सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
সঙ্গীত পারিজাত ৭৯
একান্তরিত স্বরের সঙ্গে পূর্ব্ব স্বরের আরোহণকে সঙ্গীতজ্ঞ পণ্ডিতগণ অভ্যূচ্চয়
অলঙ্কার বলেন। যেমন:—
সগা, রমা, গপা, মধা, পনা, ধর্সা। ইতি অভ্যূচ্চয় অলঙ্কার। ২৩৯
যে অলঙ্কারের আরোহণে, এক একটি ক'বে স্বর বেড়ে যায়, তাকে শিবপ্রিয়
(সঙ্গীত রত্নাকর প্রণেতা শার্ঙ্গদেব) হসিত অলঙ্কার বলেন। যেমন:—
সা, সরা, সরগা, সরগমা, সরগমপা, সরগমপধা সরগমপধনর্সা। ইতি
হসিত অলঙ্কার। কিংবা—
সা, ররর্সা, গগগা, মমমমা, পপপপপা, ধধধধধধা, নননননননা, সর্সর্সর্সর্সর্সর্সর্সা।
ইতি হসিত অলঙ্কাব। ২৪০
সরা, রগা, গমা, মপা, পধা, ধনা, নর্সা—এই ভাবে, আন্দোলিত
হ'তে হ'তে স্বর সমষ্টির আরোহণ হ'লে, তাকে প্রেক্ষিত অলঙ্কার বলে।
ইতি প্রেক্ষিত অলঙ্কার। ২৪১
প্রথম ও একান্তরিত দুটি স্বর (অর্থাৎ সা ও গা) যখন দু'বার করে উচ্চারিত
হ'তে হ'তে আরোহণ করে, তখন তাকে আক্ষিপ্ত অলঙ্কার বলে। যেমন:
সসগগা, ররমমা, গগপপা, মমধধা, পপননা, ধধর্সর্সা।
ইতি আক্ষিপ্ত অলঙ্কার। ২৪২
প্রথম দুটি স্বর দ্রুত উচ্চারণ করে, তৃতীয় স্বরের উচ্চারণটি বিলম্বিত করলে
যে অলঙ্কারের উদ্ভব হয়, তাকে সন্ধি-প্রচ্ছাদন অলঙ্কার বলে। যেমন:
সর-গা, রগ-মা, গম-পা, মপ-ধা, পধ-না, ধন-র্সা। ইতি সন্ধি-প্রচ্ছাদন
অলঙ্কার। ২৪৩
প্রথম স্বরটি দু'বার, দ্বিতীয় স্বরটি একবার এবং তৃতীয় স্বরটি বিলম্বিত
লয়ে একবার উচ্চারণ করলে, তাকে উদ্গীত অলঙ্কার বলে। যেমন:
সসর-গা, ররগ-মা, গগম-পা, মমপ-ধা, পপধ-না, ধধন-র্সা। ইতি উদ্গীত
অলঙ্কার। ২৪৪
প্রথম স্বর চারবার, দ্বিতীয় স্বর দু'বার এবং তৃতীয় ও চতুর্থ স্বর একবার
ক'রে উচ্চারণ করলে, হনুমানের মতানুযায়ী উদ্বাহিত অলঙ্কারের সৃষ্টি হয়।
যেমন:
সসসসররগমা, রররর াগমপা, গগগগমমপধা, মমমমপপধনা, পপপপধধনর্সা।
ইতি উদ্বাহিত অলঙ্কার। ২৪৫
৮০ সঙ্গীত পারিজাত
প্রথম ও দ্বিতীয় স্বরের আবৃত্তি একবার ক’রে এবং তৃতীয় স্বরের আবৃত্তি
তিনবার ক’রে হলে, তাকে ত্রিবর্ণ অলঙ্কার বলে। যেমন :
সরগগগ, রগমমম, গমপপপা, মপধধধা, পধনননা, ধনসর্সর্সা।
ইতি ত্রিবর্ণ অলঙ্কার।—২৪৬।১
পরের পর তিনটি স্বরেরই আবৃত্তি যদি তিনবার ক’রে হয়, তাহলে তাকে
পৃথগ্বেণি অলঙ্কার বলে। যেমন :
সসসবররগগগ, রররগগগমমম, গগগমমমপপপা, মমমপপপধধধা, পপপ-
ধধধনননা, ধধধনননর্সর্সর্সা।
ইতি পৃথগ্বেণি অলঙ্কার।—২৪৬।২
অবরোহক্রমাদ্দেতে দ্বাদশাপ্যবরোহিণঃ।
গৌরবাদবরোহস্য লেখনং ন কৃতং ময়া ॥ ২৪৭
হত্যবরোহ্যালঙ্কারাঃ।
উপরোক্ত দ্বাদশটি অলঙ্কার আবার অবরোহণক্রমে সম্পাদিত হলে, তাকে
পূর্ব্বোল্ল
সঞ্চারী অলঙ্কার ২৬ রকমের হয়। যথাঃ ১। মন্দ্রাদি, ২। মন্দ্রমধ্য,
৩। মন্দ্রান্ত, ৪। প্রস্তার, ৫। প্রসাদ, ৬। ব্যাবৃত্ত, ৭। চলিত,
৮। পরিবর্ত্ত, ৯। আক্ষেপ, ১০। বিন্দু, ১১। উদ্বাহিত, ১২। উর্মি,
১৩। সম, ১৪। প্রেঙ্খ, ১৫। নিষ্কূজিত, ১৬। শ্যেন, ১৭। ক্রম,
১৮। উদ্ঘাটিত, ১৯। রঞ্জিত, ২০। সন্নিবৃত্ত, ২১। প্রবৃত্ত,
২২। বেণু, ২৩। ললিত-স্বর, ২৪। হুঙ্কার, ২৫। হ্লাদমান,
২৬। অবলোকিত।—যেহেতু এই অলঙ্কারগুলির স্বরসমূহ মন্দ্র
(উদারা), মধ্য (মুদারা) ও তার্ (তারা), এই তিন সপ্তকের মধ্যেই
সঞ্চরণশীল, সেইজন্য এগুলিকে সঞ্চরণশীল বা সঞ্চারী অলঙ্কার বলে।
এবং বলাই বাহুল্য, এই অলঙ্কারগুলিরও মন্দ্র (উদারা) স্বরের
মাথায় বিন্দু ও তার্ (তারা) স্বরের মাথায় রেফ্, ব্যবহৃত
হয়েছে। ২৪৮–২৫২।
টিপ্পনী : আমরা কিন্তু উদারার মাথায় বিন্দু ব্যবহার না করে স্বরের
তলায় বিন্দু বা হসন্ত ব্যবহার করবে। ২২৫ সূত্রের টিপ্পনী দ্রষ্টব্য। ২৫২
সরীগমৌগমৌ যত্র রিসোসরীগরীসরী;
গমৌ গুরুদ্বয়েনৈব স মন্দ্রাদিস্তদা ভবেৎ।
স্থানত্রয়বিশিষ্টোহয়মারম্ভে মন্দ্রপূর্ব্বকঃ ॥ ২৫৩
যে অলঙ্কারের প্রথম ক্রমের রূপ হচ্ছে, সরগম—মগরস—সরগর—
সরগমা, যার শেষ দুটি স্বর গুরুবর্ণযুক্ত, যার চারটি ক্রমেই, যথাক্রমে,
সরগমা-র পরিবর্ত্তে রগমপা, গমপধা প্রভৃতির ব্যবহার হয়; যার আরম্ভ
হয় মন্দ্র স্বর (অর্থাৎ উদারার সা) থেকে; এবং যার স্বর-সমষ্টি মন্দ্র, মধ্য,
তার্- এই তিন সপ্তকের মধ্যেই সঞ্চরণশীল, তাকে মন্দ্রাদি অলঙ্কার
বলে। যেমন :
সরগম-মগরস-সরগর-সরগমা। রগমপ-পমগর-রগমগ-রগমপা।
গমপধ-ধপমগ-গমপম-গমপধা। মপধন-নধপম-মপধপ-মপধনা। পধনর্স-
র্সনধপ-পধনধ-পধনর্সা। ধনর্সর্র-র্রর্সনধ-ধনর্সন-ধনর্সর্রা। ইত্যাদি। ইতি
মন্দ্রাদি অলঙ্কার। ২৫.
