सामग्री पर जाएँ
सर्वकोश
संग्रह पर लौटें

विष्णु स्मृति (वैष्णव धर्मशास्त्र - नन्दपण्डित कृत वैजयन्ती टीका सहित सटीक)

Vishnu Smriti with Vaijayanti Commentary of Nanda Pandita

महर्षि विष्णु (टीकाकार: नन्दपण्डित, सम्पादक: जूलियस जॉली) द्वारा

DevanagariSanskritpublished392 पृष्ठ

একাদশ অধ্যায়। ১১৩
পরপাকনিবৃত্তস্য পরপাকরতস্য চ।
অপচস্য চ ভুক্ত্বান্নং দ্বিজশ্চান্দ্রায়ণঞ্চরেৎ ॥ ৪৪ ॥
অপচস্য চ যদ্দানে দাতুশ্চাস্য কুতঃ ফলম্ ।
দাতা প্রতিগ্রহীতা চ দ্বৌ তৌ নিরয়গামিনৌ ॥ ৪৫ ॥
গৃহীত্বাগ্নিং সমারোপ্য পঞ্চযজ্ঞাম্ন বর্ত্তয়েৎ ।
পরপাকনিবৃত্তোহসৌ মুনিভিঃ পরিকীর্তিতঃ ॥ ৪৬ ॥
পঞ্চযজ্ঞং স্বয়ং কৃত্বা পরান্নেনোপজীবতি ।
সততঃ প্রাতরুত্থায় পরপাকরতো হি সঃ ॥ ৪৭ ॥
গৃহস্থধর্ম্মৈর্যো বিপ্রো দদাতি পরিবর্জ্জিতঃ ।
ঋষিভিধর্ম্মতত্ত্বজ্ঞৈরপচঃ পরিকীর্তিতঃ ॥ ৪৮ ॥
যদি কোন ব্রাহ্মণ, পরপাকনিবৃত্ত ব্যক্তির পরপাক নিরত
ব্যক্তির অথবা অপচ ব্যক্তির অন্ন ভোজন করে, তাহা হইলে
তাহাকে চান্দ্রায়ণ ব্রত করিতে হইবে। ৪৪ যদি কেহ অপচ ব্রাহ্মণকে
দান করে, তাহা হইলে দানকর্ত্তার কোন ফল হয় না, বিশেষতঃ
দাতা ও প্রতিগ্রহীতা উভয়েই নিরয়গামী হয়। ৪৫
যে গৃহস্থ অগ্নি গ্রহণ পূর্ব্বক অগ্নিস্থাপন করিয়া পঞ্চ যজ্ঞ না
করে, মুনিগণ তাহাকে পরপাক নিবৃত্ত বলিয়া থাকেন। ৪৬
যে গৃহস্থ নিয়ত প্রাতঃকালে উত্থিত হইয়া স্বয়ং পঞ্চ যজ্ঞের
অনুষ্ঠান করিয়া পরান্ন দ্বারা জীবিকা নির্ব্বাহ করে, তাহার নাম
পরপাক রত। ৪৭
যে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বা বৈশ্য, গৃহস্থ ধর্ম্ম পরিবর্জ্জিত হইয়া দান
১৫

১১৪ পরাশর সংহিতা।
যুগে যুগে চ যে ধর্ম্মাস্তেযু ধর্ম্মেষু যে দ্বিজাঃ।
তেষাং নিন্দা ন কর্ত্তব্য যুগরূপা হি ব্রাহ্মণাঃ ॥ ৪৯ ॥
হুঙ্কারং ব্রাহ্মণস্যোক্ত্বা ত্বঙ্কারঞ্চ গরীয়সঃ।
স্নাত্বা তিষ্ঠন্নহঃশেষমভিবা দ্য প্রসাদয়েৎ ॥ ৫০ ॥
তাড়য়িত্বা তৃণেনাপি কণ্ঠে বাবধ্য বাসসা।
বিবাদেনাপি নির্জিত্য প্রণিপত্য প্রসাদয়েৎ ॥ ৫১ ॥
অবগুর্য্য ত্বহোরাত্রং ত্রিরাত্রং ক্ষিতিপাতনে।
অতিকৃচ্ছ্রঞ্চ রুধিরে কৃচ্ছ্রমন্তরশোণিতে ॥ ৫২ ॥
করে, অর্থাৎ যে ব্যক্তি পঞ্চ যজ্ঞের অনুষ্ঠান না করে, ধর্ম্মতত্ত্বজ্ঞ
ঋষিগণ তাহাকে অপচ বলিয়া থাকেন। ৪৮
যুগে যুগে যে সমুদায় ধর্ম্ম ব্যবস্থাপিত হয়, এবং যে সমুদায়
ব্রাহ্মণ সেই সমুদায় ধর্ম্মের অনুবর্ত্তী হন, তাঁহাদের নিন্দা করা
কর্ত্তব্য নহে, কারণ ব্রাহ্মণেরাই যুগস্বরূপ ও সেই সেই যুগের অংশে
অবতীর্ণ। ৪৯ যদি কোন ব্যক্তি ব্রাহ্মণের প্রতি হুঙ্কার প্রয়োগ
করে, অথবা যদি কোন ব্যক্তি বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির প্রতি বা গুণ-
জ্যেষ্ঠ ব্যক্তির প্রতি, 'তুমি' এই বাক্য প্রয়োগ করে, তাহা হইলে
স্নানের পর সমস্ত দিবস সেই ব্রাহ্মণকে বা সেই জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে
প্রণামাদির দ্বারা প্রসন্ন করিতে থাকিবে। ইহাতেই তাহার
সেই পাপক্ষয় হইবে। ৫০ যদি কোন ব্যক্তি ব্রাহ্মণকে তৃণ দ্বারাও
প্রহার করে, যদি কেহ ব্রাহ্মণের গলায় বস্ত্র দেয়, অথবা যদি কেহ
বিবাদে ব্রাহ্মণকে পরাজয় করে, তাহা হইলে প্রণাম করিয়া সেই
অবমানিত ব্রাহ্মণকে প্রসন্ন করিতে হইবে। ৫১ যদি কেহ ব্রাহ্মণকে

