सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
पृष्ठ 252, कुल 358 में से
संदर्भ में पढ़ेंএখানে ‘ধ্রুবখণ্ডর’ তাৎপর্যটাও প্রণিধানযোগ্য। ধ্রুবখণ্ড অর্থে এখানে
ধ্রুবধাতুর খণ্ড বা অংশ বিশেষকেই বোঝাচ্ছে। ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে, প্রাচীন
প্রবন্ধ গীতির অন্তর্গত উদগ্রাহ, ধ্রুব ও আভোগ নামক ধাতু তিনটি, সাধারণতঃ,
দুটি ভাগে বিভক্ত থাকতো। আলোচ্য ক্ষেত্রে, ধ্রুব ধাতুর প্রথম অংশটিকে
ধ্রুব-ধাতুর অনুরূপ রেখে, দ্বিতীয় অংশটিকে রূপান্তরিত করা হতো কিঞ্চিৎ
“উচ্চস্বর” যুক্ত করে। ধ্রুব ধাতুর এই রূপান্তর সম্বন্ধে রত্নাকরের অন্যতম
টীকাকার সিংহ ভূপাল বলে গেছেন, “কিঞ্চিদ্দুচ্চং খণ্ডং অন্তরাখ্যং কর্তব্যম্”।
প্রসঙ্গ ক্রমে এখানে উল্লেখযোগ্য যে, মূল রত্নাকরের “রূপকেষু” কথাটির
ওপর নির্ভর করে, ‘অন্তরার’ অস্তিত্বটাকে সালগ-সূড় জাতীয় রূপক প্রবন্ধর
ক্ষেত্রেও গ্রাহ্য করা যেতে পারে। কারণ, রূপক প্রবন্ধও রূপান্তরিত গীতি
পদ্ধতিরই প্রমাণ বহন করে। কিন্তু, আমাদের মনে হয়, আলোচ্য সূত্রের
ব্যাখ্যায় কল্লিনাথ যে “লৌকিক রূপান্তর” কথাটি ব্যবহার করেছেন সেটি
সমধিক গুরুত্বপূর্ণ। মনে হয়, রত্নাকরের “রূপকেষু” আলোচ্য ক্ষেত্রে রূপক
প্রবন্ধ অর্থে ব্যবহৃত হয় নি, সালগ-সূড় প্রবন্ধর একটি বিশিষ্ট রূপ তথা
রূপান্তরিত গীতি-পদ্ধতি অর্থেই উল্লিখিত হয়েছে।
পূর্বেই বলেছি, যে কোন জাতের প্রবন্ধ গানই হোক না কেন, কোন গানের
মধ্যেই চারটির বেশী ধাতু ব্যবহারের স্বাধীনতা ছিল না। অপরপক্ষে, অনেক
প্রবন্ধ গান আবার দ্বি-ধাতু ও ত্রি-ধাতুযুক্তও ছিল। এই দ্বিধাতু ও ত্রিধাতুযুক্ত
প্রবন্ধগুলির ধাতু স্থাপনার বিধি-নিদেশ সম্বন্ধে যথাযথ আলোচনার অবকাশ
আপাততঃ আমাদের নেই, কারণ, ব্যাপারটা ছিল যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ তেমনি
ব্যাপক। সেই জন্য, এখানে অতি-সংক্ষেপে কেবল এইটুকুই বলা যেতে পারে
যে, যে কোন প্রবন্ধ গানই হোক না কেন, তার মধ্যে ধ্রুব ধাতুর প্রতিপাদ্য
ছিল অপরিহার্য। বর্তমানে, স্থায়ী ধাতুর অস্তিত্ব ব্যতীত যেমন কোন রকম
গান-বাজনার অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না, তেমনি দ্বিধাতু, ত্রিধাতু বা
চার ধাতুযুক্ত যে কোন প্রবন্ধ গীতির ক্ষেত্রেও ধ্রুব ছিল অপরিহার্য। কিন্তু,
ধ্রুব ধাতুর প্রতিপাদ্য বিষয়টা যে সব প্রবন্ধর মধ্যে “ধ্রুব” ধাতু নামযুক্ত হয়েই
অস্তিত্ব বজায় রাখতো তা নয়—ক্ষেত্র বিশেষে উদগ্রাহর মধ্যেও অন্তর্নিহিত
থাকতে পারতো। এই অন্তর্নিহিত থাকার ব্যবস্থাটা বিশেষভাবে প্রচলন ছিল
দ্বিধাতু ও ত্রিধাতুযুক্ত প্রবন্ধ গানগুলির ক্ষেত্রে। অধিকন্তু, দ্বিধাতু ও ত্রিধাতুযুক্ত
অনেক প্রবন্ধ গানের মধ্যে আবার “আভোগ আচরণে”রও অবকাশ থাকতো।