এবং জ্ঞেয়োহবরোহস্ত গীতশাস্ত্রবিচক্ষণৈঃ ॥ ২৫৪
৮২ সঙ্গীত পারিজাত
সংগীত-বিশারদ গুণীজ্ঞানীরা জানবেন, আরোহণের পদ্ধতির মতো বিপরীত
গতিতে মন্দ্রাদি অলঙ্কারের অবরোহণও সম্পাদিত হয়। যেমন :
র্সরসনধ-ধনসর্সব-র্সরনর্স-র্সরনধা। ইত্যাদি। ২৫৪
সগৌরিগৌগমগৌ যত্র রিগৌরিগৌরিসৌসরী।
গমৌ জ-গণযুক্তোহসৌ মন্দ্রমধ্যো সুশোভিতঃ ॥ ২৫৫
সগরগ-মগরগ-রগরস-সরগমা—এই স্বরগুলির জ-গণযুক্ত সুষ্ঠু সন্নিবেশকে
মন্দ্র-মধ্য অলঙ্কাব বলে। এই অলঙ্কারেও, যথাক্রমে, সগরগ-ব ক্রমের পর
পরবর্তী রমগম, গপমপ প্রভৃতির ক্রম আসে। যেমন :
সগরগ-মগরগ-রগরস-সবগমা। বমগম-পমগম-গমগর-রগমপা। গপমপ-
ধপমপ-মপমগ-গমপধা। মধপধ-নধপধ-পধপম-মপধনা। পনধন-র্সনধন-ধনধপ-
পধনর্সা। ইতি মন্দ্র-মধ্য অলঙ্কাব। ২৫৫
টিপ্পনী : জ-গণ কথাটা একটা সাঙ্গীতিক সংজ্ঞ-জ্ঞাপক শব্দ।
যে ক্ষেত্রে তিনটি স্বরের মধ্যে মধ্যবর্তী স্বরটি হয় গুরুবর্ণ এবং তার দু পাশের
দুটি স্বরের বর্ণ হয লঘু, সেই ক্ষেত্রেই জ-গণ সংজ্ঞাটি ব্যবহৃত হয়। যেমন,
মন্দ্র-মধ্য অলঙ্কারটিকে জ-গণযুক্ত ক’বে যথাযথভাবে সাজালে দাঁড়ায়—
সগরা, গমগা, রগরা, গরসা, সবগা ( মা )। রমগা মপম, গমপা, মগরা,
রগমা ( পা ) ইত্যাদি। ২৫৯
মন্দ্রান্তশ্চ স বিজ্ঞেয়ো ন-গণেন সুশোভিতঃ।
সদ্ধ্বযং রিদ্বয়ং গৌচ যস্মিন্ মগৌ রিগৌ রিসৌ।
মন্দ্রস্থানঞ্চ যস্যাস্তে মন্দ্রান্তং তং প্রচক্ষতে ॥ ২৫৬
যে অলঙ্কার ন-গণের ছন্দে সুশোভিত, যার ( প্রথম ক্রমেব ) শেষ স্বর
মন্দ্র , যার প্রথম ক্রমস্থ সসা ররা গগা, মগা রগা রসা, স্বরগুলি দ্বিতীয়
তৃতীয় প্রভৃতি ক্রমে, ( পূর্ববর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে ) পরিবর্তিত হয়ে,
যথাক্রমে, ররা গগা মমা বা গগা মমা পপা হয়ে যায়, তাকে মন্দ্রান্ত অলঙ্কার
বলে। যেমন :
সসা ররা গগা, মগা রগা বসা। বরা গগা মমা, পমা গমা গরা। গগা মমা
পপা, ধপ মপা মগা। মমা পপা ধধা, নধ পধ পমা। পপা ধধা ননা, র্সনা
ধনা ধপা। ইতি মন্দ্রান্ত অলঙ্কার। ২৫৬
সঙ্গীত পারিজাত ৮
টিপ্পনী : ন-গণ সংজ্ঞাটা পূর্ব্বোল্লিখিত জ-গণের মতই ব্যবহৃত হয়েছে
ন-গণের ছন্দটা হচ্ছে তিনটি লঘু মাত্রার সমষ্টি। ২৫৬
ত্যক্তান্তরং স্বরদ্বন্দ্বং ত্যক্তাদারভ্যতে পুনঃ।
যুগং তাদৃক্ সমারোহে তদা প্রস্তার উচ্যতে ॥ ২৫৭
প্রথম স্বরটি উচ্চারণ ক'রে, মধ্যের দুটি স্বর বর্জ্জন পূর্ব্বক আবার চতুর্থ
স্বরটি উচ্চারণ করলে যে স্বর-যুগল হয়, এবং অনুরূপভাবে, পূর্ব্ববারে পরিত্যক্ত
দ্বিতীয় স্বরটি উচ্চারণ ক'রে, তার পরবর্তী দুটি স্বর বর্জ্জন ক'রে আবার চতুর্থ
স্বরটি উচ্চারণ করলে যে স্বর-যুগলের উৎপত্তি হয়, তাকে প্রস্তার অলঙ্কার বলে।
যেমন : সমা, রপা, গধা, মনা, ধর্সা। ইতি প্রস্তার অলঙ্কার। ২৫৭
আদ্যং দ্বয়ং ত্রিরার্ব্বত্যা তৃতীয়ঞ্চ দ্বিতীয়কম্।
উক্ত্বা তত্র প্রসাদং তমলঙ্কারং জগুর্ব্বুধাঃ ॥ ২৫৮
প্রথম দুটি স্বর তিনবার আবৃত্তি ক'রে, তৃতীয় ও দ্বিতীয় স্বর উচ্চারণ
করতে হবে। এইভাবে, ছ'বারে “সানি” পর্যন্ত উচ্চারিত হলে প্রসাদ
নামক অলঙ্কার হয়। যেমন :
সরা সরা সরা গরা, রগা রগা রগা মগা, গমা গমা গমা পমা, মপা মপা মপা
ধপা, পধা পধা পধা নধা, ধনা ধনা ধনা সনা। ইতি প্রসাদ অলঙ্কার। ২৫৮
সগৌ রিমৌ সরী গো মৌ যস্মিন্নিতি ক্রমো ভবেৎ।
ব্যাবৃত্তং তং বিজানীয়াদ্ গীতশাস্ত্রবিশারদঃ ॥ ২৫৯
সা গা রে মা—সা রে গা মা, এই আটটি স্বর নিয়ে প্রথম ক্রম রচনা ক'রে,
পরবর্তী ক্রমগুলিতে উক্ত স্বরগুলির পরের পর স্বর দ্বারা যথোচিত ভাবে
আবৃত্তি করলে, গীতশাস্ত্রবিশারদদের মতানুযায়ী ব্যাবৃত্ত অলঙ্কার সৃষ্টি হয়
জানবেন। যেমন :
সগরম-সরগম, রমগপ-রগমপ, গপমধ-গমপধ, মধপন-মপধন, পনধর্স-
পধর্নর্সা। ইতি ব্যাবৃত্ত অলঙ্কার। ২৫৯
সগৌ রিমে মরীগঃ সঃ সরীগোম ইতি ক্রমঃ।
