कामन्दकीय नीतिसार (आचार्य कामन्दक - प्राचीन भारतीय राजनीति शास्त्र)
Kamandakiya Nitisara with Hindi Commentary
आचार्य कामन्दक / पं. ज्वालाप्रसाद मिश्र द्वारा
১১২ কামন্দকীয় নীতিসার।
নিশ্চয়ই কর্ম্মের ফল ভোগ করিতে সমর্থ হন ॥৩৮॥ সমতল ভূমিতে অশ্ব-
সৈন্যদ্বারা, বিষম অর্থাৎ নিম্নোন্নত প্রদেশে হস্তি-সৈন্যদ্বারা, জলাকীর্ণ প্রদেশে
নৌসৈন্যদ্বারা এবং জল ও পর্ব্বতাদিযুক্ত মিশ্রপ্রদেশে হস্তী অশ্ব ও নৌ-
মিশ্রিত-সৈন্য সমভিব্যাহারে অভিযান করিবেন; অর্থাৎ যেমন দেশ কাল
দেখিবেন তদনুরূপ সৈন্য লইয়া যাত্রা করিবেন ॥৩৯॥ [ রাজা ] বর্ষাকালে
মরুভূমিতে, গ্রীষ্মকালে জলদুর্গযুক্ত জলাকীর্ণপ্রদেশে এবং মিশ্রপ্রদেশে যখন
স্বচ্ছন্দে যাওয়া যায় সেইরূপ সময়ে বিজয়লাভের জন্য শত্রুর দেশে যুদ্ধ
যাত্রা করিবেন ॥৪০॥ অত্যন্ত জল বহুল পথদি বা অত্যন্ত জলশূন্য পথ ধরিয়া
যাইবে না, কিন্তু যে পথে হস্তী ও অশ্বাদির খাদ্য ও কাষ্ঠ পাওয়া যায় সেই
পথ ধরিয়া বহুতর নীতিজ্ঞ-ব্যক্তিকে সঙ্গে লইয়া সুখ স্বচ্ছন্দে রিপুর প্রতি
অভিযান করিবেন ॥৪১॥ শত্রুর দেশে যে পর্য্যন্ত নিজের বীবধ ও আসার
অক্ষুণ্ণ থাকে, জল পাওয়া যায় এবং যেখানে আক্রান্ত লোকেরা বিশ্বাসীর
ন্যায় আচরণ করে, সেই বিশুদ্ধ-দেশ পর্যন্তই শত্রুর দেশে যাইবেন, কিন্তু
যেখান হইতে পীড়া আরম্ভ হয় অর্থাৎ বীবধ আসার প্রভৃতির অভাব ঘটে,
:সেইস্থান হইতে আর অগ্রসর হইবেন না ॥৪২॥ যে মূঢ় অর্থাৎ অনীতিজ্ঞ
রাজারা শত্রুর দেশের অবস্থা পর্যালোচনা না করিয়া সহসা দূরপ্রদেশে
অভিযান করেন তাঁহারা শত্রুর অযত্নসাধ্য খড়্গের আলিঙ্গন শীঘ্রই
প্রাপ্ত হন ॥৪৩॥
[ অতঃপর ১৬টি শ্লোকে বিজিগীষুর স্বকীয় চেষ্টা দেখাইতেছেন ]
অভিযানের পথে স্কন্ধাবার সংনিবেশে নিপুণ রাজা দুর্গে স্কন্ধাবার স্থাপন
করিয়া যথাবিধি বাহ্যাভ্যন্তরের রক্ষা বিধান করিয়া সুসজ্জিত যোদ্ধাগণকে
পার্শ্বে রাখিয়া রাত্রিকালে উপযুক্ত ভাবে যোগ-নিদ্রায় (মায়া নিদ্রায়
অর্থাৎ সামান্য শব্দ মাত্রেই নিদ্রা ভঙ্গ হয় এইরূপ ভাবে) নিদ্রিত
হইবেন ॥ ৪৪ ॥ যে রাজা প্রহরীর কার্য্যে নিযুক্ত তুরঙ্গের হ্রেষারব এবং
গজেন্দ্রগণের গললগ্ন ঘণ্টারব শুনিতেছেন, তিনি মধ্যে মধ্যে জাগিয়া উঠিয়া
১৬শ সর্গ ] যাত্রা ও অভিযোগ প্রদর্শন। ১১৩
সাবধানে কে পাহারা দিতেছে তাহা আগ্রহের সহিত সন্ধান করিবেন ॥৪৫॥
অনন্তর [ রাজা ] জাগরিত হইয়া প্রাতঃকৃত্যাদি সমাপনান্তে দেবপূজা
করিবেন, তারপর সুন্দর বেশ ভূষায় সুসজ্জিত হইয়া হৃষ্টচিত্ত হইবেন,
তখন প্রধান মন্ত্রীগণ পুরোহিত অমাত্য ও সুহৃদ্গণ তাঁহাকে যথাবিধি
সেবা করিবেন ॥ ৪৬ ॥ তখন রাজা তাহাদিগের সহিত কর্ত্তব্য কাৰ্য্য
বিচার করিয়া সুন্দর যানে আরোহণ করিয়া সৎকুলজাত-আত্মতুল্য বিশ্বাসী
শস্ত্রধারী সৈন্যগণে পরিবেষ্টিত হইয়া বাহির হইবেন ॥ ৪৭ ॥ রাজা পূর্ব্বাহ্ণে
এবং অপরাহ্ণে হস্তী রথ ও অশ্বের গতি এবং সৈন্যগণকে দলবদ্ধ ভাবে ও
পৃথক্ভাবে দেখিবেন ; আর বিবক্ষিতগণকে ( উপদেশার্হ-সেনাপতিগণকে ) *
সুসজ্জিত গজেন্দ্র ও তুরঙ্গম গুলিকেও দেখিবেন ॥ ৪৮ ॥ তিনি সকলেরই
সহজগম্য হইবেন, ঈষৎ হাস্য সহকারে কথা বলিবেন, প্রিয়বাক্য বলিবেন,
মাহিনা বৃদ্ধি করিয়া দিবেন। প্রিয়বাক্য ও দান দ্বারা বাধ্য লোকেরা প্রভুর জন্য
প্রাণত্যাগ করিয়া থাকে ॥ ৪৯ ॥ রথ-অশ্ব-নৌকা-হস্তী-পরিচালনে সুদক্ষ
হইয়াও এবং ধনুর্ব্বিদ্যায় পারদর্শী হইয়াও প্রত্যহ এইগুলির অভ্যাস
রাখিবেন। দুষ্কর কর্ম্মগুলিতেও নিত্য অভ্যাস, বুদ্ধিমান্ ব্যক্তিদিগের
নৈপুণ্য জন্মাইয়া দেয় ॥ ৫০ ॥ রাজা সামন্তরাজার দূতের সহিত নিপুণভাবে
মন্ত্রণা করিয়া সুসজ্জিত প্রকাণ্ড হস্তীতে আরোহণ পূর্ব্বক সুসজ্জিত
সৈন্যগণ সমভিব্যাহারে প্রধান বীরগণে পরিবৃত হইয়া যাত্রা করিবেন ॥৫১॥
রাজা বুদ্ধিমান্ দূতগণ ও চরগণের সাহায্যে শত্রুদিগের প্রচার অবগত
হইবেন। যে রাজা এইগুলি হইতে বিমুক্ত হন তিনি অন্ধ ॥ ৫২ ॥ শত্রুর
অন্তপালকে রাজা লোভ দেখাইয়া ও কিঞ্চিৎ দিয়া মিত্র করিয়া লইবেন।
রাষ্ট্র মধ্যে বিক্রেয়-দ্রব্য লইয়া যাহারা বার বার শত্রুতা করে, তাহাদিগের নিকট
হইতে যে দ্রব্যের কাটূতি অতিশয়, সেই পণ্য দ্রব্যের শুল্ক গ্রহণ করিবেন ॥৫৩॥
[ বিজীগীষু ] দূত-প্রেরণ করিয়া যে সন্ধি করিতেছেন তাহাতে অভিলষিত
টীকাকার মতে = বিবক্ষিত বলিতে শৌর্য্যাদি গুণযুক্ত।
১১৪ কামন্দকীয় নীতিসার।
প্রকৃতি-ভেদ প্রভৃতি কার্য্য শীঘ্র শীঘ্র করিয়া ফেলিবেন; যদি সন্ধি না হয়
তাহা হইলে [ প্রকৃতি ভেদ হওয়ায় ] শত্রু একা হইয়া পড়িবে এবং
বিজিগীষুর আত্মপক্ষের উন্নতি হইবে ॥ ৫৪ ॥ অভিযানের পথে রাজা শত্রুর
দুর্গপালগণ আটবিকগণ ও অন্তপালগণকে সাম দানে বশীভূত করিবেন;
তাহা হইলে বিরুদ্ধদেশে [ সঙ্কটাপন্ন প্রদেশে ] অবরোধ ঘটিলে তাহারা
রাজাকে নির্গমের পথ দেখাইয়া দিয়া থাকে ॥ ৫৫ ॥ কোন কারণে
(নিজের দোষে) বা অকারণে (স্বামীর দোষে) শত্রু-পক্ষীয় কোন ব্যক্তি
যদি স্বপক্ষে আসে অথবা নিজ পক্ষীয় কোন ব্যক্তি শত্রুপক্ষ অবলম্বন
