सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
[ ঝ ]
আধুনিক যুগের সঙ্গীত অনুসন্ধিৎসুদের পক্ষে একান্তভাবেই প্রয়োজন। এই
অভিনবত্ব সম্বন্ধে আমরা যথাস্থানেই আলোচনা করবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু,
আলোচ্য প্রসঙ্গে এ কথাও উল্লেখযোগ্য যে, পারিজাত পাঠ করবার সময়
অনেকের নিকটেই, কয়েকটি সূত্রের বক্তব্য বিষয় সম্পর্কে কিছু সংশয় উপস্থিত
হবে। এই সংশয়গুলির নিরসনের কোন ইঙ্গিত বা নির্দেশ কোথাও না থাকার
জন্য—অন্ততঃ যে কয়খানি মুদ্রিত গ্রন্থ আমাদের সংগ্রহে আছে তার মধ্যে না
থাকায়, আমরা এখানে সেই সংশয়গুলি সম্পর্কে কথঞ্চিৎ আলোচনার সুযোগ
গ্রহণ করা কর্তব্য মনে করছি। যথা—
১৪ পৃষ্ঠার ৭০ সংখ্যক সূত্রে আমরা পাচ্ছি “তদা তীব্রতমাখ্যাঙ্ক” ইত্যাদি।
কিন্তু এটি হওয়া উচিত “তদাতিব্রতমাপ্যাঙ্ক” ইত্যাদি। কারণ, তীব্রতম
গা সম্পর্কে যথাস্থানে যথাযথ ব্যাখ্যাই দেওয়া হয়েছে।
৩০ পৃষ্ঠার ১০৮ সংখ্যক সূত্রে বিকৃত স্বর-মূর্চ্ছনা ষাডব ও ঔড়ব হয় বলে
লেখা আছে। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে এই স্বর-মূর্চ্ছনা সম্পূর্ণ, ষাডব ও ঔড়ব এই
তিন প্রকারেরই হতে পারে!
৩৯ পৃষ্ঠায় ১১৯ সংখ্যক সূত্রে অহোবল বিকৃত মূর্চ্ছনার বিভিন্ন সংখ্যা
দিয়েছেন। এই সংখ্যা বার করবার সময় তিনি কোথাও কোথাও ১-রে ও
৪-গা, ৪-ধা ও ৪-নি ইত্যাদি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে ৪-টি বিকৃত
গা গ্রহণ করলে ৪-টি বিকৃত রে-কে গ্রহণ করা সম্ভবপর নয়, কারণ, যার
নাম তীব্রতর রে তারই অপর নাম শুদ্ধ গা এবং তাকে গ্রহণ করলে পূর্ব্ব-গা-কে
বাদ দেওয়া চলে না যেহেতু যার নাম পূর্ব্ব-গা তারই অপর নাম শুদ্ধ রে।
তা' ছাড়া তীব্র-রে ও কোমল-গা-ও স্বর হিসাবে অভিন্ন। সুতরাং এদের একত্র
ব্যবহার কিছুতেই সম্ভবপর নয়। অপরপক্ষে, ধা ও নি-র ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা
একই রকমের।
৩৯ পৃষ্ঠার ১২০ সংখ্যক সূত্রে অহোবল “পূর্ব্ব-কোমলৌ” শব্দটি ব্যবহার
করেছেন।—আমরা জানি, তীব্র রে ও তীব্র-ধা যথাক্রমে কোমল-গা ও
কোমল-নি থেকে অভিন্ন, কিন্তু, পূর্ব্ব-গা ও পূর্ব্ব-নি তো এদের থেকে ভিন্ন।
তাহলে, রে-ধা তীব্র ব্যবহৃত হলে পূর্ব্ব-গা-নি ব্যবহার করা যাবে না কেন?—
মনে হয় আলোচ্য সূত্রটি মূলে এ রকম ছিল না; পরবর্তী কালের কোন
নকল নবিশের অসাবধানতায় বিকৃত হয়ে গিয়েছে!
[ [ ঞ ] ]
১০-১৪ পৃষ্ঠায় ২৮০-২৮৫ সূত্রগুলির মাধ্যমে অহোবল ধ্রুব, মঠ্য প্রভৃতি
তালের বর্ণনা দিয়েছেন। আমরা ঐ তালগুলি সম্বন্ধে, সাধারণভাবে,
সঙ্গীত-রত্নাকরের মতেই উল্লেখ করেছি। কিন্তু, অহোবলের গ্রন্থরচনার
কাল-কে বিচার করলে দেখতে পাবো—ঐ আমলে ধ্রুবতাল ছিল ১৪ মাত্রার,
মঠ্যতাল ছিল ১০ মাত্রার, ত্রিপুট তাল ছিল ৭ মাত্রার, রূপক-তাল ছিল
৬ মাত্রার, ঝম্পতাল ছিল ৯ মাত্রার, অড্ডতাল ছিল ১১ অথবা ১৪ মাত্রার
এবং আদিতাল ছিল ৪ মাত্রার।—অহোবলের ছন্দ-অলঙ্কার সম্পর্কিত বর্ণনা
পড়লে মনে হয়, তিনি তাঁর আমলের মাত্রা-হিসাবই গ্রহণ করেছেন,—
পূর্ববর্তী কালের নয়।
বলা বাহুল্য, আমাদের পূর্বেও একাধিক ব্যক্তি পারিজাত অনুবাদ
করেছেন, কিন্তু লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে, পারিজাতের সব চাইতে
প্রয়োজনীয় কথাটির প্রতি কেউই প্রায় সচেতন থাকতে পারেন নি।
অর্থাৎ, পারিজাতের গ্রাম-মূর্চ্ছনা ও রাগ-মূর্চ্ছনার মূলগত পার্থক্য সম্বন্ধে
তাঁরা কেউ বা নীরব থেকেছেন কেউ বা বে-ঠিক তথ্য পরিবেশন করে
গিয়েছেন। পারিজাতের ষোলোশ' রাগটির স্বর-ব্যবস্থা সম্পর্কে স্বর্গত ভাতখণ্ডেজী
যা বলে গেছেন—গ্রাম মূর্চ্ছনার মর্যাদা রক্ষা করে, অমন বক্তব্য যে তিনি