যদা ভবেৎ তদা জ্ঞেয়োহলঙ্কারশ্চলিতো বুধৈঃ ॥ ২৬০
সাগারেমা-মারেগাসা-সারেগামা, এই বারটি স্বর দ্বারা যার প্রথম ক্রম
৮৪ সঙ্গীত পারিজাত
তৈরী হয় এবং যার পরবর্তী ক্রমগুলিও এইভাবে পরের পর স্বর দ্বারা রচিত হয়,
গুণীজ্ঞানীরা তাকেই চলিত অলঙ্কার বলেন। যেমন: সগরম-মরগস-সরগমা,
রমগপ-পগমর-রগমপা, গপমধ-ধমপগ-গমপধা, মধপন-নপধম-মপধনা, পনধর্স-
র্ধনপ-পধনর্সা। ইতি চলিত অলঙ্কার। ২৬০
আদ্যং তৃতীয়মুচ্চার্য্য তুর্য্যং দ্বিতীয়মেব চ।
পরিবর্ত্তস্তদা জ্ঞেয়ো যতি তালেন শোভিতঃ॥ ২৬১
যে অলঙ্কারের প্রথম ক্রম, প্রথম-তৃতীয়-চতুর্থ ও দ্বিতীয় স্বর নিয়ে রচিত
এবং যার পরবর্তী পাঁচটি ক্রমও যথাযথভাবে পরের পর স্বর দ্বারা সন্নিবেশিত,
তাকেই পরিবর্ত্ত অলঙ্কার বলে। এই অলঙ্কারটি যতি তালের মাধ্যমে গীত
হলে শ্রুতি-মধুর হয়। যেমন: সগমরা, রমপগা, গপধমা, মনর্সধ, পর্ধবনা,
ধর'গর্সা। ইতি পরিবর্ত্ত অলঙ্কার। ২৬১
টিপ্পনী : পূর্ব্বোল্লিখিত অড্ড তালের মতো যতি তালটিও বর্তমানে
অপ্রচলিত। অধিকন্তু, আমবা দেখতে পাচ্ছি এই যতি তালের মাত্রা সমষ্টি
ও ছন্দ সম্বন্ধে প্রাচীন গ্রন্থকারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ১৬২৫ খৃষ্টাব্দে
বিরচিত সঙ্গীত-দর্পণ গ্রন্থে গ্রন্থকার দামোদর মিশ্র যতি তালটিকে একটি ৯
মাত্রার বিষমপদী ছন্দের তাল বলেছেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে বিবচিত
সঙ্গীত দামোদর গ্রন্থে, গ্রন্থকার শুভঙ্কর দু' রকম যতির পরিচয় দিয়েছেন।
কিন্তু তার বানান জ্যোতি। এঁর মতানুযায়ী জ্যোতি তাল একটি ৪ মাত্রার
সমপদী ছন্দের তাল এবং অর্দ্ধ-জ্যোতি হচ্ছে একটি ৭ মাত্রার বিষমপদী ছন্দের
তাল। বলা যায় না, পরবর্ত্তীকালে হয়তো এই অর্দ্ধ-জ্যোতি তালটিই সাত
মাত্রার আদ্ধা-যৎ তাল-এ রূপান্তরিত হয়েছিল।
সঙ্গীত দামোদর গ্রন্থে আরও দেখা যায়, এক রকম গীতি-পদ্ধতির পরিচয়
দেওয়া হয়েছে, যার নাম যতি ( জ্যোতি নয় )। এইগুলি বিভিন্ন তালে ও
ছন্দে গীত হতো। সাকুল্যে, এই যতি-পদ্ধতির ধারা হচ্ছে চারটি। যথা:—
১। লীলা-যতি = বিষমপদী তিন মাত্রার তাল।
২। আন্দোলিত-যতি = বিষমপদী ৫৷০ মাত্রা বা ১১ মাত্রার তাল।
৩। কৌমুদী-যতি = বিষমপদী ৫ মাত্রা বা দশ মাত্রার তাল।
৪। হংস-মালিকা-যতি = এর তাল-মাত্রা-ছন্দের পরিচয় আপাতত আমাদের
পক্ষে দেওয়া সম্ভবপর হচ্ছে না, যেহেতু, আমাদের সংগ্রহের সঙ্গীত দামোদরটির
এই অংশ কীটদষ্ট। কেবলমাত্র দেখতে পাচ্ছি “খদ্বয়ং···প্রান্তে গুরু।”
১২১০-৪৭ খৃষ্টাব্দে রচিত সঙ্গীত রত্নাকরেও দেখা যায় গ্রন্থকার শার্ঙ্গ দেব
তিন রকম যতি তালের উল্লেখ করেছেন। যথা :—
করণ-যতি = ৪ মাত্রার তাল।
যতি-লগ্ন = ৬ মাত্রার তাল।
বর্ণ যতি = ৬ মাত্রার তাল।
প্রসঙ্গক্রমে এখানে একথাও উল্লেখযোগ্য যে, অর্ব্বাচীনকালের গ্রন্থ, তাল-
মঞ্জরীতে বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে “লঘুদ্রুতৌ যত্র তালো যতিতালঃ স কথ্যতে”।
লঘুদ্রুতৌ = তিন মাত্রা।
কেউ কেউ আবার অনুমান করেন, বর্ত্তমানে প্রচলিত যৎ ও দীপচণ্ডী
তালদুটি, প্রাচীন যতি তালেরই রূপান্তর মাত্র। সাত মাত্রার যৎ সম্বন্ধে
আমরা পূর্ব্বেই মন্তব্য করেছি। দীপচণ্ডী তালটিও সাতমাত্রার। পরন্তু, আট
মাত্রার যৎ-এর সঙ্গেও যতির সামঞ্জস্য থাকা অসম্ভব নয়। রত্নাকর কথিত
৪ মাত্রার করণ-যতি তো ছিলই, অধিকন্তু, প্রাচীন কীর্ত্তনগীতি শাস্ত্রের মধ্যেও
দেখা যায়, আট মাত্রার একটি যতি তাল প্রচলিত ছিল। কীর্ত্তনের তান-
বৈচিত্র্য কিছু কিছু টপ্পার মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং, আট মাত্রার
যৎ-এর সঙ্গে, কীর্ত্তনাঙ্গ যতি তালের সম্পর্ক একেবারে অসম্ভব নয়, বলা
যেতে পারে। ২৬১