করিয়া ঐ শত্রু-পক্ষকে ত্যাগ করিয়া পুনরায় স্বপক্ষে আসে, রাজা তাহাদের
গতি বিশেষরূপে অবগত হইবেন ॥ ৫৬ ॥ মন্ত্র ও সৈন্যবলে বলীয়ান্ হইয়া
শত্রুজয়াভিলাষী নরপতি প্রথমেই নিপুণভাবে কর্ত্তব্যের বিচার করিবেন,
যেহেতু বাহুবল অপেক্ষায় মন্ত্রবলই গুরুতর। দেখা যায়, ইন্দ্র মন্ত্রণা বলেই
অসুরদিগকে জয় করিয়াছিলেন ॥ ৫৭ ॥ [ রাজা ] উদ্যম সহকারে নির্ম্মল
বুদ্ধিতে বিবেচনা করিয়া যে কার্য্য করেন তাহা উৎকৃষ্ট ফল প্রদান করে।
নীতিজ্ঞ ব্যক্তি যথাকালেই কার্য্য করিবেন, অকালে আরম্ভ করিলে
কার্য্য ফলপ্রদ হয় না ॥ ৫৮ ॥ প্রভাবসম্পন্ন, শ্রুতসম্পন্ন, শৌর্য্যশালী, উপযুক্ত
ভাবে বিচারপূর্ব্বক-কার্য্যকারী, উচ্চচেতা পুরুষগণের ভুজঙ্গদীর্ঘ-বাহুদণ্ডে
অসাধারণ দীপ্তি চিরকাল বিরাজমান্ থাকে ॥ ৫৯ ॥ সৈন্যসমৃদ্ধিশালী
নরপতি প্রচুরশস্যসম্পন্নকালে অর্থাৎ অগ্রহায়ণমাসে, অথবা জল কাদা
বিহীনসময়ে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ মাসে, কিংবা মুকুলিত-আম্রবৃক্ষের শোভায়
যখন বন সকল সমুজ্জ্বল হইয়া উঠে সেই সময় অর্থাৎ বসন্তকালে উদ্ভূতশক্তি
হইয়া অর্থাৎ সৈন্য-সামর্থ্য প্রকাশ করিয়া জয়লাভের জন্য শত্রুরাজ্যে নির্ব্বিঘ্নে
গমন করিবেন ॥ ৬০ ॥ এই পূর্ব্ব কথিত রীতি অনুসারে উদ্যোগসম্পন্ন-
নরপতি শত্রুকে আক্রমণ করিবার ইচ্ছায় অভিযান করিবেন। এইরূপে
নীতিশাস্ত্রানুসারে বিষয়ের সেবা করিলে নিয়তই শত্রুবর্গ বশবর্ত্তী হইয়া
४. युद्ध-नीति, सेना-व्यूह, बल-साधन व उपसंहार (सर्ग १३-२०)
১৭শ সর্গ ] স্কন্ধাবারনিবেশ। ১১৫
থাকে॥ ৬১॥ ইতি কামন্দকীয়-নীতিসারে যাত্রা ও অভিযোক্তা প্রদর্শন-
নামক ষোড়শসর্গ॥
—
সপ্তদশ-সর্গ *
স্কন্ধাবারনিবেশ।
শত্রুপুরের নিকটে যাইয়া উপযুক্ত ভূমিতে স্কন্ধাবার ( শিবির ) সন্নিবেশে
সুনিপুণব্যক্তি স্কন্ধাবার স্থাপন করিবেন ॥ ১॥
ভূমির আকার অনুসারে অর্দ্ধচন্দ্রাকার অথবা গোলাকার অথবা
লম্বা আগার অর্থাৎ স্কন্ধাবার নির্মাণ করিবে। উহা চতুষ্কোণ ও চারিটি
দ্বার যুক্ত হইবে; অত্যন্ত বিস্তৃত বা সঙ্কীর্ণ হইবে না—অট্ট ( গৃহ )-প্রতোলী
( বড় রাস্তা )-প্রাকার ( প্রাচীর ) যুক্ত এবং বিস্তৃত খাতবেষ্টিত হইবে; আর
উহার চারিদিকে রাস্তা থাকিবে ॥ ২-৩॥ স্কন্ধাবারের মধ্যে রাজমন্দির ( রাজার
থাকিবার স্থান ) করিতে হইবে, উহা নির্জ্জন স্থানে হইবে এবং উহার সহিত
অন্য ঘরের চারি হাত ব্যবধান থাকিবে; গৃহের বারাণ্ডা বিস্তৃত হইবে, গৃহটি
গুপ্ত ভাবাপন্ন হইবে, গৃহটি কক্ষপুটাকার ( নবকোষ্ঠযুক্ত ) হইবে ( পাঠান্তরে
গৃহটি উচ্চচূড়াযুক্ত হইবে ), ঐ গৃহের চারিদিকে সুপ্রশস্তপথ থাকিবে এবং
গৃহটি অত্যন্ত মনোরম হইবে, উহা অত্যন্ত বিশ্বস্ত-সৈন্যবর্গে বেষ্টিত থাকিবে
ও ঐ গৃহের মধ্যে কোষাগার থাকিবে॥ ৪-৫॥ রাজগৃহের চতুর্দ্দিকে
মৌলবল ( অত্যন্তবিশ্বস্ত সৈন্যদল ), ভৃত্যবল, শ্রেণিবল (স্বেচ্ছাসৈন্য),
দ্বিষদ্বল ( শত্রুপক্ষ হইতে স্বপক্ষে আগত সৈন্যদল ) এবং আটবিকবল
যথাক্রমে সন্নিবেশিত করিবে॥ ৬॥ [ স্কন্ধাবারের ] অন্তভাগে স্ববর্গীয়-
সৈন্য (স্বজাতীয় সৈন্য ), ক্রূরসৈন্য, অলোভী-সৈন্য, দৃষ্টকর্ম্মা (যাহারা যুদ্ধ
- কলিকাতা সংস্করণে ইহা ষোড়শসর্গ।
১১৬ কামন্দকীয় নীতিসার।
করিয়াছে এমন) সৈন্য, পর্যাপ্তবেতনভোগী সৈন্য এবং বিশ্বস্ত সৈন্য—ইহাদিগকে
মণ্ডলাকারে স্থাপন করিবে। (পাঠান্তরে—শিবিরের শেষভাগে অসংখ্য-ক্রূর-
সৈন্য, লোভী-সৈন্য, দুষ্টকর্ম্মকারী সৈন্য, পর্যাপ্তবেতনপ্রাপ্ত-সৈন্য ও অত্যন্ত
বিশ্বস্ত সৈন্যদিগকে মণ্ডলাকারে স্থাপিত করিবে) ॥৭॥ নরপতির গৃহের উপকণ্ঠে
অত্যন্তবিশ্বস্ত-রক্ষিগণকর্ত্তৃক রক্ষিত খ্যাতনামা-হস্তীসকল ও অত্যন্ত দ্রুতগামী
অশ্বগণ থাকিবে ॥ ৮॥ রাজাকে রক্ষা করিবার জন্য সুসজ্জিত অন্তর্ব্বংশিক-
সৈন্যগণ দিবারাত্র উদ্যতায়ুধ হইয়া প্রহর ভাগ করিয়া পাহারা দিবে ॥৯॥ যুদ্ধ-
যোগ্য অথচ সুসজ্জিত এবং উপযুক্ত রক্ষক দ্বারা রক্ষিত মহাহস্তী ও বেগবান্-
অশ্ব রাজার দ্বারদেশে থাকিবে ॥ ১০॥ রাত্রিকালে শিবিরের বাহিরে একদল
সুসজ্জিত সৈন্য সেনাপতির সহিত যত্নসহকারে শিবিরের চতুর্দ্দিকে ঘুরিয়া
বেড়াইবে ॥ ১১॥ সত্ত্বসম্পন্ন, অতিদ্রুতগামী, সুদূরসীমান্তে, ভ্রমণকারী,
বায়ুগতি অশ্বারূঢ়-সৈন্যগণ পরসৈন্যের প্রচার ( গতিবিধি ) জানিবে ॥ ১২॥
তোরণদ্বারগুলি মাল্যে সুশোভিত হইবে, যন্ত্র ( শত্রু প্রতিরোধের উপযোগী
কামান প্রভৃতি অস্ত্র ) যুক্ত হইবে এবং পতাকায়ুক্ত হইবে; আর ঐ
দ্বারগুলি অত্যন্তবিশ্বস্ত-রক্ষকগণ দ্বারা রক্ষিত হইবে ॥ ১৩॥ সকলেই
প্রকাশ্যভাবে প্রবেশ করিবে ও বাহিরে যাইবে এবং বিপক্ষ-দূত সকল
রাজার আদেশ মত কার্য্য করিবে ॥ ১৪॥ সমুদয় লোক বৃথা কোলাহল
হাস্য দ্যূতক্রীড়া ও সুরাপানাদি পরিত্যাগ করিয়া সুসজ্জিত হইয়া কার্য্যের
জন্য প্রস্তুত থাকিবে ॥ ১৫॥ খাতের বাহিরের ভূমিতে স্বপক্ষীয় সৈন্যগণের
সঞ্চার ভূমি ত্যাগ করিয়া শত্রুসৈন্য-বিনাশের জন্য অবশিষ্ট ভূমি নষ্ট করিয়া
ফেলিবে অর্থাৎ শত্রুরা ঐ জমি ভাল বলিয়াই জানিবে কিন্তু ঐ ভূমির
