सामग्री पर जाएँ
सर्वकोश
संग्रह पर लौटें

सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology

पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा

DevanagariHindipublished358 पृष्ठ

সঙ্গীত পারিজাত ২১
জম্বুশাককুশক্রৌঞ্চশাল্মলীশ্বেতনামসু।
দ্বীপেষু পুষ্করে দ্বীপে জাতাঃ সপ্তস্বরাঃ ক্রমাৎ ॥ ৯০
স্বর সপ্তকের জন্মস্থান হ’চ্ছে, যথাক্রমে, জম্বু, শাক, কুশ, ক্রৌঞ্চ, শাল্মলী, শ্বেত
ও পুষ্কর নামক সাতটি দ্বীপ। ৯০
অগ্নির্ব্রহ্মা মৃগাঙ্কশ্চ লক্ষ্মীশো নারদো মুনিঃ।
তুম্বুরুর্ধনদশ্চেতি তে সপ্তস্বরদর্শিনঃ ॥ ৯১
বহ্নিব্রহ্মাসরস্বত্যঃ শর্ব্বশ্রীশগণেশ্বরাঃ।
সহস্রাংশুরিতি প্রোক্তাঃ ক্রমাৎ ষড়্জাদিদেবতাঃ ॥ ৯২
অথানুষ্টুপ্ চ গায়ত্রী ত্রিষ্টুপ্ চ বৃহতী তথা।
পঙ্ক্তিরুষ্ণিগ্জগত্যো চ ছন্দাংস্যাহুঃ স্বরেষ্বিতি ॥ ৯৩
স্বর সপ্তকের ঋষি, অধিষ্ঠাত্রী দেবতা ও ছন্দ হ’চ্ছে যথাক্রমে : ঋষি—অগ্নি,
ব্রহ্মা, চন্দ্র, বিষ্ণু, নারদ, তুম্বুরু, ও কুবের। অধিষ্ঠাত্রী দেবতা—অগ্নি, ব্রহ্মা,
সরস্বতী, মহাদেব, বিষ্ণু, গণেশ ও সূর্য্য। ছন্দ—অনুষ্টুপ, গায়ত্রী, ত্রিষ্টুপ,
বৃহতী, পঙ্ক্তি, উষ্ণিক্ ও জগতী। ৯১—৯৩
স-মৌ হাস্যে চ শৃঙ্গারে স্বরৌ স্যাতাং তথা ধ-নী।
পো বীভৎসে তথা দৈন্যে ভয়ানকরসে ভবেৎ।
রসে শৃঙ্গারকে রিঃ স্যাদ্গান্ধারোহাস্যকে পুনঃ॥ ৯৪
তীব্রো বীরেহদ্ভুতে রৌদ্রে হাস্যে তীব্রতরঃ স্বরঃ।
তীব্রতরোহপি শৃঙ্গারে রসে মধ্যম ঈরিতঃ॥ ৯৫
তীব্রতমশ্চ শৃঙ্গারে মৃদুর্মোহাস্যকে রসে।
এবং ষড়্বিভাগঃ স্যাৎ স্বরেষু সপ্তসু ধ্রুবম্ ॥ ৯৬
সা মা ধা ও নি, এই চারিটি স্বর ব্যবহৃত হয়, যথাক্রমে, হাস্য ও শৃঙ্গার রস
পরিবেশনে।

২২ সঙ্গীত পারিজাত
পা ব্যবহৃত হয়, বীভৎস, করুণ ও ভয়ানক রস পরিবেশনে।
রে ব্যবহৃত হয়, শৃঙ্গার রস পরিবেশনে।
গা ব্যবহৃত হয়, হাস্যরস পরিবেশনে।
তীব্রস্বর ব্যবহৃত হয়, বীর, অদ্ভুত ও রৌদ্র রস পরিবেশনে।
তীব্রতর স্বর ব্যবহৃত হয়, হাস্য রস পরিবেশনে।
তীব্রতর ও তীব্রতম মা ব্যবহৃত হয় শৃঙ্গার রস পরিবেশনে। এবং, মৃদু মা
ব্যবহৃত হয় হাস্য রস পরিবেশনে।
এই হ’চ্ছে স্বর-সপ্তকের রস-বিভাগ। ৯৪—৯৬
টিপ্পনী : বলাবাহুল্য, কোন স্বরই, কেবলমাত্র স্বর হিসাবে কোন রকম
রস পরিবেশন করতে পারে না। স্বরটি যদি যথাযথভাবে রাগের মধ্যে প্রযুক্ত
হয় তবেই সে, সেই রাগের প্রতিপাদ্য রসকে প্রকট করে তুলতে সক্ষম হয়।
৯৪—৯৬
॥ ইতি স্বরপ্রকরণম্ ॥

॥ স্বর-শ্রুতি-মণ্ডল চিত্র

ক্রমিক সংখ্যাশ্রুতির নামপারিজাতের শ্রুতি-জাতিপারিজাতের শুদ্ধ স্বরপারিজাতের কোমলাদি স্বরপারিজাতের তীব্রাদি স্বরপারিজাতের অন্তর ও সাধারণাদি স্বরঐ তুলনায় বর্তমানে প্রচলিত স্বর-শ্রুতির পার্থক্য
১তীব্রাদীপ্তাতীব্র নিসাধারণ নিসা
২কুমুদ্বতীআয়তাতীব্রতর নিকাকলী নিকোমলতম রে
৩মন্দামৃদুতীব্রতম নিকৈশিক নি ও মৃদু সাঅতি কোমল রে
৪ছন্দোবতীমধ্যাসাকোমল রে
৫দয়াবতীকরুণাপূর্ব্ব রেশুদ্ধ রে
৬রঞ্জনীমধ্যাকোমল রেঅতি কোমল গা
৭রতিকামৃদুরপূর্ব্ব গাকোমল গা
৮রৌদ্রীদীপ্তাকোমল গাতীব্র রেসাধারণ রেশুদ্ধ গা
৯ক্রোধাআয়তাগাতীব্রতর রেতীব্র গা
১০বজ্রিকাদীপ্তাতীব্র গাসাধারণ গাশুদ্ধ মা
১১প্রসারিণীআয়তাতীব্রতর গাঅন্তর গা১ শ্রুতি মা বা তীব্র-মা
১২প্রীতিমৃদুতীব্রতম গামৃদু মাকড়ি মা বা তীব্রতর-মা
১৩মার্জ্জনীমধ্যামাঅতিতীব্রতম গাতীব্রতম মা
১৪ক্ষিতিমৃদুতীব্র মাসাধারণ মাপা
১৫রক্তামধ্যাতীব্র'র মাঅন্তর মাকোমলতম ধা
১৬সন্দীপনীআয়তাতীব্রতম মামৃদু পাঅতি কোমল ধা
১৭আলাপিনীকরুণাপাকোমল ধা
১৮মদন্তীকরুণাপূর্ব্ব ধাশুদ্ধ ধা
১৯রোহিণীআয়তাকোমল ধাঅতি কোমল নি
২০রম্যামধ্যাধাপূর্ব্ব নিকোমল নি
২১উগ্রাদীপ্তাতীব্র ধাসাধারণ ধাশুদ্ধ নি
২২ক্ষোভিণীমধ্যানিতীব্রতর ধাতীব্র নি
১তীব্রাদীপ্তাতীব্র নিসাধারণ নিসা

