सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
সঙ্গীত পারিজাত ৪৭
আদ্যামুর্চ্ছনা তানে সম্পূর্ণে কথিতে বুধৈঃ।
তানাঃ পঞ্চ সহস্রাণি চত্বারিংশদযুতানি চ ॥ ১৫০
তাবৎ সংখ্যাবিশিষ্টানাং তানানাং গণনা কৃতা।
খরসেষুরসা নেত্রমব্ধিবহ্নয়ঃ শশীতি চ ॥ ১৫১
প্রথমোক্ত মূর্চ্ছনা ও তানগুলিকে পণ্ডিত ব্যক্তিগণ সম্পূর্ণ মূর্চ্ছনা ও সম্পূর্ণ
তান বলেছেন। এদের সংখ্যা হ’চ্ছে ৫০৪০। এই ৫০৪০ সংখ্যার সঙ্গে এক
একটি মূর্চ্ছনার সংখ্যা গুণ করলে, ক্রমিক নিয়মে, স্বর সপ্তকের মূর্চ্ছনা থেকে
উদ্ভূত কূটতানের সংখ্যা হ’বে ১৩৯,৮৫,৯২০ প্রকার। যথা:
পূর্ব্বোল্লিখিত ষড়জ গ্রামের, স্বর-সপ্তকের, মূর্চ্ছনার সমষ্টি হ’চ্ছে ১৮,৬৪৮।
এই সংখ্যাকে সাত দিয়ে ভাগ করলে এক একটি মূর্চ্ছনার সংখ্যা দাঁড়াবে
২,৬৬৪। এই ২,৬৬৪ সংখ্যাকে আবার পূর্ব্ববর্ণিত সম্পূর্ণতান বা কূটতানের
৫০৪০ সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে, এক একটি স্বর মূর্চ্ছনার সংখ্যা দাঁড়াবে
১৩৪,২৬, ৫৪০। সুতরাং স্বর-সপ্তকের মূর্চ্ছনাদির সমষ্টি সংখ্যা হ’বে
১৩৪,২৭,৫৬০ × ৭=১৩৯,৮৫,৯২০ প্রকার। ১৫০-৫১
নি-ধ প-ম গ-রীণাস্তু লোপাদথ চ ষাড়বাঃ।
ক্রমাদেকৈকসংত্যাগাৎ ষট্ত্রিংশন্মূর্চ্ছনা মতাঃ ॥ ১৫২
নি, ধা, পা, মা, গা ও রে, এই ছয়টি স্বর একে একে বর্জ্জন করে ষাড়ব বা
খাড়ব মূর্চ্ছনা তৈরি করতে হয়। এবং এক একটি স্বর বর্জ্জনের এই ক্রমিক
নিয়ম অনুসারে, শুদ্ধ ষাড়বের মূর্চ্ছনা সংখ্যা হয় ৬×৬-৩৬ প্রকার। ১৫২
টিপ্পনী: ষাড়ব-ওঁড়ব মূর্চ্ছনার প্রসঙ্গে একথা সর্ব্বদাই স্মরণযোগ্য যে,
পারিজাতের মতে সপ্তকের সা স্বরটি অবিলোপী। অর্থাৎ রাগের প্রয়োজনে
যদি সরগমপধসর্ব্ব সধপমগবসা ব্যবহার থাকে তাহলে, একটি সা স্বরকেই
কেবলমাত্র অবিলোপী হিসেবে গ্রহণ করে, মূর্চ্ছনার স্বর সংখ্যা গুণতে হবে।
এবং তার ফল হবে সরগমপধ (র্স) কিংবা (র্স) ধপমগরস। অতঃপর
ষাড়ব মূচ্ছনার ভেদ নির্ণয়ের রহস্য :—
সপ্তকের মধ্য থেকে, একে একে, নি, ধা, পা, মা, গা ও রে এই
ছয়টি স্বর বর্জ্জন করে ছয়টি মূর্চ্ছনা সহজেই তৈরি হয়, কিন্তু সংখ্যাটা
ছত্রিশ হতে পারে কী করে? শুদ্ধ ষাড়ব মূর্চ্ছনার মধ্যে, আরোহণ
৪৮ সঙ্গীত পারিজাত
অবরোহণের বৈচিত্র্য দেখাবার নিয়ম নেই। অর্থাৎ সরগমপধ ( র্স ) ( র্স )
নধপমগস—এইরূপ করবার নিয়ম নেই, যদিও সংখ্যাটা ষাড়ব মূর্চ্ছনারই
অন্তর্গত। মূর্চ্ছনার আরোহণ-অবরোহণে স্বর-সঙ্গতি অভিন্নই রাখতে হবে।
সুতরাং ভেদাভেদটা হবে যথাক্রমে : ১। ধসরগমপ( ধ )—( ধ )পমগরসধ্
২। প্ধসরগম ( প )—( প )মগরসধ্প্ ৩। ম্প্ধসরগ( ম )—(ম) গরসধ্প্ম্
৪, গমপধর্সর( র্গ )—( র্গ )র্সরধপমগ ৫। সরগমপধ( র্স )—( র্স )ধপমগরস
৬। রগমপধর্স ( র্ র )—( র্ র ) র্সধপমগর। এইভাবে নি বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার
যেমন ছয়টি ভেদ পাওয়া গেল, অনুরূপ পদ্ধতিতে বাকি পাঁচটি স্বরেরও আরও
ত্রিশ রকম ভেদ পাওয়া যাবে। ফলে, ফল হবে ৬ x ৬=৩৬। ১৫২
এবং ষাড়বশুদ্ধাঃ স্যুর্ব্বিষ্কৃতা অপি চক্ষমহে।
ত্রয়োদশ রিভেদাঃ স্যুর্ভেদাস্তৎ সপ্তমা মতাঃ॥ ১৫৩
উপরোক্ত ছত্রিশ প্রকার মূর্চ্ছনা হচ্ছে, শুদ্ধ ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা। অতঃপর
বিকৃত ষাড়ব মূর্চ্ছনার পরিচয় দেওয়া যাচ্ছে। ষাড়ব স্কেল-এর ( Scale =
সারিক ? ) মধ্য থেকে নি স্বরটি বাদ দিলে, বাকি পাঁচটি স্বরের বিকৃত
ভেদ থাকে, যথাক্রমে, সা০+রে৩+গ৪+ম৩+পা০+ধা৩=১৩ প্রকার।
১৫৩
টিপ্পনী : পূর্ব্ব প্রকাশিত স্বর-শ্রুতি মণ্ডলটির প্রতি লক্ষ্য করলেই বিকৃত
স্বরের নাম-রহস্যটা সহজবোধ্য হ’বে। অধিকন্তু মনে রাখতে হ’বে, সা স্বরের
মতো পা স্বরেরও কোন বিকৃত ভেদ নেই, এবং সেই কারণে পা স্বরের সঙ্গে
সর্ব্বদাই শূন্য যোগ হ’বে। ১৫৩
ইতি ভেদা নি-হীনানামষ্ট সপ্ততিরীরিতাঃ।
এবং ভেদা ধ-হীনানামশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ॥ ১৫৪
পূর্ব্বেই বলেছি, নি-বর্জ্জিত ষাড়ব স্কেল-এর বাকি পাঁচটি বিকৃত স্বরের সংখ্যা
তের প্রকার। অতএব, পূর্ব্বোক্ত আইন অনুযায়ী, এই পাঁচটি বিকৃত স্বরের
মূর্চ্ছনার সংখ্যাও হ’বে যথাক্রমে ১৩ x ৬ = ৭৮। এইভাবে ধা বর্জ্জন করলে,
স্কেলের বাকি পাঁচটি স্বরের বিকৃত ভেদ হ’বে নি৪+স০+রে৩+গা ৪+মা৩+প০
=১৪ প্রকার। সুতরাং ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যাও হ’বে ১৪ x ৬ =৮৪ প্রকার।
১৫৪
সঙ্গীত পারিজাত ৪৯
তথা ভেদাঃ প-হীনানাং স্যুঃ শতং লোচনোত্তরম্।
ম-হীনানাস্তু ভেদাঃ স্যুরশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ ॥ ১৫৫
উপরোক্ত নিয়মানুসারে পা-বর্জিত ষাড়ব স্কেল-এর বাকি পাঁচটি স্বরের
বিকৃত ভেদ হয়, সা০+রে৩+গা৪+মা৩+ধা৩+নি৪ = ১৭। সুতরাং, এদের