অভ্যন্তর খাত ও তীক্ষ্ণ-লোহকীলকাদি-পরিপূর্ণ এবং উহার উপরে ঘাসের
চাপড়া দিয়া এমন সুন্দর ভাবে রাখিবে যে উপর হইতে সকলেই উহাকে
সমতল ভূমি বলিয়াই বুঝিবে ॥ ১৬॥ ঐ ভূমির কোন স্থানে কাঁটা গাছের
ডালে পরিপূর্ণ হইবে, কোন স্থানে লোহার ফলাযুক্ত শূল থাকিবে, কোন
১৭শ সর্গ ]
নিমিত্তজ্ঞান।
১১৭
স্থানে গর্ত্ত সকল তৃণাচ্ছাদিত থাকিবে, এইরূপে সমস্ত ভূমি প্রচ্ছন্ন ভাবে
দূষিত করিয়া রাখিবে ॥ ১৭ ॥ বৃক্ষ গুল্ম পাষাণ মৃদ্গাছ বল্মীক ও গর্ত্ত শূন্য
স্থানে সৈন্যদিগের যুদ্ধ-চর্চ্চার স্থান করিবে এবং সেখানে যুদ্ধের নানাবিধ
সাজ সজ্জা থাকিবে ॥ ১৮ ॥ যে দেশে সৈন্যদিগের ব্যায়াম-ভূমি (যুদ্ধ
চর্চ্চার স্থান) উত্তমরূপ পাওয়া যায় কিন্তু শত্রুরা সেইরূপ উপযুক্ত ব্যায়াম-
ভূমি পায় না, সেই দেশই উত্তম দেশ ॥ ১৯ ॥ যে দেশে আপনার ও
শত্রুর ব্যায়াম ভূমি সমান, নীতিশাস্ত্রবিচারকারী ব্যক্তিগণ সেই দেশকে
মধ্যম বলিয়া নির্দ্দেশ করিয়াছেন। যে দেশে শত্রুসৈন্যের ব্যায়ামভূমি
উপযুক্ত কিন্তু নিজের তাহার বিপরীত, সেই দেশ অধম বলিয়া কথিত ॥ ২১ ॥
কার্য্য-সিদ্ধির জন্য সর্ব্বদাই উত্তমদেশের আকাঙ্ক্ষা করিবে, উহার অভাবে
মধ্যম দেশের অভিলাষ করিবে, কিন্তু বন্দনাগার স্বরূপ অধম দেশের সেবা
কখনই করিবে না ॥ ২২ ॥ ইতি স্কন্ধাবার নিবেশন ॥
নিমিত্তজ্ঞান।
[ ২৩ হইতে ৪০ শ্লোক পর্যন্ত স্কন্ধাবার সম্বন্ধীয় নিমিত্ত কথন। ইহার
মধ্যে ২৩ হইতে ২৮ শ্লোক পর্যন্ত অশুভ নিমিত্ত বলিতেছেন।]
যে স্কন্ধাবার কোন রাজার দ্বারা যেন আক্রান্ত, নানাব্যাধিতে পীড়িত,
হঠাৎ উদ্বেগগ্রস্ত, ধূলি ও নীহারে আবৃত, ধূমাচ্ছন্ন, প্রবলবায়ু-পীড়িত, যাহা
হইতে অকস্মাৎ ধ্বজা পড়িয়া যায়, যেখানে পরস্পর ঝগড়া বাধে, তূর্য্যধ্বনি
উত্তমরূপে প্রকাশ পায় না, মৃত্যু ও ভয়ের আশঙ্কা উপস্থিত হয়, যে শিবির
নির্ঘাত (বজ্রপাত) ও উল্কাপাতে দূষিত, যেখানে কোষনিঃসারিত ও জ্বলন্ত
অস্ত্রও মলিন হইয়া যায়, যেখানে শিবারব প্রতিকূল, যেখানে কর্কশ শব্দকারী
কাক ও শকুনিগণ মণ্ডলাকারে ঘুরিয়া বেড়ায়, যে স্থান বার বার ভয়ানক-
ভাবে দীপ্তি পায়, যেখানে রক্তবৃষ্টি হয়, যেখানে ক্রূর (রাহু মঙ্গল শনি)
ও ঔৎপাতিক (কেতু প্রভৃতি) গ্রহকর্তৃক রাজনক্ষত্র (বৃহস্পতি প্রভৃতি)
পীড়িত হয়, যেখানে সূর্য্য-মণ্ডলে কবন্ধ দৃষ্ট হয়, যেখানে গজতুরগাদি বাহন
১১৮ কামন্দকীয় নীতিসার।
সকল হঠাৎ জড়ভাবাপন্ন হয় এবং যেখানে মদমত্ত হস্তীর দানবারি হঠাৎ
শুকাইয়া যায়, এইরূপ বিকারযুক্ত স্কন্ধাবার প্রশস্ত নয় ॥ ২৩-২৮ ॥
[ এক্ষণে শুভ নিমিত্ত কথিত হইতেছে।] যে স্কন্ধাবারে নরনারী হৃষ্টচিত্ত,
দুন্দুভি উত্তমরূপ বাজে, অশ্বের হ্রেষারব গম্ভীর; যে স্কন্ধাবার হস্তীর বৃংহিত-
ধ্বনিতে পরিপূর্ণ, পুণ্যদিনে বেদধ্বনিতে মুখরিত, নৃত্যগীত পরিপূর্ণ, উপদ্রব-
রহিত (পাঠান্তরে—ভয়শূন্য), মহোৎসাহসম্পন্ন, যাহাতে আকাঙ্কিত
লোক উপস্থিত হয় (পাঠান্তরে—অভিলাষানুরূপ জয়লাভ হয়), যাহা ধূলি-
শূন্য, উপযুক্ত-বৃষ্টিসম্পন্ন, যাহার ভাগ্যচক্রে গ্রহগণ শুভস্থানে অবস্থিত,
যাহা দিব্য-অন্তরিক্ষ ও ভৌম এই ত্রিবিধ উৎপাতপরিশূন্য; যে
স্কন্ধাবারে পক্ষিগণ প্রশস্ত শব্দ করে, * শিবারব অনুকূল, * মৃদু অথচ
অনুকূল বায়ু প্রবাহিত হয়, বন্দিগণ মঙ্গল স্তুতি করে, লোক সকল
হৃষ্টপুষ্ট এবং পরস্পর হিংসাশূন্য, অগ্নি স্বভাবতঃ সুগন্ধি হইয়া প্রজ্বলিত
হয়, মত্তমাতঙ্গ মন্দভাব প্রাপ্ত হয় না এবং আসার অভ্যুদয়যুক্ত হয়—এইরূপ
লক্ষণযুক্ত স্কন্ধাবারই প্রশস্ত ॥ ২৯—৩৩ ১/২ ॥ স্কন্ধাবার শুভ হইলেই শত্রুর
পরাজয় হয়, আর স্কন্ধাবার অপ্রশস্ত হইলে বিপরীত হয় অর্থাৎ শত্রুর
জয় হয়। (নিমিত্তই শুভাশুভ বলিয়া দেয়।) † ॥ ৩৪ ॥ যেহেতু নিমিত্ত-
গুলিই কার্য্যসমূহের সিদ্ধি ও অসিদ্ধি জানাইয়া দেয়, অতএব আত্মহিতা-
কাঙ্ক্ষী রাজা তত্ত্বতঃ এই নিমিত্তগুলি অবগত হইবেন ॥ ৩৫ * * ॥
(অতএব শাস্ত্রজ্ঞ রাজা এই নিমিত্তগুলি লক্ষ্য করিবেন) ‡ ॥ কার্য্যের
আরম্ভ সময়ে যদি শুভ-নিমিত্ত দেখা যায় এবং যদি অন্তঃকরণ বিশুদ্ধ থাকে
তাহা হইতে ঐ আরব্ধ কার্য্য নিশ্চয়ই সিদ্ধ হয় ॥ ৩৬ ॥ সহায়-সম্পৎ, বিজ্ঞান,
সত্ত্ব, দৈবানুকূল্য, উদ্যোগ, অধ্যবসায় (পাঠান্তরে—ব্যবসায়)—এইগুলি
- এই অংশটি কলিকাতা সংস্করণে নাই।
† এই বন্ধনীর অন্তর্গত অংশ কলিকাতা সংস্করণে অতিরিক্ত। -
- কলিকাতা সংস্করণে এই অংশ নাই।
‡ এই বন্ধনীর অন্তর্গত অংশ ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণে নাই। কলিঃ ৩৪ ১/২ সংখ্যার শ্লোক।
- কলিকাতা সংস্করণে এই অংশ নাই।
१८-श सर्ग ] उपायविकल्प । ११९
याहार थाके ताहार कार्य्यसिद्धि हइया थाके ॥ ३७ ॥ राजा प्रजादिगेर मूल ;
एइजन् राजाके स्कन्ध कहे। एखाने अमात्य ओ दण्डप्रभृतिइ आबार।
बेष्टनकेइ आबार कहे। अर्थात् शाखागुलि येमन गाछेर गुँड़िके
आश्रय करिया थाके सेइरूप प्रजावर्ग राजाके आश्रय करिया थाके बलिया,
राजा स्कन्धस्वरूप एवं गाछेर गुँड़िते येमन आलवाल थाके सेइरूप अमात्य-
