सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
पृष्ठ 343, कुल 358 में से
संदर्भ में पढ़ेंসঙ্গীত পারিজাত ৩২৯
ধুরপদ গীতি-পদ্ধতির মধ্যে সত্যিই কি বর্ণের তুলনায় স্বরের প্রয়োগ বেশী হয়?
অপরপক্ষে বিবেচ্য, বর্ণ ও স্বর অর্থে পারিজাতকার সঠিকভাবে কী বোঝাতে
চেয়েছেন? গীত-বর্ণ, পাট-বর্ণ, ভাষার বর্ণ কিংবা অন্য কোন বর্ণ বা অক্ষর
এবং স্বর অর্থে সরগম্-এর মতো কিছু বোঝাচ্ছেন কিংবা কাব্য-গীতির
স্বরাশ্রয়ী সুর-বিহারের কথা বোঝাচ্ছেন? বলাবাহুল্য, আজকের দিনের আমরা
যা দু' চারটি পুরোণ ধুরপদের বন্দিশ শুনতে পাই, সে বন্দিশের মধ্যে সরগম-এর
অস্তিত্ব তো নেই-ই পরন্তু, স্বরের তুলনায় ভাষা-বর্ণের ব্যবহারই অধিক বলে
মনে হয়। অধিকন্তু, ধুরপদ্ গীতি-রীতির উদ্ভবকালীন উপাখ্যানগুলিও
আলোচ্য প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য। যেমন—
(ক) রাজা মান তোমর-এর (১৪৮৬-১৫১৬ খৃঃ) পূর্ববর্তীকালে দিল্লী,
আগ্রা অঞ্চলের মেয়েরা এক রকম ঢং-এর গান গাইতো যার নাম ছিল ধুরপদ্।
প্রচলিত প্রবাদকে মর্যাদা দিলে আমাদের স্বীকার করতেই হবে, উক্ত মেয়েরা
ছিল সঙ্গীত-অজ্ঞ এবং গানগুলো ছিল ছড়া-গানের মতো কোন কিছু।
অর্থাৎ, ওই সব গানে স্বর-প্রয়োগজনিত পাণ্ডিত্য অবশ্যই প্রকাশ পেতো না।
(খ) আবুল ফজল বলেছেন, দেশের বীর পুরুষদের প্রশংসা কীর্তন করে
গোয়ালীয়র ও আগ্রা অঞ্চলে এক রকমের (চারণ গীত?) গান গাওয়া
হতো যার নাম দুরপদ্। বলা বাহুল্য, এ সব গানের মধ্যে স্বর প্রয়োগজনিত
পাণ্ডিত্য প্রকাশের অবকাশ নিশ্চয়ই থাকতো না।
(গ) রাজা মান তোমর্ যে ধুরপদ্ গীতি-রীতি উদ্ভাবন করেছিলেন তাঁর
সভা-গায়কদের (নায়ক বক্সু, মঝু, ভানু প্রভৃতি) সহায়তায়, সে ধুরপদ্
রীতির ভাষাটা গোয়ালীয়রের চলতি, উপকরণ সংগৃহীত হয়েছিল সুপ্রাচীন
সালগ-সুড়ের অন্তর্গত ধ্রুব-পদ থেকে। মতান্তরে, বিষ্ণুপদ থেকে। কিন্তু,
ধ্রুবই হোক আর বিষ্ণুই হোক, গানের পদটাই ছিল প্রধান, স্বর নয়।
তবে, তর্কের খাতিরে এখানে একটি ব্যতিক্রমের উল্লেখও করা যেতে
পারে। বীজাপুরের দ্বিতীয় আদিল শাহ্ (১৫৭৯-১৬২৬ খৃঃ) বিরচিত
‘নওরস-ই-আদিল’ গ্রন্থে যে সব গানের উল্লেখ দেখা যায়, সেই সব গানের
বন্দিশের মধ্যে হয়তো বা ভাষা-বর্ণের তুলনায় স্বরের প্রাধান্য ছিল সুর-বিহারের
কারণে—কারণ ‘তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরী-ই’ গ্রন্থের বক্তব্য অনুযায়ী ‘নওরস-ই-
আদিল’-এর গানগুলি নিরঙ্কুশ ধুরপদ্ রীতির ছিল না—ছিল ধুরপদ ও খেয়াল
রীতির মাঝামাঝি এক রকমের ধ্রুপ-খেয়াল জাতীয় গান। অর্থাৎ, কথঞ্চিৎ
২২