सामग्री पर जाएँ
सर्वकोश
संग्रह पर लौटें

कामन्दकीय नीतिसार (आचार्य कामन्दक - प्राचीन भारतीय राजनीति शास्त्र)

Kamandakiya Nitisara with Hindi Commentary

आचार्य कामन्दक / पं. ज्वालाप्रसाद मिश्र द्वारा

DevanagariSanskritpublished164 पृष्ठ

১২শ সর্গ ] মন্ত্র-বিকল্প। ৭৭
অতএব বিজ্ঞগণ যান এবং আসনকে বিগ্রহ বলিয়াই স্বীকার করেন ॥৩৬॥*
যেহেতু দ্বৈধীভাব এবং সংশ্রয় সন্ধি না হইলে হইতে পারে না, অতএব ঐ
দুইটিকে সন্ধিরই রূপান্তর বলিয়া পণ্ডিতগণ নির্দ্দেশ করেন ॥৩৭॥ ("সন্ধি
পূর্ব্বক ইত্যাদি" পূর্ব্বোক্ত ১৬ শ্লোকে যাহা বলা হইয়াছে তাহাই সন্ধির
লক্ষণ এবং যুদ্ধার্থে ইত্যাদি করিয়া ১৪ শ্লোকে যাহা বলা হইয়াছে তাহাই
বিগ্রহের রূপ; অতএব সন্ধি ও বিগ্রহ এই দুইটি মাত্র গুণ বলিয়া স্বীকৃত হয়।)*
কোন কোন পণ্ডিতের মতে, সন্ধি বিগ্রহ ও সংশ্রয় এই তিনটি মাত্র গুণ ॥৩৮॥
বলবান্ কর্তৃক পীড়িত হইয়া অন্যের আশ্রয় গ্রহণ করাকেই সংশ্রয় কহে।
অতএব সংশ্রয় সন্ধি হইতে ভিন্ন, ইহা বৃহস্পতি বলিয়া থাকেন ॥৩৯॥ গুণ
বলিতে একমাত্র বিগ্রহ। সন্ধি প্রভৃতি গুণগুলি বিগ্রহ হইতেই উৎপন্ন হয়।
অবস্থা ভেদে বিগ্রহই ষাড্ গুণ্য ধারণ করে, ইহাই আমাদের গুরুর মত ॥৪০॥
ইতি কামন্দকীয়-নীতিসারে যান-আসন-দ্বৈধীভাব-সংশ্রয়-বিকল্প-নামক
একাদশ-সর্গ ॥
দ্বাদশ-সর্গ। (১)
মন্ত্র-বিকল্প।
পূর্ব্বকথিত ষাড়্ গুণ্য বিষয়ে পরিপক্কবুদ্ধি, এবং যাঁহার কার্যকলাপ কোন
রূপে বাহিরে প্রকাশ হয় না, এইরূপ মন্ত্রজ্ঞ নরপতি মন্ত্রিগণের সহিত স্বীয়
এবং পরকীয় মণ্ডল-বিষয়ে অতি গোপনভাবে মন্ত্রণা করিবেন ॥১॥ মন্ত্রার্থ-
কুশল রাজা বিজয়-সুখ লাভ করিয়া থাকেন। আর ইহার বিপরীত অর্থাৎ
মন্ত্রার্থে অকুশল রাজা স্বাধীন হইলেও পণ্ডিতগণ তাঁহাকে অবজ্ঞা করেন ॥২॥
রাক্ষসগণ যেরূপ যজ্ঞধ্বংস করে সেইরূপ এই মন্ত্রণায় অকুশল রাজাকে

  • বন্ধনীর অন্তর্গত অংশ টীকাকার ধরেন নাই, সম্ভবতঃ ইহা মূলের অন্তর্গত নহে।
    (১) এই দ্বাদশসর্গ কলিকাতা সংস্করণের একাদশ সর্গের অন্তর্গত।

৭৮ কামন্দকীয় নীতিসার।
শত্রুগণ চারিদিক হইতেই নষ্ট করে। অতএব মন্ত্র-কুশল হইবে ॥৩॥ বিশ্বস্ত-
পণ্ডিত-মন্ত্রীর সহিত স্ব-পর-মণ্ডল সম্বন্ধে মন্ত্রণা করিবে। আর বিশ্বাসী মূর্খ-
মন্ত্রীকে এবং অবিশ্বাসী মন্ত্রীকে পরিত্যাগ করিবে ॥৪॥ রাজ্যের কুশল-
লাভের জন্য কৃতকর্মা সুনীতিপরায়ণ পূর্ব্বতন পণ্ডিতগণের আচরিত শাস্ত্রীয়-
পথ পরিত্যাগ করিবে না ॥৫॥ শাস্ত্রবিরুদ্ধ-ব্যবহারকারী সহসা অভিযোগ-
কারী শত্রুর খড়্গোর মুখের গ্রাসে না পড়িয়া নিবৃত্ত হয় না ॥৬॥ প্রভাবশক্তি
ও উৎসাহশক্তি এই দুই অপেক্ষায় মন্ত্রশক্তিই প্রশস্ত; কারণ শুক্রাচার্য্য প্রভাব
ও উৎসাহসম্পন্ন হইয়াও বৃহস্পতির নিকট পরাজিত হইয়াছিলেন ॥৭॥
( শুক্লরূপধারী বৃহস্পতি অসুরদিগকে মোহিত করিয়াছিলেন, তজ্জন্য অসীম
প্রভাবসম্পন্ন শুক্রাচার্য্যও বৃহস্পতিকে শাপ দিয়াছিলেন ) ॥ * সিংহ কেবল
বলপূর্ব্বক অর্থাৎ উৎসাহ-শক্তিতেই হস্তীকে মারিয়া ফেলে এবং নীতিমূঢ়-
ধীরব্যক্তি ঐ সিংহকে বধ করে; আর মন্ত্রশক্তিসম্পন্নব্যক্তি ঐরূপ শত শত
ধীর ব্যক্তিকেও পরাজিত করে ॥৮॥ (+) সামাদি উপায়ের উত্তম বোধের
দ্বারা পূর্ব্বেই অমঙ্গল-অবলোকনকারী-পণ্ডিতগণ স্ব-পর-মণ্ডল সম্বন্ধে ভাল
মন্ত্রণায় নিশ্চিত করেন, তাহা নিশ্চয়ই ফলপ্রদ হইয়া থাকে ॥৯॥ মন্ত্রশক্তি
অবলম্বন করিয়া লাভের ইচ্ছা করিবে। কাল বুঝিয়া অভিযান করিবে।
একমাত্র উৎসাহ-শক্তি-অবলম্বন অনুতাপের কারণ হয় ॥১০॥ প্রশস্ত-বুদ্ধি-
সহকারে সাধ্য ও অসাধ্যের নিশ্চয় করিবে, নতুবা হস্তীর দন্তদ্বারা পর্ব্বত
গাত্রে যে আঘাত তাহা কেবল দন্তভঙ্গেরই কারণ হইয়া থাকে অর্থাৎ না
বুঝিয়া কাজে প্রবৃত্ত হইলে কেবল হানিই হয় ॥১১॥ অসাধ্য কার্য্যে প্রবৃত্ত
ব্যক্তিদিগের ক্লেশ ছাড়া আর কি ফল হইতে পারে? আকাশের আস্বাদ
করিতে গেলে খাদ্য কোথায় মিলে? ॥১২॥ পতঙ্গের ন্যায় অগ্নিতে ঝাঁপ

  • এই বন্ধনীর মধ্যস্থিত অংশ ব্যাখ্যাকার ধরেন নাই। এই দ্বাদশসর্গের প্রথম
    শ্লোক হইতে এই পর্যন্ত কলিকাতা সংস্করণে নাই।
    (+) কলিকাতা সংস্করণে এই শ্লোকটি একাদশ সর্গের ৩০ সংখ্যক শ্লোক।