दण्डप्रभृति राजस्वरूप-वृक्षेर आलवाल बा आबार ॥ ३८ ॥ प्रजावर्गेर
त्रिवर्गसिद्धिर जन्य प्रकाण्ड आबार द्वारा स्कन्ध आवृत थाके ; अतएव स्कन्धके
आवृत करे बलियाइ इहाके स्कन्धावार कहे ॥ ३९ ॥ विपक्षेर आक्रमण, घास,
( पाठान्तरे—बास ), जल, बीवध ओ आसार एइगुलिर निग्रह—स्कन्धावारेर
मृत्युस्वरूप ; अतएव एइगुलिके सयत्ने रक्षा करिबे ॥ ४० ॥ एइ पूर्व्वकथित-
रूप यत्न लइया सैन्य सन्निवेश करिबे, इहार शुभाशुभ निमित्त लक्ष्य करिबे
एवं शत्रुपक्षेरओ एइ समुदय निपुण भावे देखिबे। अनन्तर यखन कोन-
दिकेइ अशुभ देखा याइबे ना, तखन विग्रह करिबे ॥ ४१ ॥ इति कामन्दकीय-
नीतिसारे स्कन्धावार-निवेशन ओ निमित्तज्ञान नामक सप्तदश-सर्ग ॥
———
अष्टादश-सर्ग *
उपायविकल्प ।
महाबुद्धिशाली राजा सहायसम्पन्न हइया ( पाठान्तरे—सत्त्व-सम्पन्न ओ
दैवबले बलीयान हइया ) उद्योग ओ अध्यवसाय सहकारे शत्रुर प्रति उपाय
समुदय प्रयोग करिबेन ॥ १ ॥ उत्तम-मन्त्रशक्ति-सम्पन्न राजा चतुरङ्गसैन्य परिहार
करिया कोष ओ मन्त्र द्वारा युद्ध करिबेन। अग्रे मन्त्रद्वारा परे कोषद्वारा
( अर्थात् प्रथम साम ओ भेदद्वारा शत्रुके वशीभूत करिबेन, यदि उहा द्वारा शत्रु
- कलिकाता संस्करणे इहा सप्तदशसर्ग ॥
১২০ কামন্দকীয় নীতিসার।
বশীভূত না হয় তাহা হইলে পরে অর্থদ্বারা) শত্রুকে জয় করিবেন ॥২॥
[শত্রু জয় পক্ষে] সাম, দান, ভেদ ও দণ্ড এই চারটি এবং মায়া উপেক্ষা ও
ইন্দ্রজাল এই তিনটি মোট সাতটি উপায় কথিত আছে ॥৩॥
সামপ্রভেদজ্ঞ (পাঠান্তরে—প্রয়োগজ্ঞ) পণ্ডিতগণ পরস্পরের উপকার
করা, পরস্পরের গুণকীর্ত্তন করা, পরস্পরের সম্বন্ধ প্রকাশ করা, ভব্যতের
শুভ সূচনা করা, মধুর বাক্যে আমি তোমারই বলিয়া আত্মসমর্পণ করা, এই
পাঁচ প্রকার সাম নির্দেশ করিয়াছেন ॥৪-৫॥
প্রাপ্ত অর্থের উত্তম মধ্যম বা অধম দান, গৃহীতধনের অনুমোদনপূর্ব্বক
প্রতিদান, অপূৰ্ব্ব দ্রব্যের দান, শত্রু স্বয়ংই যাহাতে ধনগ্রহণ করে তাহার
প্রবৃত্তি দেওয়া এবং দেয় ধনের রেহাই করা, এই পাঁচ প্রকার দান কথিত
হইয়াছে ॥৬-৭॥
ভেদনীতিজ্ঞ পণ্ডিতগণ স্নেহ ও অনুরাগ নষ্ট করা, ঝগড়া বাধাইয়া দেওয়া
এবং সন্তর্জ্জন (শাসন), এই তিন প্রকার ভেদ নির্দ্দেশ করেন ॥৮॥
দণ্ড বিভাগজ্ঞ পণ্ডিতগণ বধ, অর্থ-হরণ ও ক্লেশপ্রদান, এই তিন প্রকার
দণ্ড নির্দ্দেশ করেন ॥৯॥ প্রকাশ ও অপ্রকাশ ভেদে বধ দুই প্রকার।
হত্যাকারী ও পারদারিক প্রভৃতি লোকপীড়নকারী শত্রুগণকে প্রকাশ্যভাবে
বধ করিবে ॥১০॥ যে সকল লোক মরিলে লোক উদ্বিগ্ন হয়, যাহারা রাজার
প্রিয়পাত্র এবং যাহারা ক্ষমতাসম্পন্ন বলিয়া কার্য্যে বাধা দেয়, এই সকল
লোকের প্রতি উপাংশু দণ্ড (অর্থাৎ অপ্রকাশ্যে বধ) প্রশস্ত ॥১১॥ খাদ্যাদির
সহিত বিষপ্রয়োগ, উপনিষদ্যোগ (অর্থাৎ গোপনে অগ্নিপ্রয়োগাদিদ্বারা
বধ), শস্ত্রাঘাত অথবা উদ্বর্ত্তন (অর্থাৎ বিষাক্ত-অনুলেপন)—এই সমস্ত
গুপ্তভাবে প্রয়োগ করিয়া দণ্ডবিধান করিবে, যাহাতে অন্যকেহ জানিতে না
পারে ॥১২॥ নীতিবিশারদ রাজা কেবল জাতিতে ব্রাহ্মণ হইলেই তাহার প্রতি,
অথবা ধাৰ্ম্মিক অন্ত্যজ ব্যক্তির প্রতি, ধর্ম্মের উন্নতি করিবার জন্য বধদণ্ডের
আদেশ করিবেন না ॥১৩॥ যাহাদের প্রতি উপাংশুদণ্ড প্রশস্ত [রাজা]
১৮শ সর্গ ] उपायविकल्प। १२१
ताहादिगके उपेक्षा द्वारा बध करिबेन अर्थात् केह ताहादिगके बध करिले
सेइ हत्याकारीके उपेक्षा करिबेन। नीतिनिपुण नरपति ऐ उपेक्षाओ
प्रत्यक्षभावे करिबेन ना अर्थात् ऐ बधकारीके दण्डदिबार जन्य बाह्यिक
आडम्बर देखाइया लोकके बुझिते दिबेन ना ये तिनि उपेक्षा
करितेछेन ॥१४॥
[ ये सकल लोकेर प्रति सामप्रयोग करिते हइबे ताहादेर ] अन्तः-
करणे प्रवेश करिया सतृष्णनयने अवलोकनपूर्व्वक अमृतक्षरणकारी प्रिय-
वाक्य-स्वरूप सामप्रयोग करिबेन ॥१५॥ ये वाक्ये लोकेर उद्वेग जन्मे ना,
सेइ वाक्यके साम बले। सूनृत सान्त्व ( आमि तोमारइ ) ( पाठान्तरे—
सत्य ) प्रिय एवं स्तब—एइगुलिर प्रत्येकेर नाम साम [ व्याख्याकारधृत-
पाठानुसारे—एतदतिरिक्त सम्बन्ध-प्रकाशक वाक्यओ साम-पदे कथित
हय ] ॥१६॥ “आमि त तोमार केना” एइ भाबेइ ताहार अभिप्रेत बस्तु
दान करिबे, किन्तु अलक्षितभावे जल येमन पर्व्वत मध्ये प्रवेश करिया
शेषे ऐ पर्व्वतके भेद करे सेइरूप शत्रुके भेद करिबे ॥१७॥ दण्डपाणि-
यमेर न्याय दुर्द्धर्ष हइया दण्डार्ह-व्यक्तिगणेर प्रति दण्डप्रयोग करिबे ;
प्रत्यक्ष-बधकेओ अप्रत्यक्षेर न्याय व्यवहार करिबे ॥१८॥ विद्वान् व्यक्ति
सामप्रयोग करिया कार्य्यसिद्धि करिबार जन्य मन दिया यत्न करिबे।
नीतिज्ञगण सर्व्वत्रइ सामद्वारा कार्य्य-सिद्धिर प्रशंसा करेन ॥१९॥*॥ सामप्रयोग
करिया देव ओ दानवगण फललाभेर जन्य क्षीर-समुद्र मथित करियाछिल।
आर धृतराष्ट्रेर तनय दुर्य्योधन प्रभृति साम-विद्वेषी हइया अचिरात्
[ पाण्डवहस्ते ] निहत हइयाछिल ॥२०॥
नीतिज्ञ पण्डित दारुणविग्रह दान द्वारा प्रशमित करेन, येमन इन्द्र
शुक्राचार्य्येर अपचार ( अहिष्टाचार ) दानेर द्वारा प्रशमित करियाछिलेन
