विष्णु स्मृति (वैष्णव धर्मशास्त्र - नन्दपण्डित कृत वैजयन्ती टीका सहित सटीक)
Vishnu Smriti with Vaijayanti Commentary of Nanda Pandita
महर्षि विष्णु (टीकाकार: नन्दपण्डित, सम्पादक: जूलियस जॉली) द्वारा
৫২ পরাশর সংহিতা।
ত্র্যহং স্নাত্বা চ পীত্বা চ কৃমিদুষ্টঃ শুচির্ভবেৎ ॥ ৪৬ ॥
ক্ষত্রিয়োহপি সুবর্ণস্য পঞ্চ মাষান্ প্রদাপয়েৎ।
গোদক্ষিণাঞ্চ বৈশ্যস্যাপ্যুপবাসং বিনির্দ্দিশেৎ ॥ ৪৭ ॥
শূদ্রাণাং নোপবাসঃ স্যাচ্ছূদ্রো দানেন শুধ্যতি।
ব্রাহ্মণাংস্তু নমস্কৃত্য পঞ্চগব্যেন শুধ্যতি ॥ ৪৮ ॥
অচ্ছিদ্রমিতি যদ্বাক্যং বদন্তি ক্ষিতিদেবতাঃ।
প্রণম্য শিরসা ধার্য্যমগ্নিষ্টোমফলং হি তৎ ॥ ৪৯ ॥
ব্যাধিব্যসনিনি শ্রান্তে দুর্ভিক্ষে ডামরে তথা।
উপবাসো ব্রতো হোমো দ্বিজসম্পাদিতানি বা ॥ ৫০ ॥
অথবা ব্রাহ্মণাংস্তস্তাঃ স্বয়ং কুর্ব্বন্ত্যনুগ্রহম্।
করিলে এবং তিন দিবস ঐ সমস্ত দ্রব্য পান করিলে কৃমিদূষিত
ব্রাহ্মণ শুদ্ধি লাভ করিতে পারে। ৪৬ ঈদৃশ স্থলে ক্ষত্রিয় উক্তরূপ
প্রায়শ্চিত্ত না করিয়া পাঁচ মাষা সুবর্ণ দান করিবে এবং বৈশ্যজাতি
একটা উপবাস করিয়া গোদক্ষিণা প্রদান করিবে। ৪৭ ঈদৃশ স্থলে
শূদ্রের উপবাস নাই, শূদ্রেরা পঞ্চ গব্য পান পূর্ব্বক ব্রাহ্মণকে নম-
স্কার করিয়া এবং দান করিয়া শুদ্ধি লাভ করিতে পারিবে। ৪৮
ব্রাহ্মণেরা যে, অচ্ছিদ্রমস্তু এই বাক্য বলিবেন, তাহা প্রণাম পূর্ব্বক
মস্তকে ধারণ করিতে হইবে। তাহা করিলে অগ্নিষ্টোমের ফল লাভ
হইবে। ৪৯
শূদ্রের পীড়া ব্যসন শ্রান্তি দুর্ভিক্ষ ও ডামর প্রভৃতি উপস্থিত
হইলে সে, ব্রাহ্মণ দ্বারা উপবাস ব্রত হোম প্রভৃতি সম্পাদন
ষষ্ঠ অধ্যায়। ৫৫
ব্রাহ্মণা যানি ভাষন্তে ভাষন্তে তানি দেবতাঃ।
সর্ব্বদেবময়ী বিপ্রা ন তদ্বচনমন্যথা ॥ ৪১ ॥
অন্নাদ্যে কীটসংযুক্তে মক্ষিকাকীটদূষিতে।
অন্তরা সংস্পৃশেচ্চাপস্তদন্নং ভস্মনা স্পৃশেৎ ॥ ৬২ ॥
ভুঞ্জানো হি যদা বিপ্রঃ পাদং হস্তেন সংস্পৃশেৎ।
উচ্ছিষ্টং হি স বৈ ভুঙ্ক্তে যো ভুঙ্ক্তে মুক্তভাজনে ॥ ৬৩
পাদুকাঙ্কো ন ভুঞ্জীত পর্য্যঙ্কে সংস্থিতোহপি বা।
শুনা চাণ্ডালদৃষ্টো বা ভোজনং পরিবর্জ্জয়েৎ ॥ ৬৪ ॥
পক্কান্নঞ্চ নিষিদ্ধং যদন্নশুদ্ধিস্তথৈব চ।
যথা পরাশরেনোক্তং তথৈবাহং বদামি বঃ ॥ ৬৫ ॥
ব্রাহ্মণের মুখে যে বাক্য নির্গত হয়, তাহা দেবতাদিগের কথিত
বাক্য, কারণ ব্রাহ্মণেরা সর্ব্বদেবময়, সুতরাং তাঁহাদের বাক্য অন্যথা
হইতে পারে না। ৬১
যদি অন্ন প্রভৃতিতে কীট থাকে বা অন্নাদি মক্ষিকা ও কীটাদি
দ্বারা দূষিত হয়, তাহা হইলে ভোজন কালে সেই অন্ন জল দ্বারা
প্রোক্ষিত করিয়া তাহাতে ভস্মস্পর্শ করাইবে। ৬২ যদি ব্রাহ্মণ,
ভোজন করিবার সময় চরণে বাম হস্ত প্রদান করিয়া থাকেন ও যদি
ভোজন পাত্রে বাম হস্ত না দিয়া ভোজন করেন, তাহা হইলে তাঁহার
উচ্ছিষ্ট ভোজন করা হয়। ৬৩ চরণে পাদুকায়ুক্ত হইয়া বা পল্যঙ্কে
উপবেশন করিয়া ভোজন করিবে না। যদি ভোজন কালে কুক্কুর
কর্তৃক বা চণ্ডাল কর্তৃক দৃষ্ট হয়, তাহা হইলে ভোজন পরিত্যাগ
করিবে। ৬৪
যে অন্ন শুদ্ধ ও যে অন্ন অশুদ্ধ, তাহা পরাশরের বচনানুসারে
৫৬ পরাশর সংহিতা।
মিতং দ্রোণাঢ়কস্বান্নং কাকশ্বানোপঘাতিতম্।
কেনৈতচ্ছুধ্যতে চান্নং ব্রাহ্মণেভ্যো নিবেদয়েৎ ॥ ৬৬॥
কাকশ্বানাবলীঢ়ন্ত দ্রোণান্নং ন পরিত্যজেৎ।
বেদবেদাঙ্গবিদ্বিপ্রৈধৰ্ম্মশাস্ত্রানুপালকৈঃ ॥ ৬৭ ॥
প্রস্থা দ্বাত্রিংশতির্দ্রোণঃ স্মৃতো দ্বিপ্ৰস্থ আঢ়কঃ।
ততো দ্রোণাঢ়কস্বান্নং শ্রুতিস্মৃতিবিদো বিদুঃ ॥ ৬৮ ॥
কাকশ্বানাবলীঢ়ং তু গবাঘ্রাতং খরেণ বা।
স্বল্পমন্নং ত্যজেদ্বিপ্রঃ শুদ্ধির্দ্দ্রোণাঢ়কে ভবেৎ ॥ ৬৯ ॥
