सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)
Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology
पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा
पृष्ठ 137, कुल 358 में से
संदर्भ में पढ़ेंলালিত্য বোঝায়, তেমনি যন্ত্র সঙ্গীতের গীতি বা গং অর্থে ঘেনে নেনে বা
ডারা ডিরি প্রভৃতির মতো অর্থহীন অথচ অতীব শ্রুতিসুখকর বাণীর
শোভন সমাবেশ বোঝায়। এবং, বলাই বাহুল্য, পারিজাতকার এখানে
এই অতি সাধারণ তথ্যটিকে পৃথকভাবে বিবৃত করবার প্রয়োজন বোধ
করেন নি। বস্তুতঃ রাগ কথাটি হচ্ছে পরবর্ত্তীকালের—পূর্ব্ববর্ত্তীকালে এর নাম
ছিল জাতি-রাগ এবং শাস্ত্রসম্মত জাতি-রাগ সৃষ্টির প্রথম দিন থেকেই, কণ্ঠ
সঙ্গীতের মতো যন্ত্র সঙ্গীতের মাধ্যমেও যে বিশুদ্ধ বস্তুই পরিবেশিত হয়ে
আসছে সে সম্বন্ধে সন্দেহের অবকাশ মাত্রও নেই। তবে সর্ব্বকালেই দেখা
গিয়েছে, জনসাধারণ যন্ত্র সঙ্গীতের তুলনায় কণ্ঠ-সঙ্গীতেরই বেশী অনুরাগী,
যেহেতু, গানের মধ্যে তারা শ্রুতিসুখকর রাগ ছাড়াও অধিকন্তু হিসাবে
অর্থপূর্ণ কাব্যরসেরও আস্বাদ পেয়ে থাকেন। কিন্তু, এবম্বিধ রসাস্বাদনের
ব্যাপারটা অব্যাহত থাকতে পারে কেবলমাত্র সম-ভাষাভাষী সম-প্রদেশবাসীর
মধ্যেই, নচেৎ ভিন্ন ভাষাভাষী বিভিন্ন প্রদেশবাসীর নিকট কাব্যরসের মাধুর্য্য
গৌণ হয়ে গিয়ে মুখ্য হয়ে ওঠে—ভারতীয় সঙ্গীতের সর্ব্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য,
রাগ। সুতরাং, ভারতীয় সঙ্গীতের প্রতিপাদ্য বিষয় বিবৃত করবার অবকাশে
অহোবল যে ব্যাপক অর্থেই “গীতি” কথাটি ব্যবহার করেছেন সে কথা বলাই
বাহুল্য! — ৩৩৪
শুদ্ধা বক্ত্রস্বরা জ্ঞেয়া ললিতস্বর সংযুতা।
ভিন্না সূক্ষ্মস্বরৈর্যুক্তৈর্মাধুর্যৈরগমকৈর্যুতা॥ ৩৩৫
যে গীতিগুলির স্বর সহজ সরল ও শুনতে মিষ্টি, তাকে শুদ্ধাগীতি বলে। আর,
যে সব গীতের স্বরগুলি সূক্ষ্ম অলঙ্কারযুক্ত, খুব দ্রুত উচ্চারিত হয় এবং স্ফুরিত
গমকের মতো সুমধুর গমকযুক্ত, তাকে বলে ভিন্নাগীতি।—৩৩৫
আরোহণাবরোহাভ্যাং স্থানত্রয় সুশোভিতা।
অখণ্ডিতস্থিতিঃ স্থানত্রয়ে গৌড়ী মতা সতাম্ ॥ ৩৩৬
যে গীতির স্বরগুলি আরোহণ অবরোহণক্রমে মন্দ্র, মধ্য ও তার্ অর্থাৎ উদারা,
মুদারা ও তারা, এই তিনটি সপ্তকের মধ্যেই বেশ লাগসো-ভাবে বিরাজ করে
এবং বেশ অবিচ্ছিন্ন ভাবেই অবস্থান করে, তাকেই বলে গৌড়ীগীতি। ৩৩৬