॥२१॥ दानवेन्द्र वृषपर्व्वार पुत्री शर्मिष्ठा अपराध करिले ( अर्थात् शुक्राचार्य्येर
- १८, १९ श्लोक दुइटि कलिकाता संस्करणे नाइ ॥
১২২ কামন্দকীয় নীতিসার।
দুহিতা দেবযানীকে কূপে নিক্ষেপ করিলে) শুক্রাচার্য্য কুপিত হন, তখন
দানবেন্দ্র দানদ্বারা (অর্থাৎ শর্মিষ্ঠাকে দেবযানীর দাসীরূপে প্রদান করিয়া)
সুখী হইয়াছিলেন ॥২২॥ শান্তি লাভেচ্ছু ব্যক্তি বলবানকে অনুরোধ করিয়াও
দান করিবে; কেননা দুর্য্যোধন দান না করায় সমূলে বিনষ্ট হইয়াছিলেন ॥২৩॥
উভয় পক্ষের বেতনগ্রাহী দূতদ্বারা প্রবিষ্ট হইয়া [শত্রুপক্ষকে] কিঞ্চিৎ
দিয়া লোভের আশা পরিবর্ধিত করিয়া চতুর্ব্বিধ উপায়ে [অর্থাৎ ক্রোধ
জন্মাইয়া, লোভ দেখাইয়া, ভয় দেখাইয়া বা সম্মান প্রদান করিয়া] ভেদ সাধন
করিবে ॥২৪॥ যাহারা বেতন পায় না তাহাদিগকে লুব্ধ করিয়া, মানী
ব্যক্তিকে অবমানিত করিয়া, ক্রোধী ব্যক্তিকে হঠাৎ রাগাইয়া এবং ভীত
ব্যক্তিকে ভয় দেখাইয়া [উভয়বেতনচর দ্বারা] এই চারি প্রকার ব্যক্তিকে
তাহাদের অভিলষিত বস্তু প্রদান করিয়া ভেদ করিবে। এইরূপে আত্মপক্ষ
এবং পরপক্ষকে বশীভূত করিবে ॥২৫-২৬॥ মন্ত্রী, অমাত্য ও পুরোহিতকে
যত্ন সহকারে ভেদ করিবে; যুবরাজ প্রবল হইলেও ইহাদের ভেদসাধন
করিতে পারিলেই [সমস্ত] ভেদ হয় ॥২৭॥ অমাত্য এবং যুবরাজ ইহারাই
রাজার দুইহাত; এবং মন্ত্রী চক্ষু; ইহারা ভেদ প্রাপ্ত হইলেই (পাঠান্তরে—
একমাত্র মন্ত্রীকে ভেদ করিলেই) রাজার বিনাশ হয় ॥২৮॥ মেধাবী ব্যক্তি
সকল অবস্থাতেই (ক্ষয় লোভ ও বিরাগের অবস্থাতেই) শত্রুর জ্ঞাতিবর্গকে
ভেদ করিবে; আত্মীয়গণ ভেদ-প্রাপ্ত হইলে তাহারা স্বযোনিকে অগ্নির ন্যায়
ভক্ষণ করে অর্থাৎ স্ববংশীয়-রাজার বিনাশের কারণ হয় ॥২৯॥ অভ্যন্তরে
স্থিত (অর্থাৎ অন্তঃপুরচারী অথবা রাজ্যের ভিতরের সংবাদ রাখে এমন
ব্যক্তি সুতরাং বিশ্বাসী) ব্যক্তি জ্ঞাতির তুল্য; অতএব ইহাদিগকে ক্রমশঃ ভেদ
করিবে, এবং ইহাদিগকে বশীভূত করিয়া নিজের পক্ষে আনিবে ॥৩০॥ যে
ব্যক্তি কোপ ও অনুগ্রহ করিতে সক্ষম তাহারই উপজাপ অর্থাৎ ভেদ করা
কর্ত্তব্য। ঐ ব্যক্তি কল্যাণকারী বা শঠ তাহা সূক্ষ্ম বুদ্ধিতে পরীক্ষা করিবে
॥৩১॥ কল্যাণকারী ব্যক্তি সামর্থ্য অনুসারে নিজের কথা রক্ষা করে; আর
১৮শ সর্গ ] উপায়বিকল্প। ১২৩
শঠ ব্যক্তি অর্থ-লাভের আকাঙ্ক্ষায় দুই পক্ষকেই চরায় ॥৩২॥ যাহাকে
পূর্ব্বে আশা দেওয়া হইয়াছে এইরূপ যে অনীচভাবাপন্ন ব্যক্তি প্রাপ্তির
আশায় কালযাপন করিতেছে সেই ব্যক্তি, স্বীয় বৃদ্ধিপ্রার্থী ব্যক্তিকে
বিশেষ সম্মান করিব বলিয়া আহ্বান করিয়া সেরূপ সম্মান না করায় মিথ্যাভাবে
তিরস্কৃত ঐ ব্যক্তি, রাজা যাহাকে দেখিতে পারে না এবং সেও রাজাকে
দেখিতে পারে না এইরূপ রাজার জ্ঞাতি, আহিতব্যবহার ব্যক্তি (যাহাকে ঋণ
দেওয়া হইয়াছে এরূপ ব্যক্তি), কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি, রণপ্রিয়-সাহসী
আত্মাভিমানী ব্যক্তি, ধর্ম্ম অর্থ ও কাম হইতে বিচ্যুত ব্যক্তি, যে মানী ব্যক্তি
অবমানিত হইয়া ক্রুদ্ধ হইয়াছে সেই ব্যক্তি, নিজের দোষে ভীতব্যক্তি, পূর্ব্বে
যাহার সহিত শত্রুতা ছিল এখন শত্রুতা প্রশমিত হইয়াছে এমন ব্যক্তি,
নীচ ব্যক্তির সহিত কার্য্যে নিয়োজিত উচ্চমৰ্য্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, উপযুক্ত
সম্মান হইতে নিরাকৃত ব্যক্তি, বিনা কারণে বা বিশেষ কারণে কারারুদ্ধ
ব্যক্তি, অকারণে পরিত্যক্ত ব্যক্তি, পূজার উপযুক্ত হইয়াও যিনি পূজা পান্ না
এইরূপ ব্যক্তি, যাহার ধন ও স্ত্রী অপহরণ করা হইয়াছে সেই ব্যক্তি, অত্যন্ত
ভোগাভিলাষী ব্যক্তি, পরিক্ষীণ (ধন-জন-সহায়-শূন্য) ব্যক্তি, যাহার
আত্মীয়বর্গ বিদেশস্থ এরূপ ব্যক্তি, যাহার ধনসম্পত্তি বিদেশে এইরূপ
ব্যক্তি, এবং সমাজবহিষ্কৃত ব্যক্তি—ইহারাই ভেদ-যোগ্য বলিয়া কথিত।
শত্রুপক্ষের এইরূপ লোকদিগকে ভেদ করিবে। ইহারা স্বপক্ষে আসিলে
ইহাদিগের সম্মান করিবে; এবং স্বপক্ষীয় এইরূপ লোকদিগকেও বশীভূত
রাখিবে ॥৩৩-৩৯॥
লাভের সমতা প্রদর্শন, অত্যন্ত ভয় প্রদর্শন (পাঠান্তরে—ক্রোধের সহিত
ভয় প্রদর্শন), উৎকৃষ্টদান এবং উৎকৃষ্ট সম্মান, এইগুলি ভেদ করিবার উপায়
॥৪০॥ মতিমান্ রাজা বলবান্ শত্রুর সহিত যুদ্ধে শত্রুপক্ষের ভেদ-সাধন
করিবেন। দেখা যায়, অমরগণ বলবান্ ষণ্ডামার্কের (সুন্দ ও উপসুন্দের)
যুদ্ধে ভেদনীতি প্রয়োগ করিয়া উহাদিগকে পরাজিত করিয়াছিলেন ॥৪১॥
১২৪ কামন্দকীয় নীতিসার।
শত্রুর মিলিত-বলের ভেদসাধন করিয়া দণ্ড-প্রয়োগে শত্রুকে বিধ্বস্ত করিবে।
শত্রুর সমবেত বল ভেদ-প্রাপ্ত হইলে ঘুণধরা কাঠের ন্যায় ভাঙ্গিয়া পড়ে
( পাঠান্তরে—তৃণের ন্যায় লুণ্ঠিত হয় ) ॥ ৪২॥ উৎসাহসম্পন্ন, উপযুক্ত দেশ
ও কাল সম্পন্ন এবং সুসহায়বান্ হইয়া যুধিষ্ঠিরের ন্যায় তীক্ষ্ণ দণ্ডদ্বারা
শত্রুকে অন্তগামী করিবে ॥ ৪৩॥ নিজের বল পরীক্ষা করিয়া বলবানের
প্রতিও দণ্ডপ্রয়োগ করিবে। দেখা যায়, পুরাকালে পরশুরাম একাকী
শক্তিসম্পন্ন হইয়া ক্ষত্র-জাতিকে বিনাশ করিয়াছিলেন ॥ ৪৪॥