কোন যুক্তিতে পরিবেশন করতে পারলেন আমরা তা বুঝতে পারি না।
এ সম্বন্ধে আমরা যথাস্থানেই আলোচনা করেছি। অপরপক্ষে, পারিজাতের
শুদ্ধ ঠাটকে বর্তমানের বেলাবলের অনুরূপ কল্পনা করেও অনেকে পাণ্ডিত্য
প্রকাশ করেছেন। হাথরাসের কলাকোবিদ পণ্ডিত কলিন্দজী তাদের
অন্যতম। শুনছি, এই ধরণের অনুবাদিত পারিজাত অনেক সরকারী
সাহায্যপ্রাপ্ত প্রখ্যাত সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থরূপে মনোনীত
হয়েছে।
এতাবৎ কালের মধ্যে আমরা যতগুলি পারিজাতের সন্ধান পেয়েছি তার
সবগুলিই অহোবলের রচিত নয়। মনে হয়, সঙ্গীত পারিজাত নামক গ্রন্থটির
খ্যাতি এক সময় এমনই বিস্তারলাভ করেছিল যে অনেকেই স্বরচিত গ্রন্থের
নামকরণ করেছিলেন, ‘সঙ্গীত পারিজাত’। এমন কি জনৈক দক্ষিণী
সঙ্গীতবেত্তাও সঙ্গীত পারিজাত নাম দিয়ে দক্ষিণী সঙ্গীত-পদ্ধতি সম্পর্কিত
পুস্তক রচনা করে গিয়েছেন। অপরপক্ষে, অহোবল বিরচিত সঙ্গীত
[ ৮ ]
পারিজাত-রূপে যে গ্রন্থটির সঙ্গে আমরা পরিচিত, তারও শেষাংশের কতকগুলি
সূত্র অহোবল-রচিত আর কতকগুলি সূত্র প্রক্ষিপ্ত, সে সম্বন্ধে বিশদ আলোচনার
অবকাশ আছে। এতাবৎকালের মধ্যে আমরা যতগুলি অহোবল-রচিত
পারিজাতের সন্ধান পেয়েছি তার ৪৯৭ সূত্র পর্য্যন্ত অভিন্ন লেখকেরই রচনা—
নিঃসন্দেহ। কিন্তু এর পরবর্তী কয়েকটি সূত্রের মৌলিকতা সম্পর্কে কেউ যদি
প্রশ্ন তোলেন, আমরা বোধহয় যথাযথ প্রমাণ দাখিল করে আত্মপক্ষ সমর্থন
করতে পারবো না। বলা বাহুল্য, আলোচ্য গ্রন্থের টীকা-ভাষ্য করবার সময়
আমরা অসম্পূর্ণ ও প্রক্ষিপ্ত দোষে দুষ্ট সূত্রগুলি সম্পর্কে যথাস্থানে যথাযথ ভাবেই
আলোচনা করবার চেষ্টা করেছি।
পূর্ব্বেই বলেছি, হাথরাস সঙ্গীত কাৰ্য্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত পারিজাতের
অনুবাদক কলাকোবিদ কলিন্দজী পারিজাতের শুদ্ধ ঠাটকে বর্তমানের
বেলাবল ঠাটের অনুরূপ কল্পনা করে গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই গ্রন্থটির
মধ্যে দেখা যায় নীট ৫০০-টি সূত্র স্থান পেয়েছে এবং রাগাধ্যায়ের মধ্যে
এমন তিনটি সূত্রকে সংযোজিত করা হয়েছে যার পূর্ব্বাপর পরিচিতি
বিশ্লেষণ করে জানতে পারা যায় আলোচ্য সূত্র তিনটি এমনই একজন
পণ্ডিতের রচনা যিনি—কলাকোবিদ কলিন্দজীর মতোই জানতেন না
পারিজাতের শুদ্ধ ঠাট্ ছিল কাফি—একালের বেলাবল নয়। পরন্তু,
আলোচ্য সূত্র তিনটিকে প্রমাণরূপে দাখিল করবার অজুহাতে উক্ত
সূত্র-রচয়িতা অহোবলের মূল সূত্রটিকে (সূত্রসংখ্যা ৪৮৮, যার ব্যতিক্রম
হাথরাস-প্রকাশিত পারিজাত ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় নি) পর্য্যন্ত
বিকৃত করে ছেড়ে দিয়েছেন। সাধারণভাবে পারিজাত আলোচনা করে আমরা
দেখতে পাই, রাগাধ্যায়ের মধ্যে অহোবল সাকুল্যে ১২২-টি রাগের পরিচয়
দিয়েছেন। কিন্তু, হাথরাসের পারিজাতে দেখা যাচ্ছে, যথাক্রমে, ৪৮৮,
৪৮৯ ও ৪৯০ সূত্রের অন্তর্গত হয়ে শুদ্ধ কৈশিক, তেরঙ্গ ও ভীমপলাসিকা
নামক অতিরিক্ত তিনটি রাগ স্থান পেয়েছে এবং রাগের সংখ্যা ১২২-এর স্থানে
১২৫-টি হয়ে যাওয়ার ফলে ৪৯৭ সংখ্যক সূত্রটিও পরিণত হয়েছে ৫০০-এ।
আমাদের সংগৃহীত পারিজাতগুলির ৪৮৮ সূত্রে দেখা যায়—
অনেনৈব প্রকারেণ রাগা অপামিতা মতাঃ।
দ্বাবিংশত্যা শতং তে চ প্রোক্তা লোকসুখায় চ॥
[ ঙ ]
কিন্তু, হাথরাসের পারিজাতের ( ৪৮৮+৩= ) ৪৯১ সূত্রে দেখা যাচ্ছে
“দ্বাবিংশত্যা শতং তে চ”-এর স্থলে “শতঞ্চ পঞ্চবিংশত্যা” উল্লিখিত হয়েছে।
বলা বাহুল্য, এই অতিরিক্ত সূত্র তিনটিকে আমরা যথাস্থানে তারকা-চিহ্নিত
করেই পত্রস্থ করেছি।
পুণা থেকে মুদ্রিত পারিজাতখানি প্রকাশ করেছিলেন রাওজী শ্রীধর
গোন্দলেকর, এম. এ., এল. এল. বি., মহাশয়। এঁর প্রকাশিত পারিজাতখানি