১২শ] সর্গ মন্ত্র-বিকল্প। ৭৯
দিবে না। যাহা স্পর্শযোগ্য তাহাই স্পর্শ করিবে। পতঙ্গ অগ্নিতে পড়িলে
পুড়ে মরা ছাড়া তাহার আর কি লাভ হইবে? ॥১৩॥ মোহপ্রযুক্ত
দুঃসাধ্য-বিষয় পাইবার চেষ্টা করিলে কার্য্যের বিপৎ রাশি স্পষ্টই পরিতাপের
কারণ হয় ॥১৪॥ • ধীরভাবে পদবিক্ষেপ করিয়া যেমন উন্নত পর্ব্বতের
চূড়ায় উঠা যায়, সেইরূপ বুঝিবার উপযুক্ত বুদ্ধিদ্বারা সম্পত্তি লাভ করা যায়
॥১৫॥ সকল লোকের নমস্য এই রাজ্যপদ অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য। অল্পমাত্র
দোষে ব্রাহ্মণ যেমন দূষিত হয় সেইরূপ ইহা অল্পমাত্র অপরাধে দূষিত হইয়া
থাকে ॥১৬॥ বৃক্ষায়ুর্ব্বেদ-বিধানে পালিত বনরাজি যেরূপ শীঘ্র অভীষ্টপ্রদ
হয় তদ্রূপ নির্ম্মল-বুদ্ধি-সম্পন্ন-ব্যক্তিগণ শাস্ত্রের নিয়ম মানিয়া যে সকল
কার্য্য আরম্ভ করেন তাহা শীঘ্র সুন্দর ফলপ্রদ হয় ॥১৭॥ মোহাচ্ছন্ন
অবস্থায় আরব্ধ কার্য্যের বিনাশে যেমন সন্তাপ জন্মে, যথাবিধি আরব্ধ কার্য্য
নিষ্ফল হইলেও তেমন সন্তাপ হয় না ॥১৮॥ যে কার্য্য সম্যকরূপে আরব্ধ
হইয়াছে তাহা যদি বিপরীত ফল দেয় তাহা হইলে ঐ কার্য্যের অনুষ্ঠাতা
অদৃষ্টবশে নিষ্ফল-পুরুষকার হইলেন বলিয়া নিন্দনীয় হন না ॥১৯॥ নির্ম্মল-বুদ্ধি-
সম্পন্ন-ব্যক্তি ফললাভের নিমিত্ত যথাবিহিত পুরুষকার প্রকাশ করিবে, যদি
পুরুষকার বিফল হয় তাহা হইলে অথর্ব্ববেদে নিপুণ হইয়া দৈব অবলম্বন
করিবে (পাঠান্তরে—অকাণ্ড বিনাশকুশল দৈবের আশ্রয় গ্রহণ করিবে) ॥২০॥
ধীরব্যক্তি আপনাকে ও শত্রুকে বুঝিয়া তবে অভিযান করিবেন। আপনার
ও পরের বলাবল বুঝাই বুদ্ধির কাজ ॥২১॥ মতিমান্ মন্ত্রণা শাস্ত্রে কুশল
ব্যক্তি যে কার্য্য নিষ্ফল, যে কার্য্যে বহুবিধক্লেশদায়ী, যে কার্য্যের ফলে
সন্দেহ আছে এবং যে কার্য্যে অত্যন্ত শত্রুতা জন্মে এই সমুদয় কার্য্য
করিবেন না ॥২২॥
বর্ত্তমানে ও ভবিষ্যতে যে কার্য্য শুভদায়ক, দেশকালানুসারে যাহা
শুভকর এবং যে কার্য্য হিতকর, পণ্ডিতগণ সেই কার্য্যেরই প্রশংসা করিয়া
১২ ১/২ হইতে ১৩ ১/২ শ্লোকাংশ কলিকাতা সংস্করণে নাই।

३. मण्डल विचार, षड्गुण्य व सन्धि-विग्रह नीति (सर्ग ९-१२)

৮০ । কামন্দকীয় নীতিসার ।
থাকেন ॥২৩॥ যে কার্য্য হিতজনক এবং কখনও নিন্দাস্পদ হইবে না তাহা
প্রথমে ভাল বলিয়া বোধ না হইলেও করিবে ॥২৪॥ ফললাভের জন্য
সর্ব্বদাই বুদ্ধি পূর্ব্বক আরম্ভ করা শ্রেয়স্কর। কদাচিৎ সিংহ-বৃত্তি (হঠকারিতা)
অবলম্বন করিলেও সুফল দেখা যায়, ইহা কেবল সেই স্থলেই হয় যেখানে
একমাত্র কল্যাণই তাহার মিত্র হইয়া দাঁড়াইয়াছে ॥২৫॥ সহসা অভিযান করিয়া
দুষ্টগণের (বুদ্ধিমান্ শত্রুগণের) নিকট হইতে সম্পল্লাভ করা দুঃসাধ্য কিন্তু
উপায় অবলম্বন করিলে মত্তহস্তীর মাথায়ও পা দেওয়া যায় ॥২৬॥ নীতিজ্ঞ-
বিদ্বানের নিকট কোন স্থানে কোন বস্তুই অসাধ্য নাই। দেখা যায় অভেদ্য
লোহাও উপায় দ্বারা গলিয়া যায় ॥২৭॥ বৃহৎ লৌহপিণ্ড বহনকালে কাটিতে
পারে না কিন্তু অতি অল্প লৌহও ধারাল হইলে ইচ্ছামত ফল দেয়। ইহার
তাৎপর্য্য এই যে বলবান্ ব্যক্তি উপায় বিহীন হইলে কোন কার্য্য করিতে
পারে না, অথচ দুর্ব্বল ব্যক্তিও উপায় অবলম্বন করিয়া মহৎ কার্য্য সাধন
করিতে পারে ॥২৮॥ জল আগুনকে নিবাইয়া ফেলে ইহাই লোক প্রসিদ্ধ,
কিন্তু উপায় অবলম্বন করিলে আগুনও জলকে শুকাইয়া ফেলে ॥২৯॥ *
উপায় দ্বারা অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান হইয়া থাকে, বিজ্ঞাত বস্তুর নিশ্চয়
হইয়া থাকে, কোন বিষয়ের দ্বৈধভাব ঘটিলে সন্দেহের ছেদন হইয়া থাকে
এবং উহার শেষ পর্য্যন্ত দর্শন হইয়া থাকে। ফলতঃ দেশান্তরীয় ও কালান্তরীয়
ব্যাপার অপ্রত্যক্ষ বিষয়, উহা মন্ত্রিগণের সহিত মন্ত্রণা করিয়া বুঝিতে হয় ;
মন্ত্রীর অবগত বিষয়ের তত্ত্বাভাস বুদ্ধি দ্বারা মন্ত্রণায় স্থির হয় ; কাহার
বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত বা অনুচিত এই সন্দেহ মন্ত্রণার দ্বারাই নিরাকৃত হয় ;
এবং সন্ধি ও বিগ্রহ উভয়ের মধ্যে সন্ধিই যে শ্রেষ্ঠ তাহা মন্ত্রণায় বুঝাইয়া
দেয়, ইহাই শেষ উপলব্ধি। এই চারিটি মন্ত্রণাসাধ্য ॥৩০॥ বিচক্ষণ পণ্ডিত-
দিগের শাসনে থাকিয়া কাহারও অবমাননা করিবে না এবং সদুপদেশযুক্ত
বাক্য গ্রহণ করিবার ইচ্ছায় (ছোট বড় বিচার না করিয়া) সকলেরই কথা
শুনিবে ॥৩১॥ যে রাজা মদমত্ত ও কর্তব্য-বিমূঢ় হইয়া মন্ত্রীর কথা না

१२श सर्ग] मन्त्र-विकल्प। ८१
शुनिया निजेर इच्छाय कार्य्य करे, शत्रुगण एइ मन्त्रणा-बिच्युत राजाके
अबिलम्बेइ पराजित करिया थाके ॥३२॥ मन्त्रणा उत्तमरूपे गोपने रक्षा
करिबे; नरपतिदिगेर ताहाइ एकमात्र उपाय। एइ मन्त्रशक्ति प्रकाश हइया
पड़िले निश्चयइ राज्येर हानि हय एबं एइ मन्त्रणा यदि गुप्त थाके ताहा
हइले उत्तमरूपे राज्यरक्षा हय ॥३३॥ सिंहेर न्याय चेष्टाकारी विचक्षण
व्यक्तिर अनुष्ठित कार्य्य ताँहार आत्मीयगण कार्य्यकाले बुझिते पारे एबं
अपर व्यक्तिगण ঐ कार्य्य सम्पन्न हइले तबे बुझिते पारे ॥३४॥ ये मन्त्र
पश्चात्तापप्रद নহে, যাহা सङ्गे सङ्गेइ फल दिया थाके, যাহা दीर्घकाल-साध्य
नय एबं যাহা अभीष्ट-फल प्रदान करे—एइरूप मन्त्रइ प्रशंसार्ह बलिया
स्वीकृत ॥३५॥ सकल रकम सहाय, सकल प्रकार साधनेर उपाय, देशेर
विभाग ओ कालेर विभाग, एबं विपत्तिर प्रतीकार—एइ पञ्चाङ्ग मन्त्र ॥३६॥
आरब्ध कार्य्य समापन करिबे, अनारब्ध कार्य्य आरम्भ करिबे, उत्तमरूपे
अनुष्ठित कार्य्य विशेषरूपे सम्पन्न करिते हइबे ॥३७॥ राजा मन्त्रविशारद
मन्त्रीदिगके नानाप्रकार कार्य्ये परिचालित करिबेन। एबं मन्त्रणा-विषये
सकल मन्त्रिगणेर ये मतटिर ऐक्य हइबे तदनुसारे कार्य्ये प्रवृत्त हइबेन ॥३८॥
ये मन्त्रणाय मन्त्रीरा एकमत हइयाछे, याहाते मने कोनও आशङ्का आसे ना,
एबं যাহা पण्डितेरा निन्दा करेन ना, सेइ अभिप्रेत कार्य्येर अनुष्ठान
करिबेन ॥३९॥ मन्त्रज्ञ-व्यक्तिगणेर मन्त्रणाय अवधारित हइलेও स्वयं पुनःराय
তাহার विचार करिबेन एबं याहाते स्वार्थेर हानि ना घटे मन्त्रणाकुशल
राजा ताहाइ करिबेन ॥४०॥ स्वार्थतत्पर मन्त्रीगण दीर्घकालव्यापी विग्रह-
कामना करेन। दीर्घकालव्यापी विग्रहे नरपति व्याकुल हन, तबन ঐ
नरपति अमात्यगणेर भोग्य हन अर्थात् तबन राजा मन्त्रीगणेरइ बशे
आसिया पड़ेन ॥४१॥ मनेर प्रसन्नता श्रद्धा बुद्धि ओ कर्म्मेन्द्रिय प्रभृतिर स्व स्व
विषय सम्पादन सामर्थ्य, सहायसम्पन्नता ओ उद्योग—एइगुलि आरब्ध कार्य्येर
सिद्धिर लक्षण अर्थात् ये कार्य्येर आरम्भे एइगुलि प्रकाश पाय सेइ कार्य्य