আমি তোমাদের নিকট বলিতেছি। ৬৫ দ্রোণপরিমিত অন্ন বা
আঢ়ক পরিমিত অন্ন যদি কাক দ্বারা বা কুকুর দ্বারা উপহত হয়,
তাহা হইলে তাহা কিরূপে শুদ্ধ হইতে পারে, তাহার বিধান ব্রাহ্মণ-
গণের নিকট জিজ্ঞাসা করিবে। ৬৬ ধর্ম্মশাস্ত্র বিহিত আচারজ্ঞ
বেদবেদাঙ্গবিৎ ব্রাহ্মণগণ, বিধি দিবেন যে, কাকোচ্ছিষ্ট বা
কুক্কুরোচ্ছিষ্ট দ্রোণান্ন বা আঢ়কান্ন পরিত্যাগ করিবে না। ৬৭
বত্রিশ প্রস্থে এক দ্রোণ হয়। দুই প্রস্থে এক আঢ়ক হইয়া
থাকে। শ্রুতি স্মৃতি বিশারদ পণ্ডিতগণ এই বত্রিশ প্রস্থ পরিমিত
অন্নকে দ্রোণান্ন ও দুই প্রস্থ পরিমিত অন্নকে আঢ়কান্ন * বলিয়া
থাকেন। ৬৮ যে অন্নে কাক বা কুক্কুরে মুখ দিয়াছে, যে অন্ন
- আলমগীর সাহ নামক সম্রাট্ এই রূপ পরিমাণের কিঞ্চিৎ পরিবর্ত্ত
করিয়া এইরূপ নিয়ম প্রচলিত করেন যে, দীর্ঘে এক হাত প্রস্থে এক হাত
উচ্চে এক হাত পরিমাণকে মাগধীয় খারী বলা যায়। খারীর ষোড়শাংশে
এক দ্রোণ হয়। দ্রোণের চতুর্থাংশে এক আঢ়ক হয়। আঢ়কের অপভ্রংশ
আচা হইয়াছে। আঢ়কের চতুর্থাংশকে প্রস্থ বলে। প্রস্থের চতুর্থাংশ,
কুড়ব শব্দে নির্দ্দিষ্ট হইয়া থাকে।
ষষ্ঠ অধ্যায়। ৫৭
অন্নস্তোদ্ধৃত্য তন্মাত্রং যচ্চ নোপহতং ভবেৎ।
সুবর্ণোদকমভ্যুক্ষ্য হুতাশেনৈব তাপয়েৎ ॥ ৭০ ॥
হুতাশনেন সংম্পৃষ্টং সুবর্ণসলিলেন চ।
বিপ্ৰাণাং ব্রহ্মঘোষেণ ভোজ্যং ভবতি তৎক্ষণাৎ ॥৭১॥
ইতি পরাশরে ধর্ম্মশাস্ত্রে ষষ্ঠোহধ্যায়ঃ
সমাপ্তঃ।
গো বা গর্দ্দভ কর্তৃক আঘ্রাত হইয়াছে, তাহা যদি অল্প পরিমিত
হয়, তাহা হইলে তাহা পরিত্যাগ করিবে। ঐ অন্ন দ্রোণান্ন বা
আঢ়কান্ন হইলে অশুদ্ধ ও পরিত্যাগ যোগ্য হইবে না। ৬৯ পরন্তু
ঐ অন্নের যে স্থানে কাক বা কুক্কুরে মুখ দিয়াছে, তাহার কিঞ্চিৎ
পরিত্যাগ করিয়া যে অংশে মুখ দেয় নাই বা যে অংশ দূষিত হয়
নাই, তাহা সুবর্ণ স্পৃষ্ট সলিল দ্বারা প্রোক্ষিত করিয়া অগ্নি দ্বারা
উত্তপ্ত করিয়া লইবে। ৭০ ঐ অন্ন, ব্রাহ্মণবাক্য দ্বারা, সুবর্ণসলিল
স্পর্শ দ্বারা ও অগ্নির উত্তাপ দ্বারা শোধিত হইলে সকলেই তাহা
অনায়াসে ভোজন করিতে পারিবে। ৭১
ইতি পরাশর সংহিতা ষষ্ঠ অধ্যায়
সমাপ্ত।
৮
সপ্তম অধ্যায়।
অথাতো দ্রব্যশুদ্ধিঃ পরাশরবচো যথা।
দারবাণাঞ্চ পাত্রাণাং তক্ষণাচ্ছুদ্ধিরিষ্যতে ॥ ১ ॥
মার্চ্ছনাদ্যজ্ঞপাত্রাণাং পাণিনা যজ্ঞকর্ম্মণি।
চমসানাং গ্রহাণাঞ্চ শুদ্ধিঃ প্রক্ষালনেন তু ॥ ২ ॥
চরূণাং স্রুক্স্রুবাণাঞ্চ শুদ্ধিরুষ্ণেন বারিণা।
ভস্মনা শুধ্যতে কাংস্যং তাম্রম্লেন শুধ্যতি ॥ ৩ ॥
রজসা শুধ্যতে নারী বিকলং যা ন গচ্ছতি।
নদীবেগেন শুধ্যেত লেপো যদি ন দৃশ্যতে ॥ ৪ ॥
অতঃপর পরাশরের বচন অনুসারে দ্রব্য শোধন বলিতেছি।
কাষ্ঠনির্ম্মিত পাত্র চাঁচিয়া ফেলিলে শুদ্ধ হয়। যজ্ঞস্থলে যজ্ঞপাত্র
হস্ত দ্বারা মার্জ্জন করিলেই শুদ্ধ হইবে। চামচে ও কাঁটা জলে
প্রক্ষালন করিলেই শুদ্ধ হয়। ২ চরুর সময় স্রক্ স্রব প্রভৃতি
যজ্ঞপাত্র সমুদায় উষ্ণসলিলে ধৌত করিলেই শুদ্ধ হইয়া থাকে।
কাংস্যপাত্র ভস্ম দ্বারা মার্জ্জিত করিলেই পবিত্র হয়। অম্ল দ্বারা
মার্জ্জিত করিলে তাম্রপাত্র শুদ্ধ হয়। ৩ যদি পরপুরুষ সম্ভোগ
দ্বারা কোন অঙ্গবৈকল্য না হইয়া থাকে অর্থাৎ যদি নারীর সমুদায়
অঙ্গ পূর্ব্ববৎ অক্ষত থাকে, তাহা হইলে পুনর্ব্বার রজস্বলা হই-
লেই পরপুরুষসংসর্গদূষিতা নারী শুদ্ধ হয়। যদি মল ভূমিতে সংলগ্ন
না থাকে, তাহা হইলে নদীবেগ দ্বারাই তাহা পরিশুদ্ধ হয়। ৪
সপ্তম অধ্যায়। ৫৯
বাপীকূপতড়াগেষু দূষিতেষু কথঞ্চন।
উদ্ধৃত্য বৈ ঘটশতং পঞ্চগব্যেন শুধ্যতি ॥ ৫ ॥
অষ্টবর্ষা ভবেদ্গৌরী নববর্ষা তু রোহিণী।
