सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
पृष्ठ 315, कुल 358 में से
संदर्भ में पढ़ेंসঙ্গীত পারিজাত
৩০১
উৎসগুলিকে যদি বস্তু হিসাবে গ্রহণ করা যায় তাহলে প্রশ্ন উঠবে, বস্তুযুক্ত গানের
ভূষণ বর্জিত হতে পারে কী করে? উৎস যদি থাকে তাহলে তার প্রাণশক্তিও
থাকতে বাধ্য। অর্থাৎ গানের মধ্যে বস্তু যদি কিছু থাকে তাহলে সে সব
বস্তুর শক্তি থাকতেও বাধ্য। এই শক্তিই তো রঞ্জনীশক্তি তথা ভূষণ! অথচ,
পারিজাতকার বস্তু প্রবন্ধর সব চাইতে বড় পরিচয় হিসাবে ভূষণ বর্জনের
কথাই বলেছেন। তাহলে কি বুঝতে হবে এ ভূষণ অর্থে গানের রঞ্জনীশক্তি
বোঝাচ্ছে না। পরন্তু বস্তুগুলির প্রয়োগজনিত কোন বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত বহন
করছে। কিন্তু, তাই যদি হয়, তাহলেও প্রশ্ন উঠবে, কেমন ছিল সে বৈশিষ্ট্যের
স্বরূপ? গানের মধ্যে বস্তু থাকবে, তার রঞ্জনীশক্তিও থাকবে, অথচ, বস্তু-
প্রয়োগের বৈশিষ্ট্যের জন্য ভূষণ থাকবে না—এ কেমন করে হতে পারে?
বলা বাহুল্য, গ্রন্থকার যে ক্ষেত্রে নীরব সে ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক যুক্তির পরিবর্তে
আনুমানিক তথ্য-তত্ত্বের আশ্রয় গ্রহণ ব্যতীত গত্যন্তর থাকে না। সুতরাং,
প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হিসাবে এখানে, বাংলাদেশে প্রচলিত গদ্য-কবিতার উল্লেখ
করা যেতে পারে। এই শ্রেণীর কবিতার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে,
কবিতা সম্পর্কিত প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বিপক্ষে উদাহরণ স্থাপন করা।
এই শ্রেণীর কবিতাকে অনেকে গবিতা নামে অভিহিত করে অন্য কিছু
বোঝাবার চেষ্টা করে থাকেন, কিন্তু, গদ্য কবিতা যে কবিতা নয়, এমন
প্রমাণ কেউ দাখিল করতে পারেন নি বৈজ্ঞানিক যুক্তি-তর্কের সাহায্যে। বস্তুতঃ,
এই গদ্য-কবিতার মধ্যে অনেকে কবিতার ঝঙ্কার শুনতে না পেলেও আর
একটা কিছু শুনতে পায় নিঃসন্দেহে এবং সে শোনার স্বভাবে শ্রুতিমাধুর্য
না থাকলেও যেটা নিশ্চিতভাবে বজায় থাকে সেটা হচ্ছে Normative বিজ্ঞানের
ত্রিস্রোতা ক্রম-অনুক্রমের বিজ্ঞানগ্রাহ্য সত্য। সুতরাং, গদ্য-কবিতা যেমন
অনুপ্রাসাদি বর্জিত হয়েও কবিতা হতে পারে তেমনি বস্তু প্রবন্ধও ভূষণ বর্জিত
হয়েও গান হতে পারে।
বস্তু প্রবন্ধর ভূষণ-বর্জনের ব্যাপারটার ওপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে
এর আদি গুরুত্বের জের টেনে নিয়ে যেতে পারা যায় গান্ধর্ব-গীতির আমল
পর্যন্ত যেহেতু, গান্ধর্ব-গীত দেশী সঙ্গীতের মতো রঞ্জনীশক্তিসম্পন্ন ছিল না।
অর্থাৎ, ভূষণহীন বস্তু ও রঞ্জনীশক্তিহীন গান্ধর্বর মধ্যে একদা যে একটা ঘনিষ্ঠ
সম্পর্ক ছিল—এমন কল্পনাকে প্রশ্রয় দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আলোচ্যক্ষেত্রে
আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, বস্তু প্রবন্ধটিকে প্রাচীন গ্রন্থকারগণ বিপ্রকীর্ণ