सामग्री पर जाएँ
सर्वकोश
संग्रह पर लौटें

सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology

पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा

DevanagariHindipublished358 पृष्ठ

সঙ্গীত পারিজাত ১৭৩
শঙ্করাভরণোপেমে গান্ধার স্বর-বর্জ্জিতে।
অথ সালঙ্গ নাটেহস্মিন্ স-ন্যাসাংশ সমন্বিতে।
ষড়জোদ্‌গ্রাহেণ সম্পন্নে মা-ধাবাম্রেড়িতৌ স্মৃতৌ ॥ ৪৩৬
সসরি মম পধ সপ মসপ মমরি সসা ধপ মপ ধস সরি রিস। রিম মপ
ধনী ধপ মম মমরি সসা ধপ মপদ সস রিসা। ইতি সালঙ্গনাটঃ। তৃতীয়
প্রহরোত্তরম্। ৭৫
সালঙ্গনাট রাগটির উৎপত্তি হয়েছে শঙ্করাভরণ মেল থেকে। এর গ্রহ,
অংশ ও ন্যাস স্বর হচ্ছে সা। গা এ রাগের বর্জিত স্বর। মা ও ধা
আম্রেডিত। অর্থাৎ, দু'বার বা তিনবার করে আবৃত্তি করতে হয়। ৪৩৬
টিপ্পনীঃ পারিজাতের ৪৮ সংখ্যক রাগ শঙ্করাভরণ ছিল আধুনিক
বেলাবল ঠাটের রাগ। সুতরাং, সালঙ্গনাটও ছিল বেলাবল ঠাটের ষাড়ব-
ষাড়ব রাগ, যেহেতু, এর গা স্বর বর্জিত। চেহারাটা ছিল সরমপধনর্স।
র্সনধপমরস। সালঙ্গনাটের মা-ধা স্বরদুটি আম্রেড়িত ছিল। অর্থাৎ মধ
মধ বা মধ মধ মধ বা মধ ধম মধ—এই রকমভাবে দু'বার বা তিনবার
আবৃত্তি করলে তবেই সালঙ্গনাটের রূপ প্রকট হতো। বর্তমানে এ রাগটি
অপ্রচলিত। ৪৩৬
ছায়ানাটস্তু বিজ্ঞেয়ঃ শঙ্করাভরণস্বরৈঃ।
আরোহণে নি বর্জ্যঃ স্যাদবরোহে গ-বর্জ্জিতঃ।
ধৈবতোদ্ গ্রাহসংযুক্তো রি-ন্যাসোহনেকমধ্যমঃ ॥ ৪৩৭
ধস সরি গম পদ সনি ধপ মম রিধ পম পম মম মরি ধাপা মম সরি সরি
সরি সস। ইতি ছায়ানাটঃ। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৭৬
ছায়ানাট রাগের স্বরগুলিও শঙ্করাভরণের মতো। এর আরোহণে নি
ও অবরোহণে গা স্বর বর্জিত। ধা এর গ্রহস্বর এবং ন্যাসস্বর হচ্ছে রে।
মা স্বরটি এই রাগে প্রবল! ৪৩৭
টিপ্পনীঃ ছায়ানাটও ছিল আধুনিক বেলাবল ঠাটের ষাড়ব-ষাড়ব
রাগ। চেহারা ছিল ধ্‌ সরগমপধর্স। র্সনধপমরস। এর মধ্যমটি প্রবল
ছিল। বর্তমানে ছায়ানাট নেই; কিন্তু ছায়ানট অতি প্রচলিত রাগ।
বর্তমানে, তিন রকমের ছায়ানট প্রচলিত আছে। যথা, বেলাবল ঠাটের

১৭৪ সঙ্গীত পারিজাত
নিরঙ্কুশ শুদ্ধ গা-নি যুক্ত। কল্যাণ ঠাটের দুই মধ্যম যুক্ত এবং দুই মধ্যম
ও দুই নিষাদযুক্ত। এই তিনটি রূপের কোনটিই ষাড়ব-ষাঢ়ব নয়, প্রবল
মধ্যম যুক্তও নয়। পরন্তু, পা-রে সঙ্গতি-যুক্ত। ছায়ানট রাগ সম্বন্ধে
বিশদ আলোচনা মৎ প্রণীত ভারতীয় সঙ্গীত পরিচিতি প্রথম খণ্ডে
দ্রষ্টব্য। ৪৩৭
অথ কামোদনাটোহ স্মিন তীব্র গান্ধার সংযুতো।
ধৈবতোদগ্রহঃ সম্পূর্ণোহবরোহে গ-ধ বর্জিতো।
স-ন্যাসো মধ্যমাংশঃ স্যাৎ সর্বত্র বহুকম্পনম্ ॥ ৪৩৮
ধ নি সরি গম পধনি সস্ ন পস্ নিপ মমপ মম রিস্। সসপ। মম র্রিধ
ধনি সদ্‌নি সবি গপ পম রিস্ বিস নিপ প ধনি সস্ নিপ সস্ নিপ নিপ
মম পমম রিস্। সস্ র্রি স নি সনাস্ র্ররি গম গমম সর্ রি সনি পম পদনি
সমম মারি সার্বনি সস্ ন পস্। ইতি কামোদনাটঃ। তৃতীয় প্রহরোদয়ম্। ১১
কামোদনাট রাগে গা স্বরটি তীব্র। এবং গ্রহস্বর ধা, ন্যাস স্বর সা ও
অংশস্বর মা। রাগটির অবরোহণে গা ও ধা স্বর বর্জিত। কামোদনাটের
সবগুলি স্বরেরই অনেক রকমের কম্পন (গমক) ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ৪৩৮
টিপ্পনীঃ কামোদনাটের গা স্বরটি ছিল তীব্র এবং নি স্বরটি ছিল
(পারিজাতের) শুদ্ধ নি। সুতরাং আধুনিক খাম্বাজ ঠাটের সম্পূর্ণ-ঔড়ুব
জাতির রাগ ছিল এটি। চেহারা ছিল ধ্ ন্ স্ গ ম প ধ ন্ সস্। স প ম ম র স।
বর্তমানে কামোদনাট নামক কোন রাগ প্রচলিত নেই। প্রসঙ্গক্রমে, এখানে
উল্লেখযোগ্য যে, নট কামোদ নামক একটি কল্যাণ ঠাটের সম্পূর্ণ জাতির
রাগের সঙ্গে আমাদের পরিচয় আছে। আজ থেকে প্রায় আটত্রিশ বছর পূর্বে,
কোন বিখ্যাত ঘরোয়ানাদারদের নিকট থেকে, নট-কামোদ রাগের 'বনে
রহো সাহেব তুম' নামক তানসেন বিরচিত ধ্রুপদটি শিখেছিলাম। এ ঘরোয়া-
ণার ছায়ানট ছিল নিরঙ্কুশ গা-নি যুক্ত বেলাবল ঠাটের এবং আলোচ্য নট-
কামোদটি ছিল কড়ি ম্ যুক্ত কল্যাণ ঠাটের ছায়ানটের অনুরূপ। ৪৩৮
আভীরীমেল সম্ভূতোহবরোহে ধ-স্বরেোজ্‌ঝিতঃ।
অথ ন্যাসবিশেষাচ্চ্য আভীরীনাটকঃ স্মৃতঃ।
স-স্বরাদি গ্রহন্যাসো যস্মিন্নংশৌ গ-নী স্বরৌ ॥ ৪৩৯

ম পধ মম মগ রিগ মা'র সরি সনী সসসা। পাম"
Wait, "সনিপম" - yes.