দশবর্ষা ভবেৎ কন্যা অত ঊর্দ্ধং রজস্বলা ॥ ৬ ॥
প্রাপ্তে তু দ্বাদশে বর্ষে যঃ কন্যাং ন প্রযচ্ছতি।
মাসি মাসি রজস্তস্যাঃ পিবন্তি পিতরঃ স্বয়ম্ ॥ ৭ ॥
মাতা চৈব পিতা চৈব জ্যেষ্ঠো ভ্রাতা তথৈবচ।
ত্রয়স্তে নরকং যান্তি দৃষ্ট্বা কন্যাং রজস্বলাম্ ॥ ৮ ॥
যস্তাং সমুদ্ধহেৎ কন্যাং ব্রাহ্মণোহজ্ঞানমোহিতঃ।
অসম্ভাষ্যোহপাঙ্ক্তেয়ঃ স বিপ্রো বৃষলীপতিঃ ॥ ৯ ॥
যদি বাপীকূপ তড়াগ প্রভৃতির জল কোন কারণে অপবিত্র হয়,
তাহা হইলে তাহা হইতে একশত কলস জল উঠাইয়া দিয়া তাহাতে
পঞ্চগব্য নিক্ষেপ করিলেই তাহা পবিত্র হইবে। ৫
অষ্টমবর্ষবয়স্কা কন্যাকে গৌরী, নবমবর্ষবয়স্কা কন্যাকে রোহিণী,
দশমবর্ষবয়স্কা কন্যাকে কন্যা বলা যায়। দশমবর্ষের পর কন্যা
রজস্বলা হইয়া থাকে। ৬ কন্যার দ্বাদশ বৎসর বয়ঃক্রম হইলেও
যে ব্যক্তি কন্যা সম্প্রদান না করে, তাহার পিতৃগণ মাসে মাসে
সেই কন্যার মাসিক আর্ত্তব পান করিয়া থাকে। ৭ কন্যা যদি
অবিবাহিতাবস্থায় রজস্বলা হয়, তাহা হইলে তাহাকে দেখিবা-
মাত্র তাহার মাতা পিতা ও জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা তিন জনেই নরকগামী
হন। ৮ যে ব্রাহ্মণ অজ্ঞান দ্বারা মোহিত হইয়া ঐ ঋতশোণি
কন্যা বিবাহ করেন, সে ব্যক্তি শূদ্রাপতি সদৃশ। তাহার সহিত
৬০ পরাশর সংহিতা।
যঃ করোত্যেকরাত্রেণ বৃষলীসেবনং দ্বিজঃ।
স ভৈক্ষ্যভুগ্ জপনিত্যং ত্রিভির্বর্ষৈর্বিশুধ্যতি ॥ ১০ ॥
অস্তং গতে যদা সূর্য্যে চাণ্ডালং পতিতং স্ত্রিয়ম্।
সূতিকাং স্পৃশতশ্চৈব কথং শুদ্ধিবিধীয়তে ॥ ১১ ॥
জাতবেদং সুবর্ণঞ্চ সোমমার্গং বিলোক্য চ।
ব্রাহ্মণানুগতেশ্চৈব স্নানং কৃত্বা বিশুধ্যতি ॥ ১২ ॥
স্পৃষ্ট্বা রজস্বলান্যোন্যং ব্রাহ্মণী ব্রাহ্মণী তথা।
তাবত্তিষ্ঠেন্নিরাহারা ত্রিরাত্রেণৈব শুধ্যতি ॥ ১৩ ॥
স্পৃষ্ট্বা রজস্বলান্যোন্যং ব্রাহ্মণী ক্ষত্রিয়া তথা।
অর্দ্ধকৃচ্ছ্রং চরেৎ পূর্ব্বা পাদমেকমনন্তরা ॥ ১৪ ॥
কেহ এক পঙ্ক্তিতে ভোজন করিবে না, এবং কেহ তাহার
সহিত সম্ভাষণও করিবে না। ৯
যে ব্রাহ্মণ এক রাত্রিমাত্র শূদ্রা গমন করিবে, সে তিন বৎসর
ভিক্ষান্ন ভোজন পূর্ব্বক নিত্য জপ করিলে শুদ্ধিলাভ করিতে
পারিবে। ১০ সূর্য্য অস্ত গমন করিলে যদি কোন ব্রাহ্মণ চাণ্ডা-
লকে, পতিত ব্যক্তিকে ও সূতিকাস্ত্রীকে স্পর্শ করে, তাহা হইলে
কিরূপে শুদ্ধি লাভ করিবে, তাহা বলিতেছি। ১১ অগ্নি সুবর্ণ
ও চন্দ্র বা চন্দ্রগমনপথ অবলোকন পূর্ব্বক ব্রাহ্মণের আনুগত্য
করিয়া স্নান করিলে শুদ্ধি লাভ করিতে পারে। ১২
দুই জন ব্রাহ্মণকন্যা রজস্বলা হইয়া যদি পরস্পর পরস্পরকে
স্পর্শ করে, তাহা হইলে তিন রাত্রি নিরাহারে থাকিয়া শুদ্ধি লাভ
করিতে পারে। ১৩ যদি ব্রাহ্মণকন্যা ও ক্ষত্রিয়কন্যা উভয়ে রজ-
সপ্তম অধ্যায়। ৬১
স্পৃষ্ট্বা রজস্বলান্যোন্যং ব্রাহ্মণী বৈশ্যজা তথা।
পাদোনং চৈব পূর্ব্বায়াঃ পরায়াঃ কৃচ্ছ্রপাদকম্ ॥ ১৫ ॥
স্পৃষ্ট্বা রজস্বলান্যোন্যং ব্রাহ্মণী শূদ্রজা তথা।
কৃচ্ছ্রেণ শুধ্যতে পূর্ব্বা শূদ্রা দানেন শুধ্যতি ॥ ১৬ ॥
স্নাত্বা রজস্বলা যা তু চতুর্থেইহনি শুধ্যতি।
কুর্য্যাদ্রজোনিবৃত্তৌ তু দৈবপৈত্র্যাদিকর্ম্ম চ ॥ ১৭ ॥
রোগেন যদ্রজঃ স্ত্রীণামন্বহন্তু প্রবর্ত্ততে।
নাশুচিঃ সা ততস্তেন তৎ স্যাদ্বৈকালিকং মতম্ ॥ ১৮॥
স্বলা হইয়া পরস্পর পরস্পরকে স্পর্শ করে, তাহা হইলে ব্রাহ্মণী
অৰ্দ্ধকৃচ্ছ্র ব্রত করিবে, ক্ষত্রিয়দুহিতা চতুর্থাংশ কৃচ্ছ্র ব্রত করিয়া
শুদ্ধি লাভ করিবে। ১৪ যদি ব্রাহ্মণকন্যা ও বৈশ্যকন্যা উভয়ে
রজস্বলা হইয়া পরস্পর পরস্পকে স্পর্শ করে, তাহা হইলে ব্রাহ্মণ-
তনয়া পাদোন কৃচ্ছ্র ব্রত ও বৈশ্যতনয়া চতুর্থাংশ কৃচ্ছ্র ব্রত করিয়া