অথ গ্রামাত্রয়ঃ প্রোক্তাঃ স্বরসন্দো্হরূপিণঃ।
ষড়্জমধ্যমগান্ধারসংজ্ঞাভিস্তে সমন্বিতাঃ ॥ ৯৭
মূর্চ্ছ'নাধারভূতান্তে ষড়্জগ্রামস্ত্রিষুত্তমঃ।
রাগা গ্রামদ্বয়ালভ্যা ষড়্জগ্রামোদ্ভবা ইতি ॥ ৯৮
অতঃপর গ্রাম-এর লক্ষণাদি বল। যাচ্ছে। গ্রাম তিনটি। ষডজ, মধ্যম ও
গান্ধার। মূর্চ্ছনার আধার স্বরূপ যে স্বরমণ্ডল, তাকেই গ্রাম বলে। এই
গ্রাম তিনটির মধ্যে সব চাইতে উত্তম বা কার্য্যকরী হচ্ছে ষড়জ গ্রাম। কারণ,
ষডজ গ্রামের ভিত্তিতে রাগের যে সব রূপ পাওয়া যায়, বাকী দু'টি গ্রামের
মধ্যে তা দুর্লভ। ৯৭-৯৮
যথোক্ত শ্রুতিকাঃ প্রোক্তাঃ ষড়্জগ্রামেঽখিলাঃ স্বরাঃ।
মধ্যমে মেরুসংস্থেঽস্মিন্ মধ্যমগ্রামসম্ভবঃ ॥ ৯৯
যদা তদৈব তাস্তিস্রঃ শ্রুতীর্যাতি স পঞ্চমঃ।
নিষাদং ত্রিশ্রুতিং তং ব্রুবুর্লক্ষণকোবিদাঃ ॥ ১০০
অন্যে তু শ্রুতিভির্মুক্তাঃ স-গ্রামস্বরা ইব।
শ্রুতিত্রয়সমাযুক্তোয়দা গো মেরুগো ভবেৎ ॥ ১০১
গান্ধারগ্রাম আখ্যাতস্তিস্রভিঃ শ্রুতিভিঃ পরে।
চতুঃশ্রুতির্নিষাদঃ স্যাৎ ষড়জোঽপি তিসৃভির্যুতঃ ॥ ১০২
ষডজ গ্রামের শ্রুতির কথা পূর্ব্বেই বলেছি। এই ষড়জ গ্রামের সা স্বরটি যেমন
মেরুস্থানে বা সর্ব্বাগ্রে থাকে, তেমনি, ষড়জ গ্রামের শুদ্ধ মা স্বরটিকে মেরুস্থানে
গ্রহণ করলে মধ্যম গ্রামকে পাওয়া যায়।—এই ব্যবস্থার ফলে, মধ্যম গ্রামের
পা স্বরটি, ষড়জ গ্রামের রে স্বরের স্থান গ্রহণ ক'রে তিনশ্রুতি সম্পন্ন হয়।
এছাড়াও, এই পরিবর্তনের জন্য নি স্বরটি তিন শ্রুতি বিশিষ্ট হয়; কিন্তু সপ্তকের

সঙ্গীত পারিজাত ২৫
বাকী পাঁচটি স্বর ষড়জ গ্রামেরই শ্রুতি বিভাগের অনুরূপ থাকে। অনুরূপ
পদ্ধতিতে গান্ধার গ্রামকেও পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ষড়জ গ্রামের গা স্বরটিকে
মেরুস্থানে গ্রহণ করলে এবং নি স্বরটি ব্যতীত আর কটি স্বরের প্রত্যেকটিকে
তিন শ্রুতির বিভাগে বিভক্ত করলে, গান্ধার গ্রামকে পাওয়া যায়। গান্ধার
গ্রামের নি স্বরটি কেবল চার শ্রুতি সম্পন্ন। ৯৯-১০২
টিপ্পনী : পারিজাতের মতানুযায়ী মধ্যম ও গান্ধার গ্রামের শ্রুতি বিভাগের
সঙ্গে গ্রন্থকারের পূর্ব্ববর্ত্তী ও পরবর্ত্তী কালের গ্রন্থকারগণ কথিত মধ্যম-গান্ধার
গ্রামের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। বিশেষতঃ রত্নাকর সদৃশ সঙ্গীত রত্নাকরের
পার্থক্য প্রকট। পরবর্ত্তী পৃষ্ঠার গ্রাম চক্রটির প্রতি লক্ষ্য করলেই পার্থক্যটা
সুস্পষ্ট হবে। বলাবাহুল্য, পারিজাতের মতো, রত্নাকরের স্বরও শেষ শ্রুতি
থেকে উদ্ভূত।
কিন্তু, বর্তমানের স্বর প্রথম শ্রুতি থেকে নিষ্পন্ন হয় এবং এই কারণেই সংলগ্ন
স্বর-শ্রুতি-মণ্ডল চিত্রটিতে প্রথম শ্রুতি তীব্রা = পারিজাতের তীব্র নি = বর্তমানের
সা দেখানো হয়েছে এবং পারিজাতের সা = বর্তমানের কোমল রে দেখানো
হয়েছে। কিন্তু, স্বরাদির তুলনাত্মক আলোচনার ক্ষেত্রে এই “প্রথম” ও “শেষ”
শ্রুতির উদাহরণগুলি বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। বস্তুতঃ পারিজাতের ও
বর্তমানের স্বরগুলি সবই ২২ শ্রুতির অন্তর্গত এবং পরের পর নিষ্পন্ন হয়ে থাকে।
সুতরাং পাঠক যদি পারিজাতের সা-কে বর্তমানের সা হিসাবে গ্রহণ করে
অগ্রসর হন তাহলে, স্বরের তুলণাত্মক আলোচনার ব্যাপারটা অনেকখানি
সহজ সরল হয়ে যাবে। দেখা যাবে, বর্তমানের শুদ্ধ রে-র সঙ্গে পারিজাতের
তীব্র বা শুদ্ধ রে-র পার্থক্য মাত্র এক শ্রুতির। ৯৯ ১০২
॥ ইতি গ্রামলক্ষণম্ ॥