ষাড়ব মূর্চ্ছনারও মোট সংখ্যা হ’বে ১৭ x ৬ = ১০২। অনুরূপ, মা-বর্জিত
বাকি চারটি (যেহেতু সা ও পা-র বিকৃতি নেই) স্বরের বিকৃতি হয়,
সা০+রে৩+গা৪+পা০+ধা৩+নি৪ = ১৪ প্রকার। অতএব, এদেরও ষাড়ব
মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা হ’বে, ১৪ x ৬ = ৮৪ প্রকার। ১৫৫
তথা গান্ধারহীনানামষ্টসপ্ততিরীরিতাঃ।
রি-হীনানামপি জ্ঞেয়া অশীতিশ্চতুরূত্তরাঃ ॥ ১৫৬
এইভাবে, গা-বর্জিত বাকি চারটি স্বরের বিকৃত ভেদ হয়, সা০+রে৩
+মা৩+পা০+ধা৩+নি৪ = ১৩ প্রকার। এবং, এদের মূর্চ্ছনার সংখ্যাও হয়
১৩ x ৬ = ৭৮ প্রকার। অনুরূপ, রে-বর্জিত বাকি চারটি স্বরের বিকৃত
ভেদ হয় ১৪ প্রকার। এবং, তাদের মূর্চ্ছনারও সংখ্যা হয়, ১৪ x ৬ = ৮৪
প্রকার। ১৫৬
টিপ্পনী : এতক্ষণ পর্যন্ত, অহোবল, একটি ক’রে বিকৃত স্বর নিয়ে
ষাড়ব মূর্চ্ছনা তৈরী করবার প্রণালী ও তাদের সংখ্যা দেখিয়েছেন।
অতঃপর, ১৫৭ সূত্র থেকে দেখাচ্ছেন, দুটি ক’রে বিকৃত স্বর নিয়ে ষাড়ব
মূর্চ্ছনা তৈরী করবার প্রণালী ও তাদের মোট সংখ্যা। কিন্তু, ব্যাখ্যায়
অগ্রসর হবার পূর্ব্বে, এই সূত্রটির মূল-পাঠ সম্বন্ধে কিছু আলোচনা
করবার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। আমাদের সংগ্রহে যে ক’খানি
পারিজাত আছে, তার ১৫৭ সূত্রের প্রথম পংক্তির পাঠ দেখা যায়,—
চতুর্ভিশ্চ রিভিস্তত্র গান্ধারৈঃ “পঞ্চভিঃ” স্বরৈঃ। কিন্তু, পঞ্চভি-স্বরে কথাটার
যথার্থ ব্যাখ্যা এ ক্ষেত্রে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয়। কারণ, গান্ধারের
পঞ্চম বিকৃতি অর্থে অতি-তীব্রতম গা স্বরটিকে বোঝায়, যেহেতু, পূর্ব্ব-
গা শুদ্ধ রে স্বরেরই নামান্তর মাত্র। অপরপক্ষে, অতি-তীব্রতম গা
স্বরটিও শুদ্ধ মা স্বরেরই নামান্তর। পরন্তু, নি-বর্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার মধ্যে
৪
৫০ সঙ্গীত পারিজাত
যদি শুদ্ধ সা স্বরটি বাদ পড়ে যায়, তাহলে কিছুতেই মূর্ছনা তৈরী হ'তে
পারে না এবং তার সংখ্যাও ১৬ হ'বে না। অধিকন্তু, বিকৃত গান্ধারের
ষাড়ব মূর্ছনার যথাযথ ভেদ নির্ণয় করতে করতে অহোবল অকস্মাৎ
তীব্রতম গা স্বরটির কথা বিস্মৃত হবেন কেন, সে সমস্যাও অনুধাবনযোগ্য।
ফলে, এই সমস্যা সমাধানের আশায়, আমার পূর্ব্ববর্তী পারিজাত-ব্যাখ্যাকার-
দের অন্যতম ভালচন্দ্র সূকথনকারের ব্যাখ্যাই সঙ্গতিপূর্ণ বলে গ্রহণ করছি।
ইনি পঞ্চভিঃ স্বরৈ-র পরিবর্ত্তে গান্ধারৈশ্চ চতুঃস্বরৈঃ পাঠ কল্পনা ক'রে (গা
স্বরের চতুর্থ বিকৃতির তীব্রতম গা-কে গ্রহণ করেই) মূর্ছনা তথা সূত্রের
ব্যাখ্যা করেছেন এবং আমার আচার্য্যদেব স্বর্গীয় ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়
চৌধূরী মহাশয়ও সূকথনকারের ব্যাখ্যাকে যথার্থ ও সঙ্গতিপূর্ণ বলে গ্রহণ
করেছিলেন। বলাবাহুল্য, পঞ্চভিঃ-র স্থলে ততিভিঃ শব্দটিও অনুমান করা
যেতে পারে এবং গান্ধারৈশ্চ চতুঃস্বরৈঃ বা ততিভিঃ—যে কোন শব্দযোগে এই
সূত্রের ব্যাখ্যা করলে, তবেই অহোবল বিবৃত মূর্ছনার ১৬ সংখ্যাটি মেলে,
নচেৎ মেলে না।
চতুর্ভিশ্চ রিভিস্তত্র গান্ধারৈঃ পঞ্চভিঃ (?) স্বরৈঃ।
ষন্নবতির্নি-হীনাঃ স্যুর্ভেদা উক্তা মনীষিভিঃ ॥ ১৫৭
গুণী-জ্ঞানীরা বলেন, চারটি বিকৃত রে ও চারটি বিকৃত গা, বাকি চারটি
শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে পরের পর মিলে মূর্ছনা তৈরী করলে, তাদের নি-বর্জ্জিত
ষাড়ব মূর্ছনার সংখ্যা হয়, ৪ × ৪ = ১৬ × ৬ = ৯৬ প্রকার। ১৫৭
রিভিস্ত্রিভিস্তথা মৈশ্চ ভেদাঃ স্যুরব্ধিরাশুগাঃ।
এবং রিভিস্তথা ধৈশ্চ ভেদাস্তাবন্ত এব হি ॥ ১৫৮
• রে ও মা স্বরের প্রত্যেকের তিন রকম বিকৃতি, বাকি চারটি শুদ্ধ স্বরের
সঙ্গে মিলে মূর্ছনায় পরিণত হ'লে, তাদের মোট সংখ্যা হয়, ৩ × ৩ = ৯ × ৬ =
৫৪ প্রকার। অনুরূপ, তিন রকমের বিকৃত রে-ধা স্বরও বাকি চারটি শুদ্ধ
স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্ছনা তৈরী করলে, তাদেরও মোট সংখ্যা হয় ৩ × ৩
= ৯ × ৬ = ৫৪ প্রকার। ১৫৮
সঙ্গীত পারিজাত ৫১
পঞ্চভির্গেস্ত্রিভির্মৈশ্চ ভেদা নবতিরীরিতাঃ।
গান্ধারধৈবতানান্তু দ্বিসপ্ততিভিদা মতাঃ॥ ১৫৯
পাঁচ প্রকার বিকৃত গা ও তিন প্রকার বিকৃত মা, বাকি চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে
মিলে মূর্চ্ছনায় পরিণত হ'লে, তাদের সংখ্যা হয়, ৫ × ৩ = ১৫ × ৬ = ৯০
প্রকার। অনুরূপ, চার রকম বিকৃত গা ও তিন রকম বিকৃত ধা বাকি
চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা তৈরী করলে, তাদেরও সংখ্যা হবে,
৪ × ৩ = ১২ × ৬ = ৭২ প্রকার। ১৫৯
টিপ্পনী : পাঁচ প্রকার বিকৃত গা স্বরের শেষ বিকৃতি হচ্ছে অতি-তীব্রতম
গা এবং এই স্বরটি শুদ্ধ মা স্বরেরই নামান্তর। সুতরাং, অতি-তীব্রতম গা
স্বরের মূর্চ্ছনা তৈরী করবার সময়, তার মা স্বর শুদ্ধ হবে না—বিকৃত