ক্রমাৎ স্বরত্রয়ং যত্র জগুরাক্ষেপকং বুধাঃ ॥ ২৬২
যে অলঙ্কারে পবের পর তিনটি স্বর উচ্চারিত হয়, গুণীজ্ঞানীরা তাকেই
আক্ষেপ অলঙ্কার বলেন। যেমন :
সরগা, রগমা, গমপা, মপধা, পধনা, ধনর্সা। ইতি আক্ষেপ অলঙ্কার। ২৬১
আদ্যো দীর্ঘস্ত্রিরাবৃত্তঃ স্বরো হ্রস্বস্তদুতরঃ।
পুনরাদ্যস্ত দীর্ঘোহপি তথা দীর্ঘস্তৃতীয়কঃ।
বিন্দুসংজ্ঞোহলঙ্কারে প্রোক্তা গীতবিচক্ষণৈঃ ॥ ২৬৩
বিচক্ষণ সঙ্গীতজ্ঞদের মতানুসারে, বিন্দু নামক অলঙ্কারের প্রথম ক্রমের
প্রথম স্বরটি বিলম্বিত মাত্রায় তিনবার আবৃত্তি করতে হয়। এবং তারপরে,
৮৬ সঙ্গীত পারিজাত
দ্বিতীয় স্বরটি দ্রুত উচ্চারণ ক'রেই আবার প্রথম ও তৃতীয় স্বরদুটি বিলম্বিত
মাত্রায় আবৃত্তি করতে হয়। যেমন—সসসা-র-সগা, ররর-গ-রমা, গগগ-ম-
গপা, মমম-প-মধা, পপপ-ধ-পনা, ধধধ-ন-ধর্সা। ইতি বিন্দু অলঙ্কার। ২৬৩
স-রি-গ-রীতালঙ্কার উদ্বাহিতে স্বরা ইমে ॥ ২৬৪
যে অলঙ্কারে, সারেগারে প্রভৃতির ছক অনুযায়ী প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও
দ্বিতীয় স্বর নিয়ে এক একটি ক্রম রচিত হয়, তাকে উদ্বাহিত অলঙ্কার
বলে। যেমন :
সরগরা, রগমগা, গমপমা, মপধপা, পধনধা, ধনর্সনা, নির্সবর্সা।
ইতি উদ্বাহিত অলঙ্কার। ২৬৪
আদ্যস্তুৰ্য্যান্ত্রিরাবৃত্তঃ পুনরাদ্যশ্চতুর্থকঃ।
ইত্যেতে স্বরালঙ্কারে ঊর্ম্মিসংজ্ঞে সুখপ্রদে ॥ ২৬৫
ঊর্মি নামক অলঙ্কারটির পরিচয় হচ্ছে, প্রথম স্বরটি একবার উচ্চারণ
ক'রেই চতুর্থ স্বরটি তিনবার আবৃত্তি করতে হবে, তারপর, আর একবার
প্রথম ও চতুর্থ স্বরটি আবৃত্তি করতে হবে। যেমন :
স-মমমা-সমা, র-পপপা-রপা, গ-ধধধা-গধা, ম-নননা-মনা, প-র্সর্সর্সা-পর্সা।
ইতি ঊর্মি অলঙ্কার। ২৬৫
স-রি গানাং তথা মস্যারোহণঞ্চাবরোহণম্।
পুনরাবোহণং যত্র সমং বদতি তং সুধী ॥ ২৬৬
সা-রে-গা-মা, প্রভৃতি চারটি স্বরের আরোহণ, অবরোহণ এবং আবার
আরোহণ হলে, গুণীজ্ঞানীরা সেই অলঙ্কারকে সম বলে থাকেন। যেমন :
সরগম-মগরস-সরগমা, রগমপ-পমগর-রগমপা, গমপধ-ধপমগ-গমপধা,
মপধন-নধপম-মপধনা, পধনর্স-র্সনধপ-পধনর্সা। ইতি সম অলঙ্কার। ২৬৬
দ্বিদ্ব্যন্তরে স্বরদ্বন্দ্বে ত্যক্তাদারভ্য ঈদৃশঃ।
ক্রমাদ্দেকৈকহানাচ্চ প্রেঙ্খ উক্তো মনীষিভিঃ ॥ ২৬৭
প্রেঙ্খ অলঙ্কারের পরিচয় প্রসঙ্গে পণ্ডিত ব্যক্তিগণ বলেন, প্রথম ও চতুর্থ
সঙ্গীত পারিজাত ৮৭
স্বরদ্বটি দু’বার করে উচ্চারণ ক’রে, যথানিয়মে এর ক্রমগুলি রচনা করতে
হবে। যেমন :—
সসমমা, ররপপা, গগধধা, মমননা, পপর্সর্সা। ইতি প্রেঙ্ক্ষ অলঙ্কার ২৬৭
আদ্যতূর্যৌ দ্বিরাবৃত্ত্যা পুনস্তাবৎ ক্রমো ভবেৎ।
ক্রমাদ্েকৈকহানাচ্চ নিষ্কৃজিতঃ প্রকীর্তিতঃ ॥ ২৬৮
যুক্তভাবে প্রথম ও চতুর্থ স্বরদ্বটি দু’বার আবৃত্তি ক’রে, আবার প্রথম থেকে চতুর্থ
স্বর পর্যন্ত চারটি স্বর উচ্চারণ করতে হবে। এইভাবে, এক একটি ক’রে স্বর
বর্জ্জন ক’রে ক্রম রচনা করলে, যে অলঙ্কারের সৃষ্টি হবে, তাকেই নিষ্কৃজিত
অলঙ্কার বলে। যেমন :—
সম-সম-সরগমা, রপ-রপ-রগমপা, গধ-গধ-গমপধা, মন-মন-মপধনা,
পর্স-পর্স-পধনর্সা। ইতি নিষ্কৃজিত অলঙ্কার। ২৬৮
আদ্যস্বরঃ ক্রমাৎ সর্ব্বান্ স্পৃশল্লেকৈকমাত্রজেৎ।
অলঙ্কারস্ত শ্যেনঃ স্যাদনিবদ্ধঃ সুখপ্রদঃ ॥ ২৬৯
যে অলঙ্কারের প্রথম স্বরটি তার পরবর্ত্তী সমস্ত স্বরগুলিকেই পরের পর ছুঁয়ে
ছুঁয়ে ক্রমিক নিয়মে চলতে থাকবে, তাকেই শ্যেন অলঙ্কার বলে। এই অলঙ্কারটি
অনিবদ্ধ গীতিতে, (অর্থাৎ তাল বিহীন আলাপ, আওচার-এ) প্রযুক্ত হলে,
শ্রুতি সুখকর হয়। যেমন :—
সর সগ সম সপ সধ সন সর্সা
রগ রম রপ রধ রন রর্সা
গম গপ গধ গন গর্সা
মপ ম ধ মন মর্সা
পধ পন পর্সা
ধন ধর্সা
নর্সা
ইতি শ্যেন অলঙ্কার ২৬৯
স-রী-রি-গৌ-গমৌ চেতি ক্রমাখ্যালঙ্কৃতিক্রমঃ ॥ ২৭০
৮৮ সঙ্গীত পারিজাত
ক্রম নামক অলঙ্কারের প্রথম ক্রম হচ্ছে সারে রেগা গমা। এর অন্যান্য