८२ कामन्दकीय नीतिसार।
सिद्धि हय; इहा हइतेइ मन्त्रसिद्धि बुझिते पारा याय ॥४२॥ लघु-उत्थान,
विघ्नशून्यता एवं समुदाय सहकारि कारणगुलिर संयोग--एइ कारणगुलि
कार्य्येर सिद्धिकेइ जानाइया देय ॥४३॥ सर्व्वदा मन्त्रणार स्मरण राखिबे ओ
यत्न सहकारे उहा गोपने राखिबे । सयत्ने मन्त्रगुप्ति ना करिले ऐ मन्त्र
प्रकाश पाइया अग्निर न्याय दग्ध करे ॥४४॥ * ॥ मन्त्र-रक्षापरायण हइया
विश्वस्त व्यक्तिर ओ ताहार विश्वस्त पात्रगणेर निकट हइते मन्त्रणा गुप्त
राखिबे । कारण उक्त रूपे मन्त्र गोपन ना राखिले विश्वासीगणेर
मध्य हइतेइ उहा प्रकाश हइया पड़े । अर्थात् विश्वासी व्यक्ति ताहार
विश्वासीके बले एवं ऐ विश्वासी ताहार विश्वासीके बले ; एइरूपे मन्त्रेर बहुल
प्रचार हइया साधारण व्यक्त हइया पड़े । ( पाठांतरे--बार बार मन्त्र
बलाबल करिबे ना, सयत्ने मन्त्रके गोपने राखिबे, येहेतु मन्त्रके गोपने
ना राखिले आत्मीय परम्परार्य सर्व्वजन विदित हइया पड़े ॥११।६४
कलि, सं) ॥४५॥ मद्यपानादि जन्य मत्तता, प्रमाद (असावधानता), काम (स्त्रीके
विश्वास करिया मन्त्रणार कथा बला ), निद्रावस्थाय प्रलाप, ( थाम प्रभृतिर
आड़ाले ) प्रच्छन्नभावे स्थित व्यक्ति, सहचरी ओ अवमत ( बोबा बा शुक
सारिका प्रभृति उपेक्षार पात्र ) एइ समुदाय मन्त्रणा-भेद करिया देय ॥४६॥
थामशून्य स्थाने, जानाला रहित स्थाने, आर एकबारे फाँकाय ( पाठांतरे
—चारिदिक् घेरा स्थानेर मध्यगत घरे ), छादेर उपर ओ वनमध्ये—
एइ सकल स्थाने सर्व्वजनेर अविदित भावे मन्त्रणा करिबे ॥४७॥ मनुर मते,
मन्त्रिगणेर मन्त्रिमण्डल अर्थात् मन्त्रणा करिबार स्थान द्वादश प्रकार । बृहस्पतिर
मते षोडश प्रकार एवं शुक्राचार्य्येर मते विंशति प्रकार । इहार
तात्पय्यार्थ एइ ये, द्वादश-राजक-मण्डलेर जन्य द्वादश मन्त्री ; एइ द्वादश मन्त्री
एवं अरि, विजिगीषु, मध्यम ओ उदासीन सम्बन्धे चारिजन मन्त्री ; मोट—षोलजन
मन्त्री । दशराजक-मण्डलेर दशजन मन्त्री ओ ऐ मण्डलेर द्रव्य एवं प्रकृति

  • एइ श्लोकटि कलिकता संस्करणे नाइ ।

১২শ সর্গ ] মন্ত্র-বিকল্প। ৮৩
অবধারণের জন্য দশজন মন্ত্রী, মোট বিশজন মন্ত্রী॥৪৮॥ অন্য পণ্ডিতদিগের
মতে আবশ্যক অনুসারে কম বা বেশী মন্ত্রী করিবে। মন্ত্রণা-কৌশলে অভিজ্ঞতা
লাভের জন্য (পাঠান্তরে—কার্য্যসিদ্ধির পূর্ণতা লাভের জন্য) মন্ত্রিমণ্ডলে
প্রবেশ করিয়া একাগ্রচিত্তে যথাবিধি কার্য্য করিবে ॥৪৯॥ এক এক জনের
সহিত কার্য্যগুলি বার বার বিচার করিয়া (পাঠান্তরে—গুপ্তকার্য্যগুলি বার
বার বিচার-পূর্ব্বক স্থির করিয়া) আপনার হিতাকাঙ্ক্ষী হইয়া প্রত্যেকের মত
ভাল করিয়া বুঝিয়া লইবে ॥৫০॥ প্রভুর হিতৈষী পণ্ডিত বহু-মন্ত্র-প্রয়োগ-
দ্রষ্টা মহাপক্ষ (অর্থাৎ যাহার মত বহু মন্ত্রীরা মানেন এইরূপ মন্ত্রী) নীতিশাস্ত্রা-
নুসারে যাহা বলিবেন সেই মত গ্রহণ করিয়া সম্যকরূপে কার্য্য করিবে ॥৫১॥
মন্ত্রণা স্থির করিয়া কার্য্যকাল অতিক্রম করিবে না অর্থাৎ মন্ত্রণার সঙ্গে
সঙ্গেই কার্য্য আরম্ভ করিবে; কিন্তু কোন কারণে কালবিলম্ব ঘটিলে পুনর্ব্বার
মন্ত্রণা করিয়া কার্য্য করিবে ॥৫২॥ নীতিপারদর্শী ব্যক্তি কখনও কার্য্যকাল
অতিক্রম করিবে না; কেন না, কার্য্যের সুযোগ কদাচিৎ ঘটিয়া থাকে ॥৫৩॥
নীতিজ্ঞ ব্যক্তি নীতিবিশারদদিগের মত অবলম্বন করিয়া যথাকালে কার্য্যের
অনুষ্ঠান করিবেন। যিনি যথাকালে কার্য্য করেন তিনি সেইকার্য্যের উত্তম
ফল লাভ করেন ॥৫৪॥ যাহা যাহা নীতি প্রদর্শিত হইল সেই সমুদয়
পর্য্যালোচনা করিয়া উপযুক্ত দেশ-কালে সহায়-সম্পন্ন হইয়া নিতান্ত অনুরক্ত
পার্শ্ববর্ত্তী নৃপগণের সহিত মিত্রতায় বদ্ধ হইয়া অভিযান করিবে কিন্তু কপটতা
পূর্ব্বক অভিযান করিবে না (পাঠান্তরে—অনুরক্ত পার্ষ্ণিগ্রাহ-নৃপতির সহিত
মিলিত হইয়া লাভজনক বিষয় আক্রমণ করিবে কিন্তু চপলতা সহকারে
আক্রমণ করিবে না॥ কলি, সং ১১৭৪) ॥৫৫॥ অল্পজ্ঞানী ব্যক্তি অহিতকেই
হিত মনে করে এবং মন্ত্রীদিগের পরামর্শ অগ্রাহ্য করিয়া অবিমৃষ্যকারিতা বশতঃ
সহসা অভিযান করে এবং শত্রুর খড়্গে আহত হইয়া নিজের ভ্রম বুঝিতে
পারে॥৫৬॥ শত্রুর বলাবল বিচার না করিয়া নীতিশূন্য হইয়া ‘আমিই বলবান্’
এইরূপ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়া যে নির্ব্বোধের ন্যায় চঞ্চল হইয়া কেবল নিজের

৮৪ কামন্দকীয় নীতিসার।
মতেই শত্রুকে আক্রমণ করে সেই নির্ব্বোধ ব্যক্তির বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত
চৈতন্যোদয় হয় না ॥৫৭॥॥ এইরূপে মন্ত্র-শক্তির প্রভাবে নরপতি
নীতিপথ অবলম্বন করিয়া উদ্যোগযুক্ত হইয়া দুষ্ট সর্পের ন্যায় বলবান্
রিপুকে বশীভূত করিবেন ॥৫৮॥ ইতি কামন্দকীয় নীতিসারে মন্ত্রবিকল্প
নামক দ্বাদশ-সর্গঃ।
ত্রয়োদশ-সর্গ।