শুদ্ধিলাভ করিবে। ১৫ যদি ব্রাহ্মণকন্যা ও শূদ্রকন্যা উভয়ে রজ-
স্বলা হইয়া পরস্পরকে স্পর্শ করে, তাহা হইলে ব্রাহ্মণকন্যা
একটী সম্পূর্ণ কৃচ্ছ্র ব্রত দ্বারা ও শূদ্রকন্যা দান দ্বারা শুদ্ধিলাভ
করিতে পারিবে। ১৬
রজস্বলা রমণী চতুর্থ দিবসে স্নান করিয়া শুদ্ধি লাভ করিবে,
পরন্তু রজোনিবৃত্তি হইলে দৈবকর্ম্ম পৈত্র্য কর্ম্ম সমুদায় করিতে
পারিবে। ১৭ যে রমণীর রোগ বশত প্রতিদিন রজঃপ্রবৃত্তি হয়,
সেই নারী সেই রজোযোগে অশুচি হইবে না, কারণ সেই রজঃ-
প্রবৃত্তি প্রাকৃতিক নহে। ১৮ রমণীরা রজস্বলা হইলে প্রথম
৬২ পরাশর সংহিতা।
প্রথমেঽহনি চাঙালী দ্বিতীয়ে ব্রহ্মঘাতিনী।
তৃতীয়ে রজকী প্রোক্তা চতুর্থেঽহনি শুধ্যতি ॥ ১৯ ॥
আতুরে স্নান উৎপন্নে দশকৃত্বো হ্যনাতুরঃ।
স্নাত্বা স্নাত্বা স্পৃশেদেনং ততঃ শুধ্যেৎ স আতুরঃ ॥ ২০ ॥
উচ্ছিষ্টোচ্ছিষ্টসংস্পৃষ্টঃ শুনা শূদ্রেণ বা দ্বিজঃ।
উপোষ্য রজনীমেকাং পঞ্চগব্যেন শুধ্যতি ॥ ২১ ॥
অনুচ্ছিষ্টেন শূদ্রেণ স্পর্শে স্নানং বিধীয়তে।
উচ্ছিষ্টেন চ সংস্পৃষ্টঃ প্রাজাপত্যং সমাচরেৎ ॥ ২২ ॥
ভস্মনা শুধ্যতে কাংস্যং সুরয়া যন্ন লিপ্যতে।
দিবস চাঙালী সদৃশী, দ্বিতীয় দিবস ব্রহ্মহত্যা পাতকে পাতকিনী
সদৃশী, তৃতীয় দিবসে রজকী সদৃশী হয়, চতুর্থ দিবসে শুদ্ধিলাভ
করে। ১৯ যদি কোন রোগাভিভূতা কামিনী রজস্বলা হয়, এবং
যদি ঐ অবস্থায় তাহার স্নানের দিন উপস্থিত হয়, তাহা হইলে
অনাতুর কোন ব্যক্তি দশবার স্নান করিয়া ঐ আতুরা রমণীকে ঐ
দশ বার স্পর্শ করিবে। ঐ রূপ দশবার স্পর্শে ঐ পীড়িতা নারী
শুচি হইবে। ২০
যদি কোন উচ্ছিষ্টযুক্ত শূদ্র ও কুক্কুর কর্তৃক স্পৃষ্ট হইয়া
কোন ব্যক্তি কোন দ্বিজকে স্পর্শ করে, তাহা হইলে সেই দ্বিজ
এক রাত্রি উপবাস করিয়া পঞ্চগব্য সেবন দ্বারা শুদ্ধি লাভ করিতে
পারিবে। ২১ যদি কোন উচ্ছিষ্ট বিরহিত শূদ্র কোন ব্রাহ্মণকে
স্পর্শ করে, তাহা হইলে ব্রাহ্মণের স্নান করা বিধি বিহিত
হইতেছে। ২২
সপ্তম অধ্যায়। ৬৩
সুরমাত্রেণ সংস্পৃষ্টং শুধ্যত্যেহগ্ন্যুপলেপনৈঃ ॥ ২৩ ॥
গবাঘ্রাতানি কাংস্যানি শ্বকাকোপহতানি চ।
শুধ্যন্তি দশভিঃ ক্ষারৈঃ শূদ্রোহচ্ছিষ্টানি যানি চ ॥২৪॥
গণ্ডূষং পাদশৌচঞ্চ কৃত্বা বৈ কাংস্যভাজনে।
ষণ্মাসান্ ভুবি নিঃক্ষিপ্য উদ্ধৃত্য পুনরাহরেৎ ॥ ২৫ ॥
আয়সেদ্বপসারণেন শীষস্যাগ্নৌ বিশোধনম্।
দন্তমসস্থি তথা শৃঙ্গং রৌপ্যং সৌবর্ণভাজনম্ ॥ ২৬ ॥
মণিপাষাণশঙ্খাশ্চ এতান্ প্রক্ষালয়েজ্জলৈঃ।
পাষাণে তু পুনব্বৃষ্টেরেষা শুদ্ধিরুদাহৃতা ॥ ২৭ ॥
কাংস্যপাত্র যদি সুরাস্পৃষ্ট না হয়, তাহা হইলে ভস্ম দ্বারাই
পবিত্র হইতে পারে। পরন্তু যে কাংস্যপাত্রে সুরা নিহিত হই-
য়াছে, তাহা অগ্নিতে উত্তপ্ত করিলে শুদ্ধ হইবে। ২৩ যে কাংস্য
পাত্র গাভি কর্তৃক আঘ্রাত হইয়াছে, যে কাংস্যপাত্র কাক বা
কুক্কুর দ্বারা উচ্ছিষ্ট হইয়াছে, যে কাংস্যপাত্র শূদ্রোচ্ছিষ্ট হই-
য়াছে, তাহা দশবার ক্ষার দিয়া মার্জ্জন করিলে শুদ্ধ হইতে
পারিবে। ২৪ যদি কোন ব্যক্তি কাঁসার পাত্রে আঁচায় বা পাদ
ধৌত করে, তাহা হইলে ঐ কাংস্যপাত্র ছয় মাস ভূমধ্যে প্রোথিত
করিয়া রাখিবে। ছয় মাসের পর ঐ কাংস্য পাত্র গ্রহণ পূর্ব্বক
ব্যবহার করিতে পারিবে। ২৫
লৌহপাত্র স্থানান্তরিত করিলেই শুদ্ধ হইবে। শীষক অগ্নি-
স্পর্শে পবিত্র হইবে। দন্ত অস্থি শৃঙ্গ রৌপ্য ও সুবর্ণের পাত্র, ২৬
মণিময়পাত্র পাষাণময়পাত্র ও শঙ্খ, জল দ্বারা প্রক্ষালন করিলে
৬৪ পরাশর সংহিতা।
মৃদ্ভাভণ্ডদহনাচ্ছুদ্ধির্ধ্যাণ্যানাং মার্জ্জনাদপি ॥ ২৮ ॥
অদ্ভিত্ত্ব প্রোক্ষণং শৌচং বহুনাং ধান্যবাসসাম্ ।