অলস, বিক্রান্তে পরিশ্রান্ত, যাহার উপায় ও চেষ্টা শত্রু বিফল করিয়া
দিয়াছে, ক্ষয় ব্যয় প্রবাস ও পরিশ্রমে যে ব্যক্তি উৎপীড়িত হইয়াছে
( পাঠান্তরে—ক্ষয়-ব্যয়-প্রসার অর্থাৎ চাল চলন বৃদ্ধিতে সন্তপ্ত হইয়া
বিপন্ন ), ভীরু, মূর্খ, স্ত্রী, বালক, ধার্ম্মিক, দুর্জ্জন, পণ্ড ( লোক ব্যবহারে
অনভিজ্ঞ ), মৈত্রীপ্রধান অর্থাৎ মিত্রের মুখাপেক্ষী এবং কল্যাণবুদ্ধি
অর্থাৎ সকলের কল্যাণাকাঙ্ক্ষী, এই সকল ব্যক্তিবর্গকে সামপ্রয়োগে
বশীভূত করিবে ॥ ৪৫-৪৬ ॥ লুব্ধ ও ক্ষীণ ব্যক্তিকে দানপূর্ব্বক সংকার
করিয়া বশে আনিবে। *। পরস্পর পরস্পরকে ভয় করে বলিয়া ভেদ-
প্রাপ্ত হয় নাই, এইরূপ দুষ্টব্যক্তিগণকে দণ্ড দেখাইয়া বশে আনিবে ॥ ৪৭॥
পুত্র ভ্রাতা এবং বন্ধুগণকে সাম ও দান দ্বারা বশীভূত করিবে। ইহারা
অনিষ্টকারী হইলেও ইহাদের ন্যায় [ আত্মীয় ] পৃথিবীতে কেহই নাই ॥ ৪৮॥
এই পুত্র ভ্রাতা এবং বন্ধুগণ দৈবাৎ স্খলিত (আপনার বিরুদ্ধাচারী)
হইলেও উহাদিগের প্রতি সামপ্রয়োগ করিবে। যেহেতু চরিত্রবান্
আর্য্যগণ বিকৃত হইলে অত্যন্ত দুর্দ্ধর্ষ হয় ॥ ৪৯ ॥
কুল, শীল, দয়া, দান, ধর্ম্ম, সত্য, কৃতজ্ঞতা ও অলোভ—এই গুণগুলি
যাহাতে থাকে তাহাকে আর্য্য কহে ॥ ৫০ ॥
- এই অংশ কলিকাতা সংস্করণে নাই।
১৮শ সর্গ ] উপায়বিকল্প। ১২৫
দণ্ডনীতিজ্ঞ রাজা, পুরবাসী জনপদবাসী ও সেনানায়কপ্রভৃতি এবং
অপরব্যক্তিগণের প্রতি আবশ্যক অনুসারে দান ও ভেদ নীতি প্রয়োগ
করিয়া তাহাদিগকে বশীভূত করিবেন ৷ ৫১ ৷৷
বিচক্ষণ রাজা, অবরুদ্ধ ব্যক্তিগণ পুত্রভ্রাতাব্যতিরিক্ত জ্ঞাতিগণ
সামন্তগণ এবং অপর ব্যক্তিগণের প্রতি যেরূপ আবশ্যক হইবে সেইরূপ
ভেদনীতি ও দণ্ডনীতি প্রয়োগ করিয়া উহাদিগকে বশীভূত করিবেন।
(পাঠান্তরে—সুস্নিগ্ধ বাক্যে অর্থাৎ বন্ধুবান্ধবগণ অপরাধী হইলে স্নেহবাক্যে মান
ও দান প্রয়োগ করিয়া বশীভূত করিবেন এবং অপর ব্যক্তিগণকে যথাযোগ্য
ভেদ ও দণ্ড-প্রয়োগ করিয়া বশীভূত করিবেন। কলিঃ সঃ ১৭।৫০) ৷ ৫২ ৷৷
দেবতা প্রতিমা ও স্তম্ভ ইহাদের মধ্যে অবস্থিত মনুষ্যগণ, স্ত্রীবেশ-
ধারী পুরুষ, রাত্রিতে অদ্ভুত-দর্শন, বেতাল উল্কা পিশাচ ও শিলা ইহাদের
রূপধারী—এইগুলিকে মানুষী-মায়া বলিয়া রাজা জানিবেন ॥ ৫৩, ৫৪ ৷৷
ইচ্ছানুসারে রূপপরিবর্ত্তন, শস্ত্র-অস্ত্র-প্রস্তর-জলবর্ষণ, অন্ধকার-বায়ু-পর্ব্বত
ও মেঘের উৎপত্তি—এইগুলি অমানুষী মায়া ৷৷ ৫৫ ৷৷ ভীম স্ত্রীলোকের
বেশ ধারণ করিয়া কীচককে বধ করিয়াছিলেন [ইহা মানুষী মায়া] । নল
দিব্য মায়া অবলম্বন করিয়া বহুকাল রূপ প্রচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়া ছিলেন ৷ ৫৬৷৷
উপেক্ষাকুশল ব্যক্তিগণ, অন্যায়কার্য্যে ব্যসনে ও যুদ্ধে প্রবৃত্ত ব্যক্তিকে
নিবারণ না করা—এই তিন প্রকার উপেক্ষা নির্দেশ করিয়াছেন ৷৷ ৫৭ ৷৷
অকার্য্যে প্রবৃত্ত বিষয়-ভোগে অন্ধ কীচক, মরে মরুক এইরূপে বিরাট কর্তৃক
উপেক্ষিত হইয়াছিল ৷ ৫৮ ৷৷ স্বার্থ-বিচ্ছেদ-ভয়ে ভীত হিড়িম্বা নিজের
ভ্রাতাকে ভীমসেনের সহিত যুদ্ধে মরুক বলিয়া উপেক্ষা করিয়াছিল ৷ ৫৯ ৷৷
মেঘ-অন্ধকার-বৃষ্টি-অগ্নি-পর্ব্বত প্রভৃতি অদ্ভুত দর্শন, ধ্বজাযুক্ত দূরস্থ-
সৈন্যদিগের দর্শন ও ছিন্ন-পাটিত-ভিন্ন-রক্তাক্ত সৈন্য প্রদর্শন—এইরূপ ইন্দ্রজাল
শত্রুদিগকে ভয় দেখাইবার জন্য কল্পনা করিবে ৷ ৬০-৬১ ৷৷ নানার্থ সাধক
নানা উপায়ের কথা বলা হইল। কালজ্ঞ রাজা এই উপায়গুলির মধ্যে
১২৬ কামন্দকীয় নীতিসার।
যথাকালে সাম প্রয়োগ করিবেন। (পাঠান্তরে—সামজ্ঞ রাজা ইচ্ছানু-
সারে এই পূর্ব্বোক্ত উপায়গুলির মধ্যে সাম প্রয়োগ করিবেন) ॥৬২॥ দান
ও মান পুরঃসর সাম ও ভেদ নীতি প্রয়োগ করা কর্তব্য। এই দুইটি
দানের সহিত যুক্ত হইলে স্বার্থ-সাধক হয় ॥ ৬৩॥ সৰ্ব্বত্র দান ব্যতিরিক্ত
সাম-প্রয়োগ তৃণতুল্য হয়। এমন কি দানশূন্য সাম স্ত্রীতেও স্বার্থসাধক
হয় না ॥ ৬৪॥ নীতিজ্ঞ রাজা এই উপায় সকল নিপুণভাবে শত্রু সৈন্যের
এবং নিজ সৈন্যের প্রতি প্রয়োগ করিবেন। কিন্তু এই সমুদয় উপায়
প্রয়োগে অসমর্থ হইয়া চেষ্টা করিলে অন্ধের ন্যায় নিয়তই পতনগ্রস্ত
(বিনাশপ্রাপ্ত) হইতে হয় ॥ ৬৫ ॥ উপায়রূপ সাঁড়াশির সাহায্যে সম্পৎ
সমুদয় নীতিবিশারদ নৃপদিগের বশে অবশ্যই আসিয়া থাকে। যথাবিধি উপায়
প্রযুক্ত হইলে রাজাদিগের কখন কখন অর্থসিদ্ধি বিষয়ে প্রচুর ফল
হয় ॥৬৬॥ ইতি কামন্দকীয়-নীতিসারে উপায়-বিকল্পনামক অষ্টাদশ-সর্গ ॥
ঊনবিংশ-সর্গ। *
সৈন্যবলাবল।
সাম, দান ও ভেদ এই তিনটি নীতির প্রয়োগ বিফল হইলে, দণ্ডবিৎ
রাজা নীতিতে আরূঢ় হইয়া দণ্ডনীয় ব্যক্তিবর্গের প্রতি দণ্ড-প্রয়োগ
করিবেন ॥ ১ ॥
[ রাজা ] দেবতা, ব্রাহ্মণ, প্রশস্ত গ্রহ ও নক্ষত্রের পূজা করিয়া ষড়্বিধ
সৈন্যে সুসজ্জিত হইয়া শত্রুর অভিমুখে যাত্রা করিবেন ॥ ২॥ মৌল (বিশ্বস্ত
আত্মীয়), ভৃত (বেতনভোগী), শ্রেণী (জনপদবাসী অবৈতনিক দেশহিতৈষী
সৈন্যদল), সুহৃৎ, দ্বিষৎ (শত্রুপক্ষ হইতে ভাঙ্গানাসৈন্য অথবা সাহায্যার্থে শত্রু-
কলিকাতা সংস্করণে ইহা অষ্টাদশ সৰ্গ।
प्रेरित सैन्य ) एवम् आटविक—एइ छय़ प्रकार सैन्यदल। इहारा पूर्व्व पूर्व्व