দ্বাদশ অধ্যায়। ১১৫
নবাহমতিকৃচ্ছ্বং স্যাৎ পাণিপূরান্নভোজনম্।
ত্রিরাত্রমুপবাসঃ স্যাদিতি কৃচ্ছ্রঃ স উচ্যতে ॥ ৫৩ ॥
সর্ব্বেষামেব পাপানাং সঙ্করে সমুপস্থিতে।
শতসাহস্রমভ্যস্তা গায়ত্রী শোধনং পরম্ ॥ ৫৪ ॥
ইতি পারাশরে ধর্ম্মশাস্ত্রে একাদশোহধ্যায়ঃ
সমাপ্তঃ।
লাঠী কীল প্রভৃতি ওচায়, তাহা হইলে তাহাকে এক দিবারাত্র
উপবাস করিতে হইবে। যদি কেহ ব্রাহ্মণকে ধাক্কা মারিয়া ফেলিয়া
দেয় তাহা হইলে তাহাকে তৎপাপ মোচনের নিমিত্ত ত্রিরাত্রি
করিতে হইবে। যদি কেহ ব্রাহ্মণকে এরূপ প্রহার করে যে, প্রহার
স্থানে রক্ত জমিয়া যায় তাহা হইলে তাহাকে কৃচ্ছ্র ব্রত করিতে
হইবে। যদি কেহ প্রহার দ্বারা ব্রাহ্মণের রক্ত পাত করে, তাহা
হইলে তৎপাপক্ষয়ের নিমিত্ত তাহার অতিকৃচ্ছ্র ব্রত করা কর্ত্তব্য। ৫২
এক এক মুষ্টিমাত্র অন্ন ভোজন করিয়া নয় রাত্রি যাপন করাকে
অতিকৃচ্ছ্র বলা যায়। ত্রিরাত্রি উপবাস করাকে কৃচ্ছ্র ব্রত বলিয়া
থাকে। ৫৩ যদি এক কালে নানা পাপের সাঙ্কৰ্য্য উপস্থিত হয়, সে
স্থলে নানা প্রকার প্রায়শ্চিত্ত না করিয়া এক লক্ষ গায়ত্রী জপ
করিয়া শুদ্ধি লাভ করিতে পারিবে। ৫৪
পরাশর সংহিতা একাদশ অধ্যায়
সমাপ্ত।

দ্বাদশ অধ্যায়।
দুঃস্বপ্নং যদি পশ্যেত্তু বান্তে বা ক্ষুরকর্ম্মণি।
মৈথুনে প্রেতধূমে চ স্নানমেব বিধীয়তে ॥ ১ ॥
অজ্ঞানাৎ প্রাশ্য বিণ্মুত্রং সুরাং বা পিবতে যদি।
পুনঃ সংস্কারমর্হন্তি ত্রয়ো বর্ণা-দ্বিজাতয়ঃ ॥ ২ ॥
অজিনং মেখলা দণ্ডো ভৈক্ষচর্য্যা ব্রতানি চ।
নিবর্ত্তন্তে দ্বিজাতীনাং পুনঃসংস্কারকর্ম্মণি ॥ ৩ ॥
স্ত্রীশূদ্রস্য তু শুদ্ধ্যর্থং প্রাজাপত্যং বিধীয়তে।
পঞ্চগব্যং ততঃ কৃত্বা স্নাত্বা পীত্বা বিশুদ্ধ্যতি ॥ ৪ ॥
যদি কেহ দুঃস্বপ্ন দর্শন করে, যদি কেহ বমন করে, যদি কেহ
ক্ষৌরী হয়, যদি কেহ স্ত্রী সম্ভোগ করে, যদি কাহারো গাত্রে
চিতাধূম লাগে, তাহা হইলে সে স্নান করিবে। ১ যদি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়
অথবা বৈশ্য জাতি অজ্ঞান বশতঃ বিষ্ঠা মূত্র বা সুরা পান করে,
তাহা হইলে তাহাদের পুনর্ব্বার সংস্কার করিতে হইবে। ২ দ্বিজাতি-
গণের পুনঃসংস্কার স্থলে অজিন মেখলা দণ্ড ভিক্ষাচরণ ও ব্রত,
এতৎসমুদায়ই নিবৃত্ত হয়। ৩ স্ত্রী লোক ও শূদ্রের পাপক্ষয়ের
নিমিত্ত প্রথমত প্রাজাপত্য ব্রত বিহিত হইতেছে। পরে স্নান
পূর্ব্বক পঞ্চগব্য পান করিয়া শুদ্ধি লাভ করিতে পারিবে। ৪ যদি

দ্বাদশ অধ্যায়।
১১৭
জলাগ্নিপতনে চৈব প্রব্রজ্যানাশকেষু চ।
প্রত্যবসিতমেতেষাং কথং শুদ্ধির্বিধীয়তে ॥ ৫ ॥
প্রাজাপত্যদ্বয়েনাপি তীর্থাভিগম নেন চ।
বৃষৈকাদশদানেন বর্ণাঃ শুধ্যন্তি তে ত্রয়ঃ ॥ ৬ ॥
ব্রাহ্মণস্য প্রবক্ষ্যামি বনং গত্বা চতুষ্পথম্।
সশিখং বপনং কৃত্বা প্রাজাপত্যত্রয়ঞ্চরেৎ ॥ ৭ ॥
গোদ্বয়ং দক্ষিণাং দদ্যাচ্ছুদ্ধিঃ স্বায়ম্ভুবোহব্রবীৎ।
মুচ্যতে তেন পাপেন ব্রাহ্মণত্বঞ্চ গচ্ছতি ॥ ৮ ॥
স্নানানি পঞ্চ পুণ্যানি কীর্ত্তিতানি মনীষিভিঃ।
আগ্নেয়ং বারুণং ব্রাহ্মং বায়ব্যং দিব্যমেব চ ॥ ৯ ॥
স্নান কার্য্যের ও অগ্নিকার্য্যের 'বাধ হয়, যদি প্রব্রজ্যা নাশ হয়,
তাহা হইলে কিরূপে শুদ্ধি লাভ করিতে পারিবে, বলিতেছি। ৫
ঈদৃশ স্থলে প্রাজাপত্য দ্বয় দ্বারা তীর্থ গমন দ্বারা এবং একাদশ
বৃষ দক্ষিণা প্রদান দ্বারা ক্ষত্রিয় বৈশ্য ও শূদ্র, এই বর্ণত্রয় শুদ্ধি
লাভ করিতে পারিবে। ৬ ব্রাহ্মণ বনে গমন করিয়া কোন
এক চতুষ্পথে শিখাসমেত সমুদায় কেশ মুণ্ডন করিবে। পরে
তিনটী প্রাজাপত্য ব্রত করিয়া, ৭ একটী বৃষ ও একটী গাভি
দক্ষিণা প্রদান করিবে। স্বায়ম্ভুব মনু বলিয়াছেন যে, ব্রাহ্মণ ইহা
দ্বারাই শুদ্ধি লাভ করিতে পারিবেন। ইহা দ্বারা ব্রাহ্মণ সেই পাপ
হইতে মুক্ত হইয়া ব্রাহ্মণত্ব লাভ করিতে পারিবেন। ৮ পণ্ডিতেরা
বলিয়া থাকেন যে, পঞ্চ প্রকার স্নান দ্বারা শরীর পবিত্র হয়। সেই
পঞ্চপ্রকার স্নানের নাম—আগ্নেয় স্নান, বারুণ স্নান, ব্রাহ্ম স্নান,