ক্রমগুলিও এই নিয়মে রচনা করতে হবে। যেমন :—
সর-রগ-গমা, রগ-গম-মপা, গম-মপ-পধা, মপ-পধ-ধনা, পধ-ধন-নর্সা। ইতি
ক্রম অলঙ্কার। ২৭০
স-গৌ স-গৌ সরী-গোম ইতি ক্রমো যদা ভবেৎ।
উদ্ঘাটিতস্তদা জ্ঞেয় আন্দোলেনেন শোভিতঃ ॥ ২৭১
যার প্রথম ক্রম হচ্ছে, সাগা সাগা সারেগামা এবং অনুরূপ নিয়মে অন্যান্য
ক্রমগুলিও রচিত, তাকে উদ্ঘাটিত অলঙ্কার বলে। এই অলঙ্কারের স্বরগুলি
আন্দোলিতভাবে উচ্চারিত হলে শুনতে ভাল লাগে। যেমন :—
সগ-সগ-সরগমা, রম-রম-রগমপা, গপ-গপ-গমপধা, মধ-মধ-মপধনা,
পন-পন-পধনর্সা। ইতি উদ্ঘাটিত অলঙ্কার। ২৭১
টিপ্পনী : গ্রন্থকার এখানে আন্দোলন অর্থে কী বলতে চেয়েছেন ঠিক বোঝা
যাচ্ছে না, কারণ, অলঙ্কারের মধ্যে মীড়-গমক প্রভৃতির মতো কোন কিছু
থাকতে পারে না। ২৭১
স-গৌ রি-গৌ সরী-গোম ইতি ক্রমো যদা ভবেৎ।
রঞ্জিতঃ স্যাদলঙ্কারঃ করুণা তাল শোভিতঃ ॥ ২৭২
সাগারেগা-সারেগামা, এই নিয়মে যার ক্রম রচিত হয় তার নাম রঞ্জিত
অলঙ্কার। এই অলঙ্কারটি করুণা তালে গীত হলে, শ্রুতি-মধুর লাগে।
যেমন :—
সগরগ-সরগমা, রমগম-রগমপা, গপমপ-গমপধা, মধপধ-মপধনা, পনধন-
পধনর্সা। ইতি রঞ্জিত অলঙ্কার। ২৭২
টিপ্পনী : করুণা তালটি বর্তমানে অপ্রচলিত। সঙ্গীত রত্নাকর বলেছেন,
“গুরুণা করুণো মতঃ”। অর্থাৎ এটি একটি আট মাত্রার তাল ছিল। ২৭২
সরিগা-রিগমা যত্র গরিসা-রিগমা স্তথা।
সন্নিবৃত্তঃ স বিজ্ঞেয়ঃ সর্বদা সুখদায়কঃ ॥ ২৭৩
সারেগারে-গামাগারে-সারেগামা, এই নিয়মে যার ক্রম রচিত এবং যা সর্ব্বদাই
সঙ্গীত পারিজাত ৮১
শুনতে ভাল লাগে, অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা তাকেই সন্নিবৃত্ত অলঙ্কার বলেছেন।
যেমন :—
সরগর-গমগর-সরগম্, রগমগ-মপমগ-রগমপা, গমপম-পধপম-গমপধা,
মপধপ-ধনধপ-মপধনা, পধনধ-নর্সনধ-পধনর্সা। ইতি সন্নিবৃত্ত অলঙ্কার। ২৭৩
সন্নিবৃত্তস্বরৈরেব দ্বিগুণঃ সন্ প্রবৃত্তকঃ ॥ ২৭৪।১
যে অলঙ্কারে, পূর্ব্বোক্ত সন্নিবৃত্ত অলঙ্কারের স্বরগুলি দু’বার করে উচ্চারিত হয়,
তাকে প্রবৃত্তক অলঙ্কার বলে। যেমন :—
সসরর-গগরর-গগমম-গগরর সসরর-গগমমা ইত্যাদি।
ইতি প্রবৃত্তক অলঙ্কার। ২৭৪।১
বেণুঃ স-ম-গ-মৈ-জ্ঞে য়ঃ সরিগমৈ-স্তথৈব চ ॥ ২৭৪।২
সামাগামা-সারেগামা, এই নিয়মে যার চক্র রচিত হয়, তার নাম বেণু অলঙ্কার।
যেমন :—
সমগম-সরগমা, রপমপ-রগমপা, গধপধ-গমপধা, মনধন-মপধনা, পর্সনর্স-
পধনর্সা। ইতি বেণু অলঙ্কার। ২৭৪।২
আদ্যং তুর্য্যং তৃতীয়ঞ্চ দ্বিরাবৃত্ত্যা রিসো-সরী।
গরী সরী-গমৌ যত্র ঽহৃদো ললিতস্বরঃ ॥ ২৭৫
যে অলঙ্কারে প্রথম, চতুর্থ ও তৃতীয় এই তিনটি স্বর দু’বার করে আবৃত্তি
করবার পর, তার সঙ্গে, রেসা, সারে, গারে, সারে, গামা, স্বরগুলি যুক্ত
করে প্রথম ক্রম রচিত হয়, তারই নাম শ্রুতি-সুখকর ললিতস্বর অলঙ্কার।
যেমন :—
সসা মমা গগা,-রসা সরা, গরা, সরা, গমা।
ররা পপা মমা,-গরা, রগা, মগা, রগা, মপা।
গগা ধধা পপা,-মগা, গমা, পমা, গমা, পধা।
মমা ননা ধধা,-পমা, মপা, ধপা, মপা, ধনা।
পপা র্সর্সা ননা,-ধপা, পধা, নধা, পধা, নর্সা।
ইতি ললিতস্বর অলঙ্কার। ২৭৫
দ্বাভ্যাং-দ্বাভ্যাং স্বরাভ্যাং যঃ সংবাদিভ্যাং স হৃঙ্কৃতিঃ ॥ ২৭৬।১
মা (4 notes)
4. মনধপা (4 notes)
5. পসঁানধা (4 notes: প, সঁা, ন, ধা)
6. Next should be 4 notes: ধ (6), Tara Ri (9), Tara Sa (8), Na (7).
Look at the characters:
ধ (1)
র্ (reph) on what?
Next is 'সঁ' or 'রঁ'?
Wait, look at: 'ধ র্র্সনা' or 'ধর্সঁসনা'?
Wait, look at note 7 (group 7):
Starts on Na (7):
7, 10, 9, 8 -> Na (7), Tara Ga (10), Tara Ri (9), Tara Sa (8).
Look at group 7 in L8:
"নগঁর্সঁা" ->
ন = Na (7)
গঁ = Tara Ga (10)
র্সঁা = Tara Ri and Tara Sa? Wait! Is 'র্' Tara Ri? No, Tara Ri would be র, why 'সঁ'?