আরোহশ্চাবরোহশ্চ স্বরাণাং জায়তে যদা।
তাং মূর্চ্ছনাং তদা লোকে আহুর্গ্রামাশ্রয়াং বুধাঃ ॥ ১০৩
সপ্তসংখ্যাযুতাস্তাস্তাসাং নামানি বচ্ম্যহম্।
তত্রোত্তরমন্দ্রা স্যাৎ ষড়্‌জপূর্ব্বকসম্ভবা ॥ ১০৪
দ্বিতীয়া রজনী প্রোক্তা নিষাদস্বরপূর্ব্বিকা।
ধৈবতাদিস্বরোদ্ভূতা তৃতীয়া চোত্তরায়তা ॥ ১০৫
চতুর্থী শুদ্ধষড়্‌জা স্যাৎ পঞ্চমাদিস্বরোদ্ভবা।
মৎসর্য্যাকৃতাখ্যা সা মধ্যমাদিস্বরোদ্ভবা ॥ ১০৬
অশ্বক্রান্তা তু ষষ্ঠী স্যাৎ গান্ধারস্বরপূর্ব্বিকা।
ঋষভাদিস্বরোদ্ভূতা সপ্তম্যাখ্যাভিরুদ্গতা। ১০৭
পূর্ব্বোল্লিখিত গ্রাম-ত্রয়ের ভিত্তিতে, স্বর-সপ্তকের যে সরল আরোহণ ও
অবরোহণ হয়, তারই নাম মূর্চ্ছনা। মূর্চ্ছনার সংখ্যা, শুদ্ধ সপ্তকের হিসাব
অনুযায়ী, মাত্র সাতটি। এবং তাদের পরিচয় হ'চ্ছে, যথাক্রমে :—
( ষড়্‌জ গ্রামের ) সা স্বরকে আদিতে রেখে যে মূর্চ্ছনা তৈরী হয়, তার
নাম উত্তরমন্দ্রা। যেমন সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি। নি, ধা, পা, মা, গা,
রে, সা। অনুরূপ—
নি স্বরকে আদিতে রেখে যে মূর্চ্ছনা তৈরী হয়, তার নাম, রজনী।
ধা ,, ,, ,, ,, ,, ,, উত্তরায়ত! ।
পা ,, ,, ,, ,, ,, ,, শুদ্ধ ষড়্‌জা।
মা ,, ,, ,, ,, ,, ,, মৎসরীকৃতা।
গা ,, ,, ,, ,, ,, ,, অশ্বক্রান্তা।
রে ,, ,, ,, ,, ,, ,, অভিরুদ্গতা।
—১০৩-১০৭

সঙ্গীত পারিজাত ২৭
টিপ্পনী : পারিজাতকার এখানে কেবলমাত্র ষড়্‌জ গ্রামের অন্তর্গত সাতটি
মূর্চ্ছনার নামোল্লেখ করেছেন। পাঠকের অবগতির জন্য, এখানে, তিনটি
গ্রামের অন্তর্গত ( ৩ × ৭ = ২১ ) একুশটি মূর্চ্ছনার পরিচয় যথাযথভাবে সাজিয়ে
দেওয়া যাচ্ছে :—
সংখ্যা নাম আরোহণ অবরোহণ
[ষড়্‌জ গ্রাম] ১ উত্তরমন্দ্রা স র গ ম প ধ নি নি ধ প ম গ র স
২ রজনী নি্ স র গ ম প ধ ধ প ম গ র স নি্
৩ উত্তরারয়তা ধ্ নি্ স র গ ম প প ম গ র স নি্ ধ্
৪ শুদ্ধ-ষড়্‌জা প্ ধ্ নি্ স র গ ম ম গ র স নি্ ধ্ প্
৫ মৎসৱীকৃতা ম্ প্ ধ্ নি্ স র গ গ র স নি্ ধ্ প্ ম্
৬ অশ্বক্রান্তা গ্ ম্ প্ ধ্ নি্ স র র স নি্ ধ্ প্ ম্ গ্
৭ অভিরুদ্গতা র্ গ্ ম্ প্ ধ্ নি্ স স নি্ ধ্ প্ ম্ গ্ র্
[মধ্যম গ্রাম] ১ সৌবীরী ম প ধ নি স́ র́ গ́ গ́ র́ স́ নি ধ প ম
২ হরিণাশ্বা গ ম প ধ নি স́ র́ র́ স́ নি ধ প ম গ
৩ কলোপনতা র গ ম প ধ নি স́ স́ নি ধ প ম গ র
৪ শুদ্ধ-মধ্যা স গ ম প ধ নি নি ধ প ম গ র স
৫ মার্গী নি্ স র গ ম প ধ ধ প ম গ ব স নি্
৬ পৌর্ববী ধ্ নি্ স র গ ম প প ম গ র স নি্ ধ্
৭ হৃষ্যকা প্ ধ্ নি্ স র গ ম ম গ ব স নি্ ধ্ প্
[গান্ধার গ্রাম] ১ নন্দা নি স́ র́ গ́ ম́ প́ ধ ধ প́ ম́ গ́ র́ স́ নি
২ বিশালা ধ নি স́ র́ গ́ ম́ প́ প́ ম́ গ́ র́ স́ নি ধ
৩ সুমুখী প ধ নি স́ র́ গ́ ম́ ম́ গ́ র́ স́ নি ধ প
৪ বিচিত্রা ম প ধ নি স́ র́ গ́ গ́ র́ স́ নি ধ প ম
৫ রোহিণী গ ম প ধ নি স́ র́ র́ স́ নি ধ প ম গ
৬ সুখা র গ ম প ধ নি স́ স́ নি ধ প ম গ র
৭ আলাপা স র গ ম প ধ নি নি ধ প ম গ র স
অতঃপর পাঠক লক্ষ্য করুন, এইভাবে সা-র স্থানে নি, নি-র স্থানে ধা
প্রভৃতি স্বর গ্রহণ করে মূর্চ্ছনা সৃষ্টি করার ফলে, কী উপায়ে, নূতন নূতন স্বর ও

২৮ সঙ্গীত পারিজাত
ঠাটের উৎপত্তি হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ এখানে পারিজাতের ষড়জ
গ্রামের অন্তর্গত সাতটি মূর্চ্ছনার পরিচয় দেওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ, এই সাতটি
মূর্চ্ছনার নি ধা প্রভৃতি স্বরগুলিকে আমরা যদি সা হিসাবে গ্রহণ করি এবং
পারিজাতের শুদ্ধ ঠাট অনুযায়ীই পরের পর স্বর সন্নিবেশ করে অগ্রসর হই,
তাহলে, স্বরের রূপান্তরটা কী ভাবে হয় এবং তার ফলে, কতগুলি মেল বা
ঠাটের পরিচয় আমরা পেতে পারি, তাই দেখানো যাচ্ছে :—
১ উত্তরমন্ত্রা স র জ্ঞ ম প ধ ণ =পারিজাতের শুদ্ধ ঠাট=বর্তমানের
কাফি ঠাট !
২ রজনী ণ্ স র জ্ঞ ম প ধ
স র গ ম প ধ ন =বর্তমানের শুদ্ধ বা বিলাবল ঠাট।
৩ উত্তরায়তা ধ্ ণ্ স র জ্ঞ ম প
স ঋ জ্ঞ ম ক্ষ দ ণ =পা-হীন অথচ ক্ষ-যুক্ত বর্তমানের
ভৈরবী ঠাট
৪ শুদ্ধ-ষড়জা প্ ধ্ ণি স র জ্ঞ ম
স র জ্ঞ ম প দ ণ =বর্তমানের আসোয়ারী ঠাট।
৫ মৎস krokতা ম্ প্ ধ্ ণ্ স র জ্ঞ
স র গ ম প ধ ণি =বর্তমানের খাম্বাজ ঠাট।
৬ অশ্বক্রান্তা জ্ঞ্ ম্ প্ ধ্ ণ্ স র
স র গ ক্ষ প ধ ন =বর্তমানের কল্যাণ ঠাট্।
৭ অভিরুদগতা র্ জ্ঞ ম প ধ ণ র্স
স ঋ জ্ঞ ম প দ ণ =বর্তমানের ভৈরবী ঠাট্
উপরোক্ত ২১টি মূর্চ্ছনার মধ্যে, আপাত-দৃষ্টিতে, কিছু সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত
হ’তে পারে। যেমন, ষড়জ গ্রামের উত্তরমন্ত্রার সঙ্গে গান্ধার গ্রামের আলাপা
মূর্চ্ছনাটির স্বর-ব্যবস্থা বা মধ্যম গ্রামের সৌবীরী মূর্চ্ছনাটির সঙ্গে গান্ধার
গ্রামের বিচিত্রা মূর্চ্ছনাটির স্বর ব্যবস্থা। কিন্তু, সংলগ্ন গ্রাম-চক্র ও স্বর-
শ্রুতি-মণ্ডল চিত্রটির প্রতি লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, আপাত-দৃষ্টিতে যে
স্বরগুলিকে অভিন্ন মনে হচ্ছে, শ্রুতিগত কারণে, তাদের মধ্যে পার্থক্যটা কত
গভীর।