১১৮ পরাশর সংহিতা।
আগ্নেয়ং ভস্মনা স্নানমবগাহ্য তু বারুণম্।
আপোহিষ্ঠেতি চ ব্রাহ্মং বায়ব্যং রজসা স্মৃতম্ ॥ ১০ ॥
যত্তু সাতপবর্ষেণ স্নানং তদ্দিব্যমুচ্যতে।
তত্র স্নানে তু গঙ্গায়াং স্নাতো ভবতি মানবঃ ॥ ১১ ॥
স্নানার্থং বিপ্রমায়ান্তং দেবাঃ পিতৃগণৈঃ সহ।
বায়ুভূতা হি গচ্ছন্তি তৃষ্ণার্তাঃ সলিলার্থিনঃ ॥ ১২ ॥
নিরাশান্তে নিবর্ত্তন্তে বস্ত্ৰনিম্পীড়নে কৃতে।
তস্মান্ন পীড়য়েদ্বস্ত্রমকৃত্বা পিতৃতর্পণম্ ॥ ১৩ ॥
বিধুনোতি হি যঃ কেশান্ স্নাতঃ প্রস্রবতো দ্বিজঃ।
বায়ব্য স্নান ও দিব্য স্নান। ৯ ভস্ম দ্বারা মার্জনকে আগ্নেয় স্নান
বলা যায়। জলে অবগাহন পূর্ব্বক স্নান করিলে তাহাকে বারুণ
স্নান বলিয়া থাকে। আপোহিষ্ঠা এই মন্ত্র দ্বারা মানসিক
স্নান করিলে তাহাকে ব্রাহ্ম স্নান বলা যায়। ধূলি দ্বারা মার্জ্জন
করিলে তাহাকে বায়ব্য স্নান বলিয়া থাকে। ১০ রৌদ্রের সময়
বৃষ্টিজলে স্নান করিলে তাহাকে দিব্য স্নান বলা যায়। এই দিব্য
স্নান দ্বারা মানবগণ গঙ্গাস্নানের ফল লাভ করিতে পারে। ১১
যে সময় কোন ব্রাহ্মণ স্নানের নিমিত্ত গমন করে, তৎকালে
দেবগণ ও পিতৃগণ বায়ুরূপী হইয়া তৃষ্ণার্তহৃদয়ে জলের নিমিত্ত
পশ্চাৎ পশ্চাৎ গমন করিতে থাকেন। ১২ অনন্তর যখন বস্ত্র
নিষ্পীড়ন করা হয়, তখন সেই দেবগণ ও পিতৃগণ নিরাশ হইয়া
ফিরিয়া যান। অতএব পিতৃতর্পণ না করিয়া বস্ত্র নিষ্পীড়ন করা
বিধেয় নহে। ১৩ যে দ্বিজ স্নান করিয়া জলে দাঁড়াইয়া কেশ

দ্বাদশ অধ্যায়। ১১৯
আচামেদ্বা জলস্থোহপি ন বাহ্যঃ পিতৃদৈবতৈঃ ॥ ১৪ ॥
শিরঃ প্রাবর্ত্তকং বদ্ধ্বা মুক্তকচ্ছশিখোহপি বা।
বিনা যজ্ঞোপবীতেন আচান্তোহপ্যশুচির্ভবেৎ ॥ ১৫ ॥
জলে স্থলস্থো নাচামেজ্জলস্থশ্চ বহিঃস্থলে।
উভে স্পৃষ্ট্বা সমাচান্ত উভয়ত্র শুচির্ভবেৎ ॥ ১৬ ॥
স্নাত্বা পীত্বা ক্ষুতে সুপ্তে ভুক্তে রথ্যোপসর্পণে।
আচান্তঃ পুনরাচামেদ্বাসো বিপরিধায় চ ॥ ১৭ ॥
ক্ষুতে নিষ্ঠীবিতে চৈব দন্তোচ্ছিষ্টে তথানৃতে।
পতিতানাঞ্চ সম্ভাষে দক্ষিণং শ্রবণং স্পৃশেৎ ॥ ১৮ ॥
ঝাড়েন, অথবা যিনি জলের উপর আচমন করেন, দেবগণ ও
পিতৃগণ তাঁহার দত্ত জল গ্রহণ করেন না। ১৪ মাথায় পাকড়ী
বাঁধিয়া থাকিলে কাচা খুলিয়া থাকিলে যজ্ঞোপবীত ছাড়িয়া
থাকিলে বা মুক্তকেশ হইয়া থাকিলে আচমন করিয়াও শুচি হইবে
না। ১৫ স্থলে দাঁড়াইয়া জলে আচমন করিবে না। জলে থাকিয়া-
ও স্থলে আঁচাইবে না। জল স্থল উভয় স্পর্শ পূর্ব্বক উভয় স্থলে
আচমন করিলে শুচি হইতে পারে। ১৬ স্নান করিয়া পান করিয়া
হাঁচিয়া শয়ন করিয়া ভোজন করিয়া পথে গমন করিয়া অথবা
বস্ত্র পরিবর্ত্ত করিয়া কৃতাচমন ব্যক্তিও পুনর্ব্বার আচমন করিবে। ১৭
হাঁচিলে নিষ্ঠীবন করিলে দন্তোচ্ছিষ্ট হইলে কথা মিথ্যা হইলে
অথবা পতিত ব্যক্তির সহিত সম্ভাষণ করিলে দক্ষিণ কর্ণ স্পর্শ
করিবে। ১৮ ব্রহ্মা বিষ্ণু রুদ্র সোম সূর্য্য অনিল, ইঁহারা সকলে