দূতপ্রচার।
মন্ত্রশাস্ত্রবেত্তা ও সুমন্ত্র-প্রদান-সমর্থ রাজা মন্ত্রিদিগের অনুমোদিত দৌত্যকার্য্যে
অভিমানযুক্ত মন্ত্রীকে দূত করিয়া শত্রুমণ্ডলে পাঠাইবেন ॥১॥ প্রগল্ভ
স্মরণশক্তিসম্পন্ন বক্তা শস্ত্রে কুশল শাস্ত্রজ্ঞানসম্পন্ন ও কৃতকর্ম্মা ব্যক্তিই
রাজার দূত হইবার উপযুক্ত ॥২॥ নিঃস্বষ্টার্থ মিতার্থ ও শাসনহারক এই তিন
প্রকার দূত। ইহারা যথাক্রমে অমাত্য-গুণের এক এক পদ হীন। নিঃস্বষ্টার্থ
অর্থাৎ সন্ধি প্রভৃতি কার্য্যে সুনিপুণ, ইনি অমাত্যের সম্পূর্ণ গুণযুক্ত। মিতার্থ
অর্থাৎ পরিমিতভাষী, ইনি অমাত্যগুণের একপাদ হীন অর্থাৎ ত্রিপাদগুণ যুক্ত।
শাসনহারক অর্থাৎ পত্রবাহক, ইনি দ্বিপাদ গুণযুক্ত ॥৩॥ নিঃস্বষ্টার্থ দূত
স্বামীর আজ্ঞানুসারে আপনার পক্ষের বাক্য ও ঐ বাক্যের শত্রুপক্ষের উত্তর
প্রত্যুত্তর উত্তরোত্তর চিন্তা সহকারে (পাঠান্তরে—স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রের দোষ-
গুণ উত্তরোত্তর চিন্তাসহকারে) গন্তব্য স্থানে যাইবে ॥৪॥ অন্তপাল (জন-
পদের প্রান্তরক্ষাকারী) এবং বনাধ্যক্ষগণের সহিত মিত্রতা করিবে।
আর স্বকীয়সামর্থ্যসিদ্ধির জন্য জলপথ ও স্থলপথ অবগত হইবে ॥৫॥ শত্রুর

  • এই ৫৭ সংখ্যক শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণে নাই।
  • কলিকাতা সংস্করণে ইহা দ্বাদশ সর্গ।

১৩শ সর্গ ] দূতপ্রচার। ৮৫
দুর্গে এবং সভায় শত্রুর অনুমতি ব্যতিরেকে প্রবেশ করিবে না; কার্য্যসিদ্ধির
জন্য কাল-প্রতীক্ষা করিবে এবং শত্রুর অনুমতি লইয়া প্রত্যাগমন করিবে
॥৬॥ শত্রুরাজ্যের সারবত্তা, দুর্গ, দুর্গের বিষম স্থান, অন্তঃকোপাদি ছিদ্র,
ধনবল, মিত্রবল ও সৈন্যবল জানিবে ॥৭॥ প্রাণবধের নিমিত্ত খড়্গ উত্তোলিত
হইয়াছে দেখিয়াও প্রভুর বার্তা যাহা বলা হইয়াছে তাহাই বলিবে এবং শত্রু-
নরপতির মুখের আকার প্রকার দেখিয়া তাহার অনুরাগ বিরাগ বুঝিয়া লইবে
॥৮॥ গালাগালি দিলেও সহ্য করিবে; নিজের কাম ক্রোধ ত্যাগ করিবে।
কাহারও সহিত একত্র শয়ন করিবে না (কারণ পাছে নিদ্রাবস্থায়
গুপ্তকথা বাহির হইয়া যায়); শত্রুর অভিপ্রায় অবগত হইবে ॥৯॥ * ॥
বিপক্ষরাজার প্রতি তাহার প্রজাবর্গের কিরূপ অনুরাগ ও বিরাগ আছে
তাহা জানিবে। †। শত্রুর অলক্ষিতভাবে নিজের কর্তব্য কাজ হাসিল
করিবার জন্য ক্রুদ্ধ লোভী ভীত বা অবমানিত ব্যক্তিদিগকে হস্তগত
করিয়া রহস্যভেদ করিয়া লইবে ॥১০॥ বধ্যমান (পাঠান্তরে—জিজ্ঞাসিত)
হইয়াও নিজের প্রভুর প্রকৃতিবর্গের ক্ষুদ্রতা বলিবে না এবং বিনয়
সহকারে [ শত্রু রাজাকে ] বলিবে যে “আপনি চারচক্ষুবলে সমস্তই ত
জানেন” ॥১১॥ উভয়পক্ষের অর্থাৎ স্বপক্ষ বিপক্ষের উত্তমবংশ, দিগন্তবিশ্রান্ত
নাম, প্রচুর ধনসম্পত্তি ও অতিমহৎ কৰ্ম্ম এই চারি প্রকার বিষয়ের
কীর্ত্তন করিয়া [ শত্রু রাজার ] স্তব করিবে ॥১২॥ বিদ্যা এবং শিল্প শিক্ষা
দিবার ছলে উভয় পক্ষের বেতনে থাকিয়া নিজের কর্ত্তব্য বুঝিবে ও বিপক্ষ
রাজার বিরুদ্ধ চেষ্টাও অবগত হইবে ॥১৩॥ (শত্রুর চালচলন বুঝিবার জন্য)
তপস্বীর বেশ ধরিয়া অনুচরবর্গের সহিত শাস্ত্র ও বিজ্ঞান শিখিবার
ছলে তীর্থ আশ্রম ও দেবতাস্থানে বিচরণ করিবে ॥১৪॥ ভেদ্যোগ্য
ব্যক্তিগণের প্রতি নিজ স্বামীর প্রতাপ, কুল, ঐশ্বর্য্য, ত্যাগ, উৎসাহ সম্পৎ,

  • এই শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণের ১৫ শ্লোক।
    † এই অংশটি কলিকাতা সংস্করণে ৮ম শ্লোকের শেষাংশ।

৮६ कामन्दकीय नीतिसार।
अकुद्रता ओ दक्षता कीर्त्तन ( पाठान्तरे—प्रदर्शन ) करिबे ॥१५॥ निद्रित बा
माताल अवस्थाय मनेर भाव प्रकाश हइते पारे, अतएव प्रत्यह एकाकी
निद्रा याइबे, स्त्रीप्रसङ्ग ओ मादकद्रव्य परित्याग करिबे * ॥१६॥ बुद्धिमान्
व्यक्ति ( विपक्ष-राज्ये थाकिया ) समय नष्ट हइतेछे इहा जानियाओ स्वार्थ-
सिद्धिर जन्य खेद करिबे ना, [ विपक्ष ] नाना रकम प्रलोभन द्वारा ताहार ये
समय नष्ट करितेछे তাহা बुझिबे ॥१७॥ [ एवम् इहाओ बुझिबे ये ] एइ ये
दिनगुलि अतिवाहित हइतेछे इहाते आमादेर राजार कोन व्यसन इहारा
देखितेछे अथवा निजेराइ कोन विपद् घटाइबार चेष्टा करितेछे ॥१८॥
अथवा नीति-सुचतुर दूत इहाओ बुझिबे ये विपक्षगण ताहार राजार
अन्तःप्रकोप उत्पादनेर चेष्टाय आछे किंवा दुर्गे विपक्षेरा निजेदेर
रसद संग्रह करितेछे अथवा दुर्ग-संस्कारे नियुक्त आछे ॥१९॥ अथवा
विपक्ष राजा ताहार निजेर मित्रेर अभ्युदय आकाङ्खाय देश-काल-विवेचना
करितेछे किंवा सैन्य-साहाय्येर चेष्टाय आछे, ( सम्भवतः ) एइ सकल
कारणेइ ताहारदिगके फिरिया याइते दितेछे ना ॥२०॥ एइ विपक्ष
स्वपक्षेर यात्रा ओ कालेर यथोपयुक्त क्रियार जन्य ( पाठान्तरे—आमादिगेर
यात्राकालेर क्षय प्रार्थी हइया ) विलम्ब करितेछे। पण्डित-दूत काल-
क्षय हइले ঐ पूर्व्वोक्त समुदायेर वितर्क करिबे ॥२१॥ विशेष वृत्तान्त
जानिबार जन्य शत्रुराज्ये थाकिया समस्त वृत्तान्त प्रभुके जानाइबे एवम्
कार्य्यकाल अतिक्रान्त हइयाछे इहा स्पष्ट बुझिया चलिया आसिबे ॥२२॥
शत्रुर के शत्रु ताहार ज्ञान, शत्रुर सुहृद् ओ बन्धुर भेद संघटन, शत्रुर दुर्ग
कोष ओ बल ज्ञान, शत्रुर अमात्यदिगके स्वपक्षे आनयन, शत्रुर राष्ट्रपाल बन-
पाल ओ अन्तपालदिगके वशीभूत करा एवम् युद्धेर अपसार भूमिज्ञान
( अर्थात् युद्धकालेर जन्य रास्ता-घाट ज्ञान ओ सैन्यादि समावेशेर एवम्
निर्गमेर उपयुक्त भूमि निर्णय) एइगुलि दूतेर कर्म्म बलिया कथित हय ॥२३-२४॥

