सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
पृष्ठ 271, कुल 358 में से
संदर्भ में पढ़ेंবেদব্যাসই তো ছিলেন বেদের অষ্টবিংশতিতম সমাহারকারী। অর্থাৎ,
ব্যাসদেবের পূর্বে আরও সাতাশবার বেদ সমাহৃত হয়েছিল এবং এক যুগের
ঋক্ আর এক যুগের সাম হয়ে গিয়েছিল। অপরপক্ষে, যদিও বা দু’
চারটে বেদমন্ত্র আলোচ্য গণ্ডীর মধ্যে পড়ে যায়—সেটা যে কাকতালীয় নয় তার
প্রমাণ কী।
ইতিপূর্বে ৪২৯ সূত্রের টিপ্পনীতে আমরা বিলুপ্ত গান্ধর্ব সম্বন্ধে কিছু আলোচনা
করেছি এবং বিশেষভাবে বলেছি, গান্ধর্বের প্রতিপাদ্য আভিচারিক গীতিগুলি
রঞ্জনীশক্তি সম্পন্ন ছিল না। অনুরূপ, আলোচ্য মন্ত্র-তন্ত্রের বীজ উদগীরণের
ব্যাপারটা সঙ্গীতিক রঞ্জনীশক্তিশূন্য—এ কেবল আত্মবরণ করে বীজ-
উদ্গাতার। এমন কি, মন্ত্রবীজ জপ করার বিনিময়ে বিভূতি লাভ করার
মতো—তন্ত্রবীজ জপ করার ফলেও যে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়, সে কথাও আমরা
অবিশ্বাস্য মনে করি না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা না থাকলেও, আমরা প্রমাণ
পেয়েছি হ-বর্ণযুক্ত বীজ জপ করার ফলে, দেহের নিম্নাংশের অক্ষম যন্ত্র-বিশেষ
পুষ্টিলাভ করে ক্রিয়াশীল হয়েছে বা তামসিক প্রবৃত্তিসম্পন্ন মানুষ আধ্যাত্মবাদী
হয়েছেন ও-যুক্ত বীজ জপ করে করে। অধিকন্তু, গান গেয়ে আগুন জ্বালানো বা
বৃষ্টি নামানো সম্বন্ধেও অসংখ্য গল্প আমরা শুনেছি। অতএব, এদিক দিয়ে
চিন্তা করে দেখলে পারিজাতকার কর্তৃক অকস্মাৎ বর্ণবীজ পরিবেশনার
রহস্য সম্বন্ধে একটা সূক্ষ্ম সূত্র উপস্থাপিত করা গেলেও যেতে পারে। কিন্তু
যুক্তিবাদীর বিচারে অহোবল সম্পর্কে এ রকম মন্তব্য করা কি অশ্রদ্ধেয় বিবেচিত
হবে না?
আমাদের দেশে এমন সঙ্গীতবিদও আছেন এবং চিরকালই ছিলেন
যাঁদের বিশ্বাস—যাবতীয় সঙ্গীত পদ্ধতির জনক হচ্ছে গান্ধর্ব। কিন্তু,
অহোবলও কি এমনই পণ্ডিত ছিলেন, যিনি, ভরত, মতঙ্গ, শিব প্রমুখ সঙ্গীতজ্ঞদের
অস্তিত্ব বিস্মৃত হয়ে, দেশী গীতপদ্ধতির ক্লাসিক্যালত্ব প্রাপ্তির কারণস্বরূপ
জন্মদাতার আসনে প্রতিষ্ঠা করবেন কেবলমাত্র দুর্জ্ঞেয় গান্ধর্বকেই। অহোবল
কি সেই যুগের সঙ্গীতবিদ ছিলেন যখন “কাব্যং গীতেন হৃদ্যতে” সংজ্ঞাটি
আবিষ্কৃত হয় নি?
আমাদের বিশ্বাস, পারিজাতকার কর্তৃক অকস্মাৎ বর্ণবীজ পরিবেশনার
রহস্যটি, এ দেশের সঙ্গীতশাস্ত্র বা সঙ্গীত ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কহীন। এ সমস্যার
সমাধান খুঁজে পাওয়া যেতে পারে আমাদের দেশের সংস্কৃতির ইতিহাসের মধ্যে।