बलवान् ; अर्थात् आटविक हइते द्विषत्, द्विषत् हइते सुहृत्, सुहृत् हइते
श्रेणी, श्रेणी हइते भृत एवम् भृत हइले मौल बलवान्। इहादेर
व्यसनओ पूर्व्व पूर्व्व बलवान् ॥ ३ ॥ [ कलिः सं १८।४ ] ॥ सर्व्वदा संकार
अर्थात् सम्मान प्राप्ति, राजार प्रति अनुराग, राजार सहित एकत्र
कथोपकथन ओ एकत्र अवस्थान, एवम् राजार भावे भावित हओय़ा—एइगुलि
मौल-बले वर्त्तमान थाके ; अतएव भृतबल हइते मौलबल गुरुतर ॥ ४ ॥
[ कलिः सं १८।३ ] ॥ सर्व्वदा निकटे वास, हुकुम मात्रेइ उपस्थिति, वृत्ति अर्थात्
वेतन स्वामीर अधीन बलिय़ा भृत्यसैन्य श्रेणीसैन्य अपेक्षाय़ गुरुतर ॥ ५ ॥
राजार सहित संघर्षजन्य क्रोधे तुल्यता, स्वार्थलाभे तुल्यता ( पाठान्तरे—
हर्ष ओ अमर्षे तुल्यता एवम् सिद्धिर अलाभे तुल्यता ) एवम् जनपदबासहेतु
श्रेणीबल मित्रबल अपेक्षाय़ गुरुतर ॥ ६ ॥ ये कोन देशे ओ ये कोन
समये याइते प्रस्तुत बलिय़ा, एकइरूप लाभ बलिय़ा एवम् स्नेहयुक्त
बलिय़ा मित्रबल शत्रुबल अपेक्षाय़ गुरुतर ॥ ७ ॥ आटविक-बल स्वभावतः
अधार्म्मिक लोभी अनार्य्य ओ सत्यभेदी, अतएव एइ आटविक-बल हइते
शत्रुबल गुरुतर ॥ ८ ॥ विपक्ष-ध्वंसेर जन्य कालप्रतीक्षा करिय़ा अवस्थित
शत्रुबल ओ आटविकबल इहारा शत्रुके विनाश करिले अथवा शत्रुर विपद्
ना हइले अर्थात् शत्रुकर्त्तृक इहारा पराभूत हइले, विजिगीषु राजार
निश्चय़इ जय़लाभ हय़ अर्थात् शत्रुबल ओ आरण्यकबल कर्तृक शत्रुध्वंस
हइलेओ जय़ एवम् ऐ पूर्व्वोक्त उभय़ बल शत्रुकर्त्तृक ध्वंस हइलेओ राजार
जय़ हइल, कारण ऐ दुइ सैन्य अविश्वासी। फलतः इहा आंशिक जय़लाभ ॥ ९ ॥
शत्रु उपयाप करिले विशेष भय़ उपस्थित हय़, अतएव शत्रुर सम्बन्धे उपयाप
अर्थात् भेदनीति प्रयोग करिबे, ताहा हइले निश्चय़इ जय़ हइबे ॥ १० ॥
शत्रु स्फीत सारयुक्त ओ अनुरक्त मौलबल द्वारा युक्त हइले, विजिगीषु क्षय़-
व्यय़-सहिष्णु हइय़ा उक्त रूप मौलबल सहाय़ करिय़ा अभियान करिबे
১২৮ কামন্দকীয় নীতিসার।
(পাঠান্তরে—ক্ষয়-ব্যয়-সহিষ্ণু স্ফীত অনুরক্ত ও সারযুক্ত অন্যরাজাকে
সহায় করিয়া বিজিগীষু শত্রুর বিপক্ষে যাত্রা করিবে) ॥১১॥ উপযুক্ত পথে
ও উপযুক্ত সময়ে সংষ্কৃত মৌলসৈন্যবর্গের সহিত যাত্রা করিবে। মৌলগণ
দীর্ঘকাল একত্র বাস করায় ক্ষয়-ব্যয়-সহিষ্ণু হইয়া থাকে ॥১২॥ এই ক্ষয়
ব্যয় ও সহিষ্ণুতা ব্যাপারে নীতিমান্ ব্যক্তি বেতনভোগী সৈন্যদিগকে ত্যাগ
করিবে। বহু পথ পর্য্যটন ও বহুকাল যুদ্ধলিপ্ত থাকায়, এই ভৃত-সৈন্যাদির
মধ্যে ভেদ-ভয় হইয়া থাকে ॥১৩॥ সৈন্যগণ বহু হওয়ায় এবং তাহারা
নিরন্তর বিদেশবাস ও অভিযান হেতু দীর্ঘকাল খেদ-প্রাপ্ত হওয়ায়,
তাহাদের মধ্যে অবশ্যই ভেদ ঘটিয়া থাকে ॥১৪॥ আমার প্রভূত ভৃতবল
আছে কিন্তু মৌলবল অল্প বলিয়া অসার; আর শত্রুর ভৃতবল অল্প
অথবা বহু হইলেও বিরক্ত কিন্তু তাহার মৌলবল প্রায় অল্প সারযুক্ত;
এইরূপ স্থলে প্রায় মন্ত্র-যুদ্ধই করিবে, নচেৎ অল্প আয়াসযুক্ত অল্পকাল-
ব্যাপী বা অল্পদেশব্যাপী প্রচুর ক্ষয়-ব্যয়-বিহীন যুদ্ধই করিবে। (পাঠান্তরে—
এইরূপ স্থলে প্রায় মন্ত্রযুদ্ধই করিবে, তাহা হইলে অল্প আয়াসেই জয়লাভ হয়)
॥১৫-১৬॥ স্বপক্ষীয় সৈন্য শান্ত অর্থাৎ বশীভূত এবং উপজাপ-বিশ্বস্ত অর্থাৎ
ভেদপ্রাপ্ত হইবে না, আর শত্রুসৈন্য অল্পই হউক বা অধিক হউক উহারা
বধের উপযুক্ত হইয়াছে, এই অবস্থায় ভৃতবলের সহিত উহাদের আক্রমণ
করিবে ॥১৭॥ যে প্রভূত শ্রেণীবল যান ও আসন বিষয়ে উপযুক্ত; যাহার
প্রবাস ব্যায়াম (যুদ্ধ) অল্পমাত্র হইয়াছে; এইরূপ শ্রেণীবল লইয়া যাত্রা
করিবে ॥১৮॥ সুহৃৎ-সৈন্য প্রভূত, ইহারা আত্মপক্ষ সমর্থন বিষয়ে উপযুক্ত
এবং ইহাদের প্রবাস অল্প; ইহাদিগকে লইয়া মন্ত্র-যুদ্ধ অথবা ব্যায়াম-যুদ্ধ
করিবে ॥১৯॥ বিজিগীষুর শত্রুর উচ্ছেদ বা কর্ষণ মিত্রের সাধারণ কার্য্য।
যেখানে এই ফল মিত্রের আয়ত্ত, সেখানে মিত্রকে সঙ্গে লইয়া অনুগ্রহ্য
শত্রুর প্রতি বা পীড়নীয় শত্রুর প্রতি যাত্রা করিবে ॥২০॥ প্রভূত শত্রুসৈন্যের
সাহায্যে বলবান্ রিপুর সহিত যুদ্ধ করিবে। এস্থলে কুকুর ও শূকর উভয়ের
১১৯শ সর্গ] সেনাপতি প্রচার। ১২৯
বধাবিলাষী চাণ্ডালের ন্যায় নীতি অবলম্বন করিবে ॥২১॥ শত্রুপক্ষের
বলবান্ সৈন্যকে নিকটে রাখিবে কিন্তু তাহাদের অন্তরে কোপ উপস্থিত
হইলে দুর্গের কণ্টকমর্দনকারীদিগের দ্বারা তাহাদের কর্ষণ করিবে ॥২২॥
দুর্গের কণ্টক-শোধন বিষয়ে এবং পরদেশ প্রবেশ বিষয়ে নীতিজ্ঞব্যক্তি
সর্ব্বদাই আটবিক-সৈন্যকে অগ্রগামী করিবে ॥২৩॥
পূর্ব্বকথিত মৌল প্রভৃতি করিয়া যে ছয় প্রকার সৈন্যের কথা বলা
হইল, ইহাদিগকে চতুরঙ্গ-বল কহে। এই চতুরঙ্গ-বলের মন্ত্র, কোষ, পদাতি,
অশ্ব, রথ ও সৈন্য—এই ছয়টি অঙ্গ ॥২৪॥ এই ষড়ঙ্গ-বলকে যথাসম্ভব সুনিশ্ছিদ্র
বুঝিয়া পরসৈন্যের প্রতি অভিযান করিবে ॥২৫॥ রাজা এই ষড়ঙ্গ-বলের
যুদ্ধোপযোগী অস্ত্র শস্ত্র প্রভৃতি যন্ত্রাদি হইতেই এই সৈন্যদলের উপযুক্ততা
স্থির করিবেন। আর সেনাপতির কৃত ও অকৃত (অর্থাৎ যুদ্ধের হার জিত)