হবে। অবশ্য, বাকি স্বরগুলি যথাযথভাবে শুদ্ধই থাকবে। ১৫৯
মধ্যমানাং তথা ধানাং ভেদাঃ স্যুরন্ধ্রবাণুগাঃ।
ইতি ভেদা নি-হীনানাং সবিংশতি চতুঃশতী॥ ১৬০
তিন রকমের বিকৃত মা ও ধা, বাকি চারটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে মূর্চ্ছনা
তৈরী করলে, তাদের সংখ্যা হবে, ৩ × ৩ = ৯ × ৬ = ৫৪ প্রকার। অতএব,
নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, মোট, ৯৬ + ৫৪ + ৫৪ + ৯০ + ৭২
- ৫৪ = ৪২০ প্রকার। ১৬০
এবং ভেদা ধ-হীনানামশীত্যা স্যাচ্চতুঃশতী।
ভেদা জ্ঞেয়াঃ প-হীনানাং রসোবাণোন্মুনিঃ ক্রমাৎ। ১৬১
ম-হীনানামপি জ্ঞেয়াঃ ষড়শীত্যা চতুঃশতী।
তথা গান্ধারহীনানাং লোচনেন চতুঃশতী। ১৬২
এইভাবে ভেদাভেদ নির্ণয় করলে, ধা-বর্জ্জিত মূর্চ্ছনার সংখ্যা হয়, ৪৮০
প্রকার। পা-বর্জ্জিত মূর্চ্ছনার ভেদ হয়, ৭৫৬ প্রকার। মা-বর্জ্জিত
মূর্চ্ছনার ভেদ হয়, ৪৮৬ প্রকার ও গা-বর্জ্জিত মূর্চ্ছনার সংখ্যা হয়, ৪০২
প্রকার। ১৬১-৬২
৫২ সঙ্গীত পারিজাত
ঋষভেণাপি হীনানামশীত্যা স্যাচ্চতুঃশতী।
রিভির্গৈর্মৈঃ স্বভেদৈশ্চ জ্ঞেয়া ভেদা বিচক্ষণৈঃ॥ ১৬৩
উপরোক্ত আইন অনুযায়ী, বিচক্ষণ ব্যক্তিরা, রে-বর্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনারও
ভেদাভেদ নির্ণয় করেছেন ৪৮০ প্রকার। ১৬৩
টিপ্পনী : অতঃপর পারিজাতকার তিনটি ক'রে বিকৃত স্বর নিয়ে মূর্চ্ছনা
তৈরী করবার প্রণালী ও তাদের সংখ্যা নির্দেশ করেছেন।
মূর্চ্ছানাসু নি-হীনাসু ষষ্ট্যধিকং শতত্রয়ম্।
রি-গ-ধৈশ্চ ভিদা জ্ঞেয়া সাষ্টাশীতি শতদ্বয়ম্॥ ১৬৪
রি-ম-ধৈশ্চাপি ভেদাঃ স্যুরিষ্বষ্ট্যা চ যুতং শতম্।
গ-ম-ধৈশ্চ ভিদা জ্ঞেয়া সপ্তত্যা চ শতদ্বয়ম্। ১৬৫
ইতি ভেদা নি-হীনানামশীত্যা চ সতত্রকম্।
তথা ভেদা ধ-হীনানাং খলোচনাগ্নয়ঃ শশী॥ ১৬৬
এবং ভেদাঃ প-হীনানাং সহস্রত্রয়সংখ্যাক্বাঃ।
ম-হীনানামপি জ্ঞেয়া বেদৌ বহ্নিঃ শশী ক্রমাৎ॥ ১৬৭
তথা ভেদা গ-হীনানামব্ধিঃ শরোহথ রন্ধ্র কম্।
ইতি ভেদা রি-হীনানাং নেত্রাকাশাগ্নয়ঃ শশী॥ ১৬৮
রি-গ-মানাং তথা ধানাং নি-হীনাসু বিভেদতঃ।
ইতি যোগে ভিদা জ্ঞেয়া শূন্যং বসুর্নভঃ শশী॥ ১৬৯
রি-গ মানাং তথা নীনাং ধ-হীনাসু বিভেদতঃ।
ইতি যোগে ভিদা জ্ঞেয়া শূন্যং বেদৌচ চন্দ্রমা॥ ১৭০
রি-গাণাঞ্চ ম-ধানাঞ্চ মূর্চ্ছনাসু বিভেদতঃ।
যোগে ভেদাঃ প-হীনাসু স্যুরশীত্যা সহস্রকম্॥ ১৭১
রি-গাণাঞ্চ ম-নীনাঞ্চ প-হীনাসু বিভেদতঃ।
মূর্চ্ছনাসু ভিদা যোগে খঞ্চ বেদৌ শশী পুনঃ॥ ১৭২
সঙ্গীত পারিজাত ৫৩
রি-গ-ধানাং তথা নীনাং প-হীনাসু বিভেদতঃ।
যোগে তণ ভিদা জ্ঞেয়া রসোবহ্ণিঃ শবঃ শশী ॥ ১৭৩
রি-ম ধানাং তথা নীনাং প-হীনাসু বিভেদতঃ।
যোগে ভেদাস্তথা জ্ঞেয়াঃ সাগরশ্চ রসো বসুঃ ॥ ১৭৪
গ-ম-ধানাং তথা নীনাং প-হীনাসু বিভেদতঃ।
যোগে তণ ভিদা জ্ঞেয়াঃ শূন্যং বেদৌ শশী পুনঃ ॥ ১৭৫
ইতি ভেদাঃ প-হীনানাং স্বারসো পাবকো রসঃ ॥ ১৭৬
রি গ-নাঞ্চ ধ-নীনাঞ্চ ম-হীনাসু বিভেদতঃ।
ইতি যোগে ভিদা জ্ঞেয়াঃ রসো বহ্ণিঃ শরঃ শশী ॥ ১৭৭
রি-ম-ধানাং তথা নীনাং গ-হীনাসু বিভেদতঃ।
ইতি যোগে ভিদা জ্ঞেয়াঃ সাগরশ্চ রসো বসুঃ ॥ ১৭৮
গ-ম-ধানাং তথা নীনাং রি-হীনাসু বিভেদতঃ।
ইতি যোগে ভিদা জ্ঞেয়াঃ খঞ্চ বেদৌ শশী পুনঃ ॥ ১৭৯
রি-গ-ম-ধ-নিষাদানাং যোগে ভেদা উদীরিতাঃ।
খরসমুনিবাণৈশ্চ প-হীনাসু মুনীশ্বরৈঃ ॥ ১৮০
মূর্চ্ছনানাং প্রভেধানাং ষাড়বানাঞ্চ সর্ব্বশঃ।
খবাণশূন্য চন্দ্রৈশ্চ পাবকেন মিতির্ভবেৎ ॥ ১৮১
চারটি বিকৃত রে, পাঁচটি বিকৃত গা ও তিনটি বিকৃত মা যদি বাকি
তিনটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলিত হ'য়ে নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা তৈরী
করে, তাহলে তার মোট সংখ্যা হয়, রে ৪ x গ৫ x ম৩ = ৬০ x ৬ = ৩৬০ প্রকার।
অনুরূপ, চারটি বিকৃত রে, চারটি বিকৃত গা ও তিনটি বিকৃত ধা যদি
বাকি তিনটি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনায় পরিণত হয়,
তাহলে, তার ভেদাভেদ হয়, রে৪ x গ৪ x ধ৩ = ৪৮ x ৬ = ২৮৮ প্রকার। ১৬৪
৫৪ সঙ্গীত পারিজাত
এই নিয়মানুসারে,—নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা হয়, যথাক্রমে :—
রে৩xম৩ x ধ৩=২৭ x ৬=১৬২ প্রকার }
}—১৬৫
গ৫ x ম৩xধ৩=৪৫ x ৬=২৭০ প্রকার }
অতএব, তিনটি বিকৃত স্বরযুক্ত, নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা
হয়, ৩৬০+২৮৮+১৬২+২৭০ = ১০৮০ প্রকার ঃ অনুরূপ, ধা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনা, তিনটি বিকৃত স্বরযোগে রচিত হলে, তাদের মোট সংখ্যা হয়,
১৩২০ প্রকার।—১৬৬
মা ও পা বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা তিনটি বিকৃত স্বরযোগে রচিত হলে,
তাদের মোট সংখ্যা হয়, যথাক্রমে, ১৫৪৪ ও ৩০০০ প্রকার।—১৬৭
অনুরূপ, গা ও রে বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা হয়, যথাক্রমে,