প্রক্ষালনেন ত্বল্পানামদ্ভিঃ শৌচং বিধীয়তে ॥ ২৯ ॥
বেণুবল্কলচীরাণাং ক্ষৌমকার্পাসবাসসাম্ ।
ঔর্ণানাং নেত্রপট্টানাং জলাচ্ছোচং বিধীয়তে ॥ ৩০ ॥
তুলিকাদ্যুপধানানি পীতরক্তাম্বরানি চ।
শোষয়িত্বার্কতাপেন প্রোক্ষয়িত্বা শুচির্ভবেৎ ॥ ৩২ ॥
মুঞ্জোপস্করসূর্পা্ণাং শাণস্য ফলচর্ম্মণাম্ ।
তৃণকাষ্ঠাদিরজ্জূনামুদকপ্রোক্ষণং মতম্ । ৩২ ।
শুদ্ধ হইবে। পাষাণময়পাত্র পুনর্ব্বার মাজিয়া লওয়া উচিত। ২৭
মৃন্ময় ভাণ্ড পোড়াইয়া লইলেই শুদ্ধ হয়। ধান্য মার্জ্জন পূর্ব্বক
পরিষ্কার করিয়া লইলেই শুদ্ধ হইবে। ২৮ বহু ধান্য বা বহু বস্ত্র
উচ্ছিষ্ট দ্বারা বা মলাদি দ্বারা অপবিত্র হইলে তাহা কিঞ্চিৎ জল-
বিন্দু দ্বারা প্রোক্ষিত করিবে। অল্প হইলে জল দ্বারা প্রক্ষালন
করিয়া লইতে হইবে। ইহা দ্বারাই তাহা শুদ্ধ হইবে। ২৯ বংশ
বল্কল ছিন্নবস্ত্র পট্টবস্ত্র কার্পাসবস্ত্র লোমজ বস্ত্র ক্ষৌম, এই সমুদায়
জল দ্বারা শুদ্ধ হয়। ৩০ খাট বালিশ গদি লেপ প্রভৃতি পীত-
বস্ত্র রক্তবস্ত্র, এতৎসমুদায় রৌদ্রে উত্তপ্ত করিয়া জল দ্বারা
প্রোক্ষিত করিলে শুদ্ধ হইবে। ৩১ মুঞ্জ ঝাঁটা কুলো অস্ত্র শাণাই-
বার ফলক ও চর্ম্ম, তৃণ কাষ্ঠ প্রভৃতি বাঁধিবার রজ্জু, এই সমুদায়
বস্তু জল দ্বারা প্রোক্ষিত হইলেই শুদ্ধ হইবে। ৩২
সপ্ত অধ্যায়। ৬৫
মার্জ্জারমক্ষিকাকীটপতঙ্গকৃমিদর্দ্দুরাঃ।
মেধ্যামেধ্যং স্পৃশন্ত্যেব নোচ্ছিষ্টান্ মনুরব্রবীৎ। ৩৩।
ভূমিং স্পৃষ্ট্বাগতং তোয়ং যচ্চাপ্যন্যোন্যবিপ্লুষঃ।
ভুক্তোচ্ছিষ্টং তথা স্নেহং নোচ্ছিষ্টং মনুরব্রবীৎ।। ৩৪।।
তাম্বুলেক্ষুফলে চৈব ভুক্তস্নেহানুলেপনে।
মধুপর্কে চ সোমে চ নোচ্ছিষ্টং মনুরব্রবীৎ।। ৩৫।।
রথ্যাকর্দ্দমতোয়ানি নাবঃ শস্যতৃণানি চ।
মরুতার্কেণ শুধ্যন্তি পক্বেষ্টকচিতানি চ ।। ৩৬ ।।
অদুষ্টাঃ সন্ততা ধারা বাতোদ্ধূতাশ্চ রেণবঃ।
স্ত্রিয়ো বৃদ্ধাশ্চ বালাশ্চ ন দুষ্যন্তি কদাচন ।। ৩৭ ।।
মার্জ্জার মক্ষিকা কীট পতঙ্গ কৃমি ভেক, ইহারা সর্ব্বদাই পবিত্র
ও অপবিত্র দ্রব্য স্পর্শ করিয়া থাকে, সুতরাং ইহাদের দ্বারা
কোন বস্তু উচ্ছিষ্ট হয় না, ইহা মনুও স্বীকার করেন। ৩৩ যে জল
ভূমি স্পর্শ করিয়া চলিয়া গিয়াছে, যে জল অন্য জলের সহিত
মিশ্রিত হইয়াছে, সে জল যদি ভুক্তোচ্ছিষ্ট হয়, তথাপি তাহা
উচ্ছিষ্ট হইবে না। এইরূপ স্নেহ দ্রব্যও অপবিত্র হয় না, মনুও
এরূপ ব্যবস্থা দিয়াছেন। ৩৪ তাম্বূল ইক্ষু ফল স্নেহ অনুলেপন মধু-
পর্ক সোমরস, এতৎসমুদায় উচ্ছিষ্ট হয় না, মনুও এই ব্যবস্থার
অনুমোদন করেন। ৩৫ পথের কর্দ্দম জল নৌকা পথ তৃণ পাকা
ইষ্টক, এতৎসমুদায় বায়ু দ্বারা এবং রৌদ্র দ্বারা পরিশুদ্ধ হয়। ৩৬
বায়ু দ্বারা উড্ডীন ধূলিসমূহ, এবং বিস্তৃত জলধারা দূষিত হয়
না। নারীজাতি, বালিকাই হউক, যুবতীই হউক, বৃদ্ধাই হউক, তাহারা
৯
৬৬ পরাশর সংহিতা।
ক্ষুতে নিষ্ঠীবনে চৈব দন্তোচ্ছিষ্টে তথানৃতে।
পতিতানাঞ্চ সম্ভাষে দক্ষিণং শ্রবণং স্পৃশেৎ ॥ ৩৮ ॥
অগ্নিরপশ্চ বেদাশ্চ সোমসূর্য্যানিলাস্তথা।
এতে সর্ব্বেঽপি বিপ্ৰাণাং শ্রোত্রে তিষ্ঠন্তি দক্ষিণে ॥৩৯
প্রভাসাদীনি তীর্থানি গঙ্গাদ্যাঃ সরিতস্তথা।
বিপ্রস্য দক্ষিণে কর্ণে সান্নিধ্যং মনুরব্রবীৎ ॥ ৪০ ॥
দেশভঙ্গে প্রবাসে বা ব্যাধিষু ব্যসনেষ্বপি।
রক্ষেদেব স্বদেহাদি পশ্চাদ্ধর্ম্মং সমাচরেৎ ॥ ৪১ ॥
যেন কেন চ ধর্ম্মেণ মৃদুনা দারুণেন চ।
উদ্ধরেদ্দীর্নমাত্মানং সমর্থো ধর্ম্মমাচরেৎ ॥ ৪২ ॥
কখন অপবিত্র হয় না। ৩৭ হাঁচিলে নিষ্ঠীবন করিলে কোন
অঙ্গ দন্তোচ্ছিষ্ট হইলে অঙ্গীকৃত বাক্য মিথ্যা হইলে এবং পতিত
ব্যক্তির সহিত আলাপ করিলে দক্ষিণ কর্ণ স্পর্শ করিবে। ৩৮