১২০ পরাশর সংহিতা।
ব্রহ্মা বিষ্ণুশ্চ রুদ্রশ্চ সোমঃ সূর্য্যোঽনিলস্তথা।
তে সর্ব্বে হ্যপি তিষ্ঠন্তি কর্ণে বিপ্রস্য দক্ষিণে ॥ ১৯ ॥
দিবাকরকরৈঃ পূতং দিবাস্নানং প্রশস্ততে।
অপ্রশস্তং নিশি স্নানং রাহোরন্যত্র দর্শনাৎ ॥ ২০ ॥
মরুতো বসবো রুদ্রা আদিত্যাশ্চাদিদেবতাঃ।
সর্ব্বে সোমে বিলীয়ন্তে তস্মাৎ স্নানন্তু তদ্গ্রহে ॥২১॥
খলযজ্ঞে বিবাহে চ সংক্রান্তৌ গ্রহণেযু চ।
শর্ব্বর্য্যাং দানমেতেষু নান্যত্রেতি বিনিশ্চয়ঃ ॥ ২২ ॥
পুত্রজন্মনি যজ্ঞে চ তথা চাত্যয়কৰ্ম্মণি।
রাহোশ্চ দর্শনে দানং প্রশস্তং নান্যদা নিশি ॥ ২৩ ॥
মহানিশা তু বিজ্ঞেয়া মধ্যস্থপ্রহরদ্বয়ম্।
ব্রাহ্মণের দক্ষিণ কর্ণে বাস করেন। ১৯ দিবাভাগে যখন রৌদ্র
থাকিবে, সেই সময় স্নান করাই প্রশস্ত। যে সময় রাহু দর্শন হয়,
সেই সময় ব্যতীত অন্যকালে নিশাভাগে স্নান করা বিধিবিহিত
নহে। ২০ মরুদ্গণ বসুগণ রুদ্রগণ আদিত্যগণ ও অন্যান্য মূল
দেবগণ সকলে চন্দ্রে বিলীন থাকেন। অতএব চন্দ্রগ্রহণের সময়
নিশাকালেও স্নান করা বিধিবিহিত হইতেছে। ২১
খল যজ্ঞ বিবাহ সংক্রান্তি ও গ্রহণ, এই কএক সময়ে রাত্রি
কালে দান করা প্রশস্ত। অন্য সময়ে দান করা বিহিত নহে। ২২
পুত্র উৎপন্ন হইলে যজ্ঞ প্রবৃত্ত হইলে স্বস্ত্যয়ন করিতে হইলে
রাহু দর্শন হইলে রাত্রিকালে দান করা প্রশস্ত, অন্য সময় প্রশস্ত
নহে। ২৩

দ্বাদশ অধ্যায়। ১২১
প্রদোষপশ্চিমৌ যামৌ দিনবৎ স্নানমাচরেৎ ॥ ২৪ ॥
চৈত্যবৃক্ষশ্চিতিস্থশ্চ চণ্ডালঃ সোমবিক্রয়ী।
এতাংস্তু ব্রাহ্মণঃ স্পৃষ্ট্বা সবাসা জলমাবিশেৎ ॥ ২৫ ॥
অস্থিসঞ্চয়নাৎ পূর্ব্বং রুদিত্বা স্নানমাচরেৎ।
অন্তর্দ্দশাহে বিপ্রস্য পূর্ব্বমাচমনং ভবেৎ ॥ ২৬ ॥
সর্ব্বং গঙ্গাসমং তোয়ং রাহুগ্রস্তে দিবাকরে।
সোমগ্রহে তথৈবোক্তং স্নানদানাদিকৰ্ম্মসু ॥ ২৭ ॥
কুশপূতন্তু যৎ স্নানং কুশেনোপস্পৃশেদ্দ্বিজঃ।
কুশেনোদ্ধৃততোয়ং যৎ সোমপানসমং স্মৃতম্ ॥ ২৮ ॥
অগ্নিকাৰ্য্যাৎ পরিভ্রষ্টাঃ সন্ধ্যোপাসনবর্জ্জিতাঃ।

রাত্রির দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রহরকে মহানিশা বলা যায়। প্রথম
ও শেষ প্রহরে দিবসের ন্যায় স্নান করিবে। ২৪ চিতিস্থিত চৈত্য
বৃক্ষ চাণ্ডাল ও সোমবিক্রয়কারীকে স্পর্শ করিলে ব্রাহ্মণ সেই
বস্ত্রে স্নান করিবেন। ২৫ অস্থি সঞ্চয়নের পূর্ব্বে যখনই রোদন
করিবে, তখনই স্নান করিতে হইবে। ব্রাহ্মণগণ দশাহ মধ্যে রোদন
করিলে প্রথমত আচমন করিয়া পশ্চাৎ স্নান করিবে। ২৬
দিবাকর রাহুগ্রস্ত হইলে সমুদায় জল গঙ্গাজল সদৃশ হয়।
চন্দ্রগ্রহণেও ঐরূপ হইয়া থাকে। অতএব সেই সময়ে স্নান দান
প্রভৃতি সমুদায় কৰ্ম্মই প্রশস্ত। ২৭ কুশপূত জলে স্নান করিয়া
কুশ জলে আচমন পূর্ব্বক কুশোদ্ধৃত জল পান করিলে সোম পান
সদৃশ ফল হয়। ২৮
যে সকল ব্রাহ্মণ অগ্নি কার্য্য হইতে পরিভ্রষ্ট হইয়াছে, যে সকল
১৬

১২২ পরাশরসংহিতা।
বেদঞ্চৈবানধীয়ানাঃ সর্ব্বে তে বৃষলাঃ স্মৃতাঃ ॥ ২৯ ॥
তস্মাদ্বৃষলভীতেন ব্রাহ্মণেন বিশেষতঃ ।
অধ্যেতব্যোহপ্যেকদেশো যদি সর্ব্বং ন শক্যতে ॥ ৩০ ॥
শূদ্রান্নরসপুষ্টস্যাপ্যধীয়ানস্য নিত্যশঃ।
জপতো জুহ্বতো বাপি গতিরুক্তা ন বিদ্যতে ॥ ৩১ ॥
শূদ্রান্নং শূদ্রসম্পর্কঃ শূদ্রেণ তু সহাসনম্ ।
শূদ্রাজ্ জ্ঞানাগমশ্চাপি জ্বলন্তমপি পাতয়েৎ ॥ ৩২ ॥
মৃতসূতকপুষ্টাঙ্গো দ্বিজঃ শূদ্রান্নভোজনে ।
অহং তাং ন বিজানামি কাং কাং যোনিং গমিষ্যতি ॥ ৩৩
গৃধ্রো দ্বাদশ জন্মানি দশ জন্মানি শূকরঃ ।
শ্বযোনৌ সপ্ত জন্ম স্যাদিত্যেবং মনুরব্রবীৎ ॥ ৩৪ ॥
ব্রাহ্মণ সন্ধ্যা বন্দন করে না, যে সকল ব্রাহ্মণ বেদ পাঠে বিরত,
তাহাদিগকে বৃষল বলা যায়। ২৯ অতএব বৃষল হইবার আশঙ্কায়
ব্রাহ্মণের কর্তব্য এই যে, যদি সমুদায় বেদ অধ্যয়ন করিতে সমর্থ না
হন, তাহা হইলে একাংশমাত্রও অধ্যয়ন করিবেন। ৩০ যে ব্যক্তি
শূদ্রান্ন দ্বারা প্রতিপালিত হইয়া নিয়ত বেদ অধ্যয়ন জপ ও হোম
করে, তাহার শাস্ত্রোক্ত সদ্‌গতি লাভ হয় না। ৩১ শূদ্রান্ন শূদ্র
সম্পর্ক শূদ্রের সহিত সহবাস শূদ্র হইতে জ্ঞান লাভ, এতৎসমুদায়
জ্ঞানাগ্নি দ্বারা প্রজ্বলিত ব্যক্তিকেও অধঃপাতিত করে। ৩২ যে
ব্রাহ্মণের শরীর শূদ্রের মরণাশৌচের ও জননাশৌচের অন্ন দ্বারা
পরিপুষ্ট হইয়াছে, তাহাকে কোন্ কোন্ যোনিতে জন্ম পরিগ্রহ
করিতে হইবে, তাহা সমুদায় নিঃশেষ রূপে বলিতে পারি না। ৩৩

