सामग्री पर जाएँ
सर्वकोश
सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

सङ्गीतपारिजात (अहोबल - वीणा के तारों पर शुद्ध व विकृत स्वर-स्थान निर्धारण का ऐतिहासिक ग्रन्थ)

Sangitaparijata of Ahobala on Indian Musicology

पण्डित अहोबल (टीकाकार: कलानिधि कलिन्द) द्वारा

DevanagariHindipublished358 पृष्ठ

पृष्ठ 115, कुल 358 में से

संदर्भ में पढ़ें
पृष्ठ 115

যাই হোক, আসল ব্যাপারটা হচ্ছে, প্রাচীনকালে জাতি কথাটা প্রধানতঃ
রাগ-বোধক অর্থেই ব্যবহৃত হতো। আজকের দিনে ভৈরব বলতে আমরা
যেমন একটি ঠাটকে বুঝি, অধিকন্তু বুঝি, ঠাটের নামটি রাগের নাম থেকেই
এসেছে, প্রাচীনকালেও জাতি বলতে অনুরূপ ব্যাপারকেই বোঝাতো। কিন্তু,
পরবর্তীকালে, রাগ মেল ঠাট্ প্রভৃতি প্রচলিত হওয়া সত্ত্বেও, প্রাচীন জাতি-
তত্ত্বের বিশ্লেষণ-প্রয়াস সঙ্গীতজ্ঞগণ বর্জন করেন নি। করা সম্ভবপরও নয়।
ক্রিয়াসিদ্ধ সঙ্গীত পরিবেশনের ক্ষেত্রে, সাধারণ সঙ্গীত-শিল্পীর পক্ষে, জাতি-
তত্ত্বের মতো অনুশীলন-সাপেক্ষ বিষয়বস্তুর ধার না ধারাই স্বাভাবিক, কিন্তু
সঙ্গীত বিজ্ঞানের সুষ্ঠু আলোচনার ক্ষেত্রে, প্রচলিত বর্তমান আইনগুলিই
একমাত্র আইন নয় বা যথেষ্ট নয়। আজও প্রাচীন বিধি নির্দ্দেশের অনেক
কিছু তত্ত্ব ও তথ্য সমাধানের পন্থা নির্দেশ করে, সমস্যা সন্দেহের উদ্ভব হলে।
পূর্ব্ব-পুরুষের ঐতিহ্যপূর্ণ ইতিহাসকে উপেক্ষা ক'রে উত্তর-পুরুষের সত্য-স্বরূপ
নির্ণয় করা কিছুতেই সম্ভবপর হতে পারে না।
অতঃপর প্রাচীন জাতির কথা। জাতি কথাটা সেকালে রাগ বোধক অর্থে
ব্যবহৃত হলেও, ব্যাপারটা অধুনা প্রচলিত মেল বা ঠাট বিজ্ঞানের অনুরূপ
ছিলনা। রাগের শ্রেণী নির্ণয় করা ছাড়াও আরও অনেক রকমের অনুশাসন
ছিল তার। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেই সব অনুশাসনের যথাযথ নজীর
আলোচ্য পারিজাতে নেই। অবশ্য, এ কথা আমরা নিশ্চয়ই বলছিনা যে,
সেই সব নজীর পারিজাতে কোনওদিনই ছিলনা, নেই আলোচ্য গ্রন্থে।
বস্তুতঃ, সঙ্গীত রত্নাকরের জাতি নির্ণায়ক পরিচ্ছেদটি যে পরিমাণে বিশদ,
সঙ্গীত পারিজাতের জাতি নির্ণায়ক পরিচ্ছেদটি ঠিক সেই পরিমাণেই
সংক্ষিপ্ত। আমরা দেখতে পাচ্ছি, শার্ঙ্গদেব তাঁর রত্নাকরে জাতি সম্পর্কিত
প্রতিটি খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে পরিচ্ছেদ পুষ্ট করেছিলেন। অথচ, পারিজাতিকার
রত্নাকরেরই অনুগামী হওয়া সত্ত্বেও, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে উপেক্ষা
করেছেন—বিশ্বাস হয় না। আমাদের সন্দেহ জাগায় পরবর্তী ২৯৯।২ ও
৩০০।১ পংক্তি দু'টি। এই পংক্তি দু'টির আবির্ভাব, যেন, অতি অকস্মাৎ
পূর্ণচ্ছেদ টেনে দিয়েছে জাতি-বিশ্লেষণের মতো একটা বিরাট ও ব্যাপক
পরিচ্ছেদের ওপর। পরন্তু, পংক্তি দু'টি কথঞ্চিত পরিমাণে ব্যাকরণদুষ্টও
বটে। ফলে, আমাদের সন্দেহ হয়, জাতি সম্পর্কে আরও অনেক সূত্র
পারিজাতে ছিল এবং সেগুলি নষ্ট হয়ে গেছে পরবর্তীকালে। অনুরূপ