কারণ অগ্নি জল বেদ রবি সোম অনিল, ইহারা সর্ব্বদা ব্রাহ্মণ-
ণের দক্ষিণ কর্ণে বাস করেন। ৩৯ মনু বলিয়াছেন যে, প্রভাস
প্রভৃতি তীর্থসমুদায় ও গঙ্গা প্রভৃতি নদী সমুদায় ব্রাহ্মণের দক্ষিণ
কর্ণে সর্ব্বদা সন্নিহিত থাকেন। ৪০
দেশবিপ্লব হইলে বা দুর্ভিক্ষ ঘটিলে, প্রবাসে গমন করিলে
পীড়াদি হইলে বিপদ্ উপস্থিত হইলে যে কোন রূপে আপনার
দেহাদি রক্ষা করিবে। পশ্চাৎ সুস্থ ও নিরুদ্বেগ হইয়া ধর্ম্মানু-
ষ্ঠান করিবে, ও শাস্ত্রের বিধি অনুসারে চলিবে। ৪১ আপনি
অষ্টম অধ্যায়। ৬৭
আপৎকালে তু সম্প্রাপ্তে শৌচাচারং ন চিন্তয়েৎ।
স্বয়ং সমুদ্ধরেৎ পশ্চাৎ সুস্থো ধর্ম্মং সমাচরেৎ ॥ ৪৩ ॥
ইতি পারাশরে ধর্ম্মশাস্ত্রে সপ্তমোঽধ্যায়ঃ
সমাপ্তঃ।
———
বিপন্ন হইলে মৃদু বা দারুণ যে কোন উপায় দ্বারা দীন আত্মাকে
উদ্ধার করিবে। পরে যখন সমর্থ হইবে, তখন ধর্ম্মানুষ্ঠান
করিবে। ৪২ যখন বিপৎকাল উপস্থিত হইবে, তখন শৌচাচার
কিছুই চিন্তা করিবে না। তখন যে কোন রূপে আপনাকে উদ্ধার
করিবে। পরে যখন বিপদ্ দূর হইবে, ও স্বয়ং সুস্থ হইবে, তখন
ধর্ম্মানুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হইবে। ৪৩
ইতি পরাশর সংহিতা সপ্তম অধ্যায়
সমাপ্ত।
———
অষ্টম অধ্যায়।
গবাং বন্ধনযোক্ত্রে তু ভবেন্মৃত্যুরকামতঃ।
অকামাৎ কৃতপাপস্য প্রায়শ্চিত্তং কথং ভবেৎ ॥ ১ ॥
কোন গাভী বা বৃষ যদি বন্ধনস্তম্ভে রজ্জুবদ্ধ থাকে, এবং যদি
ঐ অবস্থায় অকামত তাহার মৃত্যু হয়, তাহা হইলে সে অকামকৃত
gitized by eGangotri/Sarayu Trust. Funding IKS-MoE-Grant-2 Equipment Heritage Foundation, Jalgad
৬৮ পরাশর সংহিতা।
বেদবেদাঙ্গবিদুষাং ধর্ম্মশাস্ত্রং বিজানতাম্।
স্বকর্ম্মরতবিপ্রাণাং স্বকং পাপং নিবেদয়েৎ ॥ ২ ॥
অতউর্দ্ধং প্রবক্ষ্যামি উপস্থানস্য লক্ষণম্।
উপস্থিতো হি ন্যায়েন ব্রতাদেশমর্হতি ॥ ৩ ॥
সদ্যো নিঃসংশয়ে পাপে ন ভুঞ্জীতানুপস্থিতঃ।
ভুঞ্জানো বর্দ্ধয়েৎ পাপং পর্ষদ্যত্র ন বিদ্যতে ॥ ৪ ॥
সংশয়ে তু ন ভোক্তব্যং যাবৎ কার্য্যবিনিশ্চয়ঃ।
প্রমাদশ্চ ন কর্ত্তব্যো যথৈবাসংশয়স্তথা ॥ ৫ ॥
পাপ কিরূপে মোচন হইবে, তাহা নিরূপণ করা যাইতেছে। ১
এরূপ ঘটনা হইলে বেদবেদাঙ্গ পারগ ধর্ম্মশাস্ত্রজ্ঞ স্বকর্ম্মনিরত ব্রাহ্মণ-
গের নিকট আপনার পাপের বিষয় নিবেদন করিতে হইবে। ২
কৃতপাপ ব্যক্তি কিরূপে ধর্ম্মজ্ঞ ব্রাহ্মণের নিকট উপস্থিত হইবে,
তাহা এক্ষণে বলিতেছি। কৃতপাপ ব্যক্তি ন্যায়ানুসারে উপস্থিত
হইলে তাহাকে ব্রতোপদেশ করা ধর্ম্মজ্ঞ ব্রাহ্মণের কর্ত্তব্য। ৩
যদি কোন ব্যক্তির অন্তঃকরণে, পাপ হইয়াছে বলিয়া নিশ্চয় হয়,
তাহা হইলে সে ব্যক্তি যে পর্য্যন্ত পরিষদের নিকট উপস্থিত না
হইবে, সে পর্য্যন্ত আহার করিবে না। যেখানে পরিষদ নাই,
সেখানেও যদি কেহ আপনি পাতকী হইয়াছে নিশ্চয় বুঝিতে
পারিয়া পরিষদের নিকট না যাইয়া অগ্রে ভোজন করেন, তাহা
হইলেও তাহার পাপ বৃদ্ধি হয়। ৪ যদি পাপ সন্দেহ হয়, তাহা
হইলে যে পর্য্যন্ত তাহার নিশ্চয় না হইবে, সে পর্য্যন্ত আহার
CC-0. In Public Domain Sri Aurobindo Library, Pondicherry
অষ্টম অধ্যায়। ৬৯
কৃত্বা পাপং ন গৃহেত গুহ্যমানং বিবর্দ্ধতে।
স্বল্পং বাথ প্রভূতং বা ধর্ম্মবিদ্যে নিবেদয়েৎ ॥ ৬ ॥
তে হি পাপে কৃতে বেদ্যা হন্তারশ্চৈব পাপূনাম্।
ব্যাধিতস্য যথা বৈদ্যা বুদ্ধিমন্তো রুজাপহাঃ ॥ ৭ ॥
প্রায়শ্চিত্তে সমুৎপন্নে হ্রীমান্ সত্যপরায়ণঃ।
মুহুরাজবসম্পন্নঃ শুদ্ধিং গচ্ছেত মানবঃ ॥ ৮ ॥
সচেলং বাগ্যতঃ স্নাত্বা ক্লিন্নবাসাঃ সমাহিতঃ।
ক্ষত্রিযো বাথ বৈশ্যো বা ততঃ পর্ষদমাব্রজেৎ ॥ ৯ ॥