দু’টি কাণ্ডে বিভক্ত। প্রথম কাণ্ডটি সমাপ্ত হয়েছে গায়কের দোষ-গুণ বিচার-
বিশ্লেষণ করে এবং দ্বিতীয় কাণ্ডটির বিষয়বস্তু হচ্ছে বাদ্যাধ্যায় ও তালাধ্যায়।
কিন্তু, দ্বিতীয় কাণ্ডটিকে অনেক পণ্ডিত ব্যক্তি প্রামাণ্যরূপে গ্রাহ্য করতে
অনিচ্ছুক। কেউ কেউ স্পষ্টই বলেছেন, এই দ্বিতীয় কাণ্ডটি আদৌ
অহবলের রচনা নয়। সুতরাং আমরাও এই দ্বিতীয় কাণ্ডটির ওপর কোন
রকম গুরুত্ব আরোপ না করে, প্রথম কাণ্ডর অন্তর্গত সূত্রগুলিকেই ৬৩১-টি
সূত্রের মাধ্যমে পত্রস্থ করে টীকা-ভাষ্য করেছি। কিন্তু, আলোচ্য প্রসঙ্গে
এ কথা বিশেষভাবেই উল্লেখযোগ্য যে পণ্ডিতপ্রবর অহোবল অবশ্যই তাঁর
সঙ্গীত পারিজাতের মধ্যে বাদ্যাধ্যায়, তালাধ্যায় ও নৃত্যাধ্যায় সম্পর্কে
আলাপ-আলোচনা পত্রস্থ করে গিয়েছিলেন, কারণ, সেকালের গ্রন্থ-রচনার
রীতিও ছিল ওই প্রকার। কিন্তু, পুণা থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় কাণ্ডটির ভাব,
ভাষা ও বিষয়বস্তুর পরিবেশন-পদ্ধতি লক্ষ্য করে সন্দেহ জাগে—এই দ্বিতীয়
কাণ্ডর রচয়িতা অহোবল নন।
এটা বাতুলতা, সীমাবদ্ধ জ্ঞান নিয়েই আমরা পারিজাতের টীকা-ভাষ্য
করবার চেষ্টা করেছি। এ কাজে প্রবৃত্ত হয়েছিলাম আজ থেকে প্রায়
২২।২৩ বৎসর পূর্বে স্বর্গগত ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (গৌরীপুর) মহাশয়ের
আগ্রহে। স্বর্গগত রায়চৌধুরী মহাশয় ছিলেন আমাদের অন্যতম সঙ্গীতগুরু,
পারিজাত সম্পর্কে একটা অদ্ভুত রকমের দুর্বলতা ছিল তাঁর মনে; এবং
বস্তুতঃ সেই কারণেই আমরা তাঁর ইচ্ছার অমর্য্যাদা করতে পারি নি,
না’হলে, আজকের দিনে এ হেন গ্রন্থ নিয়ে পরিশ্রম করার একমাত্র পরিণাম যে
পণ্ডশ্রম মাত্র সে কথা আমরা ভাল করেই জানতাম।
বিগত বিশ বৎসরের মধ্যে পারিজাতের এই বাঙ্গলা-ভাষ্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়
প্রকাশিত হয়েছে পৃথক পৃথক প্রবন্ধাকারে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য
[ ঙ ]
সুরচ্ছন্দা পত্রিকাটি। এই পত্রিকায় গত ১৯৫৫ সালের মার্চ মাস থেকে
১৯৬৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত পারিজাতের কিছু অংশ ধারাবাহিকভাবে
প্রকাশিত হয়েছিল। বলা বাহুল্য, পারিজাত প্রকাশনার ব্যাপারে আমাদেরকে
এমন সব অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে যার ফলে আমরা
একাধিকবার চেষ্টা করেছি এই পণ্ডশ্রম থেকে নিরস্ত হতে। ইতিমধ্যে
আচার্য ব্রজেন্দ্রকিশোর দেহত্যাগ করেছিলেন—১৯৫৭ সালের ২৯শে নভেম্বর
তারিখে; কিন্তু, অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন—এ দেশের অন্যতম
সঙ্গীতশাস্ত্রজ্ঞ কলাকোবিদ্ ডাক্তার বিমল রায় এম. বি.। সত্যি কথা বলতে
কি, ডাক্তার বিমল রায়ের মতো বন্ধুর সঙ্গে যদি আমরা ঘনিষ্ঠ না হতাম,—
ক্রমাগত তাড়না করে তিনি যদি আমাদেরকে উদ্ব্যস্ত না করে তুলতেন,
তাহলে সঙ্গীত পারিজাতের আলোচ্য সংস্করণটি প্রকাশ করবার কল্পনা বহুকাল
পূর্বেই ত্যাগ করতাম।
পারিজাতের আলোচ্য সংস্করণটিকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করবার ‘সংস্করণ-স্বত্ব’
প্রথম গ্রহণ করেছিলেন ‘পুস্তক প্রকাশক’—১৯৫৬ সালে। ব্যবস্থা ছিল,
তিন মাসের মধ্যে আলোচ্য সংস্করণটিকে তাঁরা দু’টি খণ্ডে বিভক্ত করে
প্রকাশ করবেন। কিন্তু, নিগূঢ় কারণে তাঁরা আলোচ্য সংস্করণের প্রথম খণ্ড
প্রকাশ করেন ১ থেকে ৩৭০ পর্য্যন্ত সূত্র গ্রথিত করে; কিন্তু পরবর্তী
তিন মাসের মধ্যে তাঁরা গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করতে পারেন নি।
ফলে, প্রথম খণ্ডের বিক্রয় বন্ধ করে দিয়ে আমরা তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করতে
বাধ্য হই।
এবার পারিজাতের অখণ্ড সংস্করণ প্রকাশনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন
বাঙ্গালাদেশের প্রাচীনতম পুস্তক ব্যবসায়ীদের অন্যতম, এম. সি. সরকার এণ্ড
সন্স। গ্রন্থটির মুদ্রণকার্য যাতে সুষ্ঠুভাবে নিষ্পন্ন হয় তার জন্য আমাদের
তরফে আন্তরিকতার অভাব ছিল না; কিন্তু, শেষ পর্যন্ত দেখা গেল
বেশ কিছু ভুল-ভ্রান্তি রয়ে গিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, যাঁদের জন্য এই
গ্রন্থ, অকিঞ্চিৎকর ভাষার ভুলের জন্য তাঁদের কোন অসুবিধা হবে
না। তবুও, আমরা একটি শুদ্ধিপত্র দেওয়া কর্তব্য বিবেচনা করলাম
গ্রন্থের শেষে।
[ ঢ ]
পরিশেষে আবার বলি, সীমিত জ্ঞান-বুদ্ধি নিয়েই আমরা আলোচ্য গ্রন্থটির
টীকা-ভাষ্য করেছি। এই গ্রন্থ পাঠ করে যদি কেউ উপকৃত হ'ন তাহলে
পরিশ্রম করা সার্থক হয়েছে বিবেচনা করবো। এবং বলাই বাহুল্য যাঁদের
অকুণ্ঠ সহযোগিতার ফলে আলোচ্য অখণ্ড সংস্করণটি গ্রন্থাকারে আত্মপ্রকাশ
করতে পারল তাঁদের উদ্দেশে ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে সঙ্কোচবোধ
করছি। অলমিতি—
১১৪।১, হাজরা রোড
কলিকাতা-২৬ শ্রীশচন্দ্রনাথ মিত্র
২৮শে নভেম্বর ১৯৬৫
সূচীপত্ৰ
বিষয়বস্তু সূত্র সংখ্যা পৃষ্ঠা সংখ্যা
ভূমিকা
গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য ১—৩৩ ১—৭
স্বর, শ্রুতি ও নাদ প্রসঙ্গ ৩৪—৯৬ ৮—২৩
গ্রাম ৯৭—১০২ ২৪—২৫
মূর্চ্ছনা ১০৩—২০৩ ২৬—৬৩
কূটতান ও স্বর-প্রস্তার ২০৪—২০৯।১ ৬৩—৬৫
নষ্টোদ্দিষ্ট ( খণ্ডমেরু ) ২০৯।২—২১৮ ৬৫—৭১
বর্ণ ২১৯—২২০ ৭১—৭১
অলঙ্কার ২২১—২৯৬ ৭১—৯৭
জাতি ২৯৭—২৯৯।১ ৯৭—১০০
অংশস্বর, ন্যাসস্বর ও গ্রহস্বর ২৯৯।২—৩০০ ১০০—১০৪
গমক প্রকরণ ৩০০—৩১২ ১০৪—১০৮
স্বর-শ্রুতির স্থান ৩১৩—৩২৭ ১০৮—১১৯
শুদ্ধ ও বিকৃত মেল্ ৩২৮—৩৩৮ ১১৭—১১৯
গীতি পদ্ধতি • ৩৩৮—৩৩৮ ১১৯—১২৫
রাগাদির পরিবেশনা-কাল ৩৩৯—৩৫৪ ১২৫--১২৮
রাগাদির বৈশিষ্ট্য ৩৫৫—৩৫৬ ১২৮—১২৯
রাগাদির পরিচয় ৩৫৭--৪৬০ ১২৯—২১৬
বিভিন্ন রসের অভিব্যঞ্জক স্বর-শ্রুতির জাতি ৪৬১—৪৬৩ ২১৬—২১৮
বিকৃত স্বরাদির নাম ও নামান্তর ৪৬৪—৪৯৮ ২১৮—২২০
নিবন্ধ ও অনিবন্ধ প্রবন্ধ-গীতির লক্ষণাদি ৪৯৯—৫০৩ ২২১—২৩১
পাঁচ প্রকার প্রবন্ধ-গীতির পরিচয় ৫০৪—৫০৪ ২৩৩—২৩৫
প্রবন্ধ-গীতির পাঁচটি ধাতুর পরিচয় ৫০৫—৫০৮ ২৩৫—২৪৫
প্রবন্ধ-গীতির ছয়টি অঙ্গের পরিচয় ৫০৯—৫১১।১ ২৪৫—২৪৬
প্রবন্ধ-গীতির পাঁচটি জাতির পরিচয় “৫১১।২—৫১৩।১ ২৪৬—২৪৮
[ ৩ ]
বিষয়বস্তু সূত্র সংখ্যা পৃষ্ঠা সংখ্যা
নির্যুক্ত ও অনিযুক্ত প্রবন্ধ-গীতির
পরিচয় ৫১৩।২—৫১৪।১ ২৪৮—২৫০
গণ ও বর্ণাদির পরিচয় ৫১৫—৫১৮ ২৫০—২৫২
অ-ক-চ প্রভৃতি বর্গের পরিচয় ৫১৯—৫২১ ২৫৩—২৫৪
বায়ু, অগ্নি, ভূমি প্রভৃতি বীজের
ব্যবহার-বিধি ৫২২—৫২৬ ২৫৪—২৫৫
বীজ-বর্ণ ব্যবহারের ফলাফল ৫২৭—৫৩০ ২৫৫—২৬০
দৈবত-মার্গিত প্রভৃতি গীতের পরিচয় ৫৩১—৫৩২ ২৬০—২৬০
গ্রাস বা অনুপ্রাসের প্রয়োগ-বিধি ৫৩৩—৫৩৫ ২৬১—২৬১
গীতের পাঁচ প্রকার গুণের পরিচয় ৫৩৬—৫৪১ ২৬২—২৬৪
গীতের দোষ ৫৪২—৫৪২ ২৬৪—২৬৪
তিন প্রকার প্রবন্ধ গানের লক্ষণ ৫৪৩—৫৪৩ ২৬৪—২৬৫
আট প্রকার সূড-প্রবন্ধের পরিচয় ৫৪৪—৫৫০ ২৬৫—২৭৩
চব্বিশ প্রকার আলি-সংশ্রয় প্রবন্ধের পরিচয় ৫৫১—৫৬৭ ২৭৩—২৯৭
ছত্রিশ প্রকার বিপ্রকীর্ণ প্রবন্ধের পরিচয় ৫৬৮—৫৯৭ ২৯৭—৩৩০
ধাতু, মাতু ও বাগ্গেয়কারক-এর পরিচয় ৫৯৮—৬০০ ৩৩০—৩৩১
গান্ধর্ব, স্বরাদি ও পদাদি গায়কের পরিচয় ৬০১—৬০২ ৩৩১—৩৩২
উত্তম, মধ্যম ও অধম গায়কের পরিচয় ৬০৩—৬৩১ ৩৩২—৩৩৮
শুদ্ধিপত্র ৩৩৯—৩৪৪
ছন্দোময়ং গরুত্মন্তমারূঢ়ং সত্যয়া সহ।
স্তূয়মানং দিবৌকোর্ভিঃ পারিজাতহরিং ভজে ॥ ১
যিনি গরুড়ারোহী ও (গায়ত্রী-আদি সপ্তছন্দ স্বরূপ) শাশ্বত সত্যের সঙ্গে
ছন্দোময় বা অভিন্ন ; যিনি দেবকুল কর্তৃক নিয়ত পূজিত ; পারিজাত-হরণকারী
সেই শ্রীহরিকে আমিও ভজনা করছি !