Wait, look at L13:
"পপপা সঁসঁর্সঁা" ->
Wait, in L13:
সসা মমমা (1, 1, 1, 4, 4, 4? No: Sa Sa Sā, Ma Ma Mā = 1, 4)
রররা
সঙ্গীত পারিজাত ৯১
যে অলঙ্কারের প্রথম ক্রমের রূপ হচ্ছে সারেগামাগারে সারেগারে সারেগামা
এবং যা ধ্রুবতালে গীত হ'লে শ্রুতিমধুর হয়, সঙ্গীতজ্ঞগণ তাকেই ইন্দ্রনীল
অলঙ্কার বলেছেন। যেমন :—
সরা গমা গরা সরা গরা সরা গমা,
রগা মপা মগা রগা মগা রগা মপা,
গমা পধা পমা গমা পমা গমা পধা,
মপা ধনা ধপা মপা ধপা মপা ধনা,
পধা নর্সা নধা পধা নধা পধা নর্সা। ইতি—
ইন্দ্রনীল অলঙ্কার। ২৮০
টিপ্পনী : ধ্রুবতাল নামটি বর্ত্তমানে অপ্রচলিত হলেও, তার ছন্দটি বোধ হয়
অপরিচিত নয়। শাস্ত্রমতে ধ্রুবতাল হচ্ছে “দ্রুতত্রয়ং গুরুস্ত্বাপি ধ্রুবতালঃ
প্রকীর্তিতঃ।” অর্থাৎ সাত বা চৌদ্দ মাত্রার তাল। আমাদের সন্দেহ হয়,
বর্ত্তমানে, বীণকাররা জোড়্ তার-পরণের পর যে ধুয়া-মাঠা বাজিয়ে থাকেন,
তার সঙ্গে প্রাচীন ধ্রুব ও মঠ তালের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল। যদিও বর্ত্তমানে
ধুয়া মাঠা বলতে দু'টি ছন্দ বোঝায় না, এবং নিরঙ্কুশ বিসমপদী
তালেরও ইঙ্গিত পাওয়া যায় না, কিন্তু, সেকালে যে এই ধুয়া-মাঠা অভিন্ন
ছিল না, এমন অনুমান করবার অবকাশ আছে। এই প্রসঙ্গে পরবর্তী সূত্রের
মঠ তাল দ্রষ্টব্য। ২৮০
সরীগরীসরী যত্র সরীগমো তথৈব চ।
অলঙ্কারো মহাবজ্রো মঠতালেন শোভিতঃ ॥ ২৮১
সারেগারেসারে সারেগামা, এইভাবে যার প্রথম ক্রম রচিত, তাকে মহাবজ্র
অলঙ্কার বলে। এই অলঙ্কারটি মঠ তালে গীত হ'লে শ্রুতিমধুর লাগে।
যেমন :—
সরা গরা সরা, সরা গমা। রগা মগা রগা, রগা মপা।
গমা পমা গমা, গমা পধা। মপা ধপা মপা, মপা ধনা।
পধা নধা পধা, পধা নর্সা॥ ইতি মহাবজ্র অলঙ্কার। ২৮১
টিপ্পনী : বর্ত্তমানে প্রচলিত ধূয়া-মাঠা শব্দটি যে প্রাচীন ধ্রুব ও মঠ
তালেরই অপভ্রংশ মাত্র, সে কথা আমরা পূর্ব্ব সূত্রে বলেছি। ধ্রুব
৯২ সঙ্গীত পারিজাত
তালের মতো মঠ তালও বর্ত্তমানে অপ্রচলিত এবং ধূয়া-মাঠার সঙ্গে এক
ছন্দেরও কোন সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয় না। পূর্ব্বেই বলেছি, প্রাচীন
ধ্রুব তাল ছিল সাত মাত্রায় বিসমপদী ছন্দের তাল; কিন্তু মঠতাল
সম্বন্ধে মতান্তর আছে। কেউ বলেছেন :—“বিরামাদি দ্রুতৌ দ্বৌ চ
মণ্ঠিকা পরিকীর্ত্তিতা”। অর্থাৎ ধ্রুব তালের মতো এটিও একটি সাত মাত্রার
বিসমপদী ছন্দের তাল। কেউ বলেছেন : —“চতুর্লঘুর্ভবেত্তদ্বদগুরুর্বল্লভমণ্ঠকে”।
অর্থাৎ দশ মাত্রার তাল। লক্ষ্য করবার বিষয়, এই সূত্রে নিরঙ্কুশ
মঠ তালের পরিবর্ত্তে “বল্লভমণ্ঠ” কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। মনে
হয়, বর্ত্তমানে প্রচলিত সমপদী ছন্দের সুরবাক্ বা সুর-ফাঁক অথবা
শূল তালের সঙ্গে “বল্লভমণ্ঠ”-র সামঞ্জস্য ছিল। এ ছাড়াও, বর্ণমণ্ঠিকা নামক
একটি তালের পরিচয় পাওয়া যায়,—“দ্বৌ লৌ দ্বৌ লৌ লঘুদ্বৌ
দ্বৌ কীর্ত্তিতা বর্ণমণ্ঠিকা”। অর্থাৎ দু'টি লঘু মাত্রা, দু'টি দ্রুত মাত্রা,
এক লঘু মাত্রা ও দু'টি দ্রুত মাত্রা = ১০ মাত্রা। বলাবাহুল্য, এই বর্ণমণ্ঠিকার
সঙ্গে দশ মাত্রার বল্লভমণ্ঠ তালের সামঞ্জস্য বর্ত্তমান। সংজ্ঞাটা কিন্তু লক্ষ্যণীয়।
মণ্ঠর সঙ্গে “বল্লভ” এবং “বর্ণ” যুক্ত হয়েছে। অনুরূপ আরও একটি প্রতিমণ্ঠ
তালের পরিচয় পাওয়া যায়, যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এককালে অধুনা
অপ্রচলিত “কোল্ক” তাল প্রচলিত হয়েছিল :—কোল্কোহন্যৈরযং
প্রোক্তঃ সোতো বা প্রতিমণ্ঠকঃ। সেটি একটি ১৬ মাত্রা বা ৩২ মাত্রার তাল
ছিল। = ২৮১
স-রী স-রী গ-মাবেতি ক্রম এব যদা ভবেৎ।
নির্দোষঃ স্যাদলঙ্কারো রূপকেন সুশোভিতঃ ॥ ২৮২
যার প্রথম ক্রম হচ্ছে সারে সারে সারে গামা এবং পরের ক্রমগুলি যথাক্রমে রেগা
রেগা মাপা প্রভৃতির স্বর সহযোগে রচিত, তাকে নির্দোষ অলঙ্কার বলে। এই
অলঙ্কারটি রূপক তালের সাহায্যে গীত হলে ভাল শুনতে লাগে। যথা—
সরা সরা গমা । রগা রগা মপা
গমা গমা পধা । মপা মপা ধনা
পধা পধা নর্সা ।
ইতি নির্দোষ অলঙ্কার। ২৮২
সঙ্গীত পারিজাত ৯৩
টিপ্পনী : রূপক তাল, বর্তমানে, হিন্দুস্থানী মতে, সাত মাত্রার তাল এবং
কর্ণাটিক্ মতে, ছয় মাত্রার তাল। প্রাচীনকালে, অর্থাৎ যখন হিন্দুস্থানী-
কর্ণাটিকের ভেদাভেদটা এত প্রকট ছিলনা, তখনকার রচিত গ্রন্থাদিতে, রূপক
ছয় মাত্রার তালরূপে স্থান পেয়েছিল। ২৮২
স-রী ততঃ স-রী গশ্চেৎ ততঃ স-রী গ-মৌ তদা।
সীরাখ্যোহয়মলঙ্কারো ঝম্পতালেন শোভিতঃ ॥ ২৮৩
ার প্রথম ক্রম হচ্ছে সারে, সারেগা, সারেগামা এবং পরের ক্রমগুলি
পরের পর স্বর নিয়ে রচিত হয়, তাকে সীর অলঙ্কার বলে। এই অলঙ্কারটি
ঝম্প তালের সঙ্গে গীত হ’লে শ্রুতিমধুর হয়। যথা—