॥ গ্রাম-চক্র ॥

শ্রুতির সংখ্যাশ্রুতির নাম.তর গ্রামসা গ্রামপারিরত্ন মা গ্রামপারিজাতের গা গ্রামরত্নাকরের গা গ্রাম
১তীব্রারে
২কুমুদ্বতী
৩মন্দা
মেরু ৪ছন্দোবতীসাসামামাগাগা
৫দয়াবতী
৬রঞ্জনী
৭রতিকারেরেপাপামামা
৮রৌদ্রী
৯ক্রোধাগাগা
১০বজ্রিকাধাপাপা
১১প্রসারিণীধা
১২প্রীতিঃ
১৩মার্জ্জনীমামানিনিধাধা
১৪ক্ষিতিঃ
১৫রক্তা
১৬সন্দীপিনী
১৭আলাপিনীপাপাসাসানিনি
১৮মদন্তী
১৯রোহিণী
২০রম্যাধাধারেরেসাসা
২১উগ্রা
২২ক্ষোভিনীনিনিগাগারে
১তীব্রারে
২কুমুদ্বতী
৩মন্দা
মেরু ৪ছন্দোবতীসাসামামাগাগা

মূর্চ্ছনা সম্পর্কে আরও একটি প্রয়োজনীয় কথা এখানে বলে রাখা কর্ত্তব্য মনে
করি। এতক্ষণ যে মূর্চ্ছনা সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো, তার নাম গ্রাম-
মূর্চ্ছনা। এই গ্রাম-মূর্চ্ছনার সার্থকতা, বিশেষভাবে, রাগের স্বর পরিচিতির
ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। অপরপক্ষে, রাগের আরোহণ অবরোহণ তথা চলন্
প্রভৃতির পরিচয় দেবার জন্যও আর এক রকমের মূর্চ্ছনা প্রচলিত ছিল
সেকালে। তার নাম রাগ মূর্চ্ছনা। এই রাগ মূর্চ্ছনার পরিচয় পারিজাতের
রাগাধ্যায় ( ৩৫৭ ⸳ সূত্রের টিপ্পনী ) আলোচনা প্রসঙ্গে দ্রষ্টব্য। অর্থাৎ, গ্রাম-
মূর্চ্ছনা ও রাগ-মূর্চ্ছনা সম্বন্ধে সচেতন না থাকলে, পাঠকের পক্ষে, পারিজাত
বর্ণিত রাগের স্বরূপ নির্ণয় করা অসম্ভব হবে। পরিশেষে বক্তব্য এই যে,
বর্তমানে, কোন রকম মূর্চ্ছনারই প্রয়োজন স্বীকৃত হয় না আমাদের হিন্দুস্থানী
পদ্ধতির সঙ্গীতে। তবে, মূর্চ্ছনা কথাটিকে অজস্রভাবে ব্যবহৃত হতে দেখা
যায়, কবি ও সাহিত্যিকদের রচনাবলীর মধ্যে—অবশ্যই, সাঙ্গীতিক অর্থে
অর্থহীনভাবে। ১০৩-১০৭

আরোহশ্চাবরোহশ্চ তথৈব বিকৃতেম্বপি।
[L

সঙ্গীত পারিজাত ৩১
টিপ্পনী : বিকৃত স্বরের মূর্চ্ছনাগুলি ঔড়ব বা ষাড়ব হয়ে যায় স্বাভাবিক
কারণেই—মূর্চ্ছনার মধ্যে সাতটি স্বরের অভাব পরিলক্ষিত হয় বলে।
সাঙ্গীতিক আইন অনুযায়ী, কোন রাগের মধ্যে, আমরা দুই নি, দুই ধা, দুই
মা, দুই গা বা দুই রে ব্যবহার করলেও করতে পারি এবং করেও থাকি।
কিন্তু, মূর্চ্ছনার মধ্যে, পরের পর দুই নি, দুই ধা প্রভৃতি কোন অজুহাতেই
যুক্ত করতে পারি না। অর্থাৎ, সা রে গা মা পা ধা নি-র মতো পরের
পর স্বর সংস্থাপন ব্যতীত মূর্চ্ছনা তৈরিই হতে পারে না। সুতরাং বিকৃত স্বর
নিয়ে মূর্চ্ছনা তৈরি করার ফলে, যখন দেখা যায়, তার মধ্যে পরের পর দুই
মা বা দুই গা প্রভৃতির মতো স্বর প্রকট হয়ে উঠছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই,
অন্য কোন স্বরের বিলুপ্তি ঘটে গেছে প্রমাণিত হয়ে যায়। বলাবাহুল্য, বিকৃত
স্বরের মূর্চ্ছনাদির মধ্যে, একই স্ববের দ্বিবিধ প্রয়োগ বিজ্ঞান সম্মত নয় বলেই,
প্রয়োজনানুসারে—

শুদ্ধ রে-কে পূর্ব্ব গা
শুদ্ধ গা-কে তীব্রতর রে
সাধারণ গা-কে তীব্রতম রে
শুদ্ধ মা-কে অতি-তীব্রতম গা
শুদ্ধ ধা কে পূর্ব্ব নি
শুদ্ধ নি-কে তীব্রতর ধা
কৈশিক নি-কে তীব্রতম ধা

স্বররূপে পরিচিত করে, মূর্চ্ছনার আইন বজায় রাখা হয়েছে। ( ৭৩-৭৮ সূত্রের
টিপ্পনী দ্রষ্টব্য) উদাহরণ স্বরূপ আমরা এখানে পাঁচটি বিকৃত স্ববেব মাত্র একটি
করে মূর্চ্ছনার পরিচয় দিচ্ছি। এই পাঁচটি মূর্চ্ছনার স্বর-রূপান্তরটা লক্ষ্য
করলেই কিছুটা বোঝা যাবে, কেন, বিকৃ- স্বরের মূর্চ্ছনাগুলি সাত স্বরের হয়
না বা হতে পারে না।

ঋ জ্ঞ ম প ধ ণ র্সা
স র গ ম॑ দ ধ ন = পা-হীন অথচ দা-যুক্ত কল্যাণ ঠাট্।
ম প ধ ণ র্স র্র
স ঋ জ্ঞ ম ক্ষ দ ণ = পা-হীন অথচ ক্ষা-যুক্ত ভৈরবী ঠাট্।

