর্ণৈর্জাতা
৩২৫ ৬ বহুভি বহুভিঃ
৩২৬ ১৩ 'দিন্তী' 'দিত্তী'
৩২৬ ১৫ 'দিন্তী'র 'দিত্তী'-র
৩২৬ ১৬ 'দিন্তী'ও 'দিত্তী'ও
৩২৬ ১৮ 'দিন্তী'র 'দিত্তী'র
৩২৭ ১ দরুদ্রুত দর্ভদ্রুত
Sailen Roy.
Khowai
Chebri,
T. (W)