দ্বাদশ অধ্যায়। ১২৩
দক্ষিণার্থন্তু যো বিপ্রঃ শূদ্রস্য জুহুয়াদ্ধবিঃ।
ব্রাহ্মণস্তু ভবেচ্ছূ দ্রঃ শূদ্রস্তু ব্রাহ্মণো ভবেৎ ॥ ৩৫ ॥
মৌনব্রতং সমাশ্রিত্য আসীনো ন বদেদ্দ্বিজঃ।
ভুঞ্জানো হি বদেদ্যস্তু তদন্নং পরিবর্জ্জয়েৎ ॥ ৩৬ ॥
অর্দ্ধে ভুক্তে তু যো বিপ্রস্তস্মিন্ পাত্রে জলং পিবেৎ।
হতং দৈবঞ্চ পিত্র্যঞ্চ আত্মানঞ্চোপঘাতয়েৎ ॥ ৩৭ ॥
ভাজনেষু চ তিষ্ঠৎসু স্বস্তি কুৰ্ব্বন্তি যে দ্বিজাঃ।
ন দেবাস্তৃপ্তিমায়ান্তি নিরাশাঃ পিতরস্তথা ॥ ৩৮ ॥
গৃহস্থস্তু যদা যুক্তো ধর্ম্মমেবানুচিন্তয়েৎ।
পোষ্যধর্ম্মার্থসিদ্ধ্যর্থং ন্যায়বর্ত্তী সুবুদ্ধিমান্ ॥ ৩৯ ॥

সেই ব্যক্তি দ্বাদশ জন্ম গৃধ্র, দশ জন্ম শূকর, সপ্ত জন্ম কুক্কুর হয়,
ইহা মনুও বলেন। ৩৪ যদি কোন ব্রাহ্মণ দক্ষিণা গ্রহণ করিয়া
শূদ্রের নিমিত্ত হোম করেন, তাহা হইলে সেই ব্রাহ্মণ শূদ্রসদৃশ
ও সেই শূদ্র ব্রাহ্মণসদৃশ হয়। ৩৫ যে ব্রাহ্মণ মৌনব্রত অব-
লম্বন করিবেন, তিনি যে কোন সময় উপবিষ্ট হইয়া কোন কথা
কহিবেন না। যিনি ভোজন করিতে করিতে কথা কহিবেন, তিনি
ভোজনে বিরত হইয়া সেই অন্ন পরিত্যাগ করিবেন। ৩৬ অর্দ্ধ
ভোজন হইলে যে ব্যক্তি সেই পাত্রে জল পান করিবে, তাহার
দৈবকর্ম্ম ও পিত্র্য কর্ম্ম সমুদায়ই নষ্ট হইবে এবং সে আত্মাকেও
অধঃপাতিত করিবে। ৩৭ তর্পণের পাত্র উপস্থিত থাকিতে যে সকল
ব্রাহ্মণ তর্পণ না করে, তাহাদিগের পিতৃগণ ও দেবগণ তৃপ্ত হন
না, প্রত্যুত নিরাশ হইয়া ফিরিয়া যান। ৩৮ ন্যায়মার্গানুসারী

১২৪ পরাশরসংহিতা।
· ন্যায়োপার্জ্জিতবিত্তেন কর্ত্তব্যং জ্ঞানরক্ষণম্।
অন্যায়েন তু যো জীবেৎ সর্ব্বকর্ম্মবহিষ্কৃতঃ॥ ৪০ ॥
অগ্নিচিৎ কপিলা সত্রী রাজা ভিক্ষুর্মহোদধিঃ।
দৃষ্টমাত্রং পুনন্ত্যেতে তস্মাৎ পশ্যেত্তু নিত্যশঃ॥ ৪১ ॥
অরণিং কৃষ্ণমার্জ্জারং চন্দনং স্বমণিং ঘৃতম্।
তিলান্ কৃষ্ণা জিনং ছাগং গৃহে চৈতানি রক্ষয়েৎ॥৪২॥
গবাং শতং সৈকবৃষং যত্র তিষ্ঠত্যযন্ত্রিতম্।
তৎ ক্ষেত্রং দশগুণিতং গোচর্ম্ম পরিকীর্ত্তিতম্ ॥ ৪৩ ॥
ব্রহ্মহত্যাদিভির্মর্ত্ত্যো মনোবাক্কায়কৰ্ম্মজৈঃ।
এতদ্গোচর্ম্মদানেন মুচ্যতে সর্ব্বকিন্বিষৈঃ ॥ ৪৪ ॥
সুবুদ্ধি গৃহস্থ যে সময় পুত্রকলত্রাদি পরিজন প্রতি পালন রূপ
ধর্ম্মার্থ সাধনে নিযুক্ত থাকিবে, তখন সর্ব্বদা ধর্ম্ম চিন্তাই করিবে। ৩৯
ন্যায়পথ অবলম্বন পূর্ব্বক উপার্জ্জিত ধন দ্বারা জ্ঞান রক্ষা করিবে।
যে ব্যক্তি অন্যায় পথ অবলম্বন করিয়া জীবিকা নির্ব্বাহ করিবে, সে
সমুদায় ধর্ম্ম হইতে বিচ্যুত হইবে। ৪০
অগ্নিচিৎ ব্রাহ্মণ কপিলা গাভি যজ্ঞে দীক্ষিত ব্যক্তি রাজা
ভিক্ষুক ও জলনিধি, ইঁহারা দর্শন মাত্রে পবিত্র করেন, অতএব
নিয়ত ইঁহাদিগের দর্শন করা কর্ত্তব্য। ৪১ অরণি কৃষ্ণমার্জ্জার চন্দন
উত্তম মণি ঘৃত তিল কৃষ্ণাজিন ও ছাগ, গৃহে এই সমুদায় রক্ষা
করিবে। ৪২ যে ক্ষেত্রে একটী বৃষ ও একশত গাভি মুক্ত থাকিতে
পারে, তাহার দশগুণ ক্ষেত্রকে গোচর্ম্ম বলা যায়। ৪৩
কোন মনুষ্য যদি মনোদ্বারা বাক্য দ্বারা শারীরিক ব্যাপার দ্বারা
CC-0. In Public Domain Sri Aurobindo Library, Pondicherry

