सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
पृष्ठ 327, कुल 358 में से
संदर्भ में पढ़ेंসঙ্গীত পারিজাত ৩১৩
টিপ্পনী : চয্যা ও চচ্চরী প্রবন্ধ সম্পর্কে পারিজাতকার যা বলেছেন তার
সঙ্গে রত্নাকরের অসামঞ্জস্য ও সামঞ্জস্য দুইই আছে।
চয্যা সম্পর্কে পারিজাতকার বলেছেন, এতে পদ ও পাট ব্যবহৃত হতো,
এ ছাড়া তাল তো ছিলই। অতএব পারিজাতের চয্যা ছিল ত্রি-অঙ্গযুক্ত
ভাবনাকাতীয় নিযুক্ত প্রবন্ধ। কিন্তু, রত্নাকরের চয্যা ছিল দ্বি-धातুক এবং
কেবলমাত্র তাল ও পদযুক্ত ভাবাবলী জাতীয় নিযুক্ত প্রবন্ধ। রত্নাকরে
দেখা যায় চৰ্যা রচিত হতো প্রধানতঃ পদ্ধটিকা ছন্দে—প্রাকৃত ভাষায়
যার নাম পদ্ধড়ী। এই গানের বিষয়বস্তু গ্রথিত হতো আধ্যাত্মিক তত্ত্ব ও
তথ্য অবলম্বনে। প্রতি পাদের শেষ অক্ষরে মিল রক্ষা করা হতো এবং গাওয়া
হতো—প্রধানতঃ দ্বিতীয় তালে। দ্বিতীয় তালের লক্ষণ হচ্ছে (০০।) দুটি
দ্রুত এবং একটি লঘু মাত্রার সমাবেশ। অন্যান্য অনেক প্রবন্ধের মতো চয্যারও
দুটি প্রকারভেদ ছিল—পূর্ণা ও অপূর্ণা। গানের ছন্দ ছন্দবিজ্ঞান অনুযায়ী
যথাযথভাবে পূর্ণ থাকলে তবেই তাকে পূর্ণা চৰ্যা বলা হতো। অন্যথা, সে গান
অপূর্ণা চয্যার অন্তর্গত হয়ে যেতো। চয্যা গানের অপরিহার্য্য অঙ্গ ছিল "ধুয়া"।
পূর্ণা-চয্যা ও অপূর্ণা-চয্যাও আবার দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত থাকতো—সমধ্রুবা
ও বিষমধ্রুবা। এই সম ও বিষম ধ্রুবার পরিচিতি সম্পর্কে রত্নাকরের টীকাকার-
দ্বয়ের মধ্যে মতান্তর পরিলক্ষিত হয়।
যা হোক এক্ষেত্রে লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে, রত্নাকর আমলের পাটহীন
চয্যা পারিজাতের আমলে পাটযুক্ত রূপ ধারণ করেছিল। এই রূপান্তরটা যে
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সে কথা বলা বাহুল্য কারণ, চয্যা-গীত হচ্ছে এ দেশে
প্রচলিত প্রাচীনতম প্রবন্ধগুলির অন্যতম। প্রমাণ পাওয়া যায়, দ্বাদশ শতাব্দীর
মধ্যভাগেও চৰ্যার অনুশীলন প্রচলিত ছিল, আবার আজকের দিনের অনেক
গুণীজ্ঞানীও—বিশেষতঃ বাঙালী সাহিত্যসেবী, চৰ্যার প্রতিপাদ্য নিয়ে আলাপ
আলোচনা করে থাকেন। অবশ্য, এ হেন আলোচনার উদ্দেশ্য আদৌ
সাঙ্গীতিক নয়, এদেশের গতিশীল কাব্য-সাহিত্যের মূল্যায়ন তথা তার
প্রাচীনতম রূপ সম্বন্ধে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষাই চর্যালোচনার
অন্যতম কারণ। কিন্তু, এতাবৎকালের মধ্যে, কখনও কোন প্রামাণ্য চৰ্যার
মধ্যে পাটের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়নি। তৎপরবর্ত্তী যুগের চর্য্যার
পরবর্তী কালে বিরচিত পারিজাতের মধ্যে, চৰ্যা পাটযুক্ত প্রবন্ধরূপে উল্লিখিত
হলো কেন?
২১