  • एइ श्लोकटि कलिकाता संस्करणे नाइ ॥

১৩শ সর্গ ] দূত-চর-বিকল্প । ৮৭
নরপতি দূতের সাহায্যেই শত্রু-দমন করিবেন এবং নিজের সম্বন্ধে
বিপক্ষ-দূতের চেষ্টা অবগত হইবেন ॥২৫॥ ইতি দূত-প্রচার ॥
দূত-চর-বিকল্প।
তর্কজ্ঞ, ইঙ্গিতজ্ঞ, স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, মৃদু অর্থাৎ নরমধাতের লোক,
শীঘ্রগমনক্ষম, ক্লেশ ও পরিশ্রম সহিষ্ণু, দক্ষ এবং প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিই
চর হইয়া থাকে ॥২৬॥ ধূৰ্ত্তচরগণ জগজ্জনের মত সম্পূর্ণরূপে অবগত
হইবার জন্য তপস্বী সাজিয়া অথবা শিল্প বা পণ্য বৃত্তি অবলম্বন করিয়া
সর্ব্বত্র বিচরণ করিবে ॥২৭॥ সমস্ত বার্ত্তাবেত্তা চরগণ প্রতিদিন রাজার
নিকট হইতে বহির্গত হইবে এবং বাহিরের সংবাদ জানিয়া পুনর্ব্বার রাজার
নিকট ফিরিয়া আসিবে, কারণ ইহারাই রাজার দূরবর্ত্তী চক্ষু অর্থাৎ চরের
সাহায্যেই রাজা দূরের বৃত্তান্ত সমুদয় অবগত হন। এইজন্যই লোক রাজাকে
“চারচক্ষু” বলিয়া থাকে ॥২৮॥ কাপড়ের মধ্যে কৌশলে সূক্ষ্ম সূতা
চালাইলে যেমন বুঝা যায় না, সেইরূপ গুপ্তচরের সাহায্যে রাজা শত্রু-পক্ষের
চেষ্টা অবগত হইবেন। রাজা নিদ্রিত হইয়াও জাগিয়া থাকেন যেহেতু
তিনি চারচক্ষু অর্থাৎ চারগণই তাঁহার চক্ষু ॥২৯॥ সূর্য্যের ন্যায় তেজস্বী ও
বায়ুর ন্যায় চেষ্টাশীল (অর্থাৎ চরের সাহায্যে সর্ব্বত্র অপ্রতিহতগতি) রাজা
নীতিশাস্ত্রানুমোদিত চর সকলের সাহায্যে সমস্ত জগৎ ব্যাপৃত করিয়া
ফেলিবেন ॥৩০॥ চারচক্ষু নরপতি প্রভূত চরবর্গে সম্পন্ন থাকিবেন কিন্তু তিনি
চরবিহীন হইলে সমতল পথেও অন্ধের ন্যায় পতিত হন অর্থাৎ চর না থাকায়
শত্রুর চেষ্টা অবগত হইতে না পারিয়া শত্রুর অল্প চেষ্টাতেই মূঢ়ের ন্যায়
পরাভূত হন ॥৩১॥ রাজা চরের দ্বারা বিপক্ষদিগের অমাত্যবর্গের সম্পৎ,
রাজকোষ, তাহাদের সকল অবস্থার চেষ্টা এবং তাহারা দূত-প্রেরণকারী
রাজার দেশ প্রার্থনা করে কি না এই সমুদয় জানিবেন ॥৩২॥ চর দুই
প্রকার—প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য (গুপ্ত)। গুপ্তচরের কথা বলা হইল;
প্রকাশ্য যে চর তাহাকে দূত কহে ॥৩৩॥ ঋত্বিক যজ্ঞস্থলে কর্ম্মকাণ্ডের

৮৮ কামন্দকীয় নীতিসার।
সূত্রানুসারে যেমন যজ্ঞকার্য্যের অনুষ্ঠান করেন সেইরূপ নীতিবিশারদ
ব্যক্তি চরের সাহায্যে নীতিচালনা করিবেন। দূত সন্ধান দিলে, তবে
গূঢ়চর তাহার সত্যতা নির্দ্ধারণ করিবে ॥৩৪॥ বেশ ও আচরণকে সংস্থা
কহে। রাজকার্য্যের সমৃদ্ধির জন্য (পাঠান্তরে—কার্য্যসিদ্ধির জন্য)
বেশ ও চরিত্র-বিশেষযুক্ত গূঢ়চরকে সংস্থা নামক চর কহে। ইহাদের মধ্যে
যাহারা শত্রুর কার্য্যকলাপ লক্ষ্য করে, তাহাদিগকে সঞ্চার কহে।
(পাঠান্তরে—সংস্থা চর পরিচারকের ছলে রাজার পার্শ্বচর হইয়া থাকিবে)
॥৩৫॥ বণিক্, কৃষক, লিঙ্গী (সন্ন্যাসী), ভিক্ষুক (পরিব্রাজক প্রভৃতি),
অধ্যাপক (নামান্তরে—কাপটিক) ইহারা সংস্থানামক চর এবং ইহারা
পূর্ব্বোক্ত বণিক্ প্রভৃতির কপট-বৃত্তি অবলম্বন করিয়া চারগণের আশ্রয় দিবার
জন্য (রাজার বৃত্তিতে) স্বচ্ছন্দে থাকে ॥৩৬॥ স্বরাজ্যে এবং পররাজ্যে
সর্ব্বত্র মন্ত্রী, পুরোহিত, সেনাপতি, যুবরাজ, দৌবারিক, অন্তর্দ্বংশিক, প্রশান্তা,
সমাহর্ত্তা, সন্নিধাতা, প্রদেষ্টা, নায়ক, পৌর, ব্যাবহারিক, পরিষদধ্যক্ষ, দণ্ডপাল,
দুর্গপাল, অন্তপাল এবং আটবিক এই আঠার জনের কার্য্যস্থানেই পরচিত্ত-
বেদী সঞ্চার নামক চরগণ থাকিবে ॥৩৭॥ তীক্ষ্ণ (মরিয়া অস্ত্রজীবী),
প্রব্রাজক (ভিক্ষুক লিঙ্গী), সত্রী (ছদ্মবেশধারী) এবং রসদ (বিষ প্রয়োগ-
কারী) ইহারাই সঞ্চারের মধ্যে প্রধান। ইহারা কেহ কাহাকেও চিনে না

  • ॥৩৮॥ যিনি [চরদ্বারা] স্বপক্ষের কিংবা বিপক্ষের চেষ্টা বুঝিতে না পারেন
    তিনি শত্রুরা তাঁহার ছিদ্রান্বেষী হইলেও (পাঠান্তরে—জাগিয়া থাকিয়াও)
    নিদ্রিত থাকেন, আর কখনও পুনরায় জাগরূক হন না অর্থাৎ শত্রুকবলে
    পতিত হইয়া বিনষ্ট হন; ফলতঃ স্বপক্ষের ও পরপক্ষের চেষ্টা সর্ব্বদাই বুঝিতে
    হইবে নতুবা অনিষ্ট অবশ্যম্ভাবী ॥৩৯॥
    স্বপক্ষীয় লোকদিগের মধ্যে কোন ব্যক্তি কারণ প্রযুক্ত ক্রুদ্ধ আর
    কোন ব্যক্তি অকারণে ক্রুদ্ধ তাহা বুঝিবে। অকারণ-ক্রুদ্ধ পাপীদিগকে
  • এই ৩৮ সংখ্যক শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণে ৩৫ সংখ্যক শ্লোক।