৯৫৪ ও ১৩০২ প্রকার।—১৬৮
চারটি বিকৃত রে, পাঁচটি বিকৃত গা, তিনটি বিকৃত মা ও তিনটি বিকৃত
ধা,—এই চারটি বিকৃত স্বর যদি বাকি দু’টি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে মিলে
মূর্চ্ছনা তৈরী করে, তাহলে, তাদের নি-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা
হয়, মোট, ৪ x ৫ x ৩ x ৩ = ১৮০ x ৬ = ১০৮০ প্রকার।—১৬৯
রে৪ x গ৫ x মা৩+নি৪ = ২৪০+৬–১৪৪০ প্রকার হয়, ধা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা।—১৭০
রে৪ x গা৫xমা৩ x ধা৩ = ১৮০ x ৬ = ১০৮০ প্রকার হয়, পা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনার মোট ভেদাভেদ।—১৭১
রে৪ x গ৫xমা৩ x নি৩= ২৪০x৬=১৪৪০ প্রকার হয়, পা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনার আর এক রকমের ভেদাভেদ।—১৭২
পা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার অন্যতম ভেদাভেদ হয়, রে৪xগ৪+ধা৪ x
নি৪ = ২৫৬x৬ = ১৫৩৬ প্রকার।—১৭৩
ধা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার আর এক রকম ভেদাভেদ হয়, রে৪xমা৩
वीणा-तार पर शुद्ध-विकृत २९ स्वरों का गणितीय स्थान-निर्णय (अध्याय २)
সঙ্গীত পারিজাত ৫৫
পা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছানার আরও এক রকম ভেদাভেদ হয়, গা৫xমা৩
xধা৪ x নি৪ = ২৪০ x ৬ = ১৪৪০ প্রকার।—১৭৫
এইভাবে, শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে বাকি চারটি স্বরের বিকৃতরূপ যথাক্রমে
যুক্ত করে, পা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা দাঁড়ায়, ১০৮০+১৪৪০+
১৫৩৬+৮৬৪+১৪৪০ = ৬৩৬০।—১৭৬
এইভাবেই, চারটি বিকৃত রে, চারটি বিকৃত গা, চারটি বিকৃত ধা ও চারটি
বিকৃত নি যদি বাকি দু’টি শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূর্চ্ছনা তৈরী করে, তাহলে,
তাদের মা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনার ভেদাভেদ হবে, রে৪ x গা৪ x ধা৪ x নি৪ =
২৫৬ x ৬ = ১৫৩৬ প্রকার।—১৭৭
গা-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা যদি তিনটি বিকৃতি রে, তিনটি বিকৃত মা, চারটি
বিকৃত ধা ও চারটি বিকৃত নি—দু’টি অবশিষ্ট শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে
মূর্চ্ছনায় পরিণত হয়, তাহলে, তাদের সংখ্যা হয়, রে৩xমা৩xধা৪ x নি৪ =
১৪৪ x ৬ = ৮৬৪ প্রকার।—১৭৮
রে-বর্জ্জিত ষাড়ব মূর্চ্ছনা যদি পাঁচটি বিকৃত গা, তিনটি বিকৃত মা, চারটি
বিকৃত ধা ও চারটি বিকৃত নি—দু’টি অবশিষ্ট শুদ্ধ স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূর্চ্ছনায়
পরিণত হয়, তাহলে, তাদের ভেদাভেদ হয়, গা৫ x মা৩ x ধা৪ x নি৪ = ২৪০ x ৬ =
১৪৪০ প্রকার।—১৭৯।
অতঃপব, সঙ্গীতবিদ মুনিঋষিরা, পাঁচটি বিকৃত স্বরযোগে, পা-বর্জ্জিত ষাড়ব
মূর্চ্ছনার পরিচয় দিয়েছেন। যথা : রে৪ x গা৫ x মা৩ x ধা৪ x নি৪ = ৯৬০ x ৬
= ৫৭৬০ প্রকার।---১৮০
অতএব দেখা যাচ্ছে, বিকৃত স্বরসমূহের ষাড়ব মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা,
৩৬+৭৮+৮৪+১০২+৮৪+৭৮+৮৪+৯৬+২৪ + ৫৪ + ৯০ + ৭২+৫৪+২৪০+
৭৬৮ + ৪৩২ + ৪০২+৪৮০+৩৬০+২৮৮+১৬২+২৭০+১২০+৩০০+১৩৪৪+
৯৬০+১১৫২+১০৮০+১৪৪০+১০৮০+১৪৪০+১৫৩৬+৮৬৪+১৪৪০ + ৫৭৬০ +
৫৬ সঙ্গীত পারিজাত
যৎস্বরেন বিহীনায়াং মূর্চ্ছনায়াং পৃথক পৃথক।
তৎ স্বরেণৈব হীনাঃ স্যুঃ প্রস্তারাঃ ষাড়বাঃ ক্রমাৎ ॥ ১৮২
সপ্তশত্যা সবিংশত্যা গুণিতানাং মিতির্ভবেৎ।
শূন্যত্রয়ং রসো নেত্রং সপ্ত বহ্নিবিতি ক্রমাৎ ॥ ১৮৩
যখন যে যে মূর্চ্ছনা যে যে স্বর বর্জন করে ষাড়ব মূর্চ্ছনার রূপ পরিগ্রহ করবে,
সেই সব মূর্চ্ছনার প্রস্তার তৈরী করবার সময়ও ঠিক সেই সেই স্বর বর্জন
করে চলতে হবে। এবং, ওইরূপ এক একটি ষাড়ব প্রস্তারকে ৭২০ দিয়ে গুণ
করলে, ফল হবে, ৭২০ X ৫১৭৫ = ৩,৭২৬,০০০ প্রকার। —১৮২-৮৩
টিপ্পনী : প্রস্তার কথাটার অর্থ, প্রকার বা রকম-ফের। অর্থাৎ, মূর্চ্ছনার
অন্তর্গত স্বরগুলিকে কত রকম ভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রূপ দেওয়া যায় তাই
দেখানো। অহোবল, এই প্রস্তারসমূহের সংখ্যা নির্দেশ করেছেন ৩,৭২৬,০০০।
অর্থাৎ, ১৮১ সূত্রে ষাড়ব মূর্চ্ছনার যে সমষ্টি দেখানো হয়েছে সেই
৩১,০৫০ সংখ্যাটিকে ছয় দ্বারা ভাগ করলে, এক একটি স্বরের মূর্চ্ছনার
সংখ্যা হবে, ৩১,০৫০ ÷ ৬ = ৫১৭৫। তারপর, এই ৫১৭৫ সংখ্যাটিকে কূট-
তানের ৭২০ সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে, ফল হবে, ৩,৭২৬,০০০। বলা-
বাহুল্য, গ্রন্থকার ৭২০ সংখ্যাটির দ্বারা কূটতানের উল্লেখ করেছেন, কিন্তু,
কথাটার মর্মার্থ সূত্রটির মধ্যে স্থান পায় নি। তান দু’ রকমের হয়। শুদ্ধ ও
কূট। সঙ্গীত রত্নাকর বলেন : তানাঃ স্যু মূর্চ্ছনাঃ শুদ্ধাঃ ষাড়বৌড়ুদ্বিতী-