উপস্থায় ততঃ শীঘ্ৰমার্ত্তিমান্ ধরণীং ব্রজেৎ।
করিবে না। যে পর্য্যন্ত নিঃসংশয় না হয়, সে পর্য্যন্ত সাবধান হইয়া
থাকিবে। ৫
পাপ করিয়া কখনই তাহা গোপন করিবে না, কারণ পাতক
গোপন করিলে, তাহা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইতে থাকে। পাপ অল্পই
হউক বা অধিক হউক তৎক্ষণাৎ তাহা ধর্ম্মজ্ঞ ব্রাহ্মণের নিকট
নিবেদন করিবে। ৬ যেমন বুদ্ধিমান্ বৈদ্যগণ পীড়াভিভূত ব্যক্তির
পীড়া নাশ করে, তাহার ন্যায় যে সকল ধর্ম্মশাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণের নিকট
আত্মকৃত পাপ নিবেদন করা হইবে, তাঁহাদের হইতে সেই পাপ-
ধ্বংস হইবে। ৭ পরিষদের আদেশে কৃতপাপের প্রায়শ্চিত্ত হইলে
লজ্জাযুক্ত সরল সত্যপরায়ণ ব্যক্তি শুদ্ধি লাভ করে। ৮
ক্ষত্রিয় হউক বা বৈশ্য হউক, পাতকী হইবামাত্র বাক্য সংযম
পূর্ব্বক সেই বস্ত্রে স্নান করিয়া আর্দ্র বস্ত্রে সমাহিত হৃদয়ে পরি-
ষদের নিকট গমন করিবে। ৯ যত শীঘ্র হইয়া উঠে, পরিষদের
৭০ পরাশর সংহিতা।
গাত্রৈশ্চ শিরসা চৈব নচ কিঞ্চিদুদাহরেৎ ॥ ১০ ॥
সাবিত্র্যাশ্চাপি গায়ত্র্যাঃ সন্ধ্যোপান্ত্যগ্নিকার্য্যয়োঃ।
অজ্ঞানাং কৃষিকর্ত্তারো ব্রাহ্মণা নামধারকাঃ ॥ ১১ ॥
অব্রতানামমন্ত্রাণাং জাতিমাত্রোপজীবিনাম্।
সহস্রশঃ সমেতানাং পরিষত্ত্বং ন বিদ্যতে ॥ ১২ ॥
যদ্বদন্তি তমোমূঢ়া মূর্খা ধর্ম্মমতদ্বিদঃ।
তৎপাপং শতধা ভূত্বা তদ্বক্তূ রধিগচ্ছতি ॥ ১৩ ॥
অজ্ঞাত্বা ধর্ম্মশাস্ত্রাণি প্রায়শ্চিত্তং দদাতি যঃ।
প্রায়শ্চিত্তী ভবেৎ পূতঃ কিল্বিষং পরিষদ্ব্রজেৎ ॥ ১৪ ॥
নিকট গমন করিয়া কাতর হৃদয়ে মস্তক দ্বারা ও সর্ব্বাঙ্গ দ্বারা ধর-
ণীতলে বিলুণ্ঠিত হইবে, কোন কথা কহিবে না। ১০
যে ব্যক্তি বেদ ও গায়ত্রী অবগত নহে, যে ব্যক্তি সন্ধ্যোপাসনা
করে না এবং অগ্নিতে আহুতি দেয় না, যে ব্যক্তি কৃষিকার্য্য করে,
সে নামমাত্রে ব্রাহ্মণ। ফলতঃ ধর্ম্ম কর্ম বিষয়ে তাহাকে ব্রাহ্মণ
বলিয়া গণনা করা যাইতে পারে না। ১১ যে সকল ব্রাহ্মণ ব্রত-
রহিত মন্ত্ররহিত ও জাতিমাত্রোপজীবী, তাহার সহস্র ব্যক্তি
একত্র মিলিত হইলেও পরিষদ্ শব্দে বাচ্য হইতে পারে না। ১২
অজ্ঞানাভিভূত মূর্খ ধর্ম্মশাস্ত্রানভিজ্ঞ ব্রাহ্মণেরা যদি প্রায়শ্চিত্তের
ব্যবস্থা দেন, তাহা হইলে পাতকী ব্যক্তি পাপ হইতে মুক্ত হয় বটে
কিন্তু সেই পাপ শতগুণ হইয়া সেই ব্যবস্থাদাতা ব্রাহ্মণদিগের
শরীরে প্রবেশ করে। ১৩ যাঁহারা ধর্ম্মশাস্ত্র না জানিয়া প্রায়শ্চি-
ত্তের ব্যবস্থা দেন, তাঁহাদের ব্যবস্থায় পাতকী পাপ হইতে মুক্ত
অষ্টম অধ্যায়। ৭১
চত্বারো বা ত্রয়ো বাপি যং ব্রয়ুৰ্ব্বেদপারগাঃ।
স ধর্ম্ম ইতি বিজ্ঞেয়ো নেতরেস্ত সহস্রশঃ॥ ১৫॥
প্রমাণমার্গং মার্গন্তো যে ধর্ম্মং প্রবদন্তি বৈ।
তেষামুদ্বিজতে পাপং সন্তূতগুণবাদিনাম্॥ ১৬॥
যথাশ্মনি স্থিতং তোয়ং মরুতার্কেণ শুধ্যতি।
এবং পরিষদাদেশান্নাশয়েদেব দুষ্কৃতম্॥ ১৭॥
নৈব গচ্ছতি কর্ত্তারং নৈব গচ্ছতি পর্ষদম্।
মারুতার্কাদিসংযোগাৎ পাপং নশ্যতি তোয়বৎ॥ ১৮।
অনাহিতাগ্নয়ো যেহন্যে বেদবেদাঙ্গপারগাঃ।
পঞ্চ ত্রয়ো বা ধর্ম্মজ্ঞাঃ পরিষৎ সা প্রকীর্তিতা॥ ১৯॥
হয় বটে কিন্তু সেই পাপ ব্যবস্থাপক পরিষদের শরীরে সংক্রান্ত
হইয়া থাকে। ১৪ চারি জন বা তিন জন বেদ পারগ ব্রাহ্মণ
যাহা ব্যবস্থাপিত করিবেন, তাহাই ধর্ম্ম। অপর সহস্র সহস্র ব্যক্তি
যাহা বলিবেন, তাহা ধর্ম্ম হইতে পারিবে না। ১৫ যাঁহারা প্রামাণিক
পথ অন্বেষণ পূর্ব্বক ধর্ম্মশাস্ত্রের ব্যবস্থা দেন, তাঁহারাই যথাযথ
ধর্ম্মবাদী। পাপ তাঁহাদিগকেই ভয় করে। ১৬ যেমন প্রস্তরস্থিত