১৩শ সর্গ ] দূত-চর-বিকল্প। ৮৯
তীক্ষ্ণ-চরদ্বারা গুপ্তভাবে হত্যা করিবে ॥৪০॥ যাহারা কারণে ক্রুদ্ধ হয়
তাহাদিগকে বশীভূত করিবে এবং অরির মুখ যে ছিদ্র ( অর্থাৎ
প্রকৃতিবর্গের ক্রোধ লোভ ভয় মান প্রভৃতি যে দোষরূপ ছিদ্র ) তাহা
দান এবং মানদ্বারা প্রশান্ত করিবে ( পাঠান্তরে—অকারণ-ক্রুদ্ধ ব্যক্তিদিগকে
দান ও মানদ্বারা বশীভূত করিবে এবং ছিদ্র পূরণ করিবে ) ॥৪১॥ রাজ্যের
কণ্টকদিগের প্রধান ব্যক্তিকে হত্যা করিয়া উহাদিগকে প্রশান্ত করিবে
এবং উদ্যোগী হইয়া সাম-দান-প্রয়োগে ছিদ্র পূরণ করিবে * ॥৪২॥যানপাত্রে
(অর্থাৎ নৌকায়) ক্ষুদ্রছিদ্র পাইয়া জল প্রবেশ করিয়া যেমন তাহাকে ডুবাইয়া
দেয় সেইরূপ শত্রু অতিক্ষুদ্র ছিদ্র পাইয়া তাহাদ্বারা প্রবেশ করিয়া বলবান্
হইয়া রাজ্যকে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করিয়া দেয় ॥৪৩॥ জড় মূক অন্ধ ও বধিরের
ভেলধারীগণ, পণ্ডক ( নপুংসক ), কিরাত, বামন, কুব্জ, কারুকার্য্যকারী,
ভিক্ষুক, চারণ ( নট ও নর্ত্তক ), দাসীগণ, মালাকার, কলাশাস্ত্রজ্ঞ—এই সমুদয়
লোক অলক্ষিতভাবে অন্তঃপুর-সংক্রান্ত-সংবাদ আহরণ করিবে ॥৪৪-৪৫॥
ছত্রধারী ব্যজনধারী ভৃঙ্গারধারী যানবাহক বাহনরক্ষক হস্তিপক এবং অন্যান্য
অশ্বপালক গোপালক ও রথচালক প্রভৃতি ইহারা বাহিরের বার্তা দিবে ॥৪৬॥
অন্নপাচক (পাঠান্তরে—ডালপাচক), ব্যঞ্জনপাচক, কল্পক (নাপিত), (পাঠা-
ন্তরে—শয্যারচনকারী), স্নাপক ( যে স্নান করাইয়া দেয়), (পাঠান্তরে—
ব্যয়ক ( অর্থাৎ যে হুকুমমত টাকা দেয় ), প্রসাধক, ভোজক ( অর্থাৎ যে হাতে
করিয়া খাদ্য আনিয়া দেয় ), গাত্র-সংবাহক, যাহারা জল-পান-ফুল-সুগন্ধি-
দ্রব্য-আভরণ আনিয়া দেয় এবং যাহারা নিকটে থাকে, ইহাদিগকে রসদ
(বিষপ্রয়োগী) করিবে ॥৪৭-৪৮॥ সাঙ্কেতিক-শব্দ প্রয়োগে, ম্লেচ্ছভাষা প্রয়োগে,
চিঠি-পত্র ব্যবহারে, আকার ও ইঙ্গিত দ্বারা চরগণ অতি সাবধানে
পরস্পরের চারচর্য্যা অর্থাৎ চরসম্বন্ধীয় কর্ত্তব্যকার্য্যের অনুষ্ঠান করিবে ॥৪৯॥
সূর্য্যের রশ্মিজাল যেরূপ ভূমির জল আকর্ষণ করে সেইরূপ সমস্ত জগতের

  • এই ৪২ সংখ্যক শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণে নাই।

৯০ কামন্দকীয় নীতিসার।
সমস্ত মত সম্যকরূপে পান করিয়া বিবিধ শিল্প-বিদ্যা ও অধ্যয়নে সুনিপুণ
চরগণ বহুরূপী সাজিয়া বিচরণ করিবে ॥৫০॥ নিজের সমৃদ্ধির জন্য
শত্রুর এবং নিজের বিষয় অবগত হইয়া যে প্রণিধান (অর্থাৎ চররীতি)
দ্বারা শত্রুকে বশে আনিতে পারা যায়, নিজে নিজে খুব সাবধান
হইয়া শত্রুর প্রযুক্ত ঐ প্রণিধান চরণীতিজ্ঞ ব্যক্তিগণ দ্বারা জানিবে
॥৫১॥ ইতি কামন্দকীয় নীতিসারে রাজোপদেশে দূতপ্রচার ও দূত-চর-
বিকল্প নামক ত্রয়োদশ-সর্গ॥
চতুর্দ্দশ-সর্গ। ❊
উৎসাহ প্রশংসা।
চরচর্য্যাতে বার বার দূতের চেষ্টা বিফল হইলে (অর্থাৎ শত্রুপক্ষীয়
চরগণ গুপ্তভাবে তাহাদের শত্রুদলে মিশিয়া তাহাদের বিপক্ষ-রাজার
উদ্দেশ্য বিফল করিলে), [বিজিগীষু] রাজা সূক্ষ্মবুদ্ধি অবলম্বন করিয়া
(১১ সর্গের ১ শ্লোক দ্রষ্টব্য) অনুরক্ত প্রকৃতিবর্গের সহিত অভিযান
করিবেন (পাঠান্তরে—চরচর্য্যায় প্রতিদিন দূতের চেষ্টা সফল হইতেছে
জানিয়া উপযুক্ত লাভের সম্ভাবনায় সূক্ষ্মবুদ্ধি সহকারে শত্রুর প্রতি
অভিযান করিবেন) ॥১॥ অরণি (অর্থাৎ ঘর্ষণদ্বারা অগ্নি উৎপাদনের
কাষ্ঠ) যেমন অগ্নি প্রসব করে, সেইরূপ সূক্ষ্ম অথচ দৃঢ়বুদ্ধি যদি
সত্ত্ব ও প্রযত্নদ্বারা যুক্ত হয় (অর্থাৎ ব্যসনে বা অভ্যুদয়ে বিকারশূন্য
হইয়া অধ্যবসায় যুক্ত হয়, আর বিচারদ্বারা হেয় অংশ পরিত্যাগ করিয়া
উপাদেয় অংশের গ্রহণকারী হয়) তাহা হইলে উৎকৃষ্ট ফল প্রসব করে ॥২॥
ধাতুর মধ্য হইতে যেমন স্বর্ণকে নিষ্কাশিত করা হয় এবং দুগ্ধ-মন্থন
করিয়া যেমন ঘৃত আহরণ করা হয়, সেইরূপ সত্ত্ববুদ্ধি ও প্রযত্নযুক্ত

  • কলিকাতা সংস্করণে ইহা ১৩শ সর্গ।

१४श सर्ग ] उत्साह प्रशंसा। ९१
व्यवसाय हइते निश्चयइ फललाभ हइया थाके ॥३॥ महासमुद्र येमन
जलराशिर आश्रय सेइरूप धीमान् उत्साह-सम्पन्न ओ व्यवसाय-युक्त
( पाठान्तरे—प्रभुशक्ति-सम्पन्न ) व्यक्ति लक्ष्मीर उत्कृष्ट आश्रय ॥४॥ जले
येमन नलिनी जीवित थाके सेइरूप बुद्धि थाकिले लक्ष्मीओ थाके। बुद्धि
उत्थान ओ अध्यवसाय युक्त हइले ऐ लक्ष्मीर विस्तार हय ॥५॥ छाया येमन
कायाके छाड़े ना अथच समये विस्तार प्राप्त हय सेइरूप उत्साह-सम्पन्न
एवं बुद्धि द्वारा शुद्धरूपे चलिते समर्थ व्यक्तिर निकट हइते लक्ष्मी एकपाओ
सरेन ना। बरं ताहार लक्ष्मी-सम्पत् बाड़िया याय ॥६॥ नदीसकल येमन समुद्रे
प्रवेश करे सेइरूप सम्पत् समुदय बासनशून्य अश्रान्त महोत्साही ओ
महामति-सम्पन्न व्यक्तिते उपगत हय ॥७॥ स्त्रीगण येमन नपुंसकके
पराभूत करे, सेइरूप सत्बुद्धियुक्त हइलेओ याहार मन सर्व्वदा
वासनासक्त तादृश अलस व्यक्ति सम्पद् हइते बञ्चित हय ॥८॥ काष्ठ
येमन अग्निके परिवर्द्धित करे सेइरूप उत्साहद्वारा सत्त्वके ( अर्थात्
बासन बा अभ्युदये विकारशून्य अध्यवसायके ) वर्द्धित करिबे। सतत
उद्योगी व्यक्ति दुर्बल ( अर्थात् कोषद्ण्डविहीन ) हइलेओ निश्चयइ लक्ष्मीलाभ
करे ॥९॥ दुष्ट स्त्रीके येमन बलपूर्व্বক भोग करिते हय सेइरूप पुरुषकार-
सहकारे श्रीसम्पत् भोग करिबार जन्य उद्योग करिबे; कखनओ
क्लीबेर न्याय आचरण करिबे ना अर्थात् उत्साह त्याग करिबे ना ॥१०॥
दुर्विनीत स्त्रीके येमन केशाकर्षणपूर्व্বক वशीभूत करिते हय, सेइरूप
सर्व्वदा उद्योगी व्यक्ति सिंहवृत्ति अवलम्बन करिया लक्ष्मीके वशे
आनिबेन ॥११॥ शत्रुदिगेर मणिरञ्जित किरीटयुक्त शिरस्त्राण-शोभित
मस्तके पदार्पण ना करिया पुरुष कखनइ भद्रता लाभ करिते पारे ना ॥१२॥
अतिशय यत्ने प्रेरित प्रमत्त चित्त-हस्ती द्वारा प्रबल वैरि-वृक्षके
उन्मूलित करिते ना पारिले सुख सम्भावना कोथाय ? ॥१३॥ हेलाय
आकृष्ट देदीप्यमान तीक्ष्ण-खड्गेर किरणे अतिमात्र-रञ्जित सुन्दर-