টিপ্পনী : শ্রীহরি যেমন স্বর্গের পারিজাত মর্ত্যে এনেছিলেন মানুষের কল্যাণের
জন্য, তেমনি, অহোবলও সাধারণের অবগতির জন্যই এই সঙ্গীত-কলা-বিজ্ঞান
গ্রন্থাকারে পরিবেশন করছেন। ১
সঙ্গীতপারিজাতোহয়ং সৰ্ব্বকামপ্রদো নৃণাম্।
অহোবলেন বিদুষা ক্রিয়তে সৰ্ব্বসিদ্ধয়ে ॥ ২
‘জনসাধারণকে (ধর্ম্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ স্বরূপ) সৰ্ব্বসিদ্ধি লাভের পন্থা নির্দেশের
জন্যই পণ্ডিতবর অহোবল এই সর্ব্বকল্যাণপ্রদ সঙ্গীত-পারিজাত রচনা
করছেন। ২
সঙ্গীতং বৈদিকৈর্ব্বাক্যৈর্ব্বাধিতং ব্রাহ্মণাঃ সদা।
কৃত্বৈহিকং তথা মোক্ষং প্রাপ্নুবন্তি ত্বরান্বিতাঃ ॥ ৩
বৈদিক শাস্ত্র-গ্রন্থাদির মধ্যে এই সঙ্গীত-বিদ্যা সম্বন্ধে অনেক কিছু বিধি-নির্দেশ
আছে বলেই, ব্রাহ্মণগণ এই বেদ-বর্ণিত সঙ্গীত অনুশীলন ক’রে অচিরেই মোক্ষ
লাভ ক’রে থাকেন ! ৩
অগ্নিহোত্রং যথা কাৰ্য্যং গানকার্য্যং তথৈব হি।
বেদোক্তত্বাৎ স্মৃতিপ্রোক্তকর্ত্তব্যত্বান্মনীষিভিঃ ॥ ৪
বেদ-এ যেমন নিত্য অগ্নিহোত্র যজ্ঞ করবার বিধান আছে, তেমনি, (সঙ্গীত
রসিক) মনীষিদেরও কর্তব্য নিয়মিতভাবে সঙ্গীত-অনুশীলন করা। কারণ,
সঙ্গীত ও শ্রুতি-স্মৃতির বিধানে নিত্যকৃত্য ! ৪
২ সঙ্গীত পারিজাত
বিষ্ণুনামানি পুণ্যানি সুস্বরৈরন্বিতানি চেৎ।
ভবন্তি সামতুল্যানি কীর্ত্তিতানি মনীষিভিঃ॥ ৫
মনীষিগণ বলেন : সুমার্জ্জিত কণ্ঠে সুপবিত্র বিষ্ণু নাম গীত হলে, সে গান
সামগানেরই সমতুল্য হয়। ৫
স্বাশ্রয়া মোহিনী মায়া যা স্বয়া সংবৃতাশ্চ যে।
ব্রহ্মবিষ্ণুমহেশাঃ স্যুঃ সঙ্গীতোত্থ-সুখস্পৃহাঃ॥ ৬
এমন কি, যাঁরা পরার্থে মোহিনী মায়ার সৃষ্ট করেছিলেন, সেই ব্রহ্মা, বিষ্ণু,
মহেশ্বরও সঙ্গীত-রস উপভোগ করবার বাসনায়, নিজেদেরই সৃষ্ট মোহিনী মায়ার
আশ্রিত হয়ে পড়েন। ৬
ঐহিকামুষ্মিকে ত্যক্ত্বা দেবর্ষির্নারদঃ সদা।
ব্রহ্মানন্দোহপি বীণায়াং বাদনে নিয়তোহভবৎ॥ ৭
দেবর্ষি নারদও যাবতীয় ঐহিক-পারলৌকিক ক্রিয়া-কর্ম্মে অবিচলিত থেকেও,
সর্ব্বদা ব্রহ্মানন্দে বীণা বাজিয়ে থাকেন। ৭
দৈত্যসংহারিণী দুর্গা সঙ্গীতেহভিরতা সদা
মতঙ্গকশ্যপাবাস্তাং সঙ্গীতাভিরুচী মুনী। ৮
দৈত্যকুল-নির্মূলকারিণী দুর্গাও সর্ব্বদা সঙ্গীত উপভোগে উন্মুখ। মতঙ্গ, কশ্যপ
প্রমুখ মুনী-ঋষিরাও সাঙ্গীতিক রুচি সম্পন্ন ছিলেন। ৮
কর্ত্তা সঙ্গীতশাস্ত্রস্য হনূমাংশ্চ মহাকপিঃ।
শার্দ্দূলকোহলাবেতৌ সঙ্গীতগ্রন্থকারিণৌ॥ ৯
মহাকপি হনুমানও প্রণয়ন করেছিল সঙ্গীতশাস্ত্র। শার্দ্দূল ও কোহল নামক
মুনিদ্বয়ও সঙ্গীত গ্রন্থাদি রচনা করেছিলেন। ৯
কম্বলাশ্বতরৌ বায়ুর্হাহা হূহুশ্চ রাবণঃ।
রম্ভা বাণসুতা চোষা ফাল্গুনঃ ফণিনাং পতিঃ॥ ১০
সঙ্গীত পারিজাত ৩
ইতোয়েতেহন্যেহপি সঙ্গীতশাস্ত্র ব্যাখ্যানকারিণঃ।
সঙ্গীতপারিজাতাখ্যমহং কুর্বেহনুসৃত্য তান্ ॥ ১১
কম্বল, অশ্বতর নামক দুজন নাগ, বায়ু, হাহা, হূহু, রাবণ, বাণরাজ-দুহিতা
ঊষা, অর্জুন, নাগরাজ অনন্ত প্রমুখ সঙ্গীতজ্ঞগণ ছাড়াও আরও অসংখ্য
জ্ঞানী-গুণী সঙ্গীত শাস্ত্রের বিশ্লেষণ ক’রে গিয়েছেন এবং আমিও ( অহোবল )
সেই সব মহাজনদের পথানুসরণ করেই এই সঙ্গীত পারিজাত রচনা
করছি। ১০-১১
দোলায়াং শায়িতো বালো রুদন্নাস্তে যদা ক্বচিৎ।
তদা গীতামৃতং পীত্বা হর্ষোৎকর্ষং প্রপদ্যতে ॥ ১২
দোলায় শায়িত শিশু যখন ক্ষুধার তাড়নায় কাঁদতে আরম্ভ করে, তখন
তাকে স্তন দুগ্ধের পরিবর্ত্তে সঙ্গীতামৃত পান করালেও, সে ক্ষুধা ভুলে আনন্দ
প্রকাশ করে। ১২
মৃগঃ সোহপি তৃণাহারো বিচরন্নটবীং সদা।
লুব্ধকাদপি সঙ্গীতং শ্ৰুত্বা প্রাণান্ প্রয়চ্ছতি ॥ ১৩
তৃণভোজী বনচারী হরিণও শিকারীর সঙ্গীত-জালে প্রলুব্ধ হয়ে অবলীলাক্রমে
প্রাণদান করে। ১৩
ক্রুদ্ধো বিষংবমন্ সর্পঃ ফণামান্দোলয়ন্মুহুঃ।
গানং জাঙ্গুলীকাচ্ছ্ৰুত্বা হর্ষোৎকর্ষং প্রপদ্যতে ॥ ১৪
ক্রুদ্ধ সর্প, বিষোদগারের সন্ধিক্ষণে উদ্যত-ফণা হয়েও, দংশনের পরিবর্ত্তে আনন্দ
উপভোগ করে ফণা নাচিয়ে নাচিয়ে—যদি সাপুড়ে বা জঙ্গুলী শিকারীদের
সঙ্গীত শুনতে পায়। ১৪
দেবস্য মানবো গানং বাদ্যং নৃত্যমতন্দ্রিতঃ।
কুর্য্যাদ্বিষ্ণোঃ প্রসাদার্থমিতি শাস্ত্রে প্রকীর্ত্তিতম্ ॥ ১৫
আমাদের শাস্ত্রেরও বিধান এই যে, শ্রীবিষ্ণুর কৃপালাভের জন্য মানবজাতি আলস্য
ত্যাগ ক’রে নৃত্য-গীত ও বাদ্য অনুশীলন করবে। ১৫
্ ॥ ২০"
Wait, "সঙ্গীতমিতীরিতম্" or "সঙ্গীতমিতীর্"?