Line 20:
"মরি গাম রিস রিস নীস সসা। ইতি কল্যাণনাটঃ। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৭৯"

Line 21:
"কল্যাণনাট রাগটির উৎপত্তি হয়েছে কল্যাণ মেল থেকে। এর অবরোহণে"

Line 22:
"গা-ধা বর্জিত। মূর্চ্ছনা ষড়জাদি। ৫৪০"

Line 23:
"টিপ্পনী: পারিজাতের কল্যাণ ছিল বর্তমানের কল্যাণের মতোই।"

Line 24:
"সুতরাং, কল্যাণনাটের চেহারা ছিল সরগমপধনস | সনপমরস। অর্থাৎ"
Wait, is there a bar '/' between aroha and avaroha?
Look at line 24: "ছিল সরগমপধনস | সনপমরস। অর্থাৎ" -> wait, is that a vertical bar '|' or '/'? It is '|'.
Wait, in line 24: "সরগমপধনস" - wait, look at 'গম': between 'গ' and 'প', is that 'ম'? Yes, 'ম'.
And in avaroha: "সনপমরস" - wait, look at : 'স' 'ন' 'প' 'ম' 'র' 'স'. Look between 'প' and 'র': is there 'ম'? Yes, 'ম'.

ৌ? Let's zoom into L28: অবরোহে ধ-গৌ বর্জ্যৌ স্যাত্সংশৌ ষড়্জপঞ্চমৌ।Wait, look at the word afterবর্জ্যৌ: স্যা ত্(khanda-ta or t-virama:ৎorত্?) -> স্যাৎThenসংংশৌorসাংশৌ? In Sanskrit: "স্যাৎ সাংশৌ" (syāt sāṁśau - sa should be amsha) or "স্যাদংশৌ" or "স্যাৎ সংস্থৌ"? Wait! Look at the letters: স্যা ত্ সা ং শৌ->স্যাৎসাংশৌ? Wait, look at সাorসং: There is স, with an akar? সা? Wait, above সাthere is an anusvara:সাংশৌ`!
Wait, but what is before षड्जपञ्चमौ?
"স্যাৎ সাংশৌ ষড়্জপঞ্চমৌ" or "স্যাতাংশৌ"?
Wait, amsha swaras: "স্যাদংশৌ ষড়্জপঞ্চমৌ" (let Sa and Pa be amsha? No, amsha is two: shadja and panchama, so dual: sāṁśau? No, amshau! But if shadja is amsha: "স্যাৎ সাংশ

?) Wait, look at বো? No, it's ব্যো? Wait, look at: বোর্হনে? Let's search the text of Sangita Parijata for this verse: Verses 443 & 444: Verse 443: "गौरीमेलसमुत्पन्ना..." In Bengali script: Let's look at the letters: ব্ যো হ ন ে->ব্যোহনে? Wait, what if the typesetter made an error for হ্যারোহেorত্বারোহেorহ্বারোহে`?
Look at the shapes:

  1. ে (e-kar)
  2. ব (or হ)
  3. া (a-kar) -> together with e-kar, makes o-kar (ো)!
    Wait, is the letter inside ব? No, it looks like ব or য or র.
    Wait, could it be র?
    If it's রো: then before it is া?
    Wait, could it be বা রৌ হ ণে?
    Wait, let's look at the letters one by one:
  • First shape: ব (or ত্ব?)

১৭৮ সঙ্গীত পারিজাত
ধস রিম মগ রিস রিগ রিসা ধধ সরি মমা পধ ধপ মাগরি। সরি গরি
রিস সা ধধ স সরিরি মম পধ ধপ মপ মা মরিস। সরি গরি রিস সা ধধস
সরি রিমম পধধপ মপ মা মরিস। সরি গরি রি সসাধ। ইতি সাবেরী।
সর্বদা। ৮৩
সাবেরী রাগের গা তীব্র। ধা এর গ্রহস্বর এবং অংশস্বর হচ্ছে মা।
সাবেরী রাগে নি একেবারে বর্জিত। অধিকন্তু, আরোহণে গা-স্বরটিও বর্জিত
হয়। ৪৪৪
টিপ্পনী: সাবেরীর চেহারা ছিল, ধসরমপধস' | সধপমগরস। অর্থাৎ
বর্তমানের বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত ঔড়ব-ষাড়ব জাতীয় রাগ। রাগটি
বর্তমানে অপ্রচলিত। অর্ধ-প্রচলিত রাগ হিসাবে যে সাবেরীর পরিচয়
আমরা আজকের দিনে পাই, সেটা হচ্ছে ভৈরৌ ঠাটের অন্তর্গত একটি
ঔড়ব-সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ। আরোহণ-অবরোহণ, সঋমপদস' | স'নদপমগ-
ঋস। বাদী-সম্বাদী পা-সা। এই অর্ধ-প্রচলিত ভৈরৌ ঠাটের সাবেরীর
সঙ্গে পারিজাতের সাবেরীর সামঞ্জস্য আছে কেবলমাত্র আরোহণের বর্জিত
স্বরে। ৪৪৪
গান্ধারোদগ্রাহসালঙ্গে রি-গৌ কোমল তীব্রকৌ।
ধ-ন্যাসো মধ্যমাংশশ্চ সর্বত্র বহুকম্পনম্ ॥ ৪৪৫
গম পধনি ধপনী ধপ মপ মাগরী সনী ধধনি সনী সনী ধগম পগরি সানি
ধধ নীসা। মাগরী সনীধ ধনী সসা। ইতি সালঙ্গঃ। সর্বদা। ৮৪
সালঙ্গ রাগের গ্রহস্বর গা। ন্যাসস্বর ধা এবং অংশস্বর মা। এর রে
স্বরটি কোমল এবং গা স্বরটি তীব্র। সালঙ্গ রাগের সবগুলি স্বরেই অনেক
রকমের কম্পন ব্যবহৃত হয়। ৪৪৫
টিপ্পনী: সালঙ্গ রাগের স্বর ছিল, সঋগমপধন। বর্তমানে প্রচলিত
কোন হিন্দুস্থানী ঠাটের মধ্যেই সালঙ্গ রাগকে ফেলবার উপায় নেই। এর
আরোহণ অবরোহণ ছিল, যথাক্রমে, গমপধনস'ঋ'গ' | গ'ঋ'স'নধপমগঋস।
অর্থাৎ সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ জাতির রাগ ছিল এটি। এর প্রত্যেক স্বরেই বহু কম্পন
ব্যবহৃত হতো। এখানে বহু অর্থে অনেক রকমের কম্পন বুঝতে হবে।
অর্থাৎ, অনেক রকমের গমক জাতীয় প্রক্রিয়ার অন্তর্গত ছিল স্বরগুলি।