দ্বাদশ অধ্যায়। ১২৫
কুটুম্বিনে দরিদ্রায় শ্রোত্রিয়ায় বিশেষতঃ।
যদ্দানং দীয়তে তস্মৈ তদায়ুর্দ্ধিকারকম্ ॥ ৪৫ ॥
আষোড়শদিনাদর্ব্বাক্ স্নানমেব রজস্বলা।
অত ঊর্দ্ধং ত্রিরাত্রং স্যাদুশনা মুনিরব্রবীৎ ॥ ৪৬ ॥
যুগং যুগদ্বয়ঞ্চৈব ত্রিযুগঞ্চ চতুর্য়ুগম্।
চাণ্ডালসূতিকোদক্যাপতিতানামধঃ ক্রমাৎ ॥ ৪৭ ॥
ততঃ সন্নিধিমাত্রেণ সচেলং স্নানমাচরেৎ।
স্নাত্বাবলোকয়েৎ সূর্য্যমজ্ঞানাৎ স্পৃশতে যদি ॥ ৪৮॥
ব্রহ্মহত্যা প্রভৃতি মহাপাতক করে, তাহা হইলে এই রূপ গোচর্ম্ম
দান করিলে সমুদায় পাপ হইতে বিনির্ম্মুক্ত হইতে পারিবে। ৪৪
বহু পরিবার বিশিষ্ট দরিদ্র ব্রাহ্মণকে বিশেষত ঐরূপ শ্রোত্রিয়কে
যাহা দান করা যায়, তাহাতে পরমায়ু, বৃদ্ধি হয়। ৪৫
যদি কোন নারী ষোল দিনের মধ্যে পুনর্ব্বার রজস্বলা হয়,
তাহা হইলে স্নান করিয়া শুদ্ধি লাভ করিবে। যদি ষোল দিনের পর
রজস্বলা হয়, তাহা হইলে ত্রিরাত্রি অশৌচ হইবে, ইহা মহর্ষি উশ-
নাও স্বীকার করেন। ৪৬·যদি কেহ চাণ্ডালী স্পর্শ করে, তাহা হইলে
দুই দিন, যদি কেহ প্রসূতিকা স্পর্শ করে, তাহা হইলে চারি দিন,
যদি কেহ রজস্বলা নারী স্পর্শ করে, তাহা হইলে ছয় দিন, যদি
কেহ পতিতা নারী স্পর্শ করে, তাহা হইলে আট দিন অশৌচ
হইবে। ৪৭ অতএব এই সমুদায় নারী সম্মুখবর্ত্তিনী হইলেই তৎক্ষণাৎ
সেই বস্ত্রে স্নানার্থ জলে প্রবেশ করিবে। যদি কেহ অজ্ঞান বশতঃ

১২৬ পরাশরসংহিতা।
বাপীকূপতড়াগেষু ব্রাহ্মণো জ্ঞানদুর্ব্বলঃ।
তোয়ং পিবতি বক্ত্রেণ শ্বযোনৌ জায়তে ধ্রুবম্ ॥ ৪৯ ॥
যস্ত ক্রুদ্ধঃ পুমান্ ভার্য্যাং প্রতিজ্ঞায়াপ্যগম্যতাম্।
পুনরিচ্ছতি তাং গন্তং বিপ্রমধ্যে তু শ্রাবয়েৎ ॥ ৫০ ॥
শ্রান্তঃ ক্রুদ্ধস্তমোভ্রান্ত্যা ক্ষুৎপিপাসাভয়ার্দ্দিতঃ।
দানং পুণ্যমকৃত্বা চ প্রায়শ্চিত্তং দিনত্রয়ম্ ॥ ৫১ ॥
উপস্পৃশেৎত্রিষবণং মহানদ্যাপসঙ্গমে।
চীর্ণান্তে চৈব গাং দদ্যাদ্ব্রাহ্মণান্ ভোজয়েদ্দশ ॥ ৫২ ॥

ইহাদিগকে স্পর্শ করে, তাহা হইলে স্নানের পর সূর্য্য দর্শন
করিবে।৪৮
যদি কোন অজ্ঞান ব্রাহ্মণ বাপী কূপ ও তড়াগ মধ্যে মুখ দ্বারা
জল পান করে, তাহা হইলে সে জন্মান্তরে কুকুর হয়, সন্দেহ
নাই। ৪৯ যদি কোন পুরুষ ক্রোধ বশত এরূপ প্রতিজ্ঞা করে যে, সে
আর কখনও তাহার সেই ভার্য্যা গমন করিবে না, পরে পুনর্ব্বার যদি
সেই ভার্য্যাতে গমন করিতে ইচ্ছা করে, তাহা হইলে তাহা ব্রাহ্মণ-
গণের নিকট প্রকাশ করিবে। ৫০ যদি কোন ব্যক্তি শ্রান্তি বশতঃ
ক্রোধ বশতঃ তমোগুণ নিবন্ধন ভ্রান্তি বশতঃ ক্ষুধাবশত পিপাসা
বশত বা ভয় বশত কাতর হইয়া দান বা পুণ্য কৰ্ম্ম কিছুই না করিয়া
থাকে, তাহা হইলে তাহাকে তিন দিন এই রূপে প্রায়শ্চিত্ত করিতে
হইবে যে। ৫১ মহানদীর সঙ্গম স্থলে সে প্রত্যহ তিনবার স্নান
করিবে। প্রায়শ্চিত্ত অনুষ্ঠিত হইলে দশজন ব্রাহ্মণ ভোজন করা-
ইয়া গোদক্ষিণা প্রদান করিবে। ৫২