Look at the last word:
স-ঙ্গ-ী-ত-ম-ি-ত-ী-র-ি-ত-ম-্ = সঙ্গীতমিতীরিতম্.
॥ ২০ (double danda, 20).
:
"গীত, বাদ্য ও নৃত্য, এই তিনটির সম্মিলিত পরিবেশনকেই সঙ্গীত বলে। এর"
:
"মধ্যে প্রধান হ’চ্ছে কণ্ঠ-সঙ্গীত। তাই, অনেকে কণ্ঠ-সঙ্গীতকেও সঙ্গীত বলে"
:
"থাকেন। ২০"
Let's re-verify all lines and line breaks against the original image.
Top header:
Left: ৪
Center: সঙ্গীত পারিজাত
Wait, in markdown:
৪ \s+ সঙ্গীত পারিজাত
Let's write:
৪ সঙ্গীত পারিজাত
Then:
নাহং বসামি বৈকুণ্ঠে যোগিনাং হৃদয়ে ন চ।
মদ্ভক্তা যত্র গায়ন্তি তত্র তিষ্ঠামি নারদ॥ ১৬
ভগবান নিজেই বলছেন—হে নারদ, আমার বসবাস বৈকুণ্ঠেও নয়, যোগী-
ঋষিদের মনের গহনেও নয়; আমি থাকি শুধু সেইখানেই, যেখানে আমার
ভক্তগণ নাম-গান ক'রে থাকেন! ১৬
: স্ব-য়-ং -> স্বয়ং (য় with anusvara: স্বয়ং).
- In L2:
স্বয়ম্(য় + ম্).
- L7:
মহাদেবের নিকট পরিবেশন করবার জন্যে। ২১-২২ - L10:
এ ছাড়াও, ভরত মহাদেবের নিকট থেকে তাণ্ডব ও উমার নিকট থেকে - L11:
লাস্য নৃত্য শিক্ষা করে, সে সব আবার নিজের শিষ্যদের শিক্ষা দিয়ে- - L12:
ছিলেন। ২৩ - L15:
দেশভেদে সঙ্গীত পদ্ধতিও বিভিন্ন। তাই এই সঙ্গীতকে দেশী-সঙ্গীত - L16:
বলে। এবং (মার্গ ও দেশী) এই দু’রকমের সঙ্গীতই সুস্বরে গীত হ’লে- Note:
(মার্গ ও দেশী)has spaces inside:( মার্গ ও দেশী )? - Look at the image:
( মার্গ ও দেশী )-> there are spaces around the parentheses.
- Note:
- L17:
সুখদায়ক হয়। ২৪
- Check Commentary (টিপ্পনী):
- L18:
.টিপ্পনী: মার্গ ও দেশী সঙ্গীতের স্বরূপ সম্বন্ধে অনেকে অনেক রকম ভ্রান্ত- Look at the dot before টিপ্পনী: there is a small dot
.or bullet before `টিপ্পনী
- Look at the dot before টিপ্পনী: there is a small dot
- L18:
৬ সঙ্গীত পারিজাত
শাস্ত্রকারদের মতো পণ্ডিতবর অহোবলও মার্গ সঙ্গীতের ক্রিয়াসিদ্ধ অংশসমূহ
সম্বন্ধে কিছু জানতেন না। এবং, যতদূর জানি, আজও পর্যন্ত কোন দেশের
কোন সঙ্গীতজ্ঞ পণ্ডিত এই মার্গ সঙ্গীতের স্বরূপ সম্বন্ধে কোন কিছু আবিষ্কার
করতে সক্ষম হ'ন নি। তবে, এর ঔপপত্তিক অংশ সমূহ সম্বন্ধে যৎকিঞ্চিৎ
ধ্যান-ধারণার সুযোগ পাওয়া যায় নাট্যশাস্ত্র, রত্নাকর প্রভৃতি প্রাচীন গ্রন্থাদির
যথাযথ অধ্যয়ন ও অনুশীলন করলে। বলাবাহুল্য, এ সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা
করতে গেলে প্রয়োজন হাজার হাজার পৃষ্ঠার। সুতরাং, অতি সংক্ষেপে
ইঙ্গিত দেওয়া যেতে পারে যে, মার্গ ও দেশীর প্রধান পার্থক্য তার সাঙ্গীতিক
সংজ্ঞায়! সঙ্গীতের গোড়ার কথাটা হচ্ছে রঞ্জন। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের
মনোরঞ্জনের জন্যই এর সৃষ্টি। কিন্তু দেশী সঙ্গীতের উদ্দেশ্য সাধারণের
মনোরঞ্জন হ'লেও, মার্গ সঙ্গীতের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ বিপরীত। মার্গ পদ্ধতিটা
এক রকমের গান্ধর্ব্ব গীতি। অর্থাৎ এর সৃষ্টি রঞ্জন বা রসোদ্ভাবনার জন্য
নয় পরন্তু অভ্যুদয়প্রদঃ ও আভিচারিক এবং এর জন্ম নাট্যবেদের কারণেই।
অপরপক্ষে এই নাট্যবেদও সাধারণের জন্য সৃষ্টি হয়নি। এর সৃষ্টি হয়েছিল,
যথাক্রমে ঋক্ থেকে পাঠ্য, সাম থেকে গীতি, যজু থেকে অভিনয় ও অথর্ব্ব
থেকে রস সংকলন ক'রে এবং এর প্রয়োগ পন্থাও গণ্ডীবদ্ধ ছিল কেবলমাত্র
অসাধারণদের মধ্যে। অর্থাৎ সাধারণের কাছ থেকে বিদ্যাটাকে গোপনে
রাখা হয়েছিল ব্যভিচারের আশঙ্কায়। কিন্তু এখানে এ কথাও উল্লেখযোগ্য
যে, চেষ্টা সত্ত্বেও এই বিদ্যাগুপ্তিতা একেবারে গোপন থাকেনি। দেশী