সঙ্গীত পারিজাত ১৭৯
বলাবাহুল্য, সালঙ্গ সারঙ্গ নামক রাগের অপভ্রংশ নয়। পারিজাতের ৪৪
সংখ্যক রাগ সারঙ্গ দ্রষ্টব্য। রাগটি বর্তমানে নিঃশেষে বিলুপ্ত। ৪৪৫
রি-ত্রয়োদগ্রহসংযুক্তঃ ষড়জোদগ্রাহোহথবা মতঃ।
শ্রীরাগস্তীব্রগান্ধার আরোহে গ-ধ বর্জিতঃ॥ ৪৪৬
রি রিরিপম গরি গরিস সাসানি সনি ধপ সপ নিস। নি সরিম মপ
পনি নি সরি গ ধ সনি সনি সনি ধপ মপ মমা মগরি রিগরি রিগরি সনিনি
সসা। ইতি শ্রীরাগঃ। তৃতীয় প্রঃ বাক্যম্। ৮৫
শ্রীরাগের গ্রহস্বর হচ্ছে ৩টি অবস্থিত রে অথবা সা স্বর। এর গা স্বরটি
তীব্র এবং আরোহণে গ ধ স্বরদুটি বর্জিত হয়। ৪৪৬
টিপ্পনীঃ পারিজাতের শ্রীরাগের গ্রহস্বর দুটির বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। সা
স্বরকে গ্রহস্বর হিসাবে গ্রহণ করলে, কেবলমাত্র সা স্বরের ওপর দাঁড়িয়েই
গ্রহস্বরকে নিষ্পন্ন করা যেতে পারতো। কিন্তু, রে স্বরটিকে গ্রহস্বর হিসাবে গ্রহণ
করলে তাকে প্রকট করে তুলতে হলে, পরো পর তিনবার আবৃত্তি করে—
যেমন স্বর পরিচিতিতে দেখানো হয়েছে। এবং গা স্বরটি তীব্র। সুতরাং পারি-
জাতের শ্রীরাগ ছিল, বর্তমানের খাম্বাজ ঠাটের অন্তর্গত রাগ। আরোহণ
অবরোহণ ছিল রমপনসর। রসনধপমগরস। অর্থাৎ ঔড়ব-সম্পূর্ণ জাতীয়
রাগ ছিল এটি। বর্তমানেও শ্রীরাগ একটি অতি প্রচলিত রাগ। কিন্তু,
পারিজাতের শ্রীরাগের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নেই,--কেবলমাত্র জাতিটি ছাড়া।
বর্তমানের শ্রীরাগ পূরবী ঠাটের ষাড়ব সম্পূর্ণ রাগ। বাদী-সম্বাদী রে-পা।
আরোহণে গ-ধ বর্জিত। রূপ হচ্ছে, সঋপনর্স। র্সনদপমৃগমৃগঋস।
বর্তমানের শ্রীরাগে গান্ধার দুর্বল। পারিজাতের শ্রীরাগের গান্ধারও দুর্বল ছিল
মনে করবার কারণ আছে। স্বর পরিচিতিটি লক্ষণীয়। ৪৪৬
গৌর্যুৎপন্না পাহাড়ী স্যাদ্ গান্ধার স্বর বর্জিতা।
উদ্গ্রাহে ষড়জসম্পন্না ন্যাসাংশয়ো রি-শোভিতা॥ ৪৪৭
সরি মপ ধপ মপ রিম রিস রিরিস নীস। রিস পধ পম পপম রিস রিরি
সনি সসা। ইতি পাহাড়ী। তৃতীয় প্রবন্ধান্তরম্। ৮৬
পাহাড়ী রাগটির উৎপত্তি হয়েছে গৌরী মেল থেকে। এর গ্রহস্বর সা।

১৮০ সঙ্গীত পারিজাত
অংশ ও ন্যাস স্বর হচ্ছে রে। গা স্বর একেবারে বর্জিত। ৪৪৭
টিপ্পনী : পারিজাতের পহাড়ী ছিল আধুনিক ভৈঁরো ঠাটের অন্তর্গত
একটি গা বর্জিত ষাড়ব-ষাড়ব জাতীয় রাগ। বর্তমানেও, পহাড়ী বা পাহাড়ী
একটি প্রচলিত রাগ। তবে, এ পহাড়ীর সঙ্গে পারিজাতের কোনই সামঞ্জস্য
নেই। বর্তমানের পহাড়ী বেলাবল ঠাটের ঔড়ুব-ঔড়ুব রাগ। বর্জিত স্বর
মা-নি। বাদী-সম্বাদী সা-পা। আরোহণ-অবরোহণ, যথাক্রমে, সগপধর্স।
র্সধপগপগরস। ৪৪৭
বিহাঙ্গড়ে গ-নী তীব্রাবারোহে তু বি-বর্জ্জিতে।
গান্ধারোদগ্রাহসম্পন্নে ন্যাসাংশো রি-স্বরো মতঃ ॥ ৪৪৮
যদ্যস্মিন্ পঞ্চমোদ্গ্রাহঃ স্যাদারোহে গ-বর্জ্জনম্।
মূর্চ্ছনা মধ্যমে চাপি প-রাহিত্যং সদা ভবেৎ ॥ ৪৪৯
পম পনিস গরি সনি পম গম পম গরি সনীস। পনি সম গারি সনীস।
গম পনি সানীপ মগা রিস নিস রিস নিস। পনি সারি সম গারি সানি পনি
সরি সনি সসা। ইতি বিহঙ্গড়ঃ। তৃতীয় প্রহরোদ্ভবম্। ৮৭
(বিহাগড়া) বিহঙ্গড়ঃ রাগেব গ্রহস্বর গা। অংশ ও ন্যাসস্বর রে। এর
গা ও নি স্বর তীব্র এবং আরোহণে রে বর্জিত। বিহঙ্গড় রাগে পা স্বরকে
গ্রহস্বররূপে গ্রহণ করলে, আরোহণের বর্জিত স্বর হবে গা এবং মূচ্ছনা
মধ্যমাদি হলে, বর্জিত স্বর হবে পা। ৪৪৮ ৪৯
টিপ্পনী : বিহাঙ্গডা বা বিহঙ্গড়া বা বিহঙ্গড় নামক রাগটি ছিল আধুনিক
বেলাবল ঠাটের অন্তর্গত ষাড়ব-সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ। মূল সূত্র পাঠ করে,
সাকুল্যে, চার রকম বিহঙ্গড়ার পরিচয় পাচ্ছি আমরা। প্রথমতঃ ষডজাদি
মূর্ছনার ভিত্তিতে, আরোহণে রে বর্জিত বিহঙ্গড়। দ্বিতীয়তঃ গা মূর্ছনায় রে স্বর
হচ্ছে অংশ এবং ন্যাস। তৃতীয়তঃ পঞ্চমাদি মূচ্ছনার ভিত্তিতে, আরোহণে,
গা বর্জিত বিহঙ্গড়। এবং চতুর্থতঃ মধ্যমাদি মূর্ছনার ভিত্তিতে, আরোহণে,
পা বর্জিত বিহঙ্গড়। অর্থাৎ, ১। সগমপধনর্স। র্সনধপমগরস
২। গরগমপধনর্স। র্সনধপমগরসর ৩। প্ ধ্ ন্ সরমপ। পমগরসন্ ধ্ প্ এবং
৪। মধনর্স র্ র ্গ র্ র। র্ ম ্গ র্ র র্ স নধম। বর্তমানেও, বিহাঙ্গড়া নামক একটি রাগ প্রচলিত