কৃতাঃ।……অসম্পূর্ণাশ্চ সম্পূর্ণা ব্যুৎক্রমোচ্চারিতস্বরাঃ। অর্থাৎ, শুদ্ধ মূর্চ্ছনা
যদি ষাড়ব ও ঔড়বে পরিণত হয়, তাহলে, তাকে শুদ্ধতান বলা যেতে
পারবে। এবং, যদি মনে হয়, কোন অসম্পূর্ণ বা সম্পূর্ণ মূর্চ্ছনার অন্তর্গত
স্বরগুলি অযথা সাজানো হয়েছে, তাহলে, বুঝতে হবে, সেইগুলি কূটতান।
যেমন, সা-রে-গা, এই তিনটি স্বরের অসম্পূর্ণ মূর্চ্ছনা ছ’ রকম কূটতানে পরিণত
হ’তে পারে। যথা—সারেগা, রেগাসা, গাসারে, রেসাগা, সাগারে ও গারেসা।
ঔড়বা অথ কথ্যন্তে শুদ্ধেষু বিকৃতেষ্বপি ॥ ১৮৪
দ্বয়োদ্বয়োঃ পরিত্যাগাৎ ক্রমাদ্ভেদা মনীষিণঃ।
ঔড়বানাং বিশুদ্ধানামবদন্ পঞ্চসপ্ততিম্ ॥ ১৮৫
অতঃপর, শুদ্ধ ও বিকৃত স্বরযুক্ত ঔড়ব মূর্চ্ছনার কথা বলা যাচ্ছে। জ্ঞানী-গুণীরা
সঙ্গীত পারিজাত ৪৭
বলেন, ক্রমিক নিয়মে দু'টি করে স্বর বর্জন করে, বিশুদ্ধ স্বরের ঔড়ব মূর্চ্ছনা
তৈরী করতে হয়। শুদ্ধ স্বরযুক্ত এইরূপ ঔড়ব মূর্চ্ছনার সংখ্যা ৭৫।—১৮৪-৮৫
টিপ্পনী: পূর্ব্বেই বলেছি, সপ্তকের মধ্যে সা স্বর,টি অবিলোপী। সুতরাং,
বাকি ছয়টি স্বরের যে কোন পাঁচটিকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করে ঔড়ব
স্কেল তৈরী করা যেতে পারে, এবং ঔড়ব মূর্চ্ছনা তৈরীর ব্যাপারে
রেগা, মাপা ও ধানি, এই দু'টি স্বরকে ক্রমান্বয়ে তিনবার করে
বর্জ্জন করা যেতে পারে। ফলে, এই রকম মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা দাঁড়াবে,
৫ x ৩ = ১৫x৩ = ৭৫ প্রকার। ১৮৪-৮৫
বিকৃত স্বরযুক্ত ঔড়ব মূর্চ্ছনাও এই নিয়মানুসারে তৈরী করতে হবে। যেমন :
রি-ভেদাংস্তন্ সংগৃহ্য দ্বাভ্যাং দ্বাভ্যাং বিবর্জনাৎ।
ভেদানপি বিজানীয়াৎ পঞ্চাশদুত্তরং শতম্॥ ১৮৬
তিনটি বিকৃত রে স্বরকে, বাকি তিনটি স্বরের (যেহেতু, ঔড়ব মূর্চ্ছনাটি প-নি
বর্জ্জিত) বিকৃত রূপ-সংখ্যার সমষ্টি-দশক দিয়ে গুণ করলে ফল হ'বে—রে৩ x
(গ৪+ম৩+ধ৩=) ১০ = ৩০। তারপর, এই ত্রিশকে ঔড়ব = পাঁচ দ্বারা গুণ
করলে, বিকৃত ঋষভের মূর্চ্ছনার মোট সংখ্যা দাঁড়াবে, ৩০ x ৫ = ১৫০
প্রকার।—১৮৬
টিপ্পনী: কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে গ্রন্থোক্ত মূর্চ্ছনাগুলিকে যথাযথভাবে স্বরলিপি
করে সাজিয়ে দেওয়া সম্ভবপর হচ্ছে না। পারিজাত-পাঠক যদি ২৩ পৃষ্ঠায়
প্রকাশিত স্বর-শ্রুতি-মণ্ডল'র প্রতি লক্ষ্য রেখে মূর্চ্ছনা মেলাবার চেষ্টা করেন,
তাহলে, ব্যাপারটা সুবোধ্য হবে। আপাততঃ, উদাহরণ হিসাবে, আমরা
কেবলমাত্র বিকৃত ঋষভের ঔড়ব মূর্চ্ছনাটি সাজিয়ে দিচ্ছি:
১। সা, পূর্ব্ব-রে, কোমল-গা, মা, ধা, (সা)
২। সা, পূর্ব্ব-রে, তীব্র-গা, মা, ধা, (সা)
৩। সা, পূর্ব্ব-রে, তীব্রতর-গা, মা, ধা, (সা)
৪। সা, পূর্ব্ব-রে, তীব্রতম-গা, মা, ধা, (সা)
৫। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, তীব্র-মা, ধা, (সা)
• ৬। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, তীব্রতর-মা, ধা, (সা)
৫৮ সঙ্গীত পারিজাত
৭। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, তীব্রতম-মা, ধা, (র্সা)
৮। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, মা, পূর্ব্ব-ধা, (র্সা)
৯। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, মা, কোমল-ধা, (র্সা)
১০। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, মা, ধা, (র্সা)
১১। সা, পূর্ব্ব-রে, গা, মা, তীব্র-ধা, (র্সা)
১২। সা, কোমল-রে, কোমল-গা, মা, ধা, (র্সা)
১৩। সা, কোমল-রে, তীব্র-গা, মা, ধা, (র্সা)
১৪। সা, কোমল-রে, তীব্রতর-গা, মা, ধা, (র্সা)
১৫। সা, কোমল-রে, তীব্রতম-গা, মা, ধা, (র্সা)
১৬। সা, কোমল-রে, গা, তীব্র-মা, ধা, (র্সা)
১৭। সা, কোমল-রে, গা, তীব্রতর-মা, ধা, (র্সা)
১৮। সা, কোমল-রে, গা, তীব্রতম-মা, ধা, (র্সা)
১৯। সা, কোমল-রে, গা, মা, পূর্ব্ব-ধা, (র্সা)
২০। সা, কোমল-রে, গা, মা, কোমল-ধা, (র্সা)
২১। সা, কোমল-রে, গা, মা, তীব্র-ধা, (র্সা)
২২। সা, তীব্র-রে, তীব্র-গা, মা, ধা, (র্সা)
২৩। সা, তীব্র-রে, তীব্রতর-গা, মা, ধা, (র্সা)
২৪। সা, তীব্র-রে, তীব্রতম-গা, মা, ধা, (র্সা)
২৫। সা, তীব্র-রে, গা, তীব্র-মা, ধা, (র্সা)
২৬। সা, তীব্র-রে, গা, তীব্রতর-মা, ধা, (র্সা)
২৭। সা, তীব্র-রে, গা, তীব্রতম-মা, ধা, (র্সা)
২৮। সা, তীব্র-রে, গা, মা, পূর্ব্ব-ধা, (র্সা)
২৯। সা, তীব্র-রে, গা, মা, কোমল-ধা, (র্সা)
৩০। সা, তীব্র-রে, গা, মা, তীব্র-ধা, (র্সা)
এইভাবে, রে৩ x ( গ৪+ম৩+ধ৩= )১০ = ৩০ রকম বিকৃত রে স্বরের
মূর্চ্ছনা হ'তে পারে। অতঃপর, এই ত্রিশ রকম মূর্চ্ছনা আবার ১৫০
প্রকারে পরিণত হ'তে পারে, যদি, প্রতিটি মূর্চ্ছনাকে ধ্ সরগম (ধা)
সরগমধ (র্সা) রগমধর্স (র্ র) গমধর্সর (র্ গ) মধর্সরর্গ (র্ ম)—এই পাঁচটি
কূটতানের দ্বারা যুক্ত করা যায়। অর্থাৎ, ৩০ x ৫ = ১৫০ হয়। বলাবাহুল্য,