সলিল বায়ু দ্বারা ও সূর্য্যের উত্তাপ দ্বারা শুষ্ক হয়, তাহার ন্যায়
পরিষদের আদেশ দ্বারা পাপপুঞ্জ ক্ষয় হইয়া থাকে। ১৭ যেমন
বায়ু ও রৌদ্র সংযোগে সলিল শুষ্ক হয়, তাহার ন্যায় পরিষদের
আদেশে পাপ নষ্ট হইয়া থাকে। ঐ পাপ, কর্ত্তার শরীরেও থাকে
না, পরিষদের শরীরেও সঞ্চারিত হয় না। ১৮ যে সকল বেদবেদাঙ্গ
ized by eGangotri/Sarayu Trust. Funding IKS-MoE-Grant-2 Equipment Heritage Foundation, Jalg
৭২ পরাশর সংহিতা।
মুনীনামাত্মবিদ্যানাং দ্বিজানাং যজ্ঞযাজিনাম্।
বেদব্রতেষু স্নাতানামেকোহপি পরিষদ্ভবেৎ ॥ ২০ ॥
পঞ্চ পূর্ব্বং ময়া প্রোক্তাস্তেষাঞ্চৈব ত্বসম্ভবে।
স্ববৃত্তিপরিতুষ্টা যে পরিষৎ সা প্রকীর্ত্তিতা ॥ ২১ ॥
অত উর্দ্ধন্তু যে বিপ্ৰাঃ কেবলং নামধারকাঃ।
পারিষত্ত্বং ন তেষাং বৈ সহস্রগুণিতেষ্বপি ॥ ২২ ॥
যথা কাষ্ঠময়ো হস্তী যথা চর্ম্মময়ো মৃগঃ।
ব্রাহ্মণস্ত্বনধীয়ানাস্ত্রয়স্তে নামধারকাঃ ॥ ২৩ ॥
গ্রামস্থানং যথা শূন্যং যথা কূপস্ত নির্জলঃ।
পারগ ধর্ম্মজ্ঞ ব্রাহ্মণ আহিতাগ্নি নহেন, তাঁহাদের পাঁচ জন বা
তিন জনের সমবায়কে পরিষদ্ বলা যায়। ১৯
যে সকল ব্রাহ্মণ আত্মজ্ঞানসম্পন্ন, যাঁহারা যজ্ঞনিষ্ঠ বেদব্রত-
পরায়ণ, তাঁহাদের এক ব্যক্তিও পরিষদ্ হইতে পারেন। ২০ পূর্ব্বে
বলা হইয়াছে যে, পঞ্চ ব্রাহ্মণ দ্বারা পরিষদ্ হয়। পরন্তু যদি
বেদপারগ পঞ্চ ব্রাহ্মণ প্রাপ্ত হওয়া না যায়, তাহা হইলে স্ববৃত্তি-
পরায়ণ ব্রাহ্মণ দুই জন বা এক জন যাহা পাওয়া যায়, তাহাকেও
পরিষদ্ শব্দে নির্দেশ করা যাইতে পারে। ২১ যে সকল
বেদজ্ঞ নহে, যাহারা কেবল নামমাত্র ব্রাহ্মণ, তাহারা সহস্র গুণ
হইলেও পরিষদ্ শব্দের অভিধেয় হইতে পারে না। ২২ যেমন
কাষ্ঠনির্ম্মিত হস্তী, যেমন চর্ম্মময় মৃগ, অধ্যয়ন বিহীন মূর্খ ব্রাহ্মণও
সেইরূপ। ইহারা তিন জনেই নামমাত্র ধারণ করে, গুণ কিছুই
ধারণ করে না। ২৩ শূন্য গ্রাম যেরূপ, নির্জ্জল কূপ যেরূপ, অগ্নি
CC-0. In Public Domain Sri Aurobindo Library, Pondicherry
[Header] অষ্টম অধ্যায়। ৭৩
যথা হুতমনগ্নৌ চ অমন্ত্রো ব্রাহ্মণস্তথা ॥ ২৪ ॥
যথা ষণ্ডোহফলঃ স্ত্রীষু যথা গৌরুষরাফলা।
যথা চাজ্ঞেহফলং দানং তথা বিপ্রোহনৃচোহফলঃ ॥ ২৫।
চিত্রং কৰ্ম্ম যথানেকৈরঙ্গেরুন্মীল্যতে শনৈঃ।
ব্রাহ্মণ্যমপি তদ্বৎ স্যাৎ সংস্কারৈর্বিধিপূৰ্ব্বকৈঃ ॥ ২৬॥
প্রায়শ্চিত্তং প্রযচ্ছন্তি যে দ্বিজা নামধারকাঃ।
তে দ্বিজাঃ পাপকৰ্ম্মাণঃ সমেতা নরকং যযুঃ ॥ ২৭ ॥
যে পঠন্তি দ্বিজা বেদং পঞ্চযজ্ঞরতাশ্চ যে।
ত্রৈলোক্যং ধারয়ন্ত্যেতে পঞ্চেন্দ্রিয়রতাশ্রয়াঃ ॥ ২৮ ॥
সম্প্ৰণীতঃ শ্মশানেবু দীপ্তোহগ্নিঃ সৰ্ব্বভক্ষকঃ।
ব্যতিরিক্ত ভস্মাদিতে হোম যেরূপ, মন্ত্রানভিজ্ঞ ব্রাহ্মণও সেইরূপ
নিষ্ফল। ২৪ যেমন কামিনী সম্ভোগ বিষয়ে নপুংসক নিষ্ফল,
যেমন মরুভূমি নিষ্ফলা, যেমন মূর্খে দান নিষ্ফল, তাহার ন্যায়
বেদানভিজ্ঞ ব্রাহ্মণও নিষ্ফল। ২৫ যেমন চিত্রকর্ম্ম বহুবিধ অঙ্গ
প্রত্যঙ্গ নির্ম্মাণ দ্বারা ক্রমশ উন্মীলিত হয়, তাহার ন্যায় বিধি-
বিহিত নানা সংস্কার দ্বারা ব্রাহ্মণত্ব হইয়া থাকে। ২৬ যাহারা
নামমাত্র ব্রাহ্মণ অর্থাৎ যাহাদের ব্রাহ্মণের লক্ষণ কিছুই নাই, যাহারা
পাপকর্ম্মে নিরত, তাহারা যদি প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা দেয়, তাহারা
নরকে গমন করিয়া থাকে। ২৭ যে সকল ব্রাহ্মণ বেদপাঠ করেন,
যাঁহারা পঞ্চযজ্ঞে নিরত, তাঁহারা পঞ্চেন্দ্রিয়পরায়ণ মনুষ্যগণের
আশ্রয়, তাঁহারাই এই ত্রৈলোক্য রক্ষা করিতেছেন। ২৮ যেমন
মন্ত্র দ্বারা সংস্কৃত হুতাশন শ্মশানস্থ হইয়া সর্ব্বভক্ষ হন, তাহার
১০