সা রা সরগা সরগমা | রা গা রগমা রগমপা |
গা মা গমপা গমপধা | মা পা মপধা মপধনা
পা ধা পধনা পধনার্স। | ইতি সীর অলঙ্কার।—২৮৩
টিপ্পনী : প্রাচীন ঝম্প বা ঝম্পক তালের সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত ঝাঁপ
তালের সামঞ্জস্য আছে। সঙ্গীত রত্নাকর বলছেন : ঝম্পাতালো বিরামান্তং
দ্রুতদ্বন্দ্বং লঘুস্তথা। অর্থাৎ এটি একটি দ্রুত। লঘু ভাগের ১০ মাত্রার
তাল ছিল। ভাগটা ছিল ১ ১/২+১ ১/২+৩=৫=১০ মাত্রা। প্রসঙ্গক্রমে, এখানে
ভেঙ্কটমুখী বিরচিত চতুর্দণ্ডী প্রকাশিকার বিভাগটিও উল্লেখযোগ্য। চতুর্দণ্ডীর
বিভাগের সঙ্গে রত্নাকরের অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। ২৮৩
স-রী গশ্চ স-রী গো-ম ইতোতৈঃ কলিকাঃ ভবেৎ।
ত্রিপুটাখ্যেন তালেন কলিতঃ কোকিলো ভবেৎ ॥ ২৮৪
যার প্রথম কলি হচ্ছে সারেগা সারেগামা এবং পরের কলিগুলি পরের পর স্বর
নিয়ে রচিত, তার নাম কোকিল অলঙ্কার। এই অলঙ্কারটি ত্রিপুট তালে গাইতে
হয়। যথা—
সরগা সরগমা | রগমা রগমপা
গমপা গমপধা | মপধা মপধনা
পধনা পধনার্স। | ইতি কোকিল অলঙ্কার। ২৮৪
টিপ্পনী : ত্রিপুট তাল বর্তমানে অপ্রচলিত। উদ্ধৃত সাত স্বরের সমাবেশ
লক্ষ্য করে, ত্রিপুটের প্রসঙ্গে, বর্তমানে প্রচলিত সাত মাত্রার তেওরা
৯৪ সঙ্গীত পারিজাত
তালটির কথা মনে আসা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু, প্রাচীন গ্রন্থাদিতে দেখা
যায়, ত্রিপুট, অড্ড তালের মতোই একটি সমপদী ছন্দের তাল ছিল।
অড্ড তালের পরিচয় ২৩২ সূত্রের টিপ্পনীতে দ্রষ্টব্য। ২৮৪
স-রী গ-রী স-রী সশ্চ রি-স্বরস্ত্ব স-রী গ-মৌ।
যত্র স্যাদড্ডতালেন তমাবর্ত্তং বুধা জগুঃ ॥ ২৮৫
যার প্রথম ক্রম হচ্ছে সারেগারে সারেসারে সারেগামা। দ্বিতীয়াদি
ক্রমগুলিও যার পরের পর স্বর নিয়ে রচিত এবং যা অড্ড তালে গীত
হয়, পণ্ডিতগণ তাকেই আবর্ত্ত অলঙ্কার বলেছেন। যথা—
সরা গরা সরা সরা সরগমা । রগা মগা রগা রগা রগমপা
গমা পমা গমা গমা গমপধা । মপা ধপা মপা মপা মপধনা
পধা নধা পধা পধা পধনর্সা। ।
ইতি আবর্ত্ত অলঙ্কার। ২৮৫
স রি-গ-মৈঃ সদানন্দো লঘুকালেন শোভিতঃ ॥ ২৮৬
সারেগামা রেগামাপা প্রভৃতি স্বর নিয়ে যার ক্রমগুলি পরের পর রচিত
হয় এবং যা গীত হয় লঘুকাল নামক তালে, তার নাম সদানন্দ অলঙ্কার।
যথা—
সরগমা, রগমপা, গমপধা, মপধনা, পধনর্সা।
ইতি সদানন্দ অলঙ্কার। ২৮৬
টিপ্পনী : লঘুতাল সম্বন্ধে রত্নাকর বলছেন : লঘ্বাদিতালে লোক্যে সৌ
রাসঃ দ্বৌ লো দ্বিতীয়কঃ। অর্থাৎ লঘুতাল এবং রাসতাল অভিন্ন। দুই
ভাগে বিভক্ত চার মাত্রার আদি তালের সঙ্গে এই লঘু ও রাস নামক
দুটি তালেরই সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু, অভিন্ন তালের বিভিন্ন
নামকরণের তাৎপর্য্যটা বোধগম্য হয় না। সম্ভবতঃ প্রাচীনকালে, লঘুকাল
নামক তালের প্রত্যেক মাত্রাটাই ১, ২, ক'রে বিভক্ত হতো এবং এই বৈশিষ্ট-
ভেদের জন্যই এদের বিভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, আজকের
দিনে, আমাদের পক্ষে, ওই বৈশিষ্ট্যগুলির ভেদাভেদ নির্ণয় করা সম্ভবপর
হচ্ছেনা। ২৮৬
সঙ্গীত পারিজাত ৯৫
গীতোপযোগিনঃ সপ্ত তালযুক্তাঃ প্রদর্শিতাঃ।
অলঙ্কারাঃ পুনঃ পঞ্চ রাগোপযোগিনঃ স্মৃতাঃ ॥ ২৮৭
চক্রাকারো জবশ্চৈব শঙ্খঃ পদ্মনিভঃ স্মৃতঃ।
বারিদশ্চেতি তেষাং হি লক্ষণঞ্চাপি কথ্যতে ॥ ২৮৮
গানের উপযোগী সাতটি তালযুক্ত অলঙ্কারের পরিচয় দেওয়া হলো।
অতঃপর রাগের উপযোগী আরও পাঁচটি অলঙ্কার ও তাদের নাম-লক্ষণাদির
পরিচয় দিচ্ছি। যথা—
১। চক্রাকার ২। জব ৩। শঙ্খ ৪। পদ্মনিভ, ও ৫। বারিদ।
২৮৭-২৮৮
টিপ্পনীঃ গীত ও রাগ এখানে অভিন্ন সংজ্ঞার অন্তর্গত নয়। গীত অর্থে
এখানে অর্থযুক্ত গীতি পদ্ধতির কথা বোঝাচ্ছে। যেমন ধ্রুপদ গীতি।
ধ্রুপদ গানে এক রকমের অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়। কিন্তু, রাগালাপের জোড়
অংশে বা তারাণার সর্গম অংশে, অর্থাৎ যার বাণী ধ্রুপদ গানের মতো
অর্থযুক্ত নয়, —সেই সব রাগে আর এক রকমের অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়।
পারিজাতকার এখানে
৯৬ সঙ্গীত পারিজাত
যার প্রথম ক্রমে, আরোহণ-অবরোহণের সাতটি স্বরই উচ্চারণ করতে হয়
এবং পরের ক্রমগুলি থেকে, যথাক্রমে, পূর্ববর্তী আরোহণের শেষ স্বর ও
অবরোহণের প্রথম স্বর পরিত্যাগ ক'রে ক'রে চলতে হয়, তাকে জব
অলঙ্কার বলে। এই অলঙ্কারটির স্রষ্টা হচ্ছেন হনূমান বা আঞ্জনেয়। যথা—
সা রে গা মা পা ধা নি র্সা—নি ধা পা মা গা রে সা।
সা রে গা মা পা ধা নি—ধা পা মা গা রে সা।
সা রে গা মা পা ধা—পা মা গা রে সা।
সা রে গা মা পা—মা গা রে সা।
সা রে গা—রে সা।
সা রে—সা
ইতি জব অলঙ্কার। ২৯০
দীর্ঘান্ত্যস্য দ্বিরাবৃত্তিরুপান্ত্যো তদধঃ স্বরৌ।
যত্রেতি স্বরসম্বন্ধঃ শঙ্খো জ্ঞেয়ো মনীষিভিঃ॥ ২৯১