সঙ্গীত পারিজাত ১৮১
আছে। পারিজাতের মতো এটিও একটি ষাড়ব-সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ। এর
আরোহণে বর্জিত হয় রে স্বর, কিন্তু, অবরোহণে ব্যবহৃত হয় কোমল ণি।
অর্থাৎ সগমপধনর্স | র্সনধপমগরস। স্বর্গীয় ভাতখণ্ডেজী এই বিহাগড়াকে,
কোমল ণি-র ব্যবহার সত্ত্বেও, বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত রাগ হিসাবে চিহ্নিত
করে গেছেন। লক্ষ্য করবার বিষয় পারিজাতের স্বর পরিচিতির মধ্যে ধা
স্বরটি বর্জিত, অথচ, মূল সূত্রের মধ্যে কোথাও ধা বর্জনের ইঙ্গিত মাত্রও
নেই। সন্দেহ হয়, মূলে কথাটি ছিল ধ-বাহিত্যং। এ ছাড়াও, মূল সূত্রের
প্রথম দুই চরণ থেকে আরও একটি অর্থ আবিষ্কার করা যায়। সেটা হচ্ছে
আরোহণে রে স্বরটি বর্জিত হয়েও অংশ ও ন্যাস স্বরূপে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন,
সগমগর, রসগমপ ইত্যাদি। ৪৪৮-৪৯
গৌরীমেলসমুৎপন্না ষড়জোদগ্রাহসমন্বিতা।
ন্যাসাংশ গ-শ্বরোপেতা পূর্ব্বী সা সুখদায়নী ॥ ৪৫০
স রিগম পধনি সসনি ধপ ধম পপ গগরি গাগম পপম গরিস (তান সমাপ্তৌ
গে বিকর্ষণম্) সরি সরি সস ধপস | সনি ধপ ধপ ধম গরি গা (বিকর্ষণম্)।
রিস সরি গম পধ পগ রিগা রিস গম পম গরিগা (বিকর্ষণম্) রিধ পসা।
ইতি পূর্ব্বী। তৃতীয় প্রহরোদ্ভবম্। ৮৮
পূর্বী রাগের উৎপত্তি হয়েছে গৌরী মেল থেকে। এর গ্রহস্বর সা এবং
অংশ ও ন্যাসস্বর হচ্ছে গা। পূর্বী একটি আনন্দবর্দ্ধক রাগ। ৪৫০
টিপ্পনীঃ পারিজাতের পূর্বী ছিল, আধুনিক ভৈরৌ ঠাটের সম্পূর্ণ-
সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ। স্বর পরিচিতির মধ্যে বন্ধনীযুক্ত মন্তব্যের দ্বারা বোঝানো
হয়েছে রাগটির মধ্যে বিকর্ষণ জাতীয় গমকের ব্যবহার ব্যাপক ছিল।
আকর্ষণ-বিকর্ষণ প্রসঙ্গে গমক প্রকরণ দ্রষ্টব্য। অর্থাৎ গরিসা-র সা বা
গরিগা-র গা, রসা বা মগা রূপে প্রযুক্ত হতো। পূর্বী রাগটি চিরকালের
প্রচলিত রাগ। কিন্তু, বর্তমানের পূর্বীর সঙ্গে পারিজাতের পূর্বীর সামঞ্জস্য
নেই। ঘরোয়ানাভেদে, আজও আমরা পূর্বীর অনেক রকম চেহারা দেখতে
পাই (মৎ প্রণীত ভারতীয় সঙ্গীত ১ম খণ্ড দ্রষ্টব্য) কিন্তু, কড়ি-মধ্যম-বিহীন
পূর্বী, সম্ভবতঃ, বর্তমানের কোন ঘরোয়ানাতেই প্রচলিত নেই। বর্তমানের
পূর্বী, ভাতখণ্ডেজীর মতানুযায়ী, একটি সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ।

১৮২ সঙ্গীত পারিজাত
ব্যবহার দুই মধ্যম। বাদী সম্বাদী গা-নি। আরোহন-অবরোহন, সঋগক্ষ-
পদনস' । স'নদপম্গঋস। - এ ছাড়াও, শুদ্ধ ধা যুক্ত ও দুই ধৈবতযুক্ত পূর্বীও
প্রচলিত আছে বিভিন্ন ঘরোয়ানায়, কিন্তু, কড়ি মধ্যম-হীন পূর্বী, বোধ
হয়, বর্তমানে নিঃশেষে বিলুপ্ত। এমন কি, পূর্বা, পূর্ব কল্যাণ,
পুরিয়া-ধানেশ্রী প্রভৃতি যে সব রাগের আদি অন্ত সন্ধান করতে গিয়ে,—
ঘনিষ্ঠভাবে বা অর্ঘনিষ্ঠভাবে—আমরা পূর্বীর সম্পর্কে এসে পড়ি,—সে সব
রাগের একটিও কড়ি মধ্যম বর্জিত নয়। ৪৫০
কোমলো চ রি-ধৌ যত্র গ-নী যত্র চ তীব্রকৌ।
মশ্চ তীব্রতরঃ প্রোক্তঃ পূর্বী-সারঙ্গকে পুনঃ।
ঋষভোদগ্রাহসম্পন্নে গ-পৌ ন্যাসাংশকৌ মতৌ ॥ ৪৫১
রিগম পধনি সসনি ধপম পপম গম গারিগ গ। সনী সসা। (তান্
সমাপ্তৌ গে বিকল্পম্ ) পপ মধ পম পপম গরিগ সারি সনি সসা। ইতি
পূর্বী-সারঙ্গঃ। তৃতীয় প্রহরোধ্বম্। ৪৯
পূর্বী-সারঙ্গ রাগের গ্রহস্বর রে। অংশস্বর পা এবং ন্যাসস্বর গা।
এই রাগটির রে ও ধা কোমল, গা ও নি তীব্র ও মা তীব্রতর। ৪৫১
টিপ্পনী: পারিজাতের পূর্বী সারঙ্গ ছিল সঋগক্ষপদনস। অর্থাৎ,
বর্তমানের পূর্বীথাটের সম্পূর্ণ সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ। কিন্তু, মাত্র একটি শুদ্ধ
মধ্যমের অভাবে, বর্তমানের পূর্বী রাগের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখতে পারেনি।
পরন্তু, এর স্বর ব্যবস্থার মধ্যে বর্তমানে প্রচলিত পুরিয়া ধানেশ্রী রাগটির
স্বরকে পাওয়া যায়। অবশ্য, লক্ষ্য করলে দেখা যায়, রাগটির প্রকৃতির
মধ্যে পুরিয়া-ধানেশ্রীর তুলনায় পূর্বীর প্রভাবই একান্তভাবে প্রকট। ৪৫১
রিস্তু তীব্রতরঃ প্রোক্তস্তীব্রগান্ধার শোভিতে।
সামন্তসংজ্ঞকে রাগে ন্যাসেঽদগ্রাহ্যংশ ষড়্‌ভুকে ॥ ৪৫২
সরিগম পধনি সসনি ধপম পগরি গরিস | সসরি গম পমপ পম রিগ
মগরিম সরি গম পধনি সরিগম পমম মগরি সস | নিধপ মমম গরী সরীস
নীসসা। ইতি সামন্ত। তৃতীয় প্রহরোধ্বম্। ৫০
সামন্ত রাগের রে তীব্রতর, গা তীব্র এবং সা হচ্ছে গ্রহ, অংশ ও
ন্যাসস্বর। ৪৫২
টিপ্পনী: মূর্চ্ছনার কারণে সামন্ত রাগের রে তীব্রতর। অর্থাৎ, পারি-