সঙ্গীতের অনিবদ্ধ অংশের অনেক কিছুই যে মার্গ সঙ্গীতের নিকট ঋণী এমন
অনুমানের স্বপক্ষে যুক্তি আছে। কিন্তু এই সামান্য অজুহাতের জন্য, উচ্চাঙ্গ
রাগ-সঙ্গীতকে কিছুতেই মার্গ সঙ্গীত বলা যেতে পারে না। মার্গ-সঙ্গীত লুপ্ত
হ'য়ে গিয়েছে আজ থেকে অন্তঃপক্ষে হাজার বৎসর পূর্ব্বে।
বিনোদ্দেশং বিনা লক্ষণ পরীক্ষাঞ্চ বিনা ক্বচিৎ।
শাস্ত্রং ন বর্ত্ততে যস্মাৎ তস্মাৎ তাঃ প্রব্রবীম্যহম্ ॥ ২৫
উদ্দেশ্য ( Search ) লক্ষণ ( characteristics ) ও পরীক্ষা ( research )
ব্যতীত কোন শাস্ত্রই শাস্ত্র আখ্যা লাভ করতে পারে না। সুতরাং আমরাও
আমাদের আলোচ্য বিষয়বস্তু সমূহের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে অগ্রসর হচ্ছি! ২৫
সঙ্গীত পারিজাত ৭
পাঞ্চভৌতিকদেহেঽস্মিন্নূর্ধ্বনাড্যস্ততঃ পরম্।
তির্য্যঙ্নাড্যশ্চ স্থানানি চক্রাণ্যুক্তানি তত্র তু ॥ ২৬
নাদোৎপত্তিঃ স্বরব্যক্তিস্তাসু জাতিব্যবস্থিতিঃ ॥
স্বরস্থিতির্ব্বিশুদ্ধানাং বিকৃতানাঞ্চ নির্ণয়ঃ ॥ ২৭
স্বরো বাদী চ সংবাদী চানুবাদী বিবাদ্যপি।
কুলানি জাতয়ো বর্ণাঃ দ্বীপানি মুনিদেবতে ॥ ২৮
ছন্দাংসি চ রসা হ্যেতে গ্রামাশ্চ মূর্চ্ছনাস্ততঃ।
প্রস্তারিতাশ্চ কূটাঃ স্যুঃ খণ্ডমেরুস্ততঃ পরম্ ॥ ২৯
নষ্টোদ্দিষ্টে চ তানানাং চতুর্ণাং বর্ণলক্ষণম্।
নানাবিধা অলঙ্কারাঃ জাতীনাং লক্ষণান্যপি ॥ ৩০
অংশস্বরাঃ কপালানি কম্বলং গমকাস্তথা।
স্বরস্থানানি সর্ব্বে তে মেলাঃ পঞ্চাপি গীতয়ঃ ॥ ৩১
নামধেয়ানি রাগাণাং লক্ষণান্যপি সর্ব্বশঃ।
প্রবন্ধলক্ষণং চাত্র লক্ষ্ম বাগ্গেয়কারিণঃ ॥ ৩২
গায়নস্য গুণা দোষা ইতি কাণ্ডেঽর্থসংগ্রহঃ। ৩৩
পঞ্চভূত নির্ম্মিত এই মানবদেহে, ঊর্দ্ধনাড়ী ও তার সঙ্গে সংলগ্ন তির্য্যক্নাড়ীর
অবস্থিতি স্থান ; দেহের মধ্যে মূলাধারাদি চক্রের সংস্থান ; নাদের উৎপত্তি ;
স্বর সমূহের অভিব্যক্তি ও জাতি-ব্যবস্থা ; বিশুদ্ধ ও বিকৃত জাতির নির্ণয়-করণ ,
বাদী, সংবাদী, অনুবাদী ও বিবাদী স্বর পরিচিতি ; স্বর সমূহের কুল, জাতি,
বর্ণ ; যে স্থানে জন্মেছে সেই সব দ্বীপের নাম ; উপাস্য মুনি-দেবতার নাম ;
তার ছন্দ, রস, গ্রাম, মূর্চ্ছনা, কূটতান এবং প্রস্তার, খণ্ডমেরু, নষ্ট ও উদ্দিষ্ট
তান ; চার রকম বর্ণের লক্ষণ ; নানাবিধ অলঙ্কার ; জাতির লক্ষণ ; অংশস্বর,
কপাল, কম্বল, গমক ও স্বর সমূহের স্থান ; প্রসিদ্ধ মেল সমূহ ; পাঁচ
প্রকার গীতি ; রাগাদির নাম ও লক্ষণ ; প্রবন্ধগীতি ও বাগ্গেয়কারের
লক্ষণ ; এবং গীতি পরিবেশনার দোষ-গুণ বিচার এই অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত
প্রতিপাদ্য বিষয়। ২৬-৩৩
॥ ইত্যুদ্দেশ্যঃ ॥
"? No.
Let's look at: "হেতুত্ন" vs "হেতুত্ব":
Notice the bottom of the conjunct: it is a triangle pointing down-left, identical to 'ত্ব' in 'শ্রাবণ-ত্বেন' (L19).
So it is definitely 'ত্ব'!
Wait, is there an anusvara above? No.
Wait, is it "হেতুত্ব" or "হেতুত্বা"?
Look at the spacing: "হেতুত্ব এতাসাং" (hetutva etāsāṃ) - in careless Sanskrit editing/printing, sandhi is often dropped, or it was printed "হেতুত্ব এতাসাং".
Wait, could it be "হেতুত্ এতাসাং"? No, it's "হেতুত্ব".
Let's do a complete, meticulous check of every single line from top to bottom.
L1:
ঊর্ধ্বস্থিতত্রিনাডীষু নাভ্যস্তিৰ্য্যগ্ হৃদি স্থিতাঃ।
Wait, in L1: "নাভ্যস্তিৰ্য্যগ্" - let's check:
না-ভ্য-স্তি-র্য্য-গ্
Wait, is there a reph on 'য'?
Yes, 'ৰ্য্য' (in Bengali: র্য্য).
And after that: 'গ্' (g with hasanta) or just 'গ'?
It is 'গ' with hasanta underneath: 'গ্'!