৩২ সঙ্গীত পারিজাত
দ্ধ প ধ ণ র্স র্ জ্ঞ́
স ঋ জ্ঞ গ ম্ধ দ ধ = পা-নি-হীন অথচ ধা-যুক্ত তোড়ি ঠাট্ !
দ ণ র্স র্ জ্ঞ́ র্ম্ প
স র গ ম্ধ প ধ ন = কল্যাণ ঠাট্ (?)
ণ র্স র্ জ্ঞ́ র্ম্ প ধ́
স ঋ জ্ঞ গ ম্ধ দ ণ = মা-পা-হীন অথচ গা-দ্ধা-যুক্ত ভৈরবী ঠাট্ !
এখানে দা-কে, অর্থাৎ কোমল ধা-কে সা-রূপে কল্পনা ক’রে মূর্চ্ছনা তৈরি করার
ফলে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে প্রচলিত কল্যাণ ঠাটের মতো একটি সাতস্বর-যুক্ত
সপ্তকের উৎপত্তি হচ্ছে। সুতরাং এক্ষেত্রে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে, ১০৮
সূত্রে পারিজাতকার যা বলেছেন তা ঠিক নয়। অর্থাৎ, বিকৃত স্বরযুক্ত মূর্চ্ছনার
মধ্যেও মাঝে মাঝে সুসম্বন্ধ সাতটি স্বরের অস্তিত্ব প্রকট হয়ে ওঠে। বস্তুতঃ,
ব্যাপারটাকে আপাতদৃষ্টিতে বিচার করে দেখলে, এই রকম কথা মনে হওয়াই
স্বাভাবিক এবং সম্ভবতঃ পারিজাতকারও এই রকম আপাত-প্রাপ্ত স্বর সপ্তকের
অস্তিত্ব সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন বলেই ১০৮ সূত্রের মধ্যে “কুয়াৎ” শব্দটি ব্যবহার
ক’রে গিয়েছেন। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্যের মধ্যে একটা উচিৎ—অনুচিৎ-এর
ইঙ্গিত প্রচ্ছন্ন রয়েছে বুঝতে পারা যাচ্ছে। আলোচ্য ক্ষেত্রে, যে মূর্চ্ছনাটির
মধ্যে একটা সুসম্বন্ধ সপ্তকের চেহারা দেখতে পাচ্ছি, স্বর ও শ্রুতির বিচারে
তার সত্যকার চেহারা কী দাঁড়ায়, অনুমান করবার অবকাশ পাচ্ছি না।
কিন্তু, যদি সংলগ্ন স্বর-শ্রুতি-মণ্ডল চিত্রটির প্রতি লক্ষ্য রেখে আমরা উক্ত
আপাত-প্রাপ্ত কল্যাণ ঠাটের স্বরগুলির শ্রুতি-মূল্য বিচার করতে আরম্ভ
করি, তাহলে দেখা যাবে, সব গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। প্রথমতঃ প্রশ্ন উঠবে,
আলোচ্য মূর্চ্ছনার কোমল ধা-টি পারিজাতের কোন কোমল ধা? মদন্তী
শ্রুতিজাত পূর্ব্ব ধা কিংবা রোহিণী শ্রুতিজাত কোমল ধা? আলোচনার
সুবিধার জন্য যদি এই ধা-টিকে কোমল ধা হিসাবে গ্রহণ করেও অগ্রসর
হওয়া যায়, তাহলেও দেখা যাবে, স্বরাদির মধ্যে শ্রুতির অসঙ্গতিটা প্রকট
হয়ে উঠছে এবং আসল পা স্বরটিকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেমন :—
পারিজাতের দা থেকে ণা = ৪ শ্রুতি
কিন্তু, বর্তমানের সা ” রে = ৫ ”
পারিজাতের ণা ” সা = ৫ ”

, 22)
Wait, in Sangita Parijat, Ahobala places svaras on the LAST shruti:
Sa on 4
Re on 7 (distance 3)
Ga on 9 (distance 2)
Ma on 13 (distance 4)
Pa on 17 (distance 4)
Dha on 20 (distance 3)
Ni on 22 (distance 2)
Wait, but what does the table in this book show?
Look at L2: বর্তমানের রে থেকে শুদ্ধ গা = ৩ শ্রুতি
L3: পারিজাতের সা " রে = ৪ "
L4: বর্তমানের শুদ্ধ গা " কড়ি মা = ৫ "
L5: পারিজাতের জ্ঞা " মা = ৫ " (Wait, জ্ঞা to মা = 5? If Ga is 9, Ma is 13, that's 4. But if Ga is komal, Ga is 8, Ma is 13, 13 - 8 = 5!)
YES! Komal Ga (জ্ঞা) is at shruti 8, Ma is at 13: 13 - 8 = 5!
THAT'S WHY IT IS জ্ঞা! IT IS DEFINITELY জ্ঞা!
And L7: পারিজাতের মা " পা = ৪ or ৫? In L7 it says ৫! Wait, 17 - 13 = 4, why 5? Maybe Parijat's Pa is at

৩৪ সংগীত পারিজাত
ভারতীয় সঙ্গীতের গ্রাম ও তার মূর্ছনাদির গুরুত্ব অপরিসীম। এ সম্বন্ধে
আধুনিক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত-যোগী স্বর্গগত ভাতখণ্ডেজী বলে গেছেন,
"আমাদের পুরোণ সঙ্গীতে, প্রাচীন পদ্ধতির গ্রাম রচনা অতি সুষ্ঠুভাবেই
প্রযুক্ত হতো। বস্তুতঃ, এই আমলে আমাদের দেশের সঙ্গীত প্রগতি অব্যাহতই
ছিল। সুতরাং, বর্তমানের সঙ্গীত শিক্ষার্থীদেরও কর্তব্য এই গ্রাম-ত্রয় সম্বন্ধে
অবহিত হওয়া।"—কিন্তু, এ সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা করা আপাততঃ
আমাদের পক্ষে সম্ভবপর হচ্ছে না, স্থানাভাব নিবন্ধন। আপাততঃ, বিলুপ্ত
গান্ধার গ্রাম সম্বন্ধে যৎকিঞ্চিৎ আলোচনা করে আমরা এ প্রবন্ধ শেষ করবো।
প্রাচীন সঙ্গীতশাস্ত্রকারদের মধ্যে, সম্ভবতঃ, পারিজাতকার অহোবলই হচ্ছেন
একমাত্র শাস্ত্রকার যিনি, গ্রাম-ত্রয়ের আলোচনা প্রসঙ্গে গুরুত্ব আরোপ
করেছেন কেবলমাত্র ষড়জ গ্রামটির ওপরেই। কিন্তু, অন্যান্য গ্রন্থে দেখা যায়,
ষড়জ গ্রামের গুরুত্ব সর্বাধিক হলেও মধ্যম গ্রামটিকেও কেউ একেবারে ত্যাগ
করেন নি। যেমন, সঙ্গীত দর্পণকার দামোদর মিশ্র (১৬২৫ খৃঃ অঃ) বলেছেন,
গ্রামঃ স্বর-সমূহঃ স্যাৎ মূর্ছনাদে সমাশ্রয়ঃ।
তৌ দ্বৌ ধরাতলে তত্র স্যাৎ ষড়জ গ্রাম আদিমঃ॥ ৭৫
দ্বিতীয়ো মধ্যমগ্রামস্তয়োর্লক্ষণমুচ্যতে॥ ৭৬
···তাশ্চস্বর্গে প্রযোক্তব্যা বিশেষাদত্র নোদিতাঃ॥ ৯৯
অর্থাৎ—
গ্রাম হচ্ছে মূর্ছনার আধার স্বরূপ স্বর সমষ্টি এবং তিনটি গ্রামের মধ্যে,
ইহলোকে প্রচলিত আছে মাত্র দুটি গ্রাম, ১। ষড়জ গ্রাম ও ২। মধ্যম
গ্রাম। এদের লক্ষণ সমূহ বলা যাচ্ছে। তৃতীয় গ্রামটি স্বর্গলোকে প্রযুক্ত হয়
বলে, তার সম্বন্ধে কিছু বলা হচ্ছে না।
বস্তুতঃ মধ্যম গ্রামটি যে গান্ধার গ্রামের মতো স্বর্গপ্রাপ্ত গ্রাম নয় তার
প্রমাণ আজও আমরা পেয়ে থাকি, ললিত, পঞ্চম, মালকোষ, বসন্ত প্রভৃতি
রাগের স্বরূপ প্রত্যক্ষ করে, কিন্তু, অতি প্রাচীন গ্রাম তিনটির মধ্যে দুটি
গ্রাম প্রচলিত রইল, অকস্মাৎ গান্ধার গ্রামটি বিলুপ্ত হলো কেন ?
এ সম্বন্ধে, একালের একজন খ্যাতনামা সঙ্গীত-কোবিদ্ লিখেছেন, গান্ধার
গ্রামটি ছিল আসলে নিষাদ গ্রাম। অর্থাৎ, এর মূর্ছনা আরম্ভ হ’তো নি