৯২ কামন্দকীয় নীতিসার।
করিকর-সদৃশ হস্তদ্বারাই সম্পদ্‌রাজি আহৃত হয় ॥১৪॥ মহৎ
ব্যক্তি উচ্চতর পদ লাভের ইচ্ছা করিয়া উচ্চপদই পাইয়া থাকেন এবং
নীচ ব্যক্তি অধঃপতনের আশঙ্কা করিয়াই নীচ হইতে নীচতর পদেই
পতিত হয় ॥১৫॥ মহাপরাক্রান্ত সিংহ যেমন বিপুলকায় মত্তহস্তীর
মস্তকে পদাঘাত করে সেইরূপ মহাবলশালী ব্যক্তি নিজ অপেক্ষায়
অধিক সমৃদ্ধিশালী ব্যক্তিকে পদানত করিতে পারে। ॥১৬॥ সর্প যেমন
ভয়ঙ্কর ফণা দেখায় সেইরূপ ভয়হীন হইয়া শত্রুকে ভয় দেখাইবে
এবং যথাশক্তি শত্রুর দণ্ডবিধান করিবে ॥১৭॥ ইতি উৎসাহ প্রশংসা।
প্রকৃতিকর্ম্ম।
যাহা হইতে প্রকৃতিবর্গের ব্যসন উপস্থিত হয়, সেই কারণ প্রশমিত
করিয়া যুদ্ধযাত্রা করিবে। অনয় (অশুভ) এবং অপনয় (অপচয়) যথাক্রমে
দৈবব্যসন ও মানুষব্যসন। যাহা শ্রেয়ঃধ্বংস করে তাহাকে ব্যসন কহে।
ব্যসনী ব্যক্তি নীচগতি প্রাপ্ত হয় অথবা বিনষ্ট হয় (পাঠান্তরে—ব্যসনী-
ব্যক্তি ক্রমশঃ অধোগতি প্রাপ্ত হয়), অতএব ব্যসন ত্যাগ করিবে ॥১৮-১৯॥
অগ্নিপীড়া, জলপীড়া, ব্যাধি, দুর্ভিক্ষ, মহামারী এই পাঁচপ্রকার দৈবব্যসন।
ইহা ব্যতীত আর যাহা কিছু বিপৎ সে সমুদয়ই মানুষব্যসন ॥২০॥
কার্য্যতত্ত্ববিৎ ব্যক্তি পুরুষকার অথবা শান্তি-স্বস্ত্যয়ন দ্বারা দৈবব্যসনের
নাশ করিবে এবং উৎসাহদ্বারা (দুর্গাদির পর্যবেক্ষণাদি দ্বারা) ও সামাদি
নীতি প্রয়োগদ্বারা মনুষ্যব্যসন নিরাকরণ করিবে ॥২১॥
স্বামী (বিজিগীষু) হইতে মিত্র পর্য্যন্ত যে মণ্ডল, তাহার নাম প্রকৃতি-
মণ্ডল। এই প্রকৃতিমণ্ডলের কর্ম্ম এবং ব্যসন যথাক্রমে বলিতেছি ॥২২॥
মন্ত্র, মন্ত্রফলের প্রাপ্তি, কার্য্যের অনুষ্ঠান, আয়তি (প্রভাব), আয়-ব্যয়-জ্ঞান,
দণ্ডনীতি, শত্রুদমন, ব্যসনের প্রতীকার এবং রাজার ও রাজ্যের রক্ষা
(পাঠান্তরে—রাজাকে রাজ্যে অভিষেক করা)—এইগুলি অমাত্যের কর্ম্ম।
কিন্তু অমাত্য ব্যসনী হইলে পূর্ব্বোক্ত সমুদয়ই বিনষ্ট হইয়া যায় ॥২৩-২৪॥

১৩শ সর্গ ] প্রকৃতি কর্ম্ম। ৯৩
অমাত্যগণ ব্যসনী হইয়া রাজাকে আকর্ষণ করিলে ছিন্নপক্ষ পক্ষীর
ন্যায় রাজা অভিধানে অসমর্থ হন॥২৫॥ (কোষ, দণ্ড, কুপ্য, পিষ্ট—সীসক,
বাহন) * হিরণ্য, বস্ত্র, ধান্যাদি, বাহনাদি ও অন্যান্য দ্রব্য সমুদায়
প্রজার নিকট হইতে [ রাজা ] পাইয়া থাকেন॥২৬॥ প্রজা বার্তা-সাধন করে
এবং বার্ত্তাই লোকরক্ষা করে; প্রজা ব্যসনস্থ হইলে কিছুমাত্র সিদ্ধ হয়
না॥২৭॥ শত্রু-সমাগমরূপ বিপদ উপস্থিত হইলে ঐ দেশবাসীগণ
আপনাদের রাজ্যের দুর্গবাসীদিগের অবলম্বনের জন্য প্রজাদিগের পরিত্রাণ
ও কোষদণ্ডের রক্ষা করিয়া উপকার করিবে॥ ২৮॥ দুর্গ আশ্রয়
করিয়া অপ্রকাশ্যে ভেদসাধনাদি, লোকরক্ষা, মিত্র এবং অমিত্রের পরিগ্রহ,
সামন্ত ও আটবিকের পীড়া নিবারণ করা যায়॥২৯॥ দুর্গস্থ নরপতিকে
স্বপক্ষ ও পরপক্ষ সকলেই পূজা করে; অতএব দুর্গের ব্যসন উপস্থিত
হইলে সমস্তই বিপন্ন হয়॥ ৩০॥
ভৃত্যপোষণ, দান, ভূষণ, যান, বাহন, স্থিরতা, শত্রু-পক্ষকে উপজাপ
(ভেদ করা), দুর্গসংস্কার, সেতুবন্ধন, বাণিজ্য, প্রজাপরিগ্রহ ও
মিত্রপরিগ্রহ, ধর্ম্মসিদ্ধি, কামসিদ্ধি ও অর্থসিদ্ধি—এইগুলি কোষ হইতে
সম্পন্ন হয়॥ ৩১-৩২॥ অর্থই রাজার মূল—এই প্রবাদ সর্ব্বজন সিদ্ধ।
অতএব কোষের ব্যসন উপস্থিত হইলে রাজার পূর্ব্বোক্ত সমস্ত শীঘ্রই নষ্ট হইয়া
যায়॥৩৩॥ অর্থশালী নরপতি অর্থদ্বারাই ক্ষীণবল বর্দ্ধিত করেন, [অর্থদ্বারাই]
প্রজাবর্গকে আয়ত্ত করেন, এবং শত্রুরাও [অর্থমোহেই] তাঁহার আশ্রয় গ্রহণ
করে॥৩৪॥
মিত্র, অমিত্র, হিরণ্য ও ভূমির আত্মসাৎকরণ, দূরের কার্য্যও
শাস্ত্র সম্পাদন, লব্ধবস্তুর রক্ষা, শত্রুচক্রের ব্যাঘাতসাধন, নিজের প্রভাব

  • ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণে এই অংশ সম্বন্ধে লিখিত হইয়াছে যে তাহাদের ‘ক’ পুস্তকে
    এই অংশ পাওয়া গিয়াছে কিন্তু ব্যাখ্যাকার ধরেন নাই। আর কলিকাতা সংস্করণেও
    এ অংশ নাই।