জাতের শুদ্ধ গা বা বর্তমানের কোমল গা। ফলে, সামন্ত রাগের রে স্বর
বর্জিত হয়ে গিয়ে রূপ দাঁড়ায় সজ্ঞগমপধনর্স | র্সনধপমগজ্ঞস। অর্থাৎ
বর্তমানের কাফি ঠাটের অন্তর্গত ষাড়ব-ষাড়ব রাগ। বর্তমানেও, সামন্ত
সারঙ্গ নামক একটি রাগ প্রচলিত আছে। ভাতখণ্ডেজীর মতানুযায়ী সেটি
কাফি ঠাটের ঔড়ব-ঔড়ুভ জাতীয় রাগ। বর্জিত স্বর গা-ধা। বাদী-সম্বাদী
রে-পা। ব্যবহার দুই নি। আরোহণ অবরোহণ হচ্ছে যথাক্রমে, সরমপনস |
র্সনপমরস। সুতরাং প্রাচীন সামন্তর সঙ্গে এর কোনই সামঞ্জস্য নেই বলা
চলে। ৪৫২
দৈবতোদ্গ্রাহাংশন্যাসো গৌরীমেল সমুদ্ভবঃ।
রাগো মঙ্গলকোশাখ্যো ধ-নী যত্র সমন্বিতৌ ॥ ৪৫৩
ধনি সরি গম পধ পম পপম গরি সরি গম গরি সরি সনি ধস নিধ ধনি
সরি সনি ধদ ধনী সসা | গম পম গরি সরি সনি ধস ধনী স। ইতি মঙ্গল-
কোশকঃ। সর্ব্বদা। ৯১
মঙ্গলকোশ রাগটির উৎপত্তি হয়েছে গৌরী মেল থেকে। এর গ্রহ, অংশ
ও ন্যাস স্বর হচ্ছে ধা। ধা ও নি এই রাগের মধ্যে সংযুক্তভাবে ব্যবহৃত হয়ে
থাকে। ৪৫৩
টিপ্পনীঃ মঙ্গলকোশ রাগের রে-ধ। কোমল ও গা-নি তীব্র যেহেতু
এটি গৌরী মেলের রাগ। সুতরাং এর রূপ দাঁড়ায়, সঋগমপদনর্স | র্সনদ-
পমগঋস। অর্থাৎ বর্তমানের ভৈরৌ ঠাটের অন্তর্গত সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ জাতির
রাগ। বর্তমানে মঙ্গল নামক একটি অর্দ্ধ প্রচলিত রাগের পরিচয় পাওয়া যায়,
যার রে কোমল হলেও ধা শুদ্ধ। কিন্তু মঙ্গলকোশ নিঃশেষে বিলুপ্ত। ৪৫৩
নাদরামক্রিয়া গৌরীমেলোৎপন্না ম-ভূষিতা।
ষড়্জোদ্গ্রাহা চ নি-ন্যাসাঽরোহে গান্ধারবর্জিতা ॥ ৪৫৪
সসস রিগ মম্মা গম পধনি ধপ্‌পম পম পম র্সস | সরি মম গম গম
পম গরি সরি নিসস নিধপ মপ মগম পম গম গরি সরি সনি সরি সম্ম
গরি সরি সাঃ সরি মমম গরি সরিস নিসরি মম গম পধনি ধপ ধপ মপ
মগম গরি সরি সনী | সরি মাগরি সরিস। ইতি নাদরামক্রিয়া। প্রথম
প্রহরোত্তরম্। ৯২

নাদরামক্রিয়া রাগটির উৎপত্তি হয়েছে গৌরী মেল থেকে। মা স্বরটি
হচ্ছে এই রাগের ভূষণস্বরূপ। এর গ্রহস্বর সা, ন্যাসস্বর নি। আরোহণে
গা বর্জিত হয়। ৪৫৪

টিপ্পনী: নাদরামক্রিয়ার রূপ ছিল সঋমপধনর্স । র্সনদপমগঋস । অর্থাৎ
বর্তমানের ভৈঁরো ঠাটের অন্তর্গত ষাড়ব-সম্পূর্ণ জাতির রাগ। বর্তমানে,
নাদরামক্রিয়া নামক কোন রাগ উত্তর ভারতে প্রচলিত নেই; কিন্তু, রাম-
ক্রিয়া, রামক্রি, রামকরী রামকেলী নামক রাগ প্রচলিত আছে। সব-
গুলিই ভৈঁরো ঠাটের রাগ, কিন্তু নাম ভেদের মতো এদের রূপ ভেদেরও
অন্ত নেই।

যেমন—স ঋ গ ম প ধ ন স
স ঋ গ ম প ধ ন স
স ঋ গ ম প ক্ষ প ধ ন র্স
স ঋ গ ম প ক্ষ প ধ ন স প্রভৃতি। ৪৫৪

কুড়াই তীব্র-গোপেতা চারোহো ম-নি-বর্জিতা।
গান্ধারোদ্ গ্রাহসংযুক্তা পঞ্চমাংশেন শোভিত। ॥ ৪৫৫

সঙ্গীত পারিজাত ১৮৫
১। গপধর্সর্রর্গ । র্রর্সণধপমগরস । অর্থাৎ, ঔড়ব-সম্পূর্ণ জাতি ।
২। গপধর্সর্রর্গ । র্রর্সণপমগরস । অর্থাৎ, ঔড়ব-ষাড়ব জাতি ।
৩। গপধর্সর্রর্গ । র্সণধপমগস । অর্থাৎ ঔড়ব-ষাড়ব জাতি ।
৪। গপধর্সর্রর্গ । র্রর্সণধপমরস । অর্থাৎ, ঔড়ব-ষাড়ব জাতি ।
কুড়াই নামক রাগটি বহুকাল পূর্বেই অপ্রচলিত হয়ে গিয়েছে। আইন-ই
আকবরী পাঠ করে জানা যায়, সম্রাট আকবরের অনুমোদনক্রমে তদানীন্তন
কালে প্রচলিত কুড়াই নামক রাগটি 'সুঘরাই' নামে প্রখ্যাত হয়েছিল।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য যে, সে যুগের নায়ক ছজ্জু, চঞ্চলসস্, নায়ক গোপাল,
হুসেন শর্কী, বাজ বাহাদুর, মিঞা তানসেন, বাবা রামদাস, সুরদাস প্রমুখ
প্রখ্যাত শিল্পিগণ তাঁদের সমসাময়িককালে প্রচলিত মল্লার, সারং, তোড়ী,
কান্ড়া প্রভৃতি অসংখ্য রাগকে নূতন রূপ প্রদান করেছিলেন এবং সেই সব
রূপান্তরিত রাগ সঙ্গীত-সমাজে স্বীকৃতিলাভও করেছিল ছজ্জু-কি-মল্লার,
রামদাসী মল্লার, সুরদাসী মল্লার, চঞ্চলসস্ মল্লার, বাহাদুরী তোড়ি, মিয়াঁকি
তোড়ি, জৌনপুরী তোড়ি, নায়কী কান্ড়া, হুসেনী কান্ড়া, দরবারি কান্ড়া
প্রভৃতি বহুবিধ নূতন নামে। বলাবাহুল্য, স্রষ্টার নামযুক্ত এই সব রূপান্তরিত
রাগ, ক্ষেত্রবিশেষে, বৈধ রাগরূপে স্বীকৃতিলাভ করতো স্রষ্টাদের আশ্রয়দাতা
রাজন্যবর্গের অনুমোদনক্রমে কিংবা সঙ্গীত-সমাজ কর্তৃক সাদরে গৃহীত হয়ে।
অনুরূপ, তানসেনের সমসাময়িক কালের কুড়াই নামক রাগটিও 'সুঘরাই' নামে
প্রখ্যাত হয়েছিল বাদশাহ আকবরের অনুমোদনক্রমে। সুঘরাই কথাটার
অর্থ সুগন্ধ। কিন্তু আলোচ্যক্ষেত্রে একটা ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে—
কুড়াইয়ের নবরূপ প্রদানকারী স্রষ্টা-শিল্পীর নামটি 'সুঘরাইয়ের' সঙ্গে সংযুক্ত
নেই। অর্থাৎ, সুঘরাই রাগটি যে তানসেনের পরিকল্পিত নয়, এমন অনুমান
করবার অবকাশ আছে। পরন্তু, তানসেনের সমসাময়িককালে সুঘরাইয়ের
যে রাগরূপ প্রচলিত ছিল, কালক্রমে সে রাগরূপের মধ্যেও যে সংস্কার সাধিত
হয়েছে, তাতেও সন্দেহ নেই। বর্তমানেও সুঘরাইয়ের একাধিক রূপের
সঙ্গে আমরা পরিচিত। এর মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত রূপটি হচ্ছে—ঠাট, কাফি।
জাতি, ষাড়ব-সম্পূর্ণ। ব্যবহার, দুই নিষাদ। বাদী-সমবাদী, সা ও জ্ঞা।
আরোহণ-অবরোহণ, স র জ্ঞ ম প ন র্স। র্স ণ ধ প ম প জ্ঞ ম র স। দিবা
দ্বিতীয় প্রহরে গেয়। ৪৫৫-৪৫৮
১৩

