सामग्री पर जाएँ
सर्वकोश
सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology

पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा

DevanagariHindipublished358 पृष्ठ

पृष्ठ 253, कुल 358 में से

संदर्भ में पढ़ें
पृष्ठ 253

[Page-Header: সঙ্গীত পারিজাত ২৩৯]

অর্থাৎ—নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নয়, অবকাশ থাকতো মাত্র। ফলে, আভোগ ধাতুর
প্রতিপাদ্যকে গ্রহণ করেও অনেক দ্বিধাতু ও ত্রিধাতুযুক্ত গান ত্রিধাতু ও
চার ধাতুর গান হিসাবে গ্রাহ্য হতো না—দ্বিধাতু ও ত্রিধাতুযুক্ত গান হিসাবেই
পরিচিত থাকতো। কিন্তু, সব গানের মধ্যেই ধ্রুব ধাতুর অস্তিত্ব তথা প্রতিপাদ্য
ছিল বর্তমানের স্থায়ী ধাতুর মতো অপরিহার্য। অথচ—
ধাতু স্থাপনার দিক দিয়ে দেখতে গেলে, ধ্রুবকে প্রবন্ধ গানের মধ্যে প্রথম
ধাতু হিসাবে পাওয়া যায় না, তৃতীয় ধাতুরূপে পাওয়া যায়। এখানে প্রশ্ন
উঠতে পারে সেকালের ধ্রুব ও একালের স্থায়ী যদি ধাতু হিসাবে অভিন্নধর্মী হয়
তাহলে, ধ্রুবর পূর্ববর্তী উদগ্রাহ ও মেলাপক ধাতুদুটিকে কোন্ উদ্দেশ্য সাধনের
জন্য ব্যবহার করা হতো?
মেলাপক কথাটির অর্থ খুব অস্পষ্ট নয়। এই ধাতুটি পূর্ববর্তী উদগ্রাহকে
পরবর্তী ধ্রুবর সঙ্গে মিলিয়ে দেবার জন্য সেতুবন্ধর কাজ করতো। কিন্তু,
উদগ্রাহর ব্যাপারটা কী হতে পারে?
বর্তমানে, গান ধরবার পূর্বে, অর্থাৎ গানের স্থায়ির প্রকাশের পূর্বে, আলাপ
করবার একটা রীতি প্রচলিত আছে। কিন্তু, উদগ্রাহকে আলাপাংশ হিসাবেও
গণ্য করা চলে না যেহেতু, প্রবন্ধ গীতির আমলেও অনেক রকমের আলাপ
ব্যাপ্তি প্রচলিত ছিল। তাহলে, উদগ্রাহর প্রতিপাদ্য ছিল কী?
প্রাচীন উদগ্রাহ ধাতুর প্রতিপাদ্য যা ছিল তা বর্তমানের স্থায়ী ধাতুটির প্রায়
বিপরীত ধর্মী। উদগ্রাহর প্রকাশ-পরিবেশনটা ছিল কখনও নিরঙ্কুশ স্বরযুক্ত,
কখনও অর্থবোধক বাণীযুক্ত, কখনও, একাধারে দ্রুত-মধ্য-বিলম্বিত গতির
ছন্দ-বৈচিত্র্যযুক্ত, কখনও বা স-চমক স-গমক দ্রুত পরিবর্তনশীল সাঙ্গীতিক
ক্রিয়াযুক্ত। অর্থাৎ, উদগ্রাহের প্রতিপাদ্যটা ছিল, কতকটা, প্রতিমার প্রাণ-
প্রতিষ্ঠার পূর্বে যথোচিত নিষ্ঠার সঙ্গে আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাদি অবলম্বনের তৎপরতার
মতো। আজকের দিনে, ধ্রুবপদাঙ্গ, খেয়াল-অঙ্গ গীতি পদ্ধতির মধ্যে প্রাচীন
উদগ্রাহ ধাতুর প্রতিপাদ্যের মতো কোন কিছুরই প্রমাণ মেলে না। কিন্তু, আজও
তবলা পাখোয়াজের লহরা বাজানোর সময়, তার 'মুখ-চাল' প্রভৃতি প্রারম্ভিক
ক্রিয়াকাণ্ডের মধ্যে প্রাচীন উদগ্রাহের প্রতিপাদ্য কথঞ্চিৎ পরিমাণে প্রকট হয়ে
ওঠে। উচ্চাঙ্গ নৃত্যকলার 'উঠান সালামী' নামক অপরিহার্য ক্রিয়াকাণ্ডটিও
প্রাচীন উদগ্রাহর প্রতিপাদ্য রীতি ব্যতীত আর কিছুই নয়। অপরপক্ষে,
যাঁরা বাংলাদেশের উচ্চাঙ্গ কীর্তন গানের সঙ্গে পরিচিত, তাঁরা অবশ্যই