সঙ্গীত পারিজাত ৩৫

স্বরটিকে গ্রহণ ক’রে। কিন্তু, বিশেষভাবে, গন্ধর্ব্বদের (যারা মার্গ সঙ্গীত
গাইত) দ্বারা পরিবেশিত হ’তো বলেই, কালক্রমে, গ্রামটির নাম হ’য়ে যায়
গন্ধর্ব্ব গ্রাম এবং গান্ধার-গ্রাম নাম পরিগ্রহ করে আরও পরবর্তীকালে—
গন্ধর্ব্ব কথাটার অপভ্রংশ হিসাবে। অপরপক্ষে, এই গ্রামটির স্বর্গপ্রাপ্তির
কারণও হচ্ছে গন্ধর্ব্বদের প্রতিপাদ্য মার্গ সঙ্গীতের বিলুপ্তি। বলাবাহুল্য,
মার্গ-সঙ্গীত বিলুপ্ত হওয়ার অন্যতম কারণ যে গান্ধার গ্রামের বিলুপ্তি সে সম্বন্ধে
সন্দেহের অবকাশমাত্রও নেই। কিন্তু, মুস্কিল বাধিয়েছে ওই নিষাদ গ্রামটি।
আমরা অনেক চেষ্টা করেও কোন প্রাচীন সঙ্গীত গ্রন্থের মধ্যে নিষাদ গ্রামের
পরিচয় আবিষ্কার করতে পারিনি। বরং লক্ষ্য করেছি, অনেকে “নৈষাদী-
রীতি”র তাৎপর্য্য উপলব্ধি করতে না পেরে নৈষাদী জাতিকে নিষাদ গ্রামরূপে
ভুল করেছেন। যাই হোক, আমরা যখন দেখতে পাচ্ছি, নাট্যশাস্ত্রকার
ভরতও গান্ধার গ্রাম সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, তখন, নিষাদ
গ্রামের অস্তিত্ব সম্বন্ধে উৎকণ্ঠা পোষণ করবার কোন যুক্তি দেখিনা। বস্তুতঃ
খৃঃ পূর্ব্ব যুগে গান্ধার গ্রামের অস্তিত্ব ছিল নিঃসন্দেহ; কিন্তু পরবর্তী যুগের
সঙ্গীত শাস্ত্রকারগণ এই গ্রামের অন্তর্গত স্বরগুলির স্বরূপ জানতেন কি না
সন্দেহ। আমাদের মনে হয়, তাঁরা কেবলমাত্র গান্ধার গ্রামের শ্রুতি-
বিভাগটিকে কোন রকমে সংগ্রহ করে লিপিবদ্ধ করে গিয়েছিলেন নিজেদের
গ্রন্থের মধ্যে এবং আজকের দিন পর্যন্ত এইটুকু ইতিহাসই অস্তিত্ব রক্ষা
করছে বিলুপ্ত গান্ধার গ্রামের। সত্যি কথা বলতে কি, এই স্বর্গপ্রাপ্তির নিগূঢ়
কারণটি হচ্ছে সঙ্গীত শিল্পীর অক্ষমতা। সংলগ্ন গ্রাম-চক্রের অন্তর্গত গান্ধার
গ্রামের সপ্তকটির প্রতি লক্ষ্য করলেই এই অক্ষমতার রহস্যটি বোধগম্য হবে।
গান্ধার গ্রামের স্বরগুলি যে যে শ্রুতিতে নিষ্পন্ন হ’তো, সেই সব শ্রুতিকে
প্রকট করে তুলে স্বর নিষ্পন্ন করতে পারা আজকের দিনের শিল্পীদের পক্ষে
যেমন অসম্ভব, তেমনি অসম্ভব ছিল আলোচ্য যুগের শিল্পীদের পক্ষেও।
আজকের দিনে আমরা যেমন বিলাবল ঠাটকে শুদ্ধ ঠাটরূপে গ্রহণ করে কণ্ঠ
সাধনা করি, তেমনি, আলোচ্য যুগের শিল্পীরাও কাফি ঠাটের মতো একটা
ঠাটকে শুদ্ধ ঠাটরূপে গ্রহণ করে কণ্ঠ সাধনা করতেন। কিন্তু, আজকের
দিনের আমাদের পক্ষে যেমন পারিজাতের পূর্ব্ব রে, তীব্র ও তীব্রতম গা, তীব্র ও
তীব্রতম মা, পূর্ব্ব ধা, এমন কি শুদ্ধ ধা স্বরটিকে পর্য্যন্ত সঠিকভাবে নিষ্পন্ন করা
কঠিন, তেমনি, অসম্ভব ছিল আলোচ্য যুগের শিল্পীদের পক্ষেও পূর্ব্ববর্তীকালের