প্রকারের এই রূপ হলে ক্রমশঃ পরবর্তী সঙ্গীত শাস্ত্রে কথিত ঔড়ব ষাড়বাদি প্রকারে প্রবেশিকা
সঙ্গীত পারিজাত ৫৯
অতঃপর উপরোক্ত বিকৃত ঋষভের ঔড়ব মূর্ছনার ভেদ-প্রণালীটির প্রতি লক্ষ্য
রেখে অগ্রসর হলে, দেখা যাবে :—
গ-ভেদা দ্বিশতী জ্ঞেয়া ম-ভেদা রি-সমা মতাঃ
ধ-ভেদাস্তৎসমা জ্ঞেয়া নি-ভেদা গ-সমা মতাঃ ॥ ১৮৭
বিকৃত গা-য়ের ঔড়ব মূর্ছনার সংখ্যা ২০০ প্রকার। বিকৃত মা-য়ের ঔড়ব
মূর্ছনার সংখ্যা বিকৃত রে-র অনুরূপ। অর্থাৎ, ১৫০। বিকৃত ধা-য়ের ঔড়ব
মূর্ছনার সংখ্যাও অনুরূপ। অর্থাৎ, ১৫০। বিকৃত নি-য়ের মূর্ছনার সংখ্যা
গা-য়ের সমতুল্য। অর্থাৎ, ২০০ প্রকার।—১৮৭
অর্থাৎ,
মা৩+ধা৩+নি৪ = ১০ × গা-য়ের ৪বিকৃতি = ৪০ × ঔড়বের ৫ = ২০০। নি-য়ের
হিসাবও অনুরূপ, যেহেতু, তার বিকৃতিও চার রকম। এটি রে-পা বর্জ্জিত
ঔড়ব মূর্ছনা।
রে৩+ধা৩+নি৪ = ১০ × মা-য়ের ৩ বিকৃতি = ৩০ × ঔড়বের ৫ = ১৫০। ধা-য়ের
হিসাবও অবিকল মা-য়ের মতো। এটি গা-পা-বর্জ্জিত ঔড়ব মূর্ছনা।
রীণাং গানাং প্রভেদাঃ স্যুরশীত্যা চ চতুঃশতী।
রীণাং মানাঞ্চ ভেদাঃ স্যুঃ সপ্তত্যা চ শতদ্বয়ম্ ॥ ১৮৮
চারটি ক'রে বিকৃত রে ও গা স্বর মিলে মূর্ছনায় পরিণত হলে, তাদের সংখ্যা
হয় ৪৮০ প্রকার। অনুরূপ, তিনটি করে রে ও মা মিলে মূর্ছনা তৈরী করলে,
তাদের সংখ্যা হয় ২৭০ প্রকার।—১৮৮
টিপ্পনী : এখানে পাশাপাশি দুটি বিকৃত স্বর নিয়ে ঔড়ব মূর্ছনা রচনা
করবার কথা বলা হচ্ছে। ভেদাভেদ দেখানো হচ্ছে, যথাক্রমে, চারটি করে
বিকৃত রে-গা ও তিনটি ক'রে বিকৃত রে-মা স্বর নিয়ে মূর্ছনা তৈরী করবার
প্রণালী ও তাদের সংখ্যার। সংখ্যাটা হচ্ছে, যথাক্রমে, ৪৮০ ও ২৭০।
কী ক'রে হয়? হয়,—
কোমল রে × পূর্ব্ব গা + কোমল গা + তীব্র গা + তীব্রতর গা = ৪
তীব্র-রে × তীব্র গা + তীব্রতর গা + তীব্রতম গা + অতি-তীব্রতম গা = ৪
সুতরাং, সংখ্যাটা হলো রে৩ × গা৪ = ১২। অতঃপর, এই ১২ সংখ্যাটির সঙ্গে
গুণ করতে হ’বে, ঔডব মূর্চ্ছনার বাকি দু’টি বিকৃত স্বর-সমষ্টির। মূর্চ্ছনাটি
মা-পা বর্জ্জিত। অতএব, বাকি থাকে চার রকমের আটটি ধা-নি স্বর।
ফলে, সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১২ × ( ৪ + ৪ = ) ৮ = ৯৬ × ঔডবের ৫ প্রকার = ৪৮০।
অনুরূপ, তিন রকমের রে-মা বিকৃতির ঔডব মূর্চ্ছনার সংখ্যা হবে, রে৩ ×
মা৩ = ৯ × ( ধাত্+নিত্ )৬ = ৫৪ × ৫ = ২৭০। প্রসঙ্গক্রমে এখানে উল্লেখ-
যোগ্য যে, ধা নি স্বরের বিকৃতি চারটি ক’রে হলেও, এ ক্ষেত্রে, তীব্রতর
ধা-নি-র বিকৃতি পরিত্যাগ করতে হয়েছে ( রে৩ ⟋ মা৩ ) মূর্চ্ছনার মধ্যে
খাপ খায়না বলে। বলাবাহুল্য, এটি গা-পা বর্জ্জিত ঔডব মূর্চ্ছনা। এবং,
ঠিক এই ভাবেই —
রীণাং ধানাং তথা ভেদা স্তাবন্তোহত্রাপি সম্মতাঃ।
রীণাং নীনাং প্রভেদাঃ স্যুঃ ষষ্ট্যা যুক্তং শতত্রয়ম্ ॥ ১৮৯
গ-মানাঞ্চ ভিদা জ্ঞেয়া সপঞ্চাশচ্চতুঃশতী।
তথা ভেদা গ-ধানাঞ্চ ষষ্ট্যা যুক্তং শতত্রয়ম্ ॥ ১৯০
গ-নীনাঞ্চ ভিদা জ্ঞেয়া অশীত্যা চ চতুঃশতী।
ম-ধানাঞ্চ প্রভেদাঃ স্যুঃ সপ্তত্যা চ শতদ্বয়ম্ ॥ ১৯১
ম নীনাঞ্চ ভিদা জ্ঞেয়া ষষ্ট্যা যুক্তং শতত্রয়ম্।
ধ নীনাঞ্চ প্রভেদাঃ স্যুরশীত্যা চ চতুঃশতী ॥ ১৯২
রি-গ-মানাং ভিদাস্তত্র শূন্যদ্বন্দ্বঞ্চ রন্ধ্রকম্।
রি-গ-ধানাং প্রভেদাঃ স্যুঃ শূন্যং নেত্রং মুনিস্তথা ॥ ১৯৩
রি-গ-নীনাং ভিদা জ্ঞেয়া খরসাবথ রন্ধ্রকম্।
রি-ম-ধানাং তথা ভেদা পঞ্চোত্তর-চতুঃশতী ॥ ১৯৪
সঙ্গীত পারিজাত ৬৯
রি ম-নীনাং প্রভেদাঃ স্যুঃ খঞ্চ বেদাঃ শরস্তথা।
রি-ধ-নীনাং ভিদা জ্ঞেয়া শূন্যং নেত্রং তথা মুনিঃ॥ ১৯৫
গ-ম-ধানাং তথা ভেদাঃ শরো মুনিস্তথা রসঃ।
গ-ম-নীনাং প্রভেদাঃ স্যুঃ শূন্যদ্বন্দঞ্চ রন্ধ্রকম্॥ ১৯৬
গ ধ-নীনাং ভিদা জ্ঞেয়া খরসাঙ্কৈর্বিচক্ষণৈঃ।
ম-ধ-নীনাং তথা ভেদাঃ শূন্যং নেত্রং তথা মুনিঃ॥ ১৯৭
রি-গানাঞ্চ মধানাঞ্চ ভেদা নবশতানি চ।
রি-গ-মানাং ভিদা নীনাং খদ্বয়ং লোচনং শশী॥ ১৯৮
রি-গ-ধানাঞ্চ নীনাং স্যুঃ খং বসুর্লোচনং শশী।
রি-ম-ধানাং ভিদা নীনাং শূন্যং নেত্রং তথা মুনিঃ॥ ১৯৯
গ-মানাঞ্চ ধ-নীনাং স্যুঃ খদ্বয়ং লোচনং শশী॥ ২০০
ঔড়বানাঞ্চ সর্ব্বেষাং মূর্চ্ছনানাং মিতির্ভবেৎ
সপ্তদশ সহস্রাণি পঞ্চ পঞ্চশতানি চ॥ ২০১
বিকৃত রে ও ধা স্বরের ঔড়ব মূর্চ্ছনা, রে৩ x ধা৩ = ৯ x ( মা৩+গ৩= ) ৬ =
৫৪ x ৫ = ২৭০ প্রকার। বিকৃত রে ও নি স্বরের ঔড়ব মূর্চ্ছনা, রে৩ x নি৪ =
১২ x ( ধা৩+ম৩= ) ৬ = ৭২ x ৫ = ৩৬০ প্রকার। ১৮৯
বিকৃত গা ও মা-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা, গা৬ x মা৩ = ১৮ x ( পা১+নি৫= ) ৫ =
৯০ x ৫ = ৪৫০ প্রকার। বিকৃত গা ও ধা-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা গ৪ x ধ৩=১২ x
( রে৩+মা৩= ) ৬ = ৭২ x ৫ = ৩৬০ প্রকার। ১৯০