দ্বাদশ অধ্যায়। ১২৭
দুরাচারস্য বিপ্রস্য নিষিদ্ধাচরণস্য চ।
অন্নং ভুক্ত্বা দ্বিজঃ কুর্য্যাদ্দিনমেকমভোজনম্ ॥ ৫৩ ॥
সদাচারস্য বিপ্রস্য তথা বেদান্তবাদিনঃ।
ভুক্ত্বান্নং মুচ্যতে পাপাদহোরাত্রন্ত বৈ নরঃ ॥ ৫৪ ॥
উর্দ্ধোচ্ছিষ্টমধোচ্ছিষ্টমন্তরীক্ষমৃতৌ তথা।
কৃচ্ছ্রত্রয়ং প্রকুর্ব্বীত আশৌচমরণে তথা ॥ ৫৫ ॥
কৃচ্ছে দেব্যযুতঞ্চৈব প্রাণায়ামশতত্রয়ম্।
পুণ্যতীর্থেনার্দ্রশিরঃ স্নানং দ্বাদশসংখ্যয়া ॥ ৫৬ ॥
দ্বিযোজনং তীর্থযাত্রা কৃচ্ছ্রমেবং প্রকল্পিতম্ ॥ ৫৭ ॥
যদি কোন ব্রাহ্মণ, নিষিদ্ধাচরণকারী দুরাচার ব্রাহ্মণের অন্ন
ভোজন করে, তাহা হইলে সে এক দিন উপবাস করিয়া
থাকিবে। ৫৩ যে ব্রাহ্মণ সদাচারী ও বেদান্তবাদী, তাঁহার অন্ন
যদি কেহ এক দিবারাত্র মাত্র ভোজন করে, তাহা হইলে সে সমুদায়
পাপ হইতে মুক্ত হয়। ৫৪
যদি কেহ উর্দ্ধোচ্ছিষ্ট হইয়া মরে অর্থাৎ যদি কাহারো মৃত্যুকালে
মুখে বমনাদি থাকে অথবা যদি কেহ অধ উচ্ছিষ্ট হইয়া অর্থাৎ
মল সমেত থাকিয়া প্রাণত্যাগ করে, কিংবা যদি কেহ অন্তরিক্ষে
মরে তাহা হইলে তিনটী কৃচ্ছ্র ব্রত দ্বারা শুদ্ধিলাভ করিবে পরন্তু
এরূপ অবস্থায় সংগ্রামে মৃত্যু হইলে কোন দোষ ঘটিবে না। ৫৫
কৃচ্ছ্রব্রত করিতে হইলে দশ সহস্র গায়ত্রী জপ ও তিন
শত প্রাণায়াম করিতে হইবে এবং পুণ্য তীর্থে আর্দ্র মস্তকে

১২৮ পরাশরসংহিতা।
গৃহস্থঃ কামতঃ কুর্য্যাদ্রেতসঃ সেচনং ভুবি।
সহস্রঞ্চ জপেদ্দেব্যাঃ প্রাণায়ামৈস্ত্রিভিঃ সহ ॥ ৫৮ ॥
চাতুর্ব্বেদ্যোপপন্নস্তু বিধিবদ্ব্রহ্মঘাতকে।
সমুদ্রসেতুগমন-প্রায়শ্চিত্তং বিনির্দ্দিশেৎ ॥ ৫৯ ॥
সেতুৰন্ধপথে ভিক্ষাং চাতুর্ব্বর্ণ্যাৎ সমাচরেৎ।
বর্জ্জয়িত্বা বিকর্ম্মস্থাংশ্ছত্রোপানদ্বিবর্জ্জিতঃ ॥ ৬০ ॥
অহং দুষ্কৃতকর্ম্মা বৈ মহাপাতককারকঃ।
গৃহদ্বারেবু তিষ্ঠামি ভিক্ষার্থী ব্রহ্মঘাতকঃ ॥ ৬১ ॥
গোকুলেষু বসেচ্চৈব গ্রামেবু নগরেষু চ।
দ্বাদশবার স্নান করিবে। ৫৬ পরে দুইযোজন দূরে তীর্থ যাত্রা
করিলে কৃচ্ছ ব্রত সম্পন্ন হইবে। ৫৭
যদি কোন গৃহস্থ ইচ্ছা পূর্ব্বক ভূমিতে রেতঃসেক করে, তাহা
হইলে তাহাকে তিনটা প্রাণায়াম এবং এক সহস্র গায়ত্রী জপ
করিতে হইবে। ৫৮ চতুর্বেদ সম্পন্ন ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মহত্যাকারী ব্যক্তিকে
সেতুবন্ধ গমনরূপ প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা দিবেন। ৫৯ ঐ ব্রহ্ম-
হত্যাপাতকে পাতকী ব্যক্তি সেতু বন্ধে গমন করিবার সময় পথে
ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য ও শূদ্রের নিকট ভিক্ষা করিবে।
কুকর্ম্মনিরত ব্যক্তির নিকট ভিক্ষা করিতে পারিবে না। পায়ে
পাদুকা ও মাথায় ছত্র ব্যবহার করিতেও পারিবে না। ৬০ (ঐ
ব্যক্তি এই রূপ বলিয়া ভিক্ষা করিবে যে) আমি দুষ্কর্ম্মকারী ও
মহাপাতকী। আমি ব্রহ্মহত্যা করিয়াছি। আমি ভিক্ষার্থী হইয়া
গৃহদ্বারে অবস্থান করিতেছি। ৬১ এই ব্রহ্মঘাতক ব্যক্তি, গোকুলে

দ্বাদশ অধ্যায়।
১২৯
তথা বনেষু তীর্থেষু নদীপ্রস্রবণেষু চ ॥ ৬২ ॥
এতেষু খ্যাপয়ন্নেনঃ পুণ্যং গত্বা তু সাগরম্ ।
দশযোজনবিস্তীর্ণং শতযোজনমায়তম্ ॥ ৬৩ ॥
রামচন্দ্রসমাদিষ্টং নলসঞ্চয়সঞ্চিতম্ ।
সেতুং দৃষ্ট্বা সমুদ্রস্য ব্রহ্মহত্যাং ব্যপোহতি ॥ ৬৪ ॥
যজেত বাশ্বমেধেন রাজা তু পৃথিবীপতিঃ ।
পুনঃপ্রত্যাগতো বেশ্ম বাসার্থমুপসর্পতি ॥ ৬৫ ॥
সপুত্রঃ সহ ভৃত্যৈশ্চ কুর্য্যাদ্ব্রাহ্মণভোজনম্ ।
গাশ্চৈবৈকশতং দদ্যাচ্চাতুর্ব্বেদ্যেষু দক্ষিণাম্ ॥ ৬৬ ॥
ব্রাহ্মণানাং প্রসাদেন ব্রহ্মহা তু বিমুচ্যতে।
সবনস্থাং স্ত্রিয়ং হত্বা ব্রহ্মহত্যাব্রতং চরেৎ ॥ ৬৭ ॥
গ্রামে নগরে বনে তীর্থে ও নদী প্রস্রবণে বাস করিবে। ৬২ পরন্তু ঐ
সমুদায় স্থানে নিজকৃত পাপ প্রকাশ করিতে হইবে। পরে পবিত্র
সাগরে গমন পূর্ব্বক শত যোজন দীর্ঘ দশ যোজন আয়ত ৬৩ রাম-
চন্দ্রের আজ্ঞানুসারে নল নামক বানর কর্তৃক প্রস্তুত সমুদ্রের সেতু
দর্শন করিলে ব্রহ্মহত্যা জনিত পাতক ক্ষয় হয়। ৬৪ অথবা
এই ব্রহ্মহত্যা পাতক ক্ষয়ের নিমিত্ত পৃথিবীপতি রাজা অশ্বমেধ যজ্ঞ
করিবেন। পরে ঐ পাতকী সেতুবন্ধ হইতে বা অশ্বমেধের অশ্ব-
রক্ষার্থ ভ্রমণ হইতে প্রতিনিবৃত্ত হইয়া বাসের জন্য নিজ ভবনে
গমন করিবেন। ৬৫ পরে তিনি পুত্রগণের সহিত ও ভৃত্যবর্গের
সহিত ব্রাহ্মণ ভোজন করাইয়া চতুর্ব্বেদি ব্রাহ্মণগণকে এক শত
গো দক্ষিণা প্রদান করিবেন। ৬৬ ` এই রূপে ব্রাহ্মণগণের প্রসাদে
১৭