৯৪ কামন্দকীয় নীতিসার।
অক্ষুণ্ণ রাখা—এইগুলি দণ্ড হইতে সাধিত হয়। আর দণ্ডের-ব্যসন
উপস্থিত হইলে এইগুলির ক্ষয় হয় ॥৩৬॥ দণ্ডবান্ নরপতির শত্রুগণও
নিশ্চয়ই মিত্র হইয়া থাকে। দণ্ডপরিচালন সমর্থ নরপতি বলপূর্ব্বক
আক্রমণ করিয়া পৃথিবী ভোগ করে ॥৩৭॥
মিত্র স্নেহপ্রযুক্ত হইয়া প্রকাশ্যে বিজীগীষুর শত্রুর মিত্রকে স্তম্ভিত করে,
শত্রুর বিনাশ করে এবং ভূমি কোষ দণ্ড ও প্রাণ দিয়াও উপকার করে।
মিত্রের ব্যসন উপস্থিত হইলে মিত্রের কার্য্যকারিত্ব থাকে না ॥৩৮-৩৯॥
উপকার না পাইয়াও মিত্র মিত্রের মঙ্গলই করিয়া থাকে। মিত্রসম্পন্ন
ব্যক্তি অনায়াসেই দুঃসাধ্য-সাধন করিতে সমর্থ হন ॥৪০॥
বিদ্যাসমুদয়ের আলোচনা, বর্ণাশ্রম-ধর্ম্মের রক্ষা, শস্ত্রশিক্ষা ও
শাস্ত্রশিক্ষা, যুদ্ধনীতিশিক্ষা, ব্যায়াম, শাস্ত্রবিজ্ঞান (পাঠান্তরে—শস্ত্রবিজ্ঞান),
বর্ম্ম (পাঠান্তরে—কন্ম) সমূহের লক্ষণজ্ঞান, হস্তী অশ্ব ও রথে আরোহণ
ও উহাদের পরিচালনের কৌশলজ্ঞান, মল্লযুদ্ধের কৌশলশিক্ষা, মায়াদ্বারা
পরচিত্ত-প্রবেশ-জ্ঞান, ধূর্ত্তের নিকট ধূর্ত্ততা, সাধুর নিকট সাধুতা,
মন্ত্রিদিগের সহিত মন্ত্রণা, একাকী মন্ত্রিত-বিষয়ের বিচার, মন্ত্রগুপ্তি,
মন্ত্রের তাৎপর্য্য-জ্ঞান (পাঠান্তরে—মন্ত্রানুসারে অবস্থান), উপেক্ষা, সাম
দান ভেদ ও দণ্ডের সাধন, প্রশাস্তা (সৈন্যাধ্যক্ষ), সূত (রথচালক),
সেনাপতি মন্ত্রী অমাত্য ও পুরোহিত ইহাদের কার্য্যের পর্যবেক্ষণ,
দুর্ব্বৃত্তদিগের পরিত্যাগ (পাঠান্তরে—দুষ্টদিগের কারাগারে অবরোধ),
কে কি কারণে রাজ্যে প্রবেশ করিতেছে আর কে কি কারণেই বা রাজ্যের
বাহিরে যাইতেছে তাহার জ্ঞান, দূতপ্রেরণ, প্রকৃতিব্যসন-নিরোধ,
ক্রোধীর ক্রোধপ্রশমন, গুরুদিগের অনুসরণ, পূজ্যব্যক্তিদিগের সম্মান-
রক্ষা, ধর্ম্মাধিকারের প্রবর্তন, রাজ্যের কণ্টকশোধন, সমস্ত অনুজীবিগণের
মধ্যে কে প্রকৃত ভরণীয় আর কে ভরণীয় নয় তাহার জ্ঞান, উহাদিগের
মধ্যে কে কার্য্য করে আর কে কার্য্য করে না তাহার পরীক্ষা এবং উহাদিগের

१४श सर्ग ] प्रकृति कर्म्म। ९५
मध्ये के सन्तुष्ट के असन्तुष्ट ताहार विचार, मध्यम ओ उदासीनेर चरित्रज्ञान
एवं उहादेर सिद्धि, अर्थात् सन्धिर पालन, मित्रदिगेर सहित मित्रता रक्षा,
शत्रुदिगेर निग्रह, पुत्र ओ द्वारा प्रभृति हइते आत्मरक्षा, बन्धुवर्गेर
सहित मित्रता-रक्षा, खनि-द्वीप-वन दुर्ग-सेतु-वाणिज्येर पथ प्रभृति
राजकीय वृत्तिर यथायथ परिचालन, असत्लोकदिगेर वृत्ति रोध करा,
सज्जनदिगेर वृत्ति स्थापन करा, सकल जीवे अहिंसा, अधार्म्मिकदिगेर
बर्ज्जन, अकार्य्येर प्रतिषेध, कर्त्तव्यकार्य्येर प्रवर्त्तन, दातव्यवस्तु
( क्षेत्रादिर ) दान, अदानार्ह ( पापार्ज्जित ) अर्थसंग्रह करिबे ना
( पाठान्तरे—याहा दानयोग्य नय ताहार संग्रह ), अदण्डनीयेर दण्ड-निषेध,
दण्डनीयेर दण्डविधान, अग्राह्य ( अर्थात् पूर्ब्बवैरि अथवा स्वभावतः
विद्वेषी ) दिगेर अग्रहण, ग्राह्यदिगेर ग्रहण, अर्थयुक्त ( सफल अभियानादिर )
अनुष्ठान, अनर्थेर ( अर्थात् बलवानेर सहित विग्रह प्रभृतिर ) बर्ज्जन,
न्यायसङ्गत करग्रहण, करदाने असमर्थ व्यक्तिर कर रेहाइ करा, प्रधान
व्यक्तिदिगेर समर्थन ( पाठान्तरे— संवर्द्धन ), दुष्ट व्यक्तिदिगेर निराकरण,
वैषम्येर प्रशमन, भृत्यदिगेर विरोधेर मीमांसा, अविज्ञात विषयेर
ज्ञान, ज्ञात-विषयेर अवधारण, सर्व्वदाइ कार्य्येर आरम्भ, आरब्धकार्य्येर
परिसमाप्ति, अलब्धविषयेर न्यायानुसार लाभेच्छा, लब्धवस्तुर परिवर्द्धन, बर्द्धित
विषय हइते विधिपूर्ब्बक सत्पात्रे अर्पण, अधर्म्मेर प्रतिषेध, न्यायानुसार
चला, उपकार्य्य ( अर्थात् उपकारेर उपयुक्त ) व्यक्तिर उपकार—एइगुलि
राजार वृत्ति ॥४१—५८॥ राजा नीतिपरायण हइया उद्योगी हइले एइ
अमात्यादि समुदायेर उन्नति-साधन करेन एवं व्यसनी हइले एइ समुदाय
क्षय करेन ॥५९॥ राजा धर्म्म एवं अर्थ उपार्ज्जने उत्कण्ठित हइया अनुद्विग्नचित्त
हइले मन्त्री एइ समुदायेर विशेषरूप उन्नति करिते पारेन अर्थात् राजा
व्यसनी ना हइया उद्योगी ओ नीतिपरायण हइले मन्त्री সমুদय कार्य्य सुशृङ्खलभावे
परिचालित करिया राज्येर उन्नति करिते पावेन ॥६०॥ इति प्रकृति कर्म्म ॥

৯৬ কামন্দকীয় নীতিসার।
প্রকৃতিব্যসন।
বাক্পারুষ্য, দণ্ডপারুষ্য, অর্থদূষণ (অর্থাৎ অন্যায়ভাবে করগ্রহণ),
পান, স্ত্রী, মৃগয়া এবং দ্যূত (জুয়া খেলা)—এইগুলি রাজার ব্যসন ॥৬১॥
আলস্য, স্তব্ধতা, দর্প, প্রমাদ (অনবধানতা), বৈরকারিতা (অকারণ
ঝগড়া বাধান) এবং পূর্ব্বোক্ত বাক্পারুষ্য হইতে দ্যূত পর্যন্ত বিষয়গুলি
মন্ত্রীর ব্যসন বলিয়া কথিত হয় ॥৬২॥
অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, মূষিক, শলভ (পঙ্গপাল), অসংকর (অতিরিক্ত
কর), দণ্ড (অসমীচীন দণ্ড), শত্রুসৈন্য কর্তৃক পীড়া, চোর ও রাজসৈন্য এবং
রাজপ্রিয় ব্যক্তিদিগকে নিয়মাধীন রাখিতে না পারা, মড়ক, ব্যাধি, দুষ্টলোকের
অত্যাচার, পশুবর্গের বিপৎ (পাঠান্তরে—মৃত্যু) এবং পশুদিগের রোগ—
এইগুলিকে রাষ্ট্রব্যসন বলে ॥৬৩-৬৪॥
যন্ত্রের, প্রাচীরের ও পরিখার জীর্ণতা; হীনশস্ত্রতা; ঘাস ও ইন্ধনের
ক্ষীণতা—এইগুলি দুর্গের ব্যসন বলিয়া কথিত হয় ॥৬৫॥
অসদ্ভাবে ব্যয়িত, পরিক্ষিপ্ত (বহুস্থানে অনাদায়ীয়ভাবে স্থিত),
ভক্ষিত (কীটাদিদ্বারা বিনষ্ট), অসঞ্চিত, মুষিত (সামন্ত ও আটবিকগণ-
কর্তৃক অপহৃত) এবং দূরদেশে অবস্থিত—এইগুলি কোষের (ধনাগারের)
ব্যসন ॥৬৬॥
উপরুদ্ধ, পরিক্ষিপ্ত (অর্থাৎ বহুস্থানে দুইচারিজন করিয়া ছড়াইয়া
থাকা), বিমানিত (অত্যন্ত অপমানিত), অমানিত (অপমানিত),
অভৃত (বেতন ও উপযুক্ত আহারাদির অভাবগ্রস্ত), ব্যধিত, শ্রান্ত, দূরায়াত
(দূরপথ অতিক্রম করিয়া আগত), নবাগত (অপরিচিত স্থানে আগত),
পরিক্ষীণ (বিশিষ্ট বীরশূন্য), প্রতিহত (পরাজিত) (পাঠান্তরে—
অগ্ররহিত অর্থাৎ নেতারহিত), প্রহতাগ্রজব (প্রধান বীর বিনষ্ট),
আশাস্ত্রষ্ট, অভূমিষ্ট (অর্থাৎ যুদ্ধের অযোগ্য স্থানে অবস্থিত),
অনৃতপ্রাপ্ত (মিথ্যাাপবাদগ্রস্ত), কলত্রগর্ভী (যে সৈন্যদলে স্ত্রীলোক থাকে),