বিকৃত গা ও নি-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা, গা৪ x নি৪=১৬ x ( মা৩+ধা৩= ) ৬=
৯৬ x ৫ = ৪৮০ প্রকার। বিকৃত মা ও ধা-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা, মা৩ x ধা৩ x ( রে৩
- নি৩= ) ৬ = ৫৪ x ৫ = ২৭০ প্রকার। ১৯১
বিকৃত মা ও নি-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা, মা৩ x নি৪ = ১২ x ( রে৩+ধা৩= ) ৬
= ৭২ x ৫ = ৩৬০ প্রকার। বিকৃত ধ্য ও নি-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা, ধা৩ x নি৪ =
১২ x ( রে৪+গা৪= ) ৮ = ৯৬ x ৫ = ৪৮০ প্রকার। ১৯২
অতঃপর তিনটি ক'রে বিকৃত স্বরের কথা বলা হচ্ছে :—
বিকৃত রে, গা ও মা স্বরের ঔডব মূর্চ্ছনা, রে৩ × গ৪ × মা৩ = ৩৬ × ( নি৫ )
= ১৮০ × ৫ = ৯০০ প্রকার। বিকৃত রে, গা, ধা-র মূর্চ্ছনা, রে৩ × গা৪ × ধা৩
= ৩৬ × ( মা৪ ) = ১৪৪ × ৫ = ৭২০ প্রকার। ১৯৩
বিকৃত রে, গা, নি-র মূর্চ্ছনা, রে৩ × গা৪ × নি৪ = ৪৮ × ( ধা৪ ) = ১৯২ ×
৫ = ৯৬০ প্রকার। বিকৃত রে, মা, ধা-ব ঔডব মূর্চ্ছনা, রে৩ × মা৩ × ধা৩ =
২৭ × ( নি৩ ) = ৮১ × ৫ = ৪০৫ প্রকার। ১৯৪
বিকৃত বে, মা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা, রে৩ × মা৩ × নি৪ = ৩৬ × ( ধা৩ ) = ১০৮
× ৫ = ৫৪০ প্রকার। বিকৃত রে, ধা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা, রে৩ × ধা৪ × নি৪
= ৩৬ × ( গা৪ ) = ১৪৪ × ৫ = ৭২০ প্রকার। ১৯৫
বিকৃত গা, মা, ধা-র ঔডব মূচ্ছ না হচ্ছে, গা৫ × মা৩ × ধা৩ = ৪৫ × ( রে৩ )
= ১৩৫ × ৫ = ৬৭৫ প্রকাব। বিকৃত গা, মা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা, গা৫ × মা৩
× নি৪ = ৬০ × ( ধা৩ ) = ১৮০ × ৫ = ৯০০ প্রকাব। ১৯৬
বিকৃত গা, ধা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা হচ্ছে গা৪ × ধা৩ × নি৪ = ৪৮ × ( রে৪ ) =
১৯২ × ৫ = ৯৬০ প্রকার। বিকৃত মা, ধা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা, মা৩ × ধা৩ ×
নি৪ = ৩৬ × (গ৪) = ১৪৪ × ৫ = ৭২০ প্রকার। ১৯৭
অতঃপব, চারটি কবে বিকৃত স্ববের ঔডব মূর্চ্ছনার পবিচয় দেওযা যাচ্চে :—
বিকৃত রে, গা, মা, ধা-র ঔডব মূর্চ্ছনা, রে৩ × গা৫ × মা৩ × ধা৪ = ১৮০ × ৫ =
৯০০ প্রকাব। বিকৃত বে, গা, মা, নি-ব ঔডব মূর্চ্ছনা, বে৪ × গা৫ × মা৩ × নি৪
= ২৪০ × ৫ = ১২০০ প্রকার।—১৯৮
বিকৃত রে, গা, ধা, নি-র ঔডব মূর্চ্ছনা হচ্ছে, রে৪ × গা৪ × ধা৪ × নি৪ = ২৫৬
× ৫ = ১২৮০ প্রকার। বিকৃত বে, মা, ধা, নি-ব ঔডব মূর্চ্ছনা হচ্ছে, রে৪ × মা৩
× ধা৩ × নি৪ = ১৪৪ × ৫ = ৭২০ প্রকার। ১৯৯
বিকৃত গা, মা, ধা, নি-র ঔড়ব মূর্চ্ছনা হচ্ছে, গা৫ × মা৩ × ধা৪ × নি৪ = ২৪০ ×
৫ = ১২০০ প্রকার। ২০০
সুতরাং, ঔড়ব মূর্চ্ছনার সমষ্টি হচ্ছে, ৭৫ + ১৫০ + ২০০ + ১৫০ + ১৫০ + ২০০ +
৪৮০ + ২৭০ + ২৭০ + ৩৬০ + ৪৫০ + ৩৬০ + ৪৮০ + ২৭০ + ৩৬০ + ৪৮০ + ৯০০
সঙ্গীত পারিজাত ৬৩
+৭২০+৯৬০ + ৪০৫+৫৪০+৭২০+৬৭৫+৯০০+৯৬০+৭২০ +৯০০ +১২০০+
১.৮০+৭২০+১২০০=১৭,৫০৫ প্রকার। ২০১
দ্বাভ্যাং দ্বাভ্যাং বিহীনায়াং মূর্চ্ছনায়াং পৃথক্ পৃথক্ ।
তাভ্যামেব বিহীনাঃ স্যুঃ প্রস্তরো ঔড়বা ক্রমাৎ ॥ ২০২
সবিংশত্যা শতেনাত্র গুণিতানাং মিতির্ভবেৎ ।
শূন্যং নেত্রং শশী শূন্যং নেত্রোদধীতি সংখ্যয়া ॥ ২০৩
দুই স্বর বর্জিত ঔডব মূর্চ্ছনার অন্তর্গত, প্রত্যেকটি স্বরের ঔডব প্রস্তারেব
সংখ্যা হচ্ছে, ১৭,৫০৫ ÷ ৫ = ৩৫০১। এই সংখ্যাকে ঔডব কূটতানের সংখ্যা
(১২০) দিয়ে গুণ করলে যে ফল হয়, তাই হচ্ছে ঔডব কূটতানেব সমষ্টি সংখ্যা।
অর্থাৎ ৩৫০১ x ১২০ = ৪২০, ১২০।
টিপ্পনীঃ—এখানে দু’টি নূতন কথা পাওয়া যাচ্ছে : প্রস্তার ও কূটতান।
প্রস্তার কথাটার অর্থ, মূর্চ্ছনা ও তানের
৬৪ সঙ্গীত পারিজাত
চতুর্থস্য ষড়াবৃত্তিঃ পঞ্চমস্তুচতুর্গুণঃ।
তস্মাৎ পঞ্চগুণঃ ষষ্ঠঃ সপ্তমঃ ষড়গুণস্ততঃ॥ ২০৫
প্রথম ও দ্বিতীয় অর্থাৎ সা ও সা-রে-যুক্ত কূটতানের ভেদ হয় একবার করে
মাত্র। তিন স্বরের অর্থাৎ সা-রে-গা-যুক্ত কূটতানের ভেদ হয় ছয় বার। চার
স্বরের, অর্থাৎ, সা-রে-গা-মা-যুক্ত কূটতানের ভেদ হয় তিন স্বরের মতো, অর্থাৎ,
ছয় বার। পাঁচ স্বরের, অর্থাৎ, সা-রে-গা-মা-পা-যুক্ত ঔডব কূটতানের ভেদ হয়
চব্বিশ বার। ছয় স্বরের, অর্থাৎ, সা-রে-গা-মা-পা-ধা-যুক্ত ষাড়ব কূটতানের
ভেদ হয় চব্বিশের পাঁচগুণ, অর্থাৎ, ১২০ বার। আর, সাত স্বরের সম্পূর্ণ
কূটতানের ভেদ হয় একশ' কুড়ির ছয় গুণ, অর্থাৎ, ৭২০ বার। ২০৪-২০৫
চলিতানাং স্বরাণাস্তু যথোচিতক্রমো ভবেৎ। ২০৬।১
প্রস্তাব ও তানের মতো, প্রচলিত স্বরসমূহের আবার যথাযথ ক্রমও
হয়। ২০৬-১
টিপ্পনী : ক্রম কথাটার অর্থ, স্বর-সমষ্টির পারম্পর্য্যপূর্ণ আরোহণ কিংবা
অবরোহণ। আরোহণ-অবরোহণ নয়। তাহলে মূর্চ্ছনা হয়ে যাবে।
ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে, সম্পূর্ণ বা অসম্পূর্ণ যত রকমের মূর্চ্ছনা আছে,