গান্ধার গ্রামের স্বরগুলিকে যথাযথ শ্রুতিতে নিষ্পন্ন করা। বলাবাহুল্য, এই
অক্ষমতার একমাত্র কারণ হচ্ছে সমসাময়িক কালের স্বর-সপ্তককে কণ্ঠাদ্দীন
করায় বৈজ্ঞানিক অভ্যাস এবং এই সপ্তককেই চিরকালের সপ্তক হিসাবে
মনে করে নেওয়ার চিরন্তন সংস্কার। অবশ্য, এ কথা সত্য যে, বৈজ্ঞানিক
প্রণালীতে স্বর সাধনা না করলে ভাল শিল্পী হওয়া যায় না, কিন্তু এ সত্যও
প্রমাণিত যে, অতীতের অনেক কিছুই আজ নিঃশেষে বিলুপ্ত হয়ে গেছে
বর্তমানের বিজ্ঞানকে মর্যাদা দিতে গিয়েই। রসের রসিকরা অবশ্যই জানেন,
আমাদের আউল, বাউল, ভাওয়াঁইয়া প্রভৃতি গ্রাম্য-গীতির মধ্যে এমন
কতকগুলি অদ্ভুত শ্রুতিযুক্ত স্বর আছে, যা অমার্জ্জিত-কণ্ঠ গ্রাম্য-গায়করাই
কেবল নিষ্পন্ন করতে পারে, সহরের মার্জ্জিত-কণ্ঠ প্রথম শ্রেণীর পল্লী-সঙ্গীত
শিল্পীরা তা পারেন না। যাঁবা কবিগুরুব স্বকণ্ঠের গান শুনেছেন তাঁবা
অবশ্যই স্বীকাৰ করবেন--তিনি তাঁব বাউল অঙ্গেব গানেব মধ্যে এমন একটি
অল্প-শ্রুতিযুক্ত কোমল নি ব্যবহাব করতে পারতেন, যা তার সঙ্গীত ভবনের
অনেক নাম-করা শিল্পীও নিষ্পন্ন কবতে পাবেন না। এ সম্বন্ধে লেখকের
ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা বিশেষভাবেই উল্লেখযোগ্য।
১৯২৮ থেকে ১৯৩২ সাল পর্য্যন্ত লেখক সাঁওতাল পরগণাব অন্তর্গত
জামতাড়া মহকুমাব বাসীন্দা ছিলেন। এই সময় তিনি আপ্রাণ চেষ্টা
করেছিলেন স্থানীয় ঝুমুর গানের অকৃত্রিম চালটিকে কণ্ঠায়ত্ব কবতে। কিন্তু
সক্ষম হন নি একটি বিশেষ স্বরকে আয়ত্ব কবতে। এই বিশেষ স্ববটি হচ্ছে
বর্ত্তমানেব শুদ্ধ রে ও কোমল গান্ধাবেব মধ্যবর্তী একটি স্বব। এই সময়,
বুধন্ নামক একটি বাউবীর ছেলে লেখকেব খিদমদ খাটত। বুধন ছিল
একটি ঝুমুরদলের অধিনায়ক এবং তার কণ্ঠস্বরও ছিল অতি সুমিষ্ট। লেখক
তাকে দিনের পর দিন সামনে বসিয়ে গান গাইয়েছেন, ক্রমান্বয়ে শোনার ফলে
সেই বিশেষ স্ববটিকে এস্রাজেব পর্দায় বিধিবদ্ধ করাও সম্ভবপব হ'য়েছে তাঁব
পক্ষে, কিন্তু কণ্ঠে আয়ত্ব করা সম্ভবপব হয়নি কিছুতেই। ইতিমধ্যে,
মনিবের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে বুধনেব সাহস বেড়ে গিয়েছিল। সে একদিন “ভদ্দর-
লোকদের” গান শেখবার বিনীত আবেদন পেশ করে বসল লেখকের কাছে।
অগত্যা, তাব বাসনা পূরণের একটা ব্যবস্থা গৃহীত হলো। অতঃপর ১৯৩৩
সালে, লেখক কোলকাতায় এসে বাস করতে আরম্ভ করেন। পর বৎসর
পূজাবকাশে জামতাড়ায় গিয়ে তিনি জানতে পারেন, মাত্র বছর তিনেকের

সঙ্গীত পারিজাত ৩৭
তালিম গুনেই, বুধন্ স্থানীয় অধিবাসীদের নিকট ওস্তাদ নাম কিনেছে এবং সে
আর চাকরের কাজ করে না,—নিকটবর্তী সুখজোড়া গ্রামের এক কালী-
কীর্তনের দলে চাকরী গ্রহণ করেছে। শেষে ১৯৩৮ সালের কালী পূজার
রাত্রে পাথরোলের রাজবাড়ীতে লেখকের সঙ্গে আবার সাক্ষাৎ হয় বুধনের।
সে সেখানে সদলবলে কালী-কীর্তন গাইতেই গিয়েছিল এবং লেখক সবিস্ময়ে
লক্ষ্য করেন, আয়াসলব্ধ টপ্পার দানাগুলোকে সে যেমন চমৎকারভাবে আয়ত্ত
করেছে তেমনি হারিয়ে ফেলেছে তার সরল কণ্ঠের স্বাভাবিক মিষ্টত্বটুকু।
যাই হোক, বহুকাল পরে বুধনের দেখা পেয়ে লেখক তার নিকট একখানা
ঝুমুর শুনতে চান। বুধনও তৎক্ষণাৎ তাকে একখানা আধুনিক কবি-রচিত
ঝুমুর শুনিয়ে দেয়। লেখক অগত্যা তাকে সেই সব পুরোনো গানের কথা
স্মরণ করিয়ে দিলেন। বুধনও সলজ্জভাবে তাঁর অনুরোধ রক্ষা করবার চেষ্টা
করল। কিন্তু, অনেক চেষ্টা করে যদিও বা সে সেই সব পুরোণ গানের দু’
এক কলি স্মরণ করতে পারল, গাইতে পারল না একবর্ণও। অর্থাৎ মাত্র
বছর সাতেক উচ্চাঙ্গ রাগ সঙ্গীত চর্চ্চা করবার ফলে, সে নিঃশেষে বিস্মৃত
হয়েছিল শতাব্দী কালের ঐতিহ্য—তার বংশগত গীতি-পদ্ধতির স্বর-বিন্যাস ও
বৈশিষ্ট্যকে। বুধন আজও গানের মাষ্টারী করছে বার্ণপুর অঞ্চলে—তবে
পৈতৃক নামটি বদলে ফেলেছে। ১০৮-১০৯
শুদ্ধাস্তু যানি নামানি তান্যেব বিকৃতেম্বপি। ১১০
বিকৃত স্বরগুলির মূর্চ্ছনার নামও শুদ্ধ স্বরের মূর্চ্ছনার অনুরূপ। ১১০
পূর্ব্ব-কোমল-তীব্রাণাং ঋষভাণাং ক্রমেণ তু।
যোগে শুদ্ধস্বরৈর্ভেদা একবিংশতিরীরিতাঃ॥ ১১১
পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র, এই তিন রকম বিকৃত রে স্বর যখন ক্রমে ক্রমে
বাকি ছয়টি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মূর্চ্ছনা তৈরী করে, তখন তাদের
বিকৃত মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা হয় ৭×৩=২১। ১১১
রিং তীব্রতরমাদায় মূর্চ্ছনা কাপি নোদিতা।
শুদ্ধ গান্ধার রাহিত্যাচ্ছুদ্ধ ষটকৰিয়োগতঃ॥ ১১২
তীব্রতর রে স্বর নিয়ে মূর্চ্ছনা সৃষ্টির কথা শোনা যায় না; কারণ,
তীব্রতর রে ও শুদ্ধ গা অভিন্ন স্বর। সুতরাং, শুদ্ধ ছয়টি স্বরের মধ্য থেকে

26: ষট্কবিয়োগতঃ - yes, ষট্ক! In Bengali script, ট্ক is ট with ক underneath.

  1. Check Line 24:
    অষ্টাবিংশতিভেদাঃ স্যূঃ কোমলাদিক নি-স্বরৈঃ। ১১৭।২
    Wait, ১১৮।২ or ১১৭।২?
    Let's look at the numbers:
    Line 19 ends with: । ১১৭।১ (117/1).
    Line 23 ends with: ১১৬-১১৭।১ (116-117/1).
    Line 24 ends with: । ১১৭।২ (117/2).
    Line 26 ends with: ॥ ১১৮ (118).
    Yes! Exactly: ১১৭।১, ১১৭।২.

