सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
पृष्ठ 6, कुल 358 में से
संदर्भ में पढ़ें[ চ ]
ভ্রান্ত। অর্থাৎ, রাগ-বিবর্তনের বিজ্ঞান অনুযায়ী তরঙ্গিনীর আমলের গা-নি
কোমলযুক্ত ভৈরবী পারিজাতের আমলে গা-ধা-নি কোমলযুক্ত ভৈরবীতে
পরিণত হয়েছিল। এদিক দিয়ে দেখতে গেলে পারিজাত তরঙ্গিনীর
পরবর্তীকালে রচিত গ্রন্থ। অপরপক্ষে, আমরা দেখতে পাচ্ছি পারিজাতে
কোন নতুন রাগের উল্লেখ নেই; কিন্তু তরঙ্গিনীতে রয়েছে। পারিজাতে
দীপক রাগের পরিচয় রয়েছে, কিন্তু রাগ-তরঙ্গিনী বলছেন, এসো পণ্ডিতবর্গ
মিলে বিলুপ্ত দীপকের সত্য-স্বরূপ নির্ণয় করবার চেষ্টা করা যাক। অর্থাৎ,
দীপক তখন অপ্রচলিত হয়ে গিয়েছিল। সর্বপরি, রাগ-তরঙ্গিনীর প্রাচীনত্ব ( ? )
সম্বন্ধেও অনেক কিছু ইঙ্গিত দেওয়া যেতে পারে। গ্রন্থকার লোচন-কবি
নিজে বলছেন, এই গ্রন্থ একাদশ শতাব্দীতে রচিত। অথচ, গ্রন্থের মধ্যে
বিদ্যাপতির উল্লেখ বর্তমান। বিদ্যাপতি ছিলেন চতুর্দশ শতাব্দীর শেষ ভাগের
কবি। অধিকন্তু, রাগ-তরঙ্গিনীর শেষাংশে এমন অনেক কিছু বিষয়ের
আলোচনা আছে যার স্বাভাবিক অস্তিত্ব কিছুতেই সপ্তদশ শতাব্দীর
পরবর্তীকালে সম্ভবপর নয়। ফলে, অনেক পণ্ডিত ব্যক্তিও সন্দেহ করেন
রাগ-তরঙ্গিনী একটিমাত্র লোচন-কবির দ্বারা রচিত হয় নি, আমাদের
পুরাণগুলির মতো, এই রাগ-তরঙ্গিনীর মধ্যেও বিভিন্ন কালের ভিন্ন ভিন্ন
সাঙ্গীতিক অভিজ্ঞতা সংযোজিত করা হয়েছে।
রাগ-বিবোধ গ্রন্থটি যে ১৬১০ খৃষ্টাব্দে সোমনাথ কর্তৃক রচিত হয়েছিল
তাতে সন্দেহের অবকাশমাত্রও নেই। এটি দক্ষিণী সঙ্গীত-পদ্ধতি সংক্রান্ত
গ্রন্থ। কিন্তু, পারিজাতকে রাগ-বিবোধের পরবর্তীকালে রচিত গ্রন্থরূপে কেন
উল্লেখ করা হয় সে সম্বন্ধে আমরা অনেক চেষ্টা করে আজও যথোচিতভাবে
অবহিত হতে পারিনি। পারিজাতেও কিছু দক্ষিণী রাগের আলোচনা আছে।
কিন্তু, এই রাগ-নাম-সামঞ্জস্যের ওপর ভিত্তি করে পারিজাতকে রাগ-বিবোধ-এর
পরবর্তীকালে রচিত গ্রন্থ হিসাবে মেনে নেওয়াটা আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি
না। একথা সর্বজনবিদিত যে, আজকের মতো সেদিনও ভারতবর্ষের বিভিন্ন
প্রদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান অব্যাহত ছিল। আজকের মতো
সেদিনকার অনেক হিন্দুস্থানী ওস্তাদও হিন্দুস্থানী ঢংয়ে কর্ণাটিক রাগ পরিবেশন
করে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি করতেন এবং অহোবল-এর মতো অনেক হিন্দুস্থানী
পদ্ধতির গ্রন্থকারও নিজেদের গ্রন্থের মধ্যে হিন্দুস্থানে প্রচলিত রাগগুলির সঙ্গে সঙ্গে
সমসাময়িক কালের ওস্তাদগণ কর্তৃক ঐভাবে পরিবেশিত কিছু কর্ণাটিক রাগেরও