সব মূর্চ্ছনাই নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রম-এ বিভক্ত। যেমন, ষড়জ গ্রামের প্রথম
মূর্চ্ছনা হচ্ছে সারেগামাপাধানি নিধাপামাগারেসা। এই আরোহণ-অব-
রোহণটা ক্রমিকও বটে আবার সরলও বটে। কিন্তু, এই মূর্চ্ছনার স্বর-
গুলি আবার অন্যভাবেও পরিবেশিত হতে পারে। যেমন, প্ ধ্ নিসা-
রেগামা-মাগারেসানিধ্ প্। বা গামাপাধানিসারে-রেসানিধাপামাগা।
এইভাবে ঔডব, ষাড়ব ও সম্পূর্ণ মূর্চ্ছনার শুদ্ধ ও বিকৃত স্বরভেদে,
অসংখ্য ক্রমের সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু, ক্রমের সংখ্যাটা অসংখ্য হলেও,
অনির্দিষ্ট নয়। ২০৬-১
ইতি পঞ্চ সহস্রাণি চত্বারিংশদ্ যুতানি চ॥ ২০৬।২
“সম্পূর্ণ মূর্চ্ছনার” শুদ্ধ স্বরযুক্ত কূটতানের সংখ্যা হচ্ছে, ৭ × ৭২০=
৫০৪০।—২০৬-২
সঙ্গীত পারিজাত ৬৫
পূর্ণানাং ষাড়বানাঞ্চ সপ্তশতানিবিংশতিঃ।
ঔড়বানাঞ্চ বিংশত্যা শতং ভেদান্ বুধা জগুঃ ॥ ২০৭
চতুৰ্ব্বিংশতিভেদাঃ স্যশ্চতুর্ণাং তত্র নিশ্চিতাঃ।
ষড্ভেদাঃ স্যান্ত্রয়াণাঞ্চ দ্বয়োর্বাবের নিশ্চিতৌ ॥ ২০৮
একস্ত্বেকো ভবেদ্ভেদঃ প্রস্তারা ঈদৃশা মতাঃ ॥ ২০৯।১
“ষাড়ব’ বা “খাড়ব” মূর্চ্ছনার কূটতানের সংখ্যা হচ্ছে, ৬ X ১২০ = ৭২০
প্রকার। "ঔড়ব” মূর্চ্ছনার কূটতানের সংখ্যা হচ্ছে, ৫ x ২৪ = ১২০
প্রকার। চারস্বর-যুক্ত “স্বরাস্তর” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, ৪ x ৬ = ২৪
প্রকার। তিনস্বর-যুক্ত “সামিক” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, ৩ x ২ = ৬ প্রকার।
দুইস্বর-যুক্ত “গাথিক” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, ২ x ১ = ২ প্রকার। এবং,
একস্বর-যুক্ত “আর্চ্চিক” মূর্চ্ছনার সংখ্যা হচ্ছে, মাত্র এক প্রকার। এইভাবেই
শুদ্ধ মূর্চ্ছনার প্রস্তার ভেদ হয়ে থাকে।–২০৭-২০৯।১
নষ্টোদ্দিষ্টপ্রবোধার্থং খণ্ডমেরুরথোচ্যতে। ২০৯।২
অতঃপর শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য, নষ্ট ও উদ্দিষ্ট কূটতান নির্ণয়ের চিত্র,
খণ্ডমেরুর পরিচয় দেওয়া যাচ্চে। ২০৯।১
টিপ্পনী: নষ্টতান কথাটার অর্থ হচ্ছে, যে ক্ষেত্রে, কূটতানের সংখ্যাটা মনে
থাকে অথচ স্বরূপটা মনে পড়ে না। এবং, উদ্দিষ্টতান কথাটার মর্মার্থ
হচ্ছে, নষ্টতানের বিপরীত। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে, কূটতানের স্বরূপটা মনে
থাকে কিন্তু সংখ্যাটা মনে পড়ে না। এই রকম সমস্যা তিনস্বর-যুক্ত, চার
স্বর-যুক্ত, ঔড়ব, ষাড়ব, সম্পূর্ণ, সব রকম কূটতান নির্ণয়ের ক্ষেত্রেই দেখা
দিতে পারে। সুতরাং, সমস্যা সমাধানেরও একটা বিজ্ঞানসম্মত প্রণালী
থাকা উচিত। ফলে, সৃষ্টি হলো খণ্ডমেরুর মতো একটি বৈজ্ঞানিক ছকের।
এই ছক বা চিত্রটি সম্বন্ধে সচেতন থাকলে, নষ্ট বা উদ্দিষ্ট কূটতান নির্ণয়
করতে অসুবিধা হয় না। বলাবাহুল্য, আজকের দিনে, কেউ এত কষ্ট
স্বীকার ক’রে সঙ্গীত চর্চ্চা করেন বলে বিশ্বাস হয় না! সুতরাং, খণ্ডমেরুর
সার্থকতাও বর্ত্তমানে অস্বীকৃত বলা চলে। কিন্তু তবুও গুণীজ্ঞানী মাত্রেই
স্বীকার করবেন, বহুশত বৎসর পূর্ব্বে আবিষ্কৃত, ভারতবর্ষের এই খণ্ডমেরুর
৫
সঙ্গীত পারিজাত
অস্তিত্ব, আমাদের সাঙ্গীতিক ঐতিহ্য ও অলৌকিক সাধনার অন্যতম প্রধান
স্তম্ভ ও বৈশিষ্ট্য। মূল-এর প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পারিজাতকার
অহোবল, অতি সংক্ষেপেই এই খণ্ডমেরু রচনার প্রণালী নির্দ্দেশ করেছেন।
মনে হয়, এই সংক্ষিপ্ত ভাষণের একমাত্র তাৎপর্য্য, গ্রন্থকারের সমসাময়িক
কালের সঙ্গীত-সাধকদের নিকট, বর্ত্তমানীদের মতো, খণ্ডমেরুর তত্ত্ব ও তথ্য
একেবারে অজানা বা অপরিচিত ছিল না। সুতরাং, খণ্ডমেরুর আলোচনা
প্রসঙ্গে আমরাও আজকের দিনের কথা স্মরণ করে, কথঞ্চিৎ বিশদ ব্যাখ্যার
সুযোগ গ্রহণ করছি এবং পাঠকের বোঝবার সুবিধার জন্য, চক্ টি আগে
থাকতেই এঁকে দিচ্ছি :
সা রে গা মা পা ধা নি
১ ০ ০ ০ ০ ০ ০
১ ২ ৬ ২ ১২০ ৭২০
৪ ১২ ৪৮ ২৪০ ১৪৪০
১৮ ২ ৭৬০ ২১৬০
৯৬ ৪৮০ ২৮৮০
৬০০ ৩৬০০
৪৩২০
সপ্তাদ্যেকান্যকোষ্ঠঃ স্যাদ বামে হীনান্ততো ভবেৎ।
আদ্যপংক্ত্যাদ্যকোষ্ঠেষু লিখেদেকং পরেষুখম্ ॥ ২১০
আদ্যকোষ্ঠে দ্বিতীয়স্য পঙ্ক্তানের্কং লিখেদপি।
পঙ্ক্তিষূদ্ধ্বাংস্ত তির্য্যক্ষু কোষ্ঠস্থাঙ্কগুণং ন্যসেৎ ॥ ২১১
খণ্ডমেরুর প্রথম পংক্তি সাতটি ঘরযুক্ত হবে। দ্বিতীয় পংক্তির ঘর হবে
ছয়টি এবং তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম পংক্তির ঘরের সংখ্যা হবে
যথাক্রমে, পাঁচ, চার, তিন, দুই ও এক। অতঃপর, এই খণ্ডমেরুর প্রথম
পংক্তির প্রথম ঘরে ১ সংখ্যা বসাতে হবে, বাকি ছয়টি ঘর শূন্য থাকবে।
দ্বিতীয় পংক্তিরও প্রথম ঘরে ১ সংখ্যা বসাতে হবে, এবং, এই দ্বিতীয়
পংক্তিরই প্রথম ঘরের ঠিক ওপরের পংক্তি থেকে অর্থাৎ প্রথম পংক্তি থেকে,