এবং প্রচার (অর্থাৎ কৌশল অভিজ্ঞতা) সম্যকরূপে অবগত হইবেন ॥২৬॥
ইতি সৈন্যবলাবল ॥
সেনাপতি-প্রচার।
সৎকুলসম্ভূত [ অতএব ব্যভিচারশূন্য ], জনপদবাসী [ সুতরাং
বিশ্বাসী ], মন্ত্রণা কার্য্যে কুশল, মন্ত্রিবর্গের অভিমত, যথায়ুক্তভাবে দণ্ডনীতি
প্রয়োগে সমর্থ, অধ্যেতা (অর্থাৎ বক্তা), সত্য-সত্ত্ব (পাঠান্তরে—শৌর্য্য)-
ক্ষমা-স্থৈর্য্য-মাধুর্য্য (মিষ্টভাষিতা) গুণযুক্ত, প্রভাব-উৎসাহ-সম্পন্ন,
অনুজীবীর প্রতিপালক, মিত্রবান্, উদার, ধনবান্, বহু-স্বজন-বান্ধব-
সম্পন্ন, ব্যবহারজ্ঞ (ঋণদানাদি-ব্যবহার নিপুণ অথবা ভদ্রতারক্ষায় সুচতুর),
অক্ষুদ্র, পুরবাসীদিগের ও প্রকৃতিবর্গের প্রিয়, সর্ব্বদা অকারণে বৈরতার
অনুৎপাদক, অনাবিল (অর্থাৎ সুস্বভাব সন্দেহের অপাত্র), কল্যাণ-
কর-কার্য্যের অনুষ্ঠাতা, অল্পশত্রু-বিশিষ্ট, বহুশ্রুত (বহুশাস্ত্রজ্ঞান-
সম্পন্ন), রোগরহিত, ব্যায়ত (মহাকায়), শূর, ত্যাগশীল, সময়জ্ঞ,
সুচেহারা-সম্পন্ন, সংসম্ভাব্য-পরাক্রম (যাহার পরাক্রম গুণীলোকের
১৩০ কামন্দকীয় নীতিসার।
নিকট বহুমান্য), গজযুদ্ধে অশ্বযুদ্ধে ও রথযুদ্ধে সুশিক্ষিত, শ্রমজয়ী, খড়্গযুদ্ধে
ও মল্লযুদ্ধে বিদ্যুতের ন্যায় বিচরণকারী, যুদ্ধের ভূমি-বিভাগ বিষয়ে নিপুণ,
সিংহের ন্যায় দৃঢ়-বিক্রম (পাঠান্তরে—গূঢ়-বিক্রম), অদীর্ঘসূত্র, তন্দ্রারহিত,
অমর্ষণ (পরাভব-অসহিষ্ণু), অনুদ্ধত, হস্তী-অশ্ব-রথ ও শস্ত্রের সমস্ত
লক্ষণাভিজ্ঞ, লোকের অন্তঃকরণ বুঝিবার শক্তিসম্পন্ন, কৃতজ্ঞ, দয়ালু,
বৰ্ম্ম-কৰ্ম্ম-সমাযোগে কুশল অর্থাৎ যুদ্ধের উপায়ে কুশল, যুদ্ধ-কুশল ব্যক্তির
অনুগত, সকলপ্রকার যুদ্ধে অভিজ্ঞ, যুদ্ধে ব্যূহরচনাদিতে সমর্থ, অশ্বের
মনুষ্যের ও হস্তীর স্বভাব এবং চিত্ত বুঝিতে সমর্থ আর উহাদের জাতকাঠ
বুঝিতে এবং উহাদের পোষণ (পালন) বিধিজ্ঞ, দেশ ভাষা ও স্বভাব জ্ঞান-
সম্পন্ন, লিপি-কুশল, সুদৃঢ় স্মরণশক্তি-সম্পন্ন, নিশাপ্রচারকুশল, শকুন-
শাস্ত্রাভিজ্ঞ, গ্রহ-নক্ষত্রের উদয়াস্তজ্ঞান-সম্পন্ন, দিক্ দেশের পথ ঘাট
অবগত, দিক্দেশের জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির সাহচর্য্যসম্পন্ন, ক্ষুধা-পিপাসা-
শ্রম-ত্রাস-শীত-বাত-উষ্ণ (পাঠান্তরে—বর্ষা) এই সমুদায়জনিত ভয় ও
ক্লেশ-বিরহিত, ক্ষুধাদি-পীড়িত-সৈনিকগণের অভয়দাতা (পাঠান্তরে—
সৎপুরুষের প্রতি অভয়দাতা), বিপক্ষ সৈন্যের হন্তা (পাঠান্তরে—ভেদকারী),
কে দুঃসাধ্য শত্রু তাহার বোদ্ধা, হতাবশিষ্ট ছত্রভঙ্গ সৈন্যগণের একত্রকরণে
সমর্থ, শত্রুকর্তৃক অবরুদ্ধ-সৈন্যগণের রক্ষাকারী, সৈন্যদিগের কার্য্য-
সমূহবেত্তা, পরদূতপ্রচারজ্ঞ, মহারম্ভের উপযুক্ত-ফলসাধনকারী, যে কার্য্য
আরম্ভ করে সেই কার্য্যই সিদ্ধ করে, সিদ্ধকর্ম্মা লোকের পূজনীয়, পরাভবেও
ভগ্নোৎসাহ হয় না, প্রকৃষ্ট রাজকার্য্যে তৎপর—এই সকল লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিকে
সেনাপতি করিবে। তিনি সর্ব্বদা উদ্যোগী হইয়া অহোরাত্র সৈন্যরক্ষা
করিবেন। নদী, পৰ্ব্বত, বন ও দুর্গে যেখানে যেখানে ভয় উপস্থিত
হইবে, সেনাপতি সেই সেই স্থানেই সুসজ্জিতসৈন্য লইয়া গমন করিবেন
॥২৭-৪৪॥ ইতি সেনাপতি-প্রচার।
১৯ সর্গ ] কূটযুদ্ধ বিকল্প।
প্রয়াণব্যসন-রক্ষণ।
[ যুদ্ধযাত্রার সময় ] সৈন্যনায়ক প্রধান-বীর-সৈন্যে পরিবৃত হইয়া
সৈন্যদলের অগ্রে গমন করিবেন ; মধ্যস্থলে কলত্র, স্বামী ( রাজা ), কোষ ও
দুর্ব্বল সৈন্যদল যাইবে ; উভয় পার্শ্বে অশ্বারোহী-সৈন্য যাইবে, অশ্বারোহীর
পার্শ্বে-রথ যাইবে, রথের পার্শ্বে হস্তী-সৈন্য যাইবে, হস্তীর পার্শ্বে আটবিক-
সৈন্য যাইবে ; সুসজ্জিত সৈন্যে সমাবৃত হইয়া সকল সৈন্যকে অগ্রগামী
করিয়া খিন্ন-সৈন্যগণকে আশ্বাস দিতে দিতে কৃতী যূথ-সেনাপতি ধীরে
ধীরে সকলের পশ্চাৎ যাইবেন।
সম্মুখে ভয় থাকিলে বৃহৎ মকরব্যূহ করিয়া অথবা বিস্তৃতপক্ষ-শ্যেনব্যূহ
করিয়া কিংবা বীরসৈন্য অগ্রে রাখিয়া সূচীব্যূহ করিয়া গমন করিবে।
(ব্যাখাকার মতে—পুরোভাগে মকরব্যূহ, তির্য্যক ভয়ে শ্যেনব্যূহ এবং একায়ন-
পথে পুরোভাগে বীরপুরঃসর সূচীব্যূহ করিয়া গমন করিবে ) ॥৪৮॥ পশ্চাৎ
ভয়ে শকটব্যূহ ; পার্শ্বভয়ে বজ্রব্যূহ এবং চারিদিকে ভয় থাকিলে সৰ্ব্বতোভদ্র-
ব্যূহ রচনা করিয়া যাইবে ) ॥৪৯॥
কন্দরযুক্ত পথে, গিরিপথে, বনপথে, নদীপথে, বনসঙ্কটপথে এবং
দূরপথে, সৈন্যগণ পরিশ্রান্ত, ক্ষুধা-পিপাসায় আক্রান্ত, ব্যাধি-দুর্ভিক্ষ-
মড়কে পীড়িত, দস্যুকর্ত্তৃক পীড়িত, পাঁক ধূলি ও জলে আচ্ছন্ন, এলোমেলো,
স্থানভ্রষ্ট হইয়া তালবদ্ধ, নিদ্রিত, ভোজনব্যগ্র, অস্থানস্থিত, অপ্রস্তুত, চোর ও
অগ্নিভয়ে ব্যাকুল এবং বাতবৃষ্টিতে আকুল হইলে সাবধান হইয়া উপস্থিত
ঐ সকল ব্যসন হইতে নিজসৈন্যকে উত্তমরূপে রক্ষা করিবে এবং শত্রুসৈন্য-
বধ করিবে ॥৫০-৫৩॥ ইতি প্রয়াণব্যসন-রক্ষণ ॥
কূটযুদ্ধ-বিকল্প।
বলবান্ রাজা বিশিষ্টদেশ-কাল-যুক্ত হইলে এবং শত্রুর প্রকৃতি-ভেদ
করিতে পারিলে প্রকাশ্য যুদ্ধ করিবে ; কিন্তু ইহার বিপর্যয়্য হইলে অর্থাৎ
অনুকূল দেশকাল না পাইলে এবং শত্রুর প্রকৃতিকে ভেদ করিতে না