ized by eGangotri/Sarayu Trust. Funding IKS-MoE-Grant-2 Equipment Heritage Foundation, Jalg
১৩০ পরাশর সংহিতা।
मद्यपश्च द्विजः कुर्यान्नदीं गत्वा समुद्रगाम् ।
चान्द्रायणे ततश्चीर्णे कुर्याद्ब्राह्मणभोजनम् ॥ ६८ ॥
अनडुक्सहितां गाञ्च दद्याद्विप्रेषु दक्षिणाम् ॥ ६९ ॥
अपहृत्य सुवर्णन्तु ब्राह्मणस्य ततः स्वयम् ।
गच्छेन्मुषलमादाय राजाभ्यासं बधाय तु ॥ ७० ॥
ततः शुद्धिमवाप्नोति राज्ञासौ मुक्त एवच ।
कामकारकृतं यत् स्यान्नान्यथा बधमर्हति ॥ ७१ ॥
आसनाच्छयनाद्यानात् सम्भाषात् सहभोजनात् ।
संक्रामन्ति हि पापानि तैलविन्दुरिवाम्भसि ॥ ७२ ॥
ব্রহ্মহত্যাকারী ব্রহ্মহত্যা জনিত পাতক হইতে মুক্ত হইতে পারে।
যে নারী যজ্ঞ বা ব্রতে দীক্ষিতা আছে, তাহাকে বধ করিলে ব্রহ্ম-
হত্যাপাতকের প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইবে। ৬৭
যে ব্রাহ্মণ মদ্য পান করিবে, সে সাগরগামিনী নদীতে স্নান
পূর্ব্বক চান্দ্রায়ণ ব্রত করিয়া ব্রাহ্মণ ভোজন করাইবে। ৬৮ পরে
ব্রাহ্মণকে একটী ধেনু ও একটী বৃষ দক্ষিণাস্বরূপ দান করিতে
হইবে। ৬৯ যে ব্যক্তি ব্রাহ্মণের সুবর্ণ অপহরণ করিবে, সে স্বয়ং
একটী মুষল লইয়া বধদণ্ডের নিমিত্ত রাজার নিকট গমন করিবে। ৭০
যদি সেই পাপ কামকৃত না হয়, তাহা হইলে রাজা তাহাকে ছাড়িয়া
দিবেন। তাহাতেই তাহার সেই পাপ ক্ষয় হইবে। যদি ঐ পাপ
জ্ঞানকৃত হয়, তাহা হইলে রাজা তাহার প্রাণদণ্ড করিবেন। ৭১
জলে নিক্ষিপ্ত তৈলবিন্দু যেমন চতুর্দ্দিকে সংক্রমণ করে, তাহার
ন্যায়, একত্র উপবেশন দ্বারা একত্র শয়ন দ্বারা একত্র গমন দ্বারা
CC-0. In Public Domain Sri Aurobindo Library, Pondicherry

দ্বাদশ অধ্যায়ঃ। ১৩১
চান্দ্রায়ণং যাবকঞ্চ তুলাপুরুষ এব চ।
গবাঞ্চৈবানুগমনং সর্ব্বপাপপ্রণাশনম্ ॥ ৭৩ ॥
এতৎ পারাশরং শাস্ত্রং শ্লোকানাং শতপঞ্চকম্।
দ্বিনবত্যা সমাযুক্তং ধর্ম্মশাস্ত্রস্য সংগ্রহঃ ॥ ৭৪ ॥
যথাধ্যয়নকর্ম্মাণি ধর্ম্মশাস্ত্রমিদং তথা।
অধ্যেতব্যং প্রযত্নেন নিয়তং স্বর্গগামিনা ॥ ৭৫ ॥
ইতি শ্রীপারাশরে ধর্ম্মশাস্ত্রে
দ্বাদশোহধ্যায়ঃ।
পরাশরসংহিতা সম্পূর্না।
একত্র ভোজন দ্বারা এবং সম্ভাষণ দ্বারা পাপসকল শরীরান্তরে
সঞ্চারিত হয়। ৭২
চান্দ্রায়ণ যাবকাহার তুলাদান ও গাভির অনুগমন, ইহা দ্বারা
সমুদায় পাপ ক্ষয় হয়। ৭৩
এই পরাশর সংহিতাতে ৫৯২ পাঁচ শত বিরানব্বই শ্লোকে ধর্ম্ম-
শাস্ত্র সংগৃহীত হইয়াছে। ৭৪ অধ্যয়ন কাৰ্য্য যেমন নিত্য, এই পরা-
শরোক্ত ধর্ম্মশাস্ত্রও সেই রূপ নিত্য। যাঁহার স্বর্গে গমন করিতে
ইচ্ছা আছে, তিনি নিয়ত ইহা পাঠ করিবেন। ৭৫
পরাশরসংহিতা দ্বাদশ অধ্যায়
সমাপ্ত।
শ্রীজগন্মোহন তর্কালঙ্কার কৃত পরাশরসংহিতানুবাদ
সম্পূর্ণ।

ized by eGangotri/Sarayu Trust. Funding IKS-MoE-Grant-2 Equipment Heritage Foundation, Jalg
CC-0. In Public Domain Sri Aurobindo Library, Pondicherry