So: "ঊর্ধ্বস্থিতত্রিনাডীষু নাভ্য
সঙ্গীত পারিজাত ৯
রাগের যথার্থ রূপ পরিবেশন করবার জন্য যখন যে কটি শ্রুতিকে প্রকট ক'রে
তুলতে হয়, তখন সেই কটি শ্রুতি স্বররূপে পরিচিত হয়; এবং, বাকি যে
কটি শ্রুতি রাগরূপ ফুটিয়ে তোলবার পক্ষে প্রয়োজনীয় বলে স্বীকৃত হয়না,
সেইগুলি স্বরের পরিবর্তে শ্রুতি হিসাবেই গণ্য হয়। ৩৯
কেশাগ্রব্যবধানেন বহ্বায়োঽপি শ্রুতয়ঃ শ্রিতাঃ।
বীণায়াঞ্চ তথা গাত্রে সঙ্গীতজ্ঞানিনাং মতে ॥ ৪০
মধো পূর্ব্বোত্তরাবদ্ধবীণায়াং গাব এব বা।
ষড়জপঞ্চমভাবেন শ্রুতীর্/বিংশতিং জগুঃ ॥ ৪১
সঙ্গীতজ্ঞদের মতে, আমাদের দেহযন্ত্র ও বীণা যন্ত্রের মধ্যে, কেশাগ্রের ন্যায়
সূক্ষ্ম ব্যবধানে অসংখ্য শ্রুতি আছে। উপরে ও নিম্নে বদ্ধ তন্ত্রীযুক্ত বীণাতে,
উপরের দিকে অর্থাৎ পূর্ব্বাঙ্গে সা, রে, গা, মা ও নীচের দিকে অর্থাৎ উত্তরাঙ্গে
পা, ধা, নি, র্সা, এইভাবে তার বাঁধলে, বীণায় এবং বীণার মতো আমাদের
গাত্রে অর্থাৎ কণ্ঠ যন্ত্রেও বাইশটি শ্রুতির অভিব্যক্তি হ'য়ে থাকে। ৪০-৪১
দ্বাবিংশতিশ্রুতিনাঞ্চ ব্যবহারপ্রসিদ্ধয়ে।
তাসাং নামানি বক্ষ্যেঽ
-like curve, and a slash ্! That is literally the Bengali letter হ with a hasanta: হ্!
Wait, why would it say স্যাহ্?
Wait, in Prakrit or corrupted Sanskrit, or printer's error?
Wait! Could it be স্যাহ্ হৃদ্যাদি...?
Wait, let's look at হৃদ্যাদি: could it be হ্রস্বাদি?
No, it has হৃ or হু?
Wait, look at হৃ: হ with ৃ has a curl at the bottom.
Does it have a curl? Yes, exactly like ৃ!
Wait, what if it's হৃদু? No, the next letter has য-ফলা or ধ?
Wait, look at দ্যা:
Could it be স্যাহ্হৃদ্যাদিবিশেষণৈঃ?
Let's look at the options for line 23:
সত্যং ষড়জশ্চতুর্দ্ধা স্যাহ্হৃদ্যাদিবিশেষণৈঃ।
or
সত্যং ষড়জশ্চতুর্দ্ধা স্যাহৃদ্যাদিবিশেষণৈঃ।
Wait, let's look REALLY closely at the image between স্যাহ্ and দি:
স্যা
then হ্? Or is it ম with ্?
Wait! Look at the top of that letter:
...
Wait, look at the meter:
দী-প্তে-তি চা-য়-তা-খ্যো-তি (8)
ক-রু-ণে-তি মৃ-দু-স্থি-তিঃ (8)
ম-ধ্যে-তি জা-ত-য়-স্ত্ব-ৎ-স্ব- (8)
র-শ্রু-ত-সং-খ্যা-য়া- (wait, 6 syllables? That doesn't make 8!).
Wait, what if it's:
ম-ধ্যে-তি জা-ত-য়-স্ত্ব-তাঃ (8) - no, that's not what's written.
Wait! Could it be:
মধ্যেতি জাতয়স্ত্বাসাং স্বরশ্রুতি... ?
No, look at the letters:
জা (jā) ত (ta) য় (ya) স্ত্ব (stva) ৎ (t)
Wait, why is there a khanda-ta (ৎ)?
Look at line 14:
After 'স্ত্ব', is that 'ৎ'?
Wait! Look at the shape between 'স্ত্ব' and 'স্ব':
Is it 'ৎ'? Or is it 'ত'? Or is it 'ং'?
Wait, look at: "স্তৎ" or "স্ত্বৎ"?
Wait! Let's look at the word:
"জাতয়স্ত্বৎ"
Wait, could it be "জাতয়স্ত্বত্র" (jātayastvatra)?
Wait
১২ সঙ্গীত পারিজাত
উগ্রায়াঞ্চ ভবেদ্দীপ্তা মধ্যা তাং ক্ষোভিণীংশ্রিতা।
শ্রুতিজাতিপরিজ্ঞানসাধনং কথ্যতেহধুনা ॥ ৫৮
সা-রে-গা-মা প্রভৃতি বিভিন্ন স্বরের মধ্যে যে বাইশটি শ্রুতি বর্ত্তমান আছে,
সংখ্যানুসারে ভাগ করলে, সেগুলি দীপ্তা, আয়তা, করুণা, মৃদু ও মধ্যা,—
এই পাঁচটি জাতিতে বিভক্ত হয়। যথা :
ষড়জ বা সা স্বরের—১। দীপ্তা জাতীয়া তীব্রা। ২। আয়তা জাতীয়া
কুমুদ্বতী ৩। মৃদু জাতীয়া মন্দা। ৪। মধ্যা জাতীয়া ছন্দো-
বতী শ্রুতি।
ঋষভ বা রে স্বরের—১। করুণা জাতীয়া দয়াবতী ২। মধ্যা জাতীয়া
রঞ্জনী ৩। মৃদু জাতীয়া রতিকা শ্রুতি।
গান্ধার বা গা স্বরের—১। দীপ্তা জাতীয়া রৌদ্রী ও ২। আয়তা জাতীয়া
ক্রোধা।
মধ্যম বা মা স্বরের—১। দীপ্তা জাতীয়া বজ্রিকা ২। আয়তা জাতীয়া
প্রসারিণী ৩। মৃদু জাতীয়া প্রীতি ৪। মধ্যা জাতীয়া মার্জ্জনী।
পঞ্চম বা পা স্বরের—১। মৃদু জাতীয়া ক্ষিতি ২। মধ্যা জাতীয়া রক্তা,
৩। আয়তা জাতীয়া সন্দীপিনী ও ৪। করুণা জাতীয়া আলাপিনী
ধৈবত বা ধা স্বরের—১। করুণা জাতীয়া মদন্তী ২। আয়তা জাতীয়া
রোহিণী ৩। মধ্যা জাতীয়া,রম্যা।
নিষাদ বা নি স্বরের—১। দীপ্তা জাতীয়া উগ্রা ও ২। মধ্যা জাতীয়া
ক্ষোভিনী।
আজ কাল (অর্থাৎ অহোবলের সমসাময়িক কালে) এই উপায়েই বাইশ
শ্রুতির পঞ্চ জাতি নির্ণয় করা হ'য়ে থাকে। ৫১-৫৮
স্বরস্থানে ক্রিয়াভেদৈর্বৈচিত্র্যং জায়তে বহু।
জাতিভেদ সমব্যাপ্যং যত্তজ্জ্ঞেয়ং মনীষিভিঃ ॥ ৫৯
ইক্ষুক্ষীরগতং যদ্বন্মাধুর্য্যং নোচ্যতে বুধৈঃ।
তদ্বচ্ছ্রুতিগতা জাতির্বাচা কো বা বদিষ্যতি ॥ ৬০