যার অবরোহণ ক্রমের শেষ স্বরটি বিলম্বিত লয়ে দু'বার আবৃত্তি ক'রেই
তার আগেকার দু'টি স্বর একবার ক'রে উচ্চারণ করতে হয় এবং এইভাবেই
পরের পর স্বর নিয়ে পরবর্তী ক্রমগুলিও রচিত হয়, পণ্ডিত ব্যক্তিগণ তাকে
শঙ্খ অলঙ্কার বলেন। যথা—
র্সার্সা নধা, ননা ধপা, ধধা পমা, পপা মগা, মমা গরা গগা রসা।
ইতি শঙ্খ অলঙ্কার ২৯১
স-রী ষড্জত্রয়ং রিশ্চ পদ্মাকারেহত্র গ-দ্বয়ম্॥ ২৯২
যার প্রথম ক্রম হচ্ছে সারে সাসাসা রেগাগা এবং পরের ক্রমগুলি
এইভাবেই পরের পর স্বর নিয়ে রচিত হয়, তাকে পদ্মাকার অলঙ্কার
বলে। যথা—
সরা সসসা রগগা—রগা রররা গমমা
গমা গগগা মপপা—মপা মমমা পধধা
পধা পপপা ধননা—ধনা ধধধা নর্সার্সা
ইতি পদ্মাকার অলঙ্কার।—২৯২
সঙ্গীত পারিজাত ৯৭
আদ্যং স্বরং সকৃৎ প্রোচ্য ত্রিরাবৃত্ত্যা চ সপ্তমম্।
বারিদঃ স্যাদলঙ্কারঃ ক্রমাদেকৈকহানতঃ ॥ ২৯৩
যার প্রথম ক্রমে, প্রথম স্বরটি একবার উচ্চারণ ক'রেই সপ্তম স্বরটি তিনবার
আবৃত্তি করতে হয় এবং পরের ক্রমগুলিও, যথাযথভাবে, সপ্তমের পর ষষ্ঠ,
পঞ্চম প্রভৃতি স্বর বিন্যাসের দ্বারা ঐ ভাবে রচিত হয়, তার নাম বারিদ
অলঙ্কার। যথা—
সা নননা, সা ধধধা, সা পপপা, সা মমমা, সা গগগা
সা রররা, সা সসসা।
ইতি বারিদ অলঙ্কার। ২৯৩
ইতি সর্ব্বেহপ্যলঙ্কারা অষ্টষষ্টিঃ প্রকীর্ত্তিতাঃ ॥ ২৯৪
অলঙ্কারাদ্বিনা রাগা বিস্তারং নাপ্নুবন্তি হি।
এতৈঃ কৃত্বা প্রগাঢ়াং স্বরতাল প্রবীণতা ॥ ২৯৫
এইভাবে সর্ব্বশুদ্ধ আটষট্টিটি অলঙ্কারের পরিচয় দেওয়া হলো। বলাবাহুল্য
এই অলঙ্কারগুলির প্রয়োগ-নৈপুণ্যের দ্বারাই গায়কগণের স্বর-তাল সম্বন্ধীয়
পারদর্শিতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ২৯৪-২৯৫
অলঙ্কারাশ্চ রাগেষু ত্রিবিধেষু ত্রিধা মতাঃ।
ত এতে মেলভেদেন হ্যনন্তা ঃ শাস্ত্র সংমতাঃ ॥ ২৯৬
ঔডব, ষাড়ব ও সম্পূর্ণ এই তিন রকম রাগের অলঙ্কার সমূহও তিন
প্রকার। এবং শাস্ত্রমতে, মেল-ভেদে ( মেল = ঠাট ) এই অলঙ্কারের সংখ্যা
অসংখ্য। ২৯৬
ইত্যলঙ্কার প্রকরণম্
শুদ্ধাঃ স্যুর্জাতয়ঃ সপ্ত তাঃ ষড়জাদি স্বরাভিধাঃ।
আদ্যা ষড়জা তু বিজ্ঞেয়া দ্বিতীয়া চার্ষভী স্মৃতা ॥ ২৯৭
গান্ধারী তু তৃতীয়া সা চতুর্থী মধ্যমা পরা
পঞ্চমী পঞ্চমী জ্ঞেয়া ষষ্ঠী তু ধৈবতী পুনঃ ॥ ২৯৮
সপ্তমী স্যাৎ তু নৈষাদী তাসাং লক্ষ্ম চ কথ্যতে ॥ ২৯৯।১
৭
৯৮ সঙ্গীত পারিজাত
শুদ্ধজাতি সাতটি। ষড়্জ, ঋষভ, গান্ধার, মধ্যম, পঞ্চম, ধৈবত ও নিষাদ,
এই সাতটি স্বরের নামানুসারেই সাতটি জাতি রচিত হয়েছে। যথা—
প্রথম জাতির নাম ষাড়জী, দ্বিতীয়র নাম আর্ষভী, তৃতীয়র নাম গান্ধারী চতুর্থর
নাম মধ্যমা, পঞ্চমের নাম পঞ্চমী, ষষ্ঠর নাম ধৈবতী ও সপ্তমের নাম নৈষাদী।
অতঃপর, পরের পর এই সাতটি জাতির লক্ষণ বলা যাচ্ছে।
২৯৭-২৯৯।১
টিপ্পনী : ইদানীং কালে, জাতি কথাটা আমরা যে অর্থে ব্যবহার ক'রে
থাকি, প্রাচীনকালে ঠিক সে অর্থে ব্যবহৃত হতো না। আজকের দিনে,
আমরা জাতি বলতে সাধারণত বুঝি ঔডব, ষাড়ব বা সম্পূর্ণ জাতির রাগ।
কিন্তু, প্রাচীনকালের জাতি ঠিক এতখানি সহজ সরল অর্থযুক্ত ছিলনা।
ইতিহাসের দিক দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখলে দেখা যায়, অতি প্রাচীনকালে,
যখন রাগ রাগিনীর উৎপত্তি হয়নি সেই সময়, গন্ধর্ব্বগণ যে গান গাইতেন,
তার সংজ্ঞা ও ভেদাভেদ নিরূপিত হতো জাতি-করণের দ্বারা। পরে, এই
জাতিভেদের ভিত্তিতেই উদ্ভব হয় গ্রাম-রাগের। ষড়জ গ্রামের রাগ, মধ্যম
গ্রামের রাগ ও গান্ধার গ্রামের রাগ। অতঃপর, গান্ধার গ্রামটি—যাকে 'মার্গ
বলে,—লুপ্ত হয়ে যাওয়ায়, বাকি থাকে মাত্র দু'টি গ্রামের রাগ। ষড়্জ ও
মধ্যম। তারপর, আবার গ্রাম-রাগের যথার্থ সংজ্ঞা অ-কার্য্যকরী হয়ে পড়ায়,
গ্রাম-রাগগুলি রূপান্তরিত হয় নিরঙ্কুশ রাগ-এ। পরিশেষে, এই রাগগুলিকে
প্রাচীন গ্রাম-ভেদে, জাতি-করণের অনুকরণে শ্রেণীবদ্ধ করতে গিয়ে, সঙ্গীতজ্ঞগণ
রাগ-রাগিণী পরিবারের সৃষ্টি করেন। কালক্রমে, রাগ-রাগিণী পরিবারের
মধ্যেও গোলযোগ পরিলক্ষিত হওয়ায়, অর্থাৎ কারুর মতে ত্রিশ রাগিণী পাঁচ
রাগ ; কারুর মতে ছয় রাগ ছত্রিশ রাগিনী, কারুর মতে আবার, অধিকন্তু
হিসাবে অসংখ্য পুত্র, পুত্রবধূ, সহচর, সহচরী প্রভৃতির উল্লেখ দেখে, শেষ
পর্য্যন্ত গৃহীত হয় ঠাট্ দশকের বিজ্ঞান। অবশ্য, দক্ষিণী সঙ্গীতজ্ঞরা আজও
আমাদের রাগ-রাগিণী পরিবারের মতো, তাঁদের জনক-রাগ ও জন্য-রাগের
শাস্ত্রানুশাসন মেনে চলেন। কিন্তু, উত্তর ভারতে এ পদ্ধতি নিঃশেষে বিলুপ্ত
হয়ে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে দশটি ঠাট্-এর। এবং বলাই বাহুল্য, স্রষ্টা স্বর্গগত
ভাতখণ্ডেজী, এই ঠাট্ দশকটির সৃষ্টি করেছিলেন কর্ণাটিক্ বাহাত্তর মেল-এর
অনুকরণেই।