  2. Line by line layout verification:
    Top:
    Header:

    • Left: ৩৮
    • Center: সঙ্গীত পারিজাত

    Lines:
    শুদ্ধ গা বাদ পড়লে, স্বর সপ্তকের অস্তিত্ব থাকেনা এবং মূর্চ্ছনাও হতে
    পারে না।—১১২
    কোমলাদিকগান্ধারৈশ্চতুর্ভিৰ্ব্বিকৃতৈঃ স্বরৈঃ।

সঙ্গীত পারিজাত ৩৯
কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম নি স্বর বাকি ছয়টি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে
সংযুক্ত হ’য়ে মূর্চ্ছনা তৈরি করলে, তাদের সংখ্যা হয় ৭ x ৪ = ২৮। পূর্ব্ব-নি
' স্বর-যুক্ত মূর্চ্ছনার কথা কোথাও বলা হয় নি; কারণ, পূর্ব্ব নি ও শুদ্ধ ধা একই
স্বর। সুতরাং, শুদ্ধ ধা বাদ পড়ার জন্য স্বর সপ্তকও বর্ত্তমান থাকতে
পারে না।—১১৭।২-১১৮
শুদ্ধৈর্ব্বিব্কৃতভেদাভ্যাং গ-রিভ্যাং যোজিতৈঃ স্বরৈঃ।
দ্বাদশভিঃ শতং ভেদা ভবন্তীতি বুধা জগুঃ॥ ১১৯
জ্ঞানী-গুণীরা বলেন, গা ও রে স্বরের যাবতীয় বিকৃত রূপের সঙ্গে
বাকি পাঁচটি শুদ্ধ স্বর যোগ ক’রে মূর্চ্ছনা তৈরি করলে, তাদের ভেদাভেদের
সংখ্যা হয় ১১২।—১১৯
যদা স্যাতাং রি-ধৌ তীব্রৌ পূর্ব্বকোমলসংজ্ঞিতৌ।
গন্যোস্তৎপূর্ব্ববৃত্তিত্বাৎ তৌ তদাদায় নো ভিদা॥ ১২০
যেহেতু কোমল গা ও কোমল নি, তীব্র রে ও তীব্র ধা স্বরেরই নামান্তর
মাত্র, সুতরাং তীব্র রে ও তীব্র ধা স্বরেরও কোন রকম মূর্চ্ছনা-ভেদ হ'তে
পারেনা। ১২০
রিভিস্ত্রিভিস্তথা মৈশ্চ বিকৃতৈম্মিলিতৈঃ স্বরৈঃ।
শুদ্ধৈর্ভেদাস্ত্রিষষ্টিঃ স্যুঃ পঞ্চভিশ্চাপি সোহব্রবীৎ॥ ১২১
তিন রকমের বিকৃত রে, (অর্থাৎ কোমল, পূর্ব্ব ও তীব্র রে স্বর) ও তিন
রকমের বিকৃত মা (অর্থাৎ তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম মা স্বর) বাকি পাঁচটি
শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে স্বর সপ্তক তৈরি করলে,—জ্ঞানী গুণীদের মতানুযায়ী,—
সেই সপ্তকের মূর্চ্ছনা ভেদের সংখ্যা হয়, ৭ x ৩ x ৩ = ৬৩। ১২১
ত্রিভীর্রবিভির্ব্বিকারৈস্তাদৃশৈর্ধস্বরৈরপি।
শেষশুদ্ধস্বরৈর্ভেদা জায়ন্তেহত্র ত্রিষষ্টিধা॥ ১২২
তিন রকমের বিকৃত রে (অর্থাৎ পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র রে) ও তিন
রকমের বিকৃত ধা (অর্থাৎ পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র ধা) স্বর বাকি পাঁচটি শুদ্ধ
স্বরের সঙ্গে মিলে স্বর-সপ্তক তৈরি করলে, তাদেরও মূর্চ্ছনা ভেদের সংখ্যা হয়,
৭ x ৩ x ৩ = ৬৩। ১২২

৪০ সঙ্গীত পারিজাত
পূর্ব্বকোমলতীব্রৈশ্চ কোমলাদিকসংজ্ঞিতৈঃ।

  • রিভিস্ত্রিভিঃ [রিভির্নিভিঃ ?] স্বরৈঃ শুদ্ধৈরশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ ॥১২৩,
    তিন রকমের বিকৃত রে (অর্থাৎ পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র রে) ও চার রকমের
    বিকৃত নি (অর্থাৎ কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম নি স্বর) বাকি পাঁচটি
    শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে স্বর-সপ্তক সৃষ্টি করলে, তাদের মূর্ছনা ভেদের সংখ্যা হয়,
    ৭ x ৩ = ২১ x ৪ = ৮৪। ১২৩
    কোমলাদিত্বভাবৈর্গমধ্যমৈর্ব্বিকৃতৈস্ত্রিভিঃ।
    পঞ্চোত্তরশতং ভেদান্ স্বরৈঃ শুদ্ধৈর্বুধা জগুঃ ॥ ১২৪
    গুণী-জ্ঞানীরা বলেন, কোমলাদি পাঁচ রকমের বিকৃত গা (অর্থাৎ, কোমল,
    তীব্র, তীব্রতর, তীব্রতম ও অতি-তীব্রতম গা) ও তিন রকমের বিকৃত মা
    (অর্থাৎ তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম মা স্বর) বাকি পাঁচটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত
    হ'য়ে সপ্তকে পরিণত হলে, তাদের মূর্ছনার সংখ্যা হয়,
    ৭ x ৫ = ৩৫ x ৩ = ১০৫। ১২৪
    কোমলাদিকগান্ধারৈশ্চ তুর্ভির্বিকৃতৈস্ত্রিভিঃ।
    বিকৃতৈর্ধৈবতৈর্ভেদা অশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ ॥ ১২৫
    কোমলাদি চার রকমের বিকৃত গা (অর্থাৎ, কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম
    গা) ও তিন রকমের ধা (অর্থাৎ, পূর্ব্ব, কোমল ও তীব্র ধা স্বর) অবশিষ্ট
    পাঁচটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সপ্তকে পরিণত হ'লে, তাদের মূর্ছনার
    সংখ্যা হয়, ৭ x ৪ = ২৮ x ৩ = ৮৪। ১২৫
    চতুর্ভির্বিকৃতৈর্গৈশ্চ নিষাদৈস্তাদৃশৈরপি।
    ভেদাঃ শুদ্ধৈঃ সমাযোগে স্যুঃ শতং দ্বাদশোত্তরম্ ॥ ১২৬
    চার রকমের বিকৃত গা (অর্থাৎ, কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম গা) ও
    চার রকমের বিকৃত নি (অর্থাৎ, কোমল, তীব্র, তীব্রতর ও তীব্রতম নি) বাকি
  • আমাদের সংগ্রহে যে তিনখানি পারিজাত রয়েছে, তার মধ্যে
    "রিভিস্ত্রিভিঃ” কথাটি বর্ত্তমান। অপরপক্ষে, বর্ত্তমান সূত্রটির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে '
    “রিভিস্ত্রিভিঃ-”র প্রয়োগ অত্যন্ত দুর্ব্বোধ্য! সুতরাং আমাদের অনুমান, মূলে,
    কথাটি “রিভিস্ত্রিভিঃ-”র পরিবর্ত্তে “রিভির্নিভিঃ” ছিল।