सामग्री पर जाएँ
सर्वकोश
सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology

पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा

DevanagariHindipublished358 पृष्ठ

पृष्ठ 255, कुल 358 में से

संदर्भ में पढ़ें
पृष्ठ 255

সঙ্গীত পারিজাত
২৪১

বর্তমানের স্থায়ী হচ্ছে ধ্রুপদ গীতি পদ্ধতির প্রথম ধাতু। এখানে, স্বাভাবিক
ভাবেই একটা প্রশ্ন উঠতে পারে—ধ্রুপদাঙ্গ পদ্ধতির মধ্যে, ধাতু নাম হিসাবে
ধ্রুবর নামটি পরিত্যক্ত হলো কেন।
ইতিপূর্বে, অন্তর তথা ধ্রুবখণ্ডর আলোচনা প্রসঙ্গে এ সম্বন্ধে আমরা কিছু
বলেছি। বলেছি, রত্নাকরের প্রবন্ধাধ্যায়ের প্রারম্ভে “অন্তর” ধাতুর প্রয়োগ
বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে সুস্পষ্ট নির্দেশ আছে। সেই সুস্পষ্ট নির্দেশ আবার সুস্পষ্ট
উদাহরণের মাধ্যমেও চিহ্নিত হয়েছে প্রবন্ধাধ্যায়ের শেষের দিকে। শার্ঙ্গদেব
এখানে সালগ-সূড় প্রবন্ধ-গীতির পরিচয় দান প্রসঙ্গে যে সাতটি প্রবন্ধ-গীতির
উদাহরণ স্থাপনা করেছেন, তার প্রথমটি হচ্ছে ধ্রুব প্রবন্ধ।
আলোচ্য ক্ষেত্রে ধ্রুব প্রবন্ধ অবশ্য মূল রত্নাকরের মধ্যে “রূপান্তরিত সালগ-
সূড়” হিসাবে চিহ্নিত হয়নি, কিন্তু, 'অন্তর' ধাতুর পরিচিতিটাকে গ্রহণ
করেছে। এর টীকাকার কল্লিনাথ আলোচ্য ক্ষেত্রেই 'অন্তর' তথা ধ্রুবখণ্ডের
বার্তাটি সুস্পষ্টভাবে প্রাঞ্জল করেছেন। অর্থাৎ, যে ধ্রুব প্রবন্ধকে আমরা এখানে
বিশুদ্ধ ধ্রুব প্রবন্ধ হয়তো সাঙ্গীতিক গীতি-পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবেশিত হতো
না বিবেচনা হতো, কিন্তু সালগ-সূড় জাতীয় প্রবন্ধর অন্যতম ছিল। এবং তার
মধ্যে “অন্তর” ধাতুর অস্তিত্ব থাকার কারণে, ধাতু নাম হিসাবে ধ্রুবর নামটি
যুক্ত হলো না।
ধ্রুব-ধাতুহীন এই ধ্রুব তখন পর্যায়-ভুক্ত ছিল ষোল রকম এবং তার মধ্যে
উদগ্রাহ ধাতুরও অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু যা ছিল কল্লিনাথের (১৪৫৬-১৪৭৭ খৃঃ অঃ)
আমলে, তা হয়তো ক্ষুণ্ণ হয়ে এসেছিল বা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল গোয়ালীয়রের
রাজা মান তোমর (১৪৮৬-১৫১৬ খৃঃ অঃ) প্রমুখ ধ্রুপদ গীতি-পদ্ধতি স্রষ্টাদের
সময়। বলা বাহুল্য, প্রবন্ধ-পরবর্তী যুগের এই সব সঙ্গীত-বিজ্ঞানী কালধর্মের
মর্যাদা রক্ষা করেই তাদের সৃষ্টিকার্যে সাফল্যলাভ করেছিলেন, কিন্তু নূতন
সৃষ্টির মোহে তারা পূর্বসূরীদের অবদানগুলাকেও অগ্রাহ্য করেন নি। সৃষ্টি
কার্যে তারা যথোচিতভাবেই গ্রহণ-বর্জনের নীতিটাকে গ্রহণ করেছিলেন,
কিন্তু, মূল আধারটি সম্বন্ধে তাঁরা ছিলেন একান্তভাবেই সচেতন। প্রাচীন
ধ্রুব-ধাতুহীন অথচ অন্তর-যুক্ত ধ্রুব-প্রবন্ধ সমসাময়িককালে ধ্রুবগীতি, ধ্রুবক্‌-গীতি
এবং ধ্রুবপদ রূপেও উল্লিখিত হতো। তাই, ধ্রুবপদ-পদ্ধতির স্রষ্টাগণ তাঁদের
সৃষ্টিকে সৃষ্টি হিসাবে অভিহিত না করে, মূলাধারের নামেই স্মরণীয় করে রাখা,
সার্থক বিবেচনা করেছিলেন।