১৮৮ সঙ্গীত পারিজাত
ছিল সরিগমপদনর্স। র্সনদপমগখস। বলাবাহুল্য, পারিজাতের বসন্ত-ভৈরবের
মতো, দেব-গান্ধারের সঙ্গেও বর্তমানে প্রচলিত ভৈরো ঠাটের অনেক রাগের
সামঞ্জস্য দেখা যায়। কিন্তু, দেব-গান্ধারী নামক রাগটি বর্তমানে অপ্রচলিত।
ঘরোয়ানা ওস্তাদদের খাতাপত্রে যা দু'চারটে দেব-গান্ধারী বা দেও-গান্ধার
দেখা যায়, তার অধিকাংশই আসোয়ারী বা ভৈরবী ঠাটের অন্তর্গত রাগ। ৪৫৯
গৌরীমেল সমুৎপন্না ত্রিবেণী ম-স্বরোজ্ঝিতা।
অবরোহণবেলায়াত্ ষড়জোদ্গ্রাহাংশ রি-স্বরা॥ ৪৬০
সরি গম পধ নিস সনি ধপ গরি গরি সনসা। সরি গম পাপ গরি গপ
সরিগ রিস রিস। গম পগরি সাসরি গম গরি সরি সনী সসা। ইতি ত্রিবেণী।
তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৯৭
ত্রিবেণী রাগটির উৎপত্তি হয়েছে গৌরী মেল থেকে। এর অবরোহণে মা
স্বরটি বর্জিত হয়। সা হচ্ছে এর গ্রহস্বর এবং অংশস্বর হচ্ছে রে। ৪৬০
টিপ্পনী: ত্রিবেণী ছিল, বর্তমানের ভৈরো ঠাটের অন্তর্গত সম্পূর্ণ-ষাডব
জাতীয় রাগ। আরোহণ-অবরোহণ ছিল, যথাক্রমে, সরিগমপদনর্স। র্সন-
দপগখস। বর্তমানেও ত্রিবেণী নামক একটি অর্ধ-প্রচলিত রাগ আছে। এটিও
ভৈঁরো ঠাটের অন্তর্গত ষাড়ব-ষাড়ব জাতীয় রাগ। বাদী-সমবাদী রে-পা।
বর্জিত স্বর মা। আরোহণ-অবরোহণ হয়, যথাক্রমে, সরিগপদনর্স। র্সন-
দপগখস। কিন্তু স্বর্গত ভাতখণ্ডেজী এটিকে পূর্বীঠাটের অন্তর্গত রাগরূপে
উল্লেখ করে গিয়েছেন। প্রসঙ্গক্রমে, এখানে একথাও উল্লেখযোগ্য যে,
বর্তমানে দু'রকমের গৌরী প্রচলিত আছে। একটি ভৈরো ঠাটের ও
অপরটি পূর্বী ঠাটের। ৪৬০
রিস্ত তীব্রতরঃ প্রোক্তো মস্তু তীব্রতরো ভবেৎ।
অতিতীব্রতমো গঃ স্যান্নিস্তীব্রঃ স্যাৎ কুরঙ্গকে।
ষড়জোদ্গ্রাহেন সম্পন্নে ন্যাসাংশৌ ষড়্জপঞ্চমৌ॥ ৪৬১
সরি গম পধ র্নিস সনি ধপ মপা মপ মগরি গরীস। সসরি গম পধ পম
পপ মগ মগরি সসরি গমপপ্‌প মগ মপ গরি সনী সসা। ইতি কুরঙ্গঃ।
তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ৯৮
কুরঙ্গ রাগের রে ও মা স্বর তীব্রতর। গা স্বরটি অতি-তীব্রতর এবং
নি স্বরটি তীব্র। এর গ্রহস্বর ও ন্যাসস্বর হচ্ছে সা এবং অংশস্বর হচ্ছে পা। ৪৬১

shape on the left.
Wait, look at 'স্ম': in Bengali, 'স্ম' has 'স' on top-left and 'ম' below it. But here the next letter is 'ম'! So if it were 'স্ম', it would be 'স' + 'ম' + 'ম' = স্মম? That makes no sense.
Is it 'ঋমক্ষদন'?
Wait, what if it is "ঋমক্ষদন"?
Wait, why would Sa and Pa be missing?
Because Sa and Pa are achala (fixed)?
No, in L14: "সৌদামিনী রাগের রে ও ধা স্বর কোমল। গা অতি-তীব্রতম। মা তীব্রতর ও নি তীব্র।"
So the modified notes are:
Re = কোমল (ঋ)
Ga = অতি-তীব্রতম (which becomes শুদ্ধ মধ্যম = ম)
Ma = তীব্রতর (কড়ি মা = ক্ষ)
Dha = কোমল (দ)
Ni = তীব্র (ন)
So the altered notes are: ঋ, ম, ক্ষ, দ, ন!
WOW! "সৌদামিনীর স্বর ছিল ঋমক্ষদন।" - meaning the notes that define Saudamini are Ri (komal), Ma (shuddha), Ma (tivra), Dha (komal), Ni (shuddha)!
Wait, but does the sentence say: "সৌদামিনীর স্বর ছিল ঋমক্ষদন।"?
Wait, look at the first character: does it have a 'স'?
Wait, look at the space: between

১৯০ সঙ্গীত পারিজাত

বৈজয়ন্তী রাগের মা স্বরটি ষট্শ্রুতি সম্পন্ন। এর ধা কোমল, নি তীব্র
এবং রে হচ্ছে গ্রহস্বর। আরোহণে-অবরোহণে গ-ধ স্বর দুটি স্বল্প পরিমাণে
ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ৪৬৩
টিপ্পনী : স্বরের সঙ্গে ষট্শ্রুতি ত্রিশ্রুতি প্রভৃতি যোগ করে স্বর নির্দেশ
করার রীতি, দক্ষিণী সঙ্গীতজ্ঞগণই সাধারণতঃ অবলম্বন করে থাকেন। অহোবল
উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত গ্রন্থ রচনা করতে বসে হঠাৎ ষট্শ্রুতি মধ্যম কথাটি কেন
ব্যবহার করলেন, ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। যাই হোক, ষট্শ্রুতি মধ্যম হচ্ছে
তীব্র মা বা কড়ি মা। অতএব, সাধারণভাবে দেখা যাচ্ছে, বৈজয়ন্তীর
চেহারা ছিল সরক্মপনর্স। এখানে লক্ষ্য করবার বিষয় পারিজাতকার প্রথমেই
বলছেন বৈজয়ন্তীর ধৈবত স্বরটি কোমল। আবার শেষে বলছেন, আরোহণে-
অবরোহণে কখন কখনও গ-ধ স্বর দুটিও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এখানে, আমরা
গ-ধ স্বর দুটিকে যদি “মতান্তরে প্রযোজ্য” হিসাবে গণ্য করে ত্যাগ করি
তাহলে, বৈজয়ন্তীর রূপ হয় সরক্মপনর্স। র্সনপক্মরস অর্থাৎ ঔড়ব-ঔড়ব। যদি
“আরোহণে-অবরোহণে” কথাটিকে যথাক্রম হিসাবে গ্রহণ করে, আরোহণে
গা ও অবরোহণে ধা ব্যবহার করি, তাহলে বৈজয়ন্তীর রূপ হয়, সরজ্ঞক্মপনর্স।
র্সনদপক্মরস। অর্থাৎ ষাড়ব-ষাড়ব। আবার যদি আরোহণে-অবরোহণে
কথাটিকে “সাধারণ” ভাবে গ্রহণ করি, তাহলে, বৈজয়ন্তীর রূপ হয়ে যায়
সরজ্ঞক্মপদনর্স। র্সনদপক্মজ্ঞরস। অর্থাৎ সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ। কিন্তু, স্বর পরিচিতির
দিকে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় বৈজয়ন্তীর আরোহণ-অবরোহণ ছিল আসলে,
সরক্মপনর্স। র্সন(দ)পক্ম(জ্ঞ)রস অর্থাৎ ঔড়ুব-সম্পূর্ণ। লক্ষ্য করবার বিষয়
বৈজয়ন্তীর সঙ্গে বর্তমানের জয়জয়ন্তীর কোনই সাদৃশ্য নেই, বরং তোড়ি,
মূলতানী ও মধুবন্তী নামক একটি আধুনিক রাগের কিছুটা উপকরণ প্রচ্ছন্ন
আছে। বর্তমানে, বৈজয়ন্তী অপ্রচলিত হয়ে গিয়েছে। ৪৬৩
গ-নি-ভ্যাং বর্জিতো হংসো রি-ধ-কোমলসংযুতঃ॥ ৪৬৪
সরি মরি ধধপ মরি রিম পপ মরি রিমরি সরি সধ স্স্স। সরি মপ
মপ দস সধম পমা রিস রিস সধ সস। ইতি হংস। দ্বিতীয় প্রহরোত্তরম্ ॥ ১০১
হংস রাগের গা ও নি স্বর বর্জিত এবং রে ও ধা স্বর কোমল। ৪৬৪
টিপ্পনী : বর্তমানে হংসকঙ্কণী ( কাফী, ঔড়ব-সম্পূর্ণ ) হংসধ্বনী ( বেলাবল,
ঔড়ব-ঔড়ুব ) হংসমঞ্জরী ( কাফি, ষাড়ব-ষাড়ব ) হংসশ্রী ( খাম্বাজ, ঔড়ব-ঔড়ুব )

নামক কয়েকটি রাগকে অর্ধ প্রচলিত রাগ হিসাবে পাওয়া যায়; কিন্তু,
নিরঙ্কুশ হংসকে অনুরূপভাবে পাওয়া যায় না। তবে, পুরোণ ঘরোয়ানার
ওস্তাদদের নিকট হংস পাওয়া যায় এবং তার রূপ অবিকল পারিজাতের মতো
অর্থাৎ ঠাট্ ভৈঁরো, বাদী-সম্বাদী সা-পা; মা রে ও সা ধা সঙ্গতি;
বিবাদী গা নি। ৪৬৪
কল্যাণমেলসম্ভূতো রাগঃ কোকিল সংজ্ঞকঃ।
সর্বদা ম-নি-হীনঃ স্যাদ্গান্ধারাদিক মূর্ছনঃ ॥ ৪৬৫
গপ ধস সার পগ পগ র্রিস র্রিসা সরি গপ ধসা গারি সরি ধস ধপ গপ সারি
সা। সরি সরি গপা গারি সরি গরি ধস সধ মস রিগ পগ র্রিস রিস ধসস।
ইতি কোকিল। তৃতীয় প্রহরোত্তরম্। ১০২
কোকিল রাগের উৎপত্তি হয়েছে কল্যাণ মেল থেকে। এর মা ও নি স্বর
বর্জিত এবং মূর্ছনা গান্ধারাদি। ৪৬৫
টিপ্পনী: কোকিল রাগটি ছিল কল্যাণ ঠাটের মা-নি বর্জিত ঔড়ুব-ঔ

১৯২ সঙ্গীত পারিজাত
টিপ্পনী : জয়শ্রী রাগের স্বর ছিল ঋগক্ষপদন। আরোহণ-অবরোহণ
হতো, নিসগক্ষপনর্স | র্সনদপক্ষগঋস। অর্থাৎ বর্তমানের পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত
ঔড়ব-সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ ছিল জয়শ্রী। বর্তমানে জয়শ্রী নামক কোন রাগ
প্রচলিত নেই। তবে, জয়েন্শ্রী নামক একটি পূর্বী ঠাটের ঔড়ব সম্পূর্ণ রাগ
আছে—যার সঙ্গে প্রাচীন জয়শ্রীর সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। এই জয়েন্শ্রীর
বাদী সমবাদী হচ্ছে গা ও নি। আরোহণে বর্জিত স্বর রে ও ধা।
আরোহণ-অবরোহণ হচ্ছে, সগক্ষপনর্স | র্সনদপক্ষগঋস। এটি একটি সায়ং-
কালে গেয় রাগ। ৪৬৬
গৌরীমেলসমুদ্ভূতো ধৈবতস্বরবর্জিতঃ।
আরোহণে রি-হীনঃ স্যান্নিষাদাদিঃ সুরালয়ঃ ॥ ৪৬৭
নীস গম পনী সনি পম গরি সনিস। নীস গম গম গরি সনিস। নীস গম
পপ মগ রিস রিস নিস পনী সগ মপ মগ রিস রিস নিস নিপ মপ নীস গস পম
গরি সরি রিস নিস। ইতি সুরালয়। প্রথম প্রহরোত্তরম্। ১০৪
সুরালয় রাগটির উদ্ভব হয়েছে গৌরী মেল থেকে। এর ধৈবত স্বরটি
একেবারে বর্জিত এবং আরোহণেও রে স্বরটি বর্জিত হয়ে থাকে। নি হচ্ছে
এর গ্রহস্বর। ৪৬৭
টিপ্পনী : সুরালয় রাগটি ছিল বর্তমানের ভৈঁরো ঠাটের অন্তর্গত একটি
ঔড়ব-ষাড়ব জাতীয় রাগ। এর আরোহণ-অবরোহণ ছিল ন্‌সগমপনর্স |
র্সনপমগঋস। বর্তমানে রাগটি নিঃশেষে বিলুপ্ত। ৪৬৭
গৌরীমেলসমুদ্ভূত আরোহে ম-নি-বর্জিতঃ।
গ-ধ-হীনাবরোহঃ স্যাদ্গাদিরর্জুনসংজ্ঞকঃ ॥ ৪৬৮
গপ ধস সনি পম রিম গপ পধ ধম মধ সরি গধ মরিস। রিরি গমরি মম
রিস রিস রিস নিপ পধ নিপ মম পম মরি গম রিস রিস ধস সরি
সধ সস সরি সসরি গম রিস রিস সধ সস। ইতি অর্জুনঃ। দ্বিতীয়
প্রহরোত্তরম্। ১০৫
অর্জুন রাগটির উদ্ভব হয়েছে গৌরী মেল থেকে। এর আরোহণে মা ও নি
এবং অবরোহণে গা ও ধা বর্জিত হয়। গা এর গ্রহস্বর। ৪৬৮
টিপ্পনী : অর্জুন রাগটি ছিল বর্তমানের ভৈঁরো ঠাটের অন্তর্গত রাগ।
এর আরোহণ-অবরোহণ হতো, গপদর্সর্ঋর্গ। র্ঋর্সনপমঋস। অর্থাৎ ঔড়ব-ঔড়ব

জাতীয় রাগ ছিল এটি। বর্তমানে, অর্জুন রাগটির উপরোক্ত চেহারা বিলুপ্ত;
কিন্তু, প্রবীণ সরোদশিল্পী আলাউদ্দীন খাঁ সাহেব ও তস্য শিষ্য সম্প্রদায়ের
কল্যাণে অর্জুন নামক একটি নতুন রাগের পরিবেশনা লক্ষ্য করা যায়
মাঝে মাঝে। বলাবাহুল্য, এই নতুন অর্জুনের সঙ্গে পারিজাতের অর্জুনের
কোনই সম্পর্ক নেই এবং যতদূর সম্ভব খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছি, বর্তমানের
অর্জুন পরিবেশনকারীরা,—সঙ্গীত পারিজাতের নাম শুনলেও—তার মধ্যে
অর্জুন নামক কোন রাগ আলোচিত হয়েছে কিনা, সে সংবাদ রাখেন না
এবং রাখবার কোন সার্থকতা আছে বলেও মনে করেন না। অপরপক্ষে,
স্বাধীন ভারত সরকার কর্তৃক সম্মানিত একজন প্রবীণ শিল্পীর এ হেন
“সৃষ্টির” বিপক্ষে আমরাও কোনরূপ মন্তব্য করতে ভরসা করি না, কেবল
এইটুকু মাত্র বলতে পারি, নূতন সৃষ্টিকে নূতন নামে ভূষিত করলেও ভারতীয়
সঙ্গীতের ঐতিহ্য এবং মর্যাদা রক্ষিত হতে পারতো। পরিশেষে বক্তব্য এই
যে, পারিজাত-বর্ণিত অর্জুনের আরোহণ-অবরোহণের সঙ্গে স্বর পরিচিতির
অসামঞ্জস্য প্রথম দিকে পরিলক্ষিত হয়। খুব সম্ভব, মূল কীটদষ্ট থাকায়,
পরবর্তী কালের লিপিকর প্রমাদ ঘটিয়েছেন। যেমন, ঋমগপপদদমমদ। এটির
হওয়া উচিত ছিল ঋসগপপদদসসদ। অর্থাৎ, মা স্বরগুলি সা হয়ে গিয়েছে এবং
সা স্বরগুলি মা হয়ে গিয়েছে। ৪৬৮
কল্যাণমেলসম্ভুতো ধঃ হীনঃ পঞ্চমং গতঃ।
ঐরাবতো গ পূর্বোক্তো ন্যাসষড়্‌জবিভূষিতঃ ॥ ৪৬৯
গম পনি সরি সনি পম গম পগ মগ রিগ পনি সরি সনীর্স | গম পম গরি
সনীর্স | গম পম পম মগ মপ মপ মাগরি | সরি সনিস পনি সরি সম গরি নিস
পনি সস | ইতি ঐরাবতঃ। দ্বিতীয় প্রহরোত্তরম্। ১০৬
ঐরাবত রাগটির উদ্ভব হয়েছে কল্যাণ মেল থেকে। এর ধা স্বরটি
একেবারেই বর্জিত। গা এর গ্রহস্বর এবং ন্যাস স্বর হচ্ছে সা। রাগটির বৈশিষ্ট্য
প্রকাশক স্বর হচ্ছে পা। ৪৬৯
টিপ্পনী : ঐরাবত ছিল কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত ষাড়ব-ষাঢ়ব জাতীয় রাগ।
এর গ্রহস্বর ও ন্যাস স্বর ছিল, যথাক্রমে, গা ও সা। আরোহণ অবরোহণ ছিল
গক্ষপনর্স | র্সনপক্ষগরস। রাগটি বর্তমানে বিলুপ্ত। তবে, কল্যাণ ঠাটের
অন্তর্গত, বর্তমানের মারু বেহাগ প্রমুখ রাগের মধ্যে প্রাচীন ঐরাবত রাগের
কিছু উপকরণ খুঁজে পাওয়া যায়। ৪৬৯

১৯৪ সঙ্গীত পারিজাত
শঙ্করাভরণে মেলে রাগঃ কঙ্কণসংজ্ঞকঃ।
প-হীনো গাদিরাখ্যাতো বহুমধ্যমসঙ্গত: ॥ ৪৭০
গম রিস রিস নিস নিধ নিধ মগ মম গম মগরি সরি সরি সনি মধ নিস।
মধনি রিস নি সস। মম মগ মম গরি গম মধ নিস নিধ নিধম গম গম গম রিস
রিস নিসস। ইতি কঙ্কণ। দ্বিতীয় প্রহরোত্তরস্। ১০৭
কঙ্কণ রাগটি শঙ্করাভরণ মেলের অন্তর্গত। এর পা স্বরটি একেবারেই
বর্জিত। গা এর গ্রহস্বর। রাগটির মধ্যে মা স্বরটির ব্যবহার প্রবল। ৪৭০
টিপ্পনী: পারিজাতের শঙ্করাভরণ ছিল, বর্তমানের বিলাবল ঠাটের
অনুরূপ। সুতরাং কঙ্কণ রাগেব রূপ ছিল সরগমধনর্স। র্সনধমগরস। অর্থাৎ,
ষাড়ব-ষাড়ব জাতীয় রাগ ছিল এটি। রাগটির মধ্যে মধ্যম স্বরটিকে অনেক রকম
ভাবে ব্যবহার করা হতো এবং এই মধ্যম-প্রাবল্যই ছিল কঙ্কণ রাগের বৈশিষ্ট্য।
রাগটি বর্তমানে অপ্রচলিত। ৪৭০
রত্নাবল্যাং রি-নী ন্যস্তৌ তীব্রতীব্রতরৌ গ-মৌ।
গান্ধারমূর্চ্ছনা যত্র তত্রোক্তো ন্যাসপঞ্চমঃ॥ ৪৭১
গম পধ সসগ সধ সধ পম গপ গম পম মপ ধস ধপ মপম। মগ সধস। গম
পম পম পাপ। ধস ধপ ধপ পম মপ। মম গস ধস। ইতি রত্নাবলী। দ্বিতীয়
প্রহরোত্তরস্। ১০৮
রত্নাবলী রাগেব রে ও নি স্বর দুটি বর্জিত এবং গা ও মা স্বর দুটি যথাক্রমে
তীব্র ও তীব্রতর। এর মূর্চ্ছনা গান্ধারাদি এবং ন্যাস স্বর পা। ৪৭১
টিপ্পনী: রত্নাবলী ছিল একটি ঔড়ব-ঔড়ব জাতির রাগ। এর গা ও মা
স্বর দুটি তীব্র ও তীব্রতর হওয়ার ফলে, চেহারা দাঁড়াচ্ছে গদ্ধপধর্স। র্সধপদ্ধ
গ(স) অর্থাৎ, বর্তমানের কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত রাগ ছিল এটি। রাগটি
বর্তমানে বিলুপ্ত। ৪৭১
ধ-হীনে কল্পতর্বাখ্যে তীব্রতীব্রতরৌ গ-রী।
ঋষভোদ্‌গ্রাহসংযুক্তে ষড়্‌জন্যাসসমন্বিতে ॥ ৪৭২
রিগ মপ নিস সনি পম পম গরিস রিগ মরি গম পম গরি
সনি সপনি সরি সনি সারি। গম পনি পম গরি গম গরি সনি
সনা। পনিস পনি সরি গম গরি সনি সসা। ইতি কল্পতরু। তৃতীয়
প্